সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ
` النفقة كلها في سبيل الله إلا البناء؛ فلا خير فيه `.
ضعيف.
أخرجه الترمذي (2/79) ، وابن أبي الدنيا في ` قصر الأمل ` (2/21/2) وابن مخلد العطار في جزء من ` الأمالي ` (98/2) وابن عدي (151/1) من طريقين عن زافر بن سليمان عن إسرائيل عن شبيب بن بشر عن أنس بن مالك مرفوعا، وقال الترمذي: هذا حديث غريب.
قلت: يعني ضعيف، وذلك لأن شبيب بن بشر صدوق يخطىء، وزافر كثير الأوهام كما في ` التقريب `، وأعله المناوي بعلة ثالثة وهي محمد بن حميد الرازي شيخ الترمذي، قال البخاري: فيه نظر، وكذبه أبو زرعة.
قلت: لكن تابعه الحسن بن عرفة عند العطار وهو ثقة، فزالت الشبهة منه وانحصرت فيمن فوقه ممن ذكرنا، ثم قال المناوي:
وبه يعرف ما في رمز المصنف (يعني السيوطي) لحسنه.
قلت: وقد أشار المنذري في ` الترغيب ` (3/57) إلى ضعفه، وهو الصواب، ولكن يغني عنه قوله صلى الله عليه وسلم: ` يؤجر الرجل في نفقته كلها إلا في التراب `.
وهو مخرج في التعليق على ` المشكاة ` برقم (5182) التحقيق الثاني.
১০৬১। বিল্ডিং তৈরি করা ব্যতীত সকল প্রকার খরচ হচ্ছে আল্লাহর পথে। তাতে (বিল্ডিংয়ে) কোন কল্যাণ নিহিত নেই।
হাদীসটি দুর্বল।
এটিকে তিরমিযী (২/৭৯), ইবনু আবিদ দুনিয়া “কাসরুল আমল” গ্রন্থে (২/২১/২), ইবনু মাখলাদ আল-আত্তার “আল-আমলী” গ্রন্থের (২/৯৮) এক অংশে, ইবনু আদী (১/১৫১) দুটি সূত্রে যাফের ইবনু সুলায়মান হতে, তিনি ইসরাঈল হতে, তিনি শাবীব ইবনু বিশর হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গারীব।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন হাদীসটি দুর্বল। কারণ শাবীব ইবনু বিশর সত্যবাদী তবে ভুল করতেন আর যাফের বহু সন্দেহ প্রবণ ছিলেন যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।
মানবী তৃতীয় সমস্যা উল্লেখ করেছেন সেটি হচ্ছে ইমাম তিরমিযীর শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়েদ আর-রাযী। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। তাকে আবু যুর'য়াহ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু হাসান ইবনু আরাফাহ তার মুতাবা'য়াত করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য। অতএব উপরের দুটি সমস্যাই বহাল থাকছে।
মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (৩/৫৭) শুধুমাত্র দুর্বল হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। সেটিই সঠিক।
` ما جاء من الله فهو الحق، وما جاء مني فهو السنة، وما جاء من أصحابي فهو سعة `.
ضعيف جدا.
رواه ابن عدي (93/1) : حدثنا الحسن بن صالح بن حاتم بن وردان: حدثنا سعد بن سعيد عن أخيه عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا وقال:
وهذا الحديث منكر، وإنما جاء عن شيخ ليس بمعروف وهو صالح بن جميل، فظن الحسن (يعني ابن علي العدوي) أنه صالح بن حاتم وهو صدوق فألزقه عليه العدوي هذا، وعامة ما حدث به إلا القليل موضوعات.
ثم أورده في ترجمة سعد بن سعيد المقبري (174/1) من طريق صالح بن جميل الزيات: حدثنا سعد بن سعيد به، وقال:
لا أعلم يرويه عن سعد بن سعيد بهذا الإسناد غير صالح بن جميل الزيات هذا، وسعد بن سعيد عامة ما يرويه غير محفوظ.
قلت: وأخوسعد بن سعيد أسمع عبد الله، قال يحيى بن سعيد: استبان كذبه وقال الذهبي: ساقط بمرة.
قلت: فهو آفة الحديث، وبه أعله عبد الحق في ` الأحكام ` رقم (137) وإن كان فيه العلتان الأخريان: جهالة صالح بن جميل، وضعف سعد بن سعيد.
১০৬২। যা কিছু আল্লাহর নিকট হতে এসেছে তা হচ্ছে প্রাপ্য। আমার নিকট হতে যা কিছু এসেছে তা হচ্ছে সুন্নাত আর আমার সাথীদের থেকে যা কিছু এসেছে তা হচ্ছে পরিতৃপ্তি।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি ইবনু আদী (১/৯৩) আলহাসান হতে, তিনি সালেহ ইবনু হাতিম হতে, তিনি সায়াদ ইবনু সাঈদ হতে, তিনি তার ভাই হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ এ হাদীসটি মুনকার, এমন এক শাইখ হতে এসেছে যিনি পরিচিত নন। তিনি হচ্ছেন সালেহ ইবনু জামীল। আল-হাসান (ইবনু আলী আলআদাবী) ধারণা করেছেন যে, তিনি সালেহ ইবনু হাতিম তিনি সত্যবাদী। এই আদাবী তার উপর ইবনু হাতিমকে মিলিয়ে দিয়েছেন। সামান্য কিছু বাদে তার মাধ্যমে বর্ণিত অধিকাংশ হাদীসই বানোয়াট।
অতঃপর তিনি সায়াদ ইবনু সাঈদের জীবনীতে (১/১৭৪) সালেহ ইবনু জামীল আয-যাইয়্যাতের সূত্র ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ সালেহ ইবনু জামীল যাইয়্যাত ছাড়া অন্য কেউ এ সনদে হাদীসটি সা'য়াদ ইবনু সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন কিনা জানি না। আর সা'য়াদ ইবনু সাঈদের অধিকাংশ বর্ণনাই নিরাপদ নয়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সায়াদের ভাইয়ের নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেনঃ তার মিথ্যা প্রকাশিত হয়ে গেছে। যাহাবী বলেনঃ তিনি একেবারে সাকেত (নিক্ষিপ্ত)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই হাদীসটির সমস্যা। তার দ্বারাই আব্দুল হক `আল্-আহকাম` গ্রন্থে (নং (১৩৭) হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। যদিও তাতে আরো দু'টি সমস্যা রয়েছেঃ সালেহ ইবনু জামীলের মাজহুল হওয়া এবং সায়াদ ইবনু সাঈদের দুর্বল হওয়া।
` ليس لابن آدم حق فيما سوى هذه الخصال: بيت يسكنه، وثوب يواري عورته، وجلف الخبز والماء `.
منكر.
رواه الترمذي (2/55) وابن أبي الدنيا في ` المجموع ` (9/1) وفي ` ذم الدنيا ` (10/1) وعبد بن حميد في ` المنتخب من المسند ` (7/1) وابن السني في ` القناعة ` (243/1) والحاكم (4/312) والضياء في ` المختارة ` (1/120 - 121) ورقم (310 - 312 - تحقيقي) عن حريث بن السائب: حدثنا الحسن: حدثنا حمران عن عثمان مرفوعا.
وكذا رواه ابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (5/144/2) وقال الترمذي:
حديث حسن صحيح.
وصححه الحاكم أيضا ووافقه الذهبي!! وأقرهما المناوي!
كذا قالوا! وحريث هذا مختلف فيه، فقال ابن معين: ثقة. وقال أبو حاتم: ما به بأس. وقال الساجي: ضعيف. وقال أحمد: روى حديث منكرا عن الحسن عن حمران عن عثمان. يعني هذا. وذكر أن قتادة خالفه فقال: عن الحسن عن حمران عن رجل من أهل الكتاب، قال أحمد: حدثنا روح: حدثنا سعيد يعني عن قتادة به.
قلت: فثبت أن الحديث من الإسرائيليات أخطأ الحريث هذا في رفعه.
وقد روي بلفظ:
` كل شيء فضل عن ظل بيت، وجلف الخبز، وثوب يواري عورة الرجل، والماء لم يكن لابن آدم فيه حق `.
رواه الطيالسي (83) وعنه أبو نعيم في ` الحلية ` (1/61) وأحمد (1/62) وفي
` الزهد ` (ص 21) والطبراني (1/8/2) وأبو بكر ابن السني في ` القناعة ` (243/2) وأبو علي الصواف في ` الفوائد ` (3/167/2) وعنه أبو نعيم في ` الفوائد ` (5/216/1) عن حريث بن السائب قال: سمعت الحسن يقول:
حدثنا حمران عن عثمان مرفوعا.
وذكر ابن قدامة في ` المنتخب ` (10/1/2) عن حنبل قال:
سألت أبا عبد الله (يعني الإمام أحمد) عن حريث بن السائب قال: ما كان به بأس إلا أنه روى حديثا منكرا عن عثمان عن النبي صلى الله عليه وسلم، وليس هو عن النبي صلى الله عليه وسلم، يعني هذا الحديث.
قلت: وذكر الضياء عن الدارقطني أنه سئل عن الحديث فقال:
وهم فيه حريث، والصواب عن الحسن بن حمران عن بعض أهل الكتاب.
وقد خفيت هذه العلة على من صححه بالإضافة إلى الضعف الذي ذكرته في الحديث، والعجب من المناوي، فإنه لم يكتف بإقراره لتصحيح الحاكم والذهبي، بل زاد على ذلك في ` التيسير ` فقال: وإسناده صحيح، واغتر بذلك صاحب ما سماه بـ ` الكنز الثمين ` فأورده فيه برقم (3192) وقد ادعى أن كل ما فيه ثابت كما تقدم، والواقع يشهد أنه لم يستطع الوفاء بذلك كالسيوطي في ` جامعه `، وإن كان كتابه أنظف منه، وسيأتي التنبيه على بعض ما وقع فيه من الضعيف كلما تيسر لي ذلك.
১০৬৩। এই খাসলতগুলো ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে আদম সন্তানের জন্য কোন প্রাপ্য নেই; একটি ঘর যাতে সে বাস করবে, একটি কাপড় যার দ্বারা তার গুপ্তাঙ্গকে ঢাকবে এবং রুটির একটি টুকরা ও সামান্য পানি।
হাদীসটি মুনকার।
এটি তিরমিযী (২/৫৫), ইবনু আবিদ দুনিয়া “আল-মাজমূ” গ্রন্থে (১/৯) ও `যাম্মদ দুনিয়া` গ্রন্থে (১/১০), আব্দ ইবনু হুমায়েদ `আল-মুন্তাখাবু মিনাল মুসনাদ` গ্রন্থে (১/৭), ইবনুস সুন্নী `আল-কানায়াহ` গ্রন্থে (১/২৪৩), হাকিম (৪/৩১২) ও যিয়া “আল-মুখতারাহ” গ্রন্থে (১/১২০-১২১) হুরায়েস ইবনুস সায়েব হতে, তিনি আল-হাসান হতে, তিনি হুমরান হতে, তিনি উসমান হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ইবনু আসাকির `তারীখু দেমাস্ক` গ্রন্থে (৫/১৪৪/২) বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ ।
হাকিমও সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। আর হাফিয যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন! আর মানবী তাদের দু'জনকে সমর্থন করেছেন!
