হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1401)


` يقبل الجبار تعال يوم القيامة، فيثني رجله على الجسر، فيقول: وعزتي وجلالي
لا يجاوزني ظالم، فينصف الخلق بعضهم من بعض، حتى إنه لينصف الشاة الجماء من
العضباء بنطحة نطحتها `.
ضعيف جدا

أخرجه الطبراني في ` الكبير ` بالسند المشار إليه قبله.
لكن جملة الشاة صحيحة، جاءت في أحاديث عديدة بعضها صحيح، وقد سبقت الكثير
الطيب منها في ` الصحيحة `، فانظرها برقم (1588، 1966) .
وقوله فيه: ` فيثني رجله ` منكر جدا في نقدي، فإني لا أعرف له شاهدا فيما
عندي، ولا أجد فيه طلاوة الكلام النبوي، والله سبحانه وتعالى أعلم.
‌‌




১৪০১। আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন আগমন করে তিনি তার পা-কে বীজের উপরে ভাজ করে রেখে বলবেনঃ আমার ইযযাত ও মর্যাদার শপথ, কোন অত্যাচারী আমাকে অতিক্রম করতে পারবে না। তিনি সকল সৃষ্টির পরস্পরের মাঝে ইনসাফ কায়েম করবেন। এমনকি তিনি শিংহীন ছাগলের ক্ষেত্রেও শিংধারী ছাগল থেকে তার দ্বারা (দুনিয়াতে) যে আঘাত করেছিলো কিসাস কায়েম করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে পূর্বে উল্লেখকৃত (১৩৮৪ নম্বর) হাদীসের সনদে বর্ণনা করেছেন।





তবে ছাগলের সাথে সম্পৃক্ত বাক্যটি সহীহ্ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে আমি `সিলসিলাহ্ সহীহাহ` গ্রন্থে (১৫৮৮, ১৯৬৬) সহীহ্ হাদীস উল্লেখ করেছি। তার পা-কে ভাজ করা সম্পর্কিত অংশটুকু খুবই মুনকার। তার কোন শাহেদ পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1402)


` سيكون أقوام من أمتي يتعاطون فقهاؤهم عضل المسائل، أولئك شرار أمتي `.
ضعيف جدا

أخرجه الطبراني بالإسناد المشار إليه آنفا.
‌‌




১৪০২। অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কতিপয় লোক এরূপ হবে যাদের ফাকীহগণ কঠিন কঠিন মাসআলাগুলো উপস্থাপন (নিয়ে ঝগড়া) করবে। তারাই (এরাই) আমার উম্মাতের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম ত্ববারানী পূর্বে উল্লেখিত (১৩৮৪ নম্বর) হাদীসের সনদেই বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1403)


` لوجاءت العسرة حتى تدخل هذا الجحر، لجاءت اليسرة حتى تخرجه، فأنزل الله تبارك وتعالى: ` إن مع العسر يسرا ` `
ضعيف جدا. رواه البزار (2288) وابن عدي في الكامل (80/2) وأبو نعيم في ` أخبار
أصبهان ` (1/107) والحاكم (2/255) عن حميد بن حماد: حدثنا عائذ بن شريح
قال: سمعت أنس بن مالك يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسا
ينظر إلى جحر بحيال وجهه فقال: فذكره وقال ابن عدي:
` لا أعلم يرويه عن عائذ غير حميد بن حماد، وهو يحدث عن الثقات بالمناكير،
وهو على قلة حديثه لا يتابع عليه `.
وقال الحاكم:
` حديث عجيب، غير أن الشيخين لم يحتجا بعائذ بن شريح `.
وتعقبه الذهبي بقوله:
` قلت: تفرد به حميد بن حماد عن عائذ، وحميد منكر الحديث كعائذ `.
وقد روي عن ابن مسعود، ولكنه واه جدا.

أخرجه الطبراني في ` الكبير ` (3/59/1) عن يزيد بن هارون: أنا أبو مالك
النخعي عن أبي حمزة عن إبراهيم عن علقمة عنه به نحوه.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، أبو مالك النخعي وهو الواسطي متروك كما قال
الحافظ.
وذكر الحافظ ابن كثير في ` التفسير ` أن شعبة رواه عن معاوية بن قرة عن رجل عن
عبد الله بن مسعود موقوفا.
رواه ابن جرير في ` تفسيره ` (30/151) .
ورجاله ثقات غير الرجل الذي لم يسم.
وأما حديث: ` لن يغلب عسر يسرين ` فقد جاء مرسلا، وسيأتي تخريجه برقم (4342) مع بيان جهل من صححه ممن اختصر تفسير ابن كثير، وهو الشيخ الصابوني
الحلبي.
وقد صنع مثله ابن بلده الشيخ الرفاعي فأورد حديث عائذ هذا في ` مختصره `
أيضا (4/404) ، مع تصريحه أيضا في مقدمته بأنه التزم فيه الصحيح من الحديث، بل إن
صنيعه أسوأ من صنيع الصابوني؛ لأن هذا الحديث قد ضعفه ابن كثير وبين علته
بقوله عقبه وقد عزاه لابن أبي حاتم والبزار الذي قال:
` لا نعلم رواه عن أنس إلا عائذ بن شريح `؛ فقال ابن كثير:
` قلت: وقد قال فيه أبو حاتم الرازي: في حديثه ضعف `.
فأين الالتزام المزعوم يا نسيب؟ فاتق الله في حديث نبيك صلى الله عليه وسلم،
ولا تدع ما لا تحسنه.
‌‌




১৪০৩। যদি কঠিনত্ব এসে এ গর্তে প্রবেশ করে তাহলে সহজত্ব এসে তাকে বের করে দিবে। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেছেনঃ “নিশ্চয় কষ্টের সাথে আছে আরাম”।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে বাযযার (২২৮৮), ইবনু আদী `আলকামেল` গ্রন্থে (২/৮০), আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (১/১০৭) ও হাকিম (২/২৫৫) হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ হতে, তিনি আয়েয ইবনু শুরায়হ হতে, তিনি বলেনঃ আমি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছিঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে তার চেহারার সম্মুখে একটি গর্তের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ...।





ইবনু আদী বলেনঃ আয়েয হতে হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বলে জানি না। আর তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী। তার হাদীস সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও তার মুতাবায়াত করা হয়নি।





হাকিম বলেনঃ হাদীসটি আজব ধরনের। এ ছাড়া আয়েয ইবনু শুরাইহ এর দ্বারা বুখারী ও মুসলিম দলীল গ্রহণ করেননি। হাফিয যাহাবী বলেনঃ হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ হাদীসটি এককভাবে আয়েয হতে বর্ণনা করেছেন। আর হুমায়েদ আয়েযের মতই মুনকারুল হাদীস ।





হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে কিন্তু সেটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (৩/৫৯/১) ইয়াযীদ ইবনু হারুন হতে, তিনি আবু মালেক নাখ'ঈ হতে, তিনি আবু হামযাহ হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আলকামাহ সূত্রে তার থেকে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বর্ণনাকারী আবু মালেক ওয়াসেতী মাতরূক যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন।





হাফিয ইবনু কাসীর “তাফসীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শুবাহ হাদীসটিকে মুয়াবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি এক ব্যক্তি হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু জারীর তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৩০/১৫১) বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য সেই ব্যক্তি ছাড়া যার নাম নেয়া হয়নি।





এছাড়া আরেকটি মুরসাল হাদীস (৪৩৪২) নম্বরে আলোচিত হবে যেটিকে অজ্ঞতা বশত কেউ কেউ সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। যেমন সাবূনী হালাবী এবং শাইখ রেফা'ঈ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1404)


` كل مشكل حرام، وليس في الدين إشكال `.
موضوع
رواه الروياني في ` مسنده ` (ق 163/2) والطبراني في ` المعجم الكبير ` (1259 - بغداد) وابن عدي في ` الكامل ` (ق 96/1) وإسحاق بن إسماعيل الرملي
في ` حديث آدم بن أبي إياس ` (ق 4/1) والقضاعي في ` مسند الشهاب ` (ق 10/2
) عن إسماعيل بن أبي أويس: حدثني حسين بن عبد الله بن ضميرة عن أبيه عن جده عن
تميم الداري مرفوعا، وقال ابن عدي:
` لا يروى إلا عن حسين هذا بهذا الإسناد، وهو ضعيف منكر الحديث، وضعفه بين
على حديثه `.
قلت: وقد كذبه مالك وأبو حاتم وابن الجارود.
وقال البخاري:
` منكر الحديث `.
وقال ابن حبان في ` الضعفاء ` (1/244) :
` يروي عن أبيه عن جده بنسخة موضوعة `.
ثم ساق له هذا الحديث وقال:
` وليس تحفظ هذه اللفظة عن النبي صلى الله عليه وسلم من طريق صحيح `.
‌‌




১৪০৪। প্রত্যেক মুশকিল হারাম আর দ্বীনের মধ্যে কোন মুশকিল নেই। বা প্রত্যেক সন্দেহজনক বস্তু হারাম আর দ্বীনের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে রুওয়ানী তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (কাফ ২/১৬৩), ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (১২৫৯), ইবনু আদী `আলকামেল` গ্রন্থে (কাফ ১/৯৬), ইসহাক ইবনু ইসমাঈল রামালী “হাদীসু আদম ইবনু আবী ইয়াস” গ্রন্থে (কাফ ১/৪) ও কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (কাফ ২/১০) ইসমাঈল ইবনু আবী উওয়ায়েস হতে, তিনি হুসাইন ইবনু আবদিল্লাহ ইবনে যামীরাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে তিনি তার দাদা হতে, তিনি তামীমুদ দারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' তিনি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ একমাত্র হুসাইন হতেই এ সনদে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। আর তিনি হচ্ছেন মুনকারুল হাদীস। তার হাদীসে তার দুর্বলতা সুস্পষ্ট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তাকে মালেক, আবু হাতিম ও ইবনু জারূদ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।





ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।





ইবনু হিব্বান `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (১/২৪৪) বলেনঃ তিনি তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে একটি বানোয়াট কপি বর্ণনা করেছেন।





অতঃপর তিনি তার এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ সহীহ সূত্রে এ শব্দগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সাব্যস্ত হয়নি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1405)


` تسحروا ولوبشربة من ماء، وأفطروا ولوعلى شربة ماء `.
موضوع
رواه ابن عدي (96/1) عن أبي بكر بن أبي أويس عن حسين بن
عبد الله عن أبيه عن
جده عن علي مرفوعا. وقال ابن عدي:
` الحسين هذا ضعيف منكر الحديث، وضعفه بين على حديثه `.
قلت: ولذلك كذبه جماعة من الأئمة كما تقدم في الحديث السابق.
نعم، الجملة الأولى منه صحيحة، فقد روي من حديث أنس في ` المختارة ` للمقدسي
، وابن عمرو عند ابن حبان في ` صحيحه ` (884) ، وأبي سعيد الخدري عند أحمد
(3/12 و44) ، وجابر عند ابن أبي شيبة (2/147/1) والطبراني في ` الأوسط `
(3911) ، وأبي أمامة عند الخلال في ` جزء من أدركهم من أصحاب ابن منده ` (
148/2) ، وابن عساكر عن عبد الله بن سراقة كما في ` الجامع `، وأسانيدها
وإن كانت لا تخلومن ضعف فمجموعها يعطي لها قوة، لا سيما وإسنادها عند ابن
حبان حسن، والله أعلم.
‌‌




১৪০৫। এক চুমুক পানি দিয়ে হলেও তোমরা সাহ্রী খাও এবং এক চুমুক পানি দিয়ে হলেও তোমরা ইফতার কর।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটি ইবনু আদী (১/৯৬) আবু বাকর ইবনু উয়ায়েস হতে, তিনি হুসাইন ইবনু আব্দিল্লাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ এ হুসাইন মুনকারুল হাদীস। তার দুর্বলতা সুস্পষ্ট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ কারণেই তাকে একদল ইমাম মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন যেমনটি পূর্বের হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।





