হাদীস বিএন


সুনান আদ-দারিমী





সুনান আদ-দারিমী (921)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ الْحَكَمِ فِي الْحَائِضِ إِذَا رَأَتْ الطُّهْرَ آخِرَ النَّهَارِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَإِذَا طَهُرَتْ آخِرَ اللَّيْلِ صَلَّتْ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح




৯২১. মানসূর হতে বর্ণিত, হাকাম রাহি. হায়েযগ্রস্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন: দিনের শেষভাগে যদি সে পবিত্রাবস্থা লক্ষ্য করে, তবে সে যুহর ও আসর সালাত আদায় করবে। আর সে যদি রাতের শেষভাবে পবিত্রতা লাভ করে, তবে মাগরিব ও ঈশা’ সালাত আদায় করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১২৮২; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭ সহীহ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (922)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ مِثْلَهُ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده ضعيف لضعف ليث وهو: ابن أبي سليم




৯২২. লাইছ হতে বর্ণিত, তাউস রাহি. হতেও অনুরূপ বণির্ত হয়েছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ যঈফ, কেননা, লাইছ যঈফ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৭; দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১২৮২।









সুনান আদ-দারিমী (923)


أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُغِيرَةَ قَالَ كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَقُولُ إِذَا طَهُرَتْ عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّتْ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




৯২৩. শু’বাহ হতে বর্ণিত, মুগীরাহ বলেন, ইবরাহীম রাহি. বলতেন: যদি আসরের সময় সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) পবিত্রতা লাভ করে, তবে সে যুহর এবং আসরের সালাত আদায় করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৩৩৬-৩৩৭ যঈফ সনদে।









সুনান আদ-দারিমী (924)


أَخْبَرَنَا أَبُو زَيْدٍ قَالَ قَالَ شُعْبَةُ سَأَلْتُ حَمَّادًا قَالَ إِذَا طَهُرَتْ فِي وَقْتِ صَلَاةٍ صَلَّتْ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯২৪. আবু যাইদ বর্ণনা করেন, শু’বাহ বলেন, আমি হাম্মাদকে প্রশ্ন করেছিলাম। জবাবে তিনি বললেন: যখন সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্রতা লাভ করবে, তখন সে (সেই সালাত) আদায় করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (925)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ إِذَا طَهُرَتْ فِي وَقْتِ صَلَاةٍ صَلَّتْ تِلْكَ الصَّلَاةَ وَلَا تُصَلِّي غَيْرَهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯২৫. ইউনুস ও হামীদ হাসান রাহি. হতে, তিনি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘যখন সে (হায়েযগ্রস্ত মহিলা) সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্রতা লাভ করবে, তখন সে সেই সালাত আদায় করবে। আর এ সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত সে আদায় করবে না।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ। হাসান আনাস রা: হতে শ্রবণ করেছেন, ফলে এ সনদে কোনো ইনকিতা’ নেই। আল্লাহই ভাল জানেন।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (926)