এ হুরায়েস বিতর্কিত ব্যক্তি। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম বলেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। সাজী বলেনঃ তিনি দুর্বল। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি হাসান হতে ... মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ এ হাদীসটি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কাতাদাহ তার বিরোধিতা করে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাসান হতে, তিনি হুমরান হতে, তিনি আহলে কিতাবদের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সব্যস্ত হয়েছে যে, ইসরাঈলী বর্ণনা হতে এসেছে। ভুল করে হুরায়েস এটিকে মারফু করে ফেলেছেন।
ইবনু কুদামাহ “আল-মুন্তাখাব” (১০/১/২) গ্রন্থে ইমাম আহমাদ হতে উল্লেখ করেছেন তিনি বলেনঃ আমি আবু আদিল্লাকে (অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে) হুরায়েস ইবনু সায়েব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। তবে তিনি উসমান হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একটি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন অথচ সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়নি। অর্থাৎ এ আলোচ্য হাদীসটি।
যিয়া দারাকুতনী হতে উল্লেখ করেছেন যে, তাকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেনঃ হুরায়েস তাতে সন্দেহ করেছেন। সঠিক হচ্ছে হাসান হতে, তিনি হুমরান হতে, তিনি আহলে কিতাবদের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন।
এ সমস্যাটি সহীহ আখ্যা দানকারীদের নিকট লুক্কায়িতই রয়ে গেছে। মানবী, যাহাবী ও হাকিম কর্তৃক সহীহ আখ্যা দানকে শুধু স্বীকার করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি “আত-তায়সীর” গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদীসটির সনদ সহীহ। ফলে “আল-কানযূস সামীন” গ্রন্থের লেখক ধোঁকায় পড়েছেন।
` ما من مسلم ينظر إلى امرأة أول نظرة ثم يغض بصره إلا أحدث الله له عبادة يجد حلاوتها `.
ضعيف جدا.
رواه أحمد (5/264) والروياني في ` مسنده ` (30/218/2) والأصبهاني في ` الترغيب ` (292/2) عن عبيد الله بن زحر عن علي بن يزيد عن القاسم عن أبي أمامة مرفوعا.
قلت: وهذا سند واه جدا، قال ابن حبان (2/62 - 63) :
` عبيد الله بن زحر منكر الحديث جدا، يروي الموضوعات عن الأثبات، وإذا روى عن علي بن يزيد أتى بالطامات، وإذا اجتمع في إسناد خبر عبد الله وعلي بن يزيد
والقاسم أبو عبد الرحمن، لم يكن ذلك الخبر إلا مما عملته أيديهم.
وقال الذهبي في ` الضعفاء `:
له صحيفة غرائب، عن علي بن يزيد، ليس بحجة.
وقال في ترجمة ` علي بن يزيد ` وهو الألهاني:
قال النسائي والدارقطني: متروك.
وقد أشار المنذري في ` الترغيب ` (3/63) إلى تضعيف هذا الحديث وقال:
رواه أحمد والطبراني والبيهقي، وقال: إن صح.
১০৬৪। যে মুসলিম ব্যক্তিই কোন নারীর দিকে প্রথম দৃষ্টি দিবে অতঃপর তার দৃষ্টিকে নীচু করে নিবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য এমন একটি ইবাদাত চালু করে দিবেন যার মিষ্টতা সে গ্রহণ করবে।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটিকে ইমাম আহমাদ (৫/২৬৪), রুঅইয়ানী তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (৩০/২১৮/২) এবং আসবাহানী (আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/২৯২) ওবাইদুল্লাহ ইবনু যাহার হতে, তিনি আলী ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আল-কাসেম হতে, তিনি আবূ উমামাহ হতে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। ইবনু হিব্বান (২/৬২-৬৩) বলেনঃ ওবাইদুল্লাহ ইবনু যাহার খুবই মুনকারুল হাদীস। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী। যখন তিনি আলী ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেছেন, তখন বিপদ নিয়ে এসেছেন। যখন কোন হাদীসের সনদে আব্দুল্লাহ, আলী ইবনু ইয়াযীদ ও আল-কাসেম আবু আবদির রহমান একত্রিত হবে, তখন সেই হাদীসটি তাদের হাতের তৈরি ছাড়া আর কিছুই নয়।
হাফিয যাহাবী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে বলেনঃ আলী ইবনু ইয়াযীদ হতে তার গারীবগুলোর একটি পাণ্ডলিপি রয়েছে। সেটি দলীল হতে পারে না। তিনি (যাহাবী) আলী ইবনু ইয়াযীদের আলহানীর জীবনীতে বলেনঃ নাসাঈ ও দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।
মুনযেরী `আত-তারগীব` (৩/৬৩) গ্রন্থে হাদীসটি দুর্বল হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
` النظرة سهم من سهام إبليس من تركها خوفا من الله آتاه الله إيمانا يجد حلاوته في قلبه `.
ضعيف جدا.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (21/1) عن إسحاق بن سيار النصيبي قال: أخبرنا إسحاق بن عبد الواحد الموصلي عن هشيم عن عبد الرحمن بن إسحاق عن محارب ابن دثار عن صلة بن زفر عن حذيفة مرفوعا.
ثم رواه من طريق إبراهيم يعني ابن سليمان قال: أخبرنا أرطاة بن حبيب قال:
أخبرنا هشيم عن عبد الرحمن بن إسحاق عن محارب بن دثار عن ابن عمر مرفوعا.
ورواه الحاكم (4/313 ـ 314) من طريق إسحاق بن عبد الواحد القرشي:
حدثنا هشيم به، وقال: صحيح الإسناد، ورده الذهبي بقوله:
إسحاق واه، وعبد الرحمن هو الواسطي ضعفوه.
وقال المنذري (3/63) :
خرجه الطبراني والحاكم من رواية عبد الرحمن بن إسحاق الواسطي وهو واه.
قلت: فهو آفة الحديث لسلامة الطريق الأخرى عند القضاعي من إسحاق بن عبد الواحد والواسطي ضعيف جدا، واتفقوا على تضعيفه كما قال النووي وغيره.
১০৬৫। দৃষ্টি প্রদান হচ্ছে ইবলীসের তীরগুলোর একটি তীর। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তা পরিত্যাগ করবে আল্লাহ তার নিকট এমন এক ঈমান আনবেন যে, সে তার হৃদয়ে তার মধুরতা অনুভব করবে।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/২১) ইসহাক ইবনু সাইয়ার নাসীবী হতে, তিনি ইসহাক ইবনু আব্দিল ওয়াহেদ মূসেলী হতে, তিনি হুশায়েম হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক হতে, তিনি মুহারেব ইবনু দিছার হতে, তিনি সেলাহ ইবনু যুফার হতে, তিনি হুযায়ফাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর তিনি ইবরাহীম ইবনু সুলায়মান সূত্রে আরতাত ইবনু হাবীব হতে, তিনি হুশায়েম হতে ... বর্ণনা করেছেন।
হাকিম (৪/৩১৩-৩১৪) ইসহাক ইবনু আব্দিল ওয়াহেদ কুরাশী হতে, তিনি হুশায়েম হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ সনদটি সহীহ। হাফিয যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ
ইসহাক খুবই দুর্বল। আর আব্দুর রহমান হচ্ছেন ওয়াসেতী, তাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
মুনযেরী (৩/৬৩) বলেনঃ হাদিসটি ত্ববারানী ও হাকিম আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক ওয়াসেতীর বর্ণনা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি খুবই দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই হাদীসটির সমস্যা অন্য একটি নিরাপদ সূত্রে কাযাঈর নিকট ইসহাক ইবনু আব্দিল ওয়াহেদ হতে বর্ণিত হওয়ার কারণে।
ওয়াসেতী খুবই দুর্বল। তার দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যেমনটি ইমাম নাবাবী ও অন্যরা বলেছেন।
` أربع من أعطيهن فقد أعطي خير الدنيا والآخرة: قلب شاكر، ولسان ذاكر وبدن على البلاء صابر، وزوجة لا تبغيه خونا في نفسها ولا ماله `.
ضعيف.
أخرجه ابن أبي الدنيا في ` كتاب الشكر ` (5/2) : حدثنا محمود بن غيلان المروزي: أخبرنا المؤمل بن إسماعيل: أخبرنا حماد بن سلمة: أخبرنا حميد الطويل عن طلق بن حبيب عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.
وهكذا أخرجه الطبراني أخرجه الضياء المقدسي في ` الأحاديث المختارة ` (283/2) ، ثم أخرجه الطبراني في ` المعجم الأوسط ` (ورقم 7351) بإسناده المتقدم إلا أنه وقع فيه ` موسى ` بدل ` المؤمل `، وكذا وقع في ` زوائد المعجمين ` (1/163/1) وهو خطأ لا شك فيه، لا أدري ممن هو؟ ولعله من بعض النساخ القدامى، فقد تورط به جماعة، فحكموا على إسناد ` الأوسط ` بغير ما حكموا به على ` الكبير ` كما سيأتي، وهو هو! فإن شيخه فيهما واحد، وهو الجنديسابوري، وشيخ هذا كذلك، وهو ابن غيلان المروزي، وقد رواه عنه ابن أبي الدنيا كما رواه في ` الكبير ` فكان ذلك من المرجحات لروايته على رواية ` الأوسط ` ويؤيد ذلك أمران:
الأول: أن الحسن بن سفيان قال: حدثنا محمود بن غيلان به.
أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (3/65) وفي ` الأربعين الصوفية ` (58/2) :
حدثنا محمد بن أحمد بن حمدان: حدثنا الحسن بن سفيان به.
ومن طريق أبي نعيم رواه الضياء أيضا في ` المختارة `.
والآخر: أن ابن غيلان قد توبع عليه، فقال ابن أبي الدنيا في ` كتاب الصبر ` (ق 43/2) : حدثنا محمود بن غيلان والحسن بن الصباح قالا: حدثنا المؤمل بن إسماعيل به.
قلت: وفي هذا رد على الطبراني، فإنه قال:
لم يروه عن طلق إلا حميد، ولا عنه إلا حماد، ولا عنه إلا مؤمل وفي الأصل موسى، وقد عرفت خطأه، تفرد به محمود.
فقد تابعه الحسن بن الصباح، وكأنه لذلك لم يذكر أبو نعيم هذا التفرد وإنما تفرد المؤمل، فقال:
غريب من حديث طلق، لم يروه متصلا مرفوعا، إلا مؤمل عن حماد.
قلت: وهو ضعيف لكثرة خطئه، وقد وصفه بكثرة الخطأ الإمام البخاري والساجي وابن سعد والدارقطني، وقال ابن نصر:
إذا تفرد بحديث، وجب أن يتوقف، ويثبت فيه، لأنه كان سيىء الحفظ، كثير الغلط.
ولخص ذلك الحافظ في ` التقريب ` فقال: صدوق سيء الحفظ.
قلت: فمؤمل بن إسماعيل هذا هو علة هذا الحديث، وقد تفرد به كما حققناه في هذا التخريج بما لم نسبق إليه والفضل لله عز وجل، فاسمع الآن ما قاله العلماء، مما وصل إليه علمهم، وهم على كل حال مجزيون خيرا إن شاء الله تعالى، قال الحافظ المنذري في ` الترغيب ` (3/67) :
رواه الطبراني في ` الكبير ` و` الأوسط `، وإسنادهما جيد.
وقال الهيثمي في ` المجمع ` (4/273) :
رواه الطبراني في ` الكبير ` و` الأوسط `، ورجال الأوسط رجال الصحيح `.