তবে হাঁ, হাদীসটির প্রথম বাক্যটি সহীহ হিসেবে নিমের বাক্যে বর্ণিত হয়েছেঃ





تسحروا ولوبجرعة من ماء





“তোমরা এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরী খাও।”*





এটিকে ইবনু হিব্বান তার “সহীহ” গ্রন্থে (৮৮৪) আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, মাকদেসী `আলমুখতারাহ` গ্রন্থে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ও ইমাম আহমাদ আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, খাল্লাল `জুযউ মান আদরাকাহুম মিন আসহাবি ইবনু মানদাহ` গ্রন্থে আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ও ইবনু আসাকির `আলজামি` গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনু সুরাকাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। সনদগুলো যদিও দুর্বলতা হতে মুক্ত নয় তবুও সেগুলোকে একত্রিত করলে শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ইবনু হিব্বানের নিকট হাদীসটির সনদ হাসান।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1406)


` في أبو ال الإبل وألبانها شفاء للذربة بطونهم `.
ضعيف جدا
رواه الطبراني (3/185/1) عن ابن لهيعة: نا عبد الله بن هبيرة عن حنش عن
ابن عباس مرفوعا.
ومن هذا الوجه رواه أبو نعيم في ` الطب ` (9 - 10 نسخة السفرجلاني) .
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا. وفيه علتان:
الأولى: حنش هذا اسمه الحسين بن قيس، وهو متروك كما قال الحافظ في ` التقريب `.
والأخرى: ابن لهيعة واسمه عبد الله وهو ضعيف.
‌‌




১৪০৬। উটের পেশাব ও তার দুধের মধ্যে যাদের পেটে বদহজমী রোগ হয়েছে তাদের জন্য আরোগ্য রয়েছে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (৩/১৮৫/১) ইবনু লাহীয়াহ সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু হুবায়রাহ হতে, তিনি হানাশ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রেই আবু নুয়াইম “আততিব্ব” গ্রন্থে (৯-১০) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ দুটি কারণে এ সনদটি খুবই দুর্বলঃ





১। বর্ণনাকারী খানাশের নাম হচ্ছে হুসাইন ইবনু কায়েস। তিনি মাতরূক যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।





২। ইবনু লাহীয়ার নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ তিনি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1407)


` عليكم بأبو ال الإبل البرية وألبانها `.
ضعيف

أخرجه أبو نعيم في ` الطب ` (4/10/1 - 2) من طريق دفاع بن دغفل السدوسي عن
عبد الحميد بن صيفي بن صهيب عن أبيه عن جده صهيب الخير قال: قال رسول الله
صلى الله عليه وسلم.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، دفاع وشيخه عبد الحميد كلاهما ضعيف.
‌‌




১৪০৭। তোমরা ভূমির (বিচরণকারী) উটের দুধ ও তার পেশাব গ্রহণ কর।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু নুয়াইম “আততিব্ব” গ্রন্থে (৪/১০/১-২) দিফা' ইবনু দাগফাল সাদূসী সূত্রে আব্দুল হামীদ ইবনু সায়ফী হতে, তিনি পিতা (সায়ফী) হতে, তিনি তার দাদা সুহায়েব আল খায়ের হতে তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ, দিফা ও তার শাইখ আব্দুল হামীদ তারা দু’জনই দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1408)


` من احتجم يوم السبت والأربعاء، فرأى وضحا، فلا يلومن إلا نفسه `.
ضعيف

أخرجه ابن عدي في ` الكامل ` (98/2) من طريق حسان بن سياه مولى عثمان بن عفان
: حدثنا ثابت عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.
أورده في جملة أحاديث ساقها لحسان هذا ثم قال:
` وعامتها لا يتابعه غيره عليه، والضعف يتبين على رواياته وحديثه `.
قلت: وقال ابن حبان في ` الضعفاء ` (1/267) :
` منكر الحديث جدا يأتي عن الثقات بما لا يشبه حديث الأثبات، لا يجوز الاحتجاج
به إذا انفرد لما ظهر من خطئه في روايته على ظهو ر الصلاح منه `.
قلت: فهو بهذا الإسناد ضعيف جدا وقد روي من حديث أبي هريرة أيضا، ولا يصح
كما سيأتي تحقيقه إن شاء الله تعالى (1524) .
‌‌




১৪০৮। যে ব্যক্তি শনিবার এবং বুধবারে শিঙ্গা লাগবে অতঃপর শ্বেতবর্ণ দেখতে পাবে সে যেন শুধুমাত্র নিজেকেই নিন্দা করে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি ইবনু আদী `আলকামেল` গ্রন্থে (২/৯৮) উসমান ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দাস হাসসান ইবনু সিয়্যাহ সূত্রে সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





তিনি হাদীসটিকে সেই হাদীসগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যেগুলোকে তিনি হাসসানের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন অতঃপর বলেছেনঃ তিনি ছাড়া অন্য কেউ এগুলোর অনুসরণ করেননি। আর তার বর্ণনাসমূহে এবং হাদীসে দুর্বলতা সুস্পষ্ট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (১/২৬৭) বলেনঃ তিনি খুবই মুনকারুল হাদীস। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এমন সব হাদীস নিয়ে এসেছেন যেগুলো নির্ভরশীলদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তিনি যখন এককভাবে কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন তখন তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করাই না-জায়েয তার বর্ণনায় ভুল প্রকাশিত হওয়ার কারণে ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি এ সনদে খুবই দুর্বল। হাদীসটিকে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতেও বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু সেটি সহীহ নয়, সেটি (১৫২৪) নম্বরে আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1409)


موارد) ، وتمام في `الفوائد` (ق 82/ 1 - خط) و (3/ 245/ 1025 - ترتيب الفوائد) من طرق أخرى عن محمد ابن عيسى بن حيان: حدثنا شعيب بن حرب به.
وهذا إسناد ضعيف جداً؛ ابن حبان هذا - وهو المدائني البغدادي - ؛ قال الدارقطني والحاكم:
`متروك`.
وأما البرقاني؛ فوثقه. وكذا ابن حبان (9/ 143) !
ولم يعبأ بذلك الذهبي؛ فإنه لما أورده في `المغني`؛ لم يحك هذا التوثيق، وإنما ذكر ترك الدارقطني والحاكم له. وزاد فيه وفي `الميزان`:
`وقال آخر: كان مغفلاً`.
لكنه قد توبع؛ فقال الطبراني في `المعجم الأوسط` (2/ 210/ 1/ 8249) : حدثنا موسى بن هارون: حدثنا الحسن بن الحكم العرني: أخبرنا شعيب بن حرب به. وقال:
`لم يروه عن سعيد مولى المهري إلا عثمان بن واقد، تفرد به شعيب بن حرب`.
قلت: هو ثقة من رجال البخاري، والعلة ممن فوقه، أو دونه - وهو الحسن بن الحكم العرني - ، وهو غير معروف؛ إلا أنه يغلب على ظني أنه الحسن بن الحسين العرني؛ فإنه من هذه الطبقة وكوفي، روى عن شريك القاضي الكوفي وغيره. قال الذهبي في `الميزان`:
`قال أبو حاتم: لم يكن بصدوق عندهم. وقال ابن عدي: لا يشبه حديثه حديث الثقات. وقال ابن حبان: يأتي عن الأثبات بالملزقات ويروي المقلوبات`.
فأقول: وعلى هذا؛ فيكون اسم `الحكم` والد `الحسن` قد تحرف من `الحسين`، وهذا ممكن لبعض الشبه بين الاسمين كما ترى، كما أن نسبته `العرني` قد تحرفت في `مجمع البحرين` إلى ما يشبه نسبة `القطراني`!
وإنما قلت: `يشبه` لأن ما بعد الراء غير ظاهر في مصورة `المجمع` التي عندي.
فإذا صح ما ذكرت من التحريف فهو السبب - والله أعلم - في خفاء حاله على الهيثمي؛ فقال في `مجمع الزوائد` (5/ 109) :
`رواه الطبراني في `الأوسط`، وفيه من لم أعرفه`!
يشير إلى الحسن هذا. والله أعلم.
وأما العلة من فوق؛ فقد كشف عنها ابن حبان نفسه في `ثقاته` (6/ 363) ؛ فقال في ترجمة سعيد بن أبي سعيد المهري:
`كنيته أبو السميط. روى عن أبيه وإسحاق مولى زائدة. روى عنه أسامة بن زيد وحرملة بن عمران`.
قلت: وكذا في `تاريخ البخاري` (2/ 1/ 474/ 1586) . ثم قال ابن حبان:
`وليس هذا بسعيد بن أبي سعيد المقبري، ذاك أدخلناه في التابعين، وهذا في أتباع التابعين`.
وهذا يعني أنه منقطع بين سعيد هذا وأبي هريرة، فهذه علة أخرى غير ضعف الراوي عن شعيب، فيتعجب من ابن حبان كيف أورد حديثه هذا في `صحيحه`؟! ومن شروط الصحيح عنده - كغيره من المحدثين - الاتصال وعدم الانقطاع!
وهذا من الأدلة الكثيرة على أنه لم يتمكن من الوفاء بالشروط التي وضعها لكتابه `الصحيح` وبينها في مقدمته، ومقدمة كتابه الآخر `الثقات`. ولتفصيل هذا مجال آخر؛ أرجو أن أوفق لبيانه إن شاء الله تعالى.
(تنبيه) : كنت خرجت حديثاً آخر لسعيد هذا في `الصحيحة` (1228) ؛ لكنه من روايته عن أبيه أبي سعيد، فهو متصل، ومن مخرجيه هناك ابن حبان، فلعل هذا - أعني: ابن حبان - لم يتنبه لعدم ورود أبي سعيد في حديث الترجمة، فتوهم أنه متصل أيضاً! والله أعلم.
ونستفيد من إسناده فائدة قد تكون هامة، وهي أن لسعيد هذا راوياً آخر عنه؛ وهو عثمان بن واقد، فيضم إلى أسامة بن زيد وحرملة بن عمران؛ اللذين ذكرهما البخاري وابن حبان في الرواة عنه كما سبق، ولعلهما لم يذكراه معهما لعدم صحة الإسناد إليه كما تقدم. والله أعلم.
هذا؛ وقد أشار ابن عبد البر في `التمهيد` (5/ 266 و 273) إلى تليينه، وهو حري بذلك؛ لانقطاعه على الأقل.
وخفيت هذه العلة على المعلق على `الإحسان` (2/ 505) ؛ وأعله فقط بابن حيان، وفاتته متابعة الحسن بن الحسين - أو الحكم - العرني! ثم استدرك فقال:
`لكن يشهد له حديث ابن عباس في البخاري (5752) .. ومسلم (220) .. وحديث عمران عند مسلم (218) `!
قلت: وهذا الاستدراك يوهم خلاف الواقع؛ فإنه ليس في الحديثين اللذين أشار إليهما قوله:
`أمة بقضها وقضيضها`! فكان ينبغي التنبيه عليه؛ دفعاً للإيهام.
‌‌4613 / م - (إن للرحم حقاً، ولكن وهبت لك الذهب؛ لحسن ثنائك على الله عز وجل .
ضعيف

