হাদীস বিএন


মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল





মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (261)


261 - حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ آدَمَ وَأَبِي مَرْيَمَ وَأَبِي شُعَيْبٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ بِالْجَابِيَةِ ... فَذَكَرَ فَتْحَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ. قَالَ: قَالَ أَبُو سَلَمَةَ : فَحَدَّثَنِي أَبُو سِنَانٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ آدَمَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ لِكَعْبٍ: أَيْنَ تُرَى أَنْ أُصَلِّيَ؟ فَقَالَ: إِنْ أَخَذْتَ عَنِّي صَلَّيْتَ خَلْفَ الصَّخْرَةِ، فَكَانَتِ الْقُدْسُ كُلُّهَا بَيْنَ يَدَيْكَ، فَقَالَ عُمَرُ: ضَاهَيْتَ الْيَهُودِيَّةَ، لَا، وَلَكِنْ أُصَلِّي حَيْثُ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَتَقَدَّمَ إِلَى الْقِبْلَةِ فَصَلَّى، ثُمَّ جَاءَ فَبَسَطَ رِدَاءَهُ فَكَنَسَ الْكُنَاسَةَ فِي رِدَائِهِ، وَكَنَسَ النَّاسُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف ]




২৬১। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জাবিয়াতে ছিলেন। তিনি বাইতুল মাকদাস বিজয়ের কাহিনী বর্ণনা করলেন। তিনি কা’বকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমার কোথায় নামায পড়া উচিত বলে মনে কর? কা’ব বললেন, যদি আমার মত গ্রহণ করেন, তা হলে সাখরার পেছনে নামায পড়ুন। তাহলে সমগ্র বাইতুল মাকদাস আপনার সামনে থাকবে। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তুমি ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করেছ। না, ওখানে নয়। আমি সেইখানে নামায পড়বো, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েছেন। তারপর তিনি কিবলামুখী হলেন, তারপর নামায পড়লেন, তারপর এলেন, তারপর নিজের চাদর বিছালেন, তারপর তার চাদরে জঞ্জাল ঝাড়ু দিলেন, উপস্থিত জনগণও ঝাড়ু দিল।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (262)


262 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ - يَعْنِي ابْنَ مِغْوَلٍ - قَالَ: سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عَمْرٍو، عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْكَلالَةِ، فَقَالَ: " تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ " فَقَالَ: لَأَنْ أَكُونَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي حُمْرُ النَّعَمِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح لغيره وهذا سند رجاله ثقات ]




২৬২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কালালা, (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত ব্যক্তি) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে তোমার জন্য গ্রীষ্মকালের আয়াত (সূরা আন নিসার শেষ আয়াত) যথেষ্ট। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একথা জিজ্ঞাসা করা আমার নিকট লাল উট পাওয়ার চেয়েও প্রিয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (263)


263 - حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ: أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّهُ تُصِيبُنِي الْجَنَابَةُ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَغْسِلَ ذَكَرَهُ، وَيَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاةِ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৬৩। হাদীস নং ৯৪ দ্রষ্টব্য।



৯৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) স্বীয় পিতা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারো ওপর যদি গোসল ফারয বা ওয়াজিব হয় এবং সে গোসল করার আগে ঘুমাতে চায়, তা হলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার উচিত নামাযের ওযূর মত ওযূ করা, তারপর ঘুমানো।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (264)


264 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قَزَعَةَ ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: يُعَذِّبُ اللهُ هَذَا الْمَيِّتَ بِبُكَاءِ هَذَا الْحَيِّ؟ فَقَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا كَذَبْتُ عَلَى عُمَرَ، وَلا كَذَبَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৬৪ হাদীস নং ১৮০ দ্রষ্টব্য।



১৮০। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (265)