كذا قالا؛ ظنا منهما أن المؤمل بن إسماعيل لم يتفرد به، وأنه تابعه موسى بن إسماعيل، في رواية ` الأوسط `، ولوصح ذلك، لكان الإسناد جيدا، رجاله رجال الصحيح، لأن موسى بن إسماعيل وهو التبوذكي ثقة محتج به في ` الصحيحين ` ولكنه لا يصح ذلك، لأن الرواية المشار إليها خطأ من بعض النساخ كما سبق تحقيقه، واغتر بكلام المنذري والهيثمي بعض ما جاء بعدهما، فقد أورده السيوطي في ` الجامع
الصغير ` من رواية الطبراني في ` الكبير ` والبيهقي في ` الشعب ` ورمز لحسنه! ونقل المناوي كلامهما المتقدم، أعني المنذري والهيثمي، ثم قال:
وبذلك يعرف أن إهمال المؤلف الطريق الصحيح، وإيثاره الضعيف من سوء التصرف هذا وقد رمز لحسنه!، وأكد كلامه هذا ولخصه في ` التيسير ` بقوله:
وبعض أسانيد الطبراني جيد!،
وقلده الشيخ الغماري فأورد الحديث في ` كنزه ` (342) !، فتأمل كيف يقع الخطأ من الفرد، ثم يغفل عنه الجماعة ويتتابعون وهم لا يشعرون، ذلك ليصدق قول القائل: كم ترك الأول للآخر، ويظل البحث العلمي مستمرا، ولولا ذلك لجمدت القرائح، وانقطع الخير عن الأمة.
ثم إن للحديث طريقا أخرى، ولكنها واهية جدا، أخرجه أبو نعيم في ` تاريخ أصبهان ` (2/167) عن هشام بن عبيد الله الرازي: حدثنا الربيع بن بدر: حدثنا أبو مسعود: حدثني أنس بن مالك مرفوعا به.
قلت: وهذا إسناد واه جدا:
1 - هشام بن عبيد الله الرازي فيه ضعف.
2 - الربيع بن بدر، متروك شديد الضعف.
3 - أبو مسعود هذا لم أعرفه.
১০৬৬। চারটি বস্তু যাকে দেয়া হবে তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দেয়া হয়েছেঃ শুকুরগুজার অন্তর, যিকরকারী যবান, বিপদে ধৈর্যধারণকারী শরীর এবং এমন এক স্ত্রী যে তার নিজের ব্যাপারে এবং তার স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে তার খিয়ানাত করে না।
হাদীসটি দুর্বল।
এটি ইবনু আবিদ দুনিয়া `কিতাবুশ শুকর` গ্রন্থে (২/৫) মাহমূদ ইবনু গায়লান মারওয়ায়ী হতে, তিনি মুয়াম্মাল ইবনু ইসমাঈল হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে, তিনি হুমায়েদ আত-ত্ববীল হতে ... বর্ণনা করেছেন।
এভাবেই ত্ববারানী `আল-মুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (৩/১১৬/১) মুহাম্মাদ ইবনু জাবান আলজান্দাইসাপুরী হতে, তিনি মাহমূদ ইবনু গায়লান হতে বর্ণনা করেছেন।
ত্ববারানীর সূত্রে যিয়া আল-মাকদেসী `আল-আহাদীসুল মুখতারাহ` গ্রন্থে (২/২৮৩) বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর ত্ববারানী `আলমুজামুল আওসাত` গ্রন্থে (নং ৭৩৫১) উপরের সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি মুয়াম্মালের স্থলে মূসাকে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপ `যাওয়ায়েদুল মুজামায়েন` গ্রন্থেও (১/১৬৩/১) ঘটেছে। নিঃসন্দেহে তা ভুল। জানি না তা কার থেকে ঘটেছে? সম্ভবত কোন কপি কারক হতে এমনটি হয়েছে।
মুয়াম্মাল এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেনঃ তালক হতে এ হাদীসটি গারীব। কারণ হাম্মাদ হতে মুয়াম্মাল ছাড়া মারফূ’ মুত্তাসিল হিসেবে অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (মুয়াম্মাল) দুর্বল তার থেকে বেশী ভুল সংঘটিত হওয়ার কারণে। ইমাম বুখারী, সাজী, ইবনু সায়াদ ও দারাকুতনী তাকে বেশী ভুল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। ইবনু নাসর বলেনঃ তিনি যখন কোন হাদীস এককভাবে বর্ণনা করবেন, তখন তা গ্রহণ করা হতে বিরত থাকা ওয়াজিব। কারণ তার হেফযে ক্রটি ছিল, তিনি বহু ভুল করতেন।
হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী হেফযে ক্রটিযুক্ত।
ত্ববারানীর “আল-আওসাত” গ্রন্থে মুয়াম্মালের পরিবর্তে মূসা আসায় তাকে মুতাবা'য়াতকারী হিসেবে ধরে হাফিয মুনযেরী `আত-তাকরীব` গ্রন্থে সনদটি ভাল বলে হুকুম লাগিয়েছেন। হায়সামীও `আল-মাজমা` (৪/২৭৩) গ্রন্থে বলেছেনঃ “আওসাত” গ্রন্থের বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী। কারণ মূসা ইবনু ইসমাঈল নির্ভরযোগ্য।
কিন্তু তা সঠিক নয়। বরং কোন কপিকারক হতে ভুল করে তা ঘটেছে। কারণ উভয় (কাবীর ও আওসাতে) গ্রন্থে ত্ববারানীর শাইখ একজনই, তিনি হচ্ছেন জান্দায়সাপুরী, এর শাইখও একজন তিনি হচ্ছেন ইবনু গায়লান মারওয়ায়ী। ইবনু আবিদ দুনিয়া তার থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনিভাবে `আল-কাবীর` গ্রন্থে ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। এসব কিছুই প্রমাণ করছে যে, `আল-কাবীর` গ্রন্থে উল্লেখিত মুয়াম্মালই সঠিক, “আল-আওসাত” গ্রন্থের মূসা সঠিক নয়।
মুনযেরী ও হায়সামীর কথায় তাদের পরবর্তী কেউ কেউ ধোকায় পড়েছেন। যেমন মানবী ও শাইখ গুমারী।
হাদীসটির আরেকটি সূত্র রয়েছে। কিন্তু সেটি খুবই দুর্বল। সেটি আবু নুয়াইম “তারীখু আসবাহান” গ্রন্থে (২/১৬৭) হিশাম ইবনু ওবাইদিল্লাহ হতে, তিনি রাবী' ইবনু বাদর হতে, তিনি আবু মাসউদ হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বলঃ
১। হিশাম ইবনু ওবাইদিল্লাহ আর-রাযীর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।
২। রাবী' ইবনু বাদর মাতরূক, খুবই দুর্বল।
৩। এই আবূ মাসউদকে আমি চিনি না।
` صلاة الجمعة بالمدينة كألف صلاة فيما سواها، [وصيام شهر رمضان في المدينة كصيام ألف شهر فيما سواها] `.
موضوع بهذا اللفظ.
رواه ابن الجوزي في ` منهاج القاصدين ` (1/57/2) وفي ` العلل الواهية ` (2/86 - 87) وابن النجار في ` الدرر الثمينة في تاريخ المدينة ` (337) عن عمر بن أبي بكر الموصلي عن القاسم بن عبد الله بن عمرو بن عوف عن نافع عن ابن عمر مرفوعا، وقال ابن الجوزي: لا يصح.
قلت: وهذا سند مظلم مسلسل بمن هو متروك وكذاب:
الأول: كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف، قال الشافعي:
ركن من أركان الكذب.
الثاني: القاسم بن عبد الله وهو العمري المدني، قال أحمد:
كان يضع الحديث.
الثالث: عمر بن أبي بكر الموصلي، قال أبو حاتم:
متروك الحديث، ذاهب الحديث، وأورده السيوطي في ` الجامع الصغير ` من رواية البيهقي في ` الشعب ` بزيادة في أوله: ` صلاة في مسجدي هذا كألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام `، وتعقبه شارحه المناوي بقوله:
ظاهر صنيع المصنف أن مخرجه سكت عليه، والأمر بخلافه، فإنه عقبه بالقدح في سنده، فقال: هذا إسناد ضعيف بمرة، انتهى بلفظه، فحذف المصنف له من سوء الصنيع.
قلت: وقد كان من أحسن الصنيع أن يحذف السيوطي هذا الحديث من كتابه أصلا، فإنه قد تعهد في مقدمته أن يصونه مما تفرد به كذاب أووضاع، ولكنه لم يوفق كثيرا في تنفيذ ما تعهد به، غفر الله لنا وله، فإن هذا الحديث فيه متروك ووضاع وكذاب، كما شرحناه لك بما لا تجده في كتاب، فالحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
ولقد كان صنيع السيوطي في كتابه الآخر ` الجامع الكبير `، أقرب إلى الصواب فإنه قال فيه (2/61/2) :
رواه البيهقي وضعفه، وابن عساكر.
فذكره التضعيف هنا وحذفه إياه من ` الجامع الصغير ` هو بلا شك من سوء الصنيع كما قال المناوي، ولوعكس لكان أقرب إلى الصواب، وإنما الصواب حقا أن يحكي التضعيف هنا وهناك، ليسد بذلك الطريق على بعض المتأولين أو المغرضين
والخاطئين، ألا ترى أنه قد وضع في آخر الحديث من نسخة ` الجامع الصغير ` التي عليها شرح المناوي، فضلا عن غيرها حرف (ح) الرامز إلى أن الحديث حسن؟ ! فلو أنه ذكر التضعيف المذكور لما تجرأ أحد أن يرمز له بالحسن، لأنه حينئذ يناقض التصريح بالتضعيف، فتأمل.
وأما الزيادة التي زادها البيهقي، فهي صحيحة ثابتة من حديث ابن عمر في ` صحيح مسلم ` ومن حديث أبي هريرة في ` الصحيحين `، وفي الباب عن جابر وأبي الدرداء وغيرهما، وقد خرجتهما في ` إرواء الغليل ` (رقم
১০৬৭। মদীনায় একটি জুমার সালাত আদায় করা অন্য স্থানের এক হাজারটি সালাত আদায়ের সমতুল্য। [মদীনায় একমাস রমযানের সওম পালন করা অন্য স্থানে এক হাজার সাওম আদায় করার সমতুল্য]
হাদীসটি এ বাক্যে জাল।
এটি ইবনুল জাওযী “মিনহাজুল কাসেদীন” গ্রন্থে (১/৫৭/২) ও `ইলালুল ওয়াহিয়াহ` গ্রন্থে (২/৮৬-৮৭), ইবনুন নাজ্জার `আদ-দুরারুস সামীনাহ ফী তারাখিল মাদীনাহ` গ্রন্থে (৩৩৭) উমর ইবনু আবী বাকর মূসেলী হতে, তিনি কাসেম ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি কাসীর ইবনু আদিল্লাহ হতে, তিনি নাফে' হতে, তিনি ইবনু উমার হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল জাওযী বলেনঃ এটি সহীহ নয়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি ধারাবাহিকভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন, মাতরূক ও মিথ্যুক বর্ণনাকারীদের দ্বারাঃ
১। কাসীর ইবনু আদিল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে ইমাম শাফে'ঈ বলেনঃ তিনি মিথ্যার স্তম্ভসমূহের একটি স্তম্ভ।
২। আল-কাসেম ইবনু আদিল্লাহ হচ্ছেন উমারী মাদানী। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।
৩। উমার ইবনু আবু বাকর মূসেলী সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস, যাহেবুল হাদীস। এ হাদীসটির সনদে মাতরূক, জালকারী ও মিথ্যুক বর্ণনাকারী একত্রিত হয়েছে। সুয়ূতী হাদীসটি “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করায় মানবী তার সমালোচনা করেছেন।
` أحفوا الشوارب وأعفوا اللحى، وانتفوا الذي في الآناف `.
