হাদীস বিএন


মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল





মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (241)


241 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَحْلِفُ بِأَبِي، فَقَالَ: " إِنَّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " قَالَ عُمَرُ: فَوَاللهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا بَعْدُ ذَاكِرًا وَلا آثِرًا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৪১। হাদীস নং ১১২ দ্রষ্টব্য।



১১২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বাপদাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিষেধাজ্ঞা শোনার পর থেকে আমি কখনো বাপদাদার নামে শপথ করিনি এবং নিজের স্মৃতি থেকে কিংবা অন্যের কাছ থেকে উদ্ধৃত করে বাপদাদা সম্পর্কে কোন কথাও বলিনি।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (242)


242 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِي الْحَرِيرِ فِي إِصْبَعَيْنِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]




২৪২। হাদীস নং ৯২ দ্রষ্টব্য।



৯২। আবু উসমান বলেছেন, আমরা যখন আযার বাইজানে, তখন আমাদের কাছে উমারের চিঠি এল। তিনি লিখলেনঃ হে উতবা ইবনে ফারকাদ, বিলাসিতা থেকে, মুশরিকদের বেশভূষা থেকে ও রেশম থেকে সাবধান। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রেশম পরতে নিষেধ করেছেন, তবে এটুকু পরিমাণ। এই বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তার (মধ্যম ও শাহাদাত) আঙ্গুলদ্বয় তুলে ধরলেন। ইমাম মুসলিমের এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই, তিন অথবা চার আঙ্গুলের অধিক পরিমাণ রেশমী কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (243)


243 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بِأَشْيَاءَ يُحَدِّثُهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَانَ فِيمَا كَتَبَ إِلَيْهِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " لَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا إِلَّا مَنْ لَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْهُ شَيْءٌ، إِلَّا هَكَذَا " وَقَالَ بِإِصْبَعَيْهِ: السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى . قَالَ أَبُو عُثْمَانَ: فَرَأَيْتُ أَنَّهَا أَزْرَارُ الطَّيَالِسَةِ حِينَ رَأَيْنَا الطَّيَالِسَةَ.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৪৩। আবু উসমান বলেন, আমরা উতবা বিন ফারকাদের সাথে ছিলাম। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে কয়েকটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি উদ্ধৃত করে চিঠি পাঠালেন। তন্মধ্যে এও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়ায় একমাত্র সেই ব্যক্তিই রেশম পরিধান করবে, যে আখিরাতে তা পাবে না। কেবল এতটুকু— এই বলে তিনি তার তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় দেখালেন। আবু উসমান বলেন, আমরা যখন তায়ালিসার বুতাম দেখলাম তখন বুঝলাম যে, তিনি তায়ালিসার বুতামকে বুঝিয়েছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (244)


244 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: إِقْصَارُ النَّاسِ الصَّلاةَ الْيَوْمَ، وَإِنَّمَا قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ:{إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا} [النساء: 101] ، فَقَدْ ذَهَبَ ذَاكَ الْيَوْمَ! فَقَالَ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللهُ بِهَا عَلَيْكُمْ، فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৪৪। ইয়ালা বিন উমাইয়া বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললাম, আজকের যুগে নামাযের কসর করা কেমন কথা? আল্লাহ তো বলেছেন, কাফিররা তোমাদের ওপর হামলা করবে- এমন আশঙ্কা থাকলে কসর করতে পার। সে ধরনের সময় তো চলে গেছে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমার কাছে যেটা বিস্ময়কর লাগছে, তা আমার কাছেও বিস্ময়কর লেগেছিল। আমি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বললেন, এ হচ্ছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া একটা সাদাকা (দান)। তার সাদাকা তোমরা গ্রহণ কর।

[হাদীস নং-১৭৪]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (245)


245 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ يُحَدِّثُ، فَذَكَرَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ إسناده صحيح على شرط مسلم. ]




২৪৫। হাদীস নং ১৭৪ দ্রষ্টব্য। [দেখুন পূর্বের হাদিস]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (246)


246 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ آيَةُ الرِّبَا، وَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا، فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حسن رجاله ثقات رجال الشيخين ]




২৪৬। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আল কুরআনের যে অংশ সর্বশেষে নাযিল হয়েছে, তা হলো সুদ সংক্রান্ত আয়াত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটির ব্যাখ্যা না করেই ইন্তিকাল করেন। সুতরাং তোমরা সুদ ও সন্দেহজনক লেনদেন বর্জন কর।

[ইবনু মাজাহ, অত্র গ্রন্থের হাদীস নং-৩৫০ দ্রঃ]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (247)


