মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল
181 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ، قَالَ: أَرْسَلَتْنِي أَسْمَاءُ إِلَى ابْنِ عُمَرَ: أَنَّهُ بَلَغَهَا أَنَّكَ تُحَرِّمُ أَشْيَاءَ ثَلاثَةً: الْعَلَمَ فِي الثَّوْبِ، وَمِيثَرَةَ الْأُرْجُوَانِ، وَصَوْمَ رَجَبٍ كُلِّهِ، فَقَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صَوْمِ رَجَبٍ، فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الْأَبَدَ؟ وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنَ الْعَلَمِ فِي الثَّوْبِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم رجاله ثقات ]
১৮১। আসমার স্বাধীনকৃত দাস আবদুল্লাহ বলেন, আসমা আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমারের নিকট পাঠালেন। আমি গিয়ে তাকে বললাম, আসমা শুনেছেন যে, আপনি তিনটে জিনিস থেকে নিষেধ করেনঃ কাপড়ে নকশী করা, বেগুনী রং এর বালিশ এবং পুরো রজব মাসের রোযা। তিনি বললেন, রজব মাসের রোযা সম্পর্কে যা বললেন, সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য হলো, যে ব্যক্তি সারা জীবন রোযা রাখে, তার সাথে কী করা হবে? অর্থাৎ সারা জীবন রোযা রাখা যেমন অনুচিত, সারা রজব মাস রোযা রাখাও তেমনি অনুচিত। কেননা রমযানের ফারয রোযা আসন্ন। আর কাপড়ে নকশী সম্পর্কে যা বললেন, সে সম্পর্কে আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরবে, সে আখিরাতে তাপরবে না। হাদীসে নকশী কাপড় বলতে রেশমী (সিল্ক) পোশাককে বুঝানো হয়েছে। রেশমী ছাড়া অন্যান্য কাপড়ে নকশী করা নিষিদ্ধ নয়। [মুসলিম]
182 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَنَا سَأَلْتُهُ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ عُمَرَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ، فَتَرَاءَيْنَا الْهِلالَ، وَكُنْتُ حَدِيدَ الْبَصَرِ فَرَأَيْتُهُ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ لِعُمَرَ: أَمَا تَرَاهُ؟ قَالَ: سَأَرَاهُ وَأَنَا مُسْتَلْقٍ عَلَى فِرَاشِي. ثُمَّ أَخَذَ يُحَدِّثُنَا عَنْ أَهْلِ بَدْرٍ، قَالَ: إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُرِينَا مَصَارِعَهُمْ بِالْأَمْسِ، يَقُولُ: " هَذَا مَصْرَعُ فُلانٍ غَدًا، إِنْ شَاءَ اللهُ، وَهَذَا مَصْرَعُ فُلانٍ غَدًا، إِنْ شَاءَ اللهُ، قَالَ: فَجَعَلُوا يُصْرَعُونَ عَلَيْهَا، قَالَ: قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَخْطَئُوا تِيكَ، كَانُوا يُصْرَعُونَ عَلَيْهَا. ثُمَّ أَمَرَ بِهِمْ فَطُرِحُوا فِي بِئْرٍ، فَانْطَلَقَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: " يَا فُلانُ، يَا فُلانُ، هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمُ اللهُ حَقًّا، فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي اللهُ حَقًّا "، قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَتُكَلِّمُ قَوْمًا قَدْ جَيَّفُوا؟ قَالَ: " مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ، وَلَكِنْ لَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يُجِيبُوا " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৮২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে মক্কা ও মদীনার মাঝে ছিলাম। এ সময় আমরা চাঁদ দেখাদেখি করছিলাম। আমার দৃষ্টিশক্তি খুব তীক্ষ্ম ছিল। তাই আমি চাঁদ দেখতে পেলাম। আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললাম, আপনি কি চাঁদ দেখতে পাচ্ছেন না? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, পরে বিছানায় শুয়ে শুয়েই দেখতে পাবো। অতঃপর তিনি বদরের যোদ্ধাদের ঘটনা বর্ণনা করতে আরম্ভ করলেন। বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাদের (কাফিরদের) নিহত হওয়ার স্থান আগের দিনে দেখাতেন। বলতেনঃ এই খানে অমুক ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ আগামী কাল নিহত হবে, এই খানে অমুক ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ আগামীকাল নিহত হবে, এরপর তারা একে একে নিহত হতে লাগলো। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম, যিনি আপনাকে সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, ওরা আপনার এই ভবিষ্যদ্বাণী ভ্রান্ত প্রমাণ করতে পারেনি। ওরা সত্যিই নিহত হচ্ছিল।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে তাদের লাশগুলো একটি কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে অমুক, হে অমুক, আল্লাহ তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পেয়েছ তো? আমি তো আল্লাহ আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা নিশ্চিতই পেয়েছি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, যারা লাশে পরিণত হয়েছে, তাদের সাথে আপনি কথা বলছেন? তিনি বললেন, আমার কথা তোমাদের চেয়েও ওরা ভালো শুনতে পাচ্ছে। তবে তারা সাড়া দিতে পারছে না। [মুসলিম]
183 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: فَلَمَّا رَجَعَ عَمْرٌو جَاءَ بَنُو مَعْمَرِ بْنِ حَبِيبٍ يُخَاصِمُونَهُ فِي وَلاءِ أُخْتِهِمْ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: أَقْضِي بَيْنَكُمْ بِمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَا أَحْرَزَ الْوَلَدُ أَوِ الْوَالِدُ، فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ "، فَقَضَى لَنَا بِهِ .
تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالحسن.] {الجامع الصغير (7791).}
১৮৩। আমর বিন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং পিতা দাদা থেকে বর্ণনা করেন, আমর যখন ফিরে এলেন, তখন মা’মার বিন হাবীবের সন্তানেরা এলো তাদের বোনের উত্তরাধিকারের দাবী উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট পেশ করার জন্য। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা শুনেছি, তদনুসারে তোমাদের বিরোধের মীমাংসা করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সন্তান বা পিতা যা কিছু রেখে যায়, তা তার পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়দের মধ্য থেকে যে জীবিত থাকে তার। এভাবে তিনি সেই সম্পত্তি আমাদেরকে দেয়ার ফায়সালা করলেন।
[আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ]
184 - قَرَأْتُ عَلَى يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ: عُثْمَانُ بْن غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، وَحُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، قَالا: لَقِينَا عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، فَذَكَرْنَا الْقَدَرَ، وَمَا يَقُولُونَ فِيهِ، فَقَالَ: إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ، فَقُولُوا: إِنَّ ابْنَ عُمَرَ مِنْكُمْ بَرِيءٌ، وَأَنْتُمْ مِنْهُ بُرَآءُ - ثَلاثَ مِرَارٍ - ثُمَّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَنَّهُمْ بَيْنمَا هُمْ جُلُوسٌ - أَوْ قُعُودٌ - عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَاءَهُ رَجُلٌ يَمْشِي، حَسَنُ الْوَجْهِ، حَسَنُ الشَّعْرِ، عَلَيْهِ ثِيَابُ بَيَاضٍ، فَنَظَرَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ: مَا نَعْرِفُ هَذَا، وَمَا هَذَا بِصَاحِبِ سَفَرٍ. ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، آتِيكَ؟ قَالَ: " نَعَمْ " فَجَاءَ فَوَضَعَ رُكْبَتَيْهِ عِنْدَ رُكْبَتَيْهِ، وَيَدَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، فَقَالَ: مَا الْإِسْلامُ؟ قَالَ: " شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ " قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْقَدَرِ كُلِّهِ "، قَالَ: فَمَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: " أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " قَالَ: فَمَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ "، قَالَ: فَمَا أَشْرَاطُهَا؟ قَالَ: " إِذَا الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ الْعَالَةُ رِعَاءُ الشَّاءِ تَطَاوَلُوا فِي الْبُنْيَانِ، وَوَلَدَتِ الْإِمَاءُ أَرْبَابَهُنَّ " قَالَ: ثُمَّ قَالَ: " عَلَيَّ الرَّجُلَ "، فَطَلَبُوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا، فَمَكَثَ يَوْمَيْنِ أَوْ ثَلاثَةً، ثُمَّ قَالَ: " يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ عَنْ كَذَا وَكَذَا؟ " قَالَ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: " ذَاكَ جِبْرِيلُ جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ " . قَالَ: وَسَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ أَوْ من مُزَيْنَةَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فِيمَ نَعْمَلُ، أَفِي شَيْءٍ قَدْ خَلا أَوْ مَضَى، أَوْ فِي شَيْءٍ يُسْتَأْنَفُ الْآنَ؟ قَالَ: " فِي شَيْءٍ قَدْ خَلا، أَوْ مَضَى " فَقَالَ رَجُلٌ، أَوْ بَعْضُ الْقَوْمِ: يَا رَسُولَ اللهِ، فِيمَ نَعْمَلُ؟ قَالَ: " أَهْلُ الْجَنَّةِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَأَهْلُ النَّارِ يُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ " . قَالَ: يَحْيَى قَالَ: هُوَ كَذَا .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৮৪। ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার এবং হুমাইদ বিন আবদুর রহমান আল-হিময়ারী বলেন, আমরা উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উমারের সাথে সাক্ষাত করলাম। তখন অদৃষ্ট ও তদসংক্রান্ত বিষয়ে লোকদের ধ্যান ধারণার কথা উল্লেখ করলাম। আবদুল্লাহ ইবনে উমার বললেন, তোমরা যখন তাদের নিকট ফিরে যাবে, তখন বলবে, আবদুল্লাহ ইবনে উমার তোমাদের থেকে দায়মুক্ত আর তোমরা তার থেকে দায়মুক্ত। এ কথা তিনবার বললেন। (অর্থাৎ অদৃষ্ট সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যান ধারণার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি এর সমর্থকও নন, বিরোধীও নন।—অনুবাদক) তারপর বললেন, আমাকে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলেন, সহসা তার নিকট এমন এক ব্যক্তি পদব্রজে এল, যার চেহারা ও চুল চমৎকার এবং পরিধানে সাদা কাপড় ছিল। উপস্থিত লোকেরা মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো। আমরা কেউ তাকে চিনিওনা, আর সে কোন মুসাফিরও নয়।
