মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল
321 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَرْبٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حِطَّانَ - فِيمَا يَحْسِبُ حَرْبٌ -: أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ لَبُوسِ الْحَرِيرِ، فَقَالَ: سَلْ عَنْهُ عَائِشَةَ، فَسَأَلَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ: سَلِ ابْنَ عُمَرَ، فَسَأَلَ ابْنَ عُمَرَ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو حَفْصٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا فَلا خَلاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط البخاري رجاله ثقات ]
৩২১। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে, সে আখিরাতে এর কোন অংশ পাবে না।
[বুখারী-৫৮৩৫]
322 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، وَعَفَّانُ، قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَوْدِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: أَنَا أَوَّلُ مَنْ أَتَى عُمَرَ حِينَ طُعِنَ، فَقَالَ: احْفَظْ عَنِّي ثَلاثًا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا يُدْرِكَنِي النَّاسُ: أَمَّا أَنَا فَلَمْ أَقْضِ فِي الْكَلالَةِ قَضَاءً، وَلَمْ أَسْتَخْلِفْ عَلَى النَّاسِ خَلِيفَةً، وَكُلُّ مَمْلُوكٍ لَهُ عَتِيقٌ. فَقَالَ لَهُ النَّاسُ: اسْتَخْلِفْ. فَقَالَ: أَيَّ ذَلِكَ أَفْعَلُ فَقَدْ فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي، إِنْ أَدَعْ إِلَى النَّاسِ أَمْرَهُمْ، فَقَدْ تَرَكَهُ نَبِيُّ اللهِ عَلَيْهِ الصَّلاةُ وَالسَّلامُ، وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ، فَقَدِ اسْتَخْلَفَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي: أَبُو بَكْرٍ. فَقُلْتُ لَهُ: أَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ، صَاحَبْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَطَلْتَ صُحْبَتَهُ، وَوُلِّيتَ أَمْرَ الْمُؤْمِنِينَ فَقَوِيتَ وَأَدَّيْتَ الْأَمَانَةَ. فَقَالَ: أَمَّا تَبْشِيرُكَ إِيَّايَ بِالْجَنَّةِ، فَوَاللهِ لَوْ أَنَّ لِي - قَالَ عَفَّانُ: فَلا وَاللهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، لَوْ أَنَّ لِي - الدُّنْيَا بِمَا فِيهَا لافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ هَوْلِ مَا أَمَامِي قَبْلَ أَنْ أَعْلَمَ الْخَبَرَ، وَأَمَّا قَوْلُكَ فِي أَمْرِ الْمُؤْمِنِينَ، فَوَاللهِ لَوَدِدْتُ أَنَّ ذَلِكَ كَفَافًا ، لَا لِي وَلا عَلَيَّ، وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَلِكَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح رجاله ثقات ]
৩২২। ইবনুল আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছুরিকাহত হবার পর আমিই সর্বপ্রথম তার কাছে উপস্থিত হই। তিনি বললেন, আমার কাছ থেকে তিনটে কথা মনে রেখ। কেননা আমার আশঙ্কা, জনগণ আমাকে জীবিত পাবে না। প্রথমতঃ আমি কালালা (নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত) সম্পর্কে কোন ফায়সালা করিনি। দ্বিতীয়তঃ আমি জনগণের ওপর কোন খালীফা নিয়োগ করিনি। তৃতীয়তঃ আমার সকল দাসদাসী মুক্ত। লোকেরা তাকে বললো, একজন খালীফা নিয়োগ করুন। তিনি বললেন, আমি খালীফা নিয়োগ করি বা তা থেকে বিরত থাকি, উভয় কাজই আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি করে গেছেন। জনগণের শাসনের বিষয়টা যদি তাদের জন্য রেখে যাই, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা রেখে গিয়েছেন। আর যদি খালীফা নিয়োগ করি তবে তাও আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) করেছেন। আমি বললাম, আপনি জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে থেকেছেন এবং দীর্ঘকাল থেকেছেন। আর মুসলিমদের শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন এবং সেটা শক্ত হাতেই করেছেন ও যথাযথভাবে আমানত আদায় করেছেন।
উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তোমার পক্ষ থেকে আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দান সম্পর্কে আমার কথা হলো, আল্লাহর কসম, সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় সহায়-সম্পদও যদি আমার হাতে থাকতো, তবে আমি তার সবই মুক্তিপণ হিসাবে দিয়ে আমার আসন্ন ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইতাম যতক্ষণ না (আমার পরিণতি সম্পর্কে) প্রকৃত সংবাদ অবগত হই। মুসলিমদের শাসনকার্য পরিচালনা সম্পর্কে যা বলেছ, সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, আল্লাহর কসম, ওটা কেবলমাত্র আমার বেঁচে থাকার উপযোগী রাখতে চেয়েছিলাম। ওটা আমার জন্য লাভজনকও করতে চাইনি, লোকসানেরও না। আর আল্লাহর নবীর সাহচর্য সম্পর্কে তুমি যা বলেছ, যথার্থই বলেছ।
323 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ: أَنْ عَلِّمُوا غِلْمَانَكُمُ الْعَوْمَ، وَمُقَاتِلَتَكُمُ الرَّمْيَ. فَكَانُوا يَخْتَلِفُونَ إِلَى الْأَغْرَاضِ، فَجَاءَ سَهْم غَرْبٌ إِلَى غُلامٍ فَقَتَلَهُ، فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ أَصْلٌ، وَكَانَ فِي حِجْرِ خَالٍ لَهُ، فَكَتَبَ فِيهِ أَبُو عُبَيْدَةَ إِلَى عُمَرَ [[إِلَى مَنْ أَدْفَعُ عَقْلَهُ؟]] (*) ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: "اللهُ وَرَسُولُهُ مَوْلَى مَنْ لَا مَوْلَى لَهُ، وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لَا وَارِثَ لَهُ" .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن ]
৩২৩। আবু উমামা বিন সাহল বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহর নিকট লিখলেন, “তোমরা তোমাদের যুবকদেরকে সাঁতার ও সৈন্যদেরকে তীর নিক্ষেপ শিখাও। এরপর তারা বিভিন্ন লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হতো। সহসা একটা তীর তীব্র গতিতে এসে এক যুবকের গায়ে বিদ্ধ হলো এবং সে মারা গেল। এই যুবকের কোন বংশ পরিচয় পাওয়া গেল না। সে তার এক মামার কাছে লালিতপালিত ছিল। তার সম্পর্কে আবু উবাইদা উমারকে লিখলেন, এই যুবকের ক্ষতিপূরণ কাকে দেব? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জবাবে তার কাছে লিখলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ যার কোন অভিভাবক নেই তার অভিভাবক আল্লাহ ও রাসূল। আর যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, তার উত্তরাধিকারী মামা।
[হাদীস নং-১৮৯]
324 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " يَرِثُ الْوَلَاءَ مَنْ وَرِثَ الْمَالَ مِنْ وَالِدٍ، أَوْ وَلَدٍ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن ]
৩২৪। হাদীস নং ১৪৭ দ্রষ্টব্য।
১৪৭। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন সন্তানের জন্য পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না।
325 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَابِسِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ أَتَى الْحَجَرَ، فَقَالَ: أَمَا وَاللهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلا تَنْفَعُ، وَلَوْلا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ. ثُمَّ دَنَا فَقَبَّلَهُ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩২৫। হাদীস নং ৯৯ দ্রষ্টব্য।
৯৯। আবেস বিন রাবীয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদের দিকে তাকিয়ে বলছেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি না দেখতাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে চুমো খাচ্ছেন, তবে তোমাকে চুমো খেতাম না। তারপর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাজরে আসওয়াদকে চুমো খেলেন।
326 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا دُجَيْنٌ أَبُو الْغُصْنِ، بَصْرِيٌّ، قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَلَقِيتُ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقُلْتُ: حَدِّثْنِي عَنْ عُمَرَ، فَقَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ أَخَافُ أَنْ أَزِيدَ أَوْ أَنْقُصَ، كُنَّا إِذَا قُلْنَا لِعُمَرَ: حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَخَافُ أَنْ أَزِيدَ حَرْفًا أَوْ أَنْقُصَ، إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَهُوَ فِي النَّارِ " .
