মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল
721 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاحِبَ الرِّبَا، وَآكِلَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَالْمُحَلِّلَ، وَالْمُحَلَّلَ لَهُ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [حسن لغيره ، وهذا إسناد ضعيف]
৭২১। হাদীস নং ৬৩৫ দ্রষ্টব্য।
৬৩৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, দশ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেনঃ সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সংক্রান্ত বিষয়ের লেখক, সুদের দু’জন সাক্ষী, হিল্লাকারী, যার জন্য হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, উল্কি অঙ্কনকারী, যে উল্কি করায়।
722 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ هُبَيْرَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ: " نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَوْ نَهَانِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ، وَالْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭২২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্বর্ণের আংটি, রেশমী পোশাক ও কোমল মসৃণ রেশমী বিছানা বা গদি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
[আবু দাউদ ৪০৫১, ইবনু মাজাহ ৩৬৫৪, তিরমিযী ২৮০৮, নাসায়ী ১৬৫/৮, মুসনাদ আহমাদ ৮১৬, ১০৪৯, ১১০২, ১১১৩, ১১৫৯]
723 - حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُودَى الْمُكَاتَبُ بِقَدْرِ مَا أَدَّى "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [صحيح ]
৭২৩। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুকাতাব (মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি লাভের চুক্তি সম্পাদনকারী দাস) যতটা মুক্তিপণ পরিশোধ করবে, ততটুকু স্বাধীনতা লাভ করবে।
[হাদীস নং ৮১৮ দ্রষ্টব্য]
724 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ الْإِيَامِيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ جَيْشًا، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ رَجُلًا، فَأَوْقَدَ نَارًا، فَقَالَ: ادْخُلُوهَا. فَأَرَادَ نَاسٌ أَنْ يَدْخُلُوهَا، وَقَالَ آخَرُونَ: إِنَّمَا فَرَرْنَا مِنْهَا. فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لِلَّذِينَ أَرَادُوا أَنْ يَدْخُلُوهَا: " لَوْ دَخَلْتُمُوهَا لَمْ تَزَالُوا فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ " وَقَالَ لِلْآخَرِينَ قَوْلًا حَسَنًا، وَقَالَ: " لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح على شرط الشيخين]
৭২৪। হাদীস নং ৬২২ দ্রষ্টব্য।
৬২২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও একটি সেনাদল পাঠিয়েছিলেন। তাদের সেনাপতি হিসাবে আনসারদের একজনকে নিযুক্ত করে দিয়েছেন। সফরে বের হওয়ার পর সেনাপতি তাদের ওপর কোন কারণে রেগে গেলেন। তখন সেনাপতি তাদেরকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে বলেছেন, তাই নয় কি? তারা বললোঃ হ্যাঁ, বলেছেন। তখন তিনি বললেনঃ কিছু কাষ্ঠ যোগাড় কর। তারপর তাতে আগুন ধরাতে আদেশ দিলেন। তারপর বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তোমরা এই আগুনের ভেতর ঢুকবে। সঙ্গে সঙ্গে তারা আগুনে ঢুকতে প্রস্তুত হয়ে গেল।
সহসা তাদের মধ্যকার এক যুবক বললোঃ তোমরা তো আগুন থেকে বাঁচার জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আশ্রয় নিয়েছ। কাজেই তাড়াহুড়ো করো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত করা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। তিনি যদি আগুনে ঢুকবার আদেশ দেন তাহলে ঢুকো। অতঃপর সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে গেল এবং তাকে পুরো ঘটনা জানালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা যদি আগুনে ঢুকতে, তবে আর কখনো তা থেকে বের হতে পারতে না। (অর্থাৎ তোমাদের চিরতরে জাহান্নামের অধিবাসী হতে হতো।) মনে রেখ, আনুগত্য শুধু সৎকাজে।