أخرجه الطبراني في `المعجم الأوسط` (2/ 306/ 2/ 9602 - بترقيمي) قال: حدثنا يعقوب بن إسحاق بن الزبير: حدثنا عبد الله بن محمد أبو عبد الرحمن الأذرمي: حدثنا هشيم عن حميد عن أنس:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بأعرابي وهو يدعو في صلاته؛ وهو يقول:
يا من لا تراه العيون، ولا تخالطه الظنون، ولا يصفه الواصفون، ولا تغيره الحوادث، ولا يخشى الدوائر! بعلم مثاقيل الجبال، ومكاييل البحار، وعدد قطر الأمطار، وعدد ورق الأشجار، وعدد ما أظلم عليه الليل وأشرق عليه النهار، لا تواري منه سماء سماء، ولا أرض أرضاً، ولا بحر ما في قعره، ولا جبل ما في وعره! اجعل خير عمري آخره، وخير عملي خواتمه، وخير أيامي يوم ألقاك فيه.
فوكل رسول الله صلى الله عليه وسلم بالأعرابي رجلاً فقال:
`إذا صلى فأتني به`.
فلما صلى أتاه، وقد كان أهدي لرسول الله صلى الله عليه وسلم ذهب من بعض المعادن، فلما أتاه الأعرابي وهب له الذهب، وقال:
`ممن أنت يا أعرابي؟! `.
قال: من بني عامر بن صعصعة يا رسول الله! قال:
`أتدري لم وهبت لك الذهب؟ `. قال:
للرحم بيننا وبينك يا رسول الله! فقال … فذكر الحديث. وقال:
`لم يروه عن حميد إلا هشيم، تفرد به الأذرمي`.
قلت: وهو ثقة، ومن فوقه كذلك، بل هما من رجال الشيخين.
لكن هشيم مدلس، وقد عنعنه.
فهذه علة الحديث.
ودون ذلك علة أخرى، وهي شيخ الطبراني يعقوب بن إسحاق بن الزبير، وهو الحلبي؛ كما صرح بذلك في أول ترجمته - أعني: الطبراني - في الحديث الأول من عشرة أحاديث ساقها له؛ هذا عاشرها، وثامنها - وهو في فضل (قل هو الله أحد) - ؛ أخرجه في `الصغير` أيضاً (234 - هندية) . وقال الهيثمي في تخريجه (7/ 146) :
`رواه الطبراني في `الصغير` و `الأوسط` عن شيخه يعقوب بن إسحاق بن الزبير الحلبي؛ ولم أعرفه، وبقية رجاله ثقات`.
وأما في حديث الترجمة؛ فلم يتعرض للحلبي بذكر، بل سكت عنه، فقال (10/ 158) :
`رواه الطبراني في `الأوسط`، ورجاله رجال `الصحيح`؛ غير عبد الله بن محمد أبي عبد الرحمن الأذرمي، وهو ثقة`!
فأوهم بسكوته عن الشيخ الحلبي أنه ثقة، فاغتر به الشيخ الغماري المغربي، فجود إسناده في رسالته `إتقان الصنعة في معنى البدعة` (ص 27) ، وقلده ظله السقاف، بل وصرح بأنه صحيح في كتابه الذي أسماه: `صحيح صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم..` (ص 236) ! وكل ذلك ناشىء من التقليد الأعمى واتباع الهوى، نسأل الله السلامة!
والشيخ الحلبي المذكور؛ يبدو أنه من شيوخ الطبراني المغمورين غير المشهورين، فلم يذكر له الطبراني إلا عشرة أحاديث كما تقدم، وكأنه لذلك لم يذكره الحافظ المزي في الرواة عن شيخه الأذرمي في ترجمة هذا من `تهذيب الكمال`، ولا وجدت له ذكراً في شيء من كتب الرجال! والله أعلم.
‌‌




১৪০৯। যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবারে শিঙ্গা লাগিয়ে সেদিনে অসুস্থ হয়ে পড়বে সে সেদিনেই মারা যাবে।





হাদীসটি খুবই মুনকার।





হাদীসটিকে ইবনু আসাকির (২/৩৯৭/২) আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে নাসর যব্ব'ঈ হতে, তিনি আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে লাইস হতে, তিনি মানসূর ইবনুন নাযর হতে, তিনি ইসহাক ইবনু ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ায হতে তিনি বলেনঃ আমি আলমু'তাসিমের নিকট তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখার জন্য ছিলাম। আমি তাকে বললামঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি সুস্থই আছেন। তিনি বললেনঃ কিভাবে তুমি এ কথা বলছে এমতাবস্থায় যে, আমি রাশীদকে বলতে শুনেছি তিনি তার পিতা মাহদী হতে, তিনি আবু জাফার মানসূর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। এতে ধারাবাহিকভাবে সেই সব বর্ণনাকারীদের সমাবেশ ঘটেছে যাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় নাঃ





১। হাফিয ইবনু হাজার এ ইসহাকের জীবনী উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালোমন্দ কিছুই বলেননি।





২। মানসূর ইবনুন নাযর সম্পর্কে খাতীব বাগদাদী (৩/৮২) বলেনঃ তিনি মানসূরের দলভুক্ত। অতঃপর তিনি তার অন্য একটি হাদীস উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি।





৩। আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে লাইসের কুনিয়াত হচ্ছে আবুল হাসান যেমনটি খাতীব বাগদাদী (৫/৮৪) বলেছেন। অতঃপর তিনি অন্য একটি হাদীস উল্লেখ তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি।





৪ । আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে নাসর যব্ব'ঈর কুনিয়াত হচ্ছে আবু বাকর যেমনটি খাতীব বাগদাদী (৫/১০৮) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেনঃ তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনু আদী জুরজানী বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার থেকে রিক্কাহ নামক স্থানে শুনেছেন। তিনি এর সম্পর্কেও ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি।





আমার (আলবানীর) নিকট হাদীসটি খুবই মুনকার।





হাদীসটি সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে ইবনু আসাকিরের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আর মানবী হাদীসটি সম্পর্কে তার `আলফায়েয` এবং `আততায়সীর` গ্রন্থে কোন কিছুই বলেননি। সম্ভবত তিনি সনদ সম্পর্কে অবহিত হননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1410)


` من احتجم يوم الثلاثاء لسبع عشرة من الشهر، كان دواء لداء السنة `.
منكر

أخرجه ابن عدي (144/2) وعنه البيهقي (9/340) من طريق سلام بن سلم الطويل
عن زيد العمي عن معاوية بن قرة عن معقل بن يسار رضي الله عنه عن النبي
صلى الله عليه وسلم. وقال البيهقي:
` سلام الطويل متروك، وروي عن زيد كما أخبرنا.. `.
ثم ساقه بإسناده عن هشيم عن زيد العمي عن معاوية بن قرة عن أنس رفعه.. فذكره.
قلت: وزيد العمي ضعيف، وهشيم ثقة، ولكنه مدلس. فقول الذهبي في ` المهذب `:
` إسناده جيد مع نكارته `. نقله المناوي في ` الفيض ` وأقره!
فغير جيد، كيف وهو قد أورد زيدا هذا في ` كتاب الضعفاء والمتروكين ` وقال:
` ليس بالقوي `!
ثم قال البيهقي:
` ورواه أبو جزي نصر بن طريف بإسنادين له عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا،
وهو متروك لا ينبغي ذكره `.
وسيأتي الحديث بزيادة في التخريج والتحقيق برقم (5575) .
‌‌




১৪১০। যে ব্যক্তি মাসের সতেরো তারিখ মঙ্গলবারে শিঙ্গা লাগবে তা তার জন্য এক বছরের রোগের ঔষুধ হয়ে যাবে।





হাদীসটি মুনকার।





হাদিসটি ইবনু আদী, তার থেকে বাইহাকী সালাম ইবনু সিলম আত-ত্ববীল সূত্রে যায়েদ আম্মী হতে, তিনি মুয়াবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী বলেনঃ সালাম আতত্ববীল মাতরূক।





অতঃপর তিনি হাদিসটি তার সনদে হুশায়েম হতে, তিনি যায়েদ আম্মী হতে, তিনি মুয়াবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ যায়েদ আলআম্মী দুর্বল। আর হুশায়েম নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি মুদাল্লিস। ইমাম যাহাবী `আলমুহাযযাব` গ্রন্থে বলেনঃ তার সনদটি ভালো সে মুনকার হওয়া সত্ত্বেও। মানবী `আলফায়েয` গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তাকে সমর্থন করেছেন।





কিন্তু হাফিয যাহাবীর এ কথা ভালো নয়। কিভাবে সনদটি ভালো? এমতাবস্থায় যে, তিনি যায়েদকে `কিতাবুযযুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। অতঃপর বাইহাকী বলেনঃ হাদীসটি আবু জুযাই নাসর ইবনু তুরায়েফ দু'টি সনদে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মাতরুক, তাকে উল্লেখ করাই উচিত নয়।





হাদীসটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা (৫৫৭৫) নম্বরে আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1411)


` إن في الجمعة ساعة لا يحتجم فيها محتجم إلا عرض له داء لا يشفى منه `.
ضعيف

أخرجه البيهقي (9/341) من طريق عبد الله بن صالح: حدثنا عطاف بن خالد، عن
نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم: فذكره. وقالا:
` عطاف ضعيف `.
قلت: ومثله عبد الله بن صالح، وهو كاتب الليث المصري فإنه قد تكلموا فيه من
قبل حفظه. ثم قال البيهقي:
` وروى يحيى بن العلاء الرازي وهو متروك بإسناد له عن الحسين بن علي فيه
حديثا مرفوعا، وليس بشيء `.
قلت: قد وقفت عليه وهو:
‌‌




১৪১১। জুম'আর দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যে ব্যক্তিই সে সময়ে শিঙ্গা লাগাবে তার এমন এক রোগ হয়ে যাবে যা থেকে আরোগ্য লাভ করা যাবে না।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি বাইহাকী “আসসুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (৯/৩৪১) আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ সূত্রে আত্তাফ ইবনু খালেদ হতে, তিনি নাফে' হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





বাইহাকী বলেনঃ আত্তাফ দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ-ও তার মতই। তিনি লাইস মিসরীর লেখক ছিলেন। মুহাদ্দিসগণ তার হেফযের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। অতঃপর বাইহাকী বলেনঃ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনুল আলী রাযী তার সনদে হুসায়েন ইবনু আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি (ইয়াহইয়া) মাতরূক। তিনি কিছুই না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এটি হচ্ছেঃ (দেখুন পরেরটি)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1412)


` إن في الجمعة لساعة لا يحتجم فيها أحد إلا مات `.
موضوع

أخرجه أبو يعلى (317/2) : حدثنا جبارة: حدثنا يحيى بن العلاء عن زيد بن أسلم
عن طلحة بن عبيد الله العقيلي عن الحسين بن علي مرفوعا.
قلت: وهذا إسناد موضوع، آفته يحيى بن العلاء، قال أحمد:
` كذاب يضع الحديث `.
وقد ذكرت له فيما سبق غير ما حديث، منها:
` أحبوا العرب لثلاث.... ` (360) .
وهو متفق على تضعيفه.
وتقدم آنفا قول البيهقي فيه: ` متروك `، وفي حديثه هذا:
` ليس بشيء `.
ولذلك فقد أصاب ابن الجوزي بإيراده لهذا الحديث في ` الموضوعات ` بقدر ما
أخطأ
السيوطي في ذكره إياه في ` الجامع الصغير ` من رواية أبي يعلى. ولم يصنع شيئا
بتعقبه ابن الجوزي بقوله في ` اللآلي ` (2/411) وتبعه ابن عراق في ` تنزيه
الشريعة ` (2/359) :
` قلت: له شاهد. قال البيهقي.. `.
ثم ساق الحديث الذي قبله، لأنه مع ضعفه، ليس فيه ذكر الموت، خلافا لهذا.
فتأمل.
‌‌




১৪১২। জুম'আর দিবসে অবশ্যই এমন একটি সময় রয়েছে কেউ সে সময়ে শিঙ্গা লাগালেই সে মারা যাবে।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটি আবু ইয়ালা (২/৩১৭) জাবারাহ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল আলা হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি ত্বলহাহ ইবনু ওবায়দিল্লাহ ওকায়লী হতে, তিনি হুসায়েন ইবনু আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে ইয়াহইয়া ইবনু আলা। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, হাদীস জালকারী।





তার থেকে বর্ণিত হাদীস পূর্বে (৩৬০) আলোচিত হয়েছে। তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত।





তার সম্পর্কে কিছু পূর্বে বাইহাকীর মন্তব্য আলোচিত হয়েছেঃ তিনি মাতরুক। তিনি এ হাদীসের ব্যাপারে কিছুই নন।





এ কারণেই ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে তার `আলমওযুয়াত` গ্রন্থে উল্লেখ করে যে পরিমাণ ঠিক করেছেন সুয়ুতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে তার সমপরিমাণ ভুল করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1413)