تحقيق الحافظ جلال الدين السيوطي: [رمز له بالصحة.] {الجامع الصغير (8994).}
৩২৬। আবুল গুছন বাসারী বলেন, আমি মদীনায় গেলাম। সেখানে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মুক্ত দাস আসলামের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। তাকে বললাম, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আমাকে কোন হাদীস শোনাও। সে বললো, পারবো না। আমার ভয় হয় কিছু কম বা বেশি বলে ফেলবো। আমরা যখন তাকে বলতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদেরকে কোন হাদীস শোনান, তখন বলতেন, আমার আশঙ্কা হয়। একটি অক্ষরও কমিয়ে বা বাড়িয়ে বলি কি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলবে, সে জাহান্নামে যাবে।
327 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ قَالَ فِي سُوقٍ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ، وَمَحَا عَنْهُ بِهَا أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ، وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف جدا ]
৩২৭। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন বাজারে গিয়ে বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিইয়াদিহিল খায়র, ইউহয়ী ওয়া ইউমীত, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর” (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তার, সকল প্রশংসাও তাঁর, ভালো মন্দ তারই হাতে, তিনিই মারেন, তিনিই বাচান এবং তিনি সর্বশক্তিমান) তা দ্বারা আল্লাহ তার জন্য দশ লাখ সাওয়াব লিখবেন, তার দশ লাখ গুনাহ মুছে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটা বাড়ি বানিয়ে দেবেন।
[ইবনু মাজাহ, তিরমিযী]
328 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ أَقْبَلَ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُونَ: فُلانٌ شَهِيدٌ، وَفُلانٌ شَهِيدٌ، حَتَّى مَرُّوا بِرَجُلٍ، فَقَالُوا: فُلانٌ شَهِيدٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " كَلَّا، إِنِّي رَأَيْتُهُ يُجَرُّ إِلَى النَّارِ فِي عَبَاءَةٍ، غَلَّهَا، اخْرُجْ يَا عُمَرُ فَنَادِ فِي النَّاسِ: إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ ". فَخَرَجْتُ فَنَادَيْتُ: إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمُؤْمِنُونَ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده حسن رجاله رجال الصحيح ]
৩২৮। ২০৩ নং হাদীস দ্রষ্টব্য।
২০৩। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবী এসে বললেন, অমুক শহীদ, অমুক শহীদ। অন্য এক ব্যক্তির (লাশ) কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বললোঃ অমুক শহীদ। তৎক্ষণাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কখখনো নয়। আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি। একটি চাদর বা জুব্বা চুরি করার দায়ে সে জাহান্নামে গেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে, যাও, জনগণকে জানিয়ে দাও যে, মুমিনরা ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং ঘোষণা করলাম যে, মুমিনরা ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। (অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎকারী প্রকৃত মুমিন নয় এবং জান্নাতে যাবে না।)
329 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا وَأَبِي، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَهْ، إِنَّهُ مَنْ حَلَفَ بِشَيْءٍ دُونَ اللهِ، فَقَدْ أَشْرَكَ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ حديث صحيح لغيره وهذا اسناد ضعيف لانقطاعه ]
৩২৯। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। একবার তিনি বললেন, আমার পিতার কসম। সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চুপ কর। যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাবে, সে শিরকে লিপ্ত হবে।
330 - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ الْخَيَّاطُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ: أَنَّ عُمَرَ زَادَ فِي الْمَسْجِدِ مِنَ الْأُسْطُوَانَةِ إِلَى الْمَقْصُورَةِ، وَزَادَ عُثْمَانُ، وَقَالَ عُمَرُ: لَوْلا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " نَبْغِي نَزِيدُ فِي مَسْجِدِنَا " مَا زِدْتُ فِيهِ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده ضعيف ]
৩৩০। না’ফে থেকে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মসজিদে নববীকে সম্প্রসারিত করেন। উসমানও সম্প্রসারিত করেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে না শুনতাম যে, আমরা আমাদের মসজিদকে সম্প্রসারিত করতে চাই, তাহলে তাকে সম্প্রসারিত করতাম না।
331 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ، وَأَنْزَلَ مَعَهُ الْكِتَابَ، فَكَانَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، فَرَجَمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ. ثُمَّ قَالَ: قَدْ كُنَّا نَقْرَأُ: وَلا تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ فَإِنَّهُ كُفْرٌ بِكُمْ - أَوْ: إِنَّ كُفْرًا بِكُمْ - أَنْ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ. ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا تُطْرُونِي كَمَا أُطْرِيَ ابْنُ مَرْيَمَ، وَإِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَقُولُوا: عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . وَرُبَّمَا قَالَ مَعْمَرٌ: " كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ ".
