হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1561)


` الرضاع يغير الطباع `.
منكر جدا.
رواه ابن الأعرابي في ` المعجم ` (24 / 1) : أخبرنا أبو بكر محمد بن صالح الأنطاكي - كتابة - : أخبرنا أبو مروان عبد الملك بن مسلمة أخبرنا صالح بن عبد الجبار عن ابن جريج عن عكرمة عن ابن عباس مرفو عا. ومن طريق ابن الأعرابي رواه القضاعي (4 / 2) .
قلت: وهذا إسناد ضعيف، فيه علل:
1 - عنعنة ابن جريج، فإنه كان يدلس.
2 - صالح بن عبد الجبار، مجهول لا يعرف، قال الذهبي في ` الميزان `: ` أتى بخبر منكر جدا، رواه ابن الأعرابي … `
، ثم ساق هذا، وقال:
3 - ` وعبد الملك مدني ضعيف `. والحديث رواه أبو الشيخ عن ابن عمر.
‌‌




১৫৬১। (দুধ মায়ের) দুধ পান করা স্বভাবকে পরিবর্তন করে দেয়।





হাদীসটি খুবই মুনকার।





এটিকে ইবনুল আ'রাবী `আলমুজাম` গ্রন্থে (১/২৪) আবূ বাকর মুহাম্মাদ ইবনু সালেহ আনত্বকী হতে (লিখিতভাবে), তিনি আবু মারওয়ান আব্দুল মালেক ইবনু মাসলামাহ হতে, তিনি সালেহ ইবনু আব্দুল জাব্বার হতে, তিনি ইবনু জুরায়েয হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আর ইবনু আ'রাবীর সূত্রে হাদীসটিকে কাযাঈ (৪/২) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছেঃ





১। ইবনু জুরায়েয কর্তৃক আনআন করে বর্ণনা করা। কারণ তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী।





২। সালেহ ইবনু আব্দুল জাব্বার হচ্ছেন মাজহুল তাকে চেনা যায় না। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি খুবই মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন। এটিকে ইবনুল আরাবী ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এ হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ ...।





৩। আব্দুল মালেক মাদানী দুর্বল।





হাদীসটিকে আবুশ শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1562)


` كل عين باكية يوم القيامة، إلا عين غضت عن محارم الله عز وجل وعين سهرت في سبيل الله وعين خرج منها مثل رأس الذباب دمعة من خشية الله عز وجل `.
ضعيف جدا.

أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (3 / 163) وابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (ص 141) من طريقين عن عمر بن صهبان عن صفوان عن أبي سلمة عن أبي
هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال أبو نعيم: ` غريب من حديث صفوان وأبي سلمة، تفرد به عمر بن صهبان `. قلت: وهو ضعيف جدا، قال الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `: ` تركوه `. وأما الحافظ فقال في ` التقريب `: ` ضعيف `. وما ذكره الذهبي أصح. والحديث بيض له المناوي، فلم يزد على قوله: ` رمز المصنف لحسنه `! ثم صرح في ` التيسير ` بأن إسناده حسن! فكأنه لم يقف على إسناده.
‌‌




১৫৬২। প্রত্যেক চোখ কিয়ামত দিবসে ক্রন্দন করবে। সেই চোখ ছাড়া যে চোখ আল্লাহ্ কর্তৃক হারামকৃত বস্তু থেকে বেঁচে থেকেছে, যে চোখ আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে জেগে থেকেছে এবং ঐ চোখ যে চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে মাছির মাথার ন্যায় অশ্রু নির্গত হয়েছে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ্” গ্রন্থে (৩/১৬৩), ইবনুল জাওযী “যাম্মুল হাওয়া” গ্রন্থে (পৃঃ ১৪১) দু'টি সূত্রে উমর ইবনু সহবান হতে, তিনি সাফওয়ান হতে, তিনি আবু সালামাহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আবু নুয়াইম বলেনঃ সাফওয়ান ও আবু সালামার হাদীস হতে এটি গারীব। এটিকে উমার ইবনু সহবান এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা অল মাতরূকীন` গ্রন্থে বলেনঃ তারা (মুহাদ্দিসগণ) তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর হাফিয যাহাবী যা উল্লেখ করেছেন সেটিই বেশী সঠিক। মানবী “আততায়সীর” গ্রন্থে বলেনঃ তার সনদটি হাসান। সম্ভবত তিনি (মানবী) তার সনদটি সম্পর্কে অবগত হননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1563)


` أفضل الدعاء دعاء المرء لنفسه `.
ضعيف.

أخرجه الحاكم (1 / 543) من طريق المبارك بن حسان عن عطاء عن عائشة رضى الله عنها قالت: ` سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الدعاء أفضل؟ قال: ` دعاء المرء لنفسه `. وقال: ` صحيح الإسناد `! ورده الذهبي بقوله: ` قلت: مبارك واه ` وفي ` التقريب `: ` لين الحديث `.
‌‌




১৫৬৩। ব্যক্তি কর্তৃক তার নিজের জন্য দুআ করা হচ্ছে সর্বোত্তম দুআ।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (১/৫৪৩) মুবারাক ইবনু হাসসান সূত্রে আতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন দু'আটি উত্তম এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেনঃ ব্যক্তি কর্তৃক তার নিজের জন্য দু'আ করা। হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেনঃ বর্ণনাকারী মুবারাক দুর্বল।





“আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছেঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1564)


` قال إبليس لربه عز وجل: يا رب! قد أهبط آدم، وقد علمت أنه سيكون له كتاب ورسل، فما كتابهم ورسلهم؟ قال الله عز وجل: رسلهم الملائكة، والنبيون منهم، وكتبهم التوراة والإنجيل والزبور والفرقان. قال: فما كتابي؟ قال: كتابك الوشم وقرآنك الشعر ورسلك الكهنة وطعامك ما لم يذكر اسم الله عز وجل
عليه، وشرابك من كل مسكر وصدقك الكذب وبيتك الحمام ومصائدك النساء ومؤذنك المزمار ومسجدك الأسواق `.
منكر.

أخرجه ابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (ص 155) من طريق الطبراني، وهذا في ` المعجم الكبير ` (3 / 112 / 2) قال: حدثنا يحيى بن عثمان بن صالح قال: حدثنا يحيى ابن بكير قال: حدثني يحيى بن صالح الأيلي عن إسماعيل بن أمية عن عبيد بن عمير عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: ` تفرد به يحيى بن صالح `. قلت: قال العقيلي: ` روى عن إسماعيل عن عطاء مناكير `. وقال ابن عدي: ` أحاديثه غير محفوظة `. قلت: وقد ثبت من الحديث قوله: ` وطعامك ما لم يذكر اسم الله عليه `. صح ذلك من
طريق أخرى عن ابن عباس، وقد خرجته في الكتاب الآخر (708) .
‌‌




১৫৬৪। ইবলীস তার প্রতিপালককে বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আদমকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আমি জেনেছি যে, তার জন্য অচিরেই কিতাব এবং রসূলগণকে (দূত নিয়োজিত করা) হবে। তাদের কিতাব এবং তাদের রসূলগণ কারা? আল্লাহ্ তা'য়ালা বলেনঃ তাদের রসূলগণ (দূতগণ) হচ্ছেন ফেরেশতা, নবীগণ হবেন তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের কিতাবগুলো হচ্ছে তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবুর ও ফুরকান (কুরআন)। তখন সে বললঃ আমার কিতাব কি? তিনি বললেনঃ তোমার কবিতা, তোমার রসূলরা হবে গণকরা, তোমার খাদ্য সেটিই যার উপর আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তোমার পানীয় হচ্ছে প্রতিটি মাদকতা সৃষ্টিকারী বস্তু, মিথ্যাই হবে তোমার সত্য, তোমার ঘর হবে টয়লেট, নারীরা হবে তোমার শিকারের ফাদ, বাদ্যযন্ত্র হবে তোমার মুয়াযযিন আর বাজারগুলো হবে তোমার মাসজিদ।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী “যাম্মল হাওয়া” গ্রন্থে (পৃঃ ১৫৫) ত্ববারানীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর এটি “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১১২/২) ইয়াহইয়া ইবনু উসমান ইবনু সালেহ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়ের হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সালেহ আইলী হতে, তিনি ইসমাইল ইবনু উমাইয়্যাহ হতে, তিনি উবায়েদ ইবনু উমায়ের হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





ইবনুল জাওযী বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সালেহ হাদীসটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ওকাইলী বলেনঃ তিনি ইসমাঈল সূত্রে আতা হতে কতিপয় মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ তার হাদীসগুলো নিরাপদ নয়।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তবে হাদীসটির মধ্য থেকে নিম্নোক্ত অংশটুকু সাব্যস্ত হয়েছে “তোমার খাদ্য সেটিই যার উপর আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি।” অন্য সূত্রে সহীহ্ হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এটি বর্ণিত হয়েছে। এটিকে আমি `সিলসিলাহ সহীহাহ` গ্রন্থে (৭০৮) উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1565)


` أيما مؤمن استرسل إلى مؤمن، فغبنه، كان غبنه ذلك ربا `.
ضعيف جدا.

