সুনান আদ-দারিমী
أَخْبَرَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَحَاضَتْ حَيْضَةً أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ ارْتَفَعَتْ حَيْضَتُهَا إِنْ كَانَ ذَلِكَ مِنْ كِبَرٍ اعْتَدَّتْ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ وَإِنْ كَانَتْ شَابَّةً وَارْتَابَتْ اعْتَدَّتْ سَنَةً بَعْدَ الرِّيبَةِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৪১. মা’মার হতে বর্ণিত, যুহরী রাহি. বলেন: যদি কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তারপর তার একবার বা দু’বার হায়েয অতিক্রান্ত হয়, এরপর তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি তা বার্ধক্যজনিত কারণে হয়, তবে সে তিনমাস ইদ্দত গণনা করবে। আর যদি সে যুবতী হয় এবং হায়েযশুন্য অবস্থা হয়ে থাকে (তার ধারণা হয় যে তার হায়েয বন্ধ হয়ে গেছে), সে হায়েয শুন্য হওয়ার পর থেকে একবছর ইদ্দত গণনা করবে।[1]
[1] তাহক্বীক্ব এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১০৯৭; তাবারী ২৮/১৪০-১৪১।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ وَالَّتِي لَا يَسْتَقِيمُ لَهَا حَيْضٌ فَتَحِيضُ فِي شَهْرٍ مَرَّةً وَفِي الشَّهْرِ مَرَّتَيْنِ عِدَّتُهَا ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৪২. কাতাদা থেকে বর্ণিত, ইকরিমাহ বলেন: যে মহিলার হায়েয সুনির্ধারিত (নিয়মিত) নয়, কোনো মাসে একবার হয়, আবার কোনো মাসে দু’বারও হয়, তার ইদ্দতকাল তিনমাস।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
আব্দুর রাযযাক নং ১১১২৩ সহীহ সনদে; তাবারী ২৮/১৪১; ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮-১৫৯ সহীহ সনদে।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَمَّادٍ قَالَ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৪৩. হিশাম থেকে বর্ণিত, হাম্মাদ রাহি. বলেন, ‘কুরূ’সমূহের (হায়েয) দ্বারা সে ইদ্দত গণনা করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: দেখুন, ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮, এখানে এর শাহিদ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ عِدَّةُ الْمُسْتَحَاضَةِ سَنَةٌ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : أثر صحيح
৯৪৪. ইবনু শিহাব (যুহুরী) হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত নারীর ইদ্দতকাল এক বছর।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৯৪৩ (অনুবাদে ৯৩৯) নং এ।
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده ضعيف فيه هشيم وقد عنعن
৯৪৫. (ইসহাক ইবনু ঈসার সূত্রে) ইউনুস হতে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা ‘কুরূ’সমূহের (হায়েযের) দ্বারা তার ইদ্দত গণনা করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ। এ সনদে হুশাইম রয়েছে, যে এটি ‘আন‘আন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন (আর তিনি মুদাল্লিস)।
তাখরীজ: একাধিক সনদে ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮ সহীহ এবং অপর একটি হাসান সনদে। এটি সম্মুখে আসছে ৯৫১ (৯৪৭) নং এ।
أَخْبَرَنَا خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ بِالْأَقْرَاءِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَهْلُ الْحِجَازِ يَقُولُونَ الْأَقْرَاءُ الْأَطْهَارُ وَقَالَ أَهْلُ الْعِرَاقِ هُوَ الْحَيْضُ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَأَنَا أَقُولُ هُوَ الْحَيْضُ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৪৬. মা’মার হতে বর্ণিত, যুহরী রাহি. বলেন: ‘কুরূ’সমূহের (হায়েয) দ্বারা (সে ইদ্দত গণনা করবে)।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৫/১২৮।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ الْمُسْتَحَاضَةُ تَعْتَدُّ بِالْأَقْرَاءِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৪৭. (মুসা ইবনু খালিদ সূত্রে) ইউনুস থেকে বর্ণিত, হাসান রাহি. বলেন: ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা ‘কুরূ’সমূহের (হায়েযের) দ্বারা তার ইদ্দত গণনা করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ عَنْ الْهِقْلِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ شَابَّةٌ تَحِيضُ فَانْقَطَعَ عَنْهَا الْمَحِيضُ حِينَ طَلَّقَهَا فَلَمْ تَرَ دَمًا كَمْ تَعْتَدُّ قَالَ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ
৯৪৮. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, আর তার স্ত্রী হায়েযসম্পন্না যুবতী নারী। কিন্তু তালাক দেওয়ার পর থেকে তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়। তারপর সে আর রক্ত দেখতে পায়নি। -এ ধরণের নারী সম্পর্কে আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম, সে কতদিন ইদ্দত গণনা করবে? জবাবে তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ জাইয়্যিদ।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক)
قَالَ وَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَحَاضَتْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ ارْتَفَعَتْ حَيْضَتُهَا كَمْ تَرَبَّصُ قَالَ عِدَّتُهَا سَنَةٌ قَالَ وَسَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ تَحِيضُ تَمْكُثُ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ تَحِيضُ حَيْضَةً ثُمَّ يَتَأَخَّرُ عَنْهَا الْحَيْضُ ثُمَّ تَمْكُثُ السَّبْعَةَ الْأَشْهُرَ وَالثَّمَانِيَةَ ثُمَّ تَحِيضُ أُخْرَى تَسْتَعْجِلُ إِلَيْهَا مَرَّةً وَتَسْتَأْخِرُ أُخْرَى كَيْفَ تَعْتَدُّ قَالَ إِذَا اخْتَلَفَتْ حِيضَتُهَا عَنْ أَقْرَائِهَا فَعِدَّتُهَا سَنَةٌ
৯৪৯. তিনি (আওযাঈ) বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে আরও জিজ্ঞেস করলাম, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, এরপর তার দু’বার হায়েয হয়। তারপর তার হায়েয বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে কতদিন অপেক্ষা করবে? তিনি বলেন: ‘তার ইদ্দত এক বছর।’[1]
তিনি (আওযাঈ) বলেন, কোনো লোক তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, যার হায়েয হয়। সে মহিলা তিনমাস অপেক্ষা করা (তার হায়েয বন্ধ থাকা)-এর পর তার আরেকবার হায়েয হয়। তারপর তার হায়েয আসতে দেরি হয়। তারপর সে সাত-আট মাস অপেক্ষা করে। তারপর (এভাবে) তার একবার তাড়াতাড়ি হায়েয হয়, আরেকবার দেরিতে হায়েয হতে থাকে। এমন স্ত্রীলোক সম্পর্কে আমি যুহরী রাহি. কে জিজ্ঞেস করলাম: এমতাবস্থায়, সে কতদিন হায়েয গণনা করবে? তিনি বলেন: যদি তার হায়েয তার নির্ধারিত সময় হতে বিভিন্ন রকম হয়, তবে তার ইদ্দত এক বছর।[2]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ আগের হাদীসের সনদ একই তথা জাইয়্যিদ।
তাখরীজ: দেখুন, বিগত ৯৪১ (অনুবাদে ৯৩৭) নং হাদীসটি।
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এটিও আগের হাদীসের সনদই। আর সেটি জাইয়্যিদ (উত্তম)।
তাখরীজ: ((মুহাক্কিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি।-অনুবাদক))
قُلْتُ وَكَيْفَ إِنْ كَانَ طَلَّقَ وَهِيَ تَحِيضُ فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً كَمْ تَعْتَدُّ قَالَ إِنْ كَانَتْ تَحِيضُ أَقْرَاؤُهَا مَعْلُومَةٌ هِيَ أَقْرَاؤُهَا فَإِنَّا نُرَى أَنْ تَعْتَدَّ أَقْرَاءَهَا
৯৫০. (আওযাঈ বলেন) আমি বললাম: যদি এমন মহিলাকে তালাক দেয়া হয়, যার প্রতি বছরে মাত্র একবার করে হায়েয হয়, তবে সে কিভাবে ইদ্দত গণনা করবে? তিনি বললেন: যদি তার হায়েয হয়, আর তার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি (কুরূ’সমূহ) জানা থাকে, তবে সেটাই তার হায়েযের নির্ধারিত দিন (কুরূ’) হিসেবে ধরতে হবে। আর আমার মতে, সে তার কুরূ’সমূহ (হায়েয) অনুযায়ী ইদ্দত গণনা করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদও আগের সনদটিই। ফলে এটিও জাইয়্যেদ।
তাখরীজ: (মুহাক্কিক্ব এর কোন তাখরীজ করেননি।-অনুবাদক)
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الرَّجُلِ يَبْتَاعُ الْجَارِيَةَ لَمْ تَبْلُغْ الْمَحِيضَ وَلَا تَحْمِلُ مِثْلُهَا بِكَمْ يَسْتَبْرِئُهَا قَالَ بِثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ
৯৫১. আওযাঈ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী রাহি. কে একটি লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে একটি দাসী ক্রয় করলো যে এখনো হায়েযে উপনীত হয়নি আর গর্ভধারণের মতো (বয়সও তার) হয়নি। এমতাবস্থায় সেই লোকটি কতদিন তার থেকে সম্পর্কহীন থাকবে? তিনি বললেন: তিন মাস।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: এটি সামনে ১২১৭ নং এ আসছে।
وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ بِخَمْسَةٍ وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا
৯৫২. এবং ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর বলেন, পঁয়তাল্লিশ দিন।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : আগের হাদীসটির সনদই এ সনদ। (তথা সহীহ।)
তাখরীজ: এটি সামনে ১২১৮ নং এ আসছে।
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّي
৯৫৩. সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন, সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস হতে... মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন সনদে।
وَقَالَ حَمَّادٌ لَوْ أَنَّ مُسْتَحَاضَةً جَهِلَتْ فَتَرَكَتْ الصَّلَاةَ أَشْهُرًا فَإِنَّهَا تَقْضِي تِلْكَ الصَّلَوَاتِ قِيلَ لَهُ وَكَيْفَ تَقْضِيهَا قَالَ تَقْضِيهَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ إِنْ اسْتَطَاعَتْ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ إِي وَاللَّهِ
৯৫৪.[1] এবং হাম্মাদ রাহি. বলেন, যদি ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা (ইসতিহাযার হুকুম) না জানার কারণে কয়েক মাস যাবত সালাত পরিত্যাগ করে, তবে সে এ সালাতসমূহের কাযা আদায় করবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সে কিভাবে এগুলোর কাযা আদায় করবে? তিনি জবাবে বললেন, যদি সম্ভব হয় তবে, সে এগুলো একদিনের মধ্যেই আদায় করে নেবে।[2] আব্দুল্লাহকে বলা হলো: আপনিও কি তাই বলেন? তিনি বললেন, অবশ্যই, আল্লাহর কসম।
[1] (এখানেও ৯৫৮ নং এর পরে ৯৬০ নং প্রদান করা হয়েছে, মাঝের ৯৫৯ নং বাদ পড়েছে। আমরা আগের মতোই সেটি বাদ না দিয়ে সঠিকভাবেই নম্বর প্রদান করলাম। ফলে মুহাক্বিক্বের প্রদত্ত হাদীস নং এর সাথে আমাদের প্রদত্ত নং এর পার্থক্য এখন গিয়ে দাঁড়ালো ৬ এ। এ হাদীসটির আমাদের নং ৯৫৪ কিন্তু মুহাক্ক্বিক্বের নং ৯৬০।- অনুবাদক)
[2] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এ হাদীসের সনদ সহীহ। আর পূর্বের হাদীসের সনদই এর সনদ।
তাখরীজ: আমি এটি অন্য কোথাও পাইনি।
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ عَنْ الْحَامِلِ تَرَى الدَّمَ فَقَالَ تَدَعُ الصَّلَاةَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৫৫. মালিক ইবনু আনাস রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহুরী রাহি. কে এমন গর্ভবতী মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রক্ত (আসতে) দেখে। জবাবে তিনি বলেন, সে সালাত পরিত্যাগ করবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মালিক, মু’আত্তা, ১০৩; আব্দুর রাযযাক ১২০৯; আমাদের পরিপূর্ণ বক্তব্য হলো, এর সনদ সহীহ। দেখুন আল ইসতিযকার, ৩/১৯৮, ১৯৯।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ امْرَأَتِي رَأَتْ دَمًا وَأَنَا أُرَاهَا حَامِلًا قَالَ ذَلِكَ غَيْضُ الْأَرْحَامِ اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ فَمَا غَاضَتْ مِنْ شَيْءٍ رَأَتْ مِثْلَهُ فِي الْحَمْلِ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :
৯৫৬. উসমান ইবনুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার স্ত্রী, যে রক্ত দেখতে পায়, তার সম্পর্কে আমি মুজাহিদ রাহি.কে প্রশ্ন করলাম। আর আমার ধারণা, সে গর্ভবতী। তিনি বললেন, এটি হলো গর্ভেরই সামান্য পরিমাণ (রক্ত)। (আল্লাহ তা’আলা বলেন:)( (اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ) অর্থ: “প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন।“ (সূরা রা’দ: ৮)