তারপর বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি আপনার কাছে আসবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর সে এল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুর সাথে হাঁটু গেড়ে এবং নিজের উরুদ্বয়ের ওপর হাত রেখে বসলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো, ইসলাম কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রাসূল, আর নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে, রমযানে রোযা রাখবে এবং আল্লাহর ঘরে হজ্জ আদায় করবে। সে বললো, ঈমান কী? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নাম, মৃত্যুর পর পুনরুজীবিত হওয়া ও সব রকমের ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনবে।
সে বললোঃ ইহসান কী? তিনি বললেনঃ আল্লাহর জন্য কাজ করবে এমনভাবে যেন তাকে তুমি দেখছ, আর যদি তুমি তাকে না দেখ, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। সে বললোঃ কিয়ামত কবে হবে? তিনি বললেন, জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এ ব্যাপারে বেশি জানে না। সে বললো কিয়ামতের নিদর্শনাবলী কী কী? তিনি বললেনঃ এক সময় যারা নগ্ন থাকতো, খালি পায়ে চলতো ও ছাগল চরাতো, তারা বড় বড় অট্রালিকায় বসে দম্ভ করবে এবং দাসীরা এমন সন্তান জন্ম দেবে যারা তাদের প্রভু হবে।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ লোকটিকে আমি চাই। তখন সবাই তাকে খোজাখুঁজি করলো। কিন্তু কিছুই দেখলো না। এরপর দুই বা তিনদিন কেটে গেল। তারপর বললেন, ওহে খাত্তাবের ছেলে, জান কে এসব প্রশ্ন করছিল। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ও হচ্ছে জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে এসেছিল।
উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুযাইনা বা জুহাইনা গোত্রের এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা যে কাজ করি তা কি পূর্ব-নির্ধারিত ব্যাপার (অর্থাৎ অদৃষ্টের লিখন) নাকি এখন নতুনভাবে করা হয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পূর্ব-নির্ধারিত ব্যাপার। এ সময় এক ব্যক্তি অথবা কোন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহলে আমরা আমল করে কী লাভ? তিনি বললেন, জান্নাতবাসীর জন্য জান্নাতের উপযুক্ত আমল সহজ করে দেয়া হয় এবং জাহান্নামবাসীর জন্য জাহান্নামের উপযুক্ত আমল সহজ করে দেয়া হয়।
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯১, ৩৬৭, ৩৬৮, ইবনে উমারের বর্ণিত— ৩৭৪, ৩৭৫, ৫৮৫৬, ৫৮৫৭]
185 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَكَمِ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ ، فَقَالَ: " نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ، وَقَالَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُحَرِّمَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُولُهُ، فَلْيُحَرِّمِ النَّبِيذَ. قَالَ: وَسَأَلْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ، فَقَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْجَرِّ. قَالَ: وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ فَحَدَّثَ عَنْ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ . قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ، وَالْمُزَفَّتِ، وَالْبُسْرِ، وَالتَّمْرِ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم رجاله ثقات ]
১৮৫। আবুল হাকাম বলেন, আমি ইবনুল আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কলসীতে বানানো ফলের রসের মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো ফলের রসের মদ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের নিষিদ্ধকৃত জিনিসকে বর্জন করা যার কাছে আনন্দদায়ক, সে যেন ফলের রসের মদ বর্জন করে। ইবনুয যুবাইরও (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী ও লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ নিষিদ্ধ করেছেন। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউয়ের খোলে করে বানানো মদ ও মুযাফফাত (আলকাতরার মত কালো এক ধরনের তরল মাদক) নিষিদ্ধ করেছেন। আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)ও বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কলসী, লাউয়ের খোল, মুযাফফাত এবং কাচা খেজুর ও খোরমার নির্যাস দিয়ে তৈরী মদ নিষিদ্ধ করেছেন।
[দেখুন, হাদীস নং-২৬০, ৩৬০]
