মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল
161 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَهُ عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْعَقِيقِ يَقُولُ: " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ: صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ، وَقُلْ: عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ ". قَالَ الْوَلِيدُ: يَعْنِي: ذَا الْحُلَيْفَةِ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬১। ওয়ালীদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আকীকে (স্থানের নাম) অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার প্রভুর নিকট থেকে জনৈক আগন্তুক গত রাতে আমার নিকট এসে বললেন, এই কল্যাণময় ময়দানে নামায পড়ুন এবং বলুন, হজ্জের অন্তর্ভুক্ত একটি উমরা আদায় করছি। বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেছেন, কল্যাণময় ময়দান দ্বারা যুল হুলাইফাকে বুঝানো হয়েছে।
[বুখারী, ইবনু খুযাইমা]
162 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: - وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন এবং সুফিয়ান বলেছেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ রৌপ্যের সাথে স্বর্ণের বিনিময় সুদে পরিণত হবে যদি উভয়পক্ষ থেকে নগদ লেনদেন না হয়, গমের সাথে গমের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়, যবের সাথে যবের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। খোরমার সাথে খোরমার বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়।
163 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ أَبَا عُبَيْدٍ، قَالَ: شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ، فَبَدَأَ بِالصَّلاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ، وَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ، أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَفِطْرُكُمْ مِنْ صَوْمِكُمْ ، وَأَمَّا يَوْمُ الْأَضْحَى فَكُلُوا مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬৩। আবু উবাইদ বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে ঈদের নামায পড়েছি। তিনি খুৎবার আগে নামায পড়লেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন তোমাদের পানাহারই তোমাদের রোযার শামিল। আর ঈদুল আযহার দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশতের একাংশ খাও।
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৪, ২২৫, ২৮২]
164 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَقُولُوا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬৪। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খৃষ্টানরা যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতো, তেমনি তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
165 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيَنَامُ أَحَدُنَا وَهُوَ جُنُبٌ؟ قَالَ: " يَتَوَضَّأُ وَيَنَامُ إِنْ شَاءَ ". وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً: " لِيَتَوَضَّأْ وَلْيَنَمْ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬৫। হাদীস নং ৯৪ দ্রষ্টব্য।
৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় পিতা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারো ওপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।
166 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ عُمَرَ، حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، فَرَآهَا أَوْ بَعْضَ نِتَاجِهَا يُبَاعُ، فَأَرَادَ شِرَاءَهُ، فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ ، فَقَالَ: " اتْرُكْهَا تُوَافِكَ، أَوْ تَلْقَهَا جَمِيعًا ". وَقَالَ مَرَّةً : فَنَهَاهُ، وَقَالَ: " لَا تَشْتَرِهِ، وَلا تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬৬। যায়িদ ইবনে আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার একটা ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেন। পরে একদা দেখলেন সেই ঘোড়া বা তার কোন বাচ্চাকে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা দেখে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা কিনবার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা ছেড়ে দাও। ওটা তোমার নিকট আসবে অথবা তুমি বাচ্চাসহই তা পাবে।