তিনি বললেন: ফলে (রক্ত বের হওয়ার মাধ্যমে গর্ভের মধ্যে) যে পরিমাণই কমে যায়, তার গর্ভের মধ্যে ঠিক সেই পরিমাণে বৃদ্ধি হয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১০ অধিক শব্দে সহীহ সনদে। তাবারী অপর সনদে মুজাহিদ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ عِكْرِمَةَ فِي هَذِهِ الْآيَةِ اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ قَالَ ذَلِكَ الْحَيْضُ عَلَى الْحَبَلِ لَا تَحِيضُ يَوْمًا فِي الْحَبَلِ إِلَّا زَادَتْهُ طَاهِرًا فِي حَبَلِهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح
৯৫৭. আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, (اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ) অর্থ: “প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন এবং তাঁর বিধানে প্রত্যেক বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে।“ (সূরা রা’দ: ৮)- এ আয়াত সম্পর্কে ইকরিমাহ রাহি. বলেন, এ হায়েয হলো গর্ভের জন্য। গর্ভাবস্থায় একদিনের হায়েযও গর্ভাবস্থায় তার পবিত্রতা বাড়িয়ে দেয়।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১১, ইকরিমাহ হতে সহীহ সনদে। তিনি অপর সনদেও ইকরিমাহ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।... দেখুন, সামনের ৯৬৫ নং হাদীসটি।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ أَمْرٌ لَا يُخْتَلَفُ فِيهِ عِنْدَنَا عَنْ عَائِشَةَ الْمَرْأَةُ الْحُبْلَى إِذَا رَأَتْ الدَّمَ أَنَّهَا لَا تُصَلِّي حَتَّى تَطْهُرَ
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لانقطاعه وربما كان معضلا
৯৫৮. হাম্মাদ ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ রাহি. বলেন, আমাদের মাঝে একটি বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। (সেটি হলো), আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, গর্ভবতী মহিলা যখন রক্ত দেখতে পায়, সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে না।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ‘ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। সম্ভবত এটি মু’দালও বটে।
তাখরীজ: এটি সামনে ৯৬৮ নং এও আসছে। আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি। কিন্তু পরবর্তী ৯৭৩ ও৯৭৪ নং হাদীস দু’টি দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ عِكْرِمَةَ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ قَالَ هُوَ الْحَيْضُ عَلَى الْحَبَلِ وَمَا تَزْدَادُ قَالَ فَلَهَا بِكُلِّ يَوْمٍ حَاضَتْ فِي حَمْلِهَا يَوْمًا تَزْدَادُ فِي طُهْرِهَا حَتَّى تَسْتَكْمِلَ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ طَاهِرًا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৫৯. আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, (وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ) (অর্থ: “জরায়ুতে যা কিছু কমে“..। সূরা রা’দ: ৮) এ সম্পর্কে ইকরিমাহ বলেন: সেটি হলো গর্ভাকালীন হায়েয।
(وَمَا تَزْدَادُ) (অর্থ: “আর যা কিছু বাড়ে....“। সূরা রা’দ: ৮) এ সম্পর্কে তিনি বলেন: তার গর্ভকালীন প্রতি একদিনের হায়েয তার পবিত্রাবস্থাকে এক এক দিন করে বাড়িয়ে দেয়। এমনকি পবিত্রাবস্থায়ই সে নয় মাস পূর্ণ করে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১১১; এটি গত হয়েছে ৯৬৩ (অনুবাদে ৯৫৭) নং এ, পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ قَالَ إِذَا حَاضَتْ الْمَرْأَةُ وَهِيَ حَامِلٌ قَالَ يَكُونُ ذَلِكَ نُقْصَانًا مِنْ الْوَلَدِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى تِسْعَةِ أَشْهُرٍ كَانَ تَمَامًا لِمَا نَقَصَ مِنْ وَلَدِهَا
تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح
৯৬০. আবু বাশার থেকে বর্ণিত, (وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ) (অর্থ: “জরায়ুতে যা কিছু কমে“..। সূরা রা’দ: ৮) এ আয়াত সম্পর্কে মুজাহিদ রাহি. বলেন, যখন গর্ভবতী নারীর হায়েয হয়, তখন তা হয় গর্ভের সন্তানের ক্ষতি/ঘাটতি থেকে। আর (গর্ভ) যদি নয় মাসের অধিককাল হয়, তবে তা সন্তানের ক্ষতি বা ঘাটতির পূর্ণতা দানকারী হবে।[1]
[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: তাবারী, আত তাফসীর ১৩/১০৯-১১০; পূর্ণ তাখরীজের জন্য ৯৬৩ ও ৯৬৫ (অনুবাদে ৯৫৭, ৯৫৯) নং হাদীস দু’টি দেখুন।