186 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَنَا سَأَلْتُهُ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ: أَنَّ عُمَرَ خَطَبَ يَوْمَ جُمُعَةٍ ، فَذَكَرَ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَكَرَ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، وَقَالَ: إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ كَأَنَّ دِيكًا قَدْ نَقَرَنِي نَقْرَتَيْنِ، وَلا أُرَاهُ إِلَّا لِحُضُورِ أَجَلِي، وَإِنَّ أَقْوَامًا يَأْمُرُونِي أَنْ أَسْتَخْلِفَ، وَإِنَّ اللهَ لَمْ يَكُنْ لِيُضِيعَ دِينَهُ، وَلا خِلافَتَهُ، وَالَّذِي بَعَثَ بِهِ نَبِيَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنْ عَجِلَ بِي أَمْرٌ فَالْخِلافَةُ شُورَى بَيْنَ هَؤُلاءِ السِّتَّةِ الَّذِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ، وَإِنِّي قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ قَوْمًا سَيَطْعُنُونَ فِي هَذَا الْأَمْرِ أَنَا ضَرَبْتُهُمْ بِيَدِي هَذِهِ عَلَى الْإِسْلامِ، فَإِنْ فَعَلُوا، فَأُولَئِكَ أَعْدَاءُ اللهِ الْكَفَرَةُ الضُّلَّالُ. وَإِنِّي لَا أَدَعُ بَعْدِي شَيْئًا أَهَمَّ إِلَيَّ مِنَ الْكَلالَةِ، وَمَا أَغْلَظَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَيْءٍ مُنْذُ صَاحَبْتُهُ مَا أَغْلَظَ لِي فِي الْكَلالَةِ، وَمَا رَاجَعْتُهُ فِي شَيْءٍ مَا رَاجَعْتُهُ فِي الْكَلالَةِ، حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: " يَا عُمَرُ، أَلا تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ؟ " فَإِنْ أَعِشْ أَقْضِ فِيهَا قَضِيَّةً يَقْضِي بِهَا مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَمَنْ لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ. ثُمَّ قَالَ: اللهُمَّ إِنِّي أُشْهِدُكَ عَلَى أُمَرَاءِ الْأَمْصَارِ، فَإِنَّمَا بَعَثْتُهُمْ لِيُعَلِّمُوا النَّاسَ دِينَهُمْ، وَسُنَّةَ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَيَقْسِمُوا فِيهِمْ فَيْئَهُمْ، وَيَعْدِلُوا عَلَيْهِمْ، وَيَرْفَعُوا إِلَيَّ مَا أَشْكَلَ عَلَيْهِمْ مِنْ أَمْرِهِمْ. أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ تَأْكُلُونَ مِنْ شَجَرَتَيْنِ لَا أُرَاهُمَا إِلَّا خَبِيثَتَيْنِ، لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وَجَدَ رِيحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ، أَمَرَ بِهِ، فَأُخِذَ بِيَدِهِ، فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ، وَمَنْ أَكَلَهُمَا، فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخًا .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]
১৮৬। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এক জুমআর দিনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রথমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্মৃতিচারণ করলেন। তারপর বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখেছি, যেন একটা মোরগ আমাকে দুটো ঠোকর মারলো। আমার মনে হয় না, এটা আমার মৃত্যু আসন্ন হওয়া ছাড়া অন্য কিছুর লক্ষণ। অনেকে আমাকে আমার উত্তরাধিকারী মনোনীত করতে বলছে। আল্লাহ তার দীনকে এবং খিলাফাতকে ধ্বংস করতে চান না। যিনি তার নবীকে এই দীন সহকারে পাঠিয়েছেন সেই আল্লাহর কসম, আমার যদি অবিলম্বেই কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ছয় ব্যক্তির মধ্যে পরামর্শক্রমে খালীফা নিযুক্ত হবে, যাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন। আমি জানতে পেরেছি যে, কিছু লোক প্রশাসনিক ব্যাপারে এই বলে সমালোচনা করছে যে, আমি ইসলামের খাতিরেই তাদেরকে নিজ হাতে প্রহার করেছি। যদি সত্যিই তারা এই মর্মে সমালোচনা করে, তবে তারা আল্লাহর দুশমন, কাফির ও বিপথগামী। আমি আমার পরে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তির চেয়ে আমার নিকট অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই রেখে যাচ্ছি না।
যতদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে কাটিয়েছি, ততদিন তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আমাকে যত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, তত আর কারো ব্যাপারেই করেননি। আর আমি তার কাছে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তি করতে যাইনি। একবার তো তিনি আমার বুকের ওপর তার আঙ্গুল দিয়ে করাঘাত করে বললেন, হে উমার, সূরা আন নিসার শেষে যে আয়াত রয়েছে, (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তি সংক্রান্ত) তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়?