أخرجه أبو نعيم في ` الحلية ` (5 / 187) من طريق موسى بن عمير عن مكحول عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وفي لفظ له: ` غبن المسترسل
حرام `. قلت: وهذا سند ضعيف جدا، موسى بن عمير هو القرشي الجعدي مولاهم أبو هارون الأعمى، متفق على تضعيفه، وقال أبو حاتم: ` ذاهب الحديث كذاب `. وقال النسائي: ` ليس بثقة `. وقد مضى الحديث
باللفظ الثاني رقم (667) .
‌‌




১৫৬৫। কোন মুমিন কোন মুমিনের প্রতি আকৃষ্ট হলে, অতঃপর সে তাকে ধোঁকার মাধ্যমে বিনিময় কম দিলে, তার এ ধোঁকা দেয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে আবূ নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (৫/১৮৭) মূসা ইবনু উমায়ের সূত্রে মাকহুল হতে, তিনি আবু উমামাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





অন্য ভাষায় এসেছে “আকৃষ্ট ব্যক্তিকে ধোকা দেয়া হারাম।”





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। মূসা ইবনু উমায়ের হচ্ছেন কুরাশী জা'দী, তাদের দাস হচ্ছে আবূ হারূণ আ'মা। তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য সংঘটিত হয়েছে। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস, মিথ্যুক। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1566)


` كان يستفتح دعاءه بـ ` سبحان ربي الأعلى الوهاب `.
ضعيف.

أخرجه الحاكم (1 / 498) وابن أبي شيبة في ` المصنف ` (12 / 17 / 1) وأحمد (4 / 54) من طريق عمر بن راشد اليمامي قال: حدثنا إياس بن سلمة بن الأكوع الأسلمي عن أبيه قال: ` ما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستفتح دعاء إلا استفتحه بـ … `. هكذا الحديث عندهم جميعا، وإنما أوردته باللفظ المذكور أعلاه تبعا للسيوطي في ` الجامع `. ثم قال الحاكم: ` صحيح الإسناد `. ووافقه الذهبي. قلت: وهو مردود بقوله في ` الضعفاء والمتروكين ` عن عمر هذا: ` ضعفوه `. وكذا قال في ` الميزان `، وساق له مما أنكر عليه أحاديث هذا أحدها، وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `.
وقال الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 156) : ` رواه أحمد والطبراني بنحوه، وفيه عمر بن راشد اليمامي، وثقه غير واحد، وبقية رجاله رجال الصحيح `. ونقل هذا وما قبله المناوي في ` الفيض `، واقتصر في ` التيسير ` على قوله في تصحيح الحاكم: ` وتعقب `. ومن الظاهر أنه لم يرتض التصحيح، وأما مقلده الغماري فقد خالفه في
هذه المرة فصحح الحديث فأورده في ` كنزه ` (2844) !
‌‌




১৫৬৬। তিনি দু'আ করা শুরু করতেন `সুবহানা রাব্বিইয়াল আ'লাল অহহাব` দ্বারা।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (১/৪৯৮), ইবনু আবী শাইবাহ `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থে (১২/১৭/১) ও আহমাদ (৩/৫৪) উমার ইবনু রাশেদ ইয়ামানী সূত্রে ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনুল আকঅ' আসলামী হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বদায় দুআ শুরু করতে শুনেছি ....।





তাদের সবার নিকট হাদীসটি এরূপই এসেছে। আর আমি এখানে হাদীসটিকে উল্লেখিত ভাষায় এনেছি সুয়ূতীর `আলজামে` গ্রন্থের অনুসরণ করে।





হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ। হাফিয যাহাবীও তার অনুসরণ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ যাহাবীর এ সিদ্ধান্ত তার নিম্নোক্ত কথার দ্বারা প্রত্যাখ্যাতঃ তিনি `আযযুয়াফা অলমাতরূকীন` গ্রন্থে বর্ণনাকারী এ উমার সম্পর্কে বলেছেনঃ “তারা তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন”।





তিনি “আলমীযান” গ্রন্থেও অনুরূপ কথা বলেছেন এবং তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন এটি সেগুলোর একটি।





আর হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল।





আর হাইসামী `আলমাজমা` গ্রন্থে (১০/১৫৬) বলেনঃ এটিকে আহমাদ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। যার মধ্যে উমার ইবনু রাশেদ ইয়ামানী রয়েছেন, তাকে একধিক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী।





এ কথাকে মানবী “আলফায়েয” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর “আততায়সীর” গ্রন্থে সংক্ষেপে হাকিম কর্তৃক সহীহ আখ্যা দেয়ার কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। তার ভাষা থেকে বুঝা যায় তিনি সহীহ আখ্যাদানে সন্তুষ্ট হননি। কিন্তু তার অন্ধ অনুসরণকারী গুমারী এবারে তার বিরোধিতা করে হাদীসটিকে তার “কানয” গ্রন্থে (২৮৪৪) সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1567)


` كرامة الكتاب ختمه `.
موضوع.

أخرجه الطبراني في ` المعجم الأوسط ` كما في ` المجمع `، وأبو الحسين محمد بن الحسن الأصفهاني في ` المنتقى من الجزء الثاني من (الفوائد) ` (2 / 1) والقضاعي في ` مسند الشهاب ` (5 / 1) والثعلبي في ` تفسيره ` (3
/ 12 / 1) من طريق محمد بن مروان السدي قال: أخبرنا محمد بن السائب عن أبي صالح، (وقال أبو الحسين وغيره: عن ابن جريج عن عطاء) عن ابن عباس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد موضوع، آفته السدي هذا، وهو متهم بالكذب. وقد سبق له غير ما حديث. وقال الهيثمي (8 / 99) : ` وفيه محمد بن مروان السدي الصغير، وهو متروك `.
‌‌




১৫৬৭। কিতাবের কারামাত হচ্ছে তাতে সীল লাগানোতে।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল আওসাত` গ্রন্থে যেমনটি “আলমাজমা` গ্রন্থে এসেছে, আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আসফাহানী “আলমুনতাকা মিনাল জুযইস সানী মিনাল ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/১), কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৫/১), সা'লাবী তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৩/১২/২) মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান সুদ্দী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুস সায়েব হতে, তিনি আবু সালেহ হতে, (আর আবুল হুসাইন প্রমুখ বলেনঃ ইবনু জুরায়েয হতে, তিনি আতা হতে) তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে এ সুদ্দী। তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। তার থেকে আরো হাদীস পূর্বে আলোচিত হয়েছে।





হাইসামী (৮/৯৯) বলেনঃ এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান সুদ্দী সাগীর রয়েছেন, তিনি মাতরূক।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1568)


` من أدى زكاة ماله، فقد أدى الحق الذي عليه، ومن زاد فهو أفضل `.
ضعيف جدا.

أخرجه أبو داود في ` المراسيل ` (ق 7 / 2) ومن طريقه البيهقي (4 / 84) عن عذافر البصري عن الحسن عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، عذافر هذا قال الذهبي: ` لا يدرى من هو؟ ذكره أحمد بن علي السليماني فيمن يضع الحديث `. وقال الحافظ: ` مستور `. قلت: وقد روى عن الحسن موصولا، أخرجه ابن عدي (163 / 2) عن سلام بن أبي خبزة: حدثنا سعيد بن أبي عروبة عن قتادة عن الحسن عن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم به.
وقال: ` لا أعلم يرويه عن سعيد غير سلام هذا `. قلت: قال الذهبي: ` قال ابن المديني: يضع الحديث، وقال النسائي: متروك، وقال الدارقطني ضعيف `.
‌‌




১৫৬৮। যে ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত আদায় করবে, সে তার উপর যে হক (অধিকার) ছিল তা আদায় করল। আর যে বেশী প্রদান করবে তাই বেশী উত্তম।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে আবু দাউদ `আলমারাসীল` গ্রন্থে (কাফ ৭/২) আর তার সূত্রে বাইহাকী (৪/৮৪) আযাফির বাসর হতে, তিনি হাসান (বাসরী) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এ আযাফির সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ জানা যায় না কে সে? তাকে আহমাদ ইবনু আলী সুলাইমানী জালকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তার অবস্থা লুক্কায়িত।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাসান সূত্রে মওসূল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এটিকে ইবনু আদী (২/১৬৩) সালাম ইবনু আবী খাবযাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবী আরূবাহ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি হাসান বাসরী হতে, তিনি সামুরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ সাঈদ হতে সালাম ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানি না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয যাহাবী বলেনঃ ইবনুল মাদীনী বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারী। নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূক। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1569)


` أول شهر رمضان رحمة وأوسطه مغفرة وآخره عتق من النار `.
منكر.