ضعيف.
رواه ابن عدي (102/1) عن حفص بن واقد اليربوعي: حدثنا إسماعيل بن مسلم عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعا وقال بعد أن ساق لحفص هذا أحاديث أخرى: وهذه الأحاديث أنكر ما رأيت لحفص بن واقد، وهذا الحديث قد رواه غير حفص بن واقد عنه.
قلت: فالآفة من إسماعيل بن مسلم، والظاهر أنه المكي البصري الذي يكثر من الرواية عن الحسن البصري وهو ضعيف لسوء حفظه، والشطر الأول من الحديث صحيح ثابت من طريق جماعة من الصحابة، والشطر الثاني منه لم نره إلا من هذه الطريق وهي واهية، وقد عزاه السيوطي لابن عدي والبيهقي فتعقبه المناوي بقوله: ظاهر صنيعه يوهم أن مخرجيه خرجاه وسكتا عليه، والأمر بخلافه، بل تعقبه البيهقي بقوله: قال الإمام أحمد: هذا اللفظ الأخير غريب، وفي ثبوته نظر.
انتهى.
১০৬৮। তোমরা গোফগুলো ছোট করো, দাড়িকে দীর্ঘ করো আর নাকের মধ্যে যা আছে তাকে উঠিয়ে ফেল।
হাদীসটি দুর্বল।
এটি ইবনু আদী (১/১০২) হাফস ইবনু ওয়াকেদ আলইয়ারবূঈ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু মুসলিম হতে, তিনি আমর ইবনু শু'য়ায়ব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাফসের আরো কতিপয় হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাফসের হাদীসের মধ্যে এগুলোর চেয়ে আর মুনকার হাদীস দেখিনি। এ হাদীসটি হাফস ছাড়াও অন্য কেউ ইসমাঈল হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সমস্যা হচ্ছে ইসমাঈল ইবনু মুসলিম। তিনি মাক্কী বাসরী তিনি হাসান বাসরী হতে বেশী বেশী বর্ণনা করেছেন। তার হেফযে ক্রটি থাকায় তিনি দুর্বল। তবে হাদীসটির প্রথম অংশটি একদল সহাবা হতে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অংশটি এ সূত্রে বর্ণিত হওয়ায় দুর্বলই রয়ে যাচ্ছে।
বাইহাকী বলেনঃ ইমাম আহমাদ বলেছেনঃ এ শেষ বাক্যটি গারীব। তা সাব্যস্ত হতে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।
كشف الأستار) من طريق أسد بن موسى: حدثنا معاوية بن صالح به؛ إلا أنه قال: عن عامر بن لدي الأشعري قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: … فذكره.
فأسقط منه أبا هريرة، فصار السماع لابن لدين منه صلى الله عليه وسلم!
وقد جزم الحافظ وغيره بأنه خطأ، وأن الصواب رواية الجماعة، وأنه من مسند أبي هريرة.
وأنا أظن أن الخطأ من أسد بن موسى؛ لأنه خالف الجماعة، ولأن فيه بعض الكلام؛ كما تراه في `التهذيب`. وقال الحافظ في `التقريب`:
`صدوق يغرب؛ وفيه نصب`.
ولم يتنبه لهذا: البزار، ولا المنذري، ولا الهيثمي وغيرهم! فقال البزار عقبه:
`لا نعلم أسند عامر بن لدين إلا هذا`!
وانطلى الأمر على المعلق عليه الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي، فنقل عن الهيثمي قوله في `مجمع الزوائد` (3/ 199) :
`رواه البزار، وإسناده حسن`!
وسكت عليه كما هو شأنه في كل ما ينقله عنه في تعليقه على هذا الكتاب!
والهيثمي قلد في ذلك الحافظ المنذري في `الترغيب` (2/ 87) ، وهكذا يتتابع الناس في الخطأ.
وزاد في ذلك المنذري؛ فإنه أورده من رواية ابن خزيمة المتقدمة عقب حديث أبي هريرة الصحيح المشار إليه آنفاً، فأوهم صحتها، ثم بعد حديثين ساقه من رواية ابن لدين المسندة إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقال:
`رواه البزار بإسناد حسن`!
فأوهم أنها رواية أخرى غير رواية ابن خزيمة، وأنها تزداد بها قوة على قوة! وهما في الحقيقة رواية واحدة وضعيفة من أصلها كما سلف بيانه. والله المستعان.
وقد تعقبه الحافظ إبراهيم الناجي في `عجالة الإملاء` بما ذكرنا من السقط.
وقد نقلت كلامه في تعليقي على `ضعيف الترغيب` (637) ؛ وهو تحت الطبع مع مقابله: `صحيح الترغيب` يسر الله تمام طبعهما (1) .
(1) وقد طبعا - ولله الحمد والمنة - بعد وفاة الشيخ رحمه الله بقليل. (الناشر)
ثم وجدت للحديث طريقاً أخرى عن أبي هريرة دون جملة الذكر، فتأكدت من نكارتها؛ يرويه عبد الملك بن عمير عن رجل من بني الحارث بن كعب - يقال له: أبو الأوبر - قال:
كنت قاعداً عند أبي هريرة؛ إذ جاءه رجل فقال: إنك نهيت الناس عن الصيام يوم الجمعة؟ قال: ما نهيت الناس أن يصوموا يوم الجمعة، ولكني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
`لا تصوموا يوم الجمعة؛ فإنه يوم عيد؛ إلا أن تصلوه بأيام`.
أخرجه ابن حبان في `صحيحه` (
১০৬৯। শীঘ্রই আমার থেকে তোমাদের নিকট বিভিন্নমুখী হাদীস বর্ণিত হয়ে আসবে। সেগুলো হতে যা কিছু আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাতের সাথে মিলবে সেটি আমার থেকে বর্ণিত আর যা কিছু আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাতের সাথে মিলবে না তা আমার থেকে বর্ণিত নয়।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি ইবনু আদী `আল-কামেল` গ্রন্থে (২/২০০), দারাকুতনী (৫১৩) ও আল-খাতীব `আল-কিফাইয়্যাহ কী ইলমির রেঅয়্যাহ` গ্রন্থে (৪৩০) সালেহ ইবনু মূসা হতে, তিনি আবদুল আযীয ইবনে রাফে' হতে, তিনি আবূ সালেহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আদী তার এ হাদীসটি ছাড়াও অন্য কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ হাদীসগুলো আব্দুল আযীয হতে নিরাপদ নয়। এগুলো তার থেকে সালেহ ইবনু মূসা বর্ণনা করেছেন। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস ।
হাফিয যাহাবীর `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে এসেছেঃ মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
“আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছেঃ তিনি মাতরুক।
` من سره أن ينظر إلى رجل قد أتى الردم فلينظر إلى هذا `.
ضعيف جدا.
أخرجه البزار في ` مسنده ` (رقم 2089) قال: حدثنا عمرو بن مالك: أنبأ محمد ابن حمران: حدثنا عبد الملك بن نعامة الحنفي: عن يوسف بن أبي مريم الحنفي قال: بينا أنا قاعد مع أبي بكرة، إذ جاء رجل فسلم عليه، فقال: أما تعرفني؟ فقال له أبو بكرة: من أنت؟ قال: تعلم رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره أنه رأى الردم؟ فقال أبو بكرة: أنت هو؟ قال نعم، قال: اجلس حدثنا، قال: انطلقت حتى انطلقت إلى أرض ليس لأهلها إلا الحديد يعلمونه، فدخلت بيتا، فاستلقيت فيه على ظهري، وجعلت رجلي إلى جداره، فلما كان عند غروب الشمس سمعت صوتا لم أسمع مثله فرعبت فجلست، فقال لي رب البيت: لا تذعرن فإن هذا لا يضرك، هذا صوت قوم ينصرفون هذه الساعة من عند هذا السد، قال: فيسرك أن تراه؟ قلت: نعم، قال: فغدوت إليه، فإذا لنة من حديد، كل واحدة مثل الصخرة، وإذا كأنه البرد المحبر، وإذا مسامير مثل الجذوع، فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته، فقال: صفه
لي، فقلت: كأنه البرد المحبرة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، قال أبو بكرة: صدق.
وقال البزار:
لا نعلم أحدا رواه إلا أبو بكرة ولا له إلا هذا الطريق.
قلت: وهو ضعيف جدا، فيه ضعف وجهالة.
أما الضعف فهو من قبل عمرو بن مالك وهو الراسبي ترك التحديث عنه أبو حاتم وأبو زرعة، وقال ابن عدي في ` الكامل ` (ق 285/2) :
منكر الحديث عن الثقات، ويسرق الحديث.
وأما ابن حبان فذكره في ` الثقات `، ولكنه قال:
يغرب ويخطىء.
قلت: فإذا كان من شأنه أنه يخطىء، فإيراده في كتابه ` الضعفاء ` أولى به من ` الثقات ` كما لا يخفى، وأما الجهالة، فهو أن عبد الملك بن نعامة الحنفي لم أجد من ذكره، ومثله شيخه يوسف بن أبي مريم الحنفي، إلا أنه قد أورده ابن أبي حاتم في ` الجرح والتعديل ` (4/1/232) ، ولكنه بيض له! وقد أشار إلى ما سبق الحافظ الهيثمي بقوله في ` المجمع ` (8/134) :
رواه البزار عن شيخه عمرو بن مالك، تركه أبو زرعة وأبو حاتم، ووثقه ابن حبان وقال: يخطىء ويغرب، وفيه من لم أعرفه.
১০৭০। যে ব্যক্তিকে আনন্দিত করবে সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দান যে পতিত প্রাচীরের অগ্নাংশ দেখার সংবাদ নিয়ে এসেছে সে যেন এ ব্যক্তির দিকে তাকায়।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি বাযযার তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (নং ২০৮৯) আমর ইবনু মালেক হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু হুমরান হতে, তিনি আব্দুল মালেক ইবনু না'য়ামাহ হানাফী হতে, তিনি ইউসূফ ইবনু আবী মারিয়াম হানাফী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আবু বাকরার সাথে বসে ছিলাম এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিল।
বাযযার বলেনঃ এটিকে আবু বাকরাহ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানি না আর এ সূত্রটি ছাড়া তার আর কোন সূত্রও নেই।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি খুবই দুর্বল। তার মধ্যে দুর্বলতা ও অজ্ঞতা রয়েছে।
দুর্বলতা এসেছে আমর ইবনু মালেক হতে তিনি হচ্ছেন রাসেবী। তার থেকে আবু হাতিম ও আবু যুর'য়াহ হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছেন। ইবনু আদী “আল-কামেল” গ্রন্থে (কাফ ২/২৮৫) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী, তিনি হাদীস চোর।
ইবনু হিব্বান তাকে `আস-সিকাত` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনঃ তিনি গারীব বর্ণনা করতেন এবং ভুল করতেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ যখন তিনি ভুল করতেন, তখন “আস-সিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ না করে তাকে `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করাই উপযোগী ছিল।
আর সনদের মধ্যের অজ্ঞতা হচ্ছে এই যে, আব্দুল মালেক ইবনু নুয়ামাহ হানাফীকে কে উল্লেখ করেছেন পাচ্ছি না। তার ন্যায় তার শাইখ ইউসুফ ইবনু আবী মারিয়াম হানাফীও।
হায়সামী `আলমাজমা` গ্রন্থে (৮/১৩৪) বলেনঃ হাদীসটি বায্যার তার শাইখ আমর ইবনু মালেক হতে বর্ণনা করেছেন। তাকে আবু যুর'য়াহ ও আবু হাতিম পরিত্যাগ করেছেন আর ইবনু হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ তিনি ভুল করতেন এবং গারীব বর্ণনা করতেন। এছাড়া তার মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাকে আমি চিনি না।
` يعاد الوضوء من الرعاف السائل `.