` ذروا الحسناء العقيم، وعليكم بالسوداء الولود، فإني مكاثر بكم الأمم حتى
بالسقط محبنطئا على باب الجنة، فيقال له: ادخل الجنة. فيقول: حتى يدخل
والدي معي `.
موضوع
رواه ابن عدي (98/2) من طريق أبي يعلى عن عمرو بن حصين: حدثنا حسان بن سياه
: حدثنا عاصم عن زر عن عبد الله مرفوعا وقال:
` لا يرويه عن عاصم غير حسان بن سياه، وعامة حديثه لا يتابع عليه والضعف بين
على رواياته `.
قلت: وكلام ابن حبان فيه يدل على أنه شديد الضعف، وقد ذكرته قريبا تحت
الحديث (1409) . لكن الراوي عنه عمرو بن حصين شر منه، فقد اتهم بالوضع كما
تقدم غير مرة، ولذلك فقد أساء السيوطي بذكره للحديث في ` الجامع الصغير ` من
رواية ابن عدي! ولكنه أساء مرة أخرى، فإنه لم يورده بتمامه، وإنما إلى
قوله: ` الولود `! فأوهم أنه كذلك عند ابن عدي، وشاركه في هذا المناوي فإنه
قال:
` وزاد أبو يعلى في روايته: فإني مكاثر … `.
فأوهم أن هذه الزيادة ليست عند ابن عدي! فكأنه لم يقف عليه عنده، أوأنه لم
يتنبه أنه تلقاه من أبي يعلى، والأول أقرب عندي. والله تعالى أعلم.
ثم تعقب السيوطي لسكوته عليه، فقال بعد أن ذكر تجريح ابن عدي المذكور لحسان
نقلا عن ` اللسان `:
` وبه يعرف أن سكوت المصنف على عزوه لابن عدي وحذفه من كلامه إعلاله
غير صواب
`.
قلت: ومثل هذا السكوت يكثر من السيوطي رحمه الله تعالى ومن غيره أيضا،
وهذا شيء ابتلي به المتأخرون كثيرا، ولا يكاد ينجومنه إلا القليل، وليس
ذلك من النصح في شيء. والله تعالى هو المستعان.
‌‌




১৪১৩। তোমরা সুন্দরী বন্ধ্যা নারীদের ত্যাগ করে বেশী সন্তান প্রসবকারী কালো মহিলাদের গ্রহণ কর। কারণ আমি তোমাদের নিয়ে অন্যান্য উম্মাতের সামনে অহঙ্কার করব এমনকি (মায়ের পেট থেকে) পড়ে যাওয়া সন্তান দ্বারা যে রাগান্বিত অবস্থায় কিছুর জন্য জান্নাতের দরজার সামনে অপেক্ষা করবে। তাকে বলা হবে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর তখন সে বলবেঃ আমার সাথে আমার পিতা-মাতা প্রবেশ না করা পর্যন্ত নয়।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ইবনু আদী (২/৯৮) আবু ইয়ালা সূত্রে আমর ইবনু হুসায়েন হতে, তিনি হাসসান ইবনু সিয়্যাহ হতে, তিনি আসেম হতে, তিনি যার হতে, তিনি আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ আসেম হতে হাসসান ইবনু সিয়্যাহ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। আর তার অধিকাংশ হাদীসের অনুসরণ করা হয়নি। তার বর্ণনাগুলোর দুর্বলতা সুস্পষ্ট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার ব্যাপারে ইবনু হিব্বানের কথা প্রমাণ বহন করছে যে, তিনি খুবই দুর্বল। কিছু পূর্বেই আমি তার একটি হাদীস (১৪০৯) উল্লেখ করেছি। তার থেকে বর্ণনাকারী আমর ইবনু হুসায়েন তার চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট। তাকে জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে যেমনটি একাধিকবার পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এ কারণেই সুয়ূতী ইবনু হিব্বানের বর্ণনা থেকে তার হাদীসকে উল্লেখ করে ক্রটি করেছেন। তিনি আরো একটি ক্রটি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ হাদীসটিকে উল্লেখ না করে নিচে দাগ দেয়া অংশটুকু উল্লেখ করেছেন। এতে করে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে যে হয়তো ইবনু আদীর নিকট এরূপই বর্ণিত হয়েছে। তার সাথে মানবীও অংশগ্রহণ করে বলেছেন যে, আবু ইয়ালা তার বর্ণনাতেঃ `কারণ আমি তোমাদের নিয়ে অন্যান্য উম্মাতের সামনে অহঙ্কার করব...` পরের অংশগুলো বৃদ্ধি করেছেন।





এ থেকে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে যে, এ বর্ধিত অংশ ইবনু আদীর নিকট নেই। সম্ভবত তিনি এ ব্যাপারে অবগত হননি।





অতঃপর মানবী ইবনু আদীর বক্তব্য উল্লেখ করে সুয়ুতীর চুপ থাকার সমালোচনা করেছেন। ইমাম সুয়ূতী ও অন্যদেরও এরূপ চুপ থাকার ঘটনা প্রচুর পরিমাণে ঘটেছে এবং এটি এমন একটি বিষয় যে, এতে পরের যুগের অনেকে জড়িয়ে পড়েছেন। খুব কম সংখ্যকই এ সমস্যা থেকে বাঁচতে পেরেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1414)


` أقل الحيض ثلاث، وأكثره عشر `.
منكر
رواه الطبراني في ` الأوسط ` (ق 36/1 - رقم 593 - مصورتي) : حدثنا أحمد قال:
حدثنا محرز بن عون والفضل بن غانم قالا: نا حسان بن إبراهيم عن عبد الملك عن
العلاء بن كثير عن مكحول عن أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
فذكره. وقال:
` لم يروه عن مكحول إلا العلاء `.
قلت: وقع في الإسناد أنه العلاء بن كثير كما ترى، وفي ` المعجم الكبير `
خلافه فقال (8/152/7586) : حدثنا أحمد بن بشير الطيالسي: حدثنا الفضل بن
غانم: حدثنا حسان بن إبراهيم عن عبد الملك عن العلاء بن حارث عن مكحول به.
ولم يتنبه الهيثمي لهذا الاختلاف الذي وقع في المعجمين في اسم والد العلاء،
فجعله واحدا في كلامه على إسنادهما فقال في ` مجمع الزوائد ` (1/280) :
` رواه الطبراني في ` الكبير ` و` الأوسط ` وفيه عبد الملك الكوفي عن العلاء
ابن كثير، لا ندري من هو؟ `.
وقلده المعلق على ` المعجم الأوسط ` (1/356) فنقله عنه بالحرف الواحد ولم
يزد عليه حرفا واحدا، وهكذا كل أوجل تعليقاته عليه ليس فيها شيء من العلم
الذي يستحق به أن يكتب عليه: تحقيق الدكتور فلان، فالله المستعان على تحقيقات
بل تجارات دكاترة آخر الزمان! !
واعلم أن الفرق بين العلاءين فرق شاسع، فابن كثير وهو الليثي الدمشقي متهم،
قال الحافظ في ` التقريب `:
` متروك رماه ابن حبان بالوضع `.
وأما ابن الحارث، وهو الحضرمي الدمشقي؛ فهو ثقة، قال الحافظ:
` صدوق، فقيه لكن رمي بالقدر وقد اختلط `.
قلت: والراجح عندي أنه الأول، وذلك لسببين:
الأول: أن السند بذلك صحيح إلى حسان بن إبراهيم فإن راويه عنه محرز بن عون ثقة
من رجال مسلم، وكذلك شيخ الطبراني أحمد الراوي عنه، وهو أحمد بن القاسم بن
مساور أبو جعفر الجوهري ثقة، مترجم في ` تاريخ بغداد ` (4/349 - 350) ،
بخلاف إسناد ` كبير الطبراني ` فإنه لا يصح إلى حسان، فقال المناوي في ` الفيض
`:
` وفيه أحمد بن بشير الطيالسي، قال في ` الميزان `: لينه الدارقطني،
والفضل بن غانم قال الذهبي: قال يحيى: ليس بشيء، ومشاه غيره، والعلاء بن
الحارث قال البخاري: منكر الحديث `.
قلت: وهذا الأخير منه وهم، فإن البخاري إنما قال ما ذكر في العلاء بن كثير،
وليس العلاء بن الحارث.
والآخر: أن العلماء أعلوا الحديث بابن كثير، وابن حبان ذكره في ترجمته من
كتابه ` الضعفاء ` فقال (2/181 - 182) :
` العلاء بن كثير مولى بني أمية، من أهل الشام، يروي عن مكحول وعمرو بن شعيب
، روى عنه أهل الشام ومصر، وكان ممن يروي الموضوعات عن الأثبات، لا يحل
الاحتجاج بما روى وإن وافق فيها الثقات، ومن أصحابنا من زعم أنه العلاء بن
الحارث، وليس كذلك لأن العلاء بن الحارث حضرمي من اليمن، وهذا من موالي بني
أمية، وذاك صدوق، وهذا ليس بشيء في الحديث، وهو الذي روى عن مكحول عن أبي
أمامة.. `.
قلت: فذكر الحديث بأتم منه.
ثم ساق إسناده هو وابن عدي في ` الكامل ` (ق 99/1) والدارقطني في ` سننه `
(ص 80) وعنه ابن الجوزي في ` الأحاديث الواهية ` (1/384) والبيهقي (
1/326) من طرق عن حسان بن إبراهيم الكرماني قال: نا عبد الملك قال: سمعت
العلاء قال: سمعت مكحولا به مطولا ولفظه:
` أقل ما يكون الحيض للجارية البكر والثيب التي أيست من المحيض ثلاثا،
وأكثر
ما يكون الحيض عشرة أيام، فإذا زاد الدم أكثر من عشرة فهي مستحاضة، يعني ما
زاد على أيام أقرائها، ودم الحيض لا يكون إلا دما أسود عبيطا يعلوه حمرة،
ودم المستحاضة رقيق تعلوه صفرة، فإن كثر عليها في الصلاة فلتحتش كرسفا، فإن
غلبها في الصلاة فلا تقطع الصلاة وإن قطر، ويأتيها زوجها، وتصوم `.
وقال الدارقطني وتبعه البيهقي وابن الجوزي:
` عبد الملك هذا مجهول، والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث، ومكحول لم يسمع
من أبي أمامة شيئا `.
وأما ابن عدي فأعله بالكرماني، فإنه أورده في ترجمته فيما أنكر عليه وقال:
` وهو عندي من أهل الصدق، إلا أنه يغلط في الشيء، وليس ممن يظن به أنه
يتعمد في باب الرواية إسنادا ومتنا، وإنما هو وهم منه، وهو عندي لا بأس به
`.
وقال الحافظ في ` التقريب `:
` صدوق يخطىء `.
قلت: فالعلة - والله أعلم - ممن فوقه، إما عبد الملك شيخه، وهو مجهول،
وإما العلاء بن كثير المتهم، وهو ليس عليه بكثير.
وقد ابتلي بهذا الحديث بعض متعصبة الحنفية من المتقدمين والمتأخرين، منهم
ابن التركماني فقد حاول أوعلى الأقل أوهم أنه صحيح! فقال في ` الجوهر النقي `
متعقبا على البيهقي قوله المتقدم: ` والعلاء هو ابن كثير ضعيف الحديث `:
` قلت: لم ينسب العلاء في هذه الرواية، وقول الدارقطني: هو ابن كثير يعارضه
أن الطبراني روى هذا الحديث، وفيه العلاء بن حارث، وقال أبو حاتم: ثقة لا
أعلم أحدا من أصحاب مكحول أوثق منه.. ` إلخ.
قلت: وهذه المعارضة لا قيمة لها البتة، وذلك بين مما شرحته آنفا لولا
التعصب المذهبي الأعمى، الذي يحاول قلب الحقائق العلمية لتتفق مع الأهواء
المذهبية دائما، ولكن لا بأس من تلخيص ذلك من وجوه:
الأول: أن الطبراني له إسنادان إلى العلاء، في أحدهما التصريح بأنه ابن كثير
الواهي، وفي الآخر أنه ابن الحارث الثقة، فإطلاق العزوللطبراني بهذا لا
يخفى على اللبيب ما فيه من الإيهام المخالف للواقع!
الثاني: أن إسناده إلى ابن الحارث ضعيف، بخلاف إسناده إلى ابن كثير؛ فإنه
صحيح على ما سبق بيانه.
الثالث: أن أئمة الجرح والتعديل بينوا أنه ابن كثير؛ الواهي، فلا قيمة لرأي
مخالفهم من المتأخرين، وبخاصة إذا كان الحامل له على ذلك التعصب المذهبي.
الرابع: هب أنه ابن الحارث الثقة، ولكنه كان قد اختلط كما تقدم عن الحافظ،
فمثله لا يحتج به إلا إذا عرف أنه حدث به قبل الاختلاط، وهيهات.
الخامس: افترض أنه عرف ذلك أوأن اختلاطه يسير لا يضر فما فائدة ذلك والراوي
عنه عبد الملك مجهول، كما تقدم عن الدارقطني وغيره، وابن التركماني مقر به
وإلا لعلق عليه، فحرصه على ترجيح أنه ابن الحارث حرص ضائع.
ومنهم الشيخ علي القارىء، فإنه نقل في ` الأسرار المرفوعة ` عن ابن قيم
الجوزية قوله في ` المنار ` (ص 122/275 - حلب) :
` وكذلك تقدير أقل الحيض بثلاثة أيام وأكثره بعشرة، ليس فيها شيء صحيح، بل
كله باطل `.
فتعقبه الشيخ القاريء بقوله (