(এরপর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন) আর আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে এ বিষয়ে এমন ফায়সালা দেব, যার আলোকে আল কুরআনের পাঠক ও অ-পাঠক নির্বিশেষে সকলেই ফায়সালা করতে পারবে। তারপর বললেন, হে আল্লাহ, আমি সকল শহর ও নগরের শাসকদের ওপর তোমাকে সাক্ষী রাখছি, আমি তাদেরকে কেবল এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন তারা জনগণকে তাদের দীন ও তাদের নবীর তরীকা শিখায়, তাদের মধ্যে রাষ্ট্র-অর্জিত সম্পদ বণ্টন করে, তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে এবং তাদের সকল জটিল সমস্যা আমার নিকট পেশ করে। হে জনতা, তোমরা দুটো গাছের ফল খেয়ে থাক, অথচ ঐ গাছ দুটি আমার দৃষ্টিতে নোংরা। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখনই কোন ব্যক্তির মুখে এই দুটি গাছের ফলের গন্ধ পেয়েছেন, অমনি হাত ধরে তাকে বাকীর দিকে বের করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি এই দুটো জিনিস খেতে চায়, সে যেন তা রান্না করে নিস্তেজ করে খায়। [হাদীস নং-৮৯)
187 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مُجَالِدٍ ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ لِطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ: مَا لِي أَرَاكَ قَدْ شَعِثْتَ وَاغْبَرَرْتَ مُنْذُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ لَعَلَّكَ سَاءَكَ يَا طَلْحَةُ إِمَارَةُ ابْنِ عَمِّكَ؟ قَالَ: مَعَاذَ اللهِ، إِنِّي لَأَجْدَرُكُمْ أَنْ لَا أَفْعَلَ ذَاِكَ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا رجلٌ عِنْدَ حَضْرَةِ الْمَوْتِ إِلَّا وَجَدَ رُوحَهُ لَهَا رَوْحًا حِينَ تَخْرُجُ مِنْ جَسَدِهِ، وَكَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " فَلَمْ أَسْأَلْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا، وَلَمْ يُخْبِرْنِي بِهَا، فَذَلِكَ الَّذِي دَخَلَنِي، قَالَ عُمَرُ: فَأَنَا أَعْلَمُهَا، قَالَ: فَلِلَّهِ الْحَمْدُ، قَالَ : فَمَا هِيَ؟ قَالَ: هِيَ الْكَلِمَةُ الَّتِي قَالَهَا لِعَمِّهِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ طَلْحَةُ: صَدَقْتَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح بطرقه ]
১৮৭। উমার ইবনুল খাত্তাব তালহা বিন উবাইদুল্লাহকে বললেন, কী ব্যাপার? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর থেকে দেখছি, তোমার এলোমেলো চুল ও ধুলি ধুসরিত মুখ। বোধ হয় তোমার চাচাতো ভাই আমীর নিযুক্ত হওয়ায় তোমার মন খারাপ। তালহা বললেন, আল্লাহর পানাহ চাই! আমি আপনাদের সবার চেয়ে এ ব্যাপারে অধিক উপযুক্ত যে, এমন মনোভাব পোষণ না করি। আসল ব্যাপার হলো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন একটি বাণী জানি, ‘যা কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে পাঠ করলে তার আত্মা বহির্গত হবার সময় একটা প্রবল সুঘ্রাণ ছড়াবে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর আত্মা তাঁর জন্য একটা জ্যোতিতে পরিণত হবে। সেই বাণীটি কি, তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করিনি, আর তিনিও আমাকে জানাননি। ঐ জিনিসটাই আমার (মনের) মধ্যে ঢুকে আছে। (অর্থ্যাৎ ঐ বাণীটি কী সেই কথা ভাবতে ভাবতেই আমি এত বিহ্বল হয়ে পড়েছি।) উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আরে ওটা তো আমি জানি। তালহা বলে উঠলেন, তাহলে তো আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা! সেটি কী? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সেটি হলো সেই কালেমা, যা তিনি তাঁর চাচা (আবু তালিব) কে বলেছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তালহা বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন।
[দেখুন, মুসনাদে আহমাদ হাদীস নং ২৫২]
188 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ إِلَى عُمَرَ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ آيَةً فِي كِتَابِكُمْ لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ نَزَلَتْ، لاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا، قَالَ: وَأَيُّ آيَةٍ هِيَ؟ قَالَ: قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ:{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [المائدة: 3] ، قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: وَاللهِ إِنَّي لَأَعْلَمُ الْيَوْمَ الَّذِي نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالسَّاعَةَ الَّتِي نَزَلَتْ فِيهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَشِيَّةَ عَرَفَةَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৮৮। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দরবারে জনৈক ইহুদী এল। সে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনারা আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন, যা আমাদের ইহুদী জাতির নিকট নাযিল হলে আমরা সে দিনটিকে উৎসবের দিনে পরিণত করতাম তিনি বললেন, আয়াতটি কী? সে বললেনঃ আয়াতটি হলোঃ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামাতকে পূর্ণ করে দিলাম”। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত-৩)। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াতটি যে দিনে ও যে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল, তা আমি জানি। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল জুম’আর দিন বিকালে আরাফাতের ময়দানে। (অর্থ্যাৎ আমাদের জন্যও দিনটি ও সময়টি উৎসবেরই ছিল)