موضوع.
أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (ق 427/2) عن يغنم بن سالم: حدثنا أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: يغنم يروي عن أنس مناكير، وأحاديثه عامتها غير محفوظة.
وقال ابن حبان:
كان يضع على أنس بن مالك.
وقال ابن يونس:
حدث عن أنس فكذب.
وقال عبد الحق الإشبيلي في ` الأحكام ` (رقم 244) :
يغنم منكر الحديث ضعيفه.
১০৭১। নাক দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে পুনরায় উযু করতে হবে।
হাদীসটি জাল (বানোয়াট)।
এটি ইবনু আদী “আল-কামেল” গ্রন্থে (কাফ ২/৪২৭) ইয়াগনাম ইবনু সালেম হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
অতঃপর ইবনু আদী বলেছেনঃ ইয়াগনাম আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী আর তার অধিকাংশ হাদীস নিরাপদ নয়। ইবনু হিব্বান বলেন । তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে হাদীস জাল করতেন। ইবনু ইউনুস বলেনঃ তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন, মিথ্যা বর্ণনা করেছেন।
আব্দুল হক ইশবীলী `আল-আহকাম` গ্রন্থে (নং ২৪৪) বলেনঃ ইয়াগনাম মুনকারুল হাদীস, হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল।
` امسح برأس اليتيم هكذا إلى مقدم رأسه، ومن له أب هكذا إلى مؤخر رأسه `.
موضوع.
رواه البخاري في ` التاريخ ` (1/1/97) والعقيلي في ` الضعفاء ` (ص 381) وابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (15/197/1) من طريق الخطيب وهذا في ` تاريخه ` (5/291) عن سلمة بن حيان العتكي: حدثنا صالح الناجي قال: كنت عند محمد بن سليمان أمير البصرة فقال: حدثني أبي عن جدي الأكبر - يعني ابن عباس -
مرفوعا.
أورده في ترجمة محمد بن سليمان هذا وقالا، أعني الخطيب وابن عساكر:
لا يحفظ له غيره.
وقال البخاري:
منقطع يعني بين محمد بن سليمان، وهو ابن علي بن عبد الله بن عباس، وبين ابن عباس، وقال العقيلي فيه:
ليس يعرف بالنقل وحديثه هذا غير محفوظ ولا يعرف إلا به.
وقال الذهبي عقب الحديث:
هذا موضوع، وأقره الحافظ في ` اللسان `.
والانقطاع الذي أشار إليه البخاري إنما هو بالنظر إلى هذا الإسناد، وإلا فقد رواه محمد بن مرزوق وإبراهيم بن مسلم بن رشيد قالا: حدثنا صالح الناجي به إلا أنه قال: حدثنا محمد بن سليمان عن أبيه عن جده عن ابن عباس، وهذا موصول.
أخرجه البزار في ` مسنده ` (1913 ـ كشف الأستار) ، وقال:
لا نعلمه يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا من هذا الوجه، ولا نعلم [له] إسنادا غير هذا الإسناد، وإنما كتبناه لأنا لم نحفظه إلا من هذا الوجه وفي لفظ لابن عساكر:
` الصبي الذي له أب يمسح رأسه إلى الخلف، واليتيم يمسح رأسه إلى قدام `.
ولفظ العقيلي:
` يمسح اليتيم هكذا: ووصفه صالح من أوسط رأسه إلى جبهته ومن له أب فهكذا ووصف صالح من جبهته إلى وسط رأسه `.
أورده الهيثمي في ` المجمع ` (8/163) من رواية ` الأوسط `، والظاهر أنه سقط ذكر البزار قبله من الطابع أوالناسخ وقال:
وفيه محمد بن سليمان وقد ذكروا هذا من مناكير حديثه.
تنبيه على وهم نبيه:
لقد تصحف هذا الحديث على الحافظ عبد الحق الإشبيلي، فإنه أورده في ` باب التيمم ` من كتابه ` الحكام ` (رقم 538 ـ منسوختي) من طريق العقيلي بلفظ:
` يمسح المتيمم هكذا.. `!
وهذا من أغرب تصحيف وقفت عليه، لا سيما من مثل هذا الحافظ، ولست أدري كيف خفي هذا عليه مع أن معناه أكبر منبه عليه إذ لا قائل بالتيمم على الرأس؟ لا سيما وتمام الحديث يؤكد ذلك: ` ومن له أب فهكذا.. `! فجل من لا يسهو ولا ينسى، ثم إن الحديث أورده السيوطي في ` الجامع الصغير ` من رواية الخطيب وابن عساكر، وكأنه خفي عليه شهادة الحافظين المتقدمين: الذهبي والعسقلاني بوضعه، والقلب يشهد بذلك، والله المستعان.
وفي مسح رأس اليتيم حديث آخر من رواية أبي هريرة وغيره، وهو مخرج في الصحيحة (854) .
১০৭২। তুমি ইয়াতীমের মাথা মাসাহ করে দাও। এভাবে তার মাথার অগ্রভাগ পর্যন্ত। আর যার পিতা আছে এভাবে তার মাথার শেষভাগ পর্যন্ত।
হাদীসটি জাল (বানোয়াট)।
এটি বুখারী `আত-তারীখ` গ্রন্থে (১/১৯৭), উকায়লী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (পৃ ৩৮১), ইবনু আসাকির `তারীখু দেমাস্ক` গ্রন্থে (১৫/১৯৭/১) আল-খাতীব সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি “আত-তারীখ` গ্রন্থে (৫/২৯১) সালামাহ ইবনু হাইয়ান আতাকী হতে, তিনি সালেহ নাজী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার বড় দাদা ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তারা হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মানের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। আল-খাতীব ও ইবনু আসাকির বলেনঃ তিনি ছাড়া এটি কেউ হেফয করেননি।
ইমাম বুখারী বলেনঃ সনদটি মুনাকাতি' অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনু সুলায়মান ইবনে আলী ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আব্বাস ও ইবনু আব্বাসের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। উকায়লী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিচিত নন। তার এ হাদীস নিরাপদ নয়। একমাত্র তার মাধ্যমেই এ হাদীসটি জানা যায়।
হাফিয যাহাবী হাদীসটির পরেই বলেনঃ এটি বানোয়াট। হাফিয ইবনু হাজার “আল-মীযান” গ্রন্থে তা স্বীকার করেছেন।
ইয়াতীমের মাথা মাসাহ করা সম্পর্কে অন্য একটি হাদীস আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সেটিকে “সহীহাহ” গ্রন্থে (নং ৮৫৪) উল্লেখ করা হয়েছে।
` الصلاة في المسجد الحرام مائة ألف صلاة، والصلاة في مسجدي عشرة آلاف صلاة، والصلاة في مسجد الراباطات ألف صلاة `.
موضوع.
رواه أبو نعيم في ` الحلية ` (8/46) عن عبد الرحيم بن حبيب: حدثنا داود بن عجلان: حدثنا إبراهيم بن أدهم عن مقاتل بن حيان عن أنس مرفوعا، وقال أبو نعيم:
لم نكتبه إلا من حديث عبد الرحيم عن داود.
قلت: وكلاهما متهم.
أما داود فقال ابن حبان:
يروي عن أبي عقال عن أنس المناكير الكثيرة والأشياء الموضوعة `، قال الحاكم والنقاش:
روى عن أبي عقال أحاديث موضوعة.
وأما عبد الرحيم بن حبيب، فقال ابن حبان:
لعله وضع أكثر من مائة حديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقال أبو نعيم:
روى عن ابن عيينة وبقية الموضوعات.
قلت: ومع هذا فقد تجرأ السيوطي أوغفل فسود بهذا الحديث ` الجامع الصغير ` من رواية أبي نعيم وحده ولم يتعقبه المناوي بشيء غير أنه قال:
إسناده ضعيف.
فكأنه لم يقف على سنده فاكتفى بتضعيفه بناء على قاعدة: إن ما تفرد به أبو نعيم فهو ضعيف!
ومما يستنكر في هذا الحديث قوله: إن الصلاة في مسجده صلى الله عليه وسلم بعشرة آلاف، والثابت عنه صلى الله عليه وسلم في الأحاديث الكثيرة الصحيحة أنها بألف صلاة وقد سقت هذه الأحاديث وخرجتها في ` الثمر المستطاب في فقه السنة والكتاب `، ثم في ` الإرواء ` (971 و1129) .
১০৭৩। মাসজিদুল হারামে একবার সালাত আদায় করা অন্যত্র এক লক্ষ সালাত আদায় করার সমান। আমার মসজিদে একবার সালাত আদায় করা অন্যত্র দশ হাজার সালাত আদায় করার সমান। আর মাসজিদুর রিবাতে একবার সালাত আদায় করা অন্যত্র একহাজার সালাত আদায় করার সমান।
হাদীসটি জাল।
এটি আবু নুয়াইম `আল-হিলইয়াহ` গ্রন্থে (৮/৪৬) আব্দুর রহীম ইবনু হাবীব হতে, তিনি দাউদ ইবনু আজলান হতে, তিনি ইবরাহীম ইবনু আদহাম হতে, তিনি মুকাতিল ইবনু হাইয়্যান হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আবু নুয়াইম বলেনঃ হাদীসটি আমরা একমাত্র আব্দুর রহীমের সূত্রে দাউদ হতে লিখেছি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তারা উভয়েই মিথ্যার দোষে দোষী। দাউদ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি আবু ইকাল হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বহু মুনকার হাদীস ও বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন। হাকিম ও নাকাশ বলেনঃ তিনি আবু ইকাল হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহীম সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ সম্ভবত তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর শতাধিক হাদীস জাল করেছেন। আবু নুয়াইম বলেনঃ তিনি ইবনু ওয়াইনাহ ও বাকিয়্যাহ হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তা সত্ত্বেও সুয়ূতী এ হাদীসটি “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মানবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল। সম্ভবত তিনি হাদীসটির সনদ সম্পর্কে অবহিত হননি যার জন্য শুধুমাত্র দুর্বল বলেই শেষ করেছেন।
সহীহ হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে সালাত পড়লে অন্যত্র আদায়কৃত এক হাজার সালাতের সমান সওয়াব হবে। এ সহীহ হাদীসও আলোচ্য হাদীসটি মুনকার হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
` خذ هذا الدم فادفنه من الدواب والطير، أوقال: الناس والدواب `.
ضعيف.
أخرجه المحاملي في آخر مجلس من ` الأمالي ` (ق 229/1) وابن حيويه الخزاز في ` حديثه ` (1/2) وابن عدي في ` الكامل ` (ق 41/1) ، والبيهقي في ` السنن الكبرى ` (7/67) والسياق له من طريق بريه بن عمر بن سفينة عن أبيه (سقط من ` السنن `: عن أبيه) عن جده قال:
احتجم النبي صلى الله عليه وسلم، ثم قال لي: فذكره.