أخرجه العقيلي في ` الضعفاء ` (172) وابن عدي (165 / 1) والخطيب في ` الموضح ` (2 / 77) والديلمي (1 / 1 / 10 - 11) وابن عساكر (8 / 506 / 1) عن سلام بن سوار عن مسلمة بن الصلت عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال العقيلي: ` لا أصل له من حديث الزهري `. قلت: وقال ابن عدي: ` وسلام (ابن سليمان بن سوار) هو عندي منكر الحديث، ومسلمة ليس بالمعروف `. وكذا قال الذهبي.
ومسلمة قد قال فيه أبو حاتم: ` متروك الحديث ` كما في ترجمته من ` الميزان `، ويأتي له حديث آخر برقم (1580) .
‌‌




১৫৬৯। রমাযান মাসের প্রথম অংশ হচ্ছে রহমতের, মধ্য অংশ হচ্ছে ক্ষমার আর শেষাংশ হচ্ছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (১৭২), ইবনু আদী (১/১৬৫), খাতীব “আলমুওয়াযযিহ” গ্রন্থে (২/৭৭), দায়লামী (১/১/১০১১), ইবনু আসাকির (৮/৫০৬/১) সালাম ইবনু সিওয়ার হতে, তিনি মাসলামাহ ইবনুস সলত হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





ওকাইলী বলেনঃ যুহরীর হাদীস হতে এর কোন ভিত্তি নেই।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু আদী বলেনঃ সালাম ইবনু সুলাইমান ইবনে সিওয়ার আমার নিকট মুনকারুল হাদীস আর মাসলামাহ পরিচিত নন। হাফিয যাহাবীও অনুরূপ কথা বলেছেন। যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে তার জীবনীতে এসেছে। তার আরেকটি হাদীস (১৫৮০) নম্বরে আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1570)


` إن الله بعثني ملحمة ومرحمة ولم يبعثني تاجرا ولا زارعا، وإن شرار الناس يوم القيامة التجار والزراعون إلا من شح على دينه `.
منكر.

أخرجه ابن المظفر في ` حديث حاجب بن أركين ` (1 / 255 / 1) وابن السماك في ` حديثه ` (2 / 90 - 91) وتمام في ` الفوائد ` (154 / 1) وأبو محمد القاري في ` الفوائد ` (5 / 34 / 2) وابن عدي (165 / 1) وابن عساكر (5 / 57 / 2) ومحمد بن عبد الواحد المقدسي في ` المنتقى من حديثه ` (40 / 86 / 2) كلهم من طريق سلام بن سليمان قال: حدثنا حمزة الزيات قال: حدثنا الأجلح بن عبد الله الكندي عن الضحاك عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
وضعفه القاري بقوله: ` حديث غريب `. وابن عدي بقوله: ` وهذا عن حمزة غير محفوظ، وسلام بن سليمان منكر الحديث `.
وأقول: هذا إسناد ضعيف جدا، وله ثلاث علل:
1 - الانقطاع، فإن الضحاك - وهو ابن
مزاحم الهلالي - لم يثبت له سماع من أحد من الصحابة كما قال الحافظ المزي.
2 - الأجلح بن عبد الله فيه ضعف، وفي ` التقريب `: ` صدوق `.
3 - سلام بن سليمان ضعيف كما سبق عن ابن عدي. والحديث أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` من رواية ابن عدي، وقال: ` لا يصح، سلام متروك، والأجلح كان لا يدري ما يقول، ومحمد بن عيسى ضعيف ` يعني الراوي عن سلام، فتعقبه السيوطي في ` اللآلي ` (2 / 143) وتبعه ابن
عراق في ` تنزيه الشريعة ` (2 / 191) : ` بأن الدارقطني أخرجه في ` الأفراد ` من طريق أخرى عن سلام. وبأن أبا نعيم أخرجه من طريق أخرى عن ابن عباس `. قلت: هذه المتابعة لا تجدي، لأنه لا يزال فوقها العلل الثلاث التي شرحنا. وطريق أبي نعيم فيها مجهول كما يأتي بيانه في الحديث بعده. وحديث الترجمة قد أعضله أبو الأسود نصير القصاب فقال: عن الضحاك بن مزاحم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أخرجه ابن جرير الطبري في ` تهذيب الآثار ` (1 / 51 / 121) بإسناده عنه. ونصير هذا أورده البخاري في ` التاريخ ` (4 / 2 / 116) وابن أبي حاتم برواية أخرى عنه، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. وشيخ الطبري فيه عمرو بن عبد الحميد الآملي لم أعرفه.
‌‌




১৫৭০। আল্লাহ্ তা'য়ালা আমাকে (আল্লাহর শক্রদের জন্য) যুদ্ধক্ষেত্র করে আর (সারা জাহানের জন্য) রহমত করে প্রেরণ করেছেন। আমাকে ব্যবসায়ী এবং কৃষক হিসেবে প্রেরণ করেননি। কিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক হবে ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা, সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার দ্বীনের ব্যাপারে কৃপণতা করবে (অর্থাৎ দ্বীনকে ধরে রাখবে)।





হাদিসটি মুনকার।





হাদিসটিকে ইবনুল মুযাফফায `হাদীসু হাজেব ইবনু আরকীন` গ্রন্থে (১/২৫৫/১), ইবনুস সাম্মাক তার “হাদীস” গ্রন্থে (২/৯০-৯১), তাম্মাম `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে (১/১৫৪), আবূ মুহাম্মাদ কারী `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে (৫/৩৪/২), ইবনু আদী (১/১৬৫), ইবনু আসাকির (৫/৫৭/২), মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহেদ মাকদেসী “আলমুনতাকা মিন হাদীসহি” গ্রন্থে (৪০/৮৬/২) তারা সকলে সালাম ইবনু সুলাইমান সূত্রে হামযাহ যাইয়্যাত হতে, তিনি আলআজলাহ ইবনু আবদুল্লাহ কিন্দী হতে, তিনি যহহাক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ... ।





কারী হাদিসটিকে নিম্নের কথার দ্বারা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেনঃ





হাদিসটি গারীব।





ইবনু আদী বলেনঃ হামযাহ হতে এটি নিরাপদ নয়। আর সালাম ইবনু সুলাইমান মুনকারুল হাদীস ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। এতে তিনটি সমস্যা রয়েছেঃ





১। সনদে বিচ্ছিন্নতা। কারণ যহহাক হচ্ছেন ইবনু মুযাহিম হিলালী, কোন সাহাবী হতে তার শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি যেমনটি হাফিয মিযযী বলেছেন।





২। আলআজলাহ ইবনু আব্দুল্লাহর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। “আততাকরীব” গ্রন্থে এসেছেঃ তিনি সত্যবাদী।





৩। সালাম ইবনু সুলাইমান দুর্বল যেমনটি ইবনু আদী হতে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী “আলমওযুয়াত” গ্রন্থে ইবনু আদীর বর্ণনায় উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। সালাম মাতরূক। বর্ণনাকারী আজলাহ সে নিজেই জানত না কি বলছে। আর মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা দুর্বল, অর্থাৎ সালাম থেকে বর্ণনাকারী।





সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/১৪৩) নিম্নের বর্ণনার দ্বারা তার সমালোচনা করেছেন আর ইবনু ইরাক `তানযীহুশ শারী'আহ` গ্রন্থে (২/১৯১) তার অনুসরণ করেছেনঃ দারাকুতনী “আলআফরাদ” গ্রন্থে অন্য সূত্রে সালাম হতে বর্ণনা করেছেন এবং আবু নুয়াইম অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ মুতাবায়াতে কোন ফায়েদা নেই। কারণ এর মধ্যেও পূর্বোক্ত তিনটি সমস্যা রয়েছে। আর আবু নুয়াইমের সূত্রে মাজহুল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী রয়েছেন যেমনটি পরের হাদীসের আলোচনার সময় আসবে।





আলোচ্য হাদীসটিকে আবুল আসওয়াদ নাসীর কাসসাব মু'যাল হিসেবে যহহাক ইবনু মুযাহিম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





এটিকে ইবনু জারীর ত্ববারী “তাহযবুত আসার” গ্রন্থে (১/৫১/১২১) তার সনদে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাকারী নাসীরকে ইমাম বুখারী “আততারীখ” গ্রন্থে (৪/২/১১৬) উল্লেখ করেছেন আর ইবনু আবী হাতিম অন্য সূত্রে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তারা উভয়েই তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। এ ছাড়া এর মধ্যে ত্ববারীর শাইখ আমর ইবনু আব্দুল হামীদ আমলী রয়েছেন, আমি তাকে চিনি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1571)


` بعثت مرحمة وملحمة، ولم أبعث تاجرا ولا زراعا، ألا وإن شرار هذه الأمة التجار والزراعون، إلا من شح على نفسه `.
ضعيف.