অন্য বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তুমি এটা ক্রয় করো না এবং তোমার দান করা জিনিস ফেরত নিও না।
[বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-২৫৮, ২৮১, ৩৮৪]
167 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: " تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَإِنَّ مُتَابَعَةً بَيْنَهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ الخَبَثَ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره وهذا اسناد ضعيف ]
১৬৭। আমের বিন রাবীয়া উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন এবং উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছান, আর একবার সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা হজ্জ ও উমরা পরপর কর। এ দুটো পরপর সম্পন্ন করলে তা দারিদ্র্য ও গুনাহকে সেইভাবে দূরীভূত করে, যেভাবে কামারের হাপর ময়লা দূরীভূত করে।*
[ইবনু মাজাহ]
168 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৬৮। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমল কেবল নিয়াত অনুসারেই গৃহীত হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি যেমন নিয়াত করে তেমনই কর্মফল পায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে হিজরাত করে, তার হিজরাত যে উদ্দেশ্যে হিজরাত করেছে, সে উদ্দেশ্যেই হয়েছে বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি কোন দুনিয়াবী স্বার্থ অর্জন অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরাত করে, তার হিজরাত সেই উদ্দেশ্যেই হবে- যার জন্য সে হিজরাত করেছে।
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ-৩০০]
169 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: قَالَ الصُّبَيُّ بْنُ مَعْبَدٍ: كُنْتُ رَجُلًا نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ، فَأَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ، فَسَمِعَنِي زَيْدُ بْنُ صُوحَانَ وَسَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَأَنَا أُهِلُّ بِهِمَا، فَقَالا: لَهَذَا أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِ أَهْلِهِ. فَكَأَنَّمَا حُمِلَ عَلَيَّ بِكَلِمَتِهِمَا جَبَلٌ، فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمَا فَلامَهُمَا، وَأَقْبَلَ عَلَيَّ فَقَالَ: هُدِيتَ لِسُنَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . قَالَ عَبْدَةُ: قَالَ أَبُو وَائِلٍ: كَثِيرًا مَا ذَهَبْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ إِلَى الصُّبَيِّ نَسْأَلُهُ عَنْهُ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]
১৬৯। সুবাই বিন্ মা’বাদ বলেন, আমি একজন খৃষ্টান ছিলাম। পরে ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর হজ্জ ও উমরা দিয়ে ইসলামী জীবন শুরু করলাম। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া শুনলো যে, আমি হজ্জ ও উমরা দিয়ে ইসলামী জীবন শুরু করেছি। তারা দু’জনে বললোঃ ঐ ব্যক্তি তার পরিবারের উটের চেয়েও বিপথগামী। তাদের দু’জনের এ উক্তি শুনে আমার মনে হলো যেন আমার ওপরে পাহাড় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গেলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের দু’জনের দিকে মুখ করলেন এবং তাদের উভয়কে ভর্ৎসনা করলেন। তারপর আমার দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেনঃ তুমি নবীর সুন্নাতের অনুগামী হয়েছ। তুমি তোমার নবীর সুন্নাতের অনুগামী হয়েছ।
আবদা (অপর এক রাবী) বলেন, আবু ওয়াইল (আরেক বর্ণনাকারী) বলেছেনঃ আমি এবং মাসরূক এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য সুবাই-এর নিকট বহুবার গিয়েছি।
[দেখুন, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৩]
170 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: ذُكِرَ لِعُمَرَ أَنَّ سَمُرَةَ - وَقَالَ مَرَّةً: بَلَغَ عُمَرَ أَنَّ سَمُرَةَ - بَاعَ خَمْرًا، قَالَ: قَاتَلَ اللهُ سَمُرَةَ، إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " لَعَنَ اللهُ الْيَهُودَ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ، فَجَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا " .
تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (5994).}
১৭০। ইবনুল আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট উল্লেখ করা হলো (কখনো তিনি বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জানানো হলো) যে, সামুরা মদ বিক্রি করেছে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আল্লাহ সামুরাকে ধ্বংস করুন! (তিরস্কারসূচক বাক্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন! তাদের ওপর পশুর চর্বি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথাপি তারা তা জমা করে এবং বিক্রি করে।
[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান]
171 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، وَمَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ، وَلا رِكَابٍ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالِصَةً، وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَتِهِ - وَقَالَ مَرَّةً: قُوتَ سَنَتِهِ - وَمَا بَقِيَ جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৭১। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বনু নযীরের ভূ-সম্পত্তি ছিল সেই সকল সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তার রাসূলকে গণিমত হিসাবে দিয়েছিলেন এবং যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সেই সম্পত্তি একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট ছিল এবং তা থেকে তিনি তাঁর পরিবারের পুরো বছরের ব্যয় নির্বাহ করতেন, (কোন কোন সময় বলেছেন, পুরো বছরের খাদ্য দিতেন।) আর যা বাকী থাকতো তা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য অস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করতেন।
[বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-৩৩৭]
172 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَطَلْحَةَ، وَالزُّبَيْرِ، وَسَعْدٍ: نَشَدْتُكُمْ بِاللهِ الَّذِي تَقُومُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِهِ، أَعَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّا لَا نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ "؟ قَالُوا: اللهُمَّ نَعَمْ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৭২। মালিক বিন আওস বলেন, আমি শুনলাম উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবদুর রহমান বিন আওফ, তালহা, যুবাইর ও সাদকে বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যার ক্ষমতার বলে আকাশ ও পৃথিবী স্থিতিশীল। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদাকা? সকলে বললো, হে আল্লাহ, হ্যাঁ।
[বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-৩৩৩, ৩৩৬, ৩৪৯, ৪২৫, ১৩৯১, ১৪০৬, ১৫৫০, ১৬৫৮, ১৭৮১, ১৭৮২]
173 - حَدَّثَنَا سَفْيَانُ، عَنْ ابْنِ أَبِي يَزِيدَ ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح لغيره وهذا سند رجاله ثقات ]
১৭৩। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সন্তান বিছানার। (অর্থাৎ যে দম্পতির বিছানায় থাকে তাদের)
174 - حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قُلْتُ:{لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا} [النساء: 101] ، وَقَدْ آمَنَ اللهُ النَّاسَ ؟! فَقَالَ لِي عُمَرُ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: " صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللهُ بِهَا عَلَيْكُمْ، فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]
১৭৪। ইয়ালা বিন উমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নামাযে কসর করতে পার যদি তোমাদের আশঙ্কা থাকে যে, কাফিররা তোমাদের ওপর আক্রমণ চালাবে। এখন তো আল্লাহ জনগণকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, যে ব্যাপারে তোমার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে আমারও কৌতুহল ছিল। তাই এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি জবাবে বললেনঃ ওটা একটা সাদাকা, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং তার সাদাকাকে গ্রহণ কর।
[মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ-২৪৪, ২৪৫]
