সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ
` إذا بال أحدكم فلينتر ذكره ثلاث مرات `.
ضعيف.
رواه ابن أبي شيبة في ` المصنف ` (1 / 12 / 2) : حدثنا عيسى بن يونس عن زمعة بن صالح عن عيسى بن أزداد عن أبيه مرفوعا. وكذا أخرجه ابن ماجة (1 / 137) وأحمد (4 / 347) من طرق أخرى عن زمعة به. وقال البوصيري في ` الزوائد ` (ق 25 / 1) : ` رواه أبو داود في ` المراسيل ` عن عيسى بن يزداد اليماني عن أبيه، وأزداد - ويقال: يزداد - لا تصح له صحبة، وزمعة ضعيف `. قلت: لم يتفرد به، فقد تابعه زكريا بن إسحاق عن عيسى بن يزداد في رواية لأحمد، ورواه البيهقي (1 / 113) عنه مقرونا مع زمعة، لكن جعل متنه
من فعله صلى الله عليه وسلم بلفظ: ` كان إذا بال نتر ذكره ثلاث نترات `.
رواه من طريق ابن عدي وقال عنه: ` مرسل، لا يصح `. وقال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (1 / 42) : ` قال أبي: هو عيسى بن يزداد بن فساء، وليس لأبيه صحبه، ومن الناس من يدخله في ` المسند ` على المجاز، وهو وأبوه مجهولان `. قلت: وكذلك قال ابن معين: ` لا يعرف عيسى هذا ولا أبوه `. حكاه عنه ابن عبد البر في ` الاستيعاب ` (4 / 1589 / 2825) وتعقبه بقوله: ` وهو تحامل منه `! ولا وجه لهذا التعقب ألبتة، لاسيما وهو - أعني: ابن عبد البر - لم يعرفه إلا من الوجه
الأول، فقال عقبه: ` لم يروعنه غير عيسى ابنه، وهو حديث يدور على زمعة بن صالح، قال البخاري: ليس حديثه بالقائم `. فإذا كان لم يروعنه غير ابنه، وكان هذا لا يعرف، كما في ` الضعفاء ` للذهبي، أومجهول
الحال كما في ` التقريب `، وكان أبو هـ لم يصرح بسماعه من النبي صلى الله عليه وسلم، فأي تحامل - مع هذا - في قول ابن معين المذكور، لاسيما وهو موافق لقول أبي حاتم؟!
১৬২১।তোমাদের কেউ যখন পেশাব করবে তখন সে যেন তার পুরুষাঙ্গকে তিনবার ঝাকি দেয়।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু আবী শাইবাহ `আলমুসান্নাফ` গ্রন্থে (১/১২/১) ঈসা ইবনু ইউনুস হতে, তিনি যাম'য়াহ ইবনু সালেহ হতে, তিনি ঈসা ইবনু আযদাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ইবনু মাজাহ (১/১৩৭) ও আহমাদ (৪/৩৪৭) অন্য সূত্রে যামায়াহ হতে বর্ণনা করেছেন। বুসয়রী “আযযাওয়াইদ” গ্রন্থে (কাফ ১/২৫) বলেনঃ হাদিসটিকে আবু দাউদ `আল-মারাসীল` গ্রন্থে ঈসা ইবনু ইয়াযদাদ ইয়ামানী হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। আযদাদকে ইয়াযদাদও বলা হয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি। আর যামায়াহ দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (যামায়াহ্) এককভাবে বর্ণনা করেননি। যাকারিয়া ইবনু ইসহাক ইমাম আহমাদের বর্ণনায় ঈসা ইবনু ইয়াযদাদ হতে তার মুতাবা'য়াত করা হয়েছে। আর বাইহাকী (১/১১৩) যাম'য়ার সাথে মিলিয়ে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম হিসেবে নিম্নের ভাষায় উল্লেখ করেছেনঃ
“তিনি যখন পেশাব করতেন তখন তিনি তার গুপ্তাঙ্গকে তিনবার ঝাকাতেন।”
তিনি এটিকে ইবনু আদীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেনঃ এটি মুরসাল, সহীহ নয়।
ইবনু আবী হাতিম “আলইলাল” গ্রন্থে (১/৪২) বলেনঃ আমার পিতা বলেনঃ ঈসা ইবনু ইয়াযদাদ হচ্ছেন ইবনু ফাসসা। তার পিতার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটেনি। ... তিনি ও তার পিতা উভয়েই মাজহুল (অপরিচিত)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ অনুরূপ কথা ইবনু মাঈনও বলেনঃ এ ঈসা ও তার পিতাকে চেনা যায় না।
তার (ইবনু মাঈনের) উদ্ধৃতিতে ইবনু আদিল বার `আলইস্তি'য়াব` গ্রন্থে (৪/১৫৮৯/২৮২৫) উক্ত কথা উল্লেখ করে তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ তার থেকে ভুল সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এ সমালোচনার কোন কারণ নেই, কারণ তিনি (ইবনু আদিল বার) নিজেই এটিকে প্রথম সূত্র ছাড়া চিনেননি। অতঃপর তিনি পরক্ষণেই বলেছেনঃ ছেলে ঈসা ছাড়া তার থেকে কেউ বর্ণনা করেননি। আর হাদীসটির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে যাম'য়াহ ইবনু সালেহ। ইমাম বুখারী বলেনঃ যামায়ার হাদীস প্রতিষ্ঠিত নয়।
যদি এরূপই হয় যে, তার (আযদাদ) থেকে তার ছেলে ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি, আর একে চেনা যায় না যেমনটি হাফিয যাহাবীর “আযযুয়াফা” গ্রন্থে এসেছে, অথবা তিনি মাজহুলুল হাল (অর্থাৎ তার অবস্থা অজানা) যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে, আর তার পিতা স্পষ্ট করেননি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছেন, তাহলে ইবনু আব্দিল বার কর্তৃক ইবনু মা'ঈনের কথার সমালোচনা কোন ধরণের যেখানে তার কথা ইবনু আবী হাতিমের সাথে মিলে যাচ্ছে?
` إذا بلغ الماء أربعين قلة لم يحمل الخبث `.
موضوع.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (361) عن القاسم بن عبد الله بن عمر العمري عن محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا. وقال: ` القاسم بن عبد الله كثير الوهم، قال أحمد: ليس بشيء، وقال مرة أخرى: هو عندي كان يكذب. وقال البخاري: سكتوا عنه `. قلت: وفي رواية عن أحمد: ` كذاب كان يضع الحديث، ترك الناس حديثه `. ومن طريقه رواه ابن عدي (265 / 2) وعنه البيهقي (1 / 262) والدارقطني (10) وقال ابن عدي: إنه منكر. ثم أخرجه العقيلي بسند صحيح عن سفيان عن محمد بن المنكدر عن عبد الله بن عمرو موقوفا عليه، ومن طريق أيوب عن محمد بن المنكدر من قوله. وقال البيهقي عن أبي علي الحافظ: ` والصحيح عن محمد بن المنكدر عن عبد الله بن عمرو قوله. وبمعناه قال الدارقطني، قال: ووهم فيه القاسم، وكان ضعيفا كثير الخطأ `. نعم صح الحديث عن ابن عمر مرفوعا بلفظ: ` إذا بلغ الماء قلتين لم يحمل الخبث `. وهو مخرج في ` الإرواء ` (23) .
১৬২২। যখন পানি চল্লিশ কুল্লা পর্যন্ত পৌঁছবে তখন অপবিত্র বস্তু উঠাতে হবে না।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (৩৬১) কাসেম ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমার উমারী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওকাইলী বলেনঃ কাসেম ইবনু আব্দুল্লাহ অনেক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি। ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি কিছুই না। তিনি অন্যবার বলেনঃ তিনি আমার নিকট মিথ্যা বলতেন। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার ব্যাপারে তারা (মুহাদ্দিসগণ) চুপ থেকেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম আহমাদের অন্য বর্ণনায় এসেছেঃ তিনি মিথ্যুক, হাদীস জাল করতেন, লোকেরা তার হাদীসকে ত্যাগ করেছেন।
তার সূত্রে হাদীসটিকে ইবনু আদী (২/২৬৫), তার থেকে বাইহাকী (১/২৬২) ও দারাকুতনী (১০) বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ হাদীসটি মুনকার। অতঃপর হাদীসটিকে ওকাইলী সহীহ সনদে সুফইয়ান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আইউব সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে তার কথা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাইহাকী আবু আলী হাফিযের উদ্ধৃতিতে বলেনঃ সঠিক হচ্ছে এটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কথা। অনুরূপ ভাবার্থের কথাই দারাকুতনী বলেছেনঃ হাদীসটির ব্যাপারে কাসেম সন্দেহ পোষণ করেছেন। আর তিনি বহু ভুলকারী দুর্বল ছিলেন।
হ্যাঁ, হাদিসটি ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, মারফূ সহীহ হিসেবে নিম্নের বাক্যে বর্ণিত হয়েছেঃ
পানি যখন দু’কুল্লা পরিমাণ হবে তখন অপবিত্র বস্তু উঠানোর প্রয়োজন নাই।
এ হাদীসটি “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (২৩) তাখরীজ করেছি।
` إذا خرج أحدكم إلى سفر، فليودع إخوانه، فإن الله جاعل له في دعائهم البركة `.
موضوع.
رواه أبو العباس الأصم في ` حديثه ` (ج 1 رقم 139 من نسختي) والديلمي (1 / 1 / 108) وابن عساكر (16 / 203 / 1) وابن قدامة في ` المتحابين في الله ` (ق 111 / 2) عن بكر بن سهل الدمياطي: أخبرنا عبد الله
بن يوسف أخبرنا مزاحم بن زفر التميمي حدثني أيوب بن خوط عن نفيع بن الحارث عن زيد بن أرقم مرفوعا. قلت: وهذا إسناد موضوع، آفته نفيع هذا، وهو أبو داود الأعمى، كذبه قتادة، وقال ابن معين: ` يضع، ليس بشيء `. وقال ابن حبان: ` يروي عن الثقات الموضوعات توهما، لا يجوز الاحتجاج به `.
وقال الحاكم: ` روى عن بريدة وأنس أحاديث موضوعة `. وأيوب بن خوط، قال البخاري: ` تركه ابن المبارك وغيره `. وقال يحيى: ` لا يكتب حديثه `. وقال النسائي والدارقطني وجماعة: ` متروك `. وقال الأزدي: ` كذاب `. وقال الساجي: ` أجمع أهل العلم على ترك حديثه، كان يحدث بأحاديث بواطيل `.