725 - حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، سَمِعْتُ الْأَعْمَشَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لِلنَّاسِ: مَا تَرَوْنَ فِي فَضْلٍ فَضَلٌ عِنْدَنَا مِنْ هَذَا الْمَالِ؟ فَقَالَ النَّاسُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَدْ شَغَلْنَاكَ عَنْ أَهْلِكَ وَضَيْعَتِكَ وَتِجَارَتِكَ، فَهُوَ لَكَ. فَقَالَ لِي: مَا تَقُولُ أَنْتَ؟ فَقُلْتُ: قَدْ أَشَارُوا عَلَيْكَ. فَقَالَ: قُلْ. فَقُلْتُ: لِمَ تَجْعَلُ يَقِينَكَ ظَنًّا؟ فَقَالَ: لَتَخْرُجَنَّ مِمَّا قُلْتَ. فَقُلْتُ: أَجَلْ، وَاللهِ لاخْرُجَنَّ مِنْهُ، أَتَذْكُرُ حِينَ بَعَثَكَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعِيًا، فَأَتَيْتَ الْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَمَنَعَكَ صَدَقَتَهُ، فَكَانَ بَيْنَكُمَا شَيْءٌ فَقُلْتَ لِي: انْطَلِقْ مَعِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَجَدْنَاهُ خَاثِرًا، فَرَجَعْنَا، ثُمَّ غَدَوْنَا عَلَيْهِ فَوَجَدْنَاهُ طَيِّبَ النَّفْسِ، فَأَخْبَرْتَهُ بِالَّذِي صَنَعَ، فَقَالَ لَكَ: " أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ؟ " وَذَكَرْنَا لَهُ الَّذِي رَأَيْنَاهُ مِنْ خُثُورِهِ فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ، وَالَّذِي رَأَيْنَاهُ مِنْ طِيبِ نَفْسِهِ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي، فَقَالَ: " إِنَّكُمَا أَتَيْتُمَانِي فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ وَقَدْ بَقِيَ عِنْدِي مِنَ الصَّدَقَةِ دِينَارَانِ، فَكَانَ الَّذِي رَأَيْتُمَا مِنْ خُثُورِي لَهُ، وَأَتَيْتُمَانِي الْيَوْمَ وَقَدْ وَجَّهْتُهُمَا، فَذَاكَ الَّذِي رَأَيْتُمَا مِنْ طِيبِ نَفْسِي " فَقَالَ عُمَرُ: صَدَقْتَ، وَاللهِ لاشْكُرَنَّ لَكَ الْأُولَى وَالْآخِرَةَ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭২৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর কাছে উপস্থিত লোকদেরকে বললেনঃ আমাদের নিকট জনগণের সম্পদের কিছু যে উদ্ধৃত্ত রয়ে গেছে, সে সম্পর্কে তোমাদের মত কী? লোকেরা বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, আমরা আপনাকে আপনার পরিবার থেকে, আপনার জমিজমা থেকে এবং আপনার ব্যবসায় থেকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছি। কাজেই এই উদ্ধৃত্ত সম্পদটুকু আপনার থাকুক। অতঃপর উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেনঃ আপনি কি বলেন? আমি বললামঃ লোকেরা তো আপনার দিকেই ইঙ্গিত করেছে। তিনি বললেনঃ আপনি বলুন। আমি বললামঃ আপনি আপনার নিশ্চিত বিশ্বাসকে ধারণায় পরিণত করলেন কেন? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আপনি যা বলেছেন, তা থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসবেন। (অর্থাৎ পরিবর্তন করবেন।) আমি বললামঃ বেশ, আল্লাহর কসম, আমি এ মত থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসবো। আপনার কি মনে পড়ে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপনাকে যাকাত আদায়কারী হিসাবে পাঠিয়েছিলেন, তখন আপনি আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের কাছে উপস্থিত হলেন, তিনি তাঁর যাকাত আপনার কাছে দিলেন না, ফলে আপনাদের দু’জনের মধ্যে কিছু তর্ক হয়েছিল।
তখন আপনি আমাকে বললেনঃ আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চলুন। আমরা গেলাম এবং তাকে খানিকটা বিব্রত দেখতে পেলাম। তা দেখে আমরা ফিরে এলাম। পুনরায় পরদিন সকালে তার কাছে গেলাম। দেখলাম, তার মন প্রফুল্প আছে। আপনি তাকে ইতিপূর্বে তিনি যা যা করেছেন তা জানালেন। তিনি আপনাকে বললেনঃ তুমি কি জানিনা, চাচা বাপের সহোদর ভাই? আর আমরা তাকে প্রথম দিন যে বিব্রত অবস্থায় দেখেছি, তার উল্লেখ করলাম, আর দ্বিতীয় দিন যে প্রফুল্ল অবস্থায় দেখলাম তারও উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জন যখন প্রথম দিন আমার কাছে এসেছিলে, তখন আমার নিকট যাকাতের দুই দিনার বণ্টন করা বাকী ছিল। সেটাই ছিল আমাকে বিব্রত অবস্থায় দেখার কারণ। আর আজকে যখন তোমরা আমাকে দেখছ, তখন আমি ঐ দুটো দিনার বণ্টন করে ফেলেছি। সেজন্যই আজ আমাকে প্রফুল্ল দেখছি। তখন উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ আপনি সত্য বলেছেন। আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিন- উভয় দিনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। (অর্থাৎ উদ্বৃত্ত সম্পদ বণ্টন করাই জরুরী।) [তিরমিযী ৩৭৬০]
