হাদীস বিএন


মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল





মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (221)


221 - حَدَّثَنَا أَبُو نُوحٍ قُرَادٌ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عُمَرُ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ، قَالَ: نَظَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَصْحَابِهِ وَهُمْ ثَلاثُ مِائَةٍ وَنَيِّفٌ، وَنَظَرَ إِلَى الْمُشْرِكِينَ فَإِذَا هُمْ أَلْفٌ وَزِيَادَةٌ، فَاسْتَقْبَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ مَدَّ يَدَيهُ، وَعَلَيْهِ رِدَاؤُهُ وَإِزَارُهُ ، ثُمَّ قَالَ: " اللهُمَّ أَيْنَ مَا وَعَدْتَنِي؟ اللهُمَّ أَنْجِزْ مَا وَعَدْتَنِي، اللهُمَّ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلامِ فَلا تُعْبَدْ فِي الْأَرْضِ أَبَدًا " قَالَ: فَمَا زَالَ يَسْتَغِيثُ رَبَّهُ، وَيَدْعُوهُ حَتَّى سَقَطَ رِدَاؤُهُ، فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ [فَرَدَّاهُ، ثُمَّ الْتَزَمَهُ مِنْ وَرَائِهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا نَبِيَّ اللهِ، كَذَاكَ مُنَاشَدَتُكَ رَبَّكَ، فَإِنَّهُ سَيُنْجِزُ لَكَ مَا وَعَدَكَ] . وَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى:{إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ} . فَلَمَّا كَانَ يَوْمُئِذٍ، وَالْتَقَوْا فَهَزَمَ اللهُ الْمُشْرِكِينَ، فَقُتِلَ مِنْهُمْ سَبْعُونَ رَجُلًا، وَأُسِرَ مِنْهُمْ سَبْعُونَ رَجُلًا، فَاسْتَشَارَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ وَعَلِيًّا وَعُمَرَ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا نَبِيَّ اللهِ، هَؤُلَاءِ بَنُو الْعَمِّ وَالْعَشِيرَةُ وَالْإِخْوَانُ، فَإِنِّي أَرَى أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُمُ الْفِدَاءَ ، فَيَكُونُ مَا أَخَذْنَا مِنْهُمْ قُوَّةً لَنَا عَلَى الْكُفَّارِ، وَعَسَى اللهُ أَنْ يَهْدِيَهُمْ فَيَكُونُونَ لَنَا عَضُدًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا تَرَى يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟ " فَقَالَ: قُلْتُ: وَاللهِ مَا أَرَى مَا رَأَى أَبُو بَكْرٍ، وَلَكِنِّي أَرَى أَنْ تُمَكِّنَنِي مِنْ فُلانٍ - قَرِيبٍ لِعُمَرَ - فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَتُمَكِّنَ عَلِيًّا مِنْ عَقِيلٍ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَتُمَكِّنَ حَمْزَةَ مِنْ فُلانٍ أَخِيهِ فَيَضْرِبَ عُنُقَهُ، حَتَّى يَعْلَمَ اللهُ أَنَّهُ لَيْسَ فِي قُلُوبِنَا هَوَادَةٌ لِلْمُشْرِكِينَ، هَؤُلاءِ صَنَادِيدُهُمْ وَأَئِمَّتُهُمْ وَقَادَتُهُمْ. فَهَوِيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَلَمْ يَهْوَ مَا قُلْتُ، فَأَخَذَ مِنْهُمُ الْفِدَاءَ. فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ، قَالَ عُمَرُ: غَدَوْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا هُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ، وَإِذَا هُمَا يَبْكِيَانِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَخْبِرْنِي مَاذَا يُبْكِيكَ أَنْتَ وَصَاحِبَكَ؟ فَإِنْ وَجَدْتُ بُكَاءً بَكَيْتُ، وَإِنْ لَمْ أَجِدْ بُكَاءً تَبَاكَيْتُ لِبُكَائِكُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الَّذِي عَرَضَ عَلَيَّ أَصْحَابُكَ مِنَ الْفِدَاءِ، وَلَقَدْ عُرِضَ عَلَيَّ عَذَابُكُمْ أَدْنَى مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ " - لِشَجَرَةٍ قَرِيبَةٍ - وَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى:{مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ} [الأنفال: 67] إِلَى قَوْلِهِ:{لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ} [الأنفال: 68] مِنَ الْفِدَاءِ، ثُمَّ أُحِلَّ لَهُمُ الْغَنَائِمُ. فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ مِنَ الْعَامِ الْمُقْبِلِ عُوقِبُوا بِمَا صَنَعُوا يَوْمَ بَدْرٍ مِنْ أَخْذِهِمُ الْفِدَاءَ، فَقُتِلَ مِنْهُمْ سَبْعُونَ، وَفَرَّ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ، وَهُشِمَتِ الْبَيْضَةُ عَلَى رَأْسِهِ، وَسَالَ الدَّمُ عَلَى وَجْهِهِ، فَأَنْزَلَ اللهُ:{أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُّصِيبَةٌ} [آل عمران: 165] إِلَى قَوْلِهِ:{إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [آل عمران: 165] بِأَخْذِكُمُ الْفِدَاءَ.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن رجاله رجال الصحيح ]




২২১। হাদীস নং ২০৮দ্রষ্টব্য।



২০৮। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাহাবীদের দিকে দৃষ্টি দিলেন। তাদের সংখ্যা তিনশোর কিছু বেশি ছিল। মুশরিকদের দিকে দৃষ্টি দিলেন। তাদের সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি। তৎক্ষণাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলামুখী হলেন ও তার দু’হাত মেললেন, তখন তার গায়ে ছিল তার চাদর ও পাজামা। তারপর বললেন, হে আল্লাহ, তুমি আমাকে যা (সাহায্য) প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা কোথায়? হে আল্লাহ, আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা পূরণ কর। হে আল্লাহ, তুমি যদি মুসলিমদের এই দলটিকে ধ্বংস করে দাও তাহলে আর কোনদিন পৃথিবীতে তোমার ইবাদাত হবে না।