وقال ابن حبان: ` كان يروي المناكير عن المشاهير، كأنها مما عملت يداه `. وبكر بن سهل الدمياطي ضعيف. والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية ابن عساكر والديلمي في ` مسند الفردوس `، وقال المناوي: ` وفيه نافع بن الحارث، قال الذهبي في ` الضعفاء `: قال البخاري: لا يصح حديثه `. قلت: ونافع هذا الذي ذكره، هو غير نفيع المذكور في سند الحديث، فإنه كوفي وذاك بصري، كما صرح به الحافظ في ` اللسان `، وعليه فإعلال المناوي الحديث بنافع هذا وهم منه، ولعله وقع في نسخته من ابن عساكر أوالمسند مسمى نافعا فظن أنه الكوفي، وهو الذي قال فيه البخاري ما ذكره، والحق أنه البصري، وهو نفيع، ويقال فيه: نافع، وهو الذي يروي عن زيد ابن أرقم، وأما الكوفي فلا نعرف له رواية إلا عن أنس، وهذا من حديث زيد بن أرقم كما رأيت، فتعين أنه البصري الكذاب.
قلت: وبناء على وهم المناوي المذكور اقتصر في كتابه ` التيسير ` على قوله: ` إسناده ضعيف `!
১৬২৩। তোমাদের কেউ যখন সফরের উদ্দেশ্যে বের হবে, তখন সে যেন তার ভাইদেরকে বিদায় জানায়। কারণ আল্লাহ্ তা'য়ালা তার জন্য তাদের দুয়ার মধ্যে বরকত রেখেছেন।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে আবুল আব্বাস আসাম তার “হাদীস” গ্রন্থে (খণ্ড ১/ নং ১৩৯), দাইলামী (১/১/১০৮), ইবনু আসাকির (১৬/২০৩/১) ও ইবনু কুদামাহ “আলমুতাহাব্বীনা ফিল্লাহ্” গ্রন্থে (কাফ ২/১১১) বাকর ইবনু সাহল দিমইয়াতী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ হতে, তিনি মুযাহিম ইবনু যুফার তামীমী হতে, তিনি আইউব ইবনু খুত হতে, তিনি নুফাঈ' ইবনুল হারেস হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে নুফাই’। তিনি হচ্ছেন আবু দাউদ আলআ'মা। তাকে কাতাদা মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি জালকারী, কিছুই না। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে সন্দেহ করে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। হাকিম বলেনঃ তিনি বুরাইদাহ ও আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেন।
আর আইউব ইবনু খুত সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তাকে ইবনুল মুবারাক প্রমুখ ত্যাগ করেছেন। আর ইয়াহইয়া বলেনঃ তার হাদীস লিখা যাবে না। নাসাঈ, দারাকুতনী ও একদল বলেনঃ তিনি মাতরূক। আযদী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। সাজী বলেনঃ বিদ্বানগণ তার হাদীস ত্যাগ করার ব্যাপারে ইজমা' করেছেন। তিনি বাতিল হাদীস বর্ণনা করতেন।
ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতিতে এমন সব মুনকার হাদীস বর্ণনা করতেন যেন সেগুলো তার দু'হাত বানিয়েছে। আর বাকর ইবনু সাহল দিমইয়াতী হচ্ছেন দুর্বল।
হাদিসটিকে সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে ইবনু আসাকির ও দাইলামীর `মুসনাদুল ফিরদাউস` গ্রন্থের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আর মানবী বলেছেনঃ এর সনদে নাফে ইবনুল হারেস রয়েছেন। হাফিয যাহাবী তাকে `আয যুয়াফা` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদিস সহীহ নয়।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ নাফে' যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হাদীসটির সনদের মধ্যে উল্লেখিত নুফাই নয়। কারণ এ নাফে হচ্ছেন কূফী আর তিনি হচ্ছেন বাসরী। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন। এ কারণে মানবী কর্তৃক নাফে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সমস্যা বর্ণনা করাটা ধারণাপ্রসূত। সঠিক হচ্ছে এই যে, যিনি বাসরী উনি হচ্ছেন নুফাই, তিনিই যায়েদ ইবনু আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আর যিনি কূফী তিনি হচ্ছেন নাফে, তিনি শুধুমাত্র আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ নাফে' সম্পর্কে ইমাম বুখারী উক্ত কথা বলেন। আর এ হাদীসটি হচ্ছে যায়েদ ইবনুল আরকাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। অতএব সাব্যস্ত হচ্ছে যে, এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী হচ্ছেন মিথ্যুক নুফাই বাসরী।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সন্দেহের কারণে মানবী তার “আততাইসীর” গ্রন্থে শুধুমাত্র বলেনঃ এর সনদটি দুর্বল।
` إذا صليت الصبح فقل قبل أن تكلم أحدا: اللهم أجرني من النار سبع مرات، فإنك إن مت من يومك، كتب الله لك جوارا من النار، وإذا صليت المغرب فقل مثل ذلك، فإنك إن مت من ليلتك، كتب الله لك جوارا من النار `.
ضعيف.
أخرجه الحافظ ابن حجر في ` نتائج الأفكار ` (1 / 162 / 1 - 2) من طريق الحارث بن مسلم بن الحارث التميمي أن أباه حدثه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:. ثم قال:
` هذا حديث حسن، أخرجه أبو داود، وأبو القاسم البغوي، والنسائي في ` الكبرى `، والطبراني وابن حبان في (صحيحه) `.
ثم ذكر الحافظ أن بعض الرواة قلب اسم الحارث بن مسلم وأبيه، فقال: مسلم بن الحارث عن أبيه، ثم أخرجها. ثم قال بعد أن ذكر بعض الرواة الذين رووه على الرواية الأولى: ` ورجح أبو حاتم وأبو زرعة هذه الرواية، وصنيع ابن حبان يقتضي خلاف ذلك، فإنه أخرج الحديث في ` صحيحه ` عن أبي يعلى كما أخرجته، فكأنه ترجح عنده أن الصحابي في هذا الحديث هو الحارث بن مسلم `.
قلت: رحم الله الحافظ، لقد شغله تحقيق القول في اسم الصحابي، عن بيان حال ابنه الراوي عنه، الذي هو علة الحديث عندي، فإنه غير معروف، فتحسين حديثه حينئذ، بعيد عن قواعد هذا العلم، ومن العجيب أنه كما ذهل عن ذلك هنا، ذهل عنه في ` التقريب ` أيضا، فإنه في ترجمة الحارث بن مسلم، أحال على مسلم بن الحارث، فلما رجعنا إليه فإذا به يقول: ` مسلم بن الحارث، ويقال: الحارث بن مسلم التميمي، صحابي، قليل الحديث `. قلت: فأين ترجمة ولده سواء أكان اسمه مسلما أوحارثا؟ وقد جزم الحافظ في ` الإصابة ` بأن الراجح في اسم أبيه أنه مسلم، وقال ابن عبد البر: ` وهو الصحيح `. وكذلك صنع الحافظ في ` تهذيب التهذيب `، فلم يجعل للولد ترجمة خاصة، ولكنه ذكره في ترجمة أبيه، ونقل عن الدارقطني أنه مجهول، وذكر أنه لم يجد فيه توثيقا، إلا ما اقتضاه صنيع ابن حبان، حيث أخرج الحديث في ` صحيحه `، وما رأيته إلا من روايته. قال الحافظ: ` وتصحيح مثل هذا في غاية البعد، لكن ابن حبان على عادته في توثيق من لم يروعنه
إلا واحد، إذا لم يكن فيما رواه ما ينكر `. وهذا معناه أن الرجل مجهول، وهو ما صرح به الدارقطني كما في ` الميزان `، وقال أبو حاتم: ` لا يعرف حاله `. كما في ` الفيض `، ومع ذلك ذكره الغماري في ` كنزه ` (265) !
والحديث في أبي داود (2 / 326) وابن حبان (2346) وكذا البخاري في ` التاريخ الكبير ` (4 / 1 / 253) وابن السني في ` عمل اليوم والليلة ` (رقم 136) وأحمد (4 / 234) ومحمد بن سليمان الربعي في ` جزء من حديثه ` (214 / 1 - 2) وابن عساكر (4 / 165 / 1 و16 / 234 / 2) وعزاه المنذري (1
/ 167) ثم السيوطي في ` الجامع الصغير ` للنسائي أيضا، ولم أره في ` السنن الصغرى ` له، وهو المراد عند إطلاق العزوإليه، فلعله في ` الكبرى ` له، أو ` عمل اليوم والليلة ` له. ثم رأيته فيه (111) .