قلت: وهذا سند ضعيف، وله علتان:
لا يعرف، وقال أبو زرعة: صدوق، وقال البخاري: إسناده مجهول.
وأورده العقيلي في ` الضعفاء ` (ص 282) وقال:
حديثه غير محفوظ، ولا يعرف إلا به.
والآخرى: ابنه بريه مصغرا، واسمه إبراهيم، أورده العقيلي أيضا (ص 61)
وقال:
لا يتابع على حديثه، وقال ابن عدي:
له أحاديث يسيرة غير ما ذكرت، ولم أجد للمتكلمين في الرجال لأحد منهم فيه كلاما، وأحاديثه لا يتابعه عليها الثقات، وأرجوأنه لا بأس به.
وقال الذهبي في ` الميزان `:
ضعفه الدارقطني، وقال ابن حبان: لا يحل الاحتجاج به.
وقال أيضا:
وتفرد بريه عن أبيه بمناكير.
والحديث ضعفه عبد الحق الإشبيلي في ` الأحكام ` (رقم
১০৭৪। এ রক্তধর তাকে চতুষ্পদ জন্তু ও পাখী হতে গোপন করে ফেল অথবা বলেনঃ মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু হতে গোপন করে ফেল।
হাদীসটি দুর্বল।
এটি মাহামেলী “আল-আমলী” গ্রন্থের (কাফ ১/২২৯) শেষ মজলিসে, ইবনু হায়বিয়্যাহ আল-খাযযায তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/২), ইবনু আদী “আল-কামেল” গ্রন্থে (কাফ ১/৪১) এবং বাইহাকী “আস-সুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (৭/৬৭) বুরায়েহ ইবনু উমার ইবনে সাফীনাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙ্গা লাগালেন, অতঃপর আমাকে বললেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। তার দুটি সমস্যাঃ
১। উমার ইবনু সাফীনাহ। তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী `আল-মিযান` গ্রন্থে বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। আবু যুর'য়াহ বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। বুখারী বলেনঃ তার সনদটি মাজহুল।
উকায়লী তাকে `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (পৃঃ ২৮২) উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার হাদীস নিরাপদ নয়। আর তার মাধ্যম ছাড়া হাদীসটি চেনা যায় না।
২। তার ছেলে বুরায়েহ, তার নাম হচ্ছে ইবরাহীম। তাকে উকায়লী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (পৃ ৬১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার হাদীসের মুতাবায়াত করা যায় না। ইবনু আদী বলেনঃ তার উল্লেখ না করা গুটিকয়েক হাদীস রয়েছে। বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে মন্তব্যকারীদের তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য পাচ্ছি না। তার হাদীসগুলোর উপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ মুতাবা'য়াত করেননি। আশা করি তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই।
হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
তিনি আরো বলেনঃ বুরায়েহ তার পিতা হতে মুনকারগুলো এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটিকে আব্দুল হক ইশীলী “আল-আহকাম” গ্রন্থে (নং ৫৭৬) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার “আত-তালখীস” (পৃ ১০) গ্রন্থে চুপ থেকেছেন।
` ثلاثة لا يقبل الله لهم صلاة، ولا يرفع لهم إلى السماء حسنة: العبد الآنق حتى يرجع إلى مواليه فيضع يده في أيديهم، والمرأة الساخط عليها زوجها حتى
يرضى والسكران حتى يصحو`.
ضعيف.
رواه ابن عدي في ` الكامل ` (ق 149/1) وابن خزيمة (940) وابن حبان في ` صحيحه ` (1297) وابن عساكر (12/5/1) عن هشام بن عمار: حدثنا الوليد بن مسلم: حدثنا زهير بن محمد عن محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا به.
ذكره ابن عدي في ترجمة زهير هذا، وقال عقبه:
رواه ابن مصفا أيضا عن الوليد.
قلت وخالفهما في إسناده موسى بن أيوب وهو أبو عمران النصيبي الأنطاكي فقال:
حدثنا الوليد بن مسلم عن زهير بن محمد عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن جابر به أخرجه الطبراني في ` المعجم الأوسط ` (رقم - 9385) وقال:
لا يروى عن جابر إلا بهذا الإسناد.
قلت: وأنا أظن أن هذا الاضطراب والاختلاف في إسناده إنما هو من زهير بن محمد نفسه وهو الخراساني الشامي، فإن الراوي عنه الوليد بن مسلم ثقة، وكذلك الرواة عنه كلهم ثقات، وهم شاميون جميعا، وقد قال الحافظ في ترجمته من ` التقريب `:
سكن الشام ثم الحجاز، رواية أهل الشام عنه غير مستقيمة، فضعف بسببها، قال البخاري عن أحمد: كأن زهيرا الذي يروي عنه الشاميون آخر، وقال أبو حاتم:
حدث بالشام من حفظه فكثر غلطه.
وقال الذهبي في ` الضعفاء `:
ثقة فيه لين.
والحديث قال المنذري في ` الترغيب ` (3/78 - 79) :
رواه الطبراني في ` الأوسط ` من رواية عبد الله بن محمد بن عقيل، وابن خزيمة وابن حبان في ` صحيحيهما ` من رواية زهير بن محمد.
قلت: وهذا التخريج يوهم أن الطبراني ليس في روايته زهير بن محمد وهو خلاف الواقع، فإن زهيرا في رواية الجميع، إلا أن شيخه عند الطبراني هو ابن عقيل، وعند ابن حبان وكذا ابن خزيمة محمد بن المنكدر وذلك من اضطراب زهير كما بينا وذكر المناوي في ` شرحيه ` عن الذهبي أنه قال في ` المهذب `:
هذا من مناكير زهير.
وقال الهيثمي في ` المجمع ` (4/31) :
` رواه الطبراني في ` الأوسط ` وفيه محمد بن عقيل، وحديثه حسن وفيه ضعف وبقية رجاله ثقات.
كذا قال، وعلة الحديث لين زهير واضطرابه في سنده، ولولا ذلك لكان الحديث ثابتا، ولبيان هذه الحقيقة التي قد لا تجدها في غير هذا المكان كتبنا ما سبق، والله هو الموفق، والحديث مما أورده الغماري في ` كنزه ` خلافا لشرطه!
১০৭৫। তিন ব্যক্তির সালাত আল্লাহ তা'আলা কবুল করবেন না এবং তাদের কোন নেককর্ম আসমানে উঠাবেন না; পলায়নকারী দাস যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার প্রভুর নিকট ফিরে না আসবে। অতঃপর তার হাত তাদের হাতের উপর না রাখবে। যে মহিলার উপর তার স্বামী রাগাম্বিত হবে তার সম্ভষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং মাতাল তার সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত।
হাদীসটি দুর্বল।
এটি ইবনু আদী “আল-কামেল” গ্রন্থে (কাফ ১/১৪৯), ইবনু খুযাইমাহ (৯৪০), ইবনু হিব্বান তার “সহীহ” গ্রন্থে (১২৯৭) এবং ইবনু আসাকির (১২/৫/১) হিশাম ইবনু আম্মার হতে, তিনি ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি যুহায়ের ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আদী যুহায়েরের জীবনীতে উল্লেখ করে পরক্ষণেই বলেছেনঃ ইবনু মুসাফফাও ওয়ালীদ হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তাদের দু'জনের বিরোধিতা করেছেন মূসা ইবনু আইউব তিনি হচ্ছেন আবু ইমরান নাসীবী আল-আনতাকী, তিনি ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম হতে, তিনি যুহায়র ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।
ত্ববারানী হাদীসটি “আল-মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (নং ৯৩৮৫) উল্লেখ করে বলেছেনঃ জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীসটি একমাত্র এ সনদেই বর্ণনা করা হয়ে থাকে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার ধারণা তার সনদে এ ইযতিরাব ও মতভেদ যুহায়ের হতেই সংঘটিত হয়েছে। তিনি খুরাসানী শামী। তার থেকে বর্ণনাকারী ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম নির্ভরযোগ্য। অনুরূপভাবে তার থেকে সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তারা সকলেই শামী। হাফিয ইবনু হাজার যুহায়েরের জীবনীতে “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি শামে বাস করতেন অতঃপর হিজাজে। তার থেকে শামীদের বর্ণনা সঠিক নয়। তিনি সে কারণে দুর্বল। ইমাম বুখারী ইমাম আহমদের উদ্ধৃতিতে বলেনঃ সম্ভবত যে যুহায়ের থেকে শামীরা বর্ণনা করেছেন তিনি অন্যজন। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি শাম দেশে তার হেফয হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফলে তার বহু ভুল সংঘটিত হয়েছে। যাহাবী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য তবে তার মধ্যে দুর্বলতা আছে। হাদীসটি মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (৩/৭৮-৭৯) উল্লেখ করে যে কথা বলেছেন তাতে সন্দেহ জাগে যে, ত্ববারানীর বর্ণনায় যুহায়ের ইবনু মুহাম্মাদ নেই। অথচ বাস্তবতা তার বিপরীতে। কারণ সব সূত্রেই যুহায়ের রয়েছেন।
মানবী যাহাবীর উদ্বৃতিতে বলেনঃ তিনি `আল-মুহাযযাব` গ্রন্থে বলেনঃ এ হাদীসটি যুহায়েরের মুনকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে যুহায়েরের দুর্বল হওয়া ও তার সনদে ইযতিরাব ঘটা। যদি তা না হতো তাহলে অবশ্যই হাদীসটি সাব্যস্ত হতো। গুমারী তার নিজ শর্ত ভঙ্গ করে `আল-কানযুছ ছামীন` (১৫৫৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
` على كل ميسم من الإنسان صلاة، فقال رجل من القوم: هذا شديد ومن يطيق هذا؟ قال: أمر بالمعروف ونهي عن المنكر صلاة، وإن حملا عن الضعيف صلاة، وإن كل خطوة يخطوها أحدكم إلى صلاة صلاة `.
ضعيف.
أخرجه أبو يعلى في ` مسنده ` (ق 129/2) وابن خزيمة في ` صحيحه ` (1497) وأبو الحسن محمد بن محمد البزار البغدادي في ` جزء من حديثه ` (ق 174/1) وابن مردويه في ` ثلاثة مجالس من الأمالي ` (ق 191/2) من طرق عن سماك عن عكرمة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، لأن سماكا، وإن كان من رجال مسلم ففيه ضعف من قبل حفظه، وخصوصا في روايته عن عكرمة، قال الحافظ في ` التقريب `:
صدوق، وروايته عن عكرمة خاصة مضطربة، وقد تغير بآخره، فكان ربما يلقن والحديث أورده الهيثمي في ` المجمع ` بهذا اللفظ، ثم قال (3/104) :
رواه أبو يعلى والبزار والطبراني في ` الكبير ` و` الصغير ` بنحوه، وزاد فيها: ` ويجزي من ذلك كله ركعتا الضحى `، ورجال أبي يعلى رجال الصحيح.
قلنا: ولنا على هذا الكلام ملاحظات:
الأولى: أن قوله: ورجال أبي يعلى رجال الصحيح، يوهم أنهم ثقات جميعا، وليس كذلك، لحال رواية سماك عن عكرمة، كما بينا.
الثانية: أن قوله في رواية الطبراني: ` بنحوه `، يشعر بأن الحديث عنده بتمامه في المعنى، وإنما هو عنده مختصر جدا ولفظه:
` على كل سلامي من بني آدم في كل يوم صدقة، ويجزي من ذلك كله ركعتا الضحى `.