175 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ وَهُوَ بِعَرَفَةَ - قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ : وَحَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مَرْوَانَ، أَنَّهُ أَتَى عُمَرَ - فَقَالَ: جِئْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنَ الْكُوفَةِ، وَتَرَكْتُ بِهَا رَجُلًا يُمْلِي الْمَصَاحِفَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِهِ، فَغَضِبَ وَانْتَفَخَ حَتَّى كَادَ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ شُعْبَتَيِ الرَّحْلِ ، فَقَالَ: وَمَنْ هُوَ وَيْحَكَ؟ قَالَ: عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ. فَمَا زَالَ يُطْفَأُ وَيُسَرَّى عَنْهُ الْغَضَبُ، حَتَّى عَادَ إِلَى حَالِهِ الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا. ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ، وَاللهِ مَا أَعْلَمُهُ بَقِيَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ هُوَ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ، وَسَأُحَدِّثُكَ عَنْ ذَلِكَ، كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ اللَّيْلَةَ كَذَاكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّهُ سَمَرَ عِنْدَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ، وَأَنَا مَعَهُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَخَرَجْنَا مَعَهُ، فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ، فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَمِعُ قِرَاءَتَهُ، فَلَمَّا كِدْنَا أَنْ نَعْرِفَهُ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَطْبًا كَمَا أُنْزِلَ، فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ". قَالَ: ثُمَّ جَلَسَ الرَّجُلُ يَدْعُو، فَجَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَهُ: " سَلْ تُعْطَهْ، سَلْ تُعْطَهْ "، قَالَ عُمَرُ: قُلْتُ: وَاللهِ لَأَغْدُوَنَّ إِلَيْهِ فَلَأُبَشِّرَنَّهُ، قَالَ: فَغَدَوْتُ إِلَيْهِ لِأُبَشِّرَهُ فَوَجَدْتُ أَبَا بَكْرٍ قَدْ سَبَقَنِي إِلَيْهِ فَبَشَّرَهُ، وَلا وَاللهِ مَا سَابَقْتُهُ إِلَى خَيْرٍ قَطُّ إِلَّا سَبَقَنِي إِلَيْهِ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناداه صحيحان الاول علي شرط الشيخين والثاني رجاله ثقات ]
১৭৫। আলকামা বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
[ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ-১৭৮, ২২৮, ২৬৫, ২৬৭]
176 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ يُقَبِّلُ الْحَجَرَ، وَيَقُولُ: إِنِّي لَأُقَبِّلُكَ وَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ، وَلَوْلا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ لَمْ أُقَبِّلْكَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ إسناده صحيح على شرط الشيخين ]
১৭৬। আবেস বিন রবীয়া বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখলাম, হাজরে আসওয়াদকে চুমো দিচ্ছেন আর বলছেন, আমি তোমাকে চুমো খাচ্ছি- যদিও আমি জানি যে, তুমি একটা পাথর মাত্র। আমি যদি না দেখতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুমো দিচ্ছেন, তবে আমি তোমাকে চুমো খেতাম না।
[দেখুন, ৯৯ নং হাদীস]
177 - حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: خَطَبَ عُمَرُ النَّاسَ بِالْجَابِيَةِ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فِي مِثْلِ مَقَامِي هَذَا، فَقَالَ: " أَحْسِنُوا إِلَى أَصْحَابِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ يَحْلِفُ أَحَدُهُمْ عَلَى الْيَمِينِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَحْلَفَ عَلَيْهَا، وَيَشْهَدُ عَلَى الشَّهَادَةِ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدَ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَنَالَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ، فَلْيَلْزَمُ الْجَمَاعَةَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ، وَهُوَ مِنَ الِاثْنَيْنِ أَبْعَدُ، وَلا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ، وَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ تَسُرُّهُ حَسَنَتُهُ وَتَسُوؤُهُ سَيِّئَتُهُ، فَهُوَ مُؤْمِنٌ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح رجاله ثقات ]
১৭৭। জাবির বিন সামুরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জাবিয়াতে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এ জায়গার মতই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমার সাহাবীদের সাথে সদব্যবহার কর, তারপর তাদের পরবর্তীদের সাথে, তারপর তাদের পরবর্তীদের সাথে। তারপর এমন লোকেরা আসবে, যারা কেউ কসম খেতে বলার আগেই কসম খাবে এবং কেউ সাক্ষ্য দিতে বলার আগেই সাক্ষ্য দেবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রশস্ততম জায়গা পেতে চায় সে যেন জামায়াতের সাথে থাকে। কেননা যে একাকী থাকে, শয়তান তারই সঙ্গী হয় এবং সে (শয়তান) দু’জন থেকে অধিকতর দূরে থাকে। কোন পুরুষ যেন কোন নারীর সাথে একাকী সাক্ষাত না করে। কেননা সেখানে শয়তান হয় তাদের তৃতীয় ব্যক্তি। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিকে তার ভালো কাজ আনন্দ দেয় এবং তার মন্দ কাজ দুঃখ দেয়, সেই মুমিন।