১৬২৪। তুমি যখন সকালের সালাত আদায় করবে তখন তুমি কারো সাথে কথা বলার পূর্বে সাতবার বলঃ হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদে রাখ। অতঃপর তুমি যদি তোমার এ দিনে মারা যাও তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপত্তা লিখে দিবেন। আর যখন মাগরিবের সালাত আদায় করবে তখনও তুমি অনুরূপ কথা বল। কারণ তুমি যদি তোমার এ রাতে মারা যাও তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপত্তা লিখে দিবেন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি হাফিয ইবনু হাজার “নাতাইযুল আফকার” গ্রন্থে (১/১৬২/১-২) হারেস ইবনু মুসলিম ইবনুল হারেস তামীমী সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
অতঃপর (ইবনু হাজার) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। এটিকে আবু দাউদ, আবুল কাসেম বাগাবী, নাসাঈ “আলকুবরা” গ্রন্থে, ত্ববারানী ও ইবনু হিব্বান তার “সহীহ” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর হাফিয ইবনু হাজার উল্লেখ করেছেন যে, কোন কোন বর্ণনাকারী হারিস ইবনু মুসলিম এবং তার পিতার নাম পাল্টিয়ে ফেলে বলেনঃ মুসলিম ইবনুল হারিস তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হাফিয ইবনু হাজার- যারা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্য হতে কোন কোন বর্ণনাকারী প্রথম বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন এ কথা উল্লেখ করার পর বলেনঃ আর আবু হাতিম ও আবু যুর’য়াহ এ বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু ইবনু হিব্বানের বর্ণনা এ সিদ্ধান্তের বিরোধী হওয়ার প্রমাণ বহন করছে। কারণ তিনি হাদীসটি তার “সহীহ” গ্রন্থে আবূ ইয়ালা হতে বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত তার নিকট এটা প্রাধান্য পেয়েছে যে, এ হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবী হচ্ছেন হারেস ইবনু মুসলিম।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আল্লাহ ইবনু হাজারের উপর রহমত নাযিল করুন। কারণ সাহাবীর নামের তাহকীক করাটাই তাকে ব্যস্ত রেখেছে তার থেকে বর্ণনাকারী তার ছেলের অবস্থা বর্ণনা করার চেয়ে। অথচ সাহাবী থেকে বর্ণনাকারী তার ছেলেই আমার নিকট হাদীসটির সমস্যা। কারণ তিনি অপরিচিত। ফলে হাদীসটিকে হাসান আখ্যা দেয়া হাদীস শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী বহু দূরবর্তী কথা। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, তার নিকট যেমন এখানে অজানা রয়ে গেছে তেমনিভাবে “আত-তাকরীব” গ্রন্থেও অজানা রয়ে গেছে। তিনি বর্ণনাকারী ছেলে সম্পর্কে কোন আলোচনাই করেননি।
আমি (আলবানী) বলছি তার ছেলের জীবনী কোথায়? সাহাবীর নাম মুসলিম হোক কিংবা হারেস? হাফিয ইবনু হাজার `আলইসাবাহ` গ্রন্থে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, পিতার নাম হচ্ছে মুসলিম। আর ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ এটিই সঠিক।
অনুরূপভাবে হাফিয ইবনু হাজার “তাহযীবুত তাহযীব” গ্রন্থেও ছেলের জীবনী সম্পর্কে পৃথকভাবে কোন আলোচনা করেননি। তবে তার পিতার জীবনীর মধ্যে তাকে উল্লেখ করেছেন এবং দারাকুতনীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মাজহুল (অপরিচিত)। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, একমাত্র ইবনু হিব্বান যা বলেছেন তা ছাড়া তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার বিষয়টি তিনি পাননি। ইবনু হাজার বলেনঃ এরূপ হাদীসকে সহীহ আখ্যা দেয়া বহু দূরবর্তী ব্যাপার। কিন্তু ইবনু হিব্বান অভ্যাসগতভাবে একজন বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়ে থাকেন, যদি বর্ণনাটি মুনকার না হয়।
মোটকথা এ ব্যক্তি মাজহুল। দারাকুতনী স্পষ্টভাবেই তা বলেছেন। আর আবু হাতিম বলেছেনঃ তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না। যেমনটি “আলফায়েয” গ্রন্থে এসেছে। তা সত্ত্বেও গুমারী তার “আলকানয” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
হাদীসটিকে আবু দাউদ (২/৩২৬), ইবনু হিব্বান (২৩৪৬) উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারী “আততারীখুল কাবীর” গ্রন্থে (৪/১/২৫৩), ইবনুস সুন্নী `আমলুল ইয়াওম অললাইলাহ` (নং ১৩৬), আহমাদ (৪/২৩৪), মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান রিবাঈ “জুযউম মিন হাদীসিহি” (১-২/২১৪), ইবনু আসাকির (৪/১৬৫/১, ১৬/২৩৪/২) বর্ণনা করেছেন। মুনযেরী ও সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে নাসাঈর উদ্ধৃতিতেও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার “সুনানুস সুগরা” গ্রন্থে পাচ্ছি না। অথচ নাসাঈ বলতে এটিকেই বুঝানো হয়ে থাকে। সম্ভবত তার “সুনানুল কুবরা” অথবা `আমলুল ইয়াওয়াম অললাইলাহ` গ্রন্থে রয়েছে। অতঃপর আমি এ গ্রন্থেই দেখেছি।
` إذا صليتم خلف أئمتكم، فأحسنوطهوركم، فإنما ترتج على القارىء قراءته لسوء طهر المصلي `.
كذب.
رواه السلفي في ` الطيوريات ` (21 / 2) من طريق علي بن أحمد العسكري: أخبرنا عبد الله بن ميمون العبدساني أخبرنا عبد الله بن عوف بن محرز قال: لما قدم أبو نعيم الفضل بن دكين سنة ثمان عشرة ومائتين اجتمع إليه أصحاب الحديث، فقالوا: لا نفارقك حتى تموت هزالا أوتحدثنا بحديث الارتجاج في الصلاة! فقال: ما كتبته ولا دونته في كتبي، فقالوا: لا نفارقك أو تموت هزالا! فلما عاف (كذا الأصل، ولعله: خاف) على نفسه قال: حدثنا سفيان الثوري عن منصور عن ربعي عن حذيفة قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم صلاة الصبح فقرأ بنا فيها بسورة الروم فارتج عليه قراءته ارتجاجا شديدا، فلما قضى صلاته، أقبل بوجهه الكريم على الله عز وجل ثم علينا، فقال:
` معاشر الناس إذا صليتم … `. وقال: ` هذا حديث غريب عجيب `. قلت: ومن دون ابن دكين لم أجد لهم ترجمة. لكن قال في ` الفيض ` بعدما عزاه أصله للديلمي: ` وفي ` الميزان `: خبر كذب، وعبد الله بن ميمون مجهول `. ولم أر هذا في ` الميزان `. والله أعلم.
১৬২৫। তোমরা যখন তোমাদের ইমামদের পেছনে সালাত আদায় করবে তখন তোমরা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন কর। কারণ সালাত আদায়কারীর মন্দ-পবিত্রতার কারণে কিরাআতকারীর কিরাআত বিভ্রান্ত হয়ে যায়।
হাদীসটি মিথ্যা।
হাদীসটিকে সিলাফী “আততাউরিয়্যাত” গ্রন্থে (২/২১) আলী ইবনু আহমাদ আসকারী সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাইমূন আবদাসানী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আউফ ইবনে মুহরিয হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আবু নুয়াঈম ফাযল ইবনু দুকায়েন যখন দু'শত আঠারো সালে আগমন করলেন তখন আহলেহাদীসগণ তার নিকট একত্রিত হয়ে বললেনঃ আমরা আপনার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হবো না যে পর্যন্ত আপনি দুর্বল হয়ে মারা না যাবেন অথবা আপনি আমাদেরকে সালাতের মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়ার হাদীস শুনাবেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি আমার কিতাবে সেটিকে লিখিনি এবং তালিকাভুক্তও করিনি। অতঃপর তারা বললঃ আমরা আপনার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হবো না যে পর্যন্ত আপনি দুর্বল হয়ে মারা না যাবেন! তিনি যখন নিজের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়লেন তখন বললেনঃ আমাকে সুফইয়ান সাওরী হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন মানসূর হতে, তিনি রিবাঈ হতে, তিনি হুযাইফাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকালের সালাত আমাদের সহকারে আদায় করলেন। তিনি তাতে সূরা রূম পাঠ করলেন। কিন্তু তাতে তার কিরাআত খুব বেশী বিভ্রান্ত হলো। ফলে তিনি যখন তার সালাত পূর্ণ করলেন তখন তিনি তার চেহারাকে আল্লাহমুখী করলেন অতঃপর আমাদের সম্মুখীন হয়ে বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা যখন সালাত আদায় করবে ...।
সিলাফী বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব এবং আজব ধরনের।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু দুকায়েনের নিচের বর্ণনাকারীদের জীবনী পাচ্ছি না। তবে মানবী `আলফায়েয` গ্রন্থে দাইলামীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেনঃ “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছেঃ হাদীসটি মিথ্যা আর আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাইমূন মাজহুল (অপরিচিত)। অথচ `আলমীযান` গ্রন্থে আমি এটা পাচ্ছি না। আল্লাহই বেশী জানেন।
` إذا صليتم فارفعوا سبلكم، فكل شيء أصاب الأرض من سبلكم ففي النار `.
ضعيف جدا.
رواه البخاري في ` التاريخ الكبير ` (3 / 2 / 400 - 401) والعقيلي في ` الضعفاء ` (338) وكذا ابن حبان (2 / 118) عن عيسى بن قرطاس قال: حدثني عكرمة عن ابن عباس مرفوعا. وقال: ` عيسى بن قرطاس، كان من الغلاة في الرفض `. وقال ابن حبان: ` يروي الموضوعات عن الثقات، لا يحل الاحتجاج به `. قلت: وهو ضعيف جدا، قال ابن معين: ` ليس بشيء `. وقال في موضع آخر: ` ليس تحل الرواية عنه `. وقال الساجي: ` كذاب `. وفي ` التقريب `: ` متروك `.
ومن طريقه رواه أبو نعيم في ` تسمية الرواة عن الفضل بن دكين ` (54 / 1) . قلت: ومفهو م هذا الحديث، أنه لا يجب رفع الإزار عن الأرض خارج الصلاة، وهذا خلاف الأحاديث الصحيحة التي تنهى عنه مطلقا. والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع ` للبخاري في ` التاريخ `، والطبراني في ` المعجم الكبير `، والبيهقي في ` شعب الإيمان `.
قال المناوي: ` قال الزين العراقي: فيه عيسى بن قرطاس، قال النسائي: متروك. وابن معين: غير ثقة. وقال الهيثمي: فيه عيسى بن قرطاس، ضعيف جدا … فرمز المؤلف لحسنه إنما هو لاعتضاده `.
قلت: فيه المفهو م المخالف للأحاديث الصحيحة، فليس بمعتضد. وكأن المناوي تنبه لهذا بعد، فقال في ` التيسير `: ` رمز لحسنة، وليس كما قال `.
১৬২৬। তোমরা যখন সালাত আদায় করবে তখন তোমরা তোমাদের লুঙ্গিগুলোকে উঁচু করে রাখ (পরিধান কর)। কারণ তোমাদের লুঙ্গিগুলোর যা কিছুই যমীনকে স্পর্শ করবে তাই জাহান্নামে যাবে।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে ইমাম বুখারী `আততারীখুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/২/৪০০-৪০১), ওকাইলী `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (৩৩৮), অনুরূপভাবে ইবনু হিব্বান (২/১১৮) ঈসা ইবনু কিরতাস হতে, তিনি ইকরিমা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওকাইলী বলেনঃ ঈসা ইবনু কিরতাস চরমপন্থী রাফেষী (শীয়াহ্) ছিলো। আর ইবনু হিব্বান বলেন তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনাকারী। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। অন্যত্র বলেনঃ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করাই বৈধ না। সাজী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে তিনি মাতরুক। তার সূত্রেই আবু নুয়াঈম “তাসমিয়াতুর রুওয়াত আনিল ফাযল ইবনু দুকায়েন” গ্রন্থে (১/৫৪) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসের ভাবাৰ্থ দাড়ায় এই যে, পরিহিত লুঙ্গি সালাত ছাড়া অন্য সময়ে যমীন থেকে গোড়ালির উপরে উঠিয়ে রাখা ওয়াজিব নয়। এ হাদীসটি বহু সহীহ হাদীস বিরোধী যেগুলোর মধ্যে লুঙ্গি বা পরিধেয় কাপড় গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরতে নিষেধ করা হয়েছে।
যাইন আলইরাকী বলেনঃ এর সনদে ঈসা ইবনু কিরতাস রয়েছেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। হাইসামী বলেনঃ এর মধ্যে ঈসা ইবনু কিরতাস রয়েছেন, তিনি খুবই দুর্বল। সুয়ূতী হাসান হওয়ার চিহ্ন ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়।
` إذا ضاع للرجل متاع أوسرق له متاع، فوجده في يد رجل يبيعه، فهو أحق به، ويرجع المشتري على البائع بالثمن `.