265 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ الْقَرْثَعِ، عَنِ قَيْسٍ أَوِ ابْنِ قَيْسٍ - رَجُلٍ مِنْ جُعْفِيٍّ - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَعَهُ وَأَبُو بَكْرٍ، عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَهُوَ يَقْرَأُ، فَقَامَ فَتَسَمَّعَ قِرَاءَتَهُ، ثُمَّ رَكَعَ عَبْدُ اللهِ، وَسَجَدَ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " سَلْ تُعْطَهْ، سَلْ تُعْطَهْ "، قَالَ: ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ غَضًّا كَمَا أُنْزِلَ، فَلْيَقْرَأْهُ مِنَ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ". قَالَ: فَأَدْلَجْتُ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ لِأُبَشِّرَهُ بِمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَلَمَّا ضَرَبْتُ الْبَابَ - أَوْ قَالَ: لَمَّا سَمِعَ صَوْتِي - قَالَ: مَا جَاءَ بِكَ هَذِهِ السَّاعَةَ؟ قُلْتُ: جِئْتُ لِأُبَشِّرَكَ بِمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: قَدْ سَبَقَكَ أَبُو بَكْرٍ. قُلْتُ: إِنْ يَفْعَلْ فَإِنَّهُ سَبَّاقٌ بِالْخَيْرَاتِ، مَا اسْتَبَقْنَا خَيْرًا قَطُّ إِلَّا سَبَقَنَا إِلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ .

تحقيق الحافظ زين الدين العراقي: [أخرجه أحمد، والنسائي في الكبرى من حديث عمر، وللترمذي، وابن ماجه من حديث ابن مسعود: (أن أبا بكر وعمر بشراه أن رسول الله قال: "من أحب أن يقرأ القرآن..") الحديث. قال الترمذي: حسن صحيح.] {المغني (892).}




২৬৫। হাদীস নং ১৭৫ দ্রষ্টব্য।



১৭৫। আলকামা বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (266)


266 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ: لَمَّا أَقْبَلَ أَهْلُ الْيَمَنِ جَعَلَ عُمَرُ يَسْتَقْرِي الرِّفَاقَ، فَيَقُولُ: هَلْ فِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ قَرَنٍ؟ حَتَّى أَتَى عَلَى قَرَنٍ، فَقَالَ: مَنْ أَنْتُمْ؟ قَالُوا: قَرَنٌ، فَوَقَعَ زِمَامُ عُمَرَ، أَوْ زِمَامُ أُوَيْسٍ، فَنَاوَلَهُ - أَوْ نَاوَلَ - أَحَدُهُمَا الْآخَرَ، فَعَرَفَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: مَا اسْمُكَ؟ قَالَ: أَنَا أُوَيْسٌ. فَقَالَ: هَلْ لَكَ وَالِدَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَهَلْ كَانَ بِكَ مِنَ الْبَيَاضِ شَيْءٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَدَعَوْتُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَأَذْهَبَهُ عَنِّي إِلَّا مَوْضِعَ الدِّرْهَمِ مِنْ سُرَّتِي لِأَذْكُرَ بِهِ رَبِّي، قَالَ لَهُ عُمَرُ: اسْتَغْفِرْ لِي. قَالَ: أَنْتَ أَحَقُّ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لِي، أَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: أُوَيْسٌ، وَلَهُ وَالِدَةٌ، وَكَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فَأَذْهَبَهُ عَنْهُ إِلَّا مَوْضِعَ الدِّرْهَمِ فِي سُرَّتِهِ ". فَاسْتَغْفَرَ لَهُ، ثُمَّ دَخَلَ فِي غِمَارِ النَّاسِ، فَلَمْ يُدْرَ أَيْنَ وَقَعَ، قَالَ: فَقَدِمَ الْكُوفَةَ، قَالَ: وَكُنَّا نَجْتَمِعُ فِي حَلْقَةٍ، فَنَذْكُرُ اللهَ، وَكَانَ يَجْلِسُ مَعَنَا، فَكَانَ إِذَا ذَكَرَ هُوَ وَقَعَ حَدِيثُهُ مِنْ قُلُوبِنَا مَوْقِعًا لَا يَقَعُ حَدِيثُ غَيْرِهِ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . •

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৬৬। উসাইর বিন জাবির থেকে বর্ণিত। যখন ইয়ামানের একদল লোক এল, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের সফরসঙ্গীদের খোঁজখবর নিলেন। তাদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে কারনের কেউ আছে কি? এভাবে খোঁজ নিতে নিতে কারনের অধিবাসীদের কাছে এলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কারা? তারা বললো, কারনবাসী। সহসা উমারের লাগাম বা উয়াইসের লাগাম পড়ে গেল। তখন একজন অপরজনকে লাগাম ধরিয়ে দিল। তখন সে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে চিনলো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তোমার নাম কী? সে বললোঃ উয়াইস। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তোমার মা আছেন? সে বললোঃ আছেন। তিনি বললেনঃ তোমার গায়ে কি কিছু শ্বেত কুষ্ঠ রোগ আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ। তবে আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করলে আমার নাভির এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা ব্যতীত তা থেকে তিনি আমাকে মুক্ত করেছেন। (এক দিরহাম পরিমাণ জায়গায় রেখে দিয়েছেন) যাতে আমি তার কারণে আমার প্রভুকে স্মরণ করি।

উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উয়াইসকে বললেনঃ আমার জন্য গুনাহ মাফ চাও। উয়াইস বললোঃ আপনিই আমার গুনাহ মাফ চাওয়ার অধিকতর যোগ্য। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তাবেয়ীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো উয়াইস নামক এক ব্যক্তি, যার মা আছে, তার শরীরে খানিকটা শ্বেত কুষ্ঠ আছে, সে দু’আ করাতে আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করেছেন, কেবল তার নাভিতে এক দিরহাম পরিমাণ জায়গায় তা অবশিষ্ট আছে।

অতঃপর সে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর জন্য ক্ষমা চাইল এবং জনতার ভীড়ে ঢুকে গেল। তারপর সে কোথায় অবস্থান করলো তা আর জানা যায়নি। এরপর সে কুফায় এল। আমরা একটা আলোচনা চক্রে বসতাম এবং আল্লাহর যিকর করতাম। সেও আমাদের সঙ্গে বসতো। সে যখন আলোচনা করতো, তখন তার কথা আমাদের মনে এত বদ্ধমূল হতো, যতটা আর কারো কথা বদ্ধমূল হতো না। এভাবে বর্ণনাকারী পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

[মুসলিম]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (267)


267 - حَدَّثَنَا [عَبْدُ اللهِ , حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ] عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، [عَنِ عَلْقَمَةَ] ، عَنِ الْقَرْثَعِ، عَنْ قَيْسٍ، أَوِ ابْنِ قَيْسٍ - رَجُلٍ مِنْ جُعْفِيٍّ - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَفَّانَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ إسناده صحيح. ]




২৬৭। হাদীস নং ১৭৫ দ্রষ্টব্য।



১৭৫। আলকামা বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন আরাফাতে, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এল। কায়েস ইবনে মারওয়ান বলেন, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এলেন এবং বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আমি কুফা থেকে এসেছি। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, নিজের স্মৃতি থেকে কুরআন লেখায়। একথা শুনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাগে যেন ফেটে পড়লেন। তারপর বললেন, লোকটি কে? কায়েস বললো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। সাথে সাথে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর কসম, আমার জানামতে এই কাজে তার (আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের) চেয়ে অধিকতর উপযুক্ত আর কেউ বেঁচে নেই। এ বিষয়ে তোমাকে আমি পরে জানাবো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতরাতে আবু বকরের সাথে মুসলিমদের সমস্যাবলী নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা করছিলেন। আর একদিন রাতে তার সাথে আলোচনা করছিলেন, তখন আমিও তার সাথে ছিলাম। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে পড়লেন, তার সাথে আমরাও বের হলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি মসজিদে নামায পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তার কিরাত শুনতে লাগলেন। আমরা যখন লোকটিকে চিনে ফেলবার উপক্রম করেছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন নাযিল হবার সময় যেমন ছিল, সে-রকম রসালোভাবে যদি কেউ পড়ে আনন্দ পেতে চায়, তবে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের পাঠরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করে। তারপর লোকটি বসে দু’আ করতে লাগলো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে বলতে লাগলেন, “চাও, যা চাইবে তা তোমাকে দেয়া হবে।” উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম, আল্লাহর কসম, প্রত্যুষে আমি তার কাছে যাবো এবং তাকে উক্ত সুসংবাদ দেবো। পরদিন সকালে গিয়েই দেখি, আবু বাকর আমার আগেই তার কাছে চলে গেছে এবং তাকে ঐ সুসংবাদ দিয়েছে। (অর্থাৎ সে যা চাইবে তাই পাবে এই সুসংবাদ) আল্লাহর কসম, আমি আবু বাকরের সাথে যখনই কোন ভালো কাজে পাল্লা দিয়েছি, তখনই তিনি আমাকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (268)