726 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: لَقَّنَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ وَأَمَرَنِي إِنْ نَزَلَ بِي كَرْبٌ أَوْ شِدَّةٌ أَنْ أَقُولَهُنَّ: " لَا إِلَهَ إِلا اللهُ الْكَرِيمُ الْحَلِيمُ، سُبْحَانَهُ، وَتَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [حديث صحيح ، وهذا إسناد حسن]
৭২৬। হাদীস নং ৭০১ দ্রষ্টব্য।
৭০১। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছেন, যখন আমার ওপর কোন কঠিন বিপদ আসে, তখন যেন (এই দু’আ) পড়িঃ
لَا إِلَهَ إِلا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ، وَتَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারীম, সুবহানাল্লাহি ওয়া তাবারাকাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম, ওয়াল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।”
727 - حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعَرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يُصِبْهَا مَاءٌ، فَعَلَ اللهُ تَعَالَى بِهِ كَذَا وَكَذَا مِنَ النَّارِ " قَالَ عَلِيٌّ: فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ شَعْرِي . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده مرفوعا ضعيف]
৭২৭। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি একটি পশমের জায়গাও জানাবাতের গোসলে পানি পৌছাতে বাদ রাখবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামে এরূপ এরূপ শাস্তি দেবেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ এ কারণেই আমি আমার প্রতিটি চুল ও পশমকে কঠোরভাবে কচলাই।
[আবু দাউদ ২৪৯, ইবনু মাজাহ ৫৯৯, মুসনাদ আহমাদ ৭৯৮, ১১২১]
728 - حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كُفِّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَبْعَةِ أَثْوَابٍ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭২৮। মুহাম্মাদ বিন আলী ইবনুল হানাফিয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাতটি কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। [হাদীস নং ৮০১ দ্রষ্টব্য]
729 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْمَاجِشُونُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْفَضْلِ، وَالْمَاجِشُونُ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَبَّرَ اسْتَفْتَحَ ثُمَّ قَالَ: " وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ، وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ - وقَالَ أَبُو النَّضْرِ: وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ - اللهُمَّ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا، لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ، وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلاقِ، لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلا أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلا أَنْتَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ " وَكَانَ إِذَا رَكَعَ قَالَ: " اللهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعِظَامِي وَعَصَبِي " وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ: " سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ " وَإِذَا سَجَدَ قَالَ: " اللهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ فَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ، فَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ " فَإِذَا سَلَّمَ مِنَ الصَّلاةِ قَالَ: " اللهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ " . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح ، رجاله ثقات رجال الصحيح]
৭২৯। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর তাহরীমা বলতেন, তখন শুরুর দু’আ (সানা) পড়তেন, তারপর বলতেনঃ
"যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তাঁর দিকে একমুখী ও আত্মসমর্পণকারী হয়ে ফিরলাম, আমি মুশরিক নই, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সর্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমাকে এরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম আত্মসমৰ্পণকারী। হে আল্লাহ, (তুমিই বাদশাহ) তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আমি তোমার দাস, আমি নিজের ওপর যুলম করেছি, আমি নিজের গুনাহর কথা স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও, তুমি ছাড়া তো কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্র অর্জনের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া তো সর্বোত্তম চরিত্রের পথ আর কেউ দেখাতে পারে না। আমার কাছ থেকে খারাপ চরিত্র দূর করে দাও। আমার কাছ থেকে খারাপ চরিত্র তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না। তুমি বরকতময় ও মহান। তোমার নিকট ক্ষমা চাই ও তাওবা করি।"
আর যখন তিনি রুকু দিতেন বলতেনঃ
হে আল্লাহ্, তোমার জন্যই রুকু করলাম, তোমার উপরই ঈমান আনলাম তোমার নিকট আত্মসমৰ্পণ করলাম, আমার কান, চোখ, মগজ, হাড়গোড় ও ধমনী সবই তোমার অনুগত।
আর রুকু থেকে মাথা তুলে বলতেনঃ
সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্য আকাশ, পৃথিবী ও তার মাঝখানে যত জায়গা রয়েছে, তার পূর্তি পরিমাণ এবং তারপর আর যে জিনিস তোমার ইচ্ছা তার পূর্তি পরিমাণ প্রশংসা।
আর যখন সিজদায় যেতেন বলতেনঃ
হে আল্লাহ, তোমার নিকট আত্মসমৰ্পণ করলাম। আমার মুখমণ্ডল আল্লাহর সামনে সিজদায় নত হলো, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে রূপ দান করেছেন এবং সুন্দর রূপ দান করেছেন। তার কান ও চোখ খুলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা বরকতময়।”
তারপর সালাম ফিরিয়ে যখন নামায শেষ করতেন তখন বলতেনঃ
হে আল্লাহ, আমার আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, গোপন গুনাহ, প্রকাশ্য গুনাহ, অপচয়ের গুনাহ এবং যে গুনাহ তুমি আমার চেয়েও ভালো জান- সবই মাফ করে দাও। তুমি অনাদি, তুমি অনন্ত। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।
[মুসলিম ৭৭১, ইবনু খুযাইমা ৮৬২, ৪৬৩, ৪৬৮, ৫৮৮, ৬০৭, ৬১২, ৬৭৩, ৭২৩, ৭৮৩; মুসনাদ আহমাদ ৭১৭]
730 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنِ مُنْذِرٍ، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ، يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ " إِنْ وُلِدَ لِي بَعْدَكَ وَلَدٌ أُسَمِّيهِ بِاسْمِكَ، وَأُكَنِّيهِ بِكُنْيَتِكَ؟ قَالَ: " نَعَمْ " فَكَانَتْ رُخْصَةً مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِيٍّ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح]
৭৩০। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার পরে যদি আমার কোন পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে কি তার নাম আপনার নামে ও তার ডাকনাম আপনার ডাকনামে রাখবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, রেখো? এভাবে আলীর জন্য এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটা অনুমতি হিসাবে বিবেচিত। [আবু দাউদ ৪৯৬৭]
731 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: عَهِدَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَنَّهُ لَا يُحِبُّكَ إِلا مُؤْمِنٌ، وَلا يُبْغِضُكَ إِلا مُنَافِقٌ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده على شرط الشيخين]
৭৩১। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ছাড়া কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ তোমাকে ঘূণা করবে না।
[দেখুন ৬৪২ নং হাদীস ]
732 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ حُجَيَّةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৩২। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন, যেন কুরবানীর জন্তুর চোখ ও কানে খুঁত আছে কিনা ভালোভাবে দেখে নেই।
[ইবনু খুযাইমা ২৯১৪, ২৯১৫; ইবনু মাজা ৩১৪৩; তিরমিযী ১৫০৩, নাসায়ী ২১৭/৭, মুসনাদ আহমাদ ৭৩৪, ৮২৬, ১০২১, ১০২২, ১৩০৯, ১৩১২]