فكان الأولى أن يقول: مختصرا مكان بنحوه.
والحديث قال المنذري في ` الترغيب ` (1/126) :
رواه ابن خزيمة في ` صحيحه `.
قلت: وأشار المنذري إلى أنه حديث صحيح أوحسن أوقريب من أحدهما بتصدير إياه بلفظة ` عن ` واغتر به مؤلف ` الكنز ` فأورده فيه (2167) !
فالحديث ضعيف الإسناد، ضعيف المتن بهذا اللفظ ` صلاة `، وهو صحيح بلفظ ` صدقة ` من حديث أبي ذر وغيره عند مسلم وغيره، فاقتضى التنبيه على ذلك، وهو مخرج في ` الصحيحة ` (برقم 577) وقبله أحاديث أخرى بمعناه، فراجعها إن شئت، ثم إن الهيثمي أورد الحديث بلفظ: ` يصبح على كل.. `.
وليس في نسختنا من ` مسند أبي يعلى ` لفظ يصبح، ولا في شيء من المصادر الأخرى التي عزونا الحديث إليها، نعم هو في حديث أبي ذر الذي أشرنا إليه. ووقع في ` المجمع `: مسلم بدل ميسم وهو خطأ مطبعي.
১০৭৬। মানুষের প্রতিটি জোড়ের জন্য সালাত রয়েছে। সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বললঃ এটি কঠিন, কোন ব্যক্তি এটি করতে সক্ষম হবে? তিনি বললেনঃ সৎ কাজের নির্দেশ, অসৎ কাজ হতে নিষেধ একটি সালাত। দুর্বল ব্যক্তির বোঝা উঠিয়ে দেয়া একটি সালাত। তোমাদের কোন ব্যক্তি সালাতের জন্য যে পদক্ষেপগুলো ফেলবে সেসব পদক্ষেপ সালাত।
হাদীসটি দুর্বল।
এটি আবু ইয়ালা তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (কাফ ২/১২৯), ইবনু খুযাইমাহ তার `সহীহ` গ্রন্থে (১৪৯৭), আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-বাযযায বাগদাদী তার “হাদীস খণ্ডে` (কাফ ১/১৭৪) এবং ইবনু মারদুবিয়্যাহ `সালাসাতু মাজালেস মিনাল আমলী` গ্রন্থে (কাফ ২/১৯১) বিভিন্ন সূত্রে সাম্মাক হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ সাম্মাক যদিও ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী, হেফযের দিক দিয়ে তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে যখন তিনি ইকরিমাহ হতে বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। ইকরিমাহ হতে তার বর্ণনা ইযতিরাব ঘটিত বর্ণনা। শেষ বয়সে তার মধ্যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। কখনও কখনও তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হত।
আলোচ্য হাদীসটি সনদের দিক দিয়ে দুর্বল এবং সালাত শব্দ সম্বলিত ভাষাটিও দুর্বল। তবে হাদীসটি সাদাকাহ শব্দ দিয়ে আবু যার ও অন্যদের থেকে মুসলিম ও অন্যদের নিকট বর্ণিত হয়েছে সেটি সহীহ। এটিকে আমি `সহীহাহ` গ্রন্থে (নং ৫৭৭) উল্লেখ করেছি।
` من قال: جزى الله عنا محمدا صلى الله عليه وسلم بما هو أهله، أتعب سبعين كاتبا ألف صباح `.
ضعيف جدا.
أخرجه الطبراني في ` الكبير ` (3/124/2) وعنه أبو نعيم في ` الحلية ` (3/206) وابن شاهين في ` الترغيب والترهيب ` (ق 260/1) وأبو نعيم أيضا في ` أخبار أصبهان ` (2/230) من طرق عكرمة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
وقال أبو نعيم:
حديث غريب من حديث عكرمة، وجعفر، ومعاوية، تفرد به هانىء.
قلت: وهو ضعيف جدا، قال ابن حبان:
كان تدخل عليه المناكير، وكثرت، فلا يجوز الاحتجاج به بحال، فمن مناكيره … `.
قلت: ثم ساق له أحاديث هذا أحدها، وأورده ابن أبي حاتم (4/2/102) ولم يذكر فيه جرحا، ولكنه قال:
سألت أبي عنه فقال: أدركته ولم أسمع منه، وفي نسخة: ` ولم أكتب عنه ` وهي الموافقة لما نقله الحافظ في ` اللسان ` عن أبي حاتم.
قلت: وكأن أبا حاتم رحمه الله يشير إلى أنه أعرض عنه وتركه، والله أعلم.
১০৭৭। যে ব্যক্তি বলবেঃ আল্লাহ তা'আলা আমাদের পক্ষ হতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার জন্য যেরূপ উপযোগী সেরূপ বদলা দান করুন। (তার জন্য সাওয়াব লিখতে) এক হাজার সকাল সত্তরজন লেখককে কষ্ট দিবে।
হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি ত্ববারানী “আল-কাবীর” গ্রন্থে (৩/১২৪/২), তার থেকে আবু নুয়াইম `আল-হিলইয়াহ` গ্রন্থে (৩/২০৬), ইবনু শাহীন `আত-তারগীব অততারহীব` গ্রন্থে (কাফ ১/২৬০) এবং আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/২৩০) বিভিন্ন সূত্রে হানীউ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-ইস্কান্দারানী হতে, তিনি মুয়াবিয়াহ ইবনু সালেহ্ হতে, তিনি জাফর ইবনু মুহাম্মদ হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আবু নুয়াইম বলেনঃ ইকরিমাহ, জাফার ও মুয়াবিয়ার হাদীস হতে হাদীসটি গারীব। হানীউ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (হানীউ) খুবই দুর্বল। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার উপর অধিক পরিমাণে মুনকার প্রবেশ করত। কোন অবস্থাতেই তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা জায়েয নয়।
অতঃপর তিনি তার কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন এটি সেগুলোর একটি। ইবনু আবী হাতিম (৪/২/১০২) তাকে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে মন্দ কোন মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেছেনঃ আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ আমি তাকে পেয়েছি অথচ তার থেকে শুনতাম না। অন্য কপিতে এসেছেঃ তার থেকে লিখতাম না। হাফিয ইবনু হাজার “আল-মীযান” গ্রন্থে আবু হাতিমের উদ্ধৃতিতে যা উল্লেখ করেছেন তা এর সাথেই মিলে যায়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু হাতিম যেন ইঙ্গিত করছেন যে, তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং তাকে পরিত্যাগ করেছেন।
` يا عجبا كل العجب للشاك في قدرة الله وهو يرى خلقه، بل عجبا كل العجب للمكذب بالنشأة الأخرى وهو يرى الأولى، ويا عجبا كل العجب للمكذب بنشور الموت وهو يموت كل يوم وفي كل ليلة
ويحيى، ويا عجبا كل العجب للمصدق بدار الخلود وهو يسعى لدار الغرور، ويا عجبا كل العجب للمختال الفخور، وإنما خلق من نطفة، ثم يعود جيفة وهو بين ذلك لا يدري ما يفعل به `.
موضوع.
رواه القضاعي (49/1 - 2) عن موسى الصغير عن عمرو بن مرة عن أبي جعفر عبد الله بن مسور الهاشمي مرفوعا.
قلت: وهذا حديث موضوع، آفته عبد الله بن مسور هذا، وهو من أتباع التابعين كذاب وضاع، رماه بذلك جماعة من الأئمة كأحمد والبخاري والنسائي وغيرهم، وكان يفتعل ذلك حسبة! قال ابن المديني:
كان يضع الحديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يضع إلا ما فيه أدب أو زهد، فيقال له في ذلك؟ فيقول: إن فيه أجرا!
قلت: وهذا الحديث من اختلاقه، فإن علامات الوضع عليه لائحة، قبحه الله وقبح أمثاله من الكذابين الذين شوهو اجمال حديث النبي صلى الله عليه وسلم، بما أدخلوا فيه من الغرائب والأباطيل.
وقد جاء هذا الحديث في كتاب ` المنازل والديار ` (ص 102) من المخطوطة التي قام بطبعها المكتب الإسلامي في دمشق.
১০৭৮। সর্বাপেক্ষা আজব ব্যাপার আল্লাহর সক্ষমতায় সন্দেহ পোষণকারীর জন্য অথচ সে তাঁর সৃষ্টিকে দেখছে। বরং সর্বাপেক্ষা আজব ব্যাপার সেই ব্যক্তির জন্য যিনি পুনরুত্থানকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী অথচ প্রথম উত্থানকে দেখছে। সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যের ব্যাপার মৃত্যুকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীর জন্য অথচ সে প্রতি দিন ও রাতে মারা যাচ্ছে এবং জন্মিছে। সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যের ব্যাপার সেই স্থায়ী বাসস্থানে বিশ্বাসীর জন্য যিনি ধোকাময় বাসস্থানের জন্য শ্রম দিয়ে চলেছেন। সর্বাপেক্ষা আশ্চর্যের ব্যাপার সেই অহংকারীর জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে বীর্য হতে। অতঃপর সে দুর্গন্ধযুক্ত দেহে পরিণত হবে। এমতাবস্থায় তার সাথে কী আচরণ করা হবে সে তা জানে না।
হাদীসটি বানোয়াট।
এটি কাযাঈ (৪৯/১-২) মূসা আসসাগীর হতে, তিনি আমর ইবনু মুররাহ হতে, তিনি আবু জাফর আব্দুল্লাহ ইবনু মিসওয়ার হাশেমী হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে এই আব্দুল্লাহ ইবনু মিসওয়ার। তিনি মিথ্যুক জালকারী তাবে তাবেঈ। তাকে একদল এ দোষে দোষী করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ, বুখারী, নাসাঈ প্রমুখ। সাওয়াবের আশায় তিনি তা তৈরি করতেন!
ইবনুল মাদীনী বলেনঃ তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর হাদীস জাল করতেন। তিনি একমাত্র শিষ্টাচার ও উৎসর্গীকৃত কর্মের বিষয়ে হাদীস জাল করতেন। সে সম্পর্কে তাকে কিছু বলা হলে তিনি বলতেনঃ তাতে সাওয়াব রয়েছে!
আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি তারই তৈরিকৃত। বানোয়াটের আলামতগুলো তাতে সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাকে ও তার ন্যায় মিথ্যুকদের খারাপ পরিণতি করুন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সৌন্দর্যকে অসুন্দর করে দিয়েছে তার মধ্যে গারীব ও বাতিলগুলোর প্রবেশ ঘটিয়ে।
` آمرك بالوالدين خيرا، قال: والذي بعثك بالحق نبيا لأجاهدن، ولأتركهما! قال: أنت أعلم `.
منكر بهذا السياق.
أخرجه أحمد (2/172) من طريق ابن لهيعة: حدثني حيي بن عبد الله أن أبا عبد الله أن أبا عبد الرحمن حدثه أن عبد الله بن عمرو قال: ` إن رجلا جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسأله عن أفضل الأعمال؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الصلاة، ثم قال: مه؟ قال: الصلاة، ثم قال: مه؟ قال: الصلاة، ثلاث مرات، قال: فلما غلب عليه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الجهاد في سبيل الله، قال الرجل: فإن لي
والدين، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، ابن لهيعة ضعيف سيىء الحفظ.
والمحفوظ في هذا الحديث من طرق أخرى عن ابن عمرو بلفظ:
` فقال: أحي والدك، قال: نعم، قال: ففيهما فجاهد `.