أخرجه أبو الشيخ في ` الطبقات ` (ق 87 / 1) وأبو نعيم في ` الحلية ` (4 / 72) وفي ` أخبار أصبهان ` (2 / 31) من طريق أبي موسى اليماني عن وهب بن منبه عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وضعفه بقوله: ` حديث غريب `. قلت: وعلته أبو موسى هذا، فإنه مجهول، كما قال الذهبي والعسقلاني.
‌‌




১৫৭১। আমাকে (সারা জাহানের জন্য) রহমত করে আর (আল্লাহর শক্ৰদের জন্য) যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাকে ব্যবসায়ী এবং কৃষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়নি। সাবধান! এ উম্মাতের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা হচ্ছে ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা। সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার দ্বীনের ব্যাপারে কৃপণতা করবে (অর্থাৎ দ্বীনকে ধরে রাখবে)।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আবুশ শাইখ `আততবাকাত` গ্রন্থে (কাফ ১/৮৭) এবং আবূ নুয়াইম `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে (৪/৭২) ও “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৩১) আবু মূসা ইয়ামানী সূত্রে ওয়াহাব ইবনু মুনব্বিহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আবু নুয়াইম হাদীসটিকে নিম্নের ভাষার দ্বারা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেনঃ হাদীসটি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সমস্যা হচ্ছে আবূ মূসা। কারণ তিনি মাজহুল (অপরিচিত) যেমনটি হাফিয যাহাবী ও ইবনু হাজার আসকালানী বলেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1572)


` انتظار الفرج بالصبر عبادة `.
موضوع.
روي من حديث عبد الله بن عمر وعبد الله بن عباس وأنس بن مالك وعلي بن أبي طالب.
1 - حديث ابن عمر، يرويه عمرو بن حميد القاضي، قال: أخبرنا الليث بن سعد عن
نافع عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. أخرجه ابن جميع في ` معجم الشيوخ ` (ص 377) والقضاعي في ` مسند الشهاب ` (5 / 2) . قلت: وهذا إسناد ضعيف بمرة، آفته ابن حميد هذا
، قال الذهبي: ` هالك، أتى بخبر موضوع اتهم به، وقد ذكره السليماني في عداد من يضع الحديث `. ثم ساق له هذا الحديث.
2 - حديث ابن عباس، يرويه أبو موسى عيسى بن مهران، قال: أخبرنا حسن بن حسين قال: أخبرنا سفيان بن إبراهيم عن حنظلة المكي عن عامر عنه به. قلت: وهذا إسناد موضوع، آفته ابن مهران هذا، قال الذهبي: ` كذاب جبل! قال ابن عدي: حدث بأحاديث موضوعة، محترق في الرفض. وقال أبو حاتم: كذاب. وقال الخطيب: كان من شياطين الرافضة ومردتهم، وقع إلي كتاب من تصنيفه في الطعن على الصحابة وتكفيرهم، فلقد قف شعري، وعظم تعجبي مما فيه من الموضوعات والبلايا `.
وحسن بن حسين، الظاهر أنه العرني الكوفي، قال أبو حاتم: ` لم يكن بصدوق عندهم، وكان من رؤساء الشيعة، وقال ابن حبان: يأتي عن الأثبات بالملزقات، ويروي المقلوبات `. وسفيان بن إبراهيم هو الكوفي، ذكره الأزدي، فقال: ` زائغ ضعيف `.
3 - حديث أنس، يرويه محمد بن محمد بن سليمان: حدثنا سليمان بن سلمة أخبرنا بقية حدثنا مالك عن الزهري عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم به دون قوله: ` بالصبر `.

أخرجه ابن عدي (44 / 1) والخطيب (2 / 155) وقال الأول: ` وهذا حديث باطل عن مالك بهذا الإسناد، لا يرويه عنه غير بقية `.
قلت: وهو مشهور بالتدليس، ولا يغتر بتصريحه بالتحديث هنا، لأن الراوي عنه سليمان بن سلمة - وهو الخبائري - كذاب. وقد قال الذهبي في ترجمته بعد أن ساق له حديثا آخر موضوعا من طريق مالك: ` وسمع منه الباغندي حديثا فأنكر عليه وهو … `. ثم ذكر هذا.
ثم إن ابن عدي أعاد تخريجه في ترجمة الخبائري (161 / 2) بهذا السند إلا أنه قال فيه: ` بقية عن مالك `، فلم يذكر عنه التحديث، وقال: ` لا أعلم يرويه عن بقية غير سليمان، وهو منكر من حديث مالك `.
قلت: وقد رواه بعض الضعفاء عن ابن محمد - وهو الباغندي - على وجه آخر، رواه الخطيب عن محمد بن جعفر بن الحسن صاحب المصلى عنه قال: نبأنا أبو نعيم عبيد بن هشام الحلبي قال: نبأنا مالك بن أنس به.
وقال: ` وهم هذا الشيخ على الباغندي وعلى من فوقه في هذا الحديث وهما قبيحا، لأنه لا يعرف إلا من رواية سليمان بن سلمة الخبائري، عن بقية بن الوليد عن مالك، وكذلك حدث به الباغندي `. ثم ساقه، وقال عن الباغندي: ` أنكرته عليه أشد الإنكار، وقلت: ليس شيء من هذا البته، وكان أمر سليمان هذا شيئا عجيبا، الله أعلم به، وقد رواه شيخ كذاب كان بـ (عسكر مكرم) عن عيسى بن أحمد العسقلاني عن بقية. وأفحش في الجرأة على ذلك، لأنه معروف أن الخبائري تفرد به. والله أعلم `.
4 - حديث علي، وهو الآتي بعده. وبالجملة، فالحديث موضوع من جميع هذه الطرق، فليت أن السيوطي
لم يسود به ` الجامع الصغير `!
‌‌




১৫৭২। ধৈর্যের সাথে সচ্ছলতার (প্রশস্ততার) অপেক্ষা করা ইবাদত।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদিসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করা হয়েছে।





১। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস, এটিকে আমর ইবনু হুমায়েদ কাযী বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনু সা'দ হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





এটিকে ইবনু জামী “মু'জামুশ শুয়ুখ” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৭৭) ও কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৫/২) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি একেবারে দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে ইবনু হুমায়েদ। হাফিয যাহাবী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি হালেক (ধ্বংসপ্রাপ্ত)। তিনি বানোয়াট হাদীস নিয়ে এসেছেন এবং বানোয়াট বর্ণনা করার ব্যাপারে তাকে দোষারোপ করা হয়েছে। সুলাইমানী তাকে হাদীস জালকারীদের মধ্যে গণ্য করেছেন। অতঃপর তিনি তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।





২। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস, আবূ মূসা ঈসা ইবনু মিহরান এটিকে হাসান ইবনু হুসাইন হতে, তিনি সুফইয়ান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি হানযালাহ মাক্কী হতে, তিনি আমের হতে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে ইবনু মিহরান। হাফিয যাহাবী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি পাহাড় সমান মিথ্যুক। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেন ...। আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। খাতীব বলেনঃ তিনি রাফেযীদের শয়তান এবং তাদের চরমপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সাহাবীদের কুৎসায় এবং তাদেরকে কাফির আখ্যা দিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন ...।





আর বর্ণনাকারী হাসান ইবনু হুসাইন হচ্ছেন উরানী কুফী। তার সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি তাদের নিকট সত্যবাদী ছিলেন না। তিনি শিয়াদের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে তাদের হাদীসের সাথে সংমিশ্রণ করে দেয়া হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন এবং উল্টাপাল্টাকরাগুলোকে বর্ণনা করেছেন।





বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনু ইবরাহীম হচ্ছেন কূফী। আযদী তাকে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি বিপথগামী দুর্বল।





৩। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান এটিকে সুলাইমান ইবনু সালামাহ হতে, তিনি বাকিয়্যাহ হতে, তিনি মালেক হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন (বিসসবরে) কথাটি ছাড়া।





এটিকে ইবনু আদী (১/৪৪) ও খাতীব (২/১৫৫) বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ মালেক হতে এ সনদে এ হাদীসটি বাতিল। বাকিয়্যাহ ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে এটিকে বর্ণনা করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (বাকিয়্যাহ) তাদলীস করার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। এখানে স্পষ্টভাবে তার হাদীস শ্রবণ করার দ্বারা ধোকায় পড়া যাবে না। কারণ তার থেকে বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবনু সালামাহ হচ্ছেন খাবায়েরী আর তিনি মিথ্যুক। হাফিয যাহাবী তার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে মালেকের সূত্রে তার অন্য একটি হাদীস উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ তার থেকে বাগান্দী একটি হাদীস শুনে তিনি তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন সেটি হচ্ছে ...। অতঃপর তিনি এটিকে উল্লেখ করেছেন।





ইবনু আদী বলেনঃ সুলাইমান ছাড়া বাকিয়্যাহ হতে অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানি না। আর মালেক হতে হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তিনি মুনকার। অন্য সূত্রেও বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও মিথ্যুক সুলাইমান খাবায়েরী রয়েছেন।





৪। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। সেটি হচ্ছে আগত হাদীসটি।





মোটকথাঃ সব সূত্রেই হাদীসটি বানোয়াট। যদি সুয়ূতী তার “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থকে এর দ্বারা কালিমালিপ্ত না করতেন!