ضعيف.
رواه ابن ماجة (2 / 54) والدارقطني (301) عن حجاج عن سعيد بن عبيد بن زيد بن عقبة عن أبيه عن سمرة بن جندب مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف، رجاله كلهم ثقات غير أن الحجاج - وهو ابن أرطاة - مدلس، وقد عنعنه، وبهذا أعله البوصيري في ` الزوائد `. وقد روي الحديث من طريق آخر عن سمرة بلفظ: ` من وجد عين ماله … ` وسيأتي في محله.
(تنبيه) : كذا وقع في إسناد ابن ماجة ` سعيد بن عبيد بن زيد ` وفي الدارقطني ` سعيد بن زيد ` بإسقاط عبيد من بينهما، وهو الصواب كما في ` التهذيب `. والله أعلم.
১৬২৭। কোন ব্যক্তির আসবাবপত্র যদি হারিয়ে যায়, অথবা তার আসবাবপত্র যদি চুরি হয়ে যায়, অতঃপর যদি তা এমন কোন ব্যক্তির হাতে পাওয়া যায় যে তা বিক্রি করছে তাহলে সেই সে বস্তুর বেশী হকদার। আর ক্রেতা বিক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিবে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ইবনু মাজাহ (২/৫৪), দারাকুতনী (৩০১) হাজ্জাজ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু ওবায়েদ ইবনু যায়েদ ইবনু উকবাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি সামুরা ইবনু জুন্দুব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বর্ণনাকারী হাজ্জাজ ছাড়া সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। হাজ্জাজ হচ্ছেন ইবনু আরতাত, তিনি একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। তিনি এটিকে আন আন করে বর্ণনা করেছেন। বুসয়রী “আয যাওয়াইদ” গ্রন্থে তার দ্বারাই হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি অন্য সূত্রে ভিন্ন ভাষাতেও বর্ণিত হয়েছে। সেটি যথাস্থানে আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।
সতর্কবাণীঃ ইবনু মাজার মধ্যে সাঈদ ইবনু ওবায়েদ ইবনু যায়েদ উল্লেখিত হয়েছে আর দারাকুতনীর মধ্যে সাঈদ ইবনু যায়েদ উল্লেখ করা হয়েছে, ওবায়েদকে উল্লেখ করা হয়নি। এটিই সঠিক যেমনটি “আততাহযীব” গ্রন্থে এসেছে।
` تصدقوا، فإن الصدقة فكاككم من النار `.
ضعيف.
أخرجه الطبراني في ` الأوسط ` (1 / 89 / 2) وأبو نعيم في ` الحلية ` (10 / 403) والدارقطني في ` الأفراد ` (ج 2 رقم 6 - نسختي) من طريق محمد بن زنبور: حدثنا الحارث بن عمير عن حميد عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال الطبراني والدارقطني: ` تفرد به الحارث بن عمير `.
قلت: وفيه ضعف، وقد وثقه جماعة، منهم ابن معين، لكن قال الذهبي بعد أن ذكر ذلك عنهم: ` وما أراه إلا بين الضعف، فإن ابن حبان قال في ` الضعفاء ` روى عن الأثبات الأشياء الموضوعات.
وقال الحاكم: روى عن حميد وجعفر الصادق أحاديث موضوعة `. ولذلك أورده في كتابه الآخر: ` الضعفاء `، وقال: ` ليس بالقوي، قال ابن حبان: كان يروي الموضوعات `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` وثقه الجمهور، وفي أحاديثه مناكير، ضعفها بسببها الأزدي وابن حبان وغيرهما، فلعله تغير حفظه في الآخر `. ومحمد بن زنبور، فيه كلام أيضا، وفي ` التقريب `: ` صدوق له أوهام `. وقد اختار العلامة عبد الرحمن المعلمي أن الحارث ثقة، وأن ما كان من إنكار في حديثه من رواية
ابن زنبور عنه، فليس ذلك منه، وإنما من ابن زنبور نفسه، وذلك محتمل. والله أعلم. والحديث قال في ` الفيض `:
` قال الهيثمي: رجاله ثقات. اهـ. وكأنه لم يصدر عن تحرير، فقد قال الدارقطني: تفرد به الحارث بن عمير عن حميد، قال ابن الجوزي: قال ابن حبان: يروي عن الأثبات الموضوعات `.
১৬২৮। তোমরা সাদাকা করো। কারণ সাদাকা তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১/৮৯/২), আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (১০/৪০৩), দারাকুতনী “আলআফরাদ” গ্রন্থে (খণ্ড ২/ নং ৬) মুহাম্মাদ ইবনু যানবুর হতে, তিনি হারেস ইবনু ওমায়ের হতে, তিনি হুমায়েদ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
ত্ববারানী এবং দারাকুতনী বলেনঃ হারেস ইবনু ওমায়ের হাদীসটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। অথচ তাকে একদল নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন যাদের মধ্যে ইবনু মাঈনও রয়েছেন। কিন্তু হাফিয যাহাবী তাদের মতগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ তাকে সুস্পষ্ট দুর্বল হিসেবেই দেখছি। কারণ ইবনু হিব্বান `আযযুয়াফা` গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট বহুকিছু বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম বলেছেনঃ তিনি হুমায়েদ এবং জা’ফার সাদেক হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এ কারণে তিনি তাকে তার “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করতেন।
হাফিয ইবনু হাজার `আত-তাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তাকে জমহুর নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন অথচ তার হাদীসসমূহের মধ্যে মুনকার রয়েছে। আর এ কারণেই আযদী, ইবনু হিব্বান প্রমুখ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। সম্ভবত শেষ বয়সে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
আরেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু যানবুরের ব্যাপারেও সমালোচনা রয়েছে। “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে তিনি সত্যবাদী, তবে তার সন্দেহমূলক বর্ণনা রয়েছে।
আল্লামাহ আব্দুর রহমান আলমুয়াল্লিমী এ মতকে পছন্দ করেছেন যে, হারেস নির্ভরযোগ্য। তার হাদীসের মধ্যে যে মুনকারের ঘটনা ঘটেছিল তা ইবনু যানবৃর কর্তৃক তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে। তা হারেসের কারণে নয় বরং ইবনু যানবুরের কারণে।
` فهلا بكرا تعضها وتعضك `.
ضعيف. أخرجه الآجري في ` تحريم النرد والشطرنج والملاهي ` (رقم 5 -
نسختي) من طريق داود بن الزبرقان عن مالك بن مغول عن الربيع بن كعب بن أبي كعب
عن كعب بن مالك قال: ` كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فعرست
ذات ليلة، ثم غدوت على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل يسأل رجلا رجلا
: أتزوجت يا فلان؟ أتزوجت يا فلان؟ ثم قال: أتزوجت يا كعب؟ قلت: نعم يا
رسول الله. قال: أبكر أم ثيب؟ قلت: ثيب، قال: فذكره `. قلت: وهذا
إسناد ضعيف جدا، داود بن الزبرقان متروك. والربيع بن كعب بن أبي كعب. هكذا
وجدته في نسختي، وأصلها مما لا تطوله الآن يدي، لأنظر هل الخطأ منه أومن
ناسخها. فقد أورده البخاري في ` التاريخ الكبير ` (2 / 1 / 248) وابن أبي
حاتم في ` الجرح والتعديل ` (1 / 2 / 454) هكذا: ` ربيع بن أبي بن كعب
الأنصاري `، وزاد ابن أبي حاتم: ` ويقال: ربيع بن كعب بن عجرة `. وذكرا
أنه روى عن أبيه، ولم يذكرا فيه جرحا ولا تعديلا، غير أن البخاري قال:
` قال أبو عبد الله: موسى بن دهقان: يقولون: تغير بآخرة `. قلت: وموسى
هذا لم يذكرا سواه راويا عن الربيع بن أبي. والحديث أورده الهيثمي في
` المجمع ` (4 / 259) من رواية الطبراني عن الربيع بن كعب بن عجرة عن أبيه
وقال: ` ولم أجد من ترجم لربيع، وبقية رجاله ثقات، وفي بعضهم ضعف، وقد
وثقهم
ابن حبان `. قلت: وقد رواه البخاري في ` التاريخ ` (2 / 1 / 272) وكذا الطبراني في ` الكبير ` (19 / 149 / 328) من طريق موسى سمع الربيع بن كعب بن عجرة عن أبيه به. وفي رواية للبخاري عن موسى عن الربيع بن أبي بن كعب عن أبيه. ثم وقفت على النسخة المطبوعة من ` تحريم النرد ` بتحقيق محمد بن سعيد
، فوجدتها مطابقة للأصل الذي نقلت عنه، ولكن المحقق لم يتنبه للفرق بينها وبين ما في ` التاريخ ` و` الجرح ` مع أنه عزاه إليهما؟ وادعى أن البخاري سكت عنه! وقد عرفت أنه ذكر أنه تغير! فالربيع هذا، هو علة الحديث، لاضطراب الرواة في نسبه، المنبئ عن جهالته. ولاسيما وكان تغير بآخرة.