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩১। হাদীস নং ১৫৪ দ্রষ্টব্য।
১৫৪। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খৃষ্টানরা যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতো, তেমনি তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
332 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ لِعُمَرَ: إِنِّي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ مَقَالَةً فَآلَيْتُ أَنْ أَقُولَهَا لَكَ، زَعَمُوا أَنَّكَ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ. فَوَضَعَ رَأْسَهُ سَاعَةً، ثُمَّ رَفَعَهُ فَقَالَ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَحْفَظُ دِينَهُ، وَإِنِّي إِنْ لَا أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَسْتَخْلِفْ، وَإِنْ أَسْتَخْلِفْ فَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَدِ اسْتَخْلَفَ. قَالَ: فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ ذَكَرَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا بَكْرٍ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَعْدِلُ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا، وَأَنَّهُ غَيْرُ مُسْتَخْلِفٍ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩২। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একবার উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেন, আমি জনগণকে একটা কথা বলতে শুনেছি, পরে স্থির করেছি যে, কথাটা আপনাকে বলবো। লোকেরা মনে করে যে, আপনি খালীফা মনোনীত করবেন না। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এক মুহূর্ত মাথা নিচু করলেন, তারপর তা উঁচু করলেন এবং বললেনঃ মহান আল্লাহ তার দীনকে রক্ষা করে থাকেন। আমি কাউকে খালীফা নিয়োগ করবো না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালীফা নিয়োগ করেননি। আর যদি খালীফা নিয়োগ করি, তবে (তাতেও ক্ষতি নেই, কারণ) আবু বাকর খালীফা নিয়োগ করেছেন।
ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর কসম, উনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন মাত্র। আমি তা থেকে বুঝেছি যে, তিনি কাউকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমকক্ষ গণ্য করেন না এবং তিনি খালীফা নিয়োগ করবেন না।
[মুসলিম-১৮২৩]
333 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ: أَرْسَلَ إِلَيَّ عُمَرُ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، فَقُلْتُ لَكُمَا: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩৩। হাদীস নং ১৭২ দ্রষ্টব্য।
১৭২। মালিক বিন আওস বলেন, আমি শুনলাম উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবদুর রহমান বিন আওফ, তালহা, যুবাইর ও সাদকে বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যার ক্ষমতার বলে আকাশ ও পৃথিবী স্থিতিশীল। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদাকা? সকলে বললো, হে আল্লাহ, হ্যাঁ।
334 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: لَمَّا مَاتَ أَبُو بَكْرٍ بُكِيَ عَلَيْهِ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ صحيح رجاله ثقات ]
৩৩৪। হাদীস নং ৩১৫ দ্রষ্টব্য।
[উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদলে কবরে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।]
335 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَبَاحٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: يَا أَبَا بَكْرٍ، كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ "؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ، إِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَيْهَا . فَقَالَ عُمَرُ: وَاللهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ بِالْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح ]
৩৩৫। হাদীস নং ৬৭ ও ১১৭ দ্রষ্টব্য।