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1573)


` انتظار الفرج من الله عبادة، ومن رضي بالقليل من الرزق رضي الله منه بالقليل من العمل `.
ضعيف جدا.
رواه البيهقي في ` الآداب ` (ص 405 - 406 مصورة) وابن عساكر (16 / 150 / 1) من طريق ابن أبي الدنيا: أخبرنا أبو سعيد عبد الله بن شبيب بن خالد المدني: أخبرنا إسحاق بن محمد الفروي: حدثني سعيد بن مسلم بن بانك عن أبيه أنه سمع علي بن الحسين يقول عن أبيه: عن علي بن أبي طالب مرفوعا.
قلت: وهذا سند ضعيف جدا، عبد الله بن شبيب قال الذهبي: ` واه `. وسعيد بن مسلم بن بانك ثقة، لكن أباه مسلم بن بانك، أورده البخاري وابن أبي حاتم ولم يذكرا فيه جرحا ولا تعديلا.
‌‌




১৫৭৩। আল্লাহর নিকট হতে স্বচ্চলতার (প্রশস্ততার) জন্য অপেক্ষা করা ইবাদাত। যে ব্যক্তি স্বল্প রিযকে সম্ভষ্ট থাকবে আল্লাহ্ তা'য়ালা তার কম আমলে সম্ভষ্ট থাকবেন।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে বাইহাকী “আলআদাব” গ্রন্থে (পৃঃ ৪০৫-৪০৬) ও ইবনু আসাকির (১৬/১৫০/১) ইবনু আবিদ দুনিয়া সূত্রে আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ্ ইবনু শাবীব ইবনু খালেদ মাদানী হতে, তিনি ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ফারাবী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু মুসলিম ইবনু বানাক হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ‘আলী ইবনুল হুসাইন হতে শ্রবণ করেছেন, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। আব্দুল্লাহ ইবনু শাবীব সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি দুর্বল।





আর সাঈদ ইবনু মুসলিম ইবনু বানাক নির্ভরযোগ্য। কিন্তু তার পিতা মুসলিম ইবনু বানাককে ইমাম বুখারী ও ইবনু আবী হাতিম উল্লেখ করে উভয়ে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1574)


` الرفق رأس الحكمة `.
ضعيف.

أخرجه الخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (ص 77) وعنه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (6 / 1) : حدثنا علي بن الأعرابي حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة عن جرير بن عبد الحميد الضبي عن منصور عن إبراهيم عن هلال بن يساف عن جرير بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، ورجاله كلهم ثقات معروفون من رجال الشيخين، غير علي بن الأعرابي، وهو علي بن الحسن بن عبيد بن محمد أبو الحسن الشيباني المعروف بابن الأعرابي، حدث عن علي بن عمرو س وجماعة. قال الخطيب (11 / 273) : ` وكان صاحب أدب ورواية للأخبار، روى عنه عبد الله بن أبي سعد الوراق، والقاضي أبو عبد الله المحاملي `.
ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا ولا وفاة، وقد كتب بعض المحدثين - وأظنه ابن المحب المقدسي - على هامش ` المكارم `: ` موضوع `. وما أجد في إسناده من أتهمه به سوى ابن
الأعرابي هذا، لكن ذكر المناوي أنه رواه أبو الشيخ وابن شاذان والديلمي من حديث جابر. والله أعلم. ثم رأيت الحديث عند الديلمي (2 / 178) من طريق أبي الشيخ، وهذا من طريق ابن أبي شيبة، وهذا في ` المصنف ` (8 / 512) : حدثنا عبدة عن هشام عن أبيه قال: بلغني أنه مكتوب في التوراة: الرفق.. الحديث. قلت: وهذا إسناد صحيح إلى عروة والد هشام، بلاغا عن التوراة! وهذا مما يعل به الحديث المرفوع كما لا يخفى. ثم
لا أدري إذا كان المناوي وهم في قوله: ` عن جابر `، أوأنه عنى رواية أخرى عند الديلمي غير هذه، وهذا ما أستبعده. والله سبحانه وتعالى أعلم.
‌‌




১৫৭৪। হিকমাতের মূল হচ্ছে নরম আচরণ।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে খারায়েতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (পৃঃ ৭৭) এবং তার থেকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/৬) ‘আলী ইবনুল আ'রাবী হতে, তিনি আবূ বাকর ইবনু আবী শাইবাহ হতে, তিনি জারীর ইবনু আব্দুল হামীদ যব্বী হতে, তিনি মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি হিলাল ইবনু ইয়াসাফ হতে, তিনি জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আলী ইবনুল আরাবী ছাড়া এর সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, পরিচিত, বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। তিনি হচ্ছেন ‘আলী ইবনুল হাসান ইবনু ওবায়েদ ইবনু আবুল হাসান শাইবানী, ইবনুল আরাবী নামে পরিচিত। তিনি ‘আলী ইবনু উমারূস সহ একদল হতে বর্ণনা করেছেন।





খাতীব বাগদাদী (১১/২৭৩) বলেনঃ তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনু আবী সা’দ ওররাক ও কাযী আবু আব্দুল্লাহ মাহামেলী বর্ণনা করেছেন। তিনি তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ এবং তার মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি। কোন কোন মুহাদ্দিস (আমার ধারণা তিনি হচ্ছেন ইবনুল মুহিব্ব মাকদেসী) “আলমাকারিম” গ্রন্থের টীকায় লিখেছেনঃ হাদীসটি বানোয়াট। কিন্তু হাদীসটির সনদে এমন কাউকে দেখছি না যাকে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করা হয়েছে, একমাত্র ইবনুল আ'রাবী ছাড়া। মানবী উল্লেখ করেছেন যে, এটিকে আবুশ শাইখ, ইবনু শাযান ও দাইলামী জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন।





অতঃপর আমি হাদীসটিকে দাইলামীর (২/১৭৮) নিকট আবুশ শাইখের সূত্র হতে দেখেছি, আর এটি ইবনু আবী শাইবার সূত্রে `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থে (৮/৫১২) আবাদাহ হতে, তিনি হিশাম হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তা তাওরাতে লিখিত আছে...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি হিশামের পিতা উরওয়াহ পর্যন্ত সহীহ্, তাওরাত হতে পৌঁছেছে এভাবে আর এভাবেই মারফু হাদীসের সমস্যা বর্ণনা করা হয়ে থাকে যা লুক্কায়িত বিষয় নয়।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1575)


` ابتغوا الرفعة عند الله، قالوا: وما هي يا رسول الله؟ قال: تحلم عمن جهل عليك وتصل من قطعك وتعطي من حرمك `.
ضعيف جدا.
رواه ابن شاهين في ` الترغيب ` (293 / 2) عن عثمان بن عبد الرحمن: حدثنا الوازع بن نافع عن أبي سلمة عن أبي أيوب قال: وقف علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا
، الوازع هذا متهم بالوضع كما تقدم بيانه تحت الحديث (24) .
وعثمان بن عبد الرحمن هو الطرائفي الجزري، وفيه ضعف، وإنما العلة من شيخه والحديث ذكره السيوطي في ` الجامع الكبير ` (1 / 5 / 1) دون قوله: ` وتصل من قطعك `.
وقال: ` رواه ابن عدي عن ابن عمر رضي الله عنهما، وفيه الوازع بن نافع متروك `.
قلت: فالظاهر أن الوازع كان يرويه تارة عن أبي أيوب، وأخرى عن ابن عمر، وذلك منه مردود لشدة ضعفه. وقوله: ` وتصل … ` ثابت في ` ابن عدي ` (7 / 2557) .
‌‌




১৫৭৫। তোমরা আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা চাও। তারা বললঃ হে আল্লাহর রসূল! তা কী? তিনি বললেনঃ ধৈর্য ধারণ কর সেই ব্যক্তির সামনে যে তোমার সাথে অশোভন আচরণ করে। যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখ আর যে তোমাকে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দাও।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু শাহীন “আততারগীব” গ্রন্থে (২/২৯৩) উসমান ইবনু আব্দুর রহমান হতে, তিনি ওয়াযি ইবনু নাফে' হতে, তিনি আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবূ আইউব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাঁড়ালেন এরপর বললেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বর্ণনাকারী ওয়াযিকে জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে। যেমনটি (২৪) নম্বর হাদীসের আলোচনার মধ্যে আলোচিত হয়েছে। আর উসমান ইবনু আব্দুর রহমান তারাইকী জাযারীর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে তার শাইখ থেকেই।





হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থে (১/৫/১) “যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখ” এ বাক্যটি ছাড়া উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে ইবনু আদী আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন আর এর সনদের মধ্যে বর্ণনাকারী ওয়াযি ইবনু নাফে রয়েছেন, তিনি মাতরূক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বাহ্যিক অবস্থা এই যে, ওয়াযি কখনও আবূ আইউব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে আবার কখনও আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতেন। তিনি খুবই দুর্বল হওয়ার কারণে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত। তবে হাদীসটি “যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখ” এ অংশটুকু “ইবনু আদী’র মধ্যে (৭/২৫৫৭) সাব্যস্ত হয়েছে (সহীহ হিসেবে)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1576)


` البر لا يبلى والإثم لا ينسى والديان لا ينام، فكن كما شئت، كما تدين تدان `.
ضعيف.