১৬২৯। তুমি একজন কুমারী মেয়েকে কেন বিয়ে করোনি সে তোমাকে কামড়াতো আর তুমি তাকে কামড়াতে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে আজুররী “তাহরীমুন নারদ অশ শাতরঞ্জ অল মালাহী” গ্রন্থে (নং ৫) গ্রন্থে দাউদ ইবনু যাবারকান সূত্রে মালেক ইবনু মুগূল হতে, তিনি রাবী' ইবনু কা'ব ইবনু আবু কা'ব হতে, তিনি কা'ব ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। এক রাতে আমি বিয়ে করে ফেললাম। অতঃপর সকালে আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে উপস্থিত হলে তিনি এক এক করে জিজ্ঞেস করা শুরু করলেন। হে ব্যক্তি! তুমি কি বিয়ে করেছো? তুমি কি বিয়ে করেছো? তুমি কি বিয়ে করেছে হে কা'ব? আমি বললামঃ জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল। তিনি বললেনঃ কুমারী মেয়ে নাকি বিধবা মেয়ে? আমি বললামঃ বিধবা। তখন তিনি বললেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ দাউদ ইবনু যাবারকান মাতরূক বর্ণনাকারী।
আর বর্ণনাকারী রাবী' ইবনু কা'ব ইবনু আবু কা'বের বংশ পরিচয় নিয়ে মতভেদ করা হয়েছে। আমার কপিতে 'রাবী' ইবনু কা'ব ইবনু আবূ কা'ব' এভাবে পেয়েছি। আর ইমাম বুখারী “তারীখুল কাবীর” (২/১/২৪৮) ও ইবনু আবী হাতেম “আলজারহু অততা'দীল” গ্রন্থে (১/২/৪৫৪) বলেছেন এভাবেঃ রাবী' ইবনু উবাই ইবনু কা'ব আনসারী। আর ইবনু আবী হাতিম বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ তাকে রাবী ইবনু কা'ব ইবনু আজরাহ বলা হয়ে থাকে। আর তারা উভয়েই বলেছেন যে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে তার সম্পর্কে ভালো বা মন্দ কোনই মন্তব্য করেননি।
তবে ইমাম বুখারী বলেনঃ আবু আব্দুল্লাহ বলেনঃ বর্ণনাকারী মূসা ইবনু দাহকান সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ বলেনঃ তার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
আমি (আলবানী) বলছি মূসাকে রাবী' ইবনু উবাই হতে বর্ণনাকারী হিসেবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ উল্লেখ করেননি।
হাদীসটিকে হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৪/২৫৯) ত্ববারানীর বর্ণনায় রাবী' ইবনু কা'ব ইবনু আজরা হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বলেছেনঃ বর্ণনাকারী রাবী'র জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না। আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাদের কারো কারো মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। আর তাদেরকে ইবনু হিব্বান নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটিকে ইমাম বুখারী `আততারীখ” গ্রন্থে (২/১/২৭২), ত্ববারানী `আলকাবীর` গ্রন্থে (১৯/১৪৯/৩২৮) মূসা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাবী' ইবনু কা'ব ইবনে আজরাহ হতে তার পিতার উদ্ধৃতিতে শ্রবণ করেছেন।
এই রাবী’ই হাদীসটির সমস্যা, বর্ণনাকারীগণ কর্তৃক তার বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে ইযতিরাব সংঘটিত হওয়ার কারণে। যা তার অপরিচিত হওয়ারই পরিচয় বহন করে। এছাড়া তার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
` إذا أراد الله عز وجل برجل من أمتى خيرا، ألقى حب أصحابي في قلبه `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (2 / 41) والديلمي في ` مسنده ` (1 / 1 / 98) عن أبي نصر عمران: حدثنا محمد بن سلمة البصري - بفارس - :
حدثنا محمد بن كثير (ووقع في المسند: بشير) العبدي: حدثنا حماد بن سلمة عن ثابت عن أنس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف، من دون العبدي، لم أجد من ترجمهما، ومن فوقهما فمن رجال مسلم. والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع ` للديلمي في ` مسند الفردوس ` عن أنس. وقال شارحه المناوي: ` لم يرمز له بشيء، فهو ضعيف، لكن له شواهد `! ثم لم يذكر ولا شاهدا واحدا، وكأنه يعني شواهد عامة، وإلا فإني لا أعلم له شاهدا خاصا. والله سبحانه وتعالى أعلم.
১৬৩০। আল্লাহ্ তা'আলা যখন আমার উম্মাতের কোন ব্যক্তির জন্য কল্যাণ চান তখন তার হৃদয়ে আমার সাথীদের (সাহাবীগণের) ভালোবাসা দিয়ে দেন।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটি আবূ নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৪১), দাইলামী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১/১/৯৮), আবু নাসর ইমরান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ বাসরী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর আবাদী হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামা হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আবাদীর নিচের দু’জনের জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না। আর উপরের দু’জন ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী।
হাদিসটিকে সুয়ূতী `আল-জামে` গ্রন্থে দাইলামীর `মুসনাদুল ফিরদাউস` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আর তার ভাষ্যকার মানবী বলেছেনঃ তিনি কোন চিহ্ন ব্যবহার করেননি। তিনি দুর্বল। তবে তার কতিপয় সাক্ষীমূলক বর্ণনা রয়েছে।
তার পরেও তিনি একটিও শাহেদ বর্ণনা করেননি। তিনি যেন বুঝাচ্ছেন ব্যাপক ভিত্তিক সাক্ষী। কারণ আমি এর কোন খাস সাক্ষীমূলক বর্ণনা জানি না। আল্লাহই বেশী জানেন।
` إذا تم فجور العبد، ملك عينيه، فبكى بهما ما شاء `.
منكر.
رواه ابن عدي (72 / 1 و211 / 2) عن حجاج بن سليمان المعروف بابن القمري عن ابن لهيعة عن مشرح بن هاعان عن عقبة بن عامر مرفوعا. وقال بعد أن ساق بهذا السند أحاديث أخر: ` وهذه الأحاديث ينفرد بها حجاج عن ابن لهيعة، ولعلنا قد أتينا من قبل ابن لهيعة، لا من قبل الحجاج، فإن ابن لهيعة له أحاديث منكرات يطول ذكرها، وإذا روى حجاج هذا عن غير ابن لهيعة، فهو مستقيم إن شاء الله `. ونقل المناوي عن ابن الجوزي أنه قال: ` حديث لا يصح `. ولذلك جزم في ` التيسير ` بأن إسناده ضعيف.
১৬৩১। যখন বান্দার অন্যায় কর্ম সম্পূর্ণ হয়ে যায় তখন সে তার দু'চোখের মালিক বনে যায়। অতঃপর সে তার দু'চোখ দিয়ে ইচ্ছেমত কাঁদতে থাকে।
হাদীসটি মুনকার।
হাদীসটিকে ইবনু আদী (৭২/১ ও ২১১/২) হাজ্জাজ ইবনু সুলাইমান হতে যিনি কুমারী নামে পরিচিত, তিনি ইবনু লাহী'আহ হতে, তিনি মিশরাহ ইবনু হা'আন হতে, তিনি উকবাহ ইবনু আমের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি এ সনদে আরো কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ এ হাদীসগুলো ইবনু লাহীয়াহ হতে হাজ্জাজ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত আমরা ইবনু লাহীয়াকেই সমস্যা হিসেবে ধরতে পারি, হাজ্জাজকে নয়। কারণ ইবনু লাহীয়ার বহু মুনকার হাদীস রয়েছে। হাজ্জাজ যদি এটিকে ইবনু লাহীয়াহ ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন তাহলে ইন শা আল্লাহ সেটি সঠিক।
মানবী ইবনুল জাওযর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। এ কারণেই তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, হাদীসটির সনদ দুর্বল।
` إذا قالت المرأة لزوجها: ما رأيت منك خيرا قط، فقد حبط عملها `.
موضوع.
رواه ابن عساكر (16 / 140 / 1) عن سلام بن رزين (الأصل: رزيق) عن عمر بن سليم عن يوسف بن إبراهيم عن أنس عن عائشة مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ساقط، آفته يوسف هذا، قال ابن حبان: ` يروي عن أنس ما ليس من حديثه، لا تحل الرواية عنه `. وقال البخاري: ` صاحب عجائب `. وسلام بن رزين، قال الذهبي: ` لا يعرف، وحديثه باطل `. ثم ساق له حديثا غير هذا بسنده الصحيح عن ابن مسعود، وقال:
` قال أحمد: هذا موضوع، هذا حديث الكذابين `.
والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية ابن عدي وابن عساكر عن عائشة، وتعقبه المناوي في ` الفيض ` بقول ابن حبان المذكور في يوسف بن إبراهيم، ثم اقتصر في ` التيسير ` على قوله: ` إسناده ضعيف `!
১৬৩২। স্ত্রী যদি তার স্বামীকে বলে যে, তোমার থেকে কখনও কল্যাণকর কিছু দেখিনি, তাহলে তার (স্ত্রীর) আমল বাতিল হয়ে যাবে।
হাদীসটি বানোয়াট।
হাদীসটিকে ইবনু আসাকির (১৬/১৪০/১) সালাম ইবনু রায়ীন হতে, তিনি উমার ইবনু সুলাইম হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি আয়শা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি সাকেত। এর সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকারী এ ইউসুফ। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা তার হাদীস নয়। তার থেকে বর্ণনা করাই বৈধ না। ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি আজব আজব বস্তুর অধিকারী।
আর সালাম ইবনু রাযীন সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না। তার হাদীস বাতিল। অতঃপর তিনি তার এটি ছাড়া অন্য একটি হাদীস তার সহীহ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ বলেনঃ এ সনদটি বানোয়াট। এটি মিথ্যুকদের হাদীস।
এ হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামে” গ্রন্থে ইবনু আদী ও ইবনু আসাকিরের বর্ণনায় আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। আর মানবী তার `আল-ফায়েয` গ্রন্থে ইউসুফ ইবনু ইবরাহীম সম্পর্কে ইবনু হিব্বানের মন্তব্য উল্লেখ করে তার সমালোচনা করেছেন। অতঃপর “আততাইসীর” গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেনঃ এর সনদটি দুর্বল।
` إذا مضى للنفساء سبع، ثم رأت الطهر، فلتغتسل ولتصل `.
ضعيف.
أخرجه الدارقطني (82) ومن طريقه البيهقي (1 / 342) : حدثنا أبو سهل بن زياد حدثنا أبو إسماعيل الترمذي حدثنا عبد السلام بن محمد الحمصي - ولقبه سليم - : حدثنا بقية بن الوليد: أنبأنا علي بن علي بن الأسود عن عبادة بن نسي عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم به. قال سليم: فلقيت علي بن علي فحدثني عن الأسود عن عبادة بن نسي عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله. وقال الدارقطني: ` الأسود، هو ابن ثعلبة، شامي `. وأخرجه البيهقي أيضا، وكذا الديلمي (1 / 1 / 152) من طريق الحاكم - وهذا في المستدرك (1 / 176) - : حدثنا أبو سهل أحمد بن محمد بن عبد الله بن زياد النحوي ببغداد: حدثنا أبو إسماعيل محمد بن إسماعيل السلمي به، إلا أنه أسقط من الإسناد علي بن علي. وقال البيهقي:
` والأول أصح، وإسناده ليس بالقوي `. وتعقبه ابن التركماني بقوله: ` قلت: إن كان ذلك لأجل بقية فهو مدلس، وقد صرح بالتحديث، والمدلس إذا صرح بذلك فهو مقبول `.
