সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ
` آخر أربعاء من الشهر يوم نحس مستمر `.
موضوع.
أخرجه الخطيب في ` تاريخ بغداد ` (14 / 405) من طريق مسلمة بن الصلت: حدثنا أبو الوزير صاحب ديوان المهدي حدثنا المهدي أمير المؤمنين عن أبيه عن أبيه عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، مسلمة هذا متروك الحديث كما تقدم (1569) وفوقه من لا يعرف حاله في الحديث. والحديث أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` من رواية الخطيب، وقال: ` لا يصح، مسلمة متروك `. وأقره السيوطي في ` اللآليء ` (1 / 484 - 485) فلم يتعقبه بشيء يذكر، سوى أنه روي من طريق أخرى عن المهدي به موقوفا. قلت: ومع وقفه إسناده ضعيف، وكذلك أقره في ` الجامع الكبير `، فقال (1 / 3 / 1) : ` رواه وكيع في ` الغرر `، وابن مردويه في ` تفسيره `، والخطيب، عن ابن عباس رضي الله عنهما، وفيه مسلمة بن الصلت متروك، وأورده ابن الجوزي في الموضوعات `، ورواه الطيوري من وجه آخر عن ابن
عباس رضي الله عنهما موقوفا `. وقال الحافظ في ترجمته من ` اللسان `: ` ورأيت له حديثا منكرا، رواه أبو الحسن علي بن نجيح العلاف: حدثنا … `. ثم ذكر هذا الحديث. وقد روي الحديث بلفظ: ` يوم الأربعاء يوم نحسن مستمر `.
أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` أيضا من طرق، وكلها واهية شديدة الضعف، فما أبعد ابن الجوزي عن الصواب! وما أحسن السيوطي بإيراده إياه في ` الزيادة على الجامع `!
১৫৮১। প্রতি মাসের শেষ বুধবার অব্যাহতভাবে অমঙ্গলের দিন।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১৪/৪০৫) মাসলামাহ ইবনুস সলত সূত্রে দিওয়ানু মাহদীর লেখক আবুল অয়ীর হতে, তিনি আমীরুল মু'মিনীন মাহদী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এ মাসলামাহ মাতরূকুল হাদীস যেমনটি (১৫৬৯) হাদীসে তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর তার উপরে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন হাদীসের ক্ষেত্রে যার অবস্থা জানা যায় না।
হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী খাতীবের বর্ণনায় “আলমাওয়ূয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। মাসলামাহ মাতরূক।
হাফিয সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (১/৪৮৪-৪৮৫) উপরোক্ত বক্তব্যকে সমর্থন করে কোন সমালোচনামূলক কিছু উল্লেখ করেননি। শুধুমাত্র বলেছেনঃ এটি অন্য সূত্রে মাহদী হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছি মওকুফ হওয়া সত্ত্বেও এটি দুর্বল। তিনি “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে এ কথা স্বীকার করে বলেছেনঃ এটিকে অকী `আলগুরাব` গ্রন্থে, ইবনু মারদুবিয়্যাহ তার `তাফসীর` গ্রন্থে ও খাতীব আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে মাসলামাহ ইবনুস সলত রয়েছেন তিনি মাতরূক। এটিকে ইবনুল জাওযী “আলমাওযুয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ত্বয়ূরী অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মাওকৃফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার `আল-লিসান` গ্রন্থে বলেনঃ আমি তার একটি মুনকার হাদীস দেখেছি। সেটিকে আবুল হাসান আলী ইবনু নাজীহ আল্লাফ বর্ণনা করেছেন ... । অতঃপর তিনি তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এ হাদীসটিকে নিম্নের বাক্যেও বর্ণনা করা হয়েছেঃ
`বুধবার হচ্ছে অব্যাহতভাবে অমঙ্গলের দিন।`
এটিকে ইবনুল জাওযী “আলমাওযুয়াত” গ্রন্থেও বিভিন্ন সূত্র হতে বর্ণনা করেছেন। যার সবগুলোই খুবই দুর্বল।
` آل القرآن آل الله `.
باطل.
أخرجه الخطيب في ` رواة مالك ` من طريق محمد بن بزيع المدني عن مالك عن الزهري عن أنس رضي الله عنه. وقال: ` ابن بزيع مجهول `. وقال في ` الميزان `: ` هو خبر باطل `. كذا في ` الجامع الكبير ` (1 / 3 / 1) .
قلت: وكذلك قال العسقلاني في ` اللسان `، ومع ذلك أورده السيوطي في ` الجامع الصغير `! لكني قد وجدت لابن بزيع متابعا، وكذلك للزهري.
أما الأول، فتابعه محمد بن عبد الرحمن بن غزوان: حدثنا مالك بن أنس به، بلفظ: ` إن لله أهلين من الناس، قيل: من هم؟ قال: أهل القرآن، هم أهل الله وخاصته `. أخرجه لاحق بن محمد الإسكاف في ` شيوخه ` (115 / 2) والخطيب في ` تاريخ بغداد ` (2 / 311) وفي ` الموضح ` (2 / 202) وروي عن الدارقطني أنه قال: ` تفرد به ابن غزوان، وكان كذابا، فلا يصح عن مالك، ولا عن الزهري، وإنما يروى هكذا عن بديل بن ميسرة عن أنس `. قلت: وفات الدارقطني متابعة ابن بزيع. وأما الزهري، فتابعه بديل بن ميسرة، يرويه عنه ابنه عبد الرحمن بن بديل العقيلي عن أنس بهذا اللفظ الثاني. أخرجه الطيالسي في ` مسنده ` (2124) : حدثنا عبد الرحمن بن بديل العقيلي به. ومن طريقه أبو نعيم في ` الحلية ` (3 / 63) . وأخرجه ابن ماجة (215) وابن نصر في ` قيام الليل ` (ص 70) والحاكم (1 /
556) وأحمد (3 / 127 و127 - 128 و242) وأبو عبيد في ` فضائل القرآن ` (ق 11 / 1) وأبو نعيم أيضا (9 / 40) والخطيب (5 / 357) وابن عساكر (2 / 422 / 2) من طرق أخرى عن عبد الرحمن بن بديل به. وقال الحاكم: ` قد روي هذا الحديث من ثلاثة أوجه عن أنس، هذا أمثلها `.
وكذا قال الذهبي، ولم يفصحا عن حال هذا الإسناد. وهو في نقدي جيد، فإن بديل بن ميسرة ثقة من رجال مسلم. وابنه عبد الرحمن، قال ابن معين وأبو داود والنسائي: ` ليس به بأس `. وقال الطيالسي: ` ثقة صدوق `. وذكره ابن حبان في ` الثقات `.
ولم يضعفه أحد غير ابن معين في رواية، وهو جرح غير مفسر فلا يقبل، لاسيما مع مخالفته لروايته الأولى الموافقة لقول الأئمة الآخرين. وأما قول الأزدي: ` فيه لين `، فهو اللين، لأنهم تكلموا فيه هو نفسه، فلا يقبل جرحه، لاسيما عند المخالفة، وكأنه لذلك قال البوصيري في ` الزوائد `: ` إسناده صحيح `.
وخلاصة القول: إن الحديث بلفظه الأول باطل، وبلفظه الآخر صحيح ثابت. والله أعلم. فهذا هو التحقيق في هذا الحديث، وأما استدارك العلقمي في ` شرحه على الجامع الصغير ` على الحافظ الذهبي قوله فيه: ` خبر
باطل ` بقوله: ` قلت: لكن ذكر المؤلف له في ` الجامع الصغير ` يدل على أنه ليس بموضوع، لقوله في ديباجة الكتاب: (وصنته عما تفرد به وضاع أوكذاب) `. فمما لا ينفق سوقه في هذا الباب، لكثرة الأحاديث الموضوعة التي وقعت في الكتاب، والكثير منها، حكم بوضعها السيوطي نفسه في غير ` الجامع الصغير `، ومنها هذا الحديث، فقد أقر هو الذهبي على إبطاله إياه في ` الجامع الكبير ` كما رأيت. وقد فصلت القول في هذا
في مقدمة كتابي ` صحيح الجامع الصغير وزيادته ` و` ضعيف الجامع الصغير وزيادته `. وقد يسر الله تعالى لنا طبعه. وله الحمد والمنة.
১৫৮২। কুরআনের আপনজন (বংশধর) হচ্ছে আল্লাহর আপনজন (বংশধর)।
হাদীসটি বাতিল। বাতিল। (তবে অন্য ভাষায় সহীহ্, যা নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে)।
হাদীসটিকে খাতীব “রুওয়াতু মালেক” গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনু বাযী মাদানী সূত্রে মালেক হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ইবনু বাযী মাজহুল। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ এ হাদীসটি বাতিল। “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (১/৩/১) এরূপই এসেছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হাজার আসকালানী “আললিসান” গ্রন্থে অনুরূপ কথাই বলেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে আমি ইবনু বাযী'র মুতাবায়াতকারী পেয়েছি। অনুরূপভাবে যুহরীর মুতাবা'য়াতকারীও পেয়েছি।
প্রথমজনের মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু গাযঅন মুতাবা'য়াত করেছেন মালেক ইবনু আনাস হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নিম্নের বাক্যেঃ
إن لله أهلين من الناس، قيل: من هم؟ قال: أهل القرآن، هم أهل الله وخاصته
“লোকেদের মাঝেই আল্লাহর আপনজন রয়েছে।” কেউ বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! তার কারা? তিনি বললেনঃ `কুরআনের ধারকগণ আল্লাহর আপনজন ও তার খাস বান্দা।`
এটিকে লাহেক ইবনু মুহাম্মাদ ইসকাফ তার “শুয়ুখ” গ্রন্থে (২/১১৫), খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (২/৩১১) ও “আলমুয়াযযিহ” (২/২০২) বর্ণনা করেছেন। আর দারাকুতনী হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ এটিকে ইবন গাযঅন এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ছিলেন মিথ্যুক। এটি মালেক হতে সহীহ নয়, যুহরী হতেও নয়। বাদীল ইবনু মায়সারাহ সূত্রে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এরূপ বর্ণনা করা হয়ে থাকে।
আমি (আলবানী) বলছি দারাকুতনীর নিকট ইবনু বাযী'র মুতাবায়াতের বিষয়টি ছুটে গেছে।
আর যুহরীর মুতাবা'য়াত করেছেন বাদীল ইবনু মায়সারাহ। তার থেকে তার ছেলে আব্দুর রহমান ইবনু বাদীল ওকায়লী আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে দ্বিতীয় ভাষায় বর্ণনা করেছেন।
এটিকে তায়ালিসী তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে (২১২৪) আব্দুর রহমান ইবনু বাদীল ওকায়লী বর্ণনা করেছেন। আর তার সূত্রে আবু নুয়াইম “আলহিলয়্যাহ` (৩/৬৩) বর্ণনা করেছেন।
ইবনু মাজাহ (২১৫) ও ইবনু নাসর `কিয়ামুল লাইল` গ্রন্থে (পৃঃ ৭০), হাকিম (১/৫৫৬), আহমাদ (৩/১২৭, ১২৮, ২৪২), আবূ ওবাইদ `ফাযাইলুল কুরআন` (কাফ ১/১১), আবূ নুয়াইমও (৯/৪০), খাতীব (৫/৩৫৭) ও ইবনু আসাকির (২/৪২২/২) বিভিন্ন সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনু বাদীল হতে বর্ণনা করেছেন।
হাকিম বলেনঃ এ হাদীসটি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তিনটি সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে ... ৷ হাফিয যাহাবীও একই কথা বলেছেন। কিন্তু তারা উভয়ে এ সনদের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট করেননি।
তবে আমার (আলবানীর) নিকট সনদটি ভালো। কারণ বাদীল ইবনু মায়সারাহ নির্ভরযোগ্য, ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী। আর তার ছেলে আব্দুর রহমান সম্পর্কে ইবনু মা'ঈন, আবু দাউদ ও নাসাঈ বলেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। ত্বায়ালিসী বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য সত্যবাদী। তাকে ইবনু হিব্বান “আসসিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় তাকে ইবনু মাঈন ছাড়া অন্য কেউ দুর্বল আখ্যা দেননি। আর তার এ দোষারোপ ব্যাখ্যাহীন। অতএব তার (এ বর্ণনার) দুর্বল বলা মতটা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে তিনি তার প্রথম মতের বিরোধিতা করে এ দ্বিতীয় মত প্রকাশ করার কারণে, যে প্রথম মতটির অন্যান্য ইমামদের মতের সাথে মিল রয়েছে।
আর আযদী যে বলেছেনঃ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে, তার এ কথাও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আযদীর ব্যাপারেই সমালোচনা করা হয়েছে। অতএব তার থেকে বর্ণিত দোষ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে তিনি যখন অন্য মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। আর এ কারণেই বুসয়রী “আযযাওয়াইদ” গ্রন্থে বলেছেনঃ এ সনদটি সহীহ।
মোটকথাঃ হাদীসটি প্রথম বাক্যে বাতিল আর দ্বিতীয় বাক্যে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
` خشية الله رأس كل حكمة، والورع سيد العمل، ومن لم يكن له ورع يحجزه عن معصية الله عز وجل إذا خلا بها، لم يعبإ الله بسائر عمله شيئا `.