৬৭। আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যতক্ষণ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই বলে ঘোষণা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যখন তারা এ ঘোষণা করবে, তখন তারা আমার কাছ থেকে তাদের ধন ও প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। তবে কোন বিশেষ কারণে ধন ও প্রাণে কারো প্রাপ্য থাকলে সে কথা স্বতন্ত্র। তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। পরবর্তীকালে যখন ইসলাম পরিত্যাগের হিড়িক পড়লো (এবং কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করলো, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন) তখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বললেনঃ আপনি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি।
(উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত উক্তির বরাত দিয়ে বলতে চাইছিলেন যে, লোকেরা এখনো ইসলামকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে উদ্যত হয়নি, কেবল কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেমাত্র। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখিত উক্তির আলোকে এখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় সমাগত হয়নি। -অনুবাদক) আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবো না। (অর্থাৎ নামাযের মত যাকাত ত্যাগ করাও ইসলাম ত্যাগের সমার্থক) যারা এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এরপর আমরা আবু বকরের সাথে (যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করেছি এবং এটিকে সঠিক মনে করেছি।
336 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ عَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّا لَا نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩৬। হাদীস নং ১৭২ দ্রষ্টব্য।
১৭২। মালিক বিন আওস বলেন, আমি শুনলাম উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবদুর রহমান বিন আওফ, তালহা, যুবাইর ও সাদকে বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি- যার ক্ষমতার বলে আকাশ ও পৃথিবী স্থিতিশীল। তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না। আমরা যা রেখে যাই, তা সাদাকা? সকলে বললো, হে আল্লাহ, হ্যাঁ।
337 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: أَرْسَلَ إِلَيَّ عُمَرُ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَقَالَ: إِنَّ أَمْوَالَ بَنِي النَّضِيرِ كَانَتْ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ بِخَيْلٍ وَلا رِكَابٍ، فَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَتِهِ، وَمَا بَقِيَ جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩৭। হাদীস নং ১৭১ দ্রষ্টব্য।
১৭১। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বনু নযীরের ভূ-সম্পত্তি ছিল সেই সকল সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তার রাসূলকে গণিমত হিসাবে দিয়েছিলেন এবং যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করেনি। সেই সম্পত্তি একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট ছিল এবং তা থেকে তিনি তাঁর পরিবারের পুরো বছরের ব্যয় নির্বাহ করতেন, (কোন কোন সময় বলেছেন, পুরো বছরের খাদ্য দিতেন।) আর যা বাকী থাকতো তা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য অস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করতেন।
338 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ، وَأَدْبَرَ النَّهَارُ، وَغَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩৮। হাদীস নং ১৯২ দ্রষ্টব্য।
১৯২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন এখান থেকে রাত আসবে এবং এখান থেকে দিন চলে যাবে, তখনই রোযাদার রোযা খুলবে। (‘এখান থেকে’ দ্বারা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জায়গা বুঝাচ্ছিলেন।
339 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ فَمَا رَأَيْتُ مَوْضِعًا، فَمَكَثْتُ سَنَتَيْنِ، فَلَمَّا كُنَّا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، وَذَهَبَ لِيَقْضِيَ حَاجَتَهُ، فَجَاءَ وَقَدْ قَضَى حَاجَتَهُ، فَذَهَبْتُ أَصُبُّ عَلَيْهِ مِنَ الْمَاءِ، قُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَنِ الْمَرْأَتَانِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده صحيح علي شرط الشيخين ]