قلت: ليس ذلك لأجل بقية، فإن في الإسناد الذي رجحه البيهقي، أن سليما لقي علي بن علي شيخ بقية، فحدثه بالحديث، فبرئت عهدة بقية منه، ولزمت سلميا هذا، وهو السبب عندي في تضعيف البيهقي لإسناده، لأنه ليس بالمشهور كثيرا، حتى أن الحافظ ابن حجر خفي عليه حاله، فإنه أورده في ` اللسان ` قائلا: ` روى عن بقية ومحمد بن حرب والوليد بن مسلم وعبد الله بن سالم الأشعري وطبقتهم، روى عنه محمد بن عوف الحمصي وطبقته `. ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وهذا عجيب منه، فإن ابن أبي حاتم قد أورده في ` الجرح والتعديل ` (3 / 1 / 48 - 49) ووصفه بـ ` المعروف بسليم ` وزاد في شيوخه ` بشر بن شعيب `، وذكر أن أباه روى عنه، وأنه قال: ` صدوق `. قلت: فمثله مما تطمئن النفس لحديثه، ويكون حسنا.
ثم استدركت فقلت: إنما ضعفه البيهقي من أجل الأسود بن ثعلبة الشامي، فقد قال فيه ابن المديني: ` لا يعرف `، كما في ` الميزان `. وذكر له في ` التهذيب ` عن عبادة بن الصامت قال: ` علمت ناسا من أهل الصفة القرآن … ` الحديث. وعنه عبادة بن نسي. قال ابن المديني: ` لا أحفظ عنه غير هذا الحديث `. قلت: ويستدرك عليهم هذا الحديث، فإنه ثابت الإسناد إليه، وقال الحاكم فيه: ` شامي معروف، والحديث غريب `! ووافقه الذهبي. وهذا الحديث وإن تبين أنه لم يثبت إسناده إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فالعمل عليه عند أهل العلم، بل نقل الترمذي الإجماع على ذلك، فراجعه (1 / 258) ولكن ينبغي أن لا يؤخذ بمفهو مه، فإنها إذا رأت الطهر قبل السبع اغتسلت وصلت أيضا، لأنه لا حد لأقل النفاس، على ما هو المعتمد عند أهل التحقيق.
১৬৩৩। যখন নেফাসধারী নারীদের সাত দিন অতিবাহিত হয়ে যাবে, অতঃপর পবিত্রতা দেখবে তখন সে যেন গোসল করে এবং সালাত আদায় করে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে দারাকুতনী (৮২) ও তার সূত্রে বাইহাকী (১/৩৪২) আবূ সাহল ইবনু যিয়াদ হতে, তিনি আবূ ইসমাইল তিরমিযী হতে, তিনি আব্দুস সালাম ইবনু মুহাম্মাদ হিমসী (তার উপাধি হচ্ছে সুলাইম) হতে, তিনি বাকিয়্যাহ ইবনুল অলীদ হতে, তিনি আলী ইবনু আলী হতে, তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি উবাদাহ ইবনু নুসাই হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। সুলাইম বলেনঃ আমি ‘আলী ইবনু ‘আলীর সাথে মিলিত হলে তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি উবাদাহ ইবনু নুসাই হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেন।
দারাকুতনী বলেনঃ আসওয়াদ হচ্ছেন ইবনু সালাবাহ শামী। হাদীসটিকে বাইহাকীও বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে দাইলামী (১/১/১৫২) হাকিম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি `আলমুসতাদরাক` গ্রন্থে (১/১৭৬) বর্ণিত হয়েছে আবূ সাহল আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ নাহবী হতে, তিনি আবু ইসমাইল মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল সুলামী হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি সনদ থেকে আলী ইবনু আলীকে ফেলে দিয়েছেন। আর বাইহাকী বলেনঃ প্রথমটি বেশী সঠিক। আর তার সনদটি শক্তিশালী নয়।
ইবনুত তুরকুমানী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ তা যদি বাকিয়্যার মুদাল্লিস হওয়ার কারণে হয়। (তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য নয়) কারণ এখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে হাদীস বর্ণনা করার কথা বলেছেন। আর মুদাল্লিস বর্ণনাকারী যখন স্পষ্টভাবে হাদীস বর্ণনা করেন তখন তিনি গ্রহণযোগ্য।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদটি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি বাকিয়্যার কারণে নয়। কারণ যে সনদকে বাইহাকী বেশী সঠিক বলে প্রাধান্য দিয়েছেন সে সনদে বাকিয়্যার শাইখ আলী ইবনু ‘আলীর সাথে সুলাইমের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি তাকে হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন। এ কারণে বাকিয়্যার দোষ থেকে হাদীসটির সনদ মুক্ত। বাকী থাকছে এ সুলাইম আর আমার নিকট বাইহাকী কর্তৃক হাদিসটি দুর্বল আখ্যা দেয়ার কারণ হচ্ছে এ সুলাইম-ই। কারণ তিনি বেশী প্রসিদ্ধ নন। এমনকি হাফিয ইবনু হাজারের নিকট তার অবস্থা লুক্কায়িতই রয়ে গেছে। এ কারণে তিনি তাকে আল-লিসান গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি বাকিয়্যাহ, মুহাম্মাদ ইবনু হারব, অলীদ ইবনু মুসলিম, আব্দুল্লাহ ইবনু সালেম আশ'আরী এবং তাদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে মুহাম্মাদ ইবনু আউফ হিমসী ও তার সমসাময়িকরা বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। তার থেকে এটা আশ্চর্যের ব্যাপার। কারণ ইবনু আবী হাতিম তাকে “আলজারহু অততাদীল” গ্রন্থে (৩/১/৪৮-৪৯) উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি সুলাইম নামে পরিচিত। তিনি তার শাইখদের মধ্যে বিশর ইবনু শুয়াইবকেও উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তার পিতা তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, তিনি সত্যবাদী।
আমি (আলবানী) বলছি তার ন্যায় ব্যক্তির হাদীসের ব্যাপারে হৃদয় পরিতৃপ্ত হয় এবং তার হাদীস হাসান পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। অতঃপর আমি অবগত হয়ে বলছি যে, এটিকে বাইহাকী আসওয়াদ ইবনু সা'লাবা শামীর কারণেই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে।
এ হাদীসটির সনদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত যদিও সাব্যস্ত হয়নি, বিদ্বানগণের এর উপরে 'আমল রয়েছে। বরং ইমাম তিরমিযী এর উপরে ইজমা' সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। দেখুন (১/২৫৮)। তবে এ হাদীস থেকে যা বুঝা যায় তা গ্রহণ না করাই উচিত। কারণ নেফাসধারী নারী যদি সাত দিনের পূর্বেই পবিত্র হয়ে যাওয়াকে লক্ষ্য করে তাহলে গোসল করবে এবং সালাতও আদায় করবে। কারণ নেফাসের সর্বনিম্ন সময়কাল নির্দিষ্ট নেই। যেমনটি বিশেষজ্ঞগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
` أشد الناس عذابا يوم القيامة، عالم لم ينفعه علمه `.
ضعيف الإسناد جدا.
أخرجه الطبراني في ` الصغير ` (103) من طريق عثمان بن مقسم البري عن سعيد المقبري عن أبي هريرة مرفوعا. وقال: ` لم يروه عن المقبري إلا عثمان البري `. قلت: وهو ضعيف جدا، قال ابن معين: ` ليس بشيء
، هو من المعروفين بالكذب، ووضع الحديث `. كما في ` الميزان `، وأطال في ترجمته، ثم ساق له هذا الحديث وقال الهيثمي (1 / 185) : ` رواه الطبراني في الصغير وفيه عثمان البري، قال الفلاس: صدوق كثير الغلط، صاحب بدعة، ضعفه أحمد والنسائي والدارقطني `. وقال شيخه العراقي في أول كتابه ` المغني `: ` رواه الطبراني في ` الصغير `، والبيهقي في ` شعب الإيمان ` عن أبي هريرة بإسناد ضعيف `. وكذلك ضعفه المنذري (1 / 78) ورواه ابن عدي أيضا، كما في ` الجامع ` وقال الشارح المناوي: ` قال ابن حجر: غريب الإسناد والمتن `.
ثم قال المناوي: ` لكن للحديث أصل أصيل `. ثم ساق الحديث الماضي برقم (1617) بلفظ: ` إن أشد الناس عذابا يوم القيامة … ` الحديث، وفيه: ` وعالم لا ينتفع بعلمه `. عزاه للحاكم ولم نجده، كما ذكرت هناك، فلعله لذلك لم يزد في ` التيسير ` على قوله: ` ضعفه المنذري وغيره `. والحديث أخرجه الدارمي (1 / 82) موقوفا على أبي الدرداء بلفظ: ` إن من أشر الناس عند الله منزلة يوم القيامة، عالم لا ينتفع بعلمه `.
وإسناده هكذا أخبرنا إسماعيل بن أبان عن ابن القاسم بن قيس قال: حدثنا يونس بن يوسف الحمصي: حدثنا أبو كبشة السلولي قال: سمعت أبا الدرداء يقول: فذكره. وهذا سند رجاله ثقات، غير ابن القاسم بن قيس فلم أعرفه، وأخشى أن يكون قد وقع في النسخة تحريف فإنها محرفة جدا، كما يظهر ذلك للناقد.
وقد كان الشيخ زهري النجار - حفظه الله - قد كتب إلي من مصر أن الأستاذ أحمد محمد شاكر قال له: إنه يريد أن يطبع ` سنن الدارمي ` طبعة جيدة مصححة بقلمه، فلعله وفق لذلك. والحديث رواه الخطيب البغدادي أيضا في ` الكفاية في علم الرواية ` (6 - 7) وابن عبد البر في ` الجامع ` (1 / 162) من طريق عثمان بن مقسم المذكور.