268 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ لَمَّا عَوَّلَتْ عَلَيْهِ حَفْصَةُ، فَقَالَ: يَا حَفْصَةُ، أَمَا سَمِعْتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " الْمُعَوَّلُ عَلَيْهِ يُعَذَّبُ ". قَالَ: وَعَوَّلَ صُهَيْبٌ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا صُهَيْبُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْمُعَوَّلَ عَلَيْهِ يُعَذَّبُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৬৮। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যখন হাফসা উমারের ওপর চিৎকার করে কাদছিলেন, তখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে হাফসা, তুমি কি জাননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার জন্য চিৎকার করে কাঁদা হয়, তার আযাব হয়, সুহাইবও চিৎকার করে কাঁদছিল। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, হে সুহাইব, তুমি কি জাননা যার জন্য চিৎকার করে কাঁদা হয়, তার আযাব হয়।

[মুসলিম, ইবনু হিব্বান]

[উল্লেখ্য যে, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মসজিদের অভ্যন্তরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। সেই আঘাতেই তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে হাফসা ও সুহাইব কাঁদছিলেন। -অনুবাদক]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (269)


269 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الرِّشْكُ، عَنْ مُعَاذَةَ ، عَنْ أُمِّ عَمْرٍو ابْنَةِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَخْطُبُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا، فَلا يُكْسَاهُ فِي الْآخِرَةِ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح ]




২৬৯। হাদীস নং ১২৩ দ্রষ্টব্য।



১২৩। আবদুল্লাহ ইবনু্য যুবাইর বলেছেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে রেশম পরিধান করবে না।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (270)


270 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ - وَقَالَ عَفَّانُ مَرَّةً: شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ - أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا صَلاةَ بَعْدَ صَلاتَيْنِ: بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (9893).}




২৭০ হাদীস নং ১১০ দ্রষ্টব্য।



১১০। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অত্যন্ত সন্তোষভাজন কতিপয় ব্যক্তি, যাদের মধ্যে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্যতম এবং আমার নিকট উমারই সর্বাপেক্ষা সন্তোষভাজন ব্যক্তি, আমার নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নেই এবং ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন নামায নেই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (271)


271 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، بِمِثْلِ هَذَا: شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (9893).}




২৭১। ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অত্যন্ত সন্তোষভাজন কতিপয় ব্যক্তি, যাদের মধ্যে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্যতম এবং আমার নিকট উমারই সর্বাপেক্ষা সন্তোষভাজন ব্যক্তি, আমার নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নেই এবং ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন নামায নেই।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (272)


272 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ: أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِعُمَرَ: إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ آيَةً لَوْ أُنْزِلَتْ فِينَا لاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا، فَقَالَ: إِنِّي لَأَعْلَمُ حَيْثُ أُنْزِلَتْ، وَأَيَّ يَوْمٍ أُنْزِلَتْ، وَأَيْنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أُنْزِلَتْ؛ أُنْزِلَتْ يَوْمَ عَرَفَةَ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ - قَالَ سُفْيَانُ: وَأَشُكُّ يَوْمَ جُمُعَةٍ أَوْ لَا - يَعْنِي:{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৭২। হাদীস নং ১৮৮দ্রষ্টব্য।



১৮৮। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দরবারে জনৈক ইহুদী এল। সে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনারা আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন, যা আমাদের ইহুদী জাতির নিকট নাযিল হলে আমরা সে দিনটিকে উৎসবের দিনে পরিণত করতাম তিনি বললেন, আয়াতটি কী? সে বললেনঃ আয়াতটি হলোঃ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামাতকে পূর্ণ করে দিলাম”। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত-৩)। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আল্লাহর কসম, এ আয়াতটি যে দিনে ও যে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল, তা আমি জানি। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল জুম’আর দিন বিকালে আরাফাতের ময়দানে। (অর্থ্যাৎ আমাদের জন্যও দিনটি ও সময়টি উৎসবেরই ছিল)









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (273)