247 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ عَلَيْهِ " .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (9250).}




২৪৭। হাদীস নং ১৮০ দ্রষ্টব্য।



১৮০। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (248)


248 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُعَذَّبُ الْمَيِّتُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৪৮। দেখুন পূর্বের হাদিস। [১৮০ নং দ্রষ্টব্য]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (249)


249 - حَدَّثَنَا يَحْيَى ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ أَنَّ عُمَرَ قَالَ: إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ، [وَأَنْ يَقُولَ قَائِلٌ:] لَا نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللهِ، فَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَجَمَ، وَقَدْ رَجَمْنَا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح رجاله ثقات رجال الشيخين ]




২৪৯। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেনঃ সাবধান, তোমরা রজমের আয়াত উপলক্ষ করে ধ্বংস হয়ে যেওনা, আমরা আল্লাহর কিতাবে ব্যভিচারের দুটি শাস্তি পাই না। (অর্থাৎ একশো বেত্রাঘাত ও রজম তথা পাথর মেরে হত্যা) তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রজম করতে দেখেছি এবং আমরাও রজম করেছি।

[তিরমিযী] [অত্র গ্রন্থের হাদীস নং-৩০২ দ্রঃ]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (250)


250 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلاثٍ - أوْ وَافَقَنِي رَبِّي فِي ثَلاثٍ - قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، لَوِ اتَّخَذْتَ مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى؟ فَأَنْزَلَ اللهُ:{وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّهُ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ، فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِالْحِجَابِ، فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ الْحِجَابِ، وَبَلَغَنِي مُعَاتَبَةُ النَّبِيِّ عَلَيْهِ السَّلامُ بَعْضَ نِسَائِهِ، قَالَ: فَاسْتَقْرَيْتُ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِنَّ فَجَعَلْتُ أَسْتَقْرِيهِنَّ وَاحِدَةً وَاحِدَةً: وَاللهِ لَئِنِ انْتَهَيْتُنَّ وَإِلَّا لَيُبَدِّلَنَّ اللهُ رَسُولَهُ خَيْرًا مِنْكُنَّ، قَالَ: فَأَتَيْتُ عَلَى بَعْضِ نِسَائِهِ، قَالَتْ: يَا عُمَرُ، أَمَا فِي رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَكُونَ أَنْتَ تَعِظُهُنَّ؟ فَأَنْزَلَ اللهُ:{عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ} .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৫০। হাদীস নং ১৫৭ দ্রষ্টব্য।



১৫৭। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি আমার প্রতিপালকের সাথে তিনটি বিষয়ে (আগাম) একমত হয়েছি। প্রথমতঃ আমি বলেছিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মাকামে ইবরাহীমের অন্তর্ভুক্ত কোন জায়গাকে নামায পড়ার স্থান বানালে ভালো হতো। এর অব্যবহিত পরেই এ আয়াত নাযিল হয়ঃوَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى “মাকামে ইবরাহীমের কোনএকটি স্থানকে নামাযের জায়গা হিসাবে গ্রহণ কর।” (আল-বাকারাঃ ১২৫) দ্বিতীয়তঃ আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার স্ত্রীদের নিকট সৎ অসৎ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকেরা যাওয়া আসা করে। কাজেই তাদেরকে যদি পর্দায় থাকার আদেশ দিতেন ভালো হতো। এর অব্যবহিত পর পর্দার আয়াত নাযিল হলো। তৃতীয়তঃ একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তার বিরুদ্ধে অভিমান করে। তখন আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তার প্রতিপালক তাকে তোমাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী দিতে পারেন।” এরপর অনুরূপ আয়াত নাযিল হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (251)


251 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو ذِبْيَانَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ: لَا تُلْبِسُوا نِسَاءَكُمُ الْحَرِيرَ، فَإِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: " مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ ". وقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ عِنْدِهِ: وَمَنْ لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ لَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ، قَالَ اللهُ تَعَالَى:{وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ} .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৫১। হাদীস নং ১২৩ দ্রষ্টব্য।



১২৩। আবদুল্লাহ ইবনু্য যুবাইর বলেছেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে রেশম পরিধান করবে না।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (252)