قَالَ أَبُو مُحَمَّد قَرَأْتُ عَلَى زَيْدِ بْنِ يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ قَالَ سَأَلْتُهُ عَنْ الْمَرْأَةِ تَطْهُرُ بَعْدَ الْعَصْرِ قَالَ تُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ قُلْتُ فَإِنْ كَانَ طُهْرُهَا قَرِيبًا مِنْ مَغِيبِ الشَّمْسِ قَالَ تُصَلِّي الْعَصْرَ وَلَا تُصَلِّي الظُّهْرَ وَلَوْ أَنَّهَا لَمْ تَطْهُرْ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا شَيْءٌ سُئِلَ عَبْد اللَّهِ تَأْخُذُ بِهِ قَالَ لَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯২৬. আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন: আমি যাইদ ইবনু ইয়াহইয়ার নিকট মালিক থেকে (এ হাদীসটি) পাঠ করলাম, তিনি বললেন: আমি এমন মহিলা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে আসরের পরে পবিত্র হলো। তিনি বললেন: সে যুহর ও আসরের সালাত আদায় করবে। আমি বললাম: যদি সূর্যাস্তের নিকটবর্তী সময়ে সে পবিত্রতা লাভ করে? তিনি বললেন, সে আসরের সালাত আদায় করবে, তবে তাকে যুহর সালাত আদায় করতে হবে না। আর যদি সে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তবে তাকে কিছুই করতে হবে না।[1] আব্দুল্লাহ (দারিমী)কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি এমত গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: না।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি এখানে ব্যতীত অন্য কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (927)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ الْمُحَارِبِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَتَبَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ إِنِّي قَدْ اسْتُحِضْتُ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا فَبَلَغَنِي أَنَّ عَلِيًّا قَالَ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا نَجِدُ لَهَا غَيْرَ مَا قَالَ عَلِيٌّ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯২৭. সাঈদ্ ইবনু জুবাইর হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: একদা তাঁর নিকট এক মহিলা লিখে পাঠাল: ‘এত এত সময় পর্যন্ত আমার ইসতিহাযা হয়েছে। তারপর আমার নিকট এ খবর পৌঁছল যে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’ (একথা শুনে) ইবনু আব্বাস বললেন: আলী যা বলেছেন, তা ব্যতীত তার ব্যাপারে আমরা অন্য কিছু জানতে পারিনি।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৭৩, ১১৭৮; ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ সহীহ সনদে; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৯৯-১০০, ১০১ সহীহ সনদে; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২১৩।









সুনান আদ-দারিমী (928)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَوْ عِكْرِمَةُ قَالَ كَانَتْ زَيْنَبُ تَعْتَكِفُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ تُرِيقُ الدَّمَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده منقطع




৯২৮. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর থেকে বর্ণিত, আবু সালামাহ কিংবা ইকরিমাহ বলেন, যায়নাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ই’তিকাফ করছিলেন, এমতাবস্থায় তার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। তখন তিনি তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন)।

তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৫১। এখানে আবু সালামাহ ‘ও’ ইকরিমাহ রয়েছে; আব্দুর রাযযাক নং ১১৭ (এ নম্বরটি ভুল, আসলে এটি ১১৭৫, যা প্রিন্টিংয়ে ১১৭ হয়ে গেছে হয়তো। আর এখানে যায়নাব’ এর পরিবর্তে ‘উম্মু সালামাহ’র কথা রয়েছে। আর মুহাক্কিক্বের টীকার বর্ণনানুযায়ী হাদীসটি ১১৭৭ নং যাতে আবী সালামাহ’র মতামত উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে যায়নাবের ই’তিকাফ বা ইসতিহাযাগ্রস্ত হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই ।- অনুবাদক।)









সুনান আদ-দারিমী (929)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ عَلِيًّا وَابْنَ مَسْعُودٍ كَانَا يَقُولَانِ الْمُسْتَحَاضَةُ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده منقطع




৯২৯. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর থেকে বর্ণিত, আলি ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বলেন: ‘ইসতিহাযাগ্রস্ত নারী প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ মুনকাতি’ (বিচ্ছিন্ন)।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস রা: হতে... মুনকাতি’ সনদে; অপর সনদে ১/১২৭ আলী ও ইবনু আব্বাস রা: থেকে... এটিও ‘ইনকিতা’র কারণে যঈফ। আর আলী রা: এর হাদীসটি ৯০২ (অনুবাদে ৮৯৮) নং এ গত হয়েছে। আর ইবনু মাসউদ রা: এর হাদীসটি আমি কোথাও পাইনি।









সুনান আদ-দারিমী (930)


أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ يَقُولُ تَغْتَسِلُ بَيْنَ كُلِّ صَلَاتَيْنِ غُسْلًا وَاحِدًا وَتَغْتَسِلُ لِلْفَجْرِ غُسْلًا وَاحِدًا قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ وَكَانَ الزُّهْرِيُّ وَمَكْحُولٌ يَقُولَانِ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩০. আওযাঈ বলেন, আমি আতা’ ইবনু আবী রাবাহ রাহি. কে বলতে শুনেছি, ‘সে (ইসতিহাযাগ্রস্ত মহিলা) প্রতি দু’ সালাতের জন্য একবার করে গোসল করবে। আর ফজরের সালাতের জন্য একবার গোসল করবে।[1] আওযাঈ আরও বলেন, যুহরী ও মাকহুল উভয়ে বলতেন: প্রত্যেক সালাতের সময় সে গোসল করবে।’

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ৮৩১, ৮৩৩, ৯২০ (অনুবাদে ৮২৭, ৮২৯, ৯১৬) নং এ। আরও দেখুন, আব্দুর রাযযাক নং ১১৭১ দীর্ঘাকারে (যঈফ সনদে)।









সুনান আদ-দারিমী (931)


أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ قَالَ وَهْبٌ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ كَانَتْ تُهَرَاقُ الدَّمَ وَأَنَّهَا سَأَلَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَاكَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّيَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




৯৩১. আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, উম্মু হাবীবাহ বিনতে জাহশ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি তাকে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতে এবং সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ ইনকিতা’ বা বিচ্ছিন্নতার কারণে যঈফ। (তবে হাদীসটি সহীহ যা আবু দাউদ অন্য সনদে বর্ণনা করেছেন; এছাড়া এর শাহিদ হাদীস সহীহ সনদে আয়েশা রা: হতে গত হয়েছে। দেখুন ৭৯৮-৮০৬ নং হাদীসগুলি।-অনুবাদক)

তাখরীজ: বাইহাকী ১/৩৫১।

আবু দাউদ ২৯৩, অপর সনদে মহিলার নামোল্লেখ ছাড়াই উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন যার সনদ সহীহ ।









সুনান আদ-দারিমী (932)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَقُولُ كَتَبَتْ امْرَأَةٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ الزُّبَيْرِ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ وَإِنِّي أُذَكِّرُكُمَا اللَّهَ إِلَّا أَفْتَيْتُمَانِي وَإِنِّي سَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالُوا كَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ فَقَرَأْتُ وَكَتَبْتُ الْجَوَابَ بِيَدِي مَا أَجِدُ لَهَا إِلَّا مَا قَالَ عَلِيٌّ فَقِيلَ إِنَّ الْكُوفَةَ أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَقَالَ لَوْ شَاءَ اللَّهُ لَابْتَلَاهَا بِأَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني : إسناده صحيح




৯৩২. আবু বাশার বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রাহি. কে বলতে শুনেছি, এক মহিলা ইবনু আব্বাস ও ইবনু যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র নিকট লিখে পাঠালেন: আমি ইসতিহাযায় আক্রান্ত হয়েছি, ফলে আমি কখনো পবিত্র হই না। আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি (আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি) যে, আপনারা উভয়ে আমাকে ফতোয়া দিবেন। আর আমি আপনাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছি।’ তখন তারা (লোকেরা) বলল, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: সে প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করবে।’ আমি (বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু জুবাইর) একথা (ইবনু আব্বাসের নিকট) উল্লেখ করলাম। আর আমি নিজের হাতে উত্তর লিখে দিলাম আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যা বলেছেন, তা ব্যতীত তার জন্য আর কিছুই আমি পেলাম না। তখন তাকে বলা হলো, কুফা’ হলো শীতল ঠাণ্ডা এলাকা। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তবে একে এর চেয়েও কঠিন পরীক্ষায় ফেলবেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১১৭৩,১১৭৯; অপর সনদে তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০০ সনদ সহীহ।

দ্রষ্টব্য: ইবনু জুবাইরের মুরসালটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাযযাক, আর তাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উমার, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনু জুবাইরের মুরসালসমূহ বর্ণনা করেছেন।