733 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: كُنَّا نَسِيرُ مَعَ عُثْمَانَ، فَإِذَا رَجُلٌ يُلَبِّي بِهِمَا جَمِيعًا، فَقَالَ: عُثْمَانُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: عَلِيٌّ. فَقَالَ: أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي قَدْ نَهَيْتُ عَنْ هَذَا؟ قَالَ: " بَلَى، وَلَكِنْ لَمْ أَكُنْ لِأَدَعَ قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقَوْلِكَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح على شرط البخاري]
৭৩৩। মারওয়ান বিন হাকাম বলেছেন, আমরা উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে ভ্রমণ করছিলাম। সহসা এক ব্যক্তিকে দেখলাম, হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য তালবিয়া পড়ছে। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ এই ব্যক্তি কে? লোকেরা বললোঃ আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ তুমি কি জানতে না আমি এক সাথে হজ্জ ও উমরার তালবিয়া পড়তে নিষেধ করেছি? আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেনঃ জানতাম। কিন্তু আপনার কথার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বর্জন করতে প্রস্তুত নই।
[বুখারী ১৫৬৩, মুসনাদ আহমাদ ১১৩৯]
734 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ حُجَيَّةَ، قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ عَلِيًّا عَنِ الْبَقَرَةِ، فَقَالَ: عَنْ سَبْعَةٍ. فَقَالَ: مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ؟ فَقَالَ: لَا يَضُرُّكَ. قَالَ: الْعَرْجَاءُ؟ قَالَ: " إِذَا بَلَغَتِ الْمَنْسَكَ فَاذْبَحْ، أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده حسن]
৭৩৪। এক ব্যক্তি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করলো গরু কুরবানী সম্পর্কে। তিনি বললেন, একটা গরু সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে জবাই করা যাবে। সে বললোঃ শিং ভাঙ্গা হলে? তিনি বললেনঃ ক্ষতি নেই। সে বললোঃ যদি খোঁড়া হয়? তিনি বললেনঃ গরুটি যদি যাবাইখানা পর্যন্ত যেতে পারে তাহলে যাবাই কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জন্তুর চোখ ও কান দেখে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
[হাদীস নং ৭৩২ দ্রষ্টব্য]
735 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، وَأَبُو عَمْرِو بْنِ الْعَلاءِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، سَمِعَاهُ عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَخْرُجُ قَوْمٌ فِيهِمْ رَجُلٌ مُودَنُ الْيَدِ - أَوْ مَثْدُونُ الْيَدِ، أَوْ مُخْدَجُ الْيَدِ - وَلَوْلا أَنْ تَبْطَرُوا لانْبَأْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ عَبِيدَةُ: قُلْتُ لِعَلِيٍّ: أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح على شرط الشيخين]
৭৩৫। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক শ্রেণীর লোকের আবির্ভাব ঘটবে যাদের হাত খাটো বা অসম্পূর্ণ হবে। তোমরা যদি অহংকার না করতে, তবে আমি তোমাদেরকে জানাতাম, যারা তাদেরকে হত্যা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সে সম্পর্কে। আবিদা বলেনঃ আমি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এ কথা শুনেছেন? তিনি বললেনঃ কাবার প্রভুর কসম, হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর কসম, হ্যাঁ। কা’বার প্রভুর কসম, হ্যাঁ।
[দেখুন হাদীস নং ৬২৬]
736 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى الثَّعْلَبِيِّ، عَنْ أَبِي جَمِيلَةَ الطُّهَوِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ خَادِمًا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْدَثَتْ، فَأَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُقِيمَ عَلَيْهَا الْحَدَّ، فَأَتَيْتُهَا فَوَجَدْتُهَا لَمْ تَجِفَّ مِنْ دَمِهَا، فَأَتَيْتُهُ، فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: " إِذَا جَفَّتْ مِنْ دَمِهَا فَأَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ، أَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [حسن لغيره ، وهذا إسناد ضعيف]
৭৩৬। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈকা দাসী সন্তান প্রসব করলো (অর্থাৎ ব্যভিচার জনিত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ দিলেন, তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতে। আমি তার কাছে গেলাম। জানতে পারলাম, তার প্রসবোত্তর রক্তপাত তখনো থামেনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে এ খবর জানালাম। তিনি বললেনঃ যখন রক্ত বন্ধ হবে তখন শাস্তি কার্যকর কর। তোমাদের দাসদাসীর ওপরও শরিয়াতের শাস্তি কার্যকর কর।