৩৩৯। হাদীস নং ২২২ দ্রষ্টব্য।
২২২। ইবনুল আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্য থেকে যে দুই স্ত্রী সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছে, “তোমরা উভয়ে আল্লাহর নিকট তাওবা করলে ভালো হয়, কেননা তোমাদের মন অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে,” (সূরা আত তাহরীমঃ ৪) সেই দুই মহিলা কে কে- এ কথা উমার ইবনুল খাত্তাবের নিকট জিজ্ঞাসা করার জন্য আমি উদগ্রীব ছিলাম। অবশেষে উমার হজ্জ করলেন, আর আমিও তার সাথে হজ্জ করলাম। কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি ভিন্ন পথ ধরলেন, আমিও তার সাথে পানির পাত্র হাতে ভিন্ন পথ ধরলাম। এরপর তিনি দৃশ্যপটে এলেন এবং আমার কাছে এলেন। তখন আমি তার হাতের ওপরে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ওযূ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্য থেকে সেই দুই মহিলা কে কে, যাদের সম্পর্কে, আল্লাহ বলেছেন, “যদি তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা কর, তবে খুবই ভাল হয়। কারণ তোমাদের মন অন্যয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল”।
উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ হে ইবনুল আব্বাস, তোমার জন্য অবাক হচ্ছি। (এই হাদীসের জনৈক বর্ণনাকারী আয যুহরী বলেন, তিনি প্রশ্নটাকে অপছন্দ করেছিলেন। তথাপি আল্লাহর কসম, তিনি তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেননি এবং বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপনও করেননি।) উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তারা হলো, হাফসা ও আয়িশা। তারপর ঘটনা বর্ণনা করতে লাগলেন।
তিনি বললেনঃ আমরা কুরাইশ বংশীয়রা নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতাম। যখন মদীনায় গেলাম, সেখানে এমন এক জনগোষ্ঠীকে পেলাম, যাদের ওপর তাদের নারীরা আধিপত্য বিস্তার করে। এ কারণে আমাদের মহিলারা তাদের মহিলাদের কাছ থেকে এটি শিখতে লাগলো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি থাকতাম আওয়ালীতে বনু উমাইয়া বিন যায়িদের বাড়ীতে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রাগ করলাম। সেও আমার ওপর পাল্টা রাগ করলো। তার আমার ওপর পাল্টা রাগ করাটা আমি অপছন্দ করলাম। সে বললো, তোমার ওপর পাল্টা রাগ করাকে অপছন্দ করার হেতু কী? আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তার ওপর পাল্টা রাগ করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ তো দিন থেকে রাত পর্যন্ত তার সঙ্গ বর্জন করে।
উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ এরপর আমি চলে গেলাম এবং হাফসার কক্ষে প্রবেশ করলাম। তাকে বললাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পাল্টা রাগ কর? সে বললো, হ্যাঁ। আমি বললামঃ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গ বর্জনও কর? সে বললো, হ্যাঁ। আমি বললামঃ এটা যে করে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের মধ্য থেকে কেউ কি এতটা নিশ্চিন্ত যে, তার ওপর আল্লাহর রাসূলের রাগান্বিত হওয়ার কারণে স্বয়ং আল্লাহও রাগান্বিত হতে পারেন না? আল্লাহ রাগান্বিত হলে তো সে ধ্বংস হয়ে যাবে। খবরদার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কখনো রাগান্বিত হবে না এবং কখনো কিছু চাইবে না। তোমার কিছু প্রয়োজন হলে আমার কাছে চেয়ো। তোমার সতিন যদি তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বেশি প্রিয় হয় তবে সে জন্য ঈর্ষান্বিত হয়োনা। এ দ্বারা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আয়িশার দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমার একজন আনসার প্রতিবেশী ছিল। আমরা দুজনে পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে অতিথি হতাম। একদিন আমি যেতাম, একদিন সে যেত। আমি যেদিন যেতাম সেদিন তার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতাম, আর সে যেদিন যেত, সেদিন সে আমার কাছে ওহীর খবরাদি নিয়ে আসতো। আমরা বলাবলি করতাম যে, গাসসান গোত্র আমাদের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করছে। একদিন আমার এই প্রতিবেশী আমার কাছে এসে অতিথি হলো। সন্ধ্যার পর সে এসে দরজায় করাঘাত করলো। তারপর আমাকে ডাকলো। আমি বেরিয়ে তার সামনে এলাম। সে বললো, একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললামঃ সেটি কী? গাসসান এসে গেল নাকি? সে বললো, না, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও দীর্ঘস্থায়ী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন।