273 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ، فَقَالَ: " بِمَ أَهْلَلْتَ؟ " قُلْتُ: بِإِهْلالٍ كَإِهْلالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: " هَلْ سُقْتَ مِنْ هَدْيٍ؟ " قُلْتُ: لَا. قَالَ: " طُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ حِلَّ ". فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ قَوْمِي فَمَشَّطَتْنِي، وَغَسَلَتْ رَأْسِي، فَكُنْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ بِإِمَارَةِ أَبِي بَكْرٍ، وَإِمَارَةِ عُمَرَ، فَإِنِّي لَقَائِمٌ فِي الْمَوْسِمِ إِذْ جَاءَنِي رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ، فَقُلْتُ: أَيُّهَا النَّاسُ، مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فُتْيَا فَهَذَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ، فَبِهِ فَاْئتَمُّوا، فَلَمَّا قَدِمَ قُلْتُ: مَا هَذَا الَّذِي قَدْ أَحْدَثْتَ فِي شَأْنِ النُّسُكِ؟ قَالَ: إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللهِ، فَإِنَّ اللهَ قَالَ:{وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} [البقرة: 196] ، وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ نَبِيِّنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى نَحَرَ الْهَدْيَ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৭৩। আবু মূসা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। তিনি তখন মক্কায় সমভূমিতে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে হজ্জ আরম্ভ করেছ। আমি বললাম, যেভাবে আল্লাহর রাসূল আরম্ভ করেন সেভাবে। তিনি বললেনঃ কুরবানীর জন্তু এনেছ? আমি বললামঃ না। তিনি বললেনঃ কা’বা শরীফ ও সাফা-মারওয়া তাওয়াফ কর। তারপর হালাল হও। আমি কা’বা শরীফ ও সাফা-মারওয়া তাওয়াফ করলাম। এরপর আমি স্বগোত্রীয় এক মহিলার নিকট এলাম। সে আমার চুল আঁচড়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। তারপর আমি আবু বাকর ও উমারের নেতৃত্বে অনুরূপ কাজ করার নির্দেশনা দিতাম।

(একবার) আমি হজ্জ পালন করছিলাম। এই সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট আসলো। সে বললো, আপনি জানেন না, হজ্জ-উমরার ব্যাপারে আমীরুল মুমিনীন কী নিয়ম চালু করেছেন। আমি বললাম, হে জনতা, আমরা এ যাবত যাকে যে রূপ নির্দেশনাই দিয়ে থাকিনা কেন, এখন আমীরুল মুমিনীন স্বয়ং তোমাদের কাছে আসছেন। তার নির্দেশনা মুতাবিকই তোমরা হজ্জ-উমরা সম্পন্ন কর। এরপর যখন তিনি এলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হজ্জ ও উমরার ব্যাপারে আপনি কী নিয়ম চালু করেছেন তিনি জবাব দিলেনঃ আল্লাহর কিতাব যদি মেনে চলি তাহলে তো আল্লাহ বলেছেনঃ وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ

“আল্লাহর জন্য হজ্জ ও উমরা সম্পন্ন কর।” আর যদি আমাদের নবীর সুন্নাত মানি তবে তিনি জন্তু কুরবানী না করা পর্যন্ত হালাল হননি।”* (অর্থাৎ ইহরাম খোলেননি।) [বুখারী, মুসলিম]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (274)


274 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ يُقَبِّلُ الْحَجَرَ، وَيَقُولُ: إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلا تَنْفَعُ، وَلَكِنِّي رَأَيْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَ حَفِيًّا .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط مسلم ]




২৭৪। সুয়াইদ বিন গাফালাহ বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করছেন এবং বলছেন, আমি জানি, তুমি একটা পাথর মাত্র, কোন ক্ষতিও করতে পার না, উপকারও করতে পার না। তবে আবুল কাসিম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তোমার প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত।

[মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৮২]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (275)


275 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ. وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ - قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ: سَمِعْتُ عُمَرَ -: إِنَّ الْمُشْرِكِينَ كَانُوا لَا يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ حَتَّى تُشْرِقَ الشَّمْسُ عَلَى ثَبِيرٍ - قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ: وَكَانُوا يَقُولُونَ: أَشْرِقْ ثَبِيرُ كَيْمَا نُغِيرُ - يَعْنِي: فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৭৫। হাদীস নং ৮৪ দ্রষ্টব্য।



৮৪। আমর ইবনে মাইমুন বলেছেনঃ উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাদের সাথে একটি জামায়াতে ফজরের নামায পড়লেন, তারপর কিছুক্ষণ থামলেন, তারপর বললেনঃ মুশরিকরা সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত রওনা হতো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করেছেন। অতঃপর [উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)] সূর্যোদয়ের পূর্বেই রওনা হলেন।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (276)


276 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: إِنَّ اللهَ تَعَالَى بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، فَقَرَأْنَا بِهَا، وَعَقَلْنَاهَا، وَوَعَيْنَاهَا، فَأَخْشَى أَنْ يَطُولَ بِالنَّاسِ عَهْدٌ، فَيَقُولُوا: إِنَّا لَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ، فَتُتْرَكَ فَرِيضَةٌ أَنْزَلَهَا اللهُ، وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ، أَوْ كَانَ الْحَبَلُ، أَوِ الِاعْتِرَافُ .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي الشيخين ]