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৭২]
189 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ: أَنَّ رَجُلًا رَمَى رَجُلًا بِسَهْمٍ فَقَتَلَهُ، وَلَيْسَ لَهُ وَارِثٌ إِلَّا خَالٌ، فَكَتَبَ فِي ذَلِكَ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ إِلَى عُمَرَ، فَكَتَبَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " اللهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لَا مَوْلَى لَهُ، وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن ]
১৮৯। আবু উমামা থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তীর ছুঁড়ে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেললো। মামা ব্যতীত নিহতের আর কোন উত্তরাধিকারী ছিল না (যে শাস্তি বা ক্ষতিপূরণের দাবী জানাবে।) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ এ বিষয়টি জানিয়ে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে চিঠি লিখলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জবাবে লিখলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যার কোন অভিভাবক নেই, তার অভিভাবক আল্লাহ ও তার রাসূল (অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্র)। আর যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, তার উত্তরাধিকারী মামা।
[ইবনু হিব্বান, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ,মুসনাদে আহমাদ হা-৩২৩]
190 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ شَيْخًا بِمَكَّةَ فِي إِمَارَةِ الْحَجَّاجِ يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: " يَا عُمَرُ، إِنَّكَ رَجُلٌ قَوِيٌّ، لَا تُزَاحِمْ عَلَى الْحَجَرِ فَتُؤْذِيَ الضَّعِيفَ، إِنْ وَجَدْتَ خَلْوَةً فَاسْتَلِمْهُ، وَإِلَّا فَاسْتَقْبِلْهُ فَهَلِّلْ وَكَبِّرْ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث حسن رجاله ثقات ]
১৯০। মক্কার জনৈক প্রবীন ব্যক্তি, যিনি হাজীদের আমীরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে উমার, তুমি একজন সবল ব্যক্তি, তুমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় করো না, তাহলে তুমি দুর্বলদেরকে কষ্ট দেবে। যদি নিরিবিলি পাও তবে তাকে স্পর্শ কর। নচেত দূর থেকে তার দিকে মুখ করে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ও “আল্লাহু আকবার” বল।
191 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: عَنْ عُمَرَ : أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلامُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَبِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ "، فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَتَعَجَّبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " ذَاكَ جِبْرِيلُ، أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده علي شرط الشيخين ]
১৯১। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিবরীল জিজ্ঞাসা করলেনঃ ঈমান কী? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকূল, তার কিতাবগুলো, তার রাসূলগণ, আখিরাত এবং অদৃষ্টের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে। জিবরীল তাকে বললেন, আপনি সত্য বলেছেন। আমরা অবাক হলাম যে, সে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসাও করছে, আবার তার সত্যায়নও করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উনি জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দীনের মূলনীতিগুলো শিখাতে এসেছেন।
[মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-১৮৪]
192 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ - وَقَالَ مَرَّةً: جَاءَ اللَّيْلُ - مِنْ هَاهُنَا، وَذَهَبَ النَّهَارُ مِنْ هاَهُنَا، فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " يَعْنِي الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৯২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন এখান থেকে রাত আসবে এবং এখান থেকে দিন চলে যাবে, তখনই রোযাদার রোযা খুলবে। (‘এখান থেকে’ দ্বারা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জায়গা বুঝাচ্ছিলেন।
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ-২৩১, ৩৩৮, ৩৮৩]