ضعيف.
أخرجه ابن أبي الدنيا في ` الورع ` (159 / 1) وأبو نعيم في ` الحلية ` (2 / 387) والقضاعي في ` مسند الشهاب ` (5 / 2) وابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (595) عن القاسم بن هاشم السمسار قال: حدثتنا سعيدة بنت حكامة قالت: حدثتني أمي حكامة بنت عثمان بن دينار عن أبيها عن أخيه مالك بن دينار عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال أبو نعيم: ` رواه أبو يعلى المنقري عن حكامة عن أبيها عن مالك عن ثابت عن أنس `. قلت: وهذا إسناد ضعيف، عثمان بن دينار، قال العقيلي في ` الضعفاء ` (289) : ` تروي عنه حكامة ابنته أحاديث بواطيل، ليس لها أصل `.
ثم قال: ` أحاديث حكامة تشبه حديث القصاص ليس لها أصول `. قلت: وأوردها الذهبي في ` فصل النساء المجهولات `.
১৫৮৩। প্রত্যেক হিকমাতের মূল হচ্ছে আল্লাহ ভীতি। পরহেযগারিতা হচ্ছে কর্মের সরদার। যখন কেও গুনাহের সাথে একাকী হয় আর তার এমন পরহেযগারিতা থাকে না যা তাকে আল্লাহর নাফারমানী করা হতে বাধা প্রদান করে তখন তার সব আমলের দ্বারা আল্লাহ্ তা'য়ালা তার কিছুই পূর্ণ করবেন না।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া “আলঅরউ” গ্রন্থে (১/১৫৯), আবূ নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (২/৩৮৭), কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/৫) ও ইবনুল জাওযী “যাম্মুল হাওয়া” গ্রন্থে (৫৯৫) কাসেম ইবনু হাশেম সিমসার হতে, তিনি সা'ঈদাহ বিনতু হাক্কামাহ হতে, তিনি (তার মা) হাক্কামাহ বিনতু উসমান ইবনু দীনার হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার ভাই হতে, তিনি মালেক ইবনু দীনার হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ....।
আবু নুয়াইম বলেনঃ এটিকে আবূ ইয়ালা মানকেরী হাক্কামাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি মালেক হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। উসমান ইবনু দীনারকে ওকায়লী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২৮৯) উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাক্কামাহ্ তার পিতা উসমান হতে কতিপয় বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। অতঃপর বলেছেনঃ হাক্কামার হাদীসগুলো ঘটনা বর্ণনাকারীদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যেগুলোর ভিত্তি নেই।
আমি (আলবানী) বলছি তাকে (হাক্কামাকে) হাফিয যাহাবী অপরিচিতা মহিলাদের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
` إن الإيمان سربال يسربله الله من يشاء، فإذا زنى العبد نزع منه سربال الإيمان، فإذا تاب رد عليه `.
ضعيف جدا.
أخرجه ابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (ص 190) من طريق يحيى بن أبي طالب قال: حدثنا عمر [و] بن عبد الغفار قال: حدثنا العوام بن حوشب قال: حدثنا علي بن مدرك عن أبي زرعة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، رجاله ثقات، على كلام في يحيى لا يضر، غير عمرو بن عبد الغفار وهو الفقيمي. قال أبو حاتم: ` متروك الحديث `. وقال ابن عدي: ` اتهم بوضع الحديث `. وقال العقيلي وغيره: ` منكر الحديث `. والحديث أورده السيوطي في ` الجامع الكبير ` (1 / 163 / 2) من رواية البيهقي في ` شعب الإيمان ` وابن مردويه عن أبي هريرة، ولكنه أساء بذكره إياه في ` الزيادة على الجامع `.
১৫৮৪। ঈমান হচ্ছে পরিধেয় বস্ত্র, আল্লাহ্ তা'য়ালা যাকে ইচ্ছা তা পরিধান করিয়ে থাকেন। বান্দা যখন যেনা করে তখন তার থেকে ঈমানের পরিধেয় পোষাক ছিনিয়ে নেয়া হয়। অতঃপর যখন সে তওবা্ করে তখন তাকে তার নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী “যাম্মুল হাওয়া” গ্রন্থে (পৃঃ ১৯০) ইয়াহইয়া ইবনু আবী তালেব হতে, তিনি আমর ইবনু আব্দুল গাফফার হতে, তিনি আওয়াম ইবনু হাওশাব হতে, তিনি আলী ইবনু মুদরিক হতে, তিনি আবু যুর’য়াহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বর্ণনাকারী আমর ইবনু আব্দুল গাফফার (তিনি হচ্ছেন ফুকাইমী) ছাড়া সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য যদিও বর্ণনাকারী ইয়াহইয়ার ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে তবে তা ক্ষতিকর নয়।
আমর সম্পর্কে আৰূ হাতিম বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করার দোষে দোষী। ওকায়লী প্রমুখ বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।
হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (১/১৬৩/২) বাইহাকীর “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থের বর্ণনায় এবং ইবনু মারদুবিয়্যার বর্ণনায় আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি উল্লেখ করে ক্রটি করেছেন।
` ابتغوا الخير عند حسان الوجوه `.
كذب.
روي عن أبي هريرة وغيره من الصحابة وله عنه طرق:
1 - عن يزيد بن عبد الملك النوفلي عن عمران بن أبي أنس عنه مرفوعا به. أخرجه ابن أبي الدنيا في ` قضاء الحوائج `، والدارقطني في ` الأفراد `.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، وله علتان: الأولى: الانقطاع بين عمران وأبي هريرة، فإن بين وفاتيهما نحوثمان وخمسين سنة. والأخرى: ضعف النوفلي، قال الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `: ` ضعفوه `. وقال الحافظ: ` ضعيف `.
2 - عن محمد بن الأزهر البلخي قال: حدثنا زيد بن الحباب، قال: حدثنا عبد الرحمن بن إبراهيم عن العلاء بن عبد الرحمن عن أبيه عنه مرفوعا بلفظ: ` اطلبوا الخير … `. رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (228) في ترجمة عبد الرحمن هذا، وهو القاص البصري،
وروى عن ابن معين أنه قال فيه: ` ليس بشيء `. وقال في الحديث:
` ليس له إسناد يثبت `. وأورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` من رواية العقيلي، وقال: ` عبد الرحمن ليس بشيء، ومحمد بن الأزهر يحدث عن الكذابين `.
3 - عن طلحة بن عمرو: سمعت عطاء عن أبي هريرة مرفوعا. أخرجه الطبراني في ` الأوسط `، وأبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (2 / 246 - 247) ، وقال الهيثمي (8 / 195) : ` وطلحة بن عمرو متروك `. وأما بقية الطرق عن الصحابة المشار إليهم، فقد تجمع عندي كثير منها، وأورد ابن الجوزي والسيوطي قسما طيبا منها، وكلها معلولة، وبعضها أشد ضعفا من بعض، ولعل الله تعالى ييسر لي جمعها وبسط الكلام عليها في مناسبة أخرى إن شاء الله تعالى. وجملة القول فيه، أنه كما تقدم عن العقيلي: ` ليس له إسناد ثابت `. ونقل ابن قدامة في
` المنتخب ` (10 / 196 / 1) عن الإمام أحمد أنه قال: ` وهذا الحديث كذب `.
১৫৮৫। তোমরা সুন্দর চেহারার অধিকারীদের নিকট কল্যাণ অনুসন্ধান কর।
হাদীসটি মিথ্যা।
হাদীসটিকে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি তার থেকে কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ
১। ইয়াযীদ ইবনু আব্দুল মালেক নাওফালী হতে, তিনি ইমরান ইবনু আবূ আনাস হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া “কাযাউল হাওয়াইয” গ্রন্থে ও দারাকুতনী “আলআফরাদ” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দু'টি কারণে খুবই দুর্বলঃ
(ক) ইমরান ও আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাঝে সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। কারণ তাদের দু'জনের মাঝের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান আটান্ন বছর।
(খ) নাওফালী দুর্বল। হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা অলমাতরুকীন` গ্রন্থে বলেনঃ তাকে তারা (মুহাদ্দিসগণ) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি দুর্বল।
২। মুহাম্মাদ ইবনু আযহার বালখী হতে, তিনি যায়েদ ইবনুল হুবাব হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আলা ইবনু আব্দুর রহমান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে (اطلبوا الخير ...) এ ভাষায়।
এটিকে ওকায়লী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২২৮) এ আব্দুর রহমানের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। আর তিনি হচ্ছেন কিস্সা বর্ণনাকারী বাসরী।
ইবনু মাঈন হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি কিছুই না। আর তিনি হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ এর এমন কোন সনদ নেই যার দ্বারা হাদীসটি সাব্যস্ত হয়।
ইবনুল জাওযী ওকায়লীর বর্ণনায় হাদীসটিকে “আলমওযুয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ আব্দুর রহমান কিছুই না। আর মুহাম্মাদ ইবনুল আযহার মিথ্যুকদের থেকে হাদীস বর্ণনাকারী।
৩। ত্বলহ ইবনু আমর হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে ও আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/২৪৬-২৪৭) বর্ণনা করেছেন। হাইসামী (৮/১৯৫) বলেনঃ ত্বলহা ইবনু আমর মাতরূক। এ ছাড়া অন্য সাহাবী হতে বর্ণিত সূত্রগুলোর সবগুলোই সমস্যা জর্জরিত। সেগুলোর কোন কোনটি অন্যটির চেয়ে বেশী দুর্বল। অন্য সময়ে ইন শা আল্লাহ বিস্তারিত আলোচনা করব।
আর ইমাম আহমাদ এ হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ এ হাদীসটি মিথ্যা।
` أعطوا أعينكم حظها من العبادة: النظر في المصحف والتفكر فيه والاعتبار عند عجائبه `.
موضوع.
رواه ابن عبد الهادي في ` هداية الإنسان ` (153 / 1) من طريق ابن رجب بسنده عن حفص بن عمرو بن ميمون عن عنبسة بن عبد الرحمن الكوفي عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن أبي سعيد الخدري مرفوعا. قال الحافظ ابن رجب: ` هذا لا يثبت رفعه `. قلت: وآفته عنبسة بن عبد الرحمن، قال البخاري:
` تركوه `. وقال أبو حاتم: ` كان يضع الحديث `. وقال ابن حبان: ` هو صاحب أشياء موضوعة `. وحفص بن عمرو بن ميمون لم أعرفه، ولعل واو` عمرو ` زيادة من بعض النساخ، والصواب حفص بن عمر بن ميمون، وهو العدني، له ترجمة في ` التهذيب ` و` الميزان ` وغيرهما، وهو ضعيف كما في ` التقريب `.
والحديث أورده السيوطي في ` الجامع الصغير ` من رواية الحكيم، والبيهقي في ` الشعب ` عن أبي سعيد وتعقبه المناوي بقوله: ` وظاهر صنيع المؤلف أن البيهقي خرجه وأقره، والأمر بخلافه، بل قال: إسناده ضعيف `.
وكذا قال العراقي في ` المغني ` (4 / 424) بعد أن عزاه لابن أبي الدنيا، ومن طريقه أبو الشيخ ابن حيان في ` كتاب العظمة `. وفي هذا القول تساهل كبير بعد أن علمت ما قيل في عنبسة! .
১৫৮৬। এবাদাত থেকে তোমরা তোমাদের চোখগুলোকে তার অংশ প্রদান করঃ (আর তা হচ্ছে) মুসহাফে (কুরআনে) দৃষ্টি দেয়া (অর্থাৎ দেখে কুরআন পাঠ করা), কুরআনের ব্যাপারে চিন্তা (গবেষণা) করা এবং তার বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে আব্দুল হাদী “হিদায়াতুল ইনসান” গ্রন্থে (১/১৫৩) ইবনু রাজাব সূত্রে তার সনদে হাফস ইবনু আমর ইবনু মাইমুন হতে, তিনি আম্বাসা ইবনু আব্দুর রহমান কূফী হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আসলাম হতে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবনু রাজাব বলেনঃ এটি মারফু' হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সমস্যা হচ্ছে আম্বাসা ইবনু আব্দুর রহমান।
ইমাম বুখারী তার সম্পর্কে বলেনঃ মুহাদ্দিসগণ তাকে ত্যাগ করেছেন। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি বানোয়াট বহু কিছুর অধিকারী।
আর হাফস ইবনু আমর ইবনু মাইমূনকে আমি চিনি না। সম্ভবত আমরের ওয়াও (عمرو) কোন কপি কারকের পক্ষ থেকে সংযোজিত হয়েছে। সঠিক হচ্ছে হাফস ইবনু উমার ইবনু মাইমূন, আর তিনি হচ্ছেন আদানী। `আত-তাহযীব` ও `আল-মীযান` প্রমুখ গ্রন্থে তার জীবনী আলোচিত হয়েছে। ইনিও দুর্বল যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।
হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাকীম ও বাইহাকীর “আশশুয়াব” গ্রন্থের বর্ণনা থেকে আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ লেখকের বাহ্যিক কর্ম থেকে বুঝা যায় যে, বাইহাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে স্বীকৃতিও দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। কারণ তিনি বলেছেনঃ এর সনদটি দুর্বল। অনুরূপ কথা হাফিয ইরাকী “আলমুগনী” গ্রন্থে (৪/৪২৪) বলেছেন ...।
কিন্তু এ কথার মধ্যে বড় ধরনের শিথিলতা প্রদর্শিত হয়েছে। কারণ আম্বাসা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে সে সম্পর্কে আপনারা অবগত হয়েছেন।
` أبردوا بالطعام، فإن الطعام الحار غير ذي بركة `.