২৭৬। ইবনুল আব্বাস বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন এবং তার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন। তার ওপর যে কিতাব নাযিল করেছেন, তাতে রজম (ব্যাভিচারের শাস্তি হিসাবে পাথর মেরে হত্যা করা) সংক্রান্ত আয়াত ছিল। সে আয়াত আমরা পড়েছি, বুঝেছি এবং অন্তরে বদ্ধমূল করেছি। এখন আমার আশঙ্কা হয় যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হবার পর লোকেরা হয়তো বলবে, আমরা রজমের আয়াত পাইনা, ফলে আল্লাহর নাযিল করা একটা ফারয পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে। অথচ বিবাহিত নারী ও পুরুষ ব্যভিচার করলে তার ওপর রজমের শাস্তির বিধান আল্লাহর কিতাবে অকাট্যভাবে বিদ্যমান যদি সাক্ষ্য পাওয়া যায়, গর্ভধারণ হয় অথবা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়।*

[হাদীস নং-৩৯১]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (277)


277 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمٍ، يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فِي الصَّلاةِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْرَأَنِيهَا، فَأَخَذْتُ بِثَوْبِهِ، فَذَهَبْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا. فَقَالَ: " اقْرَأْ " فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهَا مِنْهُ، فَقَالَ: " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " ثُمَّ قَالَ لِي: " اقْرَأْ " فَقَرَأْتُ، فَقَالَ: " هَكَذَا أُنْزِلَتْ، إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ، فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ " .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (2512).}




২৭৭। হাদীস নং ১৫৮ দ্রষ্টব্য।



১৫৮। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি হিশাম বিন হাকীম বিন হিযামকে সূরা আল ফুরকান পড়তে শুনলাম। তিনি তাতে এমন কিছু অক্ষর পাঠ করলেন, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়াননি। আমি নামাযের ভেতরেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে, হিশামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো। নামায শেষে আমি বললাম, আপনাকে কে এভাবে পড়িয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, আপনি মিথ্যে বলেছেন। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে এভাবে পড়াননি। অতঃপর আমি তার হাত ধরে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে সূরা আল ফুরকান পড়িয়েছেন। আমি এই ব্যক্তিকে এই সূরায় এমন কিছু অক্ষর পড়তে শুনেছি, যা আপনি আমাকে পড়াননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হিশাম, পড় তো। তখন হিশাম (ইতিপূর্বে) যেভাবে পড়েছিলেন, সেভাবে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই সূরাটি নাযিল হয়েছে। তারপর বললেনঃ হে উমার, তুমি পড় তো। আমি পড়লাম। তিনি বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন সাতটি পাঠ-রীতিতে নাযিল হয়েছে।









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (278)


278 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ يَقُولُ: مَرَرْتُ بِهِشَامِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ ... فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (2512).}




২৭৮। দেখুন পূর্বের হাদীস। [হাদীস নং ১৫৮ দ্রষ্টব্য।]


উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি হিশাম বিন হাকীম বিন হিযামকে সূরা আল ফুরকান পড়তে শুনলাম। তিনি তাতে এমন কিছু অক্ষর পাঠ করলেন, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পড়াননি। আমি নামাযের ভেতরেই সিদ্ধান্ত নিলাম যে, হিশামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো। নামায শেষে আমি বললাম, আপনাকে কে এভাবে পড়িয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, আপনি মিথ্যে বলেছেন। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে এভাবে পড়াননি। অতঃপর আমি তার হাত ধরে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম।



আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে সূরা আল ফুরকান পড়িয়েছেন। আমি এই ব্যক্তিকে এই সূরায় এমন কিছু অক্ষর পড়তে শুনেছি, যা আপনি আমাকে পড়াননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হিশাম, পড় তো। তখন হিশাম (ইতিপূর্বে) যেভাবে পড়েছিলেন, সেভাবে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এভাবেই সূরাটি নাযিল হয়েছে। তারপর বললেনঃ হে উমার, তুমি পড় তো। আমি পড়লাম। তিনি বললেনঃ এভাবেই নাযিল হয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কুরআন সাতটি পাঠ-রীতিতে নাযিল হয়েছে।



[নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ-২৭৭, ২৭৮, ২৯৬, ২৯৭, ২৩৭৫]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (279)