সুনান আদ-দারিমী (933)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ قَيْسٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ أَرْضَهَا أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَقَالَ تُؤَخِّرُ الظُّهْرَ وَتُعَجِّلُ الْعَصْرَ وَتَغْتَسِلُ غُسْلًا وَتُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلُ الْعِشَاءَ وَتَغْتَسِلُ غُسْلًا وَتَغْتَسِلُ لِلْفَجْرِ غُسْلًا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩৩. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলা হলো: সে মহিলার দেশ (কুফা) খুব ঠাণ্ডার দেশ। তখন তিনি বললেন: সে যুহর সালাতকে পিছিয়ে দেবে এবং আসর সালাতকে আগে আগে আদায় করবে, আর (এ দু’টি সালাতের জন্য) একবার গোসল করবে; অনুরূপভাবে মাগরিবকে পিছিয়ে দেবে এবং ঈশাকে আগে আগে আদায় করবে, আর (এ দু’টি সালাতের জন্য) আরেকবার গোসল করবে। আর ফজর সালাতের জন্য একবার গোসল করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১০১-১০২।









সুনান আদ-দারিমী (934)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ ابْنَةَ جَحْشٍ كَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَكَانَتْ تُسْتَحَاضُ فَكَانَتْ تَخْرُجُ مِنْ مِرْكَنِهَا وَإِنَّهُ لَعَالِيهِ الدَّمُ فَتُصَلِّي

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩৪. যায়নাব বিনতে উম্ম সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহশের কন্যা যিনি আব্দুর রহমান ইবনু আউফের স্ত্রী ছিলেন, তিনি ইসতিহাযাগ্রস্ত ছিলেন। ফলে তিনি (যে পানিভরা পাত্রে বসে থাকতেন, সেই) পাত্র হতে যখন উঠে আসতেন, তখন পাত্রের উপরিভাগ পর্যন্ত রক্তে লাল হয়ে যেতো। এমতাবস্থায়ই তিনি সালাত আদায় করতেন।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১/১২৮ ...। আরও দেখুন, উসদুল গাবাহ ৭/৬৯-৭১, ৩১৪-৩১৫; আল ইসাবাহ ১২/১৯১-১৯২, ২৮২-২৮৩, ১৩/১৯২; ইসতিযকার ৩/২২৮।









সুনান আদ-দারিমী (935)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدٍ الدِّمَشْقِيُّ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ وَيَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ يَقُولَانِ تُفْرِدُ لِكُلِّ صَلَاةٍ اغْتِسَالَةً قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ وَبَلَغَنِي عَنْ مَكْحُولٍ مِثْلُ ذَلِكَ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩৫. আওযাঈ বলেন, আমি যুহরী ও ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীরকে বলতে শুনেছি, তারা উভয়ে বলেন: “সে প্রত্যেক সালাতের জন্য এককভাবে গোসল করবে।“ আওযাঈ বলেন: মাকহুল থেকে এটার অনুরূপ বক্তব্য আমার নিকট পৌছেছে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি এটি আর কোথাও পাইনি। মাকহুল হতে আওযাঈ’র বর্ণনাটি যঈফ। আর পূর্বে বর্ণিত, আয়িশা রা: এর হাদীস দেখুন নং ৭৯৫ (অনুবাদে ৭৯১)।









সুনান আদ-দারিমী (936)


أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعَيْبٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ لِكُلِّ صَلَاتَيْنِ اغْتِسَالَةٌ وَتُفْرِدُ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ اغْتِسَالَةً

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :




৯৩৬. আতা রাহি. হতে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন: প্রতি দু’সালাতের জন্য একবার গোসল করবে এবং ফজর সালাতের জন্য এককভাবে গোসল করবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: এটি ৮৩১, ৯২২ (অনুবাদে ৮২৭, ৯১৮) নং এ গত হয়েছে। আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী ১/৮৯।









সুনান আদ-দারিমী (937)


أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ حَمَّادٍ الْكُوفِيِّ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَقَالَ عَلَيْكِ بِالْمَاءِ فَانْضَحِيهِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ الدَّمَ عَنْكِ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩৭. হাম্মাদ আল কুফী থেকে বর্ণিত, এক মহিলা ইবরাহীমকে জিজ্ঞেস করল। সে বললো, আমি ইসতিহাযায় আক্রান্ত। তখন তিনি বললেন: তোমার উপর পানি ব্যবহার ওয়াজিব। তুমি পানি ছিটিয়ে দেবে। ফলে পানি তোমার (শরীর) থেকে রক্ত মুছে দেবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: (মুহাক্বিক্ব এর কোনো তাখরীজ দেননি। -অনুবাদক)









সুনান আদ-দারিমী (938)


أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دِينَارٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ فِي الْمُطَلَّقَةِ الَّتِي ارْتِيبَ بِهَا تَرَبَّصُ سَنَةً فَإِنْ حَاضَتْ وَإِلَّا تَرَبَّصَتْ بَعْدَ انْقِضَاءِ السَّنَةِ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ فَإِنْ حَاضَتْ وَإِلَّا فَقَدْ انْقَضَتْ عِدَّتُهَا

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده حسن




৯৩৮. ইউনুস থেকে বর্ণিত, তালাকপ্রাপ্তা মহিলা, যে তার ব্যাপারে সন্দিহান, তার সম্পর্কে হাসান রাহি. বলেন, সে এক বছর সময় প্রতীক্ষা করবে। এরপর যদি তার হায়েয হয়, (তবে তার ইদ্দত শেষ হবে), তা না হলে একবছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আরও তিনমাস অপেক্ষা করবে। এরপর যদি তার হায়েয হয়, তবে তার ইদ্দত শেষ হবে।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ হাসান।

তাখরীজ: দেখুন, আব্দুর রাযযাক ১১০৯৮।









সুনান আদ-দারিমী (939)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ عِدَّةِ الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا طُلِّقَتْ فَحَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ عِدَّتُهَا سَنَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ قَوْلُ مَالِكٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৩৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ বলেন, মালিককে ‘ইসতিহাযাগ্রস্ত তালাকপ্রাপ্তা মহিলা’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইবনু শিহাব হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: ‘সেই মহিলার ইদ্দতকাল একবছর।’[1] আবু মুহাম্মদ বলেন: এটি মালিকের মত।

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: মালিক, তালাক অধ্যায় ৭১; ইবনু আবী শাইবা ৫/১৫৮; এটি সামনে ৯৪৮ (অনুবাদে ৯৪৪) নং এ আসছে। আব্দুর রাযযাক নং ১১১২৪।









সুনান আদ-দারিমী (940)


أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ سُئِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ الْمَرْأَةِ تُطَلَّقُ وَهِيَ شَابَّةٌ فَتَرْتَفِعُ حِيضَتُهَا مِنْ غَيْرِ كِبَرٍ قَالَ مِنْ غَيْرِ حَيْضٍ تَحَيَّضُ وَقَالَ طَاوُسٌ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ

تحقيق الشيخ حسين سليم أسد الداراني :إسناده صحيح




৯৪০. আমর ইবনু দীনার বলেন, জাবির ইবনু যাইদ রাহি. কে ‘তালাকপ্রাপ্তা যুবতী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো বার্ধক্য ছাড়াই যার হায়েয বন্ধ হয়ে হয়ে আছে। তিনি বলেন: হায়িয বন্ধ থাকা অবস্থা থেকে তার হায়েয হওয়া (-ই তার ইদ্দতকাল)। আর তাউস বলেন: (তার ইদ্দতকাল) তিনমাস।[1]

[1] তাহক্বীক শায়খ হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানী : এর সনদ সহীহ।

তাখরীজ: আমি জাবিরের হাদীসটি আর কোথাও পাইনি। আর তাওসের বক্তব্যটি বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১১১২২।