১৪১৪। হায়যের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে তিনদিন আর সর্বোচ্চ হচ্ছে দশদিন।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল আওসাত` গ্রন্থে (কাফ ১/৩৬-৫৯৩/৬১০) আহমাদ হতে, তিনি মুহরিয ইবনু আউন ও ফাযল ইবনু গানেম হতে, তারা দুজন হাসসান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে, তিনি আলা ইবনু কাসীর হতে, তিনি মাকহূল হতে, তিনি আবূ উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ত্ববারানী বলেনঃ মাকহুল হতে একমাত্র ‘আলা বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদে আলী ইবনু কাসীরকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে এর বিপরীত ঘটেছে। তিনি (৮/১৫২/৭৫৮৬/৭৪৬৫) আহমাদ ইবনু বাশীর তায়ালিসী হতে, তিনি ফাযল ইবনু গানেম হতে, তিনি হাসসান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে, তিনি আলা ইবনু হারেস হতে, তিনি মাকহুল হতে ... বর্ণনা করেছেন।





হায়সামী ত্ববারানীর দু' মু'জামের সনদের মধ্যের বর্ণনাকারী 'আলার পিতার ব্যাপারে উল্লেখিত এ ভিন্নতার দিকে লক্ষ্য করেননি। এ কারণে তিনি তার ভাষায় উভয় সনদের ‘আলাকে এক করে ফেলে `আলমাজমউয যাওয়াইদ` গ্রন্থে (১/২৮০) বলেছেনঃ হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলকাবীর` এবং `আলআওসাত` গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। যার সনদে আব্দুল মালেক কূফী রয়েছেন তিনি 'আলা ইবনু কাসীর হতে বর্ণনা করেছেন। জানি না তিনি কে?





“আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে টীকা লেখক হুবহু একই কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ দু’আলার মাঝের পার্থক্যটা বিশাল।





আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন লাইসী দেমাস্কী, তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাতরূক। তাকে ইবনু হিব্বান জাল করার দোষে দোষী করেছেন।





আর 'আলা ইবনুল হারেস হচ্ছেন হাযরামী দেমাস্কী। তিনি নির্ভরযোগ্য। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ফাকীহ। তবে তাকে কাদরিয়া সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ততার দোষে দোষী করা হয়েছিল এবং তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট দুটি কারণে আলোচ্য হাদীসটির বর্ণনাকারী হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি অর্থাৎ আহমাদ ইবনু কাসীর লাইসী দেমাস্কী, হাযরামী ননঃ





১। “আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে এ সনদটি হাসসান ইবনু ইবরাহীম পর্যন্ত সহীহ। কারণ হাসসান থেকে বর্ণনাকারী মুহরিয ইবনু আউন নির্ভরযোগ্য, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। অনুরূপভাবে ইমাম ত্ববারানীর শাইখ আহমাদ ইবনুল কাসেম ইবনে মুসাবির আবু জাফার জাওহারীও নির্ভরযোগ্য। “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৪/৩৪৯-৩৫০) এর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ত্ববারানীর “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থের সনদটি এর বিপরীত। কারণ তাতে হাসসান পর্যন্ত সনদটি সহীহ নয়। মানবী `আলফায়েয` গ্রন্থে বলেনঃ এ সনদের বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু বাশীর তায়ালিসী সম্পর্কে হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর ফাযল ইবনু গানেম সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বলেছেনঃ তিনি কিছুই না। অন্যরা তাকে চালিয়ে দিয়েছেন। আর 'আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।





আমি (আলবানী) বলছিঃ 'আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে ইমাম বুখারীর যে উক্তি মানবী উল্লেখ করেছেন তা তার থেকে ভুলক্রমে ঘটেছে। কারণ ইমাম বুখারীর এ মন্তব্য 'আলা ইবনু কাসীর সম্পর্কে, 'আলা ইবনুল হারেস সম্পর্কে নয়।





২। আলেমগণ সনদে উল্লেখিত 'আলা ইবনু কাসীরকে উল্লেখ করেই হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। ইবনু হিব্বান হাদীসটিকে `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (২/১৮১-১৮২) আলা ইবনু কাসীরের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করে বলেছেনঃ 'আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন বানু উমাইয়্যার দাস, তিনি শামীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মাকহুল ও আমর ইবনু শুয়াইব হতে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে শামী এবং মিসরীরা বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি যেগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলোর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা অবৈধ যদিও সে ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যরা তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন। আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাকে 'আলা ইবনুল হারেস মনে করেছেন। অথচ তিনি এরূপ নন। কারণ 'আলা ইবনুল হারেস হচ্ছেন হাযরামী ইয়ামানের। আর 'আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন বানু উমাইয়্যার দাস। তিনি (ইবনুল হারেস) সত্যবাদী আর ইনি (ইবনু কাসীর) হাদীসের ক্ষেত্রে কিছুই নন। ইনিই মাকহুল হতে, আর তিনি আবু উমামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ... বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি তিনি আরো পরিপূর্ণরূপে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি (ইবনু হিব্বান) তার সনদে এবং ইবনু আদী `আলকামেল` গ্রন্থে (কাফ ১/৯৯), দারাকুতনী তার “সুনান” গ্রন্থে (পৃঃ ৮০) এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী `আলআহাদীসিল ওয়াহিয়্যাহ` গ্রন্থে (১/৩৮৪) ও বাইহাকী (১/৩২৬) বিভিন্ন সূত্রে হাসসান ইবনু ইবরাহীম কিরমানী হতে, তিনি আব্দুল মালেক হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি মাকহুলকে বলতে শুনেছি যার ভাষাটি নিম্নরূপঃ





`কুমারী নারী এবং বিবাহিতা নারী যার মাসিকের রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে তারও হায়যের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে তিনদিন আর সর্বোচ্চ হচ্ছে দশদিন। দশ দিন থেকেও রক্ত যদি আরো বেশী দিন অব্যাহত থাকে তাহলে তা হচ্ছে মুসতাহাযাহ। অর্থাৎ হায়যের (নির্দিষ্ট) দিনগুলোর চেয়ে যতদিন বেশী হবে সেদিনগুলোর রক্ত হচ্ছে ইসতিহাযার রক্ত। হায়যের রক্ত হবে কালো গাঢ় যাতে লাল রং প্রাধান্য পাবে। আর ইসতিহাযার রক্ত হবে পাতলা যাতে পীত বর্ণ প্রাধান্য পাবে। সালাতের মধ্যে যদি কোন মহিলার (ইসতিহাযার রক্ত) বেশী বেশী হয় তাহলে তুলা দিয়ে দিবে। সালাতের মধ্যে যদি এর পরেও রক্ত প্রবাহিত হয় তাহলেও সালাত ছাড়বে না যদিও ফোটা ফোটা হয়ে পড়তে থাকে। তার নিকটে তার স্বামী আসবে (সহবাসের জন্য) এবং সে সওমও পালন করবে।`





দারাকুতনী এবং তার অনুসরণ করে বাইহাকী ও ইবনুল জাওযীও বলেনঃ উক্ত আব্দুল মালেক মাজহুল (অপরিচিত)। 'আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আর মাকহুল আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে কোন কিছুই শ্রবণ করেননি।





আর ইবনু আদী হাসসান কিরমানীর দ্বারা হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন। তিনি তার জীবনীতে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি আমার নিকট সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। তিনি সে দলের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের ব্যাপারে সনদ এবং হাদীসের ভাষা বর্ণনার অধ্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করতেন এরূপ ধারণা পোষণ করা হয়ে থাকে। তার থেকে এটি ভুলবশত ঘটেছে। আমার নিকট তার কোন সমস্যা নেই।





হাফিয ইবনু হাজার “আততাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আল্লাহই বেশী জানেন তবে সমস্যা হচ্ছে তার উপরে। হয় তার শাইখ আব্দুল মালেক যিনি মাজহুল (অপরিচিত) আর না হয় 'আলা ইবনু কাসীর, যাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করা হয়েছে।





এ হাদীসের কারণে কতিপয় পূর্ববতী এবং পরবর্তী গোঁড়া হানাফী পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন। যাদের মধ্যে ইবনুত তুরকুমানী রয়েছেন। তিনি চেষ্টা করেছেন অথবা কমপক্ষে এটিকে সহীহ বলে সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। তিনি `আলজাওহারুন্নাকী` গ্রন্থে ইমাম বাইহাকীর পূর্বোক্ত কথার (আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল) সমালোচনা করে বলেনঃ এ বর্ণনায় 'আলার উদ্ধৃতি নেই। দারাকুতনী যে বলেছেনঃ 'আলা হচ্ছেন ইবনু কাসীর। তা ইমাম ত্ববারানীর বর্ণনা বিরোধী যিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যার সনদের মধ্যে আল ইবনু হারেস রয়েছেন। আর আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন তিনি নির্ভরযোগ্য, মাকহুলের সাথীগণের মধ্য থেকে তার চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য হিসেবে আমি কাউকে চিনি না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ বিরোধিতার কোনই মূল্য নেই। এর কারণ হিসেবে একটু পূর্বে উল্লেখকৃত ব্যাখ্যাগুলোই যথেষ্ট যদি অন্ধভাবে মাযহাবী গোড়ামী না থাকে তাহলে যে গোড়ামীর দ্বারা জ্ঞানের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়। তার পরেও সংক্ষেপে পুনরায় আলোচনা করতে কোন সমস্যা নেইঃ





১। ইমাম ত্ববারানীর নিকট বর্ণনাকারী 'আলা পর্যন্ত দুটি সনদ রয়েছে। যার একটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে তিনি হচ্ছেন (খুবই দুর্বল) 'আলা ইবনু কাসীর। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ’আলা ইবনুল হারেস যিনি নির্ভরযোগ্য। এ কারণে তিনি (ইবনুত তুরকুমানী) ঢালাওভাবে ত্ববারানীর উদ্ধৃতিতে যা বলেছেন তা বাস্তবতা বিরোধী, চাতুরতা হতেই ঘটেছে, যা কোন বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তির নিকটেই অস্পষ্ট নয়।





২। ত্ববারানীর সে সনদটিও 'আলা ইবনুল হারেস পর্যন্ত দুর্বল যা তার (ত্ববারানীর) আলা ইবনু কাসীর পর্যন্ত সনদটির বিপরীত। কারণ এ সনদটি আলা ইবনু কাসীর পর্যন্ত সহীহ। যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।





৩। বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি এবং ভালো আখ্যা দানকারী ইমামগণ বর্ণনা করেছেন যে, আলা ইবনু কাসীর হচ্ছেন খুবই দুর্বল। অতএব পরবর্তী যুগের মধ্য থেকে তাদের বিরোধিতাকারীদের সিদ্ধান্ত মূল্যহীন। বিশেষ করে যদি এ ক্ষেত্রে মাযহাবী গোঁড়ামী উৎসাহিত করে।





৪। তার পরেও জেনে নিন। 'আলা ইবনুল হারেস নির্ভরযোগ্য ঠিক আছে। কিন্তু তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তার ন্যায় ব্যক্তির দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না যে পর্যন্ত জানা না যাবে যে, তিনি মস্তিষ্ক বিকৃতির পূর্বে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এ ব্যাপারে কিছুই জানা যায় না।





৫। যদি ধরেই নেয়া হয় যে, জানা গেলো যে, তিনি মস্তিষ্ক বিকৃতির পূর্বেই বর্ণনা করেছেন অথবা তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ছিল সামান্য পরিমাণ যা ক্ষতিকর নয়। তাহলে এতে কী উপকারিতা রয়েছে যেখানে তার থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল মালেক মাজহুল (অপরিচিত)। যেমনটি দারাকুতনী প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে। ইবনুত তুরকিমানীও এটি স্বীকার করে নিয়েছেন অন্যথায় তিনি টীকা লিখতেন। অতএব আকাঙ্ক্ষাটা নিষ্ফল বেকার আকাঙ্ক্ষা।