[দেখুন হাদীস নং ৬৭৯]
737 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: كُنْتُ أَرَى أَنَّ بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ أَحَقُّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا، حَتَّى رَأَيْتُ " رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ ظَاهِرَهُمَا "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [حديث صحيح بمجموع طرقه]
৭৩৭। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, আমি মনে করতাম, পায়ের পিঠের চেয়ে পায়ের তলা মাসেহ করা বেশি যুক্তিসংগত। কিন্তু পরে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’পায়ের পিঠে মাসেহ করছেন।
[আবু দাউদ ১৬২, ১৬৩, ১৬৪; মুসনাদ আহমাদ ৯১৭, ৯১৮, ১০১৩, ১০১৪, ১০১৫, ১২৬৪]
738 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: " نَهَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُنْزِيَ حِمَارًا عَلَى فَرَسٍ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [صحيح لغيره ، وهذا إسناد ضعيف]
৭৩৮। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধাকে ঘোড়ার ওপর প্রজনন ক্রিয়া করাতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন।
[মুসনাদ আহমাদ ৭৬৬, ১১০৮]
739 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَوِ اسْتَخْلَفْتُ أَحَدًا عَنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ، لاسْتَخْلَفْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده ضعيف]
৭৩৯। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি পরামর্শ ছাড়া কাউকে খালীফা নিযুক্ত করতাম তাহলে ইবনে উম্মে আবদকে নিযুক্ত করতাম। [দেখুন হাদীস নং ৫৬৬]
740 - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، أَنَّ فَاطِمَةَ شَكَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَثَرَ الْعَجِينِ فِي يَدِهَا ، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيٌ فَأَتَتْهُ تَسْأَلُهُ خَادِمًا، فَلَمْ تَجِدْهُ، فَرَجَعَتْ، قَالَ: فَأَتَانَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا، قَالَ: فَذَهَبْتُ لِأَقُومَ، فَقَالَ: " مَكَانَكُمَا " فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ، فَقَالَ: " أَلا أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ؟ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضْجَعَكُمَا سَبَّحْتُمَا اللهَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَحَمِدْتُمَاهُ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَكَبَّرْتُمَاهُ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ "
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: [إسناده صحيح على شرط الشيخين]
৭৪০। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ফাতিমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে ফরিয়াদ জানালেন যে, আটা বানাতে বানাতে তাঁর হাতে দাগ পড়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগত দাসদাসীর মধ্য থেকে তাঁকে একটা দাসী দিতে তিনি অনুরোধ করলেন কিন্তু পেলেন না। অগত্যা ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ফিরে গেলেন। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমরা যখন বিছানায় গিয়েছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি উঠে তাঁর কাছে যেতে উদ্যত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। তিনি এলেন এবং বসলেন। আমি তাঁর পায়ের শীতলতাও অনুভব করলাম। তারপর বললেনঃ একজন দাসী পাওয়ার চেয়ে তোমাদের জন্য যেটা বেশি উপকারী ও লাভজনক তা কি আমি বলে দেব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে তখন তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আল হামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার বলবে।
[বুখারী ৩১১৩, মুসলিম ২৭২৭, ইবনু হিব্বান ৫৫২৪, মুসনাদ আহমাদ ৬০৪]