279 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّعْدِيِّ، قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: أَلَمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَلِي مِنْ أَعْمَالِ النَّاسِ أَعْمَالًا، فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعُمَالَةَ لَمْ تَقْبَلْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَمَا تُرِيدُ إِلَى ذَاكَ؟ قَالَ: أَنَا غَنِيٌّ، لِي أَعْبُدٌ وَلِي أَفْرَاسٌ، أُرِيدُ أَنْ يَكُونَ عَمَلِي صَدَقَةً عَلَى الْمُسْلِمِينَ. قَالَ: لَا تَفْعَلْ، فَإِنِّي كُنْتُ أَفْعَلُ مِثْلَ الَّذِي تَفْعَلُ، كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ: أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي. فَقَالَ: " خُذْهُ، فَإِمَّا أَنْ تَمَوَّلَهُ، وَإِمَّا أَنْ تَصَدَّقَ بِهِ، وَمَا آتَاكَ اللهُ مِنْ هَذَا الْمَالِ، وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ لَهُ وَلا سَائِلِهِ فَخُذْهُ، وَمَا لَا فَلا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]




২৭৯। আবদুল্লাহ বিন সা’দী বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেনঃ আমাকে জানানো হয়েছে যে, তুমি জনগণের অনেক কাজের দায়িত্ব বহন কর। কিন্তু যখন তোমাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করনা। এটা কি সত্য? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, এ দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কী? আমি বললামঃ আমি সম্পদশালী, আমার অনেক দাসদাসী ও ঘোড়া আছে। আমি চাই, আমি যা কিছু করি, তা মুসলিমদের জন্য সাদাকা হিসাবে গণ্য হোক। তিনি বললেন, এটা করো না। আমিও তোমার মত এরূপ করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উপহারাদি দিতেন। আমি বলতাম, আমার চেয়েও গরীব কাউকে দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এটা নিয়ে নাও। এরপর তুমি হয় এটাকে বিনিয়োগ কর অথবা সাদাকা করে দাও। রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে যা কিছু আল্লাহ তোমাকে তোমার চাওয়া ও আশা করা ছাড়াই দেন, তা নিয়ে নাও। আর যা দেন না, তার জন্য লালায়িত হয়ো না।

[হাদীস নং ১০০ দ্রষ্টব্য]









মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল (280)


280 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: لَقِيَ عُمَرُ عَبْدَ اللهِ بْنَ السَّعْدِيِّ، فَذَكَرَ مَعْنَاهُ، إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: " تَصَدَّقْ بِهِ، وَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ " .

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ إسناده صحيح على شرط الشيخين ]




২৮০। হাদীস নং ১০০ দ্রষ্টব্য।



১০০। আবদুল্লাহ ইবনুস সা’দী জানিয়েছেন যে, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর খিলাফতকালে তার কাছে এলে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে বললেনঃ আমাকে কি এ কথা বলা হয়নি যে, তুমি জনগণের বিভিন্ন (সেবামূলক) কাজ কর, তারপর তোমাকে তার পারিশ্রমিক দেয়া হলে তা অপছন্দ কর? (অর্থাৎ এ কথা কি সত্য?) আমি (আবদুল্লাহ ইবনুস সাদী) বললামঃ হ্যাঁ। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তাহলে তুমি কি চাও? আমি বললামঃ আমার প্রচুর ঘোড়া ও দাসদাসী আছে। আমি সচ্ছল, আমি চাই, আমার পারিশ্রমিক মুসলিমদের জন্য সাদাকা হয়ে যাক। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ এরূপ করো না। কারণ তুমি যা চেয়েছে, আমিও তা করতে চেয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু দান করতেন। তখন আমি বলতাম, এটি এমন কাউকে দিন, যে এর প্রতি আমার চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। একবার তিনি আমাকে একটা সম্পত্তি দিলেন। আমি বললাম, এ সম্পত্তি আমার চেয়েও যার বেশি প্রয়োজন, তাকে দিন। রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নিয়ে নাও, এ দ্বারা আরো সম্পদ উৎপন্ন কর এবং সাদাকা কর। এই সম্পদ থেকে যা অযাচিতভাবেই তোমার হাতে আসে, তা নিয়ে নাও। আর যা আসেনা, তার প্রত্যাশী হয়োনা। (অর্থাৎ কখনো যদি কাজ করেও তার পারিশ্রমিক না জোটে, তবে তার জন্য পীড়াপীড়ি করো না। -অনুবাদক)