হানাফী মাযহাবের যারা এ পথ অবলম্বন করেছেন তাদের মধ্যে আরো রয়েছেন শাইখ আলী আলকারী। কারণ তিনি `আলআসরারুল মারফুয়াহ` গ্রন্থে ইবনুল কাইয়্যিম আলজাওযিয়্যাহ কর্তৃক `আলমানার` গ্রন্থে (পৃঃ ১২২/২৭৫) বলা কথাকে উল্লেখ করেছেনঃ অনুরূপভাবে হায়েযের সর্বনিম্ন সময় তিনদিন আর সর্বোচ্চ সময় দশদিনকে নির্ধারণ করা মর্মে কোন সহীহ কিছু (হাদীস) নেই বরং এর সব কিছুই বাতিল।





অতঃপর তিনি (শাইখ আলকারী) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ তার (এ মর্মে বর্ণিত হাদীসের) বহু সূত্র রয়েছে। হাদীসটি দারাকুতনী, ইবনু আদী ও ইবনুল জাওযী বর্ণনা করেছেন এবং বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেছেন যদিও সেগুলো দুর্বল। ফলে হাদীসটি হাসান পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতএব বানোয়াট হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করাটা ভালো হচ্ছে না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার পূর্বে ইবনুল হুমাম `ফাতহুল কাদীর” গ্রন্থে (১/১৪৩) একই দাবী করেন। অতঃপর আইনী `আলবিনায়াতু শারহুল হিদায়্যাহ` গ্রন্থে (১/৬১৮) একই পথ অবলম্বন করে তিনি আরো কিছু ভিত্তিহীন কথা বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ সে সূত্রগুলোর কোন কোনটি সহীহ।





অতঃপর কাওসারী হালাবী তার অন্ধ অনুসরণ করে `আলমানার` গ্রন্থের উপর টীকা লিখে বলেছেনঃ আল্লামাহ আলকারী সে সূত্রগুলো উল্লেখ করেছেন যেগুলোর দিকে তিনি তার কিতাবে `ফাতহু বাবিল ইনায়াহ বিশারহি কিতাবুন্নকায়াহ` (১/২০২-২০৩) ইঙ্গিত করেছেন। যেটিকে আমি তাহকীক করেছি।





কিন্তু তিনি যদি সুন্নাত এবং ইনসাফ ভিত্তিক জ্ঞানের খেদমাত করতেন তাহলে এ ক্ষেত্রে তিনি রেফারেন্স দিতেন `নাসবুর রায়া` গ্রন্থের। কারণ এটি জ্ঞানীজনদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কারণ যায়লাঈ এ বিষয়ে সর্বপেক্ষা বেশী বিজ্ঞ, হানাফী মাযহাবের যাদেরকে উল্লেখ করেছি তাদের মধ্যে। কারণ তিনি এ হাদীসগুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে গবেষণা করেছেন এবং মাযহাবী গোড়ামীর উর্দ্ধে থেকে হাদীস শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী সনদগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। আর যারা তার পরে এসেছেন তারা বিপরীত ঘটনা ঘটিয়েছেন। কারণ তারা হাদীস শাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী চলেননি। তাদের দিকে লক্ষ্য করুন কিভাবে তারা কথা বলেছেনঃ “বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যদিও সেগুলো দুর্বল, এর দ্বারা হাদীসটি হাসান পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়।”





তারা জানেন যে, হাসান পর্যন্ত পৌছে যাওয়াটা ব্যাপকভাবে ঘটে না। বরং তা শর্তযুক্ত এভাবে যে, দুর্বলতাটা যেন শক্তিশালী না হয় যেমনটি “মুস্তালাহুল হাদীস” এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখুন ইবনু সলাহ কর্তৃক রচিত `উলুমুল হাদীস`, ইবনু কাসীর কর্তৃক রচিত `আল-ইখতিসার` ও হাশিয়াতু শাইখ আলী আল-ক্বারী আলা শারহি নুখবাতুল ফিকর`।





আর এ শর্তটি এ হাদীসের ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়নি। কারণ এর সূত্রগুলোর সবগুলোর উপরেই মিথ্যুক, মাতরুক, মাজহুল বর্ণনাকারীগণ ঘুরপাক করেছে যাদের দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না। এখানে সেগুলো নিয়েও আলোচনা করা হলোঃ





১। মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে আসাদ ইবনু সাঈদ বাজালী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান সদাফী হতে, তিনি ওবাদাহ ইবনু নাসী হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে, তিনি মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ





لا حيض أقل من ثلاث، ولا فوق عشر





`তিন দিনের নিচে হায়য হয় না আর দশ দিনের উপরে হায়য থাকে না।`





হাদীসটিকে ওকায়লী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (৩৭৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ নন। তার হাদীস নিরাপদ নয় ।





ইবনু হাযম “আলমুহাল্লা” গ্রন্থে (২/১৯৭) বলেনঃ তিনি মাজহুল (অপরিচিত)। হাদীসটি সন্দেহ ছাড়াই বানোয়াট।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি (মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী আলমাসলুব (মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান) এর যিন্দীক (ধর্মহীন) হওয়ার ব্যাপারটিকে অস্বাভাবিক মনে করছি না। ইবনু আদী হাদীসটিকে `আলকামেল` গ্রন্থে (কাফ ২/২৯১) অন্য সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী হতে বর্ণনা করেছেন আর তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনুল হাসান) সনদ থেকে ওবাদাহ ইবনু নাসীকে উহ্য করে ফেলেছেন। সম্ভবত এটি তার মিথ্যা বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি মিথ্যুক ও জালকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।





তার সম্পর্কে সুফইয়ান সাওরী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। আমর ইবনু আলী বলেনঃ তিনি বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী। ইবনু আদী এ উক্তিসহ তার দোষ বর্ণনা করে অন্য ইমামগণের উক্তিগুলো উল্লেখ করার পর তার কয়েকটি মুনকার বর্ণনা উল্লেখ করে বলেছেনঃ আমি যে বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছি এগুলো ছাড়াও আরো বর্ণনা রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশের মুতাবা'য়াত করা হয়নি।





এ কথা বলা যাবে না যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান সদাফী হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ শামী ছাড়া অন্য কেউ। কারণ তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি তার নাম একশতবার পরিবর্তন করেছেন। আর তার থেকে বর্ণনাকারী আসাদ ইবনু সাঈদ বাজালী হচ্ছেন অপরিচিত। সম্ভবত তিনি সেই ব্যক্তি যাকে “আল-লিসান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছেঃ আসাদ ইবনু সাঈদ আবু ইসমাঈল কুফী। তার সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন তাকে চেনা যায় না। সম্ভবত তিনিই এ মিথ্যুক ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে ফেলেছেন।





২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। এটিকে হাসান ইবনু দীনার মুয়াবিয়্যাহ ইবনু কুররাহ হতে মারফু হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ





الحيض ثلاثة أيام و أربعة و خمسة و ستة و سبعة و ثمانية و تسعة و عشرة ، فإذا جاوز العشرة فمستحاضة





“হায়য হিসেবে গণ্য হবে তিন দিন, চার দিন, পাঁচ দিন, ছয় দিন, সাত দিন, আট দিন, নয় দিন ও দশদিন। দশ দিনের বেশী হলে তা মুস্তাহাযাহ হিসেবে গণ্য হবে।”





এটিকে ইবনু আদী (কাফ ১/৮৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ হাদীসটি জিলদ ইবনু আইউব এর সাথে পরিচিত, তিনি মুয়াবিয়্যাহ্ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বর্ণনাকারী এ জিলদ মাতরূক যেমনটি তার সম্পর্কে আলোচনা আসবে। আর হাসান ইবনু দীনার হচ্ছে মিথ্যুক যেমনটি আবু হাতিম ও আবু খায়সামাহ প্রমুখ বলেছেন। “আল-লিসান” গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করা হয়েছে। তিনি নিকৃষ্ট মিথ্যুক ও দোষীদের অন্তর্ভুক্ত।





হাদীসটি মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে জিলদ কর্তৃক মুয়াবিয়াহ ইবনু কুররাহ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটি।





এটিকে দারেমী (১/২০৯), দারাকুতনী (৭৭) ও বাইহাকী (১/৩২২) বিভিন্ন সূত্রে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।





অনুরূপভাবে ইবনু আদী তার জীবনীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার দুর্বল হওয়ার বিষয়টি ইমাম শাফেঈ ও আহমাদ এর উদ্ধৃতিতে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ বসরাবাসীগণ বর্ণনাকারী জিলদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। অনুরূপভাবে ওকায়লী বর্ণনা করে বলেছেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেনঃ তিনি দুর্বল শাইখ। ইবনু আদী ইবনু ওয়াইনাহ হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ হায়যের বিষয়ে জিলদ ইবনু আইউবের হাদীসটি নববিস্কৃত ভিত্তিহীন হাদীস।





তিনি ইয়াযীদ ইবনু যুরায়ই হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ আবু হানীফা হায়যের ব্যাপারে জিলদের হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীস পাননি।





দারাকুতনী আবূ যুর'আহ দেমাস্কী হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালকে জিলদ ইবনু আইউবের হাদীসকে অস্বীকার করতে দেখেছি। আমি আহমাদ ইবনু হাম্বালকে বলতে শুনেছিঃ যদি এটি সহীহ হতো তাহলে ইবনু সীরীন বলতেন না যে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উম্মু ওয়ালাদ ঋতুবতী হলে তিনি (আনাস) আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।





এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) জিলদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেননি। এ অর্থ হচ্ছে তিনি খুবই দুর্বল। দারাকুতনী `আয-যুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে (১৬৮/১৪১) এদিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেনঃ তিনি মাতরূক।





বাইহাকী ইমাম আহমাদ ইবনু সাঈদ দারেমী হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন আমি আবু আসেমকে বর্ণনাকারী জিলদ ইবনু আইউব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেনঃ তিনি আরবদের শাইখদের এক শাইখ ছিলেন। আমাদের সাথীগণ তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন।





আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তার আরেকটি সূত্র রয়েছে সেটিও খুবই দুর্বল। সেটিকে ইসমাঈল ইবনু দাউদ ইবনে মিখরাক- আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ দারাওয়ারদী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি ওবায়দুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ





هي حائض فيما بينها و بين عشرة فإذا زادت فهي مستحاضة





`মহিলা ঋতুবতী হবে তিন দিন থেকে দশ দিনের সময়ের মধ্যে। যদি বেশী হয় তাহলে সে মুস্তাহাযার অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।`





মওকুফ হওয়া ছাড়াও এ সূত্রটির সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকার ইসমাঈল। কারণ তিনি খুবই দুর্বল। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল।





৩। ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস আলোচ্য হাদীসটির ন্যায়। এটিকে মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনে আনাস শামী- হাম্মাদ ইবনু মিনহাল বাসরী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু রাশেদ হতে, তিনি মাকহুল হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে দারাকুতনী (পৃঃ ৮১) এবং তার সূত্র হতে ইবনুল জাওযী `আলওয়াহিয়্যাহ` গ্রন্থে (১/৩৮৫) বর্ণনা করে তারা উভয়েই বলেছেনঃ ইবনু মিনহাল মাজহুল (অপরিচিত), আর মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনে আনাস হচ্ছেন দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদের মধ্যে আরো দুটি সমস্যা রয়েছেঃ





এক. মুহাম্মাদ ইবনু রাশেদের মধ্যে দুর্বলতা। তিনি হচ্ছেন মাকহুলী খুযাঈ দেমাস্কী। ইবনু হিব্বান “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২/২৫৩) বলেনঃ তার বর্ণনার মধ্যে বহু মুনকারের সমাবেশ ঘটেছে ফলে তিনি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যোগ্য হয়ে যান। হাফিয যায়লাঈ হানাফী “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (১/১৯২) তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।





দুই. সনদে বিচ্ছিন্নতা। কারণ মাকহুল ওয়াসিলাহ হতে শ্রবণ করেননি যেমনটি ইমাম বুখারী বলেছেন। হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে 'আলা ইবনু কাসীর হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি আবু উমামাহ হতে। আর 'আলা ইবনু কাসীর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে।





৪। আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ হতে বর্ণিত হাদীস। ইয়াকুব ইবনু সুফইয়ান বলেনঃ আবু দাউদ নাখাঈ যার নাম সুলায়মান ইবনু আমর কুদরী। ইনি একজন মন্দ মিথ্যুক ব্যক্তি। তিনি উত্তর দেয়ার সময় মিথ্যা বলতেন। ইসহাক বলেনঃ আমি তার নিকট এসে তাকে বললামঃ আপনি হায়যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময় এবং দুহায়যের মধ্যর্তী পবিত্র সময় কতটুকু এ সম্পর্কে কী জানেন?