أخرجه البيهقي في ` الأسماء والصفات ` (79) وابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (210) من طريق عبد الرزاق قال: أنبأنا معمر عن أيوب عن أبي قلابة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، من أجل أن أبا قلابة - واسمه عبد الله بن زيد الجرمي - تابعي وقد أرسله. وله علة أخرى وهي الوقف، فقال عبد الله بن أحمد في ` الزهد ` (ص 142) : حدثنا أبي حدثنا عبد الرزاق بإسناده عن أبي قلابة قال: قال أبو الدرداء: البر لا يبلى … إلخ. ورواه المروزي في ` زوائد الزهد ` (1155) من طريق عبد الله بن مرة قال: قال أبو الدرداء … فذكره موقوفا عليه. وهذا صورته صورة المنقطع، ولذلك قال المناوي: ` وهو منقطع مع وقفه `.
وقال: ` ورواه أبو نعيم والديلمي مسندا عن ابن عمر رفعه، وفيه محمد بن عبد الملك الأنصاري ضعيف، وحينئذ، فاقتصار المصنف على رواية إرساله قصور، أوتقصير `. قلت: أخرجه الديلمي (2 / 1 / 19) من طريق مكرم بن عبد الرحمن الجوزجاني عن محمد بن عبد الملك عن نافع عن ابن عمر به. ومكرم هذا لم أجد له ترجمة. ومحمد بن عبد الملك أسوأ حالا مما ذكر المناوي، فقد قال فيه الإمام أحمد: ` يضع الحديث `. وقال الحاكم: ` روى عن نافع وابن المنكدر الموضوعات `.
‌‌




১৫৭৬। সদাচরণ (সৎকর্ম) পুরাতন হয় না, গুনাহকে ভুলা (ছেড়ে দেয়া) যায় না আর প্রতিফলদানকারী ঘুমান না। অতএব তুমি যা ইচ্ছা তাই কর, যেমন করবে তোমাকে তেমনি ফল দেয়া হবে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে বাইহাকী “আলআসমা অসসিফাত” গ্রন্থে (৭৯) ও ইবনুল জাওযী “যাম্মুল হাওয়া” গ্রন্থে (২১০) আব্দুর রাযযাক সূত্রে মা'মার হতে, তিনি আইউব হতে, তিনি আবু কিলাবাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু কিলাবার কারণে এ সনদটি দুর্বল। তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু যায়েদ জারমী, তিনি একজন তাবেঈ, তিনি হাদীসটিকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির আরেকটি সমস্যা হচ্ছে এই যে, এটি মওকুফ। আব্দুল্লাহ ইবনু ইমাম আহমাদ “আযযুহুদ” গ্রন্থে (পৃঃ ১৪২) তার পিতা হতে, তিনি আব্দুর রাযযাক হতে তার সনদে আবু কিলাবা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবুদ দারদা বলেনঃ ...।





এটিকে মারওয়াযী “যাওয়াইদুয যুহদ” গ্রন্থে (১১৫৫) আব্দুল্লাহ ইবনু মুররাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবুদ দারদা বলেছেনঃ ...। তিনি মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদের অবস্থা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন অবস্থা। এ কারণে মানবী বলেছেনঃ এটি মওকুফ হওয়া সত্ত্বেও মুনকাতি। তিনি আরো বলেছেনঃ এটিকে আবূ নুয়াইম ও দাইলামী আবদুল্লাহ ইবনু উমার হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালেক আনসারী রয়েছেন, তিনি দুর্বল। অতএব লেখক কর্তৃক শুধুমাত্র মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করা ক্রটিযুক্ত।





আমি (আলবানী) বলছিঃ দাইলামী এটিকে (২/১/১৯) মুকরিম ইবনু আব্দুর রহমান জুযযানী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালেক হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





কিন্তু এ বর্ণনাকারী মুকরিমের জীবনী পাচ্ছি না। আর মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল মালেকের অবস্থা সম্পর্কে মানবী যা উল্লেখ করেছেন তার অবস্থা আসলে তার চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারী।





হাকিম বলেনঃ তিনি নাফে ও ইবনুল মুনকাদির হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1577)


` اطلبوا الفضل عند الرحماء من أمتي تعيشوا في أكنافهم، فإن فيهم رحمتي، ولا تطلبوا من القاسية قلوبهم، فإنهم ينتظرون سخطي `.
ضعيف.
رواه الخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (ص 55) : حدثنا عبد الرحمن بن معاوية القيسي - بمصر - : حدثنا موسى بن محمد حدثنا محمد بن مروان وعبد الملك بن الخطاب قالا: حدثنا داود بن أبي هند عن أبي نضرة عن أبي سعيد مرفوعا.
قلت: وهذا سند ضعيف، محمد بن مروان هو السدي الصغير، وهو كذاب. ومتابعه عبد الملك بن الخطاب مجهول الحال كما قال ابن القطان، وفي ` التقريب `: ` مقبول ` وموسى بن محمد وعبد الرحمن بن معاوية لم أعرفهما. وقد أخرجه أبو الشيخ في ` التاريخ ` (199) وفي ` أحاديثه ` (2 / 2) وأبو عبد الله بن منده في ` الأمالي ` (3 / 27 / 2) وأبو بكر الذكواني في ` اثنا عشر مجلسا ` (16 / 2) والقضاعي (58 / 2) كلهم من طريق أبي عبد الرحمن السدي عن داود بن أبي هند به. وأبو عبد الرحمن هذا هو محمد بن مروان الكذاب، وقد وقع عند العقيلي محرفا، فذكره في ` الضعفاء ` (241) من طريق عبد الرحمن السدي عن داود به.
كذا وقع له، فأورده في ترجمة ` عبد الرحمن السدي `، وقال: ` مجهول لا يتابع على حديثه، ولا يعرف من وجه يصح `. وإنما هو أبو عبد الرحمن، كما وقع عند كل من خرجه، وكذلك رواه ابن حبان في ` الضعفاء ` (2 / 286) وكذلك رواه أبو نعيم في ` تاريخ أصبهان ` (2 / 340 - 341) وجزم الحافظ بأن رواية العقيلي خطأ، وأن لا وجود لعبد الرحمن السدي. وقال: ` على أن محمد بن مروان لم ينفرد به، بل تابعه عبد الملك بن الخطاب وعبد الغفار بن
الحسن بن دينار، وله شاهد من حديث علي في (مستدرك الحاكم) `.
قلت: أما متابعة ابن الخطاب، فقد تقدمت في رواية الخرائطي مقرونة مع رواية ابن مروان، وقد أخرجها ابن سمعون الواعظ في ` الأمالي ` (1 / 51 / 1) من طريق محمد بن سنان قال: أخبرنا هانيء بن المتوكل الإسكندراني قال: أخبرنا عبد الملك بن الخطاب به. وهانيء كثير المناكير، ومحمد بن سنان ضعيف. وأما متابعة عبد الغفار بن الحسن بن دينار - ويكنى بأبي حازم - فأخرجها تمام في ` الفوائد ` (183 / 1) والقضاعي عنه قال أخبرني داود بن أبي هند به.
وقال تمام: ` هكذا في كتاب ابن فضالة (يعني: شيخه أحمد بن محمد) وقد رواه غيره، فأدخل بين أبي حازم وداود رجلا `. وقال القضاعي: ` تفرد به عبد الغفار بن
الحسن بن دينار وهو غريب `. قلت: وهو ضعيف جدا، قال الجوزجاني: ` لا يعتبر به `. وقال الأزدي: ` كذاب `. وأما ابن حبان فذكره في ` الثقات `. وقال ابن أبي حاتم عن أبيه: ` لا بأس بحديثه `.
أقول: ولعل الرجل الذي بين أبي حازم وداود، هو ابن مروان أوابن الخطاب، وحينئذ، فلا يصح أن تعتبر رواية ابن دينار هذه متابعة لروايتهما. وقد وجدت له متابعا آخر، لكن الطريق إليه واهية، أخرجه العقيلي (245) عن عبد العزيز بن يحيى قال: حدثنا الليث بن سعد عن داود عن بصرة بن أبي بصرة عن أبي
سعيد مرفوعا نحوه. وقال: ` عبد العزيز بن يحيى المديني يحدث عن الثقات بالبواطيل، ويدعي من الحديث ما
لا يعرف به غيره من المتقدمين `. وقال عقب الحديث: ` ليس له أصل عن ثقة `.
والحديث أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` من رواية العقيلي عن السدي، وتعقبه السيوطي في ` اللآليء ` (2 / 76 - 77) ثم ابن عراق في ` تنزيه الشريعة ` (2 / 132 - 133) بالمتابعات التي ذكرنا، وبالشاهد الذي أشار إليه الحافظ عن علي وأقول: أما المتابعات، فهي كلها واهية، لأنها لا تسلم من مجهول أو مطعون، وخفي بعض ذلك على ابن عراق، فقال في متابعة الليث: ` وناهيك به. أخرجه أبو الحسن الموصلي في ` فوائده ` انتخاب السلفي `.
وخفي عليه أن راويه عنه عبد العزيز بن يحيى مطعون فيه، كما خفي عليه وعلى السيوطي قبله تخريج العقيلي إياها، وقوله فيه: ` يحدث بالبواطيل `.
نعم ذكر السيوطي متابعا خامسا، وهو عباد بن العوام في ` تاريخ الحاكم `. لكنه لم يسق إسناده إليه لينظر فيه، وغالب الظن أنه لا يصح. وأما الشاهد، فهو واه جدا، فيه ثلاثة ضعفاء على التسلسل، اثنان منهما متهمان، وإليك لفظه في الحديث التالي. ثم وقفت على إسناد حديث عباد، أخرجه ابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (12 / 218 / 2) من طريق خلف بن يحيى: أخبرنا عباد بن العوام عن داود بن أبي هند عن أبي نضرة عن أبي سعيد به. وخلف هذا كذبه أبو حاتم، فلا يفرح بمتابعة ترد من طريقه! فصح بذلك ما غلب على ظني، والحمد لله على توفيقه.
‌‌