এভাবে তিনি ক্রমাগত আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করতে ও তাঁকে ডাকতে লাগলেন। ফলে এক সময় তাঁর চাদর পড়ে গেল। তৎক্ষণাত আবু বাকর তাঁর কাছে এলেন। তিনি তাঁর চাদর ধরলেন, তা ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁর পেছন দিক থেকে তা সেঁটে দিলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর নবী, আপনার প্রতিপালককে আপনি যে মিনতি করেছেন, তা আপনার জন্য যথেষ্ট, তিনি আপনাকে দেয়া তার প্রতিশ্রুতি পালন করবেন। আর আল্লাহ নাযিল করলেনঃإِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ “যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে, আর তিনি তোমাদের সে প্রার্থনা গ্রহণ করলেন এবং বললেন যে, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবো –যারা একের পর এক আসবে”। [আনফালঃ ৯]

এরপর যখন সে দিনটি এল উভয় দল মুখোমুখি হলো। তারপর আল্লাহ মুশরিকদেরকে পরাজিত করলেন। তাদের সত্তর জন নিহত হলো এবং সত্তর জন বন্দী হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বাকর, আলী ও উমারের পরামর্শ চাইলেন। আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আল্লাহর নবী, এরা সব চাচাতো ভাই, জ্ঞাতি ভাই ও আত্মীয়-স্বজন। তাই আমি মনে করি, আপনি তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিন। এভাবে আমরা তাদের কাছ থেকে যা নেব, তা কাফিরদের ওপর আমাদের শক্তি যোগাবে। এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করবেন। তাহলে তো তারা আমাদের সহায়ক হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খাত্তাবের ছেলে, তোমার মত কী? আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আবু বাকরের মত আমার মনোপুত নয়। আপনি আমার অমুক আত্মীয়কে আমার নিয়ন্ত্রণে দিন, আমি তাকে হত্যা করি, আর আকীলকে আলীর নিয়ন্ত্রণে দিন, সে তাকে হত্যা করুক, হামযার নিয়ন্ত্রণে দিন তার অমুক ভাইকে, সে তাকে হত্যা করুক, যাতে আল্লাহ দেখে নেন যে, আমাদের মনে মুশরিকদের জন্য কোন অনুকম্পা নেই। এরা হলো তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, নেতা ও সরদার।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বাকরের মতের দিকে ঝুঁকে পড়লেন, আমি যা বললাম, তার দিকে আকৃষ্ট হলেন না। তিনি তাদের [মুশরিক যুদ্ধবন্দীদের] কাছ থেকে মুক্তিপণ নিলেন। পরদিন সকালে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকর বসে কাঁদছেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে বলুন, কী কারণে আপনি ও আপনার সাথী কাঁদছেন? আমার যদি কান্না আসে তবে আমিও কাঁদবো, নচেত আপনাদের দু’জনের কাঁদার জন্য কৃত্রিমভাবে হলেও কাঁদবো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার সাথীরা আমার কাছে যে মুক্তিপণ দিয়েছে, সেটিই আমাদের কাঁদারকারণ। এই গাছটির চেয়েও কাছাকাছি আমার সামনে এসেছিল তোমাদের আযাব।

আর আল্লাহ নাযিল করলেনঃ(مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ ... إِلَى ... لَوْلَا كِتَابٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ) “কোন নবীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তার কাছে বন্দীরা থাকবে, আর সে তাদের রক্তপাত করবে না। তোমরা দুনিয়ার সম্পদ চাও। আর আল্লাহ চান আখিরাত। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী মহা প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি ইতিপূর্বে একটা লিখিত বিধান না এসে থাকতো, তাহলে তোমরা যা (মুক্তিপণ) নিয়েছ তার দায়ে তোমাদের ওপর ভয়ানক আযাব আসতো।”

তারপর তাদের জন্য গণিমত হালাল করা হলো। পরবর্তী বছর যখন উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হলো। তখন মুসলিমরা বদরের যুদ্ধে মুক্তিপণ গ্রহণের শাস্তি পেল, তাই তাদের সত্তর জন নিহত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে পালালো, তাঁর দাত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার খুলি ভাঙলো এবং তাঁর গণ্ড বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়লো।

আল্লাহ নাযিল করলেনঃ

أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

“যখন তোমাদের উপর এক বিপদ এল, যার চেয়ে দ্বিগুণ বিপদ তোমরা (কাফিরদের ওপর) ঘটিয়েছিলে, তখন তোমরা কি বলছিলে যে, এ বিপদ কোথা থেকে এল? তুমি বল, এ বিপদ তোমাদের পক্ষ থেকেই এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান”।

বদরের মুক্তিপণ গ্রহণ করার কারণেই উহুদের মুসিবত এসেছিল।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (222)