তিনি বললেনঃ আল্লাহু আকবার। আমাকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমাদেরকে আবু ত্বওয়ালাহ আবু সাঈদ খুদরী হতে এবং জাফার ইবনু মুহাম্মাদ তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মারফু হিসেবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং কিছু বৃদ্ধি করেছেনঃ





(و أقل ما بين الحيضتين خمسة عشر يوما)





`দু'হায়যের মাঝের সময়ের সর্বনিম্ন সময় হচ্ছে পনেরো দিন।`





হাদীসটি খাতীব বাগদাদী `তারীখু বাগদাদ` গ্রন্থে (৯/২০) এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী বর্ণনা করেছেন।





খাতীব হাদীসটিকে উক্ত নাখ'ঈর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বড় একদল ইমাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (নাখ'ঈ) মিথ্যুক হাদীস জালকারী।





“আল-লিসান” গ্রন্থে তার জীবনী আলোচিত হওয়ার শেষে উদ্ধৃত হয়েছেঃ ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ তিনি তাদের নিকট মিথ্যুক, হাদীস জালকারী এবং তারা (মুহাদ্দিসগণ) তার হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি (ইবনু হাজার) বলছি তার সম্পর্কে অগণিত সমালোচনা করা হয়েছে। তাকে মিথ্যুক আখ্যা দান এবং হাদীস জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন পূর্ববর্তী এবং পরের যুগের ত্রিশেরও অধিক আলেম (ইমাম) যাদের উক্তি (ভালো অথবা মন্দ হিসেবে) বর্ণনাকারী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে কোন কোন প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী তার (নাখ'ঈ) থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু জাবের হতে, তিনি মাকহুল হতে, তিনি আবু উমামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু হিববান `আয-যুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে (১/৩৩৩) ইবরাহীম ইবনু যাকারিয়া ওয়াসেতী সূত্রে সুলায়মান ইবনু আমর হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসটিকে এ সুলায়মানের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি বাহ্যিকভাবে ভালো লোক ছিলেন। তবে তিনি হাদীস জাল করতেন। তিনি কাদরী মতাবলম্বী ছিলেন। পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য ছাড়া তার হাদীস লিখাই বৈধ নয়।





তিনি ইবরাহীম ওয়াসেতীর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে (১/১১৫) বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এমন সব হাদীস নিয়ে এসেছেন যেগুলো নির্ভরশীলদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। তিনি তা ইচ্ছাকৃত না করলেও তিনি ছিলেন মিথ্যুকদের উদ্ধৃতিতে মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। কারণ আমি তাকে দেখেছি তিনি ইমাম মালেক হতে বানোয়াট বহু কিছু বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেগুলোকে মূসা ইবনু মুহাম্মাদ বালকাবী সূত্রে ইমাম মালেক হতেও বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এসব সূত্র যেগুলোর দ্বারা হাদীসটি হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বলে শাইখ আলকারী ধারণা পোষণ করেছেন। এগুলো হুবহু সেইসব হাদীস যেগুলোকে তিনি তার `ফাতহু বাবিল ইনায়াহ` গ্রন্থে (১/২০২-২০৪) উল্লেখ করে উল্লেখিত জঘন্য সমস্যাগুলো এবং হাদীসের ইমামগণের উক্তিগুলো বর্ণনা করা থেকে চুপ থেকেছেন তার গবেষণার শেষে এ কথা বলার উদ্দেশ্যেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত এসব হাদীস যেগুলো বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলো হাদীসটিকে দুর্বল থেকে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করছে।





কিন্তু এসূত্রগুলোর কিইবা মূল্য আছে যেগুলোর নির্ভরতা মিথ্যুক, মাতরূক ও মাজহুল বর্ণনাকারীদের উপর। সত্যিই বড় আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, আজকের কাওসারী এ হাদীসের অনুসরণকারী। অথচ তিনি তার কোন কোন টীকার মধ্যে লিখেছেন ‘প্রত্যেক ইলমের ক্ষেত্রে সে ইলমের বিশেষজ্ঞদের নিকট ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। কিন্তু এখানে তার অবস্থান কোথায় যেখানে তার কর্ম দ্বারা তার কথার বিরোধিতা করছেন। তিনি হাদীসের ইমামগণের উক্তিগুলো থেকে (বরং আলোচ্য এ হাদীসকে প্রতাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্যের উক্তিগুলো থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!





ফায়েদাহঃ বাইহাকী তার `সুনান` গ্রন্থে বর্ণনাকারী জিলদের হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ দিন সম্পর্কে কতিপয় দুর্বল হাদীস রৰ্ণিত হয়েছে। সেগুলোর দুর্বলতার কারণগুলো “আলখিলাফিয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেনঃ এটি বাতিল, বরং হাদীসের আলেমগণের ঐকমত্যে এটি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি তার এ কথাটি `মাজমৃউ ফাতাওয়া` গ্রন্থ (২১/৬২৩) থেকে উল্লেখ করেছি।





শাওকানী `আসসায়লুল জারার” গ্রন্থে (১/১৪২) বলেনঃ হায়যের সর্বনিম্ন আর সর্বোচ্চ সময় নির্দিষ্ট করে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে, তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়। বরং এ সম্পর্কে বর্ণিত সবগুলোই হয় বানোয়াট অথবা একেবারে দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটিই হচ্ছে সর্বপেক্ষা ইনসাফ ভিত্তিক উপকারী সংক্ষিপ্ত কথা, যা এ হাদীস সম্পর্কে বলা যেতে পারে এবং আল্লাহ আমাকে তা উপস্থাপন করার তাওফীক দান করেছেন।





ফায়েদাহঃ আলেমগণ হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তবে সহীহ এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত হচ্ছে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (১৯/২৩৭) যা বলেছেন সেটিই। তিনি বলেছেন যে, হায়যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। বরং মহিলা যে সময়কে তার অভ্যাস হিসেবে দেখবে সেটিই তার হায়যের সময়। তা যদি এক দিনেরও কম সময় অব্যাহত থাকে তাহলে সে সময়টুকুই তার হায়যের সময়। কারণ শারীয়াত এবং আরবী ভাষা থেকে জানা গেছে যে, মহিলা কখনও পবিত্র থাকে আবার কখনও ঋতুবতী থাকে। আর তার পবিত্র থাকা অবস্থার জন্য রয়েছে (পৃথক) বিধান এবং ঋতুবতী থাকা অবস্থার জন্যও রয়েছে (পৃথক) বিধান।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1415)


` من أم قوما وفيهم من هو أقرأ لكتاب الله منه، لم يزل في سفال إلى يوم
القيامة `.
ضعيف جدا
رواه الطبراني في ` الأوسط ` (1/29/2 - زوائد المعجمين)
وابن عدي (100/1)
وابن السماك في ` الأمالي ` (2/103/1) عن الحسين بن علي بن يزيد الصدائي:
حدثنا أبي عن حفص بن سليمان عن الهيثم بن عقاب عن محارب بن دثار عن ابن عمر
مرفوعا. وقال الطبراني.
` لا يروى عن ابن عمر إلا بهذا الإسناد، تفرد به الحسين `.
قلت: وهو صدوق، لكن أباه فيه لين، وحفص بن سليمان هو الغاضري وهو متروك
الحديث مع إمامته في القراءة كما تقدم.
والهيثم بن عقاب قال عبد الحق في ` أحكامه ` (41/1) :
` كوفي مجهول بالنقل حديثه غير محفوظ `.
وبه فقط أعل الحديث! وهو تابع في ذلك للعقيلي كما يأتي ثم تبعهما المناوي!
وقول الطبراني: ` تفرد به الحسين ` ليس بصواب، فقد أخرجه العقيلي في `
الضعفاء ` (451) من طريق سليمان بن توبة النهرواني قال: حدثنا علي بن يزيد
الصدائي به. وقال:
` الهيثم بن عقاب مجهول بالنقل، حديثه غير محفوظ ولا يعرف إلا به `.
‌‌




১৪১৫। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামাত করবে এমতাবস্থায় যে, সে সম্প্রদায়ের মাঝে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে তার চেয়ে ভালোভাবে কিতাবুল্লাকে পাঠ করতে পারে, তাহলে সে ব্যক্তির কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহতভাবে অধঃপতন ঘটতে থাকবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটি ত্ববারানী `আলমুজামুল আওসাত` গ্রন্থে (১/২৯/২), ইবনু আদী (১/১০০), ইবনুস সাম্মাক “আলআমলী” গ্রন্থে (২/১০৩/১) হুসাইন ইবনু আলী ইবনে ইয়াযীদ সুদাঈ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি হাফস ইবনু সুলায়মান হতে, তিনি হায়সাম ইবনু ইকাব হতে, তিনি মুহারিব ইবনু দিসার হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ত্ববারানী বলেনঃ একমাত্র এ সনদেই আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীসটি বর্ণনা করা হয়ে থাকে। হুসাইন এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি সত্যবাদী। কিন্তু তার পিতার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। আর হাফস ইবনু সুলায়মান হচ্ছেন গাযেরী। তিনি কিরাআতের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও হাদীসের ক্ষেত্রে মাতরূক।





আর হায়সাম ইবনু ইকাব সম্পর্কে আব্দুল হক তার `আহকাম` গ্রন্থে (১/৪১) বলেনঃ তিনি কূফী, বর্ণনার ক্ষেত্রে মাজহুল (অপরিচিত), তার হাদীস নিরাপদ নয়।





ত্ববারানী যে বলেছেন হুসাইন হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তার এ কথা সঠিক নয়। কারণ ওকায়লী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (৪৫১) সুলায়মান ইবনু তওবা নাহরাওয়ানী সূত্রে আলী ইবনু ইয়াযীদ সুদাঈ হতে ... বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ হায়সাম ইবনু ইকাব বর্ণনার ক্ষেত্রে মাজহুল (অপরিচিত)। তার হাদীস নিরাপদ নয় এবং হাদীসটি একমাত্র তার মাধ্যমেই জানা যায়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1416)


` من جحد أية من القرآن فقد حل ضرب عنقه، ومن قال: لا إله إلا الله وحده لا
شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، فلا سبيل لأحد عليه، إلا أن يصيب حدا،
فيقام عليه `.
منكر

أخرجه ابن ماجه (2539) وابن عدي (101/1) والهروي في ` ذم الكلام ` (2/25/1 - 2) من طريق حفص بن عمر بن ميمون العدني: حدثنا الحكم بن أبان عن
عكرمة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال ابن عدي:
` والحكم بن أبان، وإن كان فيه لين، فإن حفصا هذا ألين منه بكثير،
والبلاء منه لا من الحكم، وعامة حديثه غير محفوظ `.
وفي ` التقريب `:
الحكم بن أبان صدوق عابد، وله أوهام. وحفص بن عمر العدني ضعيف
وذكر له الذهبي في ` الميزان ` هذا الحديث من منكراته.
‌‌




১৪১৬। যে ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত অস্বীকার করবে তার গর্দানে প্রহার করা (গর্দান উড়িয়ে দেয়া) বৈধ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা-শারীকালাহু, অ আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরসূলুহু বলবে, তার বিপক্ষে কারো জন্য কোন কিছু করার কোনই সুযোগ নেই। তবে সে যদি কোন শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তার উপরে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটি ইবনু মাজাহ (২৫৩৯), ইবনু আদী (১/১০১), হারাবী `যাম্মুল কালাম` গ্রন্থে (২/২৫/১-২) হাফস ইবনু উমার ইবনে মায়মূন আদানী সূত্রে হকাম ইবনু আবান হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