193 - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ بْنُ يُونُسَ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى الثَّعْلَبِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: كُنْتُ مَعَ عُمَرَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلالَ هِلالَ شَوَّالٍ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَفْطِرُوا، ثُمَّ قَامَ إِلَى عُسٍّ فِيهِ مَاءٌ فَتَوَضَّأَ، وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: وَاللهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَا أَتَيْتُكَ إِلَّا لِأَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا، أَفَرَأَيْتَ غَيْرَكَ فَعَلَهُ، فَقَالَ: نَعَمْ خَيْرًا مِنِّي، وَخَيْرَ الْأُمَّةِ، رَأَيْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ مِثْلَ الَّذِي فَعَلْتُ، وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَامِيَّةٌ ضَيِّقَةُ الْكُمَّيْنِ، فَأَدْخَلَ يَدَهُ مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ، ثُمَّ صَلَّى عُمَرُ الْمَغْرِبَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف ]
১৯৩। আবদুর রাহমান ইবনে আবি লাইলা বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, আমি শাওয়ালের চাঁদ দেখেছি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তৎক্ষণাত বললেন, হে জনতা, তোমরা রোযায় বিরতি দাও। তারপর তিনি একটি নৈশ প্রহরা কেন্দ্রে গেলেন, যেখানে পানি ছিল। তিনি ওযূ করলেন এবং তার মোযায় মাসেহ করলেন। লোকটি বললো, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই এসেছি, আপনি কি অন্য কাউকে এ কাজ করতে দেখেছেন? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হ্যাঁ, আমার চেয়েও যিনি ভালো এমনকি সমগ্র উম্মাহর মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ, সেই আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি ডাকনাম) আমি যা করলাম, তা করতে দেখেছি। তখন তাঁর গায়ে ছিল চাপা হাতাওয়ালা সিরীয় জুব্বা। জুব্বার নিচ দিয়ে তিনি নিজের হাত ঢুকালেন। তারপর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মাগরিবের নামায পড়লেন। [দেখুন, হাদীস নং-৩০৭]
194 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: إِنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُحَرِّمِ الضَّبَّ، وَلَكِنَّه قَذِرَهُ . قَالَ غَيْرُ مُحَمَّدٍ: عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره رجاله ثقات ]
১৯৪। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দব্ব/সান্ডা-কে হারাম করেননি, তবে নোংরা মনে করতেন।
[মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-১৪৭৪০]
195 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ اسْتَأْذَنَهُ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لَهُ، وقَالَ: " يَا أَخِي، لَا تَنْسَنَا مِنْ دُعَائِكَ " وَقَالَ بَعْدُ فِي الْمَدِينَةِ: " يَا أَخِي، أَشْرِكْنَا فِي دُعَائِكَ ". فَقَالَ عُمَرُ: مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ، لِقَوْلِهِ: " يَا أَخِي " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف ]
১৯৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উমরার জন্য অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দিলেন এবং বললেন, হে আমার ভাই, তোমার দু’আয় আমাকে ভুলো না। (পরে মদীনায় বলেন, তিনি বলেছেন : হে আমার ভাই, তোমার দু’আয় আমাকে শরীক রেখো)। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ঐ উমরার বিনিময়ে সমগ্র পৃথিবীর সম্পত্তি আমার করায়ত্ব হোক- এটাও আমি পছন্দ করবো না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হে আমার ভাই’ বলেসম্বোধন করেছেন। (উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে উমারের ভগ্নিপতি ও উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর জামাতা ছিলেন।—অনুবাদক) অর্থাৎ উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ছেলেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ভাই সম্বোধন করাকে গোটা পৃথিবীর সম্পত্তি অর্জনের চেয়েও সৌভাগ্যজনক মনে করেছেন।
[তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ]
196 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَحَجَّاجٌ، قَالَ: سَمِعْتُ شُعْبَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ : أَنَّهُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ مَا نَعْمَلُ فِيهِ، أَقَدْ فُرِغَ مِنْهُ، أَوْ فِي شَيْءٍ مُبْتَدَإٍ، أَوْ أَمْرٍ مُبْتَدَعٍ؟ قَالَ: " فِيمَا قَدْ فُرِغَ مِنْهُ " فَقَالَ عُمَرُ: أَلا نَتَّكِلُ؟ فَقَالَ: " اعْمَلْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ، أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَيَعْمَلُ لِلسَّعَادَةِ، وَأَمَّا أَهْلُ الشَّقَاءِ، فَيَعْمَلُ لِلشَّقَاءِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حسن لغيره وهذا اسناد ضعيف ]