আমি বললামঃ হাফসা বিরাট ক্ষতি ও ব্যর্থতার শিকার হলো। আমিও ভাবছিলাম, এটা ঘটতে যাচ্ছে। অতঃপর ফজরের নামায পড়েই প্রস্তুত হয়ে নিলাম। তারপর গেলাম। হাফসার কক্ষে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সে কাঁদছে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বললো, জানি না। তিনি এই কাঠের কক্ষটাতে অবরোধবাসী হয়ে রয়েছেন। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক হাবশী ভৃত্যের কাছে গেলাম। তাকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে উমারের জন্য প্রবেশের অনুমতি এনে দাও। সে প্রবেশ করলো এবং পুনরায় আমার কাছে বেরিয়ে এল। বললো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন।
অতঃপর আমি সেখান থেকে চলে গেলাম এবং মিম্বারের নিকট উপস্থিত হলাম। দেখলাম, সেখানে একদল লোক বসে আছে। তাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি আবার সেই ভৃত্যের নিকট গেলাম, বললাম, উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং একটু পরেই বেরিয়ে এল। বললো, আমি তার কাছে আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। আমি বেরিয়ে এলাম এবং পুনরায় মিম্বারের নিকট গিয়ে বসলাম। অতঃপর আবারো আমার ওপর অস্থিরতা প্রবল হয়ে উঠলো। আমি পুনরায় সেই ভূত্যের নিকট গেলাম এবং বললাম, উমারের জন্য একটু অনুমতি এনে দাও। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে প্রবেশ করলো এবং কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এল। বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনার কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
অগত্যা আমি ফিরে চললাম। হঠাৎ দেখলাম, সেই ভৃত্যটি আমাকে ডাকছে। সে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। প্রবেশ করুন। আমি প্রবেশ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলাম। দেখলাম, তিনি বালুকাময় একটা পাটিতে কাত হয়ে শুয়ে আছেন, যার দরুন তার শরীরের এক পার্শ্বে দাগ হয়ে গেছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি মাথা তুলে আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেনঃ না। আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার। ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের কী অবস্থা হয়েছে তা যদি দেখতেন। আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতাম। পরে মদীনায় এসে এমন এক জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে এলাম, যাদের ওপর তাদের নারীরা আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে আমাদের স্ত্রীরা তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে এই আচরণ শিখতে লাগলো।
একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রাগ করলাম। সেও আমার ওপর রাগ করলো। তার পাল্টা রাগ করাতে আমি অসন্তুষ্ট হলাম। সে বললো, আমি পাল্টা রাগ করাতে তুমি অসন্তুষ্ট হয়েছ কেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা তো তার ওপর পাল্টা রাগ করে থাকে। এমনকি তাদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত পর্যন্ত তার সাথে কথোপকথন ও সাহচর্য দান থেকে বিরত থাকে। আমি বললাম, তোমাদের মধ্য থেকে এ ধরনের আচরণ যে করে, সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। এ ধরনের মহিলা কি নিশ্চিত যে, আল্লাহ তা’আলা তার রাসূলের ক্রোধের কারণে তার ওপর ক্রুদ্ধ হবে না? আল্লাহ ক্রুদ্ধ হলে তো তার সর্বনাশ অনিবার্য। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এরপর হাফসার কাছে গিয়েছি। তাকে বলেছি, তোমার সতিন যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তোমার চেয়েও সুন্দরী ও প্রিয় হয়, তবে তার ওপর তুমি ঈর্ষাকাতর হয়ো না। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় মুচকি হাসলেন।