১৬৩৪। কিয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী শাস্তি পাবে সেই আলেম যার জ্ঞান তার কোন উপকার করেনি।
হাদীসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে ত্ববারানী `আসসাগীর` গ্রন্থে (১০৩) উসমান ইবনু মুকসিম বাসরী হতে, তিনি সা'ঈদ মাকবূরী হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ মাকবুরী হতে উসমান বাররী ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। তিনি মিথ্যা বর্ণনা এবং হাদীস জাল করার সাথে পরিচিতদের একজন। যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে। তিনি তার দীর্ঘ জীবনী আলোচনা করার পর এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
হাইসামী (১/১৮৫) বলেনঃ এটিকে ত্ববারানী `আসসাগীর` গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে উসমান বাররী রয়েছেন। ফাল্লাস বলেনঃ তিনি সত্যবাদী বহুভুলকারী, বিদ'আতী। তাকে ইমাম আহমাদ, নাসাঈ ও দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
তার শাইখ ইরাকী তার “আলমুগনী” গ্রন্থের প্রথমে বলেনঃ এটিকে ত্ববারানী `আসসাগীর` গ্রন্থে আর বাইহাকী “শু'য়াবুল ঈমান” গ্রন্থে আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে মুনযেরী হাদীসটিকে (১/৭৮) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আদীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি “আলজামে” গ্রন্থে এসেছে। আর ভাষ্যকার মানবী বলেনঃ ইবনু হাজার বলেনঃ এর সনদ এবং মাতান (ভাষা) উভয়টিই গারীব। অতঃপর মানবী বলেনঃ কিন্তু হাদীসটির ভিত্তি রয়েছে। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত (১৬১৭) হাদীসটি উল্লেখ করেন। যার মধ্যে আলেম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ... সেই আলেম যে তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় না।
তিনি হাকিমের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। কিন্তু তাতে পাচ্ছি না যেমনটি সেখানে উল্লেখ করেছি। সম্ভবত এ কারণেই তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে শুধুমাত্র বলেছেনঃ হাদীসটিকে মুনযেরী প্রমুখ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
হাদীসটিকে দারেমী (১/৮২) মওকুফ হিসেবে আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ
'আল্লাহর নিকট কিয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি সেই আলেম যে তার জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হয় না।'
এর সনদটি এরূপঃ তিনি ইসমাঈল ইবনু আবান হতে, তিনি ইবনুল কাসেম ইবনু কায়েস হতে, তিনি ইউনুস ইবনু ইউসূফ হিমসী হতে, তিনি আবু কাবাশাহ সালূলী হতে, তিনি বলেনঃ আমি আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছিঃ ...।
বর্ণনাকারী ইবনুল কাসেম ইবনু কায়েস ছাড়া এ সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আমি তাকে চিনি না। আমি আশংকা করছি যে, কপির মধ্যে উলোটপালট কিছু ঘটেছে।
` كان يخرج يهريق الماء، فيتمسح بالتراب، فأقول: يا رسول الله! إن الماء قريب، فيقول: ما يدريني لعلي لا أبلغه `.
ضعيف جدا.
أخرجه عبد الله بن المبارك في ` الزهد ` (292) : أخبرنا ابن لهيعة عن عبد الله بن هبيرة عن حنش عن ابن عباس مرفوعا به.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، رجاله ثقات غير حنش هذا، واسمه الحسين بن قيس الرحبي، وهو متروك، كما في ` التقريب `. وهو إنما يروي عن ابن عباس بواسطة عكرمة، فهو منقطع أيضا إلا أن يكون سقط من الناسخ أوالطابع قوله: ` عن عكرمة `. والله أعلم.
وأخرج الحاكم (1 / 180) والبيهقي (1 / 224) من طريق محمد بن سنان القزاز: حدثنا عمرو بن محمد بن أبي رزين حدثنا هشام بن حسان عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر: ` أن النبي صلى الله عليه وسلم تيمم وهو ينظر إلى بيوت المدينة بمكان يقال له: مربد الغنم `. وقال الحاكم: ` حديث صحيح، تفرد به عمرو بن محمد بن أبي رزين، وهو صدوق، وقد أوقفه
يحيى ابن سعيد الأنصاري وغيره عن نافع عن ابن عمر `. قلت: ووافقه الذهبي، وذلك من أوهامه، فإن عمرو بن محمد هذا، وإن كان صدوقا، فإن الراوي عنه القزاز متهم، وقد أورده الذهبي نفسه في ` الضعفاء والمتروكين ` وقال: ` كذبه أبو داود وابن خراش `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `. ولعله لذلك قال البيهقي: ` وليس بمحفوظ `. ثم أخرجه هو والحاكم من طرق عن نافع عن ابن عمر: ` أنه أقبل من الجرف، حتى إذا كان بالمربد تيمم، فمسح وجهه ويديه، وصلى العصر، ثم دخل المدينة، والشمس مرتفعة، فلم يعد الصلاة `. قال الشافعي: الجرف قريب من المدينة. ثم أخرج البيهقي (1 / 233) من طريق الوليد بن مسلم قال: ` قيل لأبي عمرو - يعني: الأوزاعي - : حضرت الصلاة، والماء حائز عن الطريق أيجب علي أن أعدل إليه؟ قال: حدثني موسى بن يسار عن نافع عن ابن عمر أنه كان يكون في السفر، فتحضره الصلاة، والماء منه على غلوة أوغلوتين ونحو ذلك، ثم لا يعدل إليه `. وسنده صحيح. (فائدة) : ` الغلوة ` بالفتح: قدر رمية سهم.
১৬৩৫। তিনি বের হয়ে পেশাব করতেন। অতঃপর মাটি দিয়ে মাসাহ করতেন। আমি বলতামঃ হে আল্লাহর রসূল! পানি তো আপনার নিকটেই। তিনি তখন বলতেন কোন বস্তু আমাকে অবহিত করবে, হয়তো আমি পানির নিকট পৌছতে সক্ষম হবো না।
হাদীসটি খুবই দুর্বল। [(কিন্তু তিনি পরবর্তিতে এ হাদীসকে সহীহ্ আখ্যা দিয়েছেন) অতএব হাদীসটি সহীহ্। দেখুন `সিলসিলাহ্ সহীহাহ` (২৬২৯)]।
কারণ ইবনু লাহীয়াহ দুর্বল হলেও তার থেকে যখন তিন আব্দুল্লাহ্ বর্ণনা করেন তখন তার হাদীস সহীহ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ তারা তার থেকে তার জীবনের প্রথম দিকের বর্ণনাকারী। আর এ হাদীসটি তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বর্ণনা করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন `সিলসিলাহ সহীহাহ` (২৬২৯)।
` أحب البيوت إلى الله، بيت فيه يتيم مكرم `.
ضعيف جدا.
أخرجه المخلص في ` الفوائد المنتقاة ` (199 - 200) والعقيلي في ` الضعفاء ` (31) والطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 201 / 2) وابن عدي في
` الكامل ` (17 / 1) والخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (75) وابن بشران في ` الأمالي ` (152 / 2) وأبو نعيم في ` الحلية ` (6 / 337) والقضاعي في ` مسند الشهاب ` (102 / 2) والسلفي في ` الطيوريات ` (160 / 2) من طريق إسحاق الحنيني: حدثنا مالك عن يحيى بن محمد بن طحلاء - وقال بعضهم: محمد بن عجلان - عن أبيه عن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال أبو نعيم والعقيلي: ` تفرد به الحنيني عن مالك `. قلت: وهو إسحاق بن إبراهيم، متفق على ضعفه، كما قال الذهبي في ` الضعفاء `، وقال في ` الميزان `: ` صاحب أوابد `. ثم ساق له أحاديث هذا منها. وقال العقيلي عقبه: ` لا أصل له `.
ثم روى عن البخاري أنه قال في الحنيني: ` في حديثه نظر `. وهذا من الإمام كناية عن أنه شديد الضعف عنده، كما هو معلوم. ومن هذا الوجه أخرجه البيهقي في ` الشعب ` بلفظ: ` أحب بيوتكم … `. وقال: ` تفرد به إسحاق عن مالك `، كما في ` الفيض `. ثم رأيت ابن أبي حاتم يذكر في ` العلل ` (2 / 176) أنه سأل أباه عن هذا الحديث فقال: ` قال أبي: هذا حديث منكر `.
১৬৩৬। আল্লাহর নিকটে সর্বোত্তম বাড়ি হচ্ছে সেই বাড়ি যে বাড়িতে মর্যাদা নিয়ে ইয়াতীম থাকে।
হাদিসটি খুবই দুর্বল।
হাদীসটিকে মুখলিস “আলফাওয়াইদুল মুনতাকাত” গ্রন্থে (১৯৯-২০০), ওকাইলী “আযযু'আফা” গ্রন্থে (৩১), ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/২০১/২), ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (১/১৭), খারাইতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (৭৫), ইবনু বিশরান “আলআমলী” গ্রন্থে (২/১৫২), আবু নুয়াইম `আলহিলয়্যাহ` গ্রন্থে (৬/৩৩৭), কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (২/১০২) ও সিলাফী “আততুয়ুরিয়্যাত” গ্রন্থে (২/১৬০) ইসহাক হুনাইনী সূত্রে মালেক হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে ত্বহলা হতে, আর তাদের কেউ কেউ বলেছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আবু নুয়াইম ও অকাইলী বলেনঃ হাদীসটিকে হুনাইনী এককভাবে মালেক হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম সকলের ঐকমত্যে দুর্বল। যেমনটি হাফিয যাহাবী `আযযুয়াফা` এবং “আলমীযান” গ্রন্থে বলেছেনঃ তিনি বহু আজব এবং গারীবের অধিকারী।
অতঃপর তিনি তার কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন এটি সেগুলোর একটি। পরক্ষণেই ওকাইলী বলেনঃ এর কোন ভিত্তি নেই। অতঃপর তিনি ইমাম বুখারী হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হুনাইনীর ব্যাপারে বলেনঃ তার হাদীসের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।
ইমাম বুখারী হতে এরূপ মন্তব্য তার নিকট হুনাইনীর খুবই দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। এ সূত্রেই হাদীসটিকে বাইহাকী “আশশুয়াব” গ্রন্থে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ
“ তোমাদের বাড়ি সমূহের মধ্যে ...।”
অতঃপর বলেছেনঃ ইসহাক এককভাবে মালেক হতে বর্ণনা করেছেন যেমনটি `আলফায়েয` গ্রন্থে এসেছে।
এরপর আমি (আলবানী) দেখেছি ইবনু আবী হাতিম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/১৭৬) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার পিতাকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি উত্তরে বলেনঃ
এ হাদীসটি মুনকার।
` خير بيت في المسلمين، بيت فيه يتيم يحسن إليه، وشر بيت في المسلمين، بيت فيه يتيم يساء إليه `.