১৫৭৭। তোমরা আমার উম্মাতের দয়াবানদের থেকে অনুগ্রহ চাও। তোমরা তাদের ধারে ধারে জীবন ধারণ কর। কারণ তাদের মধ্যে আমার দয়া রয়েছে। তোমরা কঠোর হৃদয়ের অধিকারীদের থেকে (অনুগ্রহ) চেয়ো না, কারণ তারা আমার ক্রোধের অপেক্ষা করছে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে খারায়েতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (পৃঃ ৫৫) আব্দুর রহমান ইবনু মুয়াবিয়্যাহ কায়সী হতে, তিনি মূসা ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান ও আব্দুল মালেক ইবনুল খাত্তাব হতে, তারা উভয়ে দাউদ ইবনু আবী হিন্দ হতে, তিনি আবু নাযরাহ হতে, তিনি আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান হচ্ছেন সুদ্দী সাগীর। তিনি বড়ই মিথ্যুক।





আব্দুল মালেক ইবনুল খাত্তাব তার মুতাবায়াত করেছেন তবে তার অবস্থা অজ্ঞাত যেমনটি ইবনু কাত্তান বলেছেন। “আততাকরীব” গ্রন্থে এসেছে তিনি মাকবুল।





আর মূসা ইবনু মুহাম্মাদ এবং আব্দুর রহমান ইবনু মুয়াবিয়্যাহ উভয়কেই আমি চিনি না।





হাদীসটিকে আবুশ শাইখ “আততারীখ” (১৯৯) ও তার “আহাদীস” গ্রন্থে (২/২), আবু আব্দুল্লাহ ইবনু মান্দাহ “আলআমলী” গ্রন্থে (৩/২৭/২), আবু বাকর যাকওয়ানী `ইসনা আশারা মাজলিসান` গ্রন্থে (২/১৬) ও কাযা'ঈ (২/৫৮) আবু আব্দুর রহমান সুদ্দী হতে, তিনি দাউদ ইবনু আবী হিন্দ হতে বর্ণনা করেছেন।





এ আবু আব্দুর রহমান হচ্ছেন মিথ্যুক মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান। তাকে ওকাইলীর নিকট পরিবর্তিত অবস্থায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাকে “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (২৪১) আব্দুর রহমান সুদ্দী সূত্রে দাউদ হতে এভাবে উল্লেখ করেছেন। হাদীসটিকে তিনি আব্দুর রহমানের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি মাজহুল (অপরিচিত), তার হাদীসের মুতাবায়াত করা হয়নি। এটিকে কোন সূত্রেই সহীহ্ হিসেবে জানা যায় না।





অথচ যারাই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাদের সকলের নিকট আবু আব্দুর রহমানই উল্লেখ করা হয়েছে (আব্দুর রহমান নয়)। ইবনু হিব্বান `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (২/২৮৬) এরূপই উল্লেখ করেছেন। আবূ নুয়াইমও “তারীখু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৩৪০-৩৪১) এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, ওকাইলীর বর্ণনা ভুল। কারণ আব্দুর রহমান সুদ্দীর কোন অস্তিত্ব নেই।





তিনি আরো বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান এককভাবে বর্ণনা করেননি। আব্দুল মালেক ইবনুল খাত্তাব ও আব্দুল গাফফার ইবনুল হাসান ইবনে দীনার তার মুতাবা'য়াত করেছেন। “মুসতাদরাক হাকিম” গ্রন্থে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীস হতে তার শাহেদও রয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আব্দুল মালেক ইবনুল খাত্তাবের বর্ণনাটি খারায়েতীর বর্ণনায় ইবনু মারওয়ানের বর্ণনার সাথে পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এটিকে ইবনু সামউন ওয়েয “আলআমলী” গ্রন্থে (১/৫১/১) মুহাম্মাদ ইবনু সিনান সূত্রে হানী ইবনুল মুতাওয়াক্কিল ইসকান্দারী হতে, তিনি আব্দুল মালেক ইবনুল খাত্তাব হতে বর্ণনা করেছেন।





বর্ণনাকারী হানী বহু মুনকারের অধিকারী। আর মুহাম্মাদ ইবনু সিনান দুর্বল বর্ণনাকারী।





আর আব্দুল গাফফার ইবনুল হাসান ইবনে দীনারের মুতাবায়াতটিকে (তার কুনিয়াত হচ্ছে আৰূ হযেম) তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/১৮৩) এবং কাযাঈ তার থেকে দাউদ ইবনু আবী হিন্দ হতে বর্ণনা করেছেন। তাম্মাম বলেনঃ ইবনু ফুযালাহ ইবনু আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদের কিতাবে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। অন্যরাও এটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবূ হাযেম এবং দাউদের মাঝে আরেক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন।





কাযাঈ বলেনঃ আব্দুল গাফফার ইবনুল হাসান ইবনু দীনার এককভাবে বর্ণনা করেছেন আর তিনি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। জুযজানী বলেনঃ তাকে গণ্য করা হয় না। আযদী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।





আর ইবনু হিব্বান তাকে “আসসিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু আবী হাতিম তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেন তার হাদীসে কোন সমস্যা নেই।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত আবু হযেম আর দাউদের মাঝের ব্যক্তি হচ্ছেন ইবনু মারওয়ান অথবা ইবনুল খাত্তাব। এ সময়ে ইবনু দীনারের এ বর্ণনাকে তাদের দু'জনের বর্ণনার মুতাবায়াত হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।





আমি (আলবানী) তার অন্য একটি মুতাবায়াত পেয়েছি। কিন্তু সূত্রটি দুর্বল। এটিকে ওকাইলী আব্দুল আযীয ইবনু ইয়াহইয়া হতে, তিনি লাইস ইবনু সা'দ হতে, তিনি দাউদ হতে, তিনি বাসরাহ ইবনু আবী বাসরাহ হতে, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে অনুরূপভাবে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





অতঃপর ওকাইলী বলেছেনঃ আব্দুল আযীয ইবনু ইয়াহইয়া মাদানী নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বাতিল হাদীস বর্ণনাকারী। তিনি এমন কিছুকে হাদীস হিসেবে দাবী করেন যাকে তিনি ছাড়া পূর্ববতী অন্য কেউ চিনেননি। এবং তিনি এ হাদীসটির পরক্ষণে বলেছেনঃ নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এর কোন ভিত্তি নেই।





আলোচ্য হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী “আলমওঘূয়াত” গ্রন্থে ওকাইলীর বর্ণনায় সুদ্দী হতে উল্লেখ করেছেন। আর সুয়ুতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/৭৬-৭৭), অতঃপর ইবনু ইরাক `তানযীহুশ শারীয়াহ` গ্রন্থে (২/১৩২১৩৩) পূর্বোক্ত মুতাবায়াতগুলো এবং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত শাহেদকে (যার দিকে হাফিয ইবনু হাজার ইঙ্গিত করেছেন) উল্লেখ করার দ্বারা তার সমালোচনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মুতাবায়াতগুলোর সবই দুর্বল। কারণ সেগুলো অপরিচিত (মাজহুল) অথবা দূষণীয় বর্ণনাকারী হতে নিরাপদ নয়। যেগুলোর কোন কোনটি ইবনু ইরাকের নিকট গোপনই রয়ে গেছে। তিনি লাইসের মুতাবায়াতের ব্যাপারে বলেছেনঃ নাহীক তার মুতাবায়াত করেছেন। এটিকে আবুল হাসান মূসেলী `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।





আর তার নিকট গোপন রয়ে গেছে যে, তার থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহইয়া সমালোচিত ব্যক্তি। যেমনটি সুয়ূতীর নিকট তার পূর্বে ওকাইলীর তাখরীজ লুক্কায়িত রয়ে গেছে। অথচ তিনি তার সম্পর্কে বলেছেনঃ তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনাকারী।





হ্যাঁ, সুয়ূতী পঞ্চম মুতাবায়াতকারী হিসেবে আব্বাদ ইবনুল আওয়ামকে `তারীখুল হাকিম` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তার কোন সনদ উল্লেখ করেননি যে, তার দিকে দৃষ্টি দেয়া যায়। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ধারণা এই যে, এটি সহীহ নয়।





আর শাহেদটি খুবই দুর্বল। কারণ এর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে তিনজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। যাদের দু'জন মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। সে হাদীসটির ভাষা সামনে আগত হাদীসটি।





অতঃপর আমি আব্বাদের হাদীসের সনদ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এটিকে ইবনু আসাকির `তারীখু দেমাস্ক` (১২/২১৮/২) গ্রন্থে খালাফ ইবনু ইয়াহইয়া সূত্রে আব্বাদ ইবনুল আওয়াম হতে, তিনি দাউদ ইবনু আবী হিন্দ হতে, তিনি আবূ নাযরাহ হতে, তিনি আবু সাঈদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





বর্ণনাকারী খালাফকে আবু হাতিম মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। অতএব এ মুতাবা'য়াতের দ্বারা খুশি হওয়ার কিছু নেই। ফলে আমি যা ধারণা করেছিলাম তাই বাস্তব ঘটল। (আলহামদুলিল্লাহ)











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1578)


` يا علي! اطلبوا المعروف من رحماء أمتي، تعيشوا في أكنافهم، ولا تطلبوه من القاسية قلوبهم، فإن اللعنة تنزل عليهم، يا علي! إن الله تعالى خلق المعروف وخلق له أهلا، فحببه إليهم وحبب إليهم فعاله ووجه إليهم طلابه، كما وجه الماء في الأرض الجدبة لتحيى به، ويحيى بها أهلها، يا علي! إن أهل المعروف في الدنيا هم أهل المعروف في الآخرة `.
ضعيف جدا.