222 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمْ أَزَلْ حَرِيصًا عَلَى أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، اللَّتَيْنِ قَالَ اللهُ تَعَالَى:{إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا} [التحريم: 4] حَتَّى حَجَّ عُمَرُ وَحَجَجْتُ مَعَهُ، فَلَمَّا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَدَلَ عُمَرُ وَعَدَلْتُ مَعَهُ بِالْإِدَاوَةِ، فَتَبَرَّزَ ثُمَّ أَتَانِي، فَسَكَبْتُ عَلَى يَدَيْهِ فَتَوَضَّأَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَنِ الْمَرْأَتَانِ مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّتَانِ قَالَ اللهُ تَعَالَى:{إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا} ؟ فَقَالَ عُمَرُ: وَاعَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ! - قَالَ الزُّهْرِيُّ: كَرِهَ، وَاللهِ، مَا سَأَلَهُ عَنْهُ وَلَمْ يَكْتُمْهُ عَنْهُ - قَالَ: هِيَ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ. قَالَ: ثُمَّ أَخَذَ يَسُوقُ الْحَدِيثَ، قَالَ: كُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ قَوْمًا نَغْلِبُ النِّسَاءَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَجَدْنَا قَوْمًا تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ، فَطَفِقَ نِسَاؤُنَا يَتَعَلَّمْنَ مِنْ نِسَائِهِمْ، قَالَ: وَكَانَ مَنْزِلِي فِي بَنِي أُمَيَّةَ بْنِ زَيْدٍ بِالْعَوَالِي، قَالَ: فَتَغَضَّبْتُ يَوْمًا عَلَى امْرَأَتِي، فَإِذَا هِيَ تُرَاجِعُنِي، فَأَنْكَرْتُ أَنْ تُرَاجِعَنِي، فَقَالَتْ: مَا تُنْكِرُ أَنْ أُرَاجِعَكَ، فَوَاللهِ إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُرَاجِعْنَهُ، وَتَهْجُرُهُ إِحْدَاهُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ، قَالَ: فَانْطَلَقْتُ، فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: أَتُرَاجِعِينَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قُلْتُ: وَتَهْجُرُهُ إِحْدَاكُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ؟ قَالَتْ: نَعَمْ. قُلْتُ: قَدْ خَابَ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْكُنَّ، وَخَسِرَ، أَفَتَأْمَنُ إِحْدَاكُنَّ أَنْ يَغْضَبَ اللهُ عَلَيْهَا لِغَضَبِ رَسُولِهِ، فَإِذَا هِيَ قَدْ هَلَكَتْ؟ لَا تُرَاجِعِي رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَسْأَلِيهِ شَيْئًا ، وَسَلِينِي مَا بَدَا لَكِ، وَلَا يَغُرَّنَّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْسَمَ وَأَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْكِ - يُرِيدُ عَائِشَةَ -. قَالَ: وَكَانَ لِي جَارٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، وَكُنَّا نَتَنَاوَبُ النُّزُولَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَنْزِلُ يَوْمًا، وَأَنْزِلُ يَوْمًا، فَيَأْتِينِي بِخَبَرِ الْوَحْيِ وَغَيْرِهِ، وَآتِيهِ بِمِثْلِ ذَلِكَ، قَالَ: وَكُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ غَسَّانَ تُنْعِلُ الْخَيْلَ لِتَغْزُوَنَا، فَنَزَلَ صَاحِبِي يَوْمًا، ثُمَّ أَتَانِي عِشَاءً فَضَرَبَ بَابِي، ثُمَّ نَادَانِي فَخَرَجْتُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: حَدَثَ أَمْرٌ عَظِيمٌ. فقُلْتُ:وَمَاذَا، أَجَاءَتْ غَسَّانُ؟ قَالَ: لَا، بَلْ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَأَطْوَلُ، طَلَّقَ الرَّسُولُ نِسَاءَهُ. فَقُلْتُ: قَدْ خَابَتْ حَفْصَةُ وَخَسِرَتْ، قَدْ كُنْتُ أَظُنُّ هَذَا كَائِنًا. حَتَّى إِذَا صَلَّيْتُ الصُّبْحَ شَدَدْتُ عَلَيَّ ثِيَابِي، ثُمَّ نَزَلْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ وَهِيَ تَبْكِي، فَقُلْتُ: أَطَلَّقَكُنَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَتْ: لَا أَدْرِي، هُوَ هَذَا مُعْتَزِلٌ فِي هَذِهِ الْمَشْرُبَةِ. فَأَتَيْتُ غُلَامًا لَهُ أَسْوَدَ، فَقُلْتُ اسْتَأْذِنْ لِعُمَرَ، فَدَخَلَ الْغُلَامُ ثُمَّ خَرَجَ إِلَيَّ، فَقَالَ: قَدْ ذَكَرْتُكَ لَهُ فَصَمَتَ، فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَتَيْتُ الْمِنْبَرَ، فَإِذَا عِنْدَهُ رَهْطٌ جُلُوسٌ يَبْكِي بَعْضُهُمْ، فَجَلَسْتُ قَلِيلًا، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ، فَأَتَيْتُ الْغُلَامَ فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِعُمَرَ، فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ عَلَيَّ ، فَقَالَ: قَدْ ذَكَرْتُكَ لَهُ فَصَمَتَ. فَخَرَجْتُ فَجَلَسْتُ إِلَى الْمِنْبَرِ، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَجِدُ، فَأَتَيْتُ الْغُلَامَ فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِعُمَرَ، فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَيَّ، فَقَالَ: قَدْ ذَكَرْتُكَ لَهُ فَصَمَتَ، فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا، فَإِذَا الْغُلَامُ يَدْعُونِي، فَقَالَ: ادْخُلْ، فَقَدْ أَذِنَ لَكَ. فَدَخَلْتُ فَسَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا هُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى رَمْلِ حَصِيرٍ - وحَدَّثَنَاهُ يَعْقُوبُ فِي حَدِيثِ صَالِحٍ قَالَ: رُمَالِ حَصِيرٍ - قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ، فَقُلْتُ: أَطَلَّقْتَ يَا رَسُولَ اللهِ نِسَاءَكَ؟ فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيَّ وَقَالَ: " لَا " فَقُلْتُ: اللهُ أَكْبَرُ، لَوْ رَأَيْتَنَا يَا رَسُولَ اللهِ، وَكُنَّا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ قَوْمًا نَغْلِبُ النِّسَاءَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ وَجَدْنَا قَوْمًا تَغْلِبُهُمْ نِسَاؤُهُمْ، فَطَفِقَ نِسَاؤُنَا يَتَعَلَّمْنَ مِنْ نِسَائِهِمْ، فَتَغَضَّبْتُ عَلَى امْرَأَتِي يَوْمًا فَإِذَا هِيَ تُرَاجِعُنِي، فَأَنْكَرْتُ أَنْ تُرَاجِعَنِي، فَقَالَتْ: مَا تُنْكِرُ أَنْ أُرَاجِعَكَ؟ فَوَاللهِ إِنَّ أَزْوَاجَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُرَاجِعْنَهُ، وَتَهْجُرُهُ إِحْدَاهُنَّ الْيَوْمَ إِلَى اللَّيْلِ. فَقُلْتُ: قَدْ خَابَ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ مِنْهُنَّ وَخَسِرَ، أَفَتَأْمَنُ إِحْدَاهُنَّ أَنْ يَغْضَبَ اللهُ عَلَيْهَا لِغَضَبِ رَسُولِهِ ، فَإِذَا هِيَ قَدْ هَلَكَتْ؟ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَدَخَلْتُ عَلَى حَفْصَةَ، فَقُلْتُ: لَا يَغُرُّكِ أَنْ كَانَتْ جَارَتُكِ هِيَ أَوْسَمَ وَأَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْكِ، فَتَبَسَّمَ أُخْرَى، فَقُلْتُ: أَسْتَأْنِسُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: " نَعَمْ ". فَجَلَسْتُ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي فِي الْبَيْتِ، فَوَاللهِ مَا رَأَيْتُ فِيهِ شَيْئًا يَرُدُّ الْبَصَرَ إِلَّا أَهَبَةً ثَلَاثَةً، فَقُلْتُ: ادْعُ يَا رَسُولَ اللهِ أَنْ يُوَسِّعَ عَلَى أُمَّتِكَ، فَقَدْ وُسِّعَ عَلَى فَارِسَ وَالرُّومِ، وَهُمْ لَا يَعْبُدُونَ اللهَ. فَاسْتَوَى جَالِسًا، ثُمَّ قَالَ: " أَفِي شَكٍّ أَنْتَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ؟ أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجِّلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " فَقُلْتُ: اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ. وَكَانَ أَقْسَمَ أَنْ لَا يَدْخُلَ عَلَيْهِنَّ شَهْرًا مِنْ شِدَّةِ مَوْجِدَتِهِ عَلَيْهِنَّ، حَتَّى عَاتَبَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২২২। ইবনুল আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্য থেকে যে দুই স্ত্রী সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছে, “তোমরা উভয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করলে ভালো হয়, কেননা তোমাদের মন অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে,” (সূরা আত তাহরীমঃ ৪) সেই দুই মহিলা কে কে- এ কথা উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আমি উদগ্রীব ছিলাম। অবশেষে উমার হজ্জ করলেন, আর আমিও তার সাথে হজ্জ করলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি ভিন্ন পথ ধরলেন, আমিও তার সাথে পানির পাত্র হাতে ভিন্ন পথ ধরলাম। এরপর তিনি দৃশ্যপটে এলেন এবং আমার কাছে এলেন। তখন আমি তার হাতের ওপরে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ওযূ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্য থেকে সেই দুই মহিলা কে কে, যাদের সম্পর্কে, আল্লাহ বলেছেন, “যদি তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর, তবে খুবই ভাল হয়। কারণ তোমাদের মন অন্যয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল”।

উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ হে ইবনুল আব্বাস, তোমার জন্য অবাক হচ্ছি। (এই হাদীসের জনৈক বর্ণনাকারী আয যুহরী বলেন, তিনি প্রশ্নটাকে অপছন্দ করেছিলেন। তথাপি আল্লাহর কসম, তিনি তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি এবং বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপনও করেননি।) উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তারা হলো, হাফসা ও আয়িশা। তারপর ঘটনা বর্ণনা করতে লাগলেন।

তিনি বললেনঃ আমরা কুরাইশ বংশীয়রা নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতাম। যখন মদীনায় গেলাম, সেখানে এমন এক জনগোষ্ঠীকে পেলাম, যাদের ওপর তাদের নারীরা আধিপত্য বিস্তার করে। এ কারণে আমাদের মহিলারা তাদের মহিলাদের কাছ থেকে এটি শিখতে লাগলো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি থাকতাম আওয়ালীতে বনু উমাইয়া বিন যায়িদের বাড়ীতে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রাগ করলাম। সেও আমার ওপর পাল্টা রাগ করলো। তার আমার ওপর পাল্টা রাগ করাটা আমি অপছন্দ করলাম। সে বললো, তোমার ওপর পাল্টা রাগ করাকে অপছন্দ করার হেতু কী? আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তার ওপর পাল্টা রাগ করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ তো দিন থেকে রাত পর্যন্ত তার সঙ্গ বর্জন করে।

উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ এরপর আমি চলে গেলাম এবং হাফসার কক্ষে প্রবেশ করলাম। তাকে বললাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পাল্টা রাগ কর? সে বললো, হ্যাঁ। আমি বললামঃ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ বর্জনও কর? সে বললো, হ্যাঁ। আমি বললামঃ এটা যে করে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কি এতটা নিশ্চিন্ত যে, তার ওপর আল্লাহর রাসূলের রাগান্বিত হওয়ার কারণে স্বয়ং আল্লাহও রাগান্বিত হতে পারেন না? আল্লাহ রাগান্বিত হলে তো সে ধ্বংস হয়ে যাবে। খবরদার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কখনো রাগান্বিত হবে না এবং কখনো কিছু চাইবে না। তোমার কিছু প্রয়োজন হলে আমার কাছে চেয়ো। তোমার সতিন যদি তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বেশি প্রিয় হয় তবে সে জন্য ঈর্ষান্বিত হয়োনা। এ দ্বারা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আয়িশার দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।

উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমার একজন আনসার প্রতিবেশী ছিল। আমরা দুজনে পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে অতিথি হতাম। একদিন আমি যেতাম, একদিন সে যেত। আমি যেদিন যেতাম সেদিন তার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতাম, আর সে যেদিন যেত, সেদিন সে আমার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতো। আমরা বলাবলি করতাম যে, গাসসান গোত্র আমাদের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করছে। একদিন আমার এই প্রতিবেশী আমার কাছে এসে অতিথি হলো। সন্ধ্যার পর সে এসে দরজায় করাঘাত করলো। তারপর আমাকে ডাকলো। আমি বেরিয়ে তার সামনে এলাম। সে বললো, একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললামঃ সেটি কী? গাসসান এসে গেল নাকি? সে বললো, না, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও দীর্ঘস্থায়ী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।

আমি বললামঃ হাফসা বিরাট ক্ষতি ও ব্যর্থতার শিকার হলো। আমিও ভাবছিলাম, এটা ঘটতে যাচ্ছে। অতঃপর ফজরের নামায পড়েই প্রস্তুত হয়ে নিলাম। তারপর গেলাম। হাফসার কক্ষে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সে কাঁদছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বললো, জানি না। তিনি এই কাঠের কক্ষটাতে অবরোধবাসী হয়ে রয়েছেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক হাবশী ভৃত্যের কাছে গেলাম। তাকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে উমারের জন্য প্রবেশের অনুমতি এনে দাও। সে প্রবেশ করলো এবং পুনরায় আমার কাছে বেরিয়ে এল। বললো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন।

অতঃপর আমি সেখান থেকে চলে গেলাম এবং মিম্বারের নিকট উপস্থিত হলাম। দেখলাম, সেখানে একদল লোক বসে আছে। তাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি আবার সেই ভৃত্যের নিকট গেলাম, বললাম, উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং একটু পরেই বেরিয়ে এল। বললো, আমি তার কাছে আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। আমি বেরিয়ে এলাম এবং পুনরায় মিম্বারের নিকট গিয়ে বসলাম। অতঃপর আবারো আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি পুনরায় সেই ভূত্যের নিকট গেলাম এবং বললাম, উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এল। বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।

অগত্যা আমি ফিরে চললাম। হঠাৎ দেখলাম, সেই ভৃত্যটি আমাকে ডাকছে। সে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। প্রবেশ করুন। আমি প্রবেশ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলাম। দেখলাম, তিনি বালুকাময় একটা পাটিতে কাত হয়ে শুয়ে আছেন, যার দরুন তার শরীরের এক পার্শ্বে দাগ হয়ে গেছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি মাথা তুলে আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেনঃ না। আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের কী অবস্থা হয়েছে তা যদি দেখতেন। আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতাম। পরে মদীনায় এসে এমন এক জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এলাম, যাদের ওপর তাদের নারীরা আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে আমাদের স্ত্রীরা তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে এই আচরণ শিখতে লাগলো।

একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রাগ করলাম। সেও আমার ওপর রাগ করলো। তার পাল্টা রাগ করাতে আমি অসন্তুষ্ট হলাম। সে বললো, আমি পাল্টা রাগ করাতে তুমি অসন্তুষ্ট হয়েছ কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তো তার ওপর পাল্টা রাগ করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তার সাথে কথোপকথন ও সাহচর্য দান থেকে বিরত থাকে। আমি বললাম, তোমাদের মধ্য থেকে এ ধরনের আচরণ যে করে, সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। এ ধরনের মহিলা কি নিশ্চিত যে, আল্লাহ তা’আলা তার রাসূলের ক্রোধের কারণে তার ওপর ক্রুদ্ধ হবে না? আল্লাহ ক্রুদ্ধ হলে তো তার সর্বনাশ অনিবার্য। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এরপর হাফসার কাছে গিয়েছি। তাকে বলেছি, তোমার সতিন যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার চেয়েও সুন্দরী ও প্রিয় হয়, তবে তার ওপর তুমি ঈর্ষাকাতর হয়ো না। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় মুচকি হাসলেন।

এবার আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি এখন নিশ্চিন্ত হতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আমি ঘরের ভেতরে মাথা উঁচু করে তাকালাম। কিন্তু সেখানে চোখে পড়ার মত কিছু দেখলাম না। সেখানে তিন দিনের উপকরণ ছাড়া কিছুই ছিল না। এই দরিদ্রাবস্থার কারণেই স্ত্রীদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনোমালিন্য হয়েছিল। তাই এ দুরবস্থা অবসানের লক্ষ্যে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আপনার উম্মাতকে সচ্ছলতা দান করেন। কেননা তিনি তো রোম ও পারস্যবাসীকে অনেক সচ্ছলতা দান করেছেন। অথচ তারা এক আল্লাহর ইবাদাত করে না।

এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। অতঃপর বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি কি কোন সংশয়ে লিপ্ত আছ? তারা এমন জনগোষ্ঠী, যাদের যাবতীয় সৎকর্মের ফল প্রদান দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করা হয়েছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার জন্য ক্ষমা চান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের ওপর এত বেশি রেগে গিয়েছিলেন যে, এক মাসের মধ্যে তাদের কারো কাছে যাবেন না বলে শপথ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাকে এজন্য ভৎসনা করেছিলেন।

[বুখারী, মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান] [মুসনাদে আহমাদ-৩৩৯]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (223)


223 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ: أَمْلَى عَلَيَّ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ الْأَيْلِيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: كَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَحْيُ يُسْمَعُ عِنْدَ وَجْهِهِ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، فَمَكَثْنَا سَاعَةً، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: " اللهُمَّ زِدْنَا وَلا تَنْقُصْنَا، وَأَكْرِمْنَا وَلا تُهِنَّا، وَأَعْطِنَا وَلا تَحْرِمْنَا، وَآثِرْنَا وَلا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا، وَارْضَ عَنَّا وَأَرْضِنَا "، ثُمَّ قَالَ: " لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ عَشْرُ آيَاتٍ، مَنْ أَقَامَهُنَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ "، ثُمَّ قَرَأَ عَلَيْنَا:{قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} حَتَّى خَتَمَ الْعَشْرَ آيَاتٍ .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (6602,7290).}




২২৩। আবদুর রহমান বিন আবদুল কারী বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছিঃ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর মুখমণ্ডলের নিকটে মৌমাছির গুঞ্জনের মত একটা শব্দ শোনা যেত। (একদিন ওহী নাযিল হবার সময়) আমরা কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশ্চিম দিকে মুখ করলেন এবং দু’হাত তুলে বললেনঃ হে আল্লাহ, আমাদের ওপর তোমার নিয়ামত বৃদ্ধি কর, হ্রাস করো না, আমাদেরকে সম্মানিত কর, অপমানিত করো না, আমাদেরকে দান কর, বঞ্চিত করো না, আমাদেরকে অগ্রাধিকার দাও আমাদের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দিওনা, আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হও এবং আমাদেরকে সন্তুষ্ট কর। তারপর বললেনঃ আমার ওপর দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে, যে ব্যক্তি তা বাস্তবায়িত করবে, সে জান্নাতে যাবে। তারপর তিনি قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ থেকে দশ আয়াত পড়ে আমাদেরকে শুনালেন।

[আল হাকেম, তিরমিযী]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (224)


224 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ: أَنَّهُ شَهِدَ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَصَلَّى قَبْلَ أَنْ يَخْطُبَ بِلا أَذَانٍ وَلا إِقَامَةٍ، ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ، أَمَّا أَحَدُهُمَا، فَيَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَعِيدُكُمْ، وَأَمَّا الْآخَرُ، فَيَوْمٌ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن رجاله ثقات ]




২২৪। আবু উবাইদ বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে ঈদের নামায পড়েছি। তিনি খুৎবার আগে নামায পড়লেন এবং বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন তোমাদের পানাহারই তোমাদের রোযার শামিল। আর ঈদুল আযহার দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশতের একাংশ খাও।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (225)


225 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعْدٍ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ، قَالَ: شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ إسناده حسن، رجاله ثقات رجال الشيخين غير محمد بن إسحاق، ]




২২৫। হাদীস নং ১৬৩ দ্রষ্টব্য। [দেখুন পূর্বের হাদীস]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (226)


226 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ قَبَّلَ الْحَجَرَ، ثُمَّ قَالَ: قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكَ حَجَرٌ، وَلَوْلا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره وهذا اسناد ضعيف ]




২২৬। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বললেনঃ আমি জানি, তুমি একটি পাথর মাত্র। আমি যদি না দেখতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুম্বন করেছেন, তা হলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

[মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (227)


227 - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ ، أَخْبَرَنِي سَيَّارٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ: أَنَّ رَجُلًا كَانَ نَصْرَانِيًّا يُقَالُ لَهُ: الصُّبَيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، أَسْلَمَ، فَأَرَادَ الْجِهَادَ، فَقِيلَ لَهُ: ابْدَأْ بِالْحَجِّ، فَأَتَى الْأَشْعَرِيَّ، فَأَمَرَهُ أَنْ يُهِلَّ بالْعُمْرَةِ وَالْحَجِّ جَمِيعًا، فَفَعَلَ، فَبَيْنَا هُوَ يُلَبِّي إِذْ مَرَّ بِزَيْدِ بْنِ صُوحَانَ وَسَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَهَذَا أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِ أَهْلِهِ، فَسَمِعَهَا الصُّبَيُّ، فَكَبُرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ، فَلَمَّا قَدِمَ أَتَى عُمَرَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ. قَالَ: وَسَمِعْتُهُ مَرَّةً أُخْرَى يَقُولُ: وُفِّقْتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]




২২৭। হাদীস নং ৮৩ দ্রষ্টব্য।



৮৩। আবু ওয়ায়েল থেকে হাকাম বৰ্ণনা করেন যে, সুবাই বিন মা’বাদ তাগলিব গোত্রীয় একজন মরুবাসী খৃষ্টান ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন কাজ উত্তম? তাকে বলা হলোঃ আল্লাহর পথে জিহাদ। সে জিহাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর তাকে বলা হলোঃ তুমি কি হজ্জ করেছ? তিনি বললেনঃ না। তাকে বলা হলোঃ হজ্জ কর ও উমরা কর, তারপর জিহাদ কর। তিনি হজ্জের জন্য রওনা হয়ে গেলেন। হাওয়াবেতে পৌঁছে তিনি হজ ও উমরা দুটোই (এক সাথে করা) শুরু করলেন। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া তা দেখে বললেন। সে (সুবাই) তার উটের চেয়েও বিপথগামী অথবা সে তার উটনীর চেয়ে সুপথগামী নয়। এরপর সুবাই উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গেলেন এবং তাকে যায়িদ ও সালমান যা বলেছে তা জানালেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তুমি তোমার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করেছ। হাকাম বলেনঃ আমি আবু ওয়ায়েলকে বললামঃ এ ঘটনাটি আপনাকে সুবাই নিজেই বলেছেন? হাকাম বললেনঃ হ্যাঁ।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (228)


228 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمُرُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ اللَّيْلَةَ، كَذَاكَ فِي الْأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ، وَأَنَا مَعَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২২৮। হাদীস নং ১৭৫ দ্রষ্টব্য।



১৭৫। আলকামা বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (229)


229 - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ: رَأَيْتُ الْأُصَيْلِعَ - يَعْنِي عُمَرَ - يُقَبِّلُ الْحَجَرَ وَيَقُولُ: إِنِّي لَأُقَبِّلُكَ، وَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَنْفَعُ وَلا تَضُرُّ، وَلَوْلا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ لَمْ أُقَبِّلْكَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২২৯। আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করছিলেন এবং বলছিলেন, আমি তোমাকে চুম্বন করছি। আমি জানি, তুমি একটি পাথর মাত্র, ক্ষতি বা উপকার কিছুই করতে পার না। আমি যদি না দেখতাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুম্বন করেছেন, তাহলে তোমাকে চুম্বন করতাম না।

[মুসলিম ১২৭০], [অত্র গ্রন্থের হাদীস নং-৩৬১ দ্রঃ]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (230)


230 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيَرْقُدُ أَحَدُنَا وَهُوَ جُنُبٌ؟ قَالَ: " نَعَمْ، إِذَا تَوَضَّأَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৩০। হাদীস নং ৯৪ দ্রষ্টব্য।



৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় পিতা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারো ওপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (231)


231 - حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ، وَأَدْبَرَ النَّهَارُ، وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرْتَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৩১। হাদীস নং ১৯২ দ্রষ্টব্য।



১৯২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন এখান থেকে রাত আসবে এবং এখান থেকে দিন চলে যাবে, তখনই রোযাদার রোযা খুলবে। (‘এখান থেকে’ দ্বারা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জায়গা বুঝাচ্ছিলেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (232)


232 - حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، (ح) وحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، الْمَعْنَى، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ: أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِعُسْفَانَ، وَكَانَ عُمَرُ اسْتَعْمَلَهُ عَلَى مَكَّةَ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: مَنِ اسْتَخْلَفْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي؟ قَالَ: اسْتَخْلَفْتُ عَلَيْهِمُ ابْنَ أَبْزَى. فقَالَ: وَمَا ابْنُ أَبْزَى؟ فَقَالَ: رَجُلٌ مِنْ مَوَالِينَا. فَقَالَ عُمَرُ: اسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى! فَقَالَ: إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللهِ، عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ قَاضٍ، فَقَالَ عُمَرُ: أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ قَالَ: " إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا، وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناداه صحيحان ]




২৩২। আবুত তুফাইল আমের বিন ওয়াসেলা থেকে বর্ণিত। না’ফে বিন আবদুল হারিস উমার ইবনুল খাত্তাবের সাথে উসফানে সাক্ষাত করলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে মক্কার শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ নিম্নাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য কাকে প্রশাসক নিযুক্ত করেছ? না’ফে বললেনঃ ইবনে আবযাকে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ ইবনে আবযা কে? না’ফে বললেনঃ আমাদের মুক্ত দাসদের একজন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তাদের প্রশাসক নিযুক্ত করেছ একজন মুক্ত দাসকে? না’ফে বললেনঃ সে শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে, ফারযসমূহ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং ভালো বিচারক। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ জেনে রাখ, তোমাদের নবী বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা এই কিতাব (আল কুরআন) দ্বারা অনেক সম্প্রদায়কে উন্নত করেন এবং অনেক সম্প্রদায়কে নিচে নামান। (অর্থাৎ আল কুরআনের অনুসারীদেরকে উন্নতি দেন এবং অমান্যকারীদের অবনতির গহবরে নিক্ষেপ করেন। -অনুবাদক)









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (233)


233 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سُمَيْعٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ لِأَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ: ابْسُطْ يَدَكَ حَتَّى أُبَايِعَكَ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " أَنْتَ أَمِينُ هَذِهِ الْأُمَّةِ " فَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: مَا كُنْتُ لِأَتَقَدَّمَ بَيْنَ يَدَيْ رَجُلٍ أَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَؤُمَّنَا، فَأَمَّنَا حَتَّى مَاتَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف لانقطاعه ]




২৩৩। আবুল বুখতারী থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহকে বললেন, আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমি আপনার নিকট বাইয়াত করবো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আপনি এই উম্মাতের আমীন, (সচিব) আবু উবাইদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ যে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নামাযে ইমামতি করার আদেশ দিয়েছেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের ইমামতি করেছেন, [অর্থাৎ আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] তাঁর আগে যেতে আমি প্রস্তুত নই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (234)


234 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: قَسَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِسْمَةً، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَغَيْرُ هَؤُلاءِ أَحَقُّ مِنْهُمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّهُمْ خَيَّرُونِي بَيْنَ أَنْ يَسْأَلُونِي بِالْفُحْشِ، أَوْ يُبَخِّلُونِي فَلَسْتُ بِبَاخِلٍ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৩৪। হাদীস নং ১২৭ দ্রষ্টব্য।



১২৭। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহায্য বিতরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এদের চেয়ে অন্যদের অগ্রাধিকার রয়েছে, যেমন আহলে সুফফার। (মসজিদে নববীতে আশ্রিত ও সার্বক্ষণিক অবস্থানরত দরিদ্র সাহাবীগণ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মুক্ত হস্তে দান করা ও কার্পণ্য করা এই দুয়ের একটি অবলম্বন করতে বলছ। আমি কার্পণ্য করতে প্রস্তুত নই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (235)


235 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أيَنَامُ أَحَدُنَا وَهُوَ جُنُبٌ؟ قَالَ: " نَعَمْ، وَيَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاةِ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره ]




২৩৫। হাদীস নং ৯৪ দ্রষ্টব্য।



৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় পিতা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারো ওপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (236)


236 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ عُمَرَ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ... مِثْلَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৩৬। হাদীস নং ৯৪ দ্রষ্টব্য।



৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় পিতা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারো ওপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (237)


237 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: رَأَى ابْنُ عُمَرَ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ يَمْسَحُ عَلَى خُفَّيْهِ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: وَإِنَّكُمْ لَتَفْعَلُونَ هَذَا؟ فَقَالَ سَعْدٌ: نَعَمْ. فَاجْتَمَعَا عِنْدَ عُمَرَ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَفْتِ ابْنَ أَخِي فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ، فَقَالَ عُمَرُ: كُنَّا وَنَحْنُ مَعَ نَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَمْسَحُ عَلَى خِفَافِنَا. فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: وَإِنْ جَاءَ مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ؟ فَقَالَ عُمَرُ: نَعَمْ ، وَإِنْ جَاءَ مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ. قَالَ نَافِعٌ: فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ بَعْدَ ذَلِكَ يَمْسَحُ عَلَيْهِمَا مَا لَمْ يَخْلَعْهُمَا، وَمَا يُوَقِّتُ لِذَلِكَ وَقْتًا. فَحَدَّثْتُ بِهِ مَعْمَرًا، فَقَالَ: حَدَّثَنِيهِ أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ مِثْلَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناداه صحيحان علي شرط الشيخين ]




২৩৭। হাদীস নং ৮৭ দ্রষ্টব্য।



৮৭। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি ইরাকে সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে ওযূ করার সময় মোজার ওপর মাসিহ করতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করলাম। পরে যখন আমরা উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট সমবেত হলাম, তখন সা’দ আমাকে বললেনঃ তুমি আমাকে মোজার ওপর মাসিহ করতে দেখে তো অসন্তোষ প্রকাশ করেছ। এখন সে সম্পর্কে তোমার আব্বাকে জিজ্ঞেস করতো দেখি। আমি উমারের নিকট বিষয়টির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সা’দ যখন তোমার নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করে, তখন তা অগ্রাহ্য করো না। বস্তৃত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার ওপর মাসিহ করতেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (238)


238 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ: صَرَفْتُ عِنْدَ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ وَرِقًا بِذَهَبٍ، فَقَالَ: أَنْظِرْنِي حَتَّى يَأْتِيَنَا خَازِنُنَا مِنَ الْغَابَةِ. قَالَ: فَسَمِعَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: لَا وَاللهِ، لَا تُفَارِقُهُ حَتَّى تَسْتَوْفِيَ مِنْهُ صَرْفَهُ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৩৮। হাদীস নং ১৬২ দ্রষ্টব্য।



১৬২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন এবং সুফিয়ান বলেছেনঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ রৌপ্যের সাথে স্বর্ণের বিনিময় সুদে পরিণত হবে যদি উভয়পক্ষ থেকে নগদ লেনদেন না হয়, গমের সাথে গমের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়, যবের সাথে যবের বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়। খোরমার সাথে খোরমার বিনিময় সুদ হবে যদি নগদ লেনদেন না হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (239)


239 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ: لَمَّا ارْتَدَّ أَهْلُ الرِّدَّةِ فِي زَمَانِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ عُمَرُ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ يَا أَبَا بَكْرٍ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَإِذَا قَالُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَقَدْ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ "؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَاللهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهَا. قَالَ عُمَرُ: فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح رجاله ثقات ]




২৩৯। হাদীস নং ১১৭ দ্রষ্টব্য।



১১৭। আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন, তারপরে আবু বাকর (খালিফা হিসাবে) ছিলেন এবং আরবদের মধ্য থেকে কিছু লোক কাফির হয়ে গেল, (তখন আবু বাকর তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেন)। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে আবু বাকর, আপনি কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতক্ষণ “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” এ কথা না বলবে, ততক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি বলবে, “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” সে আমার কাছ থেকে তার সম্পদ ও প্রাণ রক্ষা করবে, যথাযথ কারণ ছাড়া তা নষ্ট করা যাবে না। তার হিসাব আল্লাহর নিকট সমর্পিত।

আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ করবো, (আবুল ইয়ামান বলেন, আবু বাকর বলেছিলেন, ... তাকে আমি হত্যা করবো) কেননা যাকাত হচ্ছে সম্পদের হক। আল্লাহর কসম, যে পাঠী ছাগল তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিত, তাও যদি দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে, আবু বাকরের বুক আল্লাহ যুদ্ধের জন্য খুলে দিয়েছেন। ফলে আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, তার সিদ্ধান্তই সঠিক।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (240)


240 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: كُنْتُ فِي رَكْبٍ أَسِيرُ فِي غَزَاةٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَحَلَفْتُ، فَقُلْتُ: لَا وَأَبِي، فَنَهَرَنِي رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي، وَقَالَ: " لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " فَالْتَفَتُّ، فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره وهذا اسناد ضعيف ]




২৪০। হাদীস নং ১১৬ দ্রষ্টব্য।



১১৬। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটা কাফিলায় ছিলাম। সহসা এক ব্যক্তি বলে উঠলো, “না, আমার বাবার কসম” তৎক্ষণাত অপর এক ব্যক্তি বললো, তোমাদের বাপদাদার নামে কসম খাবে না। শেষোক্ত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।