১৯৬। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আমরা যে কাজ করি, তা কি পূর্ব থেকে চূড়ান্ত, (অর্থাৎ ভাগ্যের লিখন) অথবা প্রথম, অথবা নতুন কাজ বলে গণ্য হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ব থেকে চূড়ান্ত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তবে কি আমরা তার ওপর নির্ভর করবো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওহে খাত্তাবের ছেলে! কাজ করতে থাক। সবাইকেই কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান সে সৌভাগ্যের কাজ করে। আর যে দুর্ভাগা, সে দুর্ভাগ্যের কাজ করে।
197 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَطَبَ النَّاسَ، فَسَمِعَهُ يَقُولُ: أَلا وَإِنَّ أُنَاسًا يَقُولُونَ: مَا بَالُ الرَّجْمِ؟ فِي كِتَابِ اللهِ الْجَلْدُ! وَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ، وَلَوْلا أَنْ يَقُولَ قَائِلُونَ أَوْ يَتَكَلَّمَ مُتَكَلِّمُونَ: أَنَّ عُمَرَ زَادَ فِي كِتَابِ اللهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ، لَأَثْبَتُّهَا كَمَا نُزِّلَتْ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৯৭। আবদুর রাহমান বিন আউফ বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একবার জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ শুনে রাখ, অনেকে বলে, রজম (ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) আবার কী? আল্লাহর কিতাবে তো রয়েছে বেত মারার বিধান। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, তার পরে আমরাও রজম করেছি। যদি এ আশঙ্কা না থাকতো যে, কেউ হয়তো বলবে, উমার আল্লাহর কিতাবের অংশ নয় এমন জিনিস তাতে সন্নিবেশিত করেছে, তাহলে আমি এটি (রজম) তাতে অবিকল সেইভাবে সন্নিবেশিত করতাম, যেভাবে তা নাযিল হয়েছে।
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৫৬]
198 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ خُمَيْرٍ يُحَدِّثُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ ابْنِ السِّمْطِ: أَنَّهُ أَتَى أَرْضًا يُقَالُ لَهَا: دَوْمِينُ، مِنْ حِمْصَ عَلَى رَأْسِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِيلًا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَقُلْتُ لَهُ: أَتُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ؟ فَقَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: إِنَّمَا أَفْعَلُ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَوْ قَالَ: فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]
১৯৮। ইবনুস্ সামত থেকে বর্ণিত। তিনি হিমস থেকে আঠারো মাইল দূরে দুমীন নামক স্থানে এসে দু’রাকআত নামায পড়লেন। আমি (জুবাইর ইবনে নুফাইর) তাঁকে বললাম, আপনি দু’রাকআত নামায পড়লেন? তিনি জবাব দিলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাবকে যুল হুলাইফাতে দু’রাকআত নামায পড়তে দেখেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা করতে দেখেছি, তাই করছি।
[মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-২০৭]
199 - قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ: مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ النَّاسَ، فَقَالَ عُمَرُ: أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، انْقَلَبْتُ مِنَ السُّوقِ، فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ، فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ. فَقَالَ عُمَرُ: وَالْوُضُوءَ أَيْضًا، وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ؟! .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৯৯। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, জুম’আর দিন যখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খুৎবা দিচ্ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ এখন কোন সময়? সাহাবী বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, বাজার থেকে ফিরেই আযান শুনেছি, তাই ওযূর বেশি কিছু করিনি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ শুধু ওযূ? অথচ তুমি তো জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করার আদেশ দিতেন।
[বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-২০২, ৩১২]
200 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: كَانَ الْمُشْرِكُونَ لَا يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ حَتَّى تُشْرِقَ الشَّمْسُ عَلَى ثَبِيرٍ، فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
২০০। হাদীস নং ৮৪ দ্রষ্টব্য।
৮৪। আমর ইবনে মাইমুন বলেছেনঃ উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের সাথে একটি জামায়াতে ফজরের নামায পড়লেন, তারপর কিছুক্ষণ থামলেন, তারপর বললেনঃ মুশরিকরা সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত রওনা হতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করেছেন। অতঃপর [উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] সূর্যোদয়ের পূর্বেই রওনা হলেন।