[ইবনু হিব্বান, ইবনু মাজাহ]
178 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ اللَّيْلَةَ كَذَلِكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنَا مَعَهُ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
১৭৮। হাদীস নং ১৭৫ দ্রষ্টব্য।
১৭৫। আলকামা বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
179 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: مَا سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُهُ عَنِ الْكَلالَةِ، حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: " تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]
১৭৯। হাদীস নং ৮৯ দ্রষ্টব্য।
৮৯। মা’দান ইবনে আবি তালহা আল ইয়ামানী বর্ণনা করেনঃ এক শুক্রবারে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মিম্বারে দাঁড়ালেন, তারপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিচারণ করলেন ও আবু বাকরের স্মৃতিচারণ করলেন। তারপর বললেন, আমি এমন একটা স্বপ্ন দেখেছি যা আমার মৃত্যু আসন্ন হওয়া ছাড়া আর কোন দিকে ইঙ্গিত করে বলে আমার মনে হয় না। আমি দেখলাম, একটা মোরগ যেন আমাকে দুটো ঠোকর মারলো। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি আমাকে বললেন যে, সেটি ছিল লাল মোরগ। আমি এ স্বপ্ন আবু বাকরের মেয়ে আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে (উমারকে) জনৈক অনারব ব্যক্তি হত্যা করবে। উমার বললেনঃ জনগণ আমাকে আদেশ দিচ্ছে, আমি যেন পরবর্তী খলীফা মনোনীত করি। অথচ আল্লাহ তা’আলা তার দীনকে ও তার নবীর মাধ্যমে প্রেরিত খিলাফাতকে ধ্বংস করতে চাননা।
আর কোন জিনিস যদি আমাকে তাড়া করে তবে তা হলো, এই ছয়জনের পরামর্শের ওপর ব্যাপারটা ন্যস্ত করা যাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকা অবস্থায়ই আল্লাহর নবী ইন্তিকাল করেছেন। এই ছয়জনের মধ্য থেকে যার হাতে তোমরা বাইয়াত করবে (খালীফা মেনে নেবে) তার কথা শুনবে ও আনুগত্য করবে। আমি জানি, এমন কিছু লোক এ বিষয় নিয়ে নিন্দায় মুখর হবে, যাদের সাথে আমি ইসলামের স্বার্থে এই হাত দিয়ে যুদ্ধ করেছি। তারা আল্লাহর দুশমন, কাফির ও বিপথগামী। আল্লাহর কসম, আমার প্রতিপালক আমার নিকট যে সকল জিনিসের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন ও খিলাফত অর্পণ করেছেন, সে সব জিনিসের মধ্য থেকে ‘কালালার’ চেয়ে আমার নিকট অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছুই আমি রেখে যাচ্ছিনা।
আল্লাহর কসম, আল্লাহর নবীর সাহচর্যে আমি যতদিন থেকেছি, ততদিন তিনি সবচেয়ে কঠোরভাবে যে জিনিসের ব্যাপারে আমাকে তাকিদ দিয়েছেন, তা হচ্ছে ‘কালালা’ (যে ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়) এমনকি তিনি (এর ওপর গুরুত্ব দেয়ার জন্য) তার আঙ্গুল দিয়ে আমার বুকে টোকা দিলেন এবং বললেনঃ সূরা আন নিসার শেষভাগে নাযিলকৃত গ্রীষ্মের আয়াত তোমার জন্য যথেষ্ট। আর আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে কালালা সম্পর্কে এমন ফায়সালা করবো। যা স্বাক্ষর ও নিরক্ষর নির্বিশেষে সকলেই জানতে পারবে। আমি সকল শহরের আমীরদের ব্যাপারে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি তাদেরকে এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন তাঁরা জনগণকে ইসলামী শিক্ষা দেন, তাদেরকে তাঁদের নবীর অনুসৃত সুন্নাত তথা রীতিনীতি জানিয়ে দেন এবং তাঁরা যেসব বিষয় অবগত নয়, তা যেন আমার কাছে তুলে ধরেন।
তারপর শোন, তোমরা দুটো গাছের ফল খেয়ে থাকে, যাকে আমি খারাপই মনে করি। তা হচ্ছে পিয়াজ ও রসুন। আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতাম, কোন ব্যক্তির মুখ থেকে পিয়াজ রসুনের গন্ধ পেলেই তার আদেশে তাকে হাত ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হতো এবং বাকী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো। তবে যে ব্যক্তির একান্তই পিয়াজ বা রসুন খাওয়া দরকার, সে যেন রান্না করে তার গন্ধ দূর করে খায়। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জুমআর দিনে ভাষণ দিলেন এবং বুধবার শাহাদাতবরণ করলেন।
180 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ " .
تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (9250).}
১৮০। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।
[বুখারী, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ-২৪৭, ২৪৮, ২৬৪, ২৯৪, ৩৫৪, ৩৬৬]