এবার আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি এখন নিশ্চিন্ত হতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আমি ঘরের ভেতরে মাথা উঁচু করে তাকালাম। কিন্তু সেখানে চোখে পড়ার মত কিছু দেখলাম না। সেখানে তিন দিনের উপকরণ ছাড়া কিছুই ছিল না। এই দরিদ্রাবস্থার কারণেই স্ত্রীদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনোমালিন্য হয়েছিল। তাই এ দুরবস্থা অবসানের লক্ষ্যে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আপনার উম্মাতকে সচ্ছলতা দান করেন। কেননা তিনি তো রোম ও পারস্যবাসীকে অনেক সচ্ছলতা দান করেছেন। অথচ তারা এক আল্লাহর ইবাদাত করে না।
এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসলেন। অতঃপর বললেনঃ হে খাত্তাবের ছেলে, তুমি কি কোন সংশয়ে লিপ্ত আছ? তারা এমন জনগোষ্ঠী, যাদের যাবতীয় সৎকর্মের ফল প্রদান দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করা হয়েছে। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার জন্য ক্ষমা চান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের ওপর এত বেশি রেগে গিয়েছিলেন যে, এক মাসের মধ্যে তাদের কারো কাছে যাবেন না বলে শপথ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাকে এজন্য ভৎসনা করেছিলেন।
340 - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، سَمِعَهُ مِنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ: لَا تُغْلُوا صُدُقَ النِّسَاءِ، فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوَى فِي الْآخِرَةِ، لَكَانَ أَوْلاكُمْ بِهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ مَا أَنْكَحَ شَيْئًا مِنْ بَنَاتِهِ وَلا نِسَائِهِ فَوْقَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً. وَأُخْرَى تَقُولُونَهَا فِي مَغَازِيكُمْ: قُتِلَ فُلانٌ شَهِيدًا، مَاتَ فُلانٌ شَهِيدًا، وَلَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ قَدْ أَوْقَرَ عَجُزَ دَابَّتِهِ، أَوْ دَفَّ رَاحِلَتِهِ ذَهَبًا وَفِضَّةً، يَبْتَغِي التِّجَارَةَ، فَلا تَقُولُوا ذَاكُمْ، وَلَكِنْ قُولُوا كَمَا قَالَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ " .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [ اسناده قوي رجاله ثقات ]
৩৪০। হাদীস নং ২৮৫ দ্রষ্টব্য।
২৮৫। আবুল আজফা আস-সুলামী বলেন, আমি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনেছিঃ মহিলাদের মোহরানায় বাড়াবাড়ি করো না। বাড়াবাড়ি করাটা যদি পৃথিবীতে সম্মানের ব্যাপার হতো অথবা আল্লাহর নিকট তাকওয়া বলে গণ্য হতো, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অগ্রণী হতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন স্ত্রীকে কখনো এত মোহরানা দেননি এবং তাঁর কোন মেয়েকেও এত মোহরানা দেয়া হয়নি, যা বারো উকিয়ার বেশি হয়। মানুষ তার স্ত্রীর মোহরানা নিয়ে এতটা পরীক্ষায় পতিত হয়, (আরেকবার বলেছেন, এতটা বাড়াবাড়ি করে) যে, তা এক সময় তার অন্তরে স্ত্রীর প্রতি শত্রুতায় পর্যবসিত হয় এবং স্বামী স্ত্রীকে (বিরক্ত হয়ে) বলে, মশকের গলার মত তোমার সাথে আটকে গিয়েছি।
আবুল আজফা বলেন, আমি এমন একজন আরব যুবক ছিলাম, যার পিতামাতার একজন আরব ও অপরজন অনারব। তাই আমি মশকের গলার মত আটকে যাওয়ার অর্থ বুঝিনি। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, আর একটা কথা যা তোমরা তোমাদের যুদ্ধ বিগ্রহে নিহত হওয়া বা মারা যাওয়া ব্যক্তিকে বলে থাক যে, অমুক শহীদ হয়ে নিহত হয়েছে বা মারা গেছে। অথচ সে হয়তো ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে তার বাহক জন্তুর সামনের অংশ বা পেছনের অংশকে সোনা বা রূপা দিয়ে বোঝাই করেছে। তোমরা এরূপ বলো না, বরং তেমনি বলো যেমন নবী মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে মারা যায় বা নিহত হয়, সে জান্নাতবাসী।