ضعيف.
وقد عزاه في ` الجامع الصغير ` للديلمي عن ابن عمر والحاكم عن جابر وعن أسماء ومسدد عن أبي يحيى والطبراني في ` الأوسط ` عن أبي هريرة وأبو نعيم في ` الحلية ` عن أنس. قلت: وفي هذا التخريج ملاحظات:
أولا: أن حديث أسماء لفظه: ` إنه أعظم للبركة `، وهذا خلاف قوله في حديث الترجمة: ` غير ذي بركة `، كما لا يخفى.
ثانيا: أنه لم يرد في الطعام الحار، وإنما في الطعام الذي لم يذهب فوره ودخانه، وبينهما فرق، فإن الذي ذهب فوره لا يزال حارا.
ثالثا: حديث أنس، لم أقف عليه في ` فهرس الحلية ` لأنظر في إسناده، وقد ذكر المناوي أن لفظه: ` أتي النبي صلى الله عليه وسلم بقصعة تفور، فرفع يده منها، وقال: إن الله لم يطعمنا نارا، ثم ذكره `. قلت: ولم يتكلم عليه بشيء. رابعا: أن أبا يحيى هذا الذي رواه عنه مسدد لم أعرفه، ولم يذكره في ` الجامع الكبير ` (5 / 2) من حديثه أصلا، وإنما ذكره من حديث ابن عمر من رواية مسدد والديلمي. والله أعلم.
ثم رأيت الحديث في ` الحلية ` عن أنس بإسناد ضعيف جدا في ضمن حديث سيأتي برقم (1598) . ثم إن في إسناده عند الديلمي (1 / 1 / 18 - مختصره) إسحاق بن كعب، قال المناوي: ` قال الذهبي: ` ضعف `، عن عبد الصمد بن سليمان. قال الدارقطني: متروك، عن قزعة بن سويد. قال أحمد: مضطرب الحديث. وأبو حاتم
: لا يحتج به، عن عبد الله بن دينار، غير قوي `.
قلت: ولفظ حديث جابر عند الحاكم: ` أبردوا الطعام الحار، فإن الطعام الحار غير ذي بركة `. ذكره شاهدا، ولا يصلح لذلك، لأن فيه محمد بن عبيد الله العرزمي، وهو شديد الضعف، قال الذهبي والعسقلاني: ` متروك `. وفي إسناد حديث أبي هريرة عبد الله بن يزيد البكري قال الهيثمي (5 / 20) :
` وقد ضعفه أبو حاتم `.
قلت: ولوقال: ` ضعفه جدا ` لكان أقرب إلى لفظ أبي حاتم، فإنه قال: ` ضعيف الحديث، ذاهب الحديث ` كما في كتاب ابنه عنه (2 / 2 / 201) فقد فسر قوله: ` ضعيف الحديث ` بقوله: ` ذاهب الحديث `، وهو كناية عن شدة ضعفه.
والله أعلم. وبالجملة، فالحديث عندي ضعيف، لعدم وجود شاهد معتبر له. والله أعلم. وفي الباب عن
عائشة بلفظ: ` بردوا طعامكم يبارك لكم فيه `. ولكن إسناده ضعيف جدا، كما سيأتي تحقيقه برقم (1654) .
১৫৮৭। তোমরা খাদ্যকে ঠাণ্ডা কর। কারণ গরম খাদ্য বরকতধারী হয় না।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে দায়লামীর উদ্ধৃতিতে ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এবং হাকিমের উদ্ধৃতিতে জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এবং মুসাদ্দাদ সূত্রে আবু ইয়াহইয়া হতে বর্ণনা করেছেন। আর ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ও আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির তাখরীজ করার ব্যাপারে কিছু মন্তব্য রয়েছেঃ
১। আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসটির ভাষা হচ্ছে (إنه أعظم للبركة) অর্থাৎ ... কারণ বরকতের জন্য সেটিই বেশী উপযুক্ত। এ ভাষাটি আলোচ্য হাদীসটির ভাষার বিপরীত এবং এ ভাষায় হাদীসটি সহীহ। এ কারণে এটিকে “সিলসিলাহ সহীহাহ” গ্রন্থে (৬৫৯) উল্লেখ করেছি।
২। হাদীসটি গরম খাদ্যের ব্যাপারে বর্ণিত হয়নি। বরং হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে সেই খাদ্যের ব্যাপারে যার উত্তাপ এবং ধূয়া চলে যায়নি। আর এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কারণ যার উত্তাপ চলে যায় সেটিও গরম থাকে।
৩। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস সম্পর্কে আমি “ফিহরিসুল হিলইয়্যাহ” এর মধ্যে অবগত হইনি যাতে করে তার সম্পর্কে দৃষ্টি দিতে পারি। মানবী এটিকে বর্ণনা করেছেন নিম্নের ভাষায়ঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন একটি (খাদ্যের) পিয়ালা নিয়ে আসা হলো যা উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে তার হাত উঠিয়ে নিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকে খাদ্য হিসেবে আগুন দেননি। অতঃপর তিনি উক্ত কথা উল্লেখ করেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হাদীসটি সম্পর্কে কিছুই বলেননি।
৪। যে আবূ ইয়াহইয়া থেকে মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন আমি তাকে চিনি না। “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে তার হাদীস থেকে আসলে হাদীসটিকে উল্লেখই করা হয়নি। মুসাদ্দাদ ও দায়লামীর বর্ণনা হতে ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীস থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। (আল্লাহই বেশী জানেন)।
অতঃপর আমি হাদীসটিকে `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে খুবই দুর্বল সনদে দেখেছি সেই হাদীসের মধ্যে যেটি (১৫৯৮) নম্বরে আসবে। এছাড়াও এর সনদে দায়লামীর নিকট (১/১/১৮) বর্ণনাকারী হিসেবে ইসহাক ইবনু কা'ব রয়েছেন। মানবী বলেনঃ তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে আব্দুস সামাদ ইবনু সুলাইমান হতে বর্ণনাকারী হিসেবে দুর্বল আখ্যা দেয়া হয়েছে। দারাকুতনী বলেনঃ কাযায়াহ ইবনু সুওয়াইদ হতে বর্ণনাকারী হিসেবে তিনি মাতরূক। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মুযতারিবুল হাদীস। আৰূ হাতিম বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে বর্ণনাকারী হিসেবে শক্তিশালী নন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিমের নিকট জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীসের ভাষা হচ্ছেঃ
أبردوا الطعام الحار، فإن الطعام الحار غير ذي بركة
তোমরা গরম খাদ্যকে ঠাণ্ডা কর। কারণ গরম খাদ্য বরকতধারী হয় না। তিনি এটিকে শাহেদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটি শাহেদ হওয়ার যোগ্য নয়। কারণ এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ আরযামী রয়েছেন, তিনি খুবই দুর্বল। হাফিয যাহাবী ও ইবনু হাজার আসকালানী বলেনঃ তিনি মাতরক।
আর আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসের সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ বিকরী রয়েছেন। হাইসামী তার সম্পর্কে (৫/২০) বলেনঃ তাকে আবু হাতিম দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি যদি বলতেনঃ তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন তাহলে আবু হাতিমের ভাষার নিকটবর্তী হতো। কারণ তিনি বলেছেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল ও যাহেবুল হাদীস। যেমনটি তার ছেলের গ্রন্থে তার থেকে (২/২/২০১) বর্ণিত হয়েছে। তিনি য'ঈফুল হাদীসের (হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল) ব্যাখ্যা করেছেন যাহেবুল হাদীস' আখ্যা দেয়ার দ্বারা। যা তার খুবই দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। (আল্লাহই বেশী জানেন)।
মোটকথাঃ আলোচ্য হাদীসটি আমার (আলবানীর) নিকট দুর্বল। গ্রহণযোগ্য শাহেদ না থাকার কারণে। এ অধ্যায়ে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে নিম্নের ভাষায় হাদীস বর্ণিত হয়েছেঃ
`তোমরা তোমাদের খাদ্যকে ঠাণ্ডা কর, তাতে তোমাদের বরকত দেয়া হবে।`
কিন্তু এর সনদটি খুবই দুর্বল। যেমনটি (১৬৫৪) নম্বর হাদীসে আসবে।
` أبشركم بالمهدي، يبعث في أمتي على اختلاف من الناس وزلازل، فيملأ الأرض قسطا وعدلا، كما ملئت جورا وظلما، يرضى عنه ساكن السماء وساكن الأرض، يقسم المال صحاحا، فقال له رجل: ما صحاحا؟ قال: بالسوية بين الناس، قال: ويملأ الله قلوب أمة محمد صلى الله عليه وسلم غنى، ويسعهم عدله حتى يأمر
مناديا فينادي، فيقول: من له في مال حاجة؟ فما يقوم من الناس إلا رجل، فيقول: ائت السدان - يعني الخازن - فقل له: إن المهدي يأمرك أن تعطيني مالا، فيقول له: احث، حتى إذا جعله في حجره وأحرزه ندم، فيقول: كنت أجشع أمة محمد نفسا، أوعجز عني ما وسعهم، قال: فيرده، فلا يقبل منه، فيقال له: إنا لا نأخذ شيئا أعطيناه، فيكون كذلك سبع سنين أوثمان سنين أوتسع سنين، ثم لا خير في العيش بعده، أوقال: لا خير في الحياة بعده `.
ضعيف.
أخرجه أحمد (3 / 37 و52) من طريق المعلى بن زياد: حدثنا العلاء بن بشير عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، العلاء بن بشير مجهول، كما قال ابن المديني، وتبعه الحافظ وغيره، لم يروعنه سوى المعلى بن زياد كما في ` الميزان `. نعم قد جاء الحديث من طريق أخرى عن أبي الصديق، ولكنه مختصر، ليس فيه هذا التفصيل الذي رواه العلاء، وإسناده صحيح، ولذلك خرجته في الكتاب الآخر (711) .
১৫৮৮। তোমাদেরকে মাহদীর ব্যাপারে সুসংবাদ প্রদান করছি। তাকে আমার উম্মাতের মধ্যে লোকদের মতভেদ করার এবং ভূমিকম্প ঘটার সময় প্রেরণ করা হবে। অতঃপর তিনি যমীনকে ইনসাফ ও ন্যায়পরায়নতার দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন। যেরূপ তাকে অন্যায় ও অত্যাচারের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল। তার প্রতি আসমানবাসী ও যমীনবাসী সম্ভষ্ট থাকবে। তিনি সঠিকভাবে সম্পদ বণ্টন করবেন। এক ব্যক্তি তাকে বললঃ সঠিকভাবের ভাবাৰ্থ কি? তিনি বললেনঃ লোকদের মাঝে সমানভাবে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'য়ালা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের হৃদয়গুলোকে স্বনির্ভরতার দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন। তার ইনসাফ তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে। এমনকি আহবানকারীকে আহবান করার জন্য নির্দেশ দিলে সে ডাক দিয়ে বলবেঃ কার সম্পদের প্রয়োজন আছে? এ সময় লোকদের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি দাঁড়াবে। তখন তিনি বলবেনঃ তুমি পাহারাদারের নিকট গিয়ে তাকে বল যে, মাহদী আমাকে সম্পদ দেয়ার জন্য তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সে তাকে বলবেঃ তুমি দু'হাত দিয়ে গ্রহণ কর। যখন সে তার কোলে সম্পদ রাখা শুরু করবে এবং একত্রিত করে ফেলবে (অতঃপর তা উঠিয়ে নিয়ে যেতে অপারগ হয়ে যাবে) তখন সে লজ্জিত হয়ে বলবেঃ আমি উম্মাতে মুহাম্মাদির সর্বাপেক্ষা বেশী লোভী ব্যক্তি ছিলাম। যে বস্তু তাদেরকে ছেয়ে ফেলেছে তা আমাকে অপারগ করে ফেলল? অতঃপর তিনি সে সম্পদ ফিরিয়ে দিবেন। কিন্তু তার থেকে গ্রহণ করা হবে না। তাকে বলা হবেঃ আমরা যা দিয়েছি তার সামান্যও গ্রহণ করিনা। এ অবস্থা সাত বছর, অথবা আট বছর, অথবা নয় বছর বিরাজ করবে। অতঃপর এর পরে জীবন ধারণের মধ্যে আর কোন কল্যাণ থাকবে না, অথবা বলেনঃ এর পরে জীবনের মধ্যে আর কোন কল্যাণ থাকবে না।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ (৩/৩৭, ৫২) মুয়াল্লা ইবনু যিয়াদ সূত্রে 'আলা ইবনু বাশীর হতে, তিনি আবুস সিদ্দীক নাজী হতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বর্ণনাকারী আল ইবনু বাশীর মাজহুল (অপরিচিত) যেমনটি ইবনুল মাদীনী বলেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার প্রমুখ এ ব্যাপারে তার অনুসরণ করেছেন। “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে তার থেকে একমাত্র মুয়াল্লা ইবনু যিয়াদই বর্ণনা করেছেন।
হ্যাঁ, হাদীসটি অন্য সূত্রে আবুস সিদ্দীক হতে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। সেটিকে 'আলা বর্ণনা করেছেন। সে সনদটি সহীহ। এ কারণে সেটিকে `সিলসিলাহ্ সহীহাহ` গ্রন্থে (৭১১) উল্লেখ করেছি।
` أبشروا يا أصحاب الصفة! فمن بقي من أمتي على النعت الذي أنتم عليه اليوم راضيا بما فيه، فإنه من رفقائي يوم القيامة `.