أخرجه الحاكم (4 / 321) من طريق حبان بن علي عن سعد بن طريف عن الأصبغ بن نباته عن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال: صحيح الإسناد `! ورده الذهبي فقال: ` قلت: الأصبغ واه، وحبان ضعفوه `. وأقول: الأصبغ قد كذبه أبو بكر بن عياش، وقال الحافظ في ` التقريب `: ` متروك `.
وقد فات الذهبي أن سعد بن طريف شر منه، فإنه مع اتفاقهم على ضعفه وتصريح بعضهم بأنه متروك الحديث، فقد قال ابن حبان: ` كان يضع الحديث `. فالحديث بهذا السياق إن لم يكن موضوعا، فهو ضعيف
جدا. والله أعلم. لكن الجملة الأخيرة منه: ` إن أهل المعروف.. ` قد صحت بروايات أخرى، بعضها في ` الأدب المفرد ` وقد خرجت بعضها في ` الروض النضير ` (1020 و1082) .
‌‌




১৫৭৮। হে আলী! তোমরা আমার উম্মাতের দয়াবানদের থেকে অনুগ্রহ চাও। তোমরা তাদের ধারে ধারে জীবন ধারণ কর। তোমরা কঠোর হৃদয়ের অধিকারীদের থেকে (অনুগ্রহ) চেয়ো না। কারণ তাদের উপর অভিশাপ নাযিল হয়। হে আলী! আল্লাহ্ তা'য়ালা ভালো বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা ভোগকারীদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে তাদের নিকট পছন্দনীয় করে দিয়েছেন এবং তাদের নিকট তা করাকেও পছন্দনীয় করে দিয়েছেন এবং তা অনুসন্ধানকারীদেরকে নিয়োজিত করে দিয়েছেন। যেমন পানিকে শক্ত যমীনমুখী করে দিয়েছেন যাতে তার দ্বারা যমীন পুনর্জীবিত হয় এবং তার দ্বারা তার অধিবাসী জীবন ধারণ করে। হে আলী! দুনিয়াতে সৎকর্মকারীরাই আখেরাতে সৎকর্মকারী হিসেবে গণ্য হবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (৪/৩২১) হিব্বান ইবনু আলী সূত্রে সা'দ ইবনু তুরায়েফ হতে, তিনি আসবাগ ইবনু নাবাতাহ হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ। আর হাফিয যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ আসবাগ দুর্বল আর হিব্বানকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আসবাগকে আবু বাকর ইবনু আইয়্যাশ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাতরূক।





হাফিয যাহাবীর নিকট থেকে ছুটে গেছে যে, সা'দ ইবনু তুরায়েফ তার চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ মুহাদ্দিসগণ তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়ার পরেও তাদের কেউ কেউ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।





হাদীসটি এভাবে বানোয়াট না হলেও খুবই দুর্বল। (আল্লাহই বেশী জানেন)।





তবে শেষ বাক্যটি “দুনিয়াতে সৎকর্মকারীরাই আখেরাতে সৎকর্মকারী হিসেবে গণ্য হবে” অন্যান্য বর্ণনার কারণে সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে। সে বর্ণনাগুলোর কোন কোনটি “আলআদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে এসেছে। আমি সেগুলোর কোন কোনটির “আররাওযুন নায়ীর” গ্রন্থে (১০২০, ১০৮২) তাখরীজ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1579)


` آتي يوم القيامة باب الجنة، فيفتح لي، فأرى ربي وهو على كرسيه، أوسريره، فيتجلى لي، فأخر له ساجدا `.
ضعيف.

أخرجه الحافظ عثمان بن سعيد الدارمي في ` الرد على المريسي ` (ص 14) ومحمد بن عثمان بن أبي شيبة في ` كتاب العرش ` (ق 113 / 1) من طريق حماد بن سلمة عن علي بن زيد عن أبي نضرة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، رجاله ثقات غير علي بن زيد - وهو ابن جدعان - فإنه ضعيف، كما قال الحافظ في ` التقريب `. وقد ذكره الذهبي في ` العلو` من رواية البخاري عن أنس مختصرا جدا، إلا أنه قال: ` وأخرجه أبو أحمد العسال في ` كتاب المعرفة ` بإسناد قوي عن ثابت عن أنس … `، فذكره مثل حديث الترجمة. قلت: ولم أقف على إسناده، ولذلك لم أتكلم عليه في كتابي ` مختصر العلو` (ص 87 - 88) ، فإذا ثبت بإسناده ولفظه وجب نقله إلى الكتاب الآخر. والله أعلم.
‌‌




১৫৭৯। আমি কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসব। অতঃপর আমার জন্য দরজা খুলে দেয়া হবে। অতঃপর আমি আমার প্রতিপালককে এমতাবস্থায় দেখব যে, তিনি তার কুরসীর উপরে অথবা তার খাটের উপরে। অতঃপর তিনি আমার জন্য তার আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত করবেন। ফলে আমি তার জন্য সাজদায় লুটিয়ে পড়ব।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাফিয উসমান ইবনু সাঈদ দারেমী `আররাদ্দু আলাল মুরায়সী` গ্রন্থে (পৃঃ ১৪) ও মুহাম্মাদ ইবনু উসমান ইবনু আবী শাইবাহ “কিতাবুল আরশ` গ্রন্থে (কাফ ১/১১৩) হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে, তিনি আলী ইবনু যায়েদ হতে, তিনি আবূ নাযরাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জাদায়ান ছাড়া সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি দুর্বল যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেছেন।





হাফিয যাহাবী হাদীসটিকে “আলউলু” গ্রন্থে বুখারীর বর্ণনায় আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেছেনঃ এটিকে আবূ আহমাদ আসসাল “কিতাবুল মারিফা” গ্রন্থে শক্তিশালী সনদে সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন ... এবং তিনি আলোচ্য হাদীসটির ন্যায় উল্লেখ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি এর সনদটি সম্পর্কে অবগত হইনি। এ কারণে এটি সম্পর্কে আমি “মুখতাসারুল উলু” গ্রন্থে (পৃঃ ৮৭-৮৮) আলোচনা করিনি। যদি এর সনদ এবং ভাষা সাব্যস্ত হয় তাহলে হাদীসটিকে অন্য কিতাবে নকল করা ওয়াজিব।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1580)


` ما من ذنب بعد الشرك أعظم عند الله من نطفة وضعها رجل في رحم لا يحل له `.
ضعيف.

أخرجه ابن الجوزي في ` ذم الهو ى ` (ص 190) من طريق ابن أبي الدنيا قال: حدثنا عمار بن نصر قال: حدثنا بقية عن أبي بكر بن أبي مريم عن الهيثم بن مالك الطائي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. قلت: وهذا إسناد مرسل ضعيف، الهيثم بن مالك هو أبو محمد الشامي الأعمى، تابعي ثقة. وأبو بكر بن أبي مريم ضعيف لاختلاطه. وبقية مدلس.
‌‌




১৫৮০। শির্কের পরে আল্লাহর নিকট সেই বীর্যের গুনাহ্ হতে বড় কোন গুনাহ নেই, যাকে কোন ব্যক্তি এমন কোন রেহেমে রাখে যা তার জন্য হালাল নয়।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনুল জাওযী “যাম্মুল হাওয়া” (১৯০) ইবনু আবিদ দুনিয়া সূত্রে তিনি আম্মার ইবনু নাসর হতে, তিনি বাকিয়্যাহ হতে, তিনি আবূ বাকর ইবনু আবী মারইয়াম হতে, তিনি হায়সাম ইবনু মালেক আতত্বঈ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি মুরসাল ও দুর্বল। হায়সাম ইবনু মালেক হচ্ছেন আবু মুহাম্মাদ শামী আ'মা নির্ভরযোগ্য তাবেঈ।





আর আবূ বাকর ইবনু আবী মারইয়াম দুর্বল। তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার কারণে। আর বর্ণনাকারী বাকিয়্যাহ মুদাল্লিস।