ضعيف.
أخرجه عبد الله بن المبارك في ` الزهد ` (رقم
১৬৩৭। মুসলিমদের সর্বোত্তম বাড়ি হচ্ছে সেই বাড়ি যে বাড়িতে ইয়াতীমের সাথে ভালো আচরণ করা হয়। আর মুসলিমদের সর্বনিকৃষ্ট বাড়ি সেটি যে বাড়িতে ইয়াতীমের সাথে মন্দ আচরণ করা হয়।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক “আযযুহুদ” গ্রন্থে (নং ৬৫৪), তার থেকে ইবনু মাজাহ (৩৬৭৯) ও বুখারী “আলআদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে (১৩৭) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ সুলাইমান সূত্রে যায়েদ ইবনু আবূ আত্তাব হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল, যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। এ কারণে মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (৩/২৩০) হাদীসটি দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইয়াহইয়া” গ্রন্থে (২/১৮৪) বলেনঃ তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। বূসয়রী `আযযাওয়াইদ` গ্রন্থে বলেনঃ তার সনদে বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু আবূ সুলাইমান রয়েছেন যার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি মুযতারিবুল হাদীস। তাকে ইবনু হিব্বান “আসসিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু খুযাইমাহ তার হাদীসকে “সহীহাহ” গ্রন্থে তাখরীজ করে এ হাদীস সম্পর্কে বলেছেনঃ অন্তরে এ হাদীসের ব্যাপারে কিছু (সমস্যা) রয়েছে। কারণ আমি ইয়াহইয়া সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই জানি না। আমি তার হাদীসকে তাখরীজ করেছি, কারণ আলেমগণ তার সম্পর্কে মতভেদ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম বুখারী ও আবু হাতিমের নিকট যে সমস্যা প্রকাশিত হয়েছে ইবনু খুযাইমার নিকট তা লুক্কায়িত রয়ে গেছে। অতএব বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাদের দু'জনের সমালোচনা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ইবনু খুযাইমা কর্তৃক দোষারোপ না করার চেয়ে।
এটাই হচ্ছে হক কথা। বিশেষ করে ইবনু হিব্বান তাকে যে “আসসিকাত” গ্রন্থে (৩/৬০৪, ৬১০) উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তিনি নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থের ভূমিকাতে এ মর্মে সতর্ক করেছেন।
আর আমি (আলবানী) কতিপয় অপরিচিত বর্ণনাকারীদের ইবনু হিব্বান কর্তৃক নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়ার উদাহরণ উল্লেখ করেছি “আররাদ্দ আলাশ শাইখ হাবাশী” গ্রন্থে। কেউ চাইলে গ্রন্থটি পড়তে পারেন।
সতর্কবাণীঃ এ হাদীসটিকে ইবনু কাসীর তার তাফসীর গ্রন্থে ইবনুল মুবারাকের বর্ণনায় তার পূর্বোক্ত সনদে উল্লেখ করে কোন হুকুম দেয়া হতে চুপ থেকেছেন। আর এ কারণেই দু'হালাবী আলেম সন্দেহপোষণ করে তার চুপ থাকাকে সহীহ হিসেবে ধরে নিয়ে তারা উভয়ে হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন এবং তারা দু’জনেই “মুখতাসার ইবনু কাসীর” গ্রন্থে হাদীসটিকে উল্লেখ করেছেন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এর বিপরীত। যেমনটি এ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা হয়েছে।
` إذا مدح المؤمن في وجهه، ربا الإيمان في قلبه `.
ضعيف.
رواه الطبراني (1 / 23 / 1) : حدثنا محمد بن عمرو بن خالد الحراني: حدثني أبي: أخبرنا ابن لهيعة عن صالح بن أبي عريب عن خلاد بن السائب قال: دخلت على أسامة بن زيد فمدحني في وجهي، فقال: إنه حملني أن أمدحك في وجهك أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره. ومن هذا الوجه أخرجه الحاكم (3 / 597) وسكت عنه، وكذا الذهبي. وهذا إسناد ضعيف، من أجل ابن لهيعة، فإنه سيء الحفظ، إلا من رواية العبادلة عنه، وهذه ليست منها. وشيخه صالح بن أبي عريب، قال ابن القطان: ` لا يعرف حاله `. وأما ابن
حبان فذكره في ` الثقات `. وقال الحافظ: ` مقبول `. وفي ` مجمع الزوائد ` (8 / 119) : ` رواه الطبراني، وفيه ابن لهيعة، وبقية رجاله وثقوا `. وقال الحافظ العراقي في ` تخريج الإحياء ` (1 / 229 - طبعة دار المعرفة ببيروت) : ` سنده ضعيف `. وقد روي الحديث عن أبي هريرة مرفوعا نحوه، ولكنه لا يثبت أيضا، وهو:
১৬৩৮। যখন কোন মুমিনের সম্মুখেই তার প্রশংসা করা হয় তখন তার হৃদয়ে ঈমান বৃদ্ধি পায়।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে ত্ববারানী (১/২৩/১) মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনে খালেদ হাররানী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি সালেহ ইবনু আবূ আরীব হতে, তিনি খাল্লাদ ইবনুস সায়েব হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি উসামা ইবনু যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি আমার সম্মুখেই আমার প্রশংসা করে বললেনঃ তোমার সম্মুখেই তোমার প্রশংসা করতে আমাকে উৎসাহিত করেছে একটি হাদীস যা আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ...।
এ সূত্রেই হাকিম হাদীসটিকে (৩/৫৯৭) বর্ণনা করে চুপ থেকেছেন। অনুরূপভাবে হাফিয যাহাবীও চুপ থেকেছেন। অথচ এ সনদটি ইবনু লাহীয়ার কারণে দুর্বল। কারণ তার হেফযে ক্রটি ছিল। তবে তার থেকে আবাদিলা (আব্দুল্লাহ নামধারী) বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করলে তার থেকে বর্ণিত হাদীস সহীহ্, আর এ হাদীসটি তাদের বর্ণনাকৃত নয়। আর তার শাইখ সালেহ ইবনু আবূ আরব সম্পর্কে ইবনু কাত্তান বলেনঃ তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না।
তবে ইবনু হিব্বান তাকে (সালেহকে) “আসসিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর হাফিয ইবনু হাজার বলেছেনঃ তিনি মাকবুল। আর “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৮/১১৯) এসেছেঃ হাদীসটিকে ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। এর সনদের মধ্যে ইবনু লাহীয়াহ রয়েছেন আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়া হয়েছে। হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইয়াহইয়া” গ্রন্থে (১/২২৯) বলেনঃ তার সনদটি দুর্বল। অনুরূপ হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু সেটিও সাব্যস্ত হয়নি।
` إذا علم أحدكم من أخيه خيرا، فليخبره، فإنه يزداد رغبة في الخير `.
ضعيف.
رواه الدارقطني في ` العلل ` من رواية ابن المسيب عن أبي هريرة، وقال: ` لا يصح عن الزهري، وروي عن ابن المسيب مرسلا `. ذكره الحافظ العراقي في ` تخريج الإحياء ` (1 / 229 - طبعة دار المعرفة ببيروت) وهو من
الأحاديث التي فاتت ` الجوامع `: ` الكبير ` و` الصغير ` و` الزيادة عليه ` و` الجامع الأزهر `!!
১৬৩৯। যখন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কোন কল্যাণকর কিছু দেখবে, তখন সে যেন তাকে সংবাদ প্রদান করে। কারণ তা কল্যাণের ক্ষেত্রে তার উৎসাহ বৃদ্ধি করবে।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে দারাকুতনী `আলইলাল` গ্রন্থে ইবনুল মুসাইয়্যাবের বর্ণনায় আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ যুহরী হতে এটি সহীহ নয়। আর ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে মুরসাল হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
এটিকে হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইয়াহইয়া” গ্রন্থে (১/২৯৯) উল্লেখ করেছেন। এটি সেই সব হাদীসগুলোর একটি যেগুলো “জামেউল কাবীর”, “জামেউস সাগীর”, “তার সংযোজন” হতে এবং “আলজামেউল আযহার” হতেও ছুটে গেছে।
` إن الله من على قوم، فألهمهم الخير، فأدخلهم في رحمته، وابتلى قوما، فخذلهم وذمهم على أفعالهم، فلم يستطيعوا أن يرحلوا عما ابتلاهم به، فعذبهم، وذلك عدله فيهم `.
ضعيف.
أخرجه الدارقطني في ` الأفراد `، والديلمي في ` مسند الفردوس ` من حديث أبي هريرة كما في ` زوائد الجامع الصغير `. وهو في ` الأفراد ` (ج 2 رقم 46) وفي ` طبقات الأصبهانيين ` (ق 76 / 1 - 2) ، و` أخبار أصفهان ` (1 / 326) من طريق سعيد بن عيسى الكريزي البصري: حدثنا أبو عمر الضرير حدثنا حماد بن زيد ويزيد بن زريع عن يونس بن عبيد عن ابن سيرين عن أبي هريرة سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره دون قوله: ` فخذلهم وذمهم على أفعالهم `، وقال مكانها: ` ذكر كلمة ` وقال: ` غريب من حديث يونس بن عبيد عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة، تفرد به أبو عمر الضرير، حفص بن عمر بهذا الإسناد، ولم نكتبه إلا من هذا الوجه `.
قلت: وهذا إسناد كل من فوق الكريزي ثقات رجال الشيخين إلا هو، فقد قال الدارقطني: ` ضعيف `، كما في ` الميزان `. وقال الحافظ في ` اللسان `: ` وهذا هو سعيد بن عثمان المتقدم `.
وقال الذهبي هناك: ` حدث بأصبهان بمناكير `. وهذا أخذه من أبي نعيم في ترجمته. قلت: فهو علة هذا الإسناد.
১৬৪০। আল্লাহ্ তা'য়ালা কোন সম্প্রদায়ের উপর (যখন) অনুগ্রহ করেন, তখন তিনি তাদেরকে কল্যাণ দান করেন। অতঃপর তার দয়ার মধ্যে তাদের অনুপ্রবেশ ঘটান। আর কোন সম্প্রদায়কে যখন পরীক্ষা করতে চান, তখন তাদেরকে অপমাণিত করেন এবং তাদের কর্মের