ضعيف جدا.
رواه أبو عبد الرحمن السلمي الصوفي في ` الأربعين في أخلاق الصوفية ` (2 / 2) وعنه الديلمي (1 / 1 / 24) : أخبرنا محمد بن سعيد الأنماطي أخبرنا الحسن بن علي بن يحيى بن سلام أخبرنا محمد بن علي الترمذي أخبرنا سعيد بن حاتم البلخي أخبرنا سهل بن أسلم عن خلاد بن محمد عن أبي حمزة السكري عن يزيد النحوي عن عكرمة عن ابن عباس قال: وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما على أصحاب الصفة، فرأى فقرهم وجهدهم وطيب قلوبهم، فقال: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، مظلم، فإن مخرجه السلمي نفسه متهم بأنه كان يضع الأحاديث للصوفية، وما بينه وبين أبي حمزة السكري لم أعرفهم، غير محمد بن علي الترمذي، وهو صوفي مشهور، صاحب كتاب ` نوادر الأصول في معرفة أخبار الرسول `، وهو مطعون فيه من حيث عقيدته، فأنكروا عليه أشياء، منها أنه كان يفضل الولاية على النبوة، وقد تبعه في هذا ابن عربي صاحب ` الفصوص ` وغيرها، كما يعلم ذلك من اطلع على كتبه. والله المستعان. والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع الكبير ` (1 / 6 / 1) للسلمي في ` سنن
الصوفية ` والخطيب، والديلمي عن ابن عباس رضي الله عنهما، وأورده في ` الزيادة على الجامع الصغير `. ولم أره في فهرس ` تاريخ بغداد ` وهو المراد عند إطلاق العزوإلى ` الخطيب ` كما نص عليه في المقدمة. والله أعلم.
১৫৮৯। হে সুফফাবাসী! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। আজকের দিনে তোমরা যে অবস্থার মধ্যে আছ, আমার উম্মাতের যে ব্যক্তিই সন্তুষ্টচিত্তে এরূপ অবস্থায় থাকবে, সেই কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে আবু আব্দুর রহমান সুলামী সূফী “আলআরবাঈন ফী আখলাকিস সূফিয়্যাহ” গ্রন্থে (২/২) এবং তার থেকে দাইলামী (১/১/২৪) মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আনমাতী হতে, তিনি হাসান ইবনু ‘আলী ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সালাম হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আলী তিরমিযী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু হাতেম বালখী হতে, তিনি সাহল ইবনু আসলাম হতে, তিনি খাল্লাদ ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আবূ হামযাহ সুকরী হতে, তিনি ইয়াযীদ নাহবী হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সুফফাবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে তাদের দরিদ্রতা, তাদের দুর্বল অবস্থা এবং তাদের উত্তম হৃদয় দেখে বললেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল, অন্ধকারাচ্ছন্ন। কারণ হাদীসটি বর্ণনাকারী আবু আব্দুর রহমান সুলামী নিজেই মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। কারণ তিনি সূফীদের জন্য হাদীস জাল করতেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু আলী তিরমিয়ী ছাড়া তার ও আবু হামযাহ সুকরীর মধ্যের বর্ণনাকারীদেরকে আমি চিনি না। তিনি একজন প্রসিদ্ধ সূফী। তিনি `নাওয়াদিরুল উসূল ফী মারিফাতে আখবারির রসূল` গ্রন্থের লেখক। আকীদার দিক থেকে তিনি দূষণীয় ব্যক্তি। তিনি অলাইয়াতকে নুবুওয়াতের উপর অগ্রাধিকার দিতেন। আর ইবনু আরাবী `আলফুসূস` প্রমুখ গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন।
সুয়ূতী হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে (১/৬/১) সুলামীর `আসসুনানুস সুফিয়্যাহ` গ্রন্থ, খাতীব বাগদাদী ও দায়লামীর উদ্ধৃতিতে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করেছেন। তিনি `আযযিয়াদাতু আলাল জামেইস সাগীর` গ্রন্থের মধ্যেও উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু হাদীসটিকে “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে দেখছি না। অথচ শুধুমাত্র খাতীবের নাম উল্লেখ করলে একমাত্র এ গ্রন্থকেই বুঝানো হয়ে থাকে। যেমনটি তিনি তার ভূমিকার মধ্যে বলেছেন। আল্লাহই বেশী জানেন।
` الأمانة تجر الرزق، والخيانة تجر الفقر `.
ضعيف.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (7 / 2) عن إسماعيل بن الحسن البخاري الزاهد قال: أنبأنا أبو حاتم محمد بن عمر قال: أخبرنا أبو ذر أحمد بن عبيد الله بن مالك الترمذي قال: أخبرنا إسحاق بن إبراهيم الشامي قال: أخبرنا علي بن حرب قال: أخبرنا موسى بن داود الهاشمي قال: أخبرنا ابن لهيعة عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عامر عن عبد الله ابن الزبير عن أبيه عن علي عليه السلام مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف، ابن لهيعة ضعيف، ومن دون إسحاق بن إبراهيم الشامي لم أجد لهم ترجمة. وأما الشامي هذا فالظاهر أنه أبو النضر
الفراديسي، وهو ثقة من شيوخ البخاري. والحديث، كتب بعض المحدثين - وأظنه ابن المحب - على هامش الحديث: ` موضوع `.
وأما قول المناوي: ` إسناده حسن `، فمما لا وجه له.
(تنبيه) : الحديث في ` الجامع الكبير ` (1 / 232 / 2) بهذا اللفظ من رواية القضاعي وحده، وفي ` الصغير ` بلفظ: ` تجلب ` مكان: ` تجر ` في الموضعين، من رواية الديلمي عن جابر، والقضاعي عن علي. والله أعلم. ثم رأيت الحديث في ` مختصر مسند الديلمي ` للحافظ ابن حجر (1 / 2 / 368) من طريق إبراهيم بن أبي عمرو الغفاري: حدثني محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا بلفظ:
` الأمانة تجلب الرزق … `. والغفاري هذا مجهول، كما في ` التقريب `.
১৫৯০। আমানাত রিযক ছিনিয়ে আনে আর খিয়ানাত দরিদ্রতাকে ছিনিয়ে আনে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/৭) ইসমাঈল ইবনুল হাসান বুখারী যাহেদ হতে, তিনি আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবনু উমার হতে, তিনি আবু যার আহমাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ ইবনু মালেক তিরমিয়ী হতে, তিনি ইসহাক ইবনু ইবরাহীম শামী হতে, তিনি আলী ইবনু হারব হতে, তিনি মূসা ইবনু দাউদ হাশেমী হতে, তিনি ইবনু লাহী'আহ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু নাওফাল হতে, তিনি আমের হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ ইবনু লাহীয়াহ্ দুর্বল। আর ইসহাক ইবনু ইবরাহীম শামীর নিচের বর্ণনাকারীদের জীবনী পাচ্ছি না। তবে বাহ্যিকতা থেকে বুঝা যায় এ শামী হচ্ছেন আবুন নাযর ফারাদীসী। তিনি নির্ভরযোগ্য, ইমাম বুখারীর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসটির ব্যাপারে কোন কোন মুহাদ্দিস টীকায় লিখেছেন। আমার ধারণা তিনি হচ্ছেন ইবনুল মুহিব্বঃ হাদীসটি বানোয়াট।
মানবী যে বলেছেনঃ এর সনদটি হাসান, কিভাবে হাসান তার কোনই ব্যাখ্যা নেই।
হাদীসটিকে “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (১/৩২৩/২) এ বাক্যেই একমাত্র কাযাঈর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর `আসসাগীর` গ্রন্থে দায়লামীর বর্ণনায় জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে আর কাযা'ঈর বর্ণনায় আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে (تجر) স্থলে (تجلب) উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহই বেশী জানেন।
অতঃপর হাদীসটিকে হাফিয ইবনু হাজারের `মুখতাসারু মুসনাদিদ দাইলামী` গ্রন্থে (১/২/৩৬৮) ইবরাহীম ইবনু আবী আমর গিফারী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ ...
الأمانة تجلب الرزق
কিন্তু এ গিফারী মাজহুল (অপরিচিত)। যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।
` الأمانة في الأزد، والحياء في قريش `.
ضعيف.
رواه منده في ` المعرفة ` (2 / 266 / 2) والحافظ العراقي في ` محجة القرب إلى محبة العرب ` (23 / 1 - 2) من طريق الطبراني قال: حدثنا موسى بن جمهو ر التنيسي حدثنا علي بن حرب الموصلي حدثنا علي بن الحسين عن عبد الرحمن بن خالد بن عثمان عن أبيه خالد بن عثمان عن أبيه عثمان بن محمد عن أبيه محمد بن عثمان عن أبيه عثمان بن أبي معاوية عن أبي معاوية بن عبد اللات من يمن الأزد، قال: فذكره مرفوعا. وقال الحافظ العراقي: ` هذا حديث في إسناده جهالة، ولم أر لبعضهم ذكرا في مظان وجودهم `. وقال تلميذه الهيثمي (10 / 26) : ` رواه الطبراني، وفيه من لم أعرفهم `.
(تنبيه) : الحديث في ` المعجم الكبير ` للطبراني (22 / 394 / 979) بهذا الإسناد، لكن سقط منه
أربعة رواة، أشرت إليهم بالحاصرتين أوالمعكوفين [] . والجملة الأولى منه تأتي في رواية في الحديث التالي.
১৫৯১। আমানাত হচ্ছে আযদ গোত্রের মধ্যে আর লজ্জা হচ্ছে কুরাইশ গোত্রের মধ্যে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু মান্দাহ “আলমারিফাহ” গ্রন্থে (২/২৬৬/২) ও হাফিয ইরাকী “মাহাজ্জাতুল কুরবি ইলা মাহাব্বাতিল আরাবে” গ্রন্থে (২৩/১-২) ত্ববারানীর সূত্রে মূসা ইবনু জামহুর তিন্নীসী হতে, তিনি আলী ইবনু হারব মূসেলী হতে, তিনি আলী ইবনুল হুসায়ন হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু খালেদ ইবনু উসমান হতে, তিনি তার পিতা [খালেদ ইবনু উসমান হতে, তিনি তার পিতা উসমান ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনু উসমান হতে, তিনি তার পিতা উসমান ইবনু আবী মুয়াবিয়্যাহ হতে], তিনি আবু মুয়াবিয়্যাহ ইবনু আব্দুল লাত হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ... মারফু' হিসেবে।
হাফিয ইরাকী বলেনঃ এ হাদীসের সনদে অজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাউকে কাউকে যে সব কিতাবে উল্লেখ করার কথা সে সবের মধ্যে দেখছি না।
আর তার ছাত্র হাইসামী (১০/২৬) বলেনঃ এটিকে ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদের মধ্যে এমন ব্যক্তিগণ রয়েছেন যাদেরকে আমি চিনি না।
সতর্কবাণীঃ এ হাদীসটি ত্ববারানীর `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (২২/৩৯৪/৯৭৯) এ সনদে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সনদ থেকে চারজন বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই আমি (আলবানী) বন্ধনীর মধ্যে তাদেরকে উল্লেখ করেছি।
` العلم في قريش، والأمانة في الأنصار `.
ضعيف.
رواه الحافظ العراقي في ` محجة القرب إلى محبة العرب ` (23 / 1) من طريق الطبراني قال: حدثنا يحيى بن عثمان بن صالح حدثني أبي حدثنا ابن لهيعة حدثني يزيد بن أبي حبيب عن ابن جزء الزبيدي وهو عبد الله بن الحارث بن جزء مرفوعا. وقال الحافظ: ` هذا حديث حسن، رواه الطبراني في ` المعجم الكبير ` هكذا، ورواه في ` الأوسط `
فقال فيه: والأمانة في الأزد، وقال: لم يروه عن عبد الله بن الحارث بن جزء إلا يزيد بن أبي حبيب، تفرد به ابن لهيعة `.