252 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ، وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: مَرَّ عُمَرُ بِطَلْحَةَ - فَذَكَرَ مَعْنَاهُ - قَالَ: مَرَّ عُمَرُ بِطَلْحَةَ فَرَآهُ مُهْتَمًّا، قَالَ: لَعَلَّكَ سَاءَكَ إِمَارَةُ ابْنِ عَمِّكَ - قَالَ: يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ - فَقَالَ: لَا، وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا الرَّجُلُ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلَّا كَانَتْ نُورًا فِي صَحِيفَتِهِ، أَوْ وَجَدَ لَهَا رَوْحًا عِنْدَ الْمَوْتِ " قَالَ عُمَرُ: أَنَا أُخْبِرُكَ بِهَا، هِيَ الْكَلِمَةُ الَّتِي أَرَادَ بِهَا عَمَّهُ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ. قَالَ: فَكَأَنَّمَا كُشِفَ عَنِّي غِطَاءٌ، قَالَ: صَدَقْتَ، لَوْ عَلِمَ كَلِمَةً هِيَ أَفْضَلُ مِنْهَا لَأَمَرَهُ بِهَا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح بطرقه ]




২৫২। হাদীস নং ১৮৭ দ্রষ্টব্য।



১৮৭। উমার ইবনুল খাত্তাব তালহা বিন উবাইদুল্লাহকে বললেন, কী ব্যাপার? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর থেকে দেখছি, তোমার এলোমেলো চুল ও ধুলি ধুসরিত মুখ। বোধ হয় তোমার চাচাতো ভাই আমীর নিযুক্ত হওয়ায় তোমার মন খারাপ। তালহা বললেন, আল্লাহর পানাহ চাই! আমি আপনাদের সবার চেয়ে এ ব্যাপারে অধিক উপযুক্ত যে, এমন মনোভাব পোষণ না করি। আসল ব্যাপার হলো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন একটি বাণী জানি, ‘যা কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে পাঠ করলে তার আত্মা বহির্গত হবার সময় একটা প্রবল সুঘ্রাণ ছড়াবে এবং কিয়ামতের দিন তাঁর আত্মা তাঁর জন্য একটা জ্যোতিতে পরিণত হবে। সেই বাণীটি কি, তা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করিনি, আর তিনিও আমাকে জানাননি। ঐ জিনিসটাই আমার (মনের) মধ্যে ঢুকে আছে। (অর্থ্যাৎ ঐ বাণীটি কী সেই কথা ভাবতে ভাবতেই আমি এত বিহ্বল হয়ে পড়েছি।) উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আরে ওটা তো আমি জানি। তালহা বলে উঠলেন, তাহলে তো আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা! সেটি কী? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সেটি হলো সেই কালেমা, যা তিনি তাঁর চাচা (আবু তালিব) কে বলেছিলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তালহা বললেন, আপনি সত্যই বলেছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (253)


253 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ عَتِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَابَيْهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: طُفْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَلَمَّا كُنْتُ عِنْدَ الرُّكْنِ الَّذِي يَلِي الْبَابَ مِمَّا يَلِي الْحَجَرَ، أَخَذْتُ بِيَدِهِ لِيَسْتَلِمَ، فَقَالَ: أَمَا طُفْتَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: فَهَلْ رَأَيْتَهُ يَسْتَلِمُهُ؟ قُلْتُ: لَا، قَالَ: فَانْفُذْ عَنْكَ فَإِنَّ لَكَ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةً حَسَنَةً .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৫৩। ইয়ালা বিন উমাইয়া বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে তাওয়াফ করলাম। যখন আমি হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন দরজার নিকটে অবস্থিত রুকনে ইয়ামানীর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তার হাত ধরলাম, যাতে তিনি হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করেন। তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে কি কখনো দেখেছ হাজরে আসওয়াদ [হাত দিয়ে] স্পর্শ করতে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে (তাঁকে যা করতে দেখেছ তাই) কার্যকর কর। (অর্থাৎ চুম্বন কর।) কেননা আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই তোমার জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে। (অর্থাৎ যখন ভীড় কম থাকে ও চুম্বন করার সামর্থ্য থাকে, তখন চুম্বন করাই উত্তম।)

[মুসনাদে আহমাদ-৩১৩, ৫১২]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (254)


254 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْأَعْمَشِ، حَدَّثَنَا شَقِيقٌ حَدَّثَنِي الصُّبَيُّ بْنُ مَعْبَدٍ، وَكَانَ رَجُلًا مِنْ بَنِي تَغْلِبَ، قَالَ: كُنْتُ نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ، فَاجْتَهَدْتُ فَلَمْ آلُ، فَأَهْلَلْتُ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ، فَمَرَرْتُ بِالْعُذَيْبِ عَلَى سَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ وَزَيْدِ بْنِ صُوحَانَ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: أَبِهِمَا جَمِيعًا؟ فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ: دَعْهُ، فَلَهُوَ أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِهِ. قَالَ: فَكَأَنَّمَا بَعِيرِي عَلَى عُنُقِي، فَأَتَيْتُ عُمَرَ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ لِي عُمَرُ: إِنَّهُمَا لَمْ يَقُولا شَيْئًا هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]