ইবনু আদী বলেনঃ হাকাম ইবনু আবানের মধ্যে যদিও দুর্বলতা রয়েছে তবুও হাফসের মধ্যে তার চেয়ে বহু বেশী দুর্বলতা রয়েছে। বিপদটা এসেছে তার থেকে, হাকাম থেকে নয়। তার অধিকাংশ হাদীস নিরাপদ নয়।





“আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছেঃ হাকীম ইবনু আবান সত্যবাদী একজন আবেদ। তার কতিপয় সন্দেহযুক্ত বর্ণনা রয়েছে। আর হাফস ইবনু উমার আদানী দুর্বল।





হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ হাদীসটি তার মুনকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1417)


` من أراد أن يلقى الله طاهرا مطهرا فليتزوج الحرائر `.
ضعيف
رواه ابن ماجه (1862) وابن عدي (164/2) وعنه ابن عساكر (4/284/1) عن
سلام بن سوار: حدثنا كثير بن سليم عن الضحاك بن مزاحم قال: سمعت أنس بن
مالك قال: فذكره مرفوعا. وقال ابن عدي:
` لا أعلم رواه عن كثير بن سليم عن الضحاك عن ابن عباس إلا سلام هذا، وغيره
قال: عن كثير بن سليم عن الضحاك عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا، وروي عن
نهشل عن الضحاك عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم، وسلام بن سوار هو
عندي منكر الحديث.
قلت: ونحوه شيخه كثير بن سليم وهو الضبي، وقد جزم بضعفهما الحافظ في `
التقريب `. ولذلك أشار المنذري في ` الترغيب ` (3/67) لضعفه. ونقل
المناوي عنه أنه قال: ` حديث ضعيف `. وهذا ليس عنده إلا إشارة كما ذكرنا،
والله أعلم.
والحديث ذكره البخاري في ` التاريخ الكبير ` (4/2/404) معلقا في ترجمة يونس
ابن مرداس عن أنس قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره. وقال:
` وروى عنه أحمد بن يوسف العجلي `.
ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. وقال محققه - وهو اليماني رحمه الله
تعالى:
` هذه الترجمة من (قط) ، ولم أجده ولا الراوي عنه فيما عندنا من الكتب.
فالله أعلم `.
‌‌




১৪১৭। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে পবিত্র অবস্থায় মিলিত হতে চায় সে যেন স্বাধীন নারীদের বিয়ে করে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি ইবনু মাজাহ (১৮৬২), ইবনু আদী (২/১৬৪), তার থেকে ইবনু আসাকির (৪/২৮৪/১) সালাম ইবনু সিওয়ার হতে, তিনি কাসীর ইবনু সুলাইম হতে, তিনি যহহাক ইবনু মাযাহিম হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ... মারফু হিসেবে।





ইবনু আদী বলেনঃ কাসীর ইবনু সুলাইম হতে, তিনি যাহহাক হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এ সূত্রে সালাম ইবনু সিওয়ার ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানি না। অন্যরা বলেনঃ তিনি কাসীর ইবনু সুলাইম হতে, তিনি যহহাক হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নাহশাল হতে, তিনি যাহহাক হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। সালাম ইবনু সিওয়ার আমার নিকট মুনকারুল হাদীস।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার শাইখ কাসীর ইবনু সুলায়েমও তার মতই, তিনি হচ্ছেন যব্বী। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে তাদের দু'জনের দুর্বল হওয়ার বিষয়টি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (৩/৬৭) হাদীসটি দুর্বল হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর মানবী তার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1418)


` شر الناس شرار العلماء `.
ضعيف
رواه ابن عدي (101/2) عن حفص بن عمر أبي إسماعيل: حدثنا ثور بن يزيد عن خالد
ابن معدان عن مالك بن يخامر عن معاذ بن جبل قال:
كنت أطوف مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: يا رسول الله! من أشر
الناس؟ فأعرض
عني، ثم سألته فأعرض عني، ثم سألته فقال: ` شرار العلماء `.
وقال:
` لا أعرفه إلا من حديث حفص بن عمر الأبلي، وأحاديثه كلها؛ إما منكر المتن،
أومنكر الإسناد، وهو إلى الضعف أقرب `.
قلت: وكذبه أبو حاتم والساجي، ولكنه لم يتفرد به، فقد رواه البزار (167
) عن الخليل بن مرة عن ثور بن يزيد به نحوه.
وأورده المنذري في ` الترغيب ` (1/77) وقال:
` رواه البزار وفيه الخليل بن مرة، وهو حديث غريب `.
قلت: الخليل هذا ضعفه الجمهور، وهو من أتباع التابعين.
وله شاهد مرسل أخرجه الدارمي (1/104) : أخبرنا نعيم بن حماد: حدثنا بقية،
عن الأحوص بن حكيم عن أبيه قال:
` سأل رجل النبي عن الشر؟ فقال: لا تسألوني عن الشر، واسألوني عن الخير،
يقولها ثلاثا. ثم قال: ألا إن شر الشر شرار العلماء، وإن خير الخير خيار
العلماء `.
قلت: وهذا مرسل، حكيم أبو الأحوص تابعي، وهو صدوق يهم. ومن دونه كلهم
ضعفاء!
‌‌




১৪১৮। সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট মানুষ হচ্ছে নিকৃষ্ট আলেমরা।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি ইবনু আদী (২/১০১) হাফস ইবনু উমার আবু ইসমাঈল হতে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি খালেদ ইবনু মি’দান হতে, তিনি মালেক ইবনু যুখামির হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাওয়াফ করতেছিলাম। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! কে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট মানুষ? তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তাকে আমি আবার প্রশ্ন করলাম। তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমি আবারও তাকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ নিকৃষ্ট আলেমগণ।





ইবনু আদী বলেনঃ আমি এটিকে একমাত্র হাফস ইবনু উমার উবুল্লীর হাদীস হতেই চিনি। আর তার সব হাদীসগুলোরই হয় ভাষা মুনকার অথবা সনদ মুনকার। তিনি দুর্বল হওয়ার দিকেই বেশী নিকটবর্তী।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তাকে আবু হাতিম ও সাজী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি। হাদীসটিকে বাযযার (১৬৭) খালীল ইবনু মুররা হতে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদ ... হতে তার মতই বর্ণনা করেছেন।





এটিকে মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (১/৭৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীসটিকে বাযযার বর্ণনা করেছেন। তার সনদে খালীল ইবনু মুররা রয়েছেন। হাদীসটি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এর একটি মুরসাল শাহেদ রয়েছে সেটিকে দারেমী (১/১০৪) নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ হতে, তিনি বাকিয়্যাহ হতে, তিনি আলআহওয়াস ইবনু হাকীম হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মন্দ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমাকে মন্দ সম্পর্কে প্রশ্ন করো না, আমাকে ভালো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। তিনি কথাটি তিনবার বলার পর বললেনঃ অবশ্যই নিকৃষ্ট আলেমরাই হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বেশী নিকৃষ্ট। আর ভালো আলেমরা হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা বেশী ভালো।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মুরসাল। হাকীম আবুল আহওয়াস তাবেঈ। তিনি সত্যবাদী কিন্তু সন্দেহ পোষণ করতেন। আর তার নিচের বর্ণনাকারী সকলেই দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1419)


` تدرون ما يقول الأسد في زئيره؟ قالوا: الله ورسوله أعلم، قال: يقول:
اللهم لا تسلطني على أحد من أهل المعروف `.
منكر

أخرجه الطبراني في ` مختصر مكارم الأخلاق ` (1/13/1) ومن طريقه الديلمي (2/1/40) : حدثنا محمد بن داود الصدفي: حدثنا الزبير بن محمد العثماني: حدثنا علي بن عبد الله بن الحباب المدني عن محمد بن عبد الرحمن بن داود المدني عن
محمد بن عجلان عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه
وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف مظلم، ما بين الطبراني وابن عجلان ثلاثتهم مجهولون لم
يذكروا في شيء من كتب الرجال المعروفة، حتى ولا في ` الأنساب ` للسمعاني.
والحديث منكر ظاهر النكارة. والله تعالى أعلم.
‌‌




১৪১৯। তোমরা কি জানো বাঘটি তার চিৎকারের মধ্যে কী বলছে? তারা বললোঃ না। তিনি বললেনঃ সে বলছে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ভালো লোকদের মধ্য থেকে কারো বিপক্ষে নিয়োজিত করে না।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ত্ববারানী “মুখতাসারু মাকারিমিল আখলাক” গ্রন্থে (১/১৩/১) এবং তার সূত্রে দায়লামী (২/১/৪০) মুহাম্মাদ ইবনু দাউদ সদাফী হতে, তিনি যুবায়ের ইবনু মুহাম্মাদ উসমানী হতে, তিনি আলী ইবনু আদিল্লাহ ইবনিল হুবাব মাদানী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দির রহমান ইবনে দাউদ মাদানী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ত্ববারানী এবং ইবনু আজলানের মাঝের তিনজন বর্ণনাকারী মাজহুল (অপরিচিত)। জীবনী আলোচনা করার উদ্দেশ্যে লিখা পরিচিত কোন কিতাবে তাদেরকে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি সামায়ানীর `আলআনসাব` গ্রন্থেও উল্লেখ করা হয়নি। হাদীসটি সুস্পষ্ট মুনকার।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1420)


` إذا أحببت رجلا فلا تماره، ولا تجاره، ولا تشاره، ولا تسأل عنه، فعسى
أن توافق له عدوا، فيخبرك بما ليس فيه، فيفرق ما بينك وبينه `.
منكر

أخرجه العقيلي في ` الضعفاء ` (3/434 - بيروت) وابن السني في ` عمل اليوم
والليلة ` (رقم 196) وأبو نعيم في ` الحلية ` (5/136) من طريق غالب بن
وزير، قال: حدثنا ابن وهب عن معاوية بن صالح عن أبي الزاهرية عن جبير بن نفير
عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم،
وقال أبو نعيم:
` غريب من حديث جبير بن نفير عن معاذ متصلا، وأرسله غير ابن وهب عن معاوية `.
وقال العقيلي:
` غالب حديثه منكر لا أصل له، ولم يأت به عن ابن وهب غيره، ولا يعرف إلا به `.
ثم قال:
` هذا يروى من كلام الحسن البصري `.
قلت: وهو به أشبه. وقال الذهبي:
` هذا حديث باطل `.
‌‌




১৪২০। তুমি যখন কোন (অপরিচিত) ব্যক্তিকে ভালো বাসবে তখন তার সাথে ঝগড়া করো না, তার প্রতিবেশী হবে না, তার সাথে খারাপ আচরণ করো না যা তাকে তোমার সাথে খারাপ আচরণ করতে উৎসাহিত করে অথবা তার সাথে ব্যবসা করো না, তার সম্পর্কে অন্য কারো নিকট জিজ্ঞেস করো না। কারণ হতে পারে এমন কোন ব্যক্তি ভাগ্যে মিলে যাবে যে তার দুশমন। ফলে সে তোমাকে তার সম্পর্কে এমন সংবাদ দিবে যা তার মধ্যে নেই। ফলশ্রুতিতে সে তোমার আর তার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিবে।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটি ওকায়লী `আয-যুয়াফা` গ্রন্থে (৩/৪৩৪), ইবনুস সুন্নী `আমলুল ইওয়াম অললাইলাহ` (১৯৬) ও আবু নুয়াইম `আলহিলয়্যাহ` গ্রন্থে (৫/১৩৬) গালেব ইবনু ওযায়ের সূত্রে ইবনু ওয়াহাব হতে, তিনি মুয়াবিয়্যাহ হতে, তিনি সালেহ হতে, তিনি আবুয যাহেরিয়্যাহ হতে, তিনি যুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আবু নুয়াইম বলেনঃ জুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে মুত্তাসিল হিসেবে হাদীসটি গারীব। ইবনু ওয়াহাব ছাড়া অন্যরা হাদীসটি মুয়াবিয়্যাহ হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ওকায়লী বলেনঃ বর্ণনাকারী গালেবের হাদীস মুনকার ও ভিত্তিহীন। ইবনু ওয়াহাব থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ হাদীস বর্ণনা করেননি এবং হাদীসটি একমাত্র তার মাধ্যমেই জানা যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ এটি হাসান বাসরীর বাণী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয যাহাবী বলেনঃ এ হাদিসটি বাতিল।