قلت: وهو ضعيف لاختلاطه، وقد قال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق، خلط بعد احتراق كتبه، ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما، وله في مسلم بعض شيء، مقرون `. أقول: فتحسين حديثه - والحالة هذه - لا يخلو من تساهل، إلا أن يكون من رواية أحد العبادلة الثلاثة، ذكر الحافظ اثنين منهم، والثالث: عبد الله بن يزيد المقرىء. على أن يحيى بن عثمان بن صالح فيه كلام أيضا، قال الحافظ: ` صدوق، ولينه بعضهم لكونه حدث من غير أصله `. هذا، وكأن الهيثمي تبع شيخه العراقي، فقال في ` المجمع ` (10 / 25) : ` رواه الطبراني في ` الأوسط ` و` الكبير ` وإسناده حسن `! وقلده المناوي! قلت: أنى له الحسن مع الضعف الذي بينا في سنده، والاختلاف الذي بينه العراقي في متنه بين رواية ` الكبير ` و` الأوسط `؟! وهذا الاختلاف إنما هو من ابن لهيعة نفسه، حدث به هكذا مرة، وهكذا أخرى، كما ذكر ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 364) من رواية عثمان بن صالح، وقال عن أبيه: ` إنما يرويه ابن لهيعة عن موسى بن وردان عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم `.
قلت: وموسى بن وردان، فيه كلام أيضا، قال الذهبي في ` الضعفاء `: ` ضعفه ابن معين، ووثقه أبو داود `. وقال الحافظ: ` صدوق ربما أخطأ `. وجملة القول أن الحديث ضعيف، لأن مداره على ابن لهيعة، وهو ضعيف، مع اضطرابه في سنده ومتنه. والله أعلم. ثم رأيت الحديث في ` أوسط الطبراني ` (
১৫৯২। জ্ঞান হচ্ছে কুরাইশদের মধ্যে আর আমানাত হচ্ছে আনসারদের মাঝে।
হাদিসটি দুর্বল।
হাদিসটিকে হাফিয ইরাকী `মাহাজ্জাতুল কুরবি ইলা মাহাব্বাতিল আরাবে` গ্রন্থে (২৩/১) ত্ববারানীর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু উসমান ইবনু সালেহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে, তিনি ইবনু জুয'উ যুবাইদী হতে (তিনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবনুল হারেস ইবনে জুযউ) মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ এ সনদটি হাসান। এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে এভাবে বর্ণনা করেছেন। আর “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ `আমানাত হচ্ছে আযদীদের মধ্যে`, এবং বলেছেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস ইবনু জুযউ হতে ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেননি। ইবনু লাহীয়াহ এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (ইবনু লাহীয়াহ্) দুর্বল তার মস্তিষ্ক বিকৃত ঘটার কারণে। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তনি সত্যবাদী। তার গ্রন্থগুলো পুড়ে যাওয়ার পর তার অবস্থা গোলমেলে হয়ে যায়। ইবনুল মুবারাক ও ইবনু ওয়াহাব কর্তৃক তার থেকে কৃত বর্ণনা সঠিক অন্যদের বর্ণনা থেকে। সহীহ মুসলিমের মধ্যে অন্যের সাথে মিলিতভাবে বর্ণনাকারী হিসেবে তার কিছু হাদীস রয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এমতাবস্থায় তার হাদীসকে হাসান আখ্যা দেয়া শিথিলতা প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি তার থেকে তিন আব্দুল্লাহ্ বর্ণনা করেন তাহলে ভিন্ন কথা। হাফিয ইবনু হাজার তাদের দু’জনকে উল্লেখ করেছেন আর তৃতীয়জন হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ মুকরী।
এছাড়া বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু উসমান ইবনু সালেহের ব্যাপারেও সমালোচনা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। তবে তাকে কেউ কেউ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন ...। হাইসামী সম্ভবত তার শাইখ ইরাকীর অনুসরণ করে “আলমাজমা” গ্রন্থে (১০/২৫) বলেছেনঃ হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” ও “আলকাবীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এর সনদটি হাসান। আর মানবীও তার অন্ধ অনুসরণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদের মধ্যে উক্ত দুর্বলতা সত্ত্বেও কিভাবে এটি হাসান হয়! হাফিয ইরাকী “আলআওসাত” এবং “আলকাবীর” গ্রন্থে হাদীসটির ভাষার ভিন্নতা সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা ঘটেছে ইবনু লাহীয়াহ কর্তৃক। তিনি একবার এ ভাষায় আবার অন্য ভাষায় বর্ণনা করেছেন। যেমনটি ইবনু আবী হাতিম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/৩৬৪) উসমান ইবনু সালেহের বর্ণনায় উল্লেখ করে তিনি তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ তিনি একমাত্র ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি মূসা ইবনু ওরদান হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন।
আমি (আলবানী) বলছি মূসা ইবনু ওরদানের ব্যাপারেও সমালোচনা রয়েছে। হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেনঃ তাকে ইবনু মা'ঈন দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী কখনও কখনও ভুলকারী।
মোটকথা, হাদীসটি দুর্বল। কারণ এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ইবনু লাহীয়াহ আর তিনি হচ্ছেন দুর্বল বর্ণনাকারী। এছাড়াও সনদ এবং ভাষা উভয় ক্ষেত্রে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহই বেশী জানেন।
অতঃপর আমি হাদীসটিকে ত্ববারানীর “আলআওসাত” গ্রন্থে (৬৩৭৫) দেখেছি, হাদীসটি (তিন আব্দুল্লার) কোন আব্দুল্লাই- ইবনু লাহীয়াহ হতে বর্ণনা করেননি। বরং এটি ইবনু লাহীয়াহ হতে ইমরান ইবনু হারূন রামালী কর্তৃক বর্ণনাকৃত।
` العمائم تيجان العرب والاحتباء حيطانها وجلوس المؤمن في المسجد رباطه `.
منكر.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (8 / 1) عن موسى بن إبراهيم المروزي قال: أخبرنا موسى بن جعفر عن أبيه عن جده عن أبيه عن علي مرفوعا.
قلت: وكتب أحد المحدثين على هامش الحديث - وأظنه ابن المحب - : ` ساقط `.
قلت: وذلك لأن المروزي هذا كذبه يحيى، وقال الدارقطني وغيره: ` متروك `.
والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع الصغير ` للقضاعي والديلمي في ` مسند الفردوس ` عن علي. فقال المناوي: ` قال العامري: غريب. وقال السخاوي: سنده ضعيف. أي وذلك لأن فيه حنظلة السدوسي، قال الذهبي: تركه القطان وضعفه النسائي. ورواه أيضا أبو نعيم، وعنه تلقاه الديلمي، فلو عزاه المصنف للأصل كان أولى `. قلت: ليس في إسناد القضاعي حنظلة هذا كما ترى، فالظاهر أنه يعني أنه في إسناد أبي نعيم، ولم يخرجه في كتابه ` الحلية `، فالظاهر أنه في كتاب آخر له. والله أعلم. وفي الباب أحاديث أخرى، منها عن ابن عباس مرفوعا بلفظ: ` العمائم تيجان العرب، فإذا وضعوا العمائم وضعوا عزهم `.
أخرجه الديلمي في ` مسند الفردوس `. وفي لفظ عنده: ` العمائم وقار المؤمن وعز العرب، فإذا وضعت العرب عمائمها، فقد خلعت عزها ` قال السخاوي في ` المقاصد ` (291 / 717) :
` وكله ضعيف، وبعضه أوهى من بعض `. ثم وقفت على إسناد الديلمي في نسخة مصورة، فتبين لي أن في كلام المناوي المتقدم أوهاما يحسن التنبيه عليها، فإن الديلمي أخرجه (2 / 315) من طريق أبي نعيم عبد الملك بن محمد: حدثنا أحمد بن سعيد بن خثيم حدثني حنظلة السدوسي عن طاووس عن عبد الله بن عباس مرفوعا به. وبيانا لما أشرت إليه أقول: أولا: إعلاله للحديث بحنظلة السدوسي فقط يشعر بأنه سالم ممن دونه وليس كذلك، فإن أحمد بن سعيد هذا وجده لم أجد لهما ترجمة فيما لدي من المصادر، فمن الممكن أن تكون الآفة من أحدهما. ثانيا: أنه عنده من حديث العباس، وليس من حديث علي، رضي الله عنهما. ثالثا: أن المناوي عزاه لأبي نعيم، والمراد به عند الإطلاق في فن التخريج مؤلف ` الحلية `، ولذلك قلت آنفا: ` لم يخرجه في (الحلية) `، واسم أبي نعيم هذا أحمد بن عبد الله الأصبهاني، توفي سنة (430) ، وأما أبو نعيم الذي تلقاه عنه الديلمي فاسمه - كما ترى - عبد الملك بن محمد، وهو الجرجاني الحافظ، مات سنة (323) ، وهما مترجمان في ` تذكرة الحفاظ ` وغيره.
(تنبيه) : هذا الحديث من الأحاديث الكثيرة التي خلا منها ` الجامع الكبير ` للسيوطي، و` الجامع الأزهر ` للمناوي.
১৫৯৩। পাগড়ী হচ্ছে আরবদের রাজমুকুট। দু'পা, পেট ও পিঠ সমেত একটি কাপড় জড়িয়ে পরা হচ্ছে আরবদের দেয়াল আর মু'মিন ব্যক্তির মসজিদে বসা হচ্ছে, অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষার মধ্যে নিজেকে আল্লাহর পথে নিয়োজিত রাখা।
হাদীসটি মুনকার।
হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/৮) মূসা ইবনু ইবরাহীম মারওয়াযী হতে, তিনি মূসা ইবনু জা'ফার হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কোন এক মুহাদ্দিস হাদীসটির টীকায় লিখেছেন (আমার ধারণা তিনি হচ্ছেন ইবনুল মুহিব্ব): হাদীসটি সাকেত।
আমি (আলবানী) বলছি মূসা মারওয়াযীকে ইয়াহইয়া মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আর দারাকুতনী প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরূক। হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে কাযাঈ ও দায়লামীর “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে আলী হতে উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর মানবী বলেছেনঃ আমেরী বলেনঃ এটি গারীব। সাখাবী বলেনঃ এর সনদ দুর্বল। কারণ, এর সনদে হানযালাহ সাদূসী রয়েছেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে কাত্তান ত্যাগ করেছেন আর নাসাঈ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হাদীসটিকে আবু নুয়াইমও বর্ণনা করেছেন আর তার থেকে পেয়েছেন দায়লামী। লেখক যদি মূল গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করতেন তাহলে তাই ভালো ছিলো।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কাযাঈর সনদে বর্ণনাকারী হানযালাহ নেই যেমনটি আপনারা দেখছেন। বাহ্যিক অবস্থা থেকে বুঝা যায় যে, তিনি তার কথার দ্বারা আবু নুয়াইমের সনদকে উদ্দেশ্য করেছেন। আর তিনি হাদীসটিকে তার `আলহিলইয়্যাহ` গ্রন্থে বর্ণনা করেননি। তিনি তার অন্য কিতাবে এটিকে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই বেশী জানেন।
এ অধ্যায়ে আরো হাদীস রয়েছে। সেগুলোর একটি হচ্ছে ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে নিম্নের বাক্যে বর্ণিত হাদীসঃ
“পাগড়ীগুলো হচ্ছে আরবদের রাজমুকুট। তারা যখন পাগড়ীগুলোকে রেখে দেয় তখন তারা তাদের মযাদা (ইযযাতকে) রেখে দেয়।”
এটিকে দায়লামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তার নিকট অন্য ভাষাতেও বর্ণিত হয়েছেঃ
`পাগড়ীগুলো হচ্ছে মুমিনের প্রশান্তি আর আরবদের সম্মান। আরবরা যখন তাদের পাগড়ী রেখে দেয় তখন তারা তাদের ইযযাতকে খুলে ফেলে।`
হাফিয সাখাবী “আলমাকাসিদ” গ্রন্থে (২৯১/৭১৭) বলেনঃ সবগুলোই দুর্বল। কোনটি অন্যটির চেয়ে বেশী দুর্বল।
অতঃপর আমি (আলবানী) দায়লামীর ফটাে করা কপিতে হাদীসটির সনদ সম্পর্কে অবগত হই। যা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মানবীর পূর্বোক্ত কথার মধ্যে সন্দেহ সংযুক্ত হয়েছে। এ কারণে এ ব্যাপারে সাবধান করে দেয়াই ভালো। কারণ দায়লামী হাদীসটিকে (২/৩১৫) আবূ নু'য়াইমের সূত্রে আব্দুল মালেক ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি আহমাদ ইবনু সা'ঈদ ইবনু খুশাইম হতে, তিনি হানযালাহ সাদূসী হতে, তিনি তাউস হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এখানে ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন মনে করছিঃ
১। তিনি শুধুমাত্র হানযালাহ সাদূসীকেই হাদীসটির সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে মনে হতে পারে যে, হাদীসটি তার নিচের বর্ণনাকারীদের থেকে নিরাপদ, কিন্তু আসলে তা নয়। কারণ বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু সাঈদ ও তার দাদার জীবনী আমার নিকট যেসব গ্রন্থ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে পাচ্ছি না। এ কারণে হতে পারে সমস্যা তাদের দু'জনের একজন থেকে।
২। তার নিকট আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে। ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণিত হয়নি।
৩। মানবী হাদিসটিকে আবু নু'য়ায়মের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আর যখন কোন গ্রন্থের নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র এভাবে বলা হয় তখন এর দ্বারা তার “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থকে বুঝানো হয়ে থাকে। এ কারণেই আমি কিছু পূর্বে বলেছিঃ তিনি `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। আর আবু নুয়াইমের নাম হচ্ছে আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ আসবাহানী, যিনি ৪৩০ হিজরীতে মারা যান। আর যে আবু নুয়াইমের সাথে দায়লামীর সাক্ষাৎ হয়েছে তিনি হচ্ছেন আব্দুল মালেক ইবনু মুহাম্মাদ, তিনি হচ্ছেন জুরযানী হাফিয। তিনি মারা যান ৩২৩ হিজরীতে। উভয়ের জীবনী “তাযকিরাতুল হুফফায” প্রমুখ গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে।
ترتيبه) ، ومن طريقه البيهقي (7/ 272) ، عن ليث، عن عطاء، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم: أن امرأة أتته فقالت: ما حق الزوج على امرأته؟ قال: … فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف؛ ليث - وهو ابن أبي سليم - ضعيف مختلط كما تقدم مراراً.