أخرجه الشيخان وغيرهما، وقد ذكرت طرقه وشواهده في ` إرواء الغليل ` (رقم 1199) ، فقوله في هذا الحديث:
` أنت أعلم ` مخالف لقوله: ` ففيهما فجاهد ` فهو منكر بهذا اللفظ، والله أعلم ثم رأيت الحديث قد أخرجه ابن حبان (258) من طريق ابن وهب: أخبرني حيي بن عبد الله فإنه مختلف فيه، قال ابن معين:
ليس به بأس، وقال ابن عدي:
أرجوأنه لا بأس به إذا روى عنه ثقة، وقال أحمد:
أحاديثه مناكير، وقال البخاري:
فيه نظر، وقال النسائي: ليس بالقوي.
قلت: فمثله لا يحتج به عند المخالفة، والله أعلم.
১০৭৯। আমি তোমাকে পিতা-মাতার ব্যাপারে উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দিচ্ছি। সে বললঃ সেই সত্ত্বার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অবশ্যই আমি জেহাদ করব আর তাদের দু’জনকে পরিত্যাগ করব। তিনি বললেনঃ তুমিই বেশী জান।
এ ভাষায় হাদীসটি মুনকার।
এটি ইমাম আহমাদ (২/১৭২) ইবনু লাহীয়াহর সূত্রে হুইয়ায় ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ আবদুর রহমান হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আমর হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহু ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে সবোত্তম কর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইবনু লাহীয়াহ দুর্বল, তার হেফযে ক্রটি ছিল। ইবনু আমর হতে অন্য সূত্রগুলোতে নিরাপদ হিসেবে হাদীসটি নিম্নের বাক্যে বর্ণিত হয়েছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার পিতা-মাতা জীবিত আছে? সে বললঃ জি হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তাদের সাথে অবস্থান করে তাদের ব্যাপারে জেহাদ কর।
এটি ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। আমি এর সূত্র ও শাহেদগুলো “ইরউয়াউল গালীল” গ্রন্থে (নং ১১৯৯) উল্লেখ করেছি।
আলোচ্য হাদীসটির ভাষায় 'তুমিই বেশী জান' কথাটি সহীহ হাদীসের `তুমি তাদের সাথে অবস্থান করে তাদের ব্যাপারে জেহাদ কর` এ বাক্য বিরোধী। অতএব হাদীসটি `তুমিই বেশী জান` বাক্যে মুনকার।
এছাড়া আরেক বর্ণনাকারী হুইয়ায় ইবনু আবদিল্লাহ বিতর্কিত বর্ণনাকারী। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেন তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেনঃ আমি আশা করি যে, যখন তার থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করবেন তখন তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই।
ইমাম আহমাদ বলেনঃ তার হাদীসগুলো মুনকার পর্যায়ভুক্ত। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বিরোধিতার সময় তার ন্যায় বর্ণনাকারীর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না।
` ليست بشجرة نبات، إنما هم بنوفلان، إذا ملكوا جاروا، وإذا ائتمنوا خانوا، ثم ضرب بيده على ظهر العباس، قال: فيخرج الله من ظهرك يا عم! رجلا يكون هلاكم على يديه `.
موضوع.
أخرجه الخطيب في ` تاريخه ` (3/343) عن محمد بن زكريا الغلابي: حدثنا عبد الله بن الضحاك الهدادي: حدثني هشام بن محمد الكلبي أنه كان عند المعتصم في أول أيام المأمون حين قدم المأمون بغداد، فذكر قوما بسوء السيرة
فقلت له:
أيها الأمير! إن الله تعالى أمهلهم فطغوا، وحلم عنهم فبغوا، فقال لي:
حدثني أبي الرشيد عن جدي المهدي عن أبيه المنصور عن أبيه محمد بن علي عن علي بن عبد الله بن عباس عن أبيه:
` أن النبي صلى الله عليه وسلم نظر إلى قوم من بني فلان يتبخترون في مشيهم، فعرف الغضب في وجهه، ثم قرأ: ` والشجرة الملعونة في القرآن `، فقيل له:
أي الشجر هي يا رسول الله حتى نجتثها؟ فقال: فذكره.
قلت: وهذا إسناد موضوع فيه آفات:
أولا: المنصور وغيره من الملوك العباسيين لا يعرف حالهم في الحديث.
ثانيا: هشام بن محمد الكلبي، قال الذهبي في ` الضعفاء `:
تركوه كأبيه، وكان رافضيا.
ثالثا: عبد الله بن الضحاك الهدادي، لم أجد له ترجمة، ولم يورده السمعاني في هذه النسبة (الهدادي) .
رابعا: محمد بن زكريا الغلابي أورده الذهبي في ` الضعفاء ` وقال:
قال الدارقطني: كان يضع الحديث.
وساق له الذهبي في ` الميزان ` حديثا في فضل الحسين رضي الله عنه، ثم قال:
فهذا كذب من الغلابي.
قلت: وهذا الحديث كذلك، فهو الذي اختلقه، أوالكلبي الرافضي، فإنه ظاهر البطلان، لما تضمنه من تحريف الكلم عن مواضعه، وتأويل قوله تعالى:
` والشجرة الملعونة في القرآن ` بأن المراد بها بنوأمية، وإنما هي شجرة الزقوم كما في ` صحيح البخاري ` عن ابن عباس رضي الله عنه:
` وما جعلنا الرؤيا التي أريناك إلا فتنة للناس ` قال: هي رؤيا عين أريها رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به، ` والشجرة الملعونة ` شجرة الزقوم.
ومثل هذا الحديث في البطلان؛ ما روى ابن جرير الطبري قال:
حدثت عن محمد بن الحسن بن زبالة: حدثنا عبد المهيمن بن عباس بن سهل بن سعد: حدثني أبي عن جدي قال:
` رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم بني فلان ينزون على منبره نزوالقرود، فساءه ذلك فما استجمع ضاحكا حتى مات، قال: وأنزل الله في ذلك ` وما جعلنا الرؤيا التي أريناك إلا فتنة ` الآية `.
وهذا السند ضعيف جدا كما قال الحافظ ابن كثير:
فإن محمد بن الحسن بن زبالة متروك، وشيخه أيضا ضعيف بالكلية، ولهذا اختار ابن جرير أن المراد بذلك ليلة الإسراء، وأن الشجرة الملعونة هي شجرة الزقوم، قال: لإجماع الحجة من أهل التأويل على ذلك، أي في الرؤيا والشجرة.
هذا حال هذين الحديثين في الضعف بل البطلان، ومع ذلك، فإننا لا نزال نرى بعض الشيعة في العصر الحاضر يروون مثل هذه الأحاديث، ويحتجون بها على تكفير معاوية رضي الله عنه مثل المعلق على كتاب ` أصول الكافي ` للكليني المتعبد لغير الله، المسمى بعبد الحسين المظفر، فإنه كتب؛ بل سود صفحتين كاملتين في لعن معاوية وتكفيره، وأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بموته على غير السنة، وأنه أمر بقتله، ساق (ص 23 - 24) في تأييد ذلك ما شاء له هواه من الآثار الموضوعة والأحاديث الباطلة، منها هذان الحديثان الباطلان، ولذلك بادرت إلى بيان حالهما نصحا لناس، وغالب الظن أن عبد الحسين هذا لا يعلم حال إسنادهما، ولئن علم فما يمنعه ذلك من الاحتجاج بهما مع بطلانهما لأن الغاية عند أمثاله تبرر الوسيلة، والغاية لعن معاوية وتكفيره ولوبالاعتماد على الأحاديث الموضوعة، والشيعة قد عرفوا بذلك منذ زمن بعيد كما بينه شيخ الإسلام ابن تيمية في كتبه.
وإنما رجحت أنه لا يعلم ذلك لأنني رأيت تعليقاته تدل على ذلك، فهاهو - مثلا - يقول في أول تعليق له على الكتاب وقد قال راويه عن الكليني: أخبرنا أبو جعفر محمد بن يعقوب الكليني:
الذي يقول: أخبرنا هو أحد رواة ` الكافي `.. أوالقائل هو المصنف رحمه الله
على عادة كثير من المؤلفين القدماء!
فأين هذه العادة المزعومة، وهل يعقل في المؤلف الكليني مثلا، أن يقول عن نفسه: أخبرنا الكليني؟ ! ذلك مبلغه من العلم، وحق لمن ينصب العداء لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وناشري الإسلام في الأرض، أن يكون في تلك المنزلة من العلم!
১০৮০। সেটি উদ্ভিদ জাতীয় গাছ নয়। তারা হচ্ছে অমুকের সন্তান। যখন মালিক হয়ে যাবে তখন তারা যুলুম করবে, যখন তাদের নিকট আমানত রাখা হবে তখন তারা খিয়ানাত করবে। অতঃপর তিনি আব্বাসের পিঠের উপর তার হাত দিয়ে প্রহার করে বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমার পিঠ হতে হে চাচা এমন এক ব্যক্তিকে বের করবেন যার হাতে তারা ধ্বংস হবে।
হাদীসটি জাল (বানোয়াট)।
এটি আল-খাতীব তার `তারীখ` গ্রন্থে (৩/৩৪৩) মুহাম্মাদ ইবনু যাকারিয়া আল-গাল্লাবী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুয যাহহাক হাদাদী হতে, তিনি হিশাম ইবনু মুহাম্মাদ কালবী হতে ... বর্ণনা করেছেন। আলমু'তাসিম বলেনঃ আমাকে আমার পিতা রশীদ হতে, তিনি আমার দাদা মাহদী হতে, তিনি তার পিতা মানূর হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আলী হতে, তিনি আলী ইবনু আদিল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এক ব্যক্তির সন্তানদের মধ্য হতে এক সম্প্রদায়ের দিকে দৃষ্টি দিলেন যারা চলা ফিরায় অহংকার করে চলত। এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় রাগ বুঝা গেল। অতঃপর তিনি পড়লেনঃوَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ অর্থাৎ, `এবং সে গাছকেও যার প্রতি কুরআনে অভিশাপ দেয়া দেয়া হয়েছে` (সূরা আলইসরাঃ ৬০)। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ এটি কোন গাছ হে আল্লাহর রসূল? যাতে আমরা তা থেকে বেঁচে থাকতে পারি। তিনি বললেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। তাতে বহু সমস্যা রয়েছেঃ
১। আলমানসূর প্রমুখ যারা আব্বাসীয় বাদশা ছিলেন, হাদিসের বিষয়ে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না।
২। হিশাম ইবনু মুহাম্মাদ আলকালবী সম্পর্কে হাফিয যাহাবী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে বলেনঃ তার পিতার ন্যায় তাকেও মুহাদ্দিসগণ পরিত্যাগ করেছেন। তিনি রাফেয়ী ছিলেন।
৩। আব্দুল্লাহ ইবনুয যহহাক হাদাদীর জীবনী পাচ্ছি না।
৪। মুহাম্মাদ ইবনু যাকারিয়া আলগাল্লাবীকে হাফিয যাহাবী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।
হাফিয যাহাবী হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফযীলত সম্পর্কে “আল-মীযান” গ্রন্থে একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ গাল্লাবী হতে এটি একটি মিথ্যা।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটিও অনুরূপ। তিনি অথবা কালবী আররাফেযী এটিকে তৈরি করেছেন।
আয়াতে অভিশপ্ত গাছ দ্বারা বুঝানো হয়েছে ‘যাক্কুম' নামক গাছকে। যেমনটি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে সহীহ বুখারীর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।