২৫৪। হাদীস নং ৮৩ দ্রষ্টব্য।



৮৩। আবু ওয়ায়েল থেকে হাকাম বৰ্ণনা করেন যে, সুবাই বিন মা’বাদ তাগলিব গোত্রীয় একজন মরুবাসী খৃষ্টান ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন কাজ উত্তম? তাকে বলা হলোঃ আল্লাহর পথে জিহাদ। সে জিহাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর তাকে বলা হলোঃ তুমি কি হজ্জ করেছ? তিনি বললেনঃ না। তাকে বলা হলোঃ হজ্জ কর ও উমরা কর, তারপর জিহাদ কর। তিনি হজ্জের জন্য রওনা হয়ে গেলেন। হাওয়াবেতে পৌঁছে তিনি হজ ও উমরা দুটোই (এক সাথে করা) শুরু করলেন। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া তা দেখে বললেন, সে (সুবাই) তার উটের চেয়েও বিপথগামী অথবা সে তার উটনীর চেয়ে সুপথগামী নয়। এরপর সুবাই উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গেলেন এবং তাকে যায়িদ ও সালমান যা বলেছে তা জানালেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তুমি তোমার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করেছ। হাকাম বলেনঃ আমি আবু ওয়ায়েলকে বললামঃ এ ঘটনাটি আপনাকে সুবাই নিজেই বলেছেন? হাকাম বললেনঃ হ্যাঁ।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (255)


255 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ لَيْلَةً، فَقَالَ لَهُ: " فَأَوْفِ بِنَذْرِكَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৫৫। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে রাসূল, আমি জাহিলী যুগে মান্নত করেছিলাম যে, মসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করবো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার মান্নত পূরণ কর।

[বুখারী ও মুসলিম; মুসনাদে আহমাদ-৪৭০৫ দ্রষ্টব্য]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (256)


256 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ صُبَيِّ بْنِ مَعْبَدٍ التَّغْلِبِيِّ، قَالَ: كُنْتُ حَدِيثَ عَهْدٍ بِنَصْرَانِيَّةٍ، فَأَرَدْتُ الْجِهَادَ أَوِ الْحَجَّ، فَأَتَيْتُ رَجُلًا مِنْ قَوْمِي يُقَالُ لَهُ: هُدَيْمٌ ، فَسَأَلْتُهُ، فَأَمَرَنِي بِالْحَجِّ، فَقَرَنْتُ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ ... فَذَكَرَهُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]




২৫৬। হাদীস নং ৮৩ দ্রষ্টব্য।



৮৩। আবু ওয়ায়েল থেকে হাকাম বৰ্ণনা করেন যে, সুবাই বিন মা’বাদ তাগলিব গোত্রীয় একজন মরুবাসী খৃষ্টান ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কোন কাজ উত্তম? তাকে বলা হলোঃ আল্লাহর পথে জিহাদ। সে জিহাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। অতঃপর তাকে বলা হলোঃ তুমি কি হজ্জ করেছ? তিনি বললেনঃ না। তাকে বলা হলোঃ হজ্জ কর ও উমরা কর, তারপর জিহাদ কর। তিনি হজ্জের জন্য রওনা হয়ে গেলেন। হাওয়াবেতে পৌঁছে তিনি হজ ও উমরা দুটোই (এক সাথে করা) শুরু করলেন। যায়িদ বিন সূহান ও সালমান বিন রবীয়া তা দেখে বললেন, সে (সুবাই) তার উটের চেয়েও বিপথগামী অথবা সে তার উটনীর চেয়ে সুপথগামী নয়। এরপর সুবাই উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গেলেন এবং তাকে যায়িদ ও সালমান যা বলেছে তা জানালেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তুমি তোমার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করেছ। হাকাম বলেনঃ আমি আবু ওয়ায়েলকে বললামঃ এ ঘটনাটি আপনাকে সুবাই নিজেই বলেছেন? হাকাম বললেনঃ হ্যাঁ।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (257)


257 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زُبَيْدٍ الْإِيَامِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عُمَرَ، قَالَ: صَلاةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْفِطْرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ، عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . قَالَ سُفْيَانُ: وَقَالَ زُبَيْدٌ مَرَّةً: أُرَاهُ عَنْ عُمَرَ. قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَى غَيْرِ وَجْهِ الشَّكِّ. وقَالَ يَزِيدُ - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ -: ابْنُ أَبِي لَيْلَى قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ .

تحقيق الإمام يحيى بن شرف النووي: [رواه أحمد بن حنبل في "مسنده"، والنسائي، وابن ماجه، وهو صحيح، و قد أشار النسائي إلى تضعيفه. فقال: "لم يسمعه ابن أبي ليلى من عمر"، ولكن قد رواه البيهقي عن ابن أبي ليلى عن كعب عن عجرة عن عمر بإسناد صحيح، لكن ليس في هذه الرواية قوله: "على لسان نبيكم"، وهو ثابت في باقي الروايات.] {المجموع (4/ 339، 342، 343).}




২৫৭। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা অনুযায়ী সফরের নামায দু’রাকআত, ঈদুল আযহার নামায দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের নামায দু’রাকআত, জুমআর নামায দু’রাকআত। এসব নামায পুরো পড়তে হবে। কসর করা চলবে না।

[ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, ইবনু মাজাহ, নাসায়ী]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (258)


258 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ: أَنَّهُ وَجَدَ فَرَسًا كَانَ حَمَلَ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللهِ تُبَاعُ فِي السُّوقِ، فَأَرَادَ أَنْ يَشْتَرِيَهَا، فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَهَاهُ وَقَالَ: " لَا تَعُودَنَّ فِي صَدَقَتِكَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن رجاله ثقات ]




২৫৮। হাদীস নং ১৬৬ দ্রষ্টব্য।



১৬৬। যায়িদ ইবনে আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার একটা ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করেন। পরে একদা দেখলেন সেই ঘোড়া বা তার কোন বাচ্চাকে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা দেখে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা কিনবার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটা ছেড়ে দাও। ওটা তোমার নিকট আসবে অথবা তুমি বাচ্চাসহই তা পাবে।

অন্য বর্ণনামতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তুমি এটা ক্রয় করো না এবং তোমার দান করা জিনিস ফেরত নিও না।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (259)


259 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ وَبِيَدِهِ عَسِيبُ نَخْلٍ، وَهُوَ يُجْلِسُ النَّاسَ، يَقُولُ: اسْمَعُوا لِقَوْلِ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ مَوْلًى لِأَبِي بَكْرٍ يُقَالُ لَهُ: شَدِيدٌ، بِصَحِيفَةٍ فَقَرَأَهَا عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: يَقُولُ أَبُو بَكْرٍ: اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا لِمَنْ فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ، فَوَاللهِ مَا أَلَوْتُكُمْ. قَالَ قَيْسٌ: فَرَأَيْتُ عُمَرَ بَعْدَ ذَلِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৫৯। কায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখলাম, পাতা ছড়ানো একটা খেজুরের ডাল হাতে নিয়ে লোকজনকে বসাচ্ছেন এবং বলছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালিফার [অর্থাৎ আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর] বক্তব্য শোন। পরক্ষণেই আবু বাকরের শাদীদ নামক একজন মুক্তদাস একটা চিঠি নিয়ে এল এবং তা জনগণকে পড়ে শোনালো। তারপর তিনি বললেন, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলছেন, এই চিঠিতে যা কিছু লেখা আছে তা শ্রবণ কর ও অনুসরণ কর। কেননা আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে অবহেলা করিনি। কায়েস বলেন, এরপর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে মিম্বারের ওপর উপবিষ্ট দেখলাম।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (260)


260 - حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ عِمْرَانَ السُّلَمِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيذِ، فَقَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ. فَلَقِيتُ ابْنَ عُمَرَ فَسَأَلْتُهُ، فَأَخْبَرَنِي - فِيمَا أَظُنُّ - عَنْ عُمَرَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ - شَكَّ سُفْيَانُ -. قَالَ: فَلَقِيتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح ]




২৬০। ইমরান সালামী বলেন, আমি ইবনুল আব্বাসকে নবীয (ফলের রস, যা মদ বানানোর জন্য কোন পাত্রে রেখে পচানো হয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মাটির পাত্রে ও লাউয়ের খোলসে জমানো নবীয পান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। পরে আমি ইবনে উমারের সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির পাত্র ও লাউয়ের খোলসে রাখা নবীয নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমার ধারণা, তিনি এ হাদীস উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে পেয়েছেন। এরপর আমি ইবনে যুবাইরের সাথে দেখা করলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির পাত্র ও লাউয়ের খোলসে সঞ্চিত নবীয নিষিদ্ধ করেছেন।

[হাদীস নং-১৮৫ দ্রষ্টব্য]