وقد روي الحديث بنحوه من طريق أخرى من حديث ابن عباس نحوه، وفيه بعض ما في هذا وزيادة عليه، وفيه أن المرأة قالت:
`لا جرم، لا أتزوج أبداً`.
أخرجه البزار (2/ 177/ 1464) ، وأبو يعلى (4/ 340/ 2455) من طريق خالد ابن عبد الله الواسطي، عن حسين بن قيس، عن عكرمة عنه.
قلت: وحسين هذا هو الملقب بـ (حنش) ، وهو متروك كما قال الحافظ في `التقريب`، وإلى ذلك يشير الذهبي في `الكاشف`:
`قال البخاري: لا يكتب حديثه`.
وبه أعله الهيثمي، ولكنه قال (4/ 307) :
`رواه البزار، وفيه حسين بن قيس المعروف بـ (حنش) ، وهو ضعيف، وقد وثقه حصين بن نمير، وبقية رجاله ثقات`.
وأشار المنذري إلى تضعيف الحديث بتصديره إياه في `الترغيب` (3/ 77) بقوله: `روي` وقال:
`رواه الطبراني`.
وما أظن هذا العزو إلا وهماً؛ فإني لم أجده في (مسند عكرمة عن ابن عباس) في `المعجم الكبير`، ولا في `الأوسط`، ولا في `الصغير`. والله أعلم.
هذا؛ وقد خلط المعلق على `مسند أبي يعلى` بين الحديثين أو الطريقين عن ابن عباس، فأوهم القراء أنهما يدوران على لفظ حديث (الحنش) ! ولم يشر أدنى إشارة إلى اختلاف متنيهما بنحو ما سبقت الإشارة إليه، مما قد يفسح المجال لمن لا يعلم أن يقوي أحدهما بالآخر، وإن كان هناك ما يمنع من ذلك - حتى ولو كان متنهما واحداً - ، ألا وهو شدة ضعف (الحنش) .
১৫৯৪। তোমরা আমার নিকট সেই ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তাকে পৌঁছিয়ে দাও যে তার প্রয়োজনীয়তাকে আমার নিকট পৌছাতে সক্ষম হয় না। কারণ যে ব্যক্তি শাসকের নিকট সেই ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তাকে পৌছিয়ে দেয় যে (নিজে) তা পৌছাতে সক্ষম হয় না, আল্লাহ্ তা'য়ালা কিয়ামতের দিন তার পদযুগলকে পুল সিরাতের উপর স্থিতিশীল রাখবেন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে আবু আলী ইবনুস সাওয়াফ তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/৮৫) ইসমাঈল ইবনু ইয়াযীদ আসবাহানী হতে, তিনি আলী ইবনু জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদের দাস মু'তাব হতে, তিনি জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি হাসান ইবনু ‘আলী হতে, তিনি হুসানই ইবনু ‘আলী হতে, তিনি ‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এ মু'তাব সম্পর্কে হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে বলেনঃ তাকে আযদী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।
আর আলী ইবনু জাফার ইবনু মুহাম্মাদের অবস্থা অজ্ঞাত। তাকে কেউ নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেননি। ইমাম তিরমিযী তার একটি হাদীস বর্ণনা করে তাকে গারীব আখ্যা দিয়েছেন।
আর ইসমাঈল ইবনু ইয়াযীদ আসবাহানীর জীবনী পাচ্ছি না।
‘আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদীসের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী বর্ণনা করার ব্যাপারে অন্য একটি সূত্রও রয়েছে। এটি তিরমিয়ী “আশশামাইল” গ্রন্থে (৩২৯) বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি দুর্বল। যেমনটি আমি তার “মুখতাসার” গ্রন্থে (৬) ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
হাদীসটিকে হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৫/২১০) আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে নিম্নের বাক্যে উল্লেখ করেছেনঃ
من ابلغ ذا سلطان
যে ব্যক্তি বাদশার নিকট পৌছাবে ...।
অতঃপর বলেছেনঃ এটিকে বাযযার দীর্ঘ হাদীসের মধ্যে বর্ণনা করেছেন। এর সনদের মধ্যে সাঈদ আল-বাররাদ রয়েছেন। তবে অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সাঈদকে আমি চিনি না।
সুয়ূতী হাদীসটিকে তার জামে গ্রন্থে আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ত্ববারানীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন আর মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ লেখক (সুয়ুতী) হাদীসটিকে ত্ববারানীর উদ্ধৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে দাইলামীর অনুসরণ করেছেন।
সাখাবী বলেনঃ তা ধারণামাত্র। তার ভাষা ভিন্ন হওয়ার কারণে ...। আর আলোচ্য হাদীসের ভাষাটিকে (আসলে) বাইহাকী `আদদালাইল` গ্রন্থে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। যার সনদের মধ্যে নাম না নেয়া বর্ণনাকারী রয়েছেন। ফলে সঠিক ছিল আলোচ্য হাদীসকে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বাইহাকীর উদ্ধৃতি দেয়া।
আমি (আলাবনী) বলছিঃ ত্ববারানী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের সনদকে হাইসামী (৮/১৯২) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
` يوم من إمام عادل أفضل من عبادة ستين سنة، وحد يقام في الأرض بحقه أزكى فيها من مطر أربعين عاما `.
ضعيف.
أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 140 / 2) من طريق سعد أبي غيلان الشيباني قال: سمعت عفان بن جبير الطائي عن أبي حريز الأزدي عن عكرمة عن
ابن عباس مرفوعا به. وخالفه إسنادا ومتنا جعفر بن عون فقال: أخبرنا عفان بن جبير الطائي عن عكرمة به إلا أنه أسقط أبا حريز من الإسناد، وقال: ` صباحا ` بدل: ` عاما `. أخرجه الطبراني في ` الأوسط ` (رقم -
১৫৯৫। ন্যায়পরায়ন ইমামের একদিন ষাট বছর ইবাদাত করার চেয়েও উত্তম। আর যমীনের মধ্যে যদি হক পস্থায় একটি শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয় তা যমীনের মধ্যে বেশী পবিত্র চল্লিশ বছর বৃষ্টির চেয়েও।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (৩/১৪০/২) সা'দ আবী গায়লান শাইবানী হতে, তিনি আফফান ইবনু জুবায়ের ত্বাঈ হতে, তিনি আবূ হুরাইয আযদী হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটির সনদ এবং ভাষা উভয়েরই জা'ফার ইবনু আউন বিরোধিতা করে বলেছেনঃ তিনি আফফান ইবনু জুবায়ের ত্বাঈ হতে, তিনি ইকরিমা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদ হতে আবু হুরাইযকে ফেলে দিয়েছেন। আর ভাষার মধ্যে “বছরের” স্থলে “সকাল” ব্যবহার করেছেন।
এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (৪৯০১) ও `মাজমাউল বাহরাইন` গ্রন্থে (১/১৯৪/১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীসটিকে একমাত্র এ সনদেই বর্ণনা করা হয়েছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি আমার নিকট দুর্বল। কারণ এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আবু হুরাইয আযদী, যার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু হুসাইন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী ভুলকারী।
আর আফফান ইবনু জুবায়ের ত্বাঈকে ইবনু আবী হাতিম `আলজারহু অততাব্দীল` গ্রন্থে (৩/২/৩০) আবূ গায়লান শাইবানী ও জাফর ইবনু আউনের বর্ণনায় উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। অতএব তার অবস্থা মাজহুল।
আর সা’দ আবু গায়লান শাইবানীকে তিনি (২/১/৯৯) নাসাব (বংশ পরিচয়) বর্ণনা করা ছাড়া এভাবেই উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। তিনি এর পূর্বে তাকে 'ত্ব অধ্যায়ে' উল্লেখ করে তিনি তার নাম বলেছেনঃ ত্বালেব। আর তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ তিনি ভালো শাইখ, তার হাদীসের মধ্যে কারুকার্য করা হয়েছে।
আবূ যুর’য়াহ বলেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই।
হাইসামীর নিকট এ বিষয়টি লুক্কায়িতই রয়ে গেছে এ কারণে তিনি তাকে চিনেন নি। তিনি হাদীসটিকে “আলমাজমা” গ্রন্থে (৫/১৯৭) প্রথম বাক্যে `আমান` শব্দে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী `আলকাবীর` ও “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদের মধ্যে আবূ গাইলান শাইবানী রয়েছেন, আমি তাকে চিনি না। আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার এ ব্যাখ্যায় কয়েকভাবে বিরূপ মন্তব্য রয়েছেঃ
১ । “আলকাবীর” এবং “আলআওসাত” গ্রন্থের ভাষা পরস্পর বিরোধী।
২। `আলকাবীর` গ্রন্থের সনদের মধ্যেও আবু গাইলান রয়েছেন। আর “আলআওসাত” গ্রন্থে জা'ফর ইবনু আউন তার মুতাবা'য়াত করেছেন তিনি তার চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য। এর দ্বারা বুখারী ও মুসলিম দলীল গ্রহণ করেছেন।
৩। আবূ গাইলান পরিচিত। সম্ভবত হাইসামীর নিকট লুক্কায়িতই রয়ে গেছে যে, ইবনু আবী হাতিম অন্যত্র তাকে উল্লেখ করে তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার বিবরণ দিয়েছেন।
মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (৩/১৩৫) হাদীসটি “আলকাবীর” গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন তবে তিনি `বছরের` স্থলে `সকাল` ব্যবহার করে বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী “আলকাবীর” ও “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি হাসান।
তার এ কথায় শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। যদিও হাফিয ইরাকী তার অনুসরণ করেছেন।
হাদীসটিকে গাযালী “আলইয়াহইয়া” গ্রন্থে নিম্নের বাক্যে উল্লেখ করেছেনঃ
ليوم من سلطان عادل، أفضل من عبادة سبعين سنة
“ন্যায়পরায়ন বাদশার একদিন সত্তর বছরের ইবাদাতের চেয়েও উত্তম।”
অতঃপর ইরাকী “তাখরাজুল ইয়াহইয়া” গ্রন্থে (১/১৫৫) বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে ভালো সনদে বর্ণনা করেছেন (ষাট বছর) উল্লেখ করে।
1599) .
فأمره صلى الله عليه وسلم بنزع الجبة، ولم يأمره بشقها. وبهذا الحديث احتج الطحاوي على ترجيحه على حديث جابر هذا، وقال:
`إن إسناده أحسن من إسناده`؛ وأيده من طريق النظر.
ثم روى بسند صحيح عن قتادة قال:
قلت لعطاء: إنما كنا نرى أن يشقها؟! فقال عطاء: إن الله لا يحب الفساد.
ونقل ابن عبد البر في `التمهيد` (2/ 294) أن الحديث ضعيف عند أهل العلم، وهو عندهم - مع ضعفه - مردود بالثابت من حديث عائشة الآتي.
والآخر: حديث عائشة قالت:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يهدي من المدينة، فأفتل قلائد هديه، ثم لا يجتنب شيئاً مما يجتنب المحرم. متفق عليه، وهو مخرج في `صحيح أبي داود` أيضاً (1541،1553) .
فهذا خلاف حديث جابر صراحة، وإليه ذهب فقهاء الأمصار، وهو أن من أرسل هدياً لا يصير بذلك محرماً، ولا يمسك عما يمسك عنه المحرم؛ خلافاً لبعض السلف. قال الحافظ (3/ 430) :
`ومن حجتهم: ما رواه الطحاوي وغيره (فذكر حديث جابر هذا. وقال) ؛ وهذا لا حجة فيه لضعف إسناده`!
قلت: ولا يخفى ما في الجزم بالضعف بعد أن عرفت الخلاف في راويه ابن أبي لبيبة! فهذا في طرف، وشيخه الهيثمي في طرف آخر؛ حيث قال (3/ 227) :
`رواه أحمد والبزار باختصار، ورجال أحمد ثقات`!
قلت: فهذا التوثيق المطلق في طرف آخر! والحق التفصيل الذي أوضحته لك.
هذا؛ لعل لفظ البزار المختصر الذي يشير إليه الهيثمي؛ هو ما أخرجه أحمد أيضاً (3/ 294) من طريق داود بن قيس عن عبد الرحمن بن عطاء أنه سمع ابني جابر يحدثان عن أبيهما قال:
بينا النبي صلى الله عليه وسلم جالس مع أصحابه؛ شق قميصه حتى خرج منه، فقيل له؟ فقال:
`واعدتهم يقلدون هدياً اليوم؛ فنسيت` (1) .
قلت: وداود بن قيس - وهو الفراء - ثقة من رجال مسلم.
وجابر؛ له ثلاثة من الولد يروون عنه: عبد الرحمن وعقيل ومحمد، ولم يذكر أحدهم في شيوخ ابن أبي لبيبة، وإنما ذكروا فيهم عبد الملك بن جابر - وهو ابن عتيك؛ المتقدم في رواية حاتم بن إسماعيل - ؛ فهذا يدل على أن ابن أبي لبيبة كان يضطرب في إسناده.
ومما يؤكد ذلك: أنه ورد عنه على وجه آخر، فقال زيد بن أسلم: عن عبد الرحمن بن عطاء عن نفر من بني سلمة قالوا:
كان النبي صلى الله عليه وسلم جالساً؛ فشق ثوبه، فقال:
`إني واعدت هدياً يشعر اليوم`.
أخرجه أحمد (5/ 426) : حدثنا وكيع: حدثنا هشام بن سعد عن زيد بن أسلم.
فهذه علة أخرى تدل على ضعف الحديث؛ وهي اضطراب الراوي في إسناده على وجوه ثلاثة:
الأولى: عن عبد الملك بن جابر بن عتيك عن جابر بن عبد الله.
الثانية: عن ابني جابر يحدثان عن أبيهما.
(1) هو في ` مسند البزار ` (2/20/1107 - كشف) بنحوه من الطريق ذاتها. (الناشر)
الثالثة: عن نفر من بني سلمة قالوا …
وعلى هذه الرواية؛ فهو مرسل أو منقطع؛ لأن النفر من بني سلمة إن كانوا من التابعين فهو مرسل؛ لأن ابن أبي لبيبة لم يذكروا له رواية عن أحد من الصحابة؛ ولا يبعد أن يكون عنى بهم ابني جابر كما في الرواية الثانية.
وإن كانوا من الصحابة؛ فهو منقطع لما ذكرنا، وهذا الاحتمال هو الذي يناسب إيراد الإمام أحمد للحديث من هذا الوجه أيضاً في `المسند`.
ومع ذلك؛ فقد أشكل علي في هذا الإسناد أمور:
أولاً: أنهم لم يذكروا في الرواة عن عبد الرحمن بن عطاء هذا: زيد بن أسلم، وزيد أكبر منه؛ فإنه تابعي معروف؛ وإنما ذكروا فيه هشام بن سعد.
ثانياً: أن الهيثمي أورده هكذا: `وعن عطاء بن يسار عن نفر من بني سلمة قالوا … (الحديث) ؛ رواه أحمد، ورجاله رجال (الصحيح) `!
فأشكل علي قوله: `عطاء بن يسار`؛ فإن هذا ليس في `المسند`، وإنما فيه `عبد الرحمن بن عطاء`، فقلت في نفسي: لعل هذا محرف، والصواب: `عبد الرحمن بن عطاء`؛ فرجعت إلى ترجمة زيد بن أسلم؛ فوجدت في شيوخه راويين كل منهما اسمه عبد الرحمن؛ أحدهما: ابن وعلة، والآخر: ابن أبي سعيد الخدري، فرجعت إلى ترجمة كل منهما؛ فلم أجد في شيوخهما من يسمى عطاءً، لا عطاء بن يسار ولا غيره!
وهنا انتهى بحثي حول هذا الإسناد، وهو بحاجة بعد إلى مزيد من البحث والتحقيق، فمن بدا له شيء. فليلحقه به. وجزاه الله خيراً.
ثم وجدت حديثاً آخر مخالفاً لحديث الترجمة، ومطابقاً لظاهر حديث يعلى ابن أمية، وهو حديث أو سلمة قالت:
كانت ليلتي التي يصير إلي فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم مساء يوم النحر، فصار إلي، ودخل علي وهب بن زمعة ومعه رجل من آل أبي أمية متقمصين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
`انزع عنك القميص`. قال: فنزعه من رأسه، ونزع صاحبه قميصه من رأسه، ثم قال:
لم يا رسول الله؟! قال:
`إن هذا يوم رخص لكم إذا أنتم رميتم الجمرة أن تحلوا؛ يعني: من كل ما حرمتم منه؛ إلا النساء، فإذا أمسيتم قبل أن تطوفوا هذا البيت؛ صرتم حرماً لهيئتكم قبل أن ترموا الجمرة قبل أن تطوفوا به`.
أخرجه أبو داود وغيره بسند حسن. ومن ضعفه فما حقق، وقد تكلمت عليه مفصلاً في `صحيح أبي داود` (1745) .
১৫৯৬। আলেমের ফাযীলাত অন্যের উপরে সেরূপ যেরূপ নবীর ফাযীলাত তার উম্মাতের উপরে।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৮/১০৭) আবূ আব্দুল্লাহ্ হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী হতে, তিনি আবুল ফাত্হ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আযদী হাফিয হতে, তিনি আবূ ত্বলহাহ অসাবেসী হতে, তিনি নাসর ইবনু আলী জাহযামী হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে, তিনি আলআওয়াম ইবনু হাওশাব হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু আবী সালামাহ হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি অন্ধকারাচ্ছন্ন বানোয়াট। এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছেঃ
১। এ সুলাইমান সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। তার থেকে আওয়াম ইবনু হাওশাব এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
২। আবু ত্বলহাহ অসাবেলীকে আমি চিনি না।
৩। আবুল ফাত্হ আযদীর হেফযের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে।
৪। বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ হচ্ছেন সাইরাফী, তিনি ইবনুল বাযরী নামে পরিচিত। খতীব বলেনঃ আবুল ফাতহ মিসরী আমাকে বলেনঃ চারজন ছাড়া যেসব শাইখদের ব্যাপারে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষ রয়েছে বাগদাদে তাদের থেকে আমি লিখিনি। আর তাদের মধ্যে হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ বাযরী রয়েছেন। সূরী বলেনঃ তিনি মিসরে ধর্মীয় ব্যাপারে অসততা এবং ফাসাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করার ক্ষেত্রে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।
হাদীসটিকে আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তবে এতে (غيره) এর স্থলে আবেদ’ (عابد) উল্লেখ করা হয়েছে। এটিকে ইবনু আব্দুল বার “জামেউ বায়ানিল ইলম” গ্রন্থে (১/২১) মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযল ইবনে আতিয়্যাহ সূত্রে যায়দ আল-আম্মী হতে, তিনি জাফার আবাদী হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি একেবারেই দুর্বল। যায়েদ আম্মী দুর্বল। আর মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযলও মিথ্যুক। আর জা'ফার আবাদী হচ্ছেন জা'ফার ইবনু যায়েদ আবাদী। ইবনু আবী হাতিম (১/১/৪৮০) বলেনঃ তার থেকে সালেহ মিররী, সালাম ইবনু মিসকীন ও হাম্মাদ ইবনু যায়েদ বর্ণনা করেছেন। আমার পিতা তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বাহ্যিক অবস্থা এই যে, তিনি আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করেননি। অতএব এটি মুনকাতি।
` فضلت على الناس بأربع: بالسخاء والشجاعة وكثرة الجماع وشدة البطش `.
باطل.
أخرجه الخطيب في ` تاريخ بغداد ` (8 / 69 - 70) من طريق الإسماعيلي، وهذا في ` معجمه ` (84 / 1) : أخبرني الحسين بن علي بن محمد بن مصعب النخعي أبو علي - ببغداد، وكان قد غلب عليه البلغم، شيخ كبير - : حدثنا العباس بن الوليد الخلال
حدثنا مروان بن محمد حدثنا سعيد حدثنا قتادة عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أورده في ترجمة الحسين هذا، ولم يذكر فيها أكثر مما جاء في هذا الحديث.
وقال الذهبي: ` عمر، وتغير، لا يعتمد عليه، وأتى بخبر باطل `. ثم ساق هذا الحديث. وتعقبه الحافظ بقوله: ` هذا لا ذنب فيه لهذا الرجل، والظاهر أن الضعف من قبل سعيد، وهو ابن بشير. والله أعلم `.
قلت: ويؤكد ما قاله الحافظ أن الرجل لم يتفرد به، فقد قال الطبراني في ` المعجم الأوسط ` (
১৫৯৭। চারটি বস্তুর দ্বারা আমাকে লোকেদের উপরে ফাযীলাত দেয়া হয়েছে: বদান্যতা, বাহাদুরী, অধিক পরিমাণে সহবাস ও কঠোর পাকড়াও।
হাদীসটি বাতিল।
হাদীসটিকে খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৮/৬৯-৭০) ইসমাঈলী সূত্রে আর এটি তার `মুজাম` গ্রন্থে (১/৮৪) হুসাইন ইবনু আলী ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুস’য়াব নাখাঈ আবূ ‘আলী হতে বাগদাদে, তিনি আব্বাস ইবনুল আলীদ খাল্লাল হতে, তিনি মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি সাঈদ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
তিনি এটিকে হুসাইনের জীবনীর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। হাফিয যাহাবী তার সম্পর্কে বলেনঃ তাকে দীর্ঘায়ু দেয়া হয়েছিল এবং তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। তার উপর নির্ভর করা যায় না। তিনি বাতিল হাদীস নিয়ে এসেছেন।
অতঃপর তিনি এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার নিম্নের ভাষায় তার সমালোচনা করেছেনঃ
এ হাদীসের ব্যাপারে এ ব্যক্তির কোন দোষ নেই। বাহ্যিক অবস্থা এই যে, দুর্বলতা এসেছে সাঈদের দিক থেকে। তিনি হচ্ছেন ইবনু বাশীর।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয ইবনু হাজারের কথাকে শক্তিশালী করছে যে, এ ব্যক্তি হাদীসটিকে এককভাবে বর্ণনা করেননি। ত্ববারানী “আলমুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (৬৯৫৯) ও “মুসনাদুশ শামেঈন” গ্রন্থে (পৃঃ ৫০২) মুহাম্মাদ ইবনু হারূন হতে, তিনি আব্বাস ইবনুল অলীদ খাল্লাল হতে বর্ণনা করেছেন।
আর এ মুহাম্মাদ হচ্ছেন ইবনু হারূন ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার ইবনু বিলাল দেমাস্কী। তার জীবনী পাচ্ছি না। তিনি “তারীখু দেমাস্ক” গ্রন্থে বর্ণিত ইবনু আসাকিরের শর্তানুযায়ী বর্ণনাকারী। আমার নিকট প্রকাশ পাচ্ছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য। কারণ ত্ববারানী তার থেকে “আলআওসাত” গ্রন্থে (৬৯২৫-৬৯৬৫) প্রায় চল্লিশটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ অধিক সংখ্যক বর্ণনা করা তার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ বহন করছে। আর তিনি হচ্ছেন ইসমাঈলির শাইখ হুসাইনের শক্তিশালী মুতাবায়াতকারী।
` كان يكره الكي، والطعام الحار، ويقول: عليكم بالبارد فإنه ذوبركة، ألا وإن الحار لا بركة فيه، وكانت له مكحلة يكتحل منها عند النوم ثلاثا ثلاثا `.
ضعيف جدا.
أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (8 / 252) من طريق عبد الله بن خبيق: حدثنا يوسف بن أسباط عن العرزمي عن صفوان بن سليم عن أنس بن مالك قال: فذكره مرفوعا. وقال: ` غريب من حديث صفوان، لم نكتبه إلا من حديث يوسف `.
قلت: وهو ضعيف لسوء حفظه، لكن شيخه العرزمي أشد ضعفا منه، واسمه محمد بن عبيد الله العرزمي، قال الحافظ: ` متروك `. وعبد الله بن خبيق، ترجمه ابن أبي حاتم (2 / 2 / 46) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا.
১৫৯৮। তিনি ছ্যাক লাগানো এবং গরম খাদ্যকে অপছন্দ করে বলতেনঃ তোমরা ঠাণ্ডাকে গ্রহণ কর, কারণ ঠাণ্ডা (খাদ্য) হচ্ছে বরকতধারী। সাবধান, গরমের মধ্যে কোনই বরকত নেই। তার একটি সুরমাদানী ছিলো তিনি তা থেকে ঘুমের সময় (প্রত্যেক চোখে) তিন তিনবার করে সুরমা ব্যবহার করতেন।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে আবূ নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ্” গ্রন্থে (৮/২৫২) আব্দুল্লাহ ইবনু খুবায়েক সূত্রে ইউসূফ ইবনু আসবাত হতে, তিনি আরযামী হতে, তিনি সাফওয়ান ইবনু সুলাইম হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আবু নুয়াইম বলেনঃ সাফওয়ানের হাদীস হতে এটি গারীব। এটিকে একমাত্র ইউসুফের হাদীস হতেই লিখেছি।
আমি (আলবানী) বলছি তার মন্দ হেফযের কারণে তিনি দুর্বল। আর তার শাইখ আরযামী তার থেকেও বেশী দুর্বল। তার নাম হচ্ছে মুহাম্মাদ ইবনু ওবাইদুল্লাহ আরযামী। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি মাতরূক।
আর ইবনু আবী হাতিম আব্দুল্লাহ ইবনু খুবায়েকের জীবনী (২/২/৪৬) আলোচনা করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি।
` لوكان جريج الراهب فقيها عالما، لعلم أن إجابة أمه أفضل من عبادة ربه `.
ضعيف.
أخرجه الخطيب في ` تاريخ بغداد ` (13 / 3 - 4) عن أبي العباس محمد بن يونس بن موسى القرشي: حدثنا الحكم بن الريان اليشكري قال: حدثنا ليث بن سعد حدثني يزيد بن حوشب الفهري عن أبيه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره. وقال: ` روى هذا الحديث إبراهيم بن المستمر العروقي، ومحمد بن الحسين الحنيني عن الحكم بن الريان هكذا `. ورواه الحسن بن سفيان في ` مسنده `، والترمذي في ` النوادر `، وقال ابن منده: ` غريب، تفرد به الحكم بن الريان `.
قلت: ومن الغريب أن كتب الجرح والتعديل لم تتعرض للحكم هذا بذكر، حتى كتاب ` الجرح والتعديل ` لابن أبي حاتم، ومثله يزيد بن حوشب، وكذلك أبو هـ، فإنهم لا يعرفون إلا في هذا الحديث، ولهذا قال المناوي: ` قال البيهقي: هذا إسناد مجهول. اهـ.
وقال الذهبي في ` الصحابة `: هو مجهول. اهـ. وفيه محمد بن يونس القرشي الكديمي، قال ابن عدي: متهم بالوضع `. قلت: لم ينفرد به، بل تابعه اثنان كما تقدم نقله عن الخطيب، فالعلة من شيخه، أوشيخ الليث المجهولين. والله أعلم.
ثم إن الحديث عندي كأنه موضوع، لأنه يشبه كلام الفقهاء، فالله أعلم بحقيقة الحال.
১৫৯৯। জুরায়েয আররাহেব যদি ফকীহ্ আলেম হতেন তাহলে তিনি অবশ্যই জানতেন যে, তার মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া বেশী উত্তম তার প্রতিপালকের এবাদাতের চেয়ে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১৩/৩-৪) আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস ইবনে মূসা কুরাশী হতে, তিনি হাকাম ইবনুর রাইইয়্যান ইয়াশকুরী হতে, তিনি লাইস ইবনু সা'দ হতে, তিনি ইয়াযীদ ইবনু হাওশাব ফিহরী হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ...।
খাতীব বলেনঃ হাদীসটিকে ইবরাহীম ইবনুল মুসতামির আরূকী ও মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন হুনাইনী হাকাম ইবনু রাইয়্যান হতে এভাবে বর্ণনা করেছেন।
আর হাদীসটিকে হাসান ইবনু সুফইয়ান তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে আর তিরমিযী “আননাওয়াদির” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনু মান্দাহ্ বলেনঃ হাদীসটি গারীব। হাকাম ইবনু রাইয়্যান এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছি আজব ব্যাপার এই যে, দোষী-নির্দোষী ব্যাখ্যাদানকারী গ্রন্থগুলো এ বর্ণনাকারী হাকামকে উল্লেখ করেননি। এমনকি ইবনু আবী হাতিম তার “আলজারহু আততা'দীল” গ্রন্থেও উল্লেখ করেননি। ইয়াযীদ ইবনু হাওশাব এবং তার পিতার অবস্থাও তার মতই। কারণ তাদেরকে একমাত্র এ হাদীসের মধ্যেই চেনা যায়। আর এ কারণেই মানবী বলেছেনঃ বাইহাকী বলেনঃ এ সনদটি মাজহুল।
আর হাফিয যাহাবী “আসসহাবাহ” গ্রন্থে বলেনঃ এটি মাজহুল। এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস কুরাশী কুদায়মী রয়েছন, ইবনু আদী সম্পর্কে বলেনঃ তিনি জাল করার দোষে দোষী।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি। বরং দু'জন তার মুতাবায়াত করেছেন যেমনটি পূর্বে খাতীবের উদ্ধৃতিতে আলোচিত হয়েছে। হাদীসটির সমস্যা তার শাইখ অথবা লাইসের অপরিচিত শাইখদের থেকেই এসেছে। আল্লাহই বেশী জানেন।
অতঃপর আমার নিকট হাদীসটি যেন বানোয়াট। কারণ ফাকীহদের কথার সাথে এটির সাদৃশ্য রয়েছে। এর আসল অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই বেশী জানেন।
` ليس في الأرض من الجنة إلا ثلاثة أشياء: غرس العجوة وأواق تنزل في الفرات كل يوم من بركة الجنة، والحجر `.
ضعيف.
أخرجه الخطيب في ` تاريخ بغداد ` (1 / 55) : أخبرنا القاضي أبو عمر القاسم بن جعفر بن عبد الواحد الهاشمي - بالبصرة - قال: أخبرنا عبد الرحمن بن أحمد الختلي قال: حدثني عبد الله بن محمد بن علي البلخي قال: أخبرنا محمد بن أبان قال: أخبرنا أبو معاوية عن الحسن بن سالم بن أبي الجعد عن أبيه عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد غريب، رجاله ثقات، ليس فيهم من ينظر في حاله غير اثنين:
الأول: الحسن بن سالم، فلم أر من ذكره غير ابن أبي حاتم من رواية جمع عنه، وروى عن ابن معين أنه قال: ` صالح `.
والآخر: محمد بن أبان، وهو بلخي، وهما اثنان من هذه الطبقة: الأول: محمد بن أبان بن وزير البلخي، وهو ثقة من رجال البخاري.
والآخر: محمد بن أبان بن علي البلخي، وهو مستور كما قال الحافظ، ولعله هو علة هذا الحديث الغريب، فإنه لم يترجح لي أيهما المراد الآن. ولم أر من صرح بإعلال الحديث، أوتضعيفه، اللهم إلا ما ذكره السيوطي في مقدمة ` الجامع الكبير `، أن مجرد عزوالحديث إلى ` تاريخ الخطيب ` ونحوه، يكفي للإشارة إلى تضعيف الحديث، وقد أورد الحديث في ` جامعيه ` من رواية الخطيب وحده. ومما يلفت النظر أن المناوي بيض للحديث، ولم يتكلم عليه بشيء، وأما في ` التيسير ` فجزم بأن إسناده ضعيف.
فلعله منه بناء على ما ذكرته آنفا. ومن دون محمد بن أبان ثلاثتهم ثقات، مترجمون في ` التاريخ ` فراجعهم إن شئت (10 / 93 - 94 و290 - 291 و12 / 451 - 452) . ولقد استنكرت من هذا الحديث طرفه الأول، لما فيه من النفي مع ثبوت قوله صلى الله عليه وسلم:
` سيحان وجيحان، والفرات والنيل، كل من أنهار الجنة `. أخرجه مسلم وغيره، وهو مخرج في ` الصحيحة ` (100) . وقوله: ` الحجر الأسود من الجنة `، وما فيه من أن العجوة من الجنة، قد صح من حديث أبي هريرة وغيره كما بينته في ` تخريج المشكاة ` (4235) .
وأما نزول البركة في الفرات من الجنة، فلم أجد ما يشهد له، سوى ما أخرجه الخطيب أيضا من طريق الربيع بن بدر عن الأعمش عن شقيق عن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ` ينزل في الفرات كل يوم مثاقيل من بركة الجنة `. ضعيف جدا، فإن الربيع بن بدر هذا متروك، وقد روي عنه بلفظ آخر مضى برقم (1438) .
১৬০০। যমীনে জান্নাতের মাত্র তিনটি বস্তু রয়েছে আজওয়া বৃক্ষ, জান্নাতের বরকত থেকে প্রতিদিন ফুরাত নদীতে স্বর্ণ নাযিল হওয়া এবং পাথর (হাজার আসওয়াদ)।
হাদীসটি দুর্বল। [কিন্তু তিনি (আলবানী) দুর্বল বলা থেকে ফিরে এসে পরবর্তীতে `সিলসিলাহ্ সহীহাহ` গ্রন্থে (৩১১১) হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।]
হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১/৫৫) কাযী আবূ উমার কাসেম ইবনু জা’ফার ইবনু আব্দুল অহিদ হাশেমী হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আহমাদ খাতলী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী বালখী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবান হতে, তিনি আবূ মুয়াবিয়্যাহ হতে, তিনি হাসান ইবনু সালেম ইবনু আবী জা'দ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি গারীব। তার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাদের মধ্যে দু'জন ছাড়া অন্যদের অবস্থার ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়ার কোন প্রয়োজনীয়তা নেইঃ
১। হাসান ইবনু সালেম। ইবনু আবী হাতিম ছাড়া অন্য কেউ তাকে উল্লেখ করেছেন বলে দেখি না। ইবনু মাঈন হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেনঃ তিনি সালেহ (ভালো)।
২। মুহাম্মাদ ইবনু আবান। তিনি হচ্ছেন বালখী। এ নামে দু’জন রয়েছেন তারা উভয়েই একই স্তরেরঃ
ক. মুহাম্মাদ ইবনু আবান ইবনু অযীর বালখী। তিনি নির্ভরযোগ্য বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
খ. মুহাম্মাদ ইবনু আবান ইবনু আলী বালখী। এর অবস্থা অস্পষ্ট যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন। সম্ভবত ইনিই এ গারীব হাদীসের সমস্যা। কারণ আমার নিকট অদ্যাবধি স্পষ্ট হয়নি ইনি তাদের দু'জনের কে? আর কোন ব্যক্তিকে দেখছি না তিনি হাদীসটির সমস্যাকে স্পষ্ট করেছেন। মানবী দৃঢ়তার সাথে `আততায়সীর` গ্রন্থে হাদীসটির সনদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। সম্ভবত আমি যা উল্লেখ করেছি এ সব কারণেই।
মুহাম্মাদ ইবনু আবানের নিচের তিনজন বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। `আত-তারীখ` গ্রন্থে তাদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে।
আমি আলোচ্য হাদীসটির প্রথম অংশটুকুকে প্রত্যাখ্যান করেছি, কারণ এর মধ্যে (তিনটি বস্তু ছাড়া) দুনিয়াতে জান্নাতী অন্য কিছু না থাকার কথা বলা হয়েছে অথচ সহীহ হাদীসের মধ্যে সাব্যস্ত হয়েছেঃ
“সায়হান, জায়হান, ফুরাত ও নীল এ সবগুলো জান্নাতী নদী।”
এটিকে ইমাম মুসলিম (২৮৩৯) ও “আহমাদ (৭৮২৬) প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। এটিকে আমি “সিলসিলাহ্ সহীহাহ” গ্রন্থে (১০০) উল্লেখ করেছি।
এছাড়া অন্য হাদীসের মধ্যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হাজরে আসওয়াদ হচ্ছে জান্নাত হতে।” আর “আজওয়া হচ্ছে জান্নাত হতে।” [`সহীহ তিরমিযী` (২০৬৬)] আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে এগুলো বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু ফুরাত নদীতে জান্নাত থেকে বরকত নাযিল হওয়া মর্মে বর্ণিত হাদীসের কোন শাহেদ পাচ্ছি না। একমাত্র খাতীব কর্তৃক বর্ণনাকৃত নিম্নোক্ত হাদিস ছাড়া, তিনি রাবী' ইবনু বাদর সূত্রে আ'মাশ হতে, তিনি শাকীক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ `প্রতিদিন ফুরাত নদীতে জান্নাতী বরকতের কতিপয় মিসকাল নাযিল হয়।`
কিন্তু এ হাদীসটি খুবই দুর্বল। কারণ এ রাবী' ইবনু বাদর মাতরূক। তার থেকে ভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে যেটিকে (১৪৩৮) নম্বরে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
[কিন্তু তিনি (আলবানী) দুর্বল বলা থেকে ফিরে এসে পরবর্তীতে “সিলসিলাহ্ সহীহাহ` গ্রন্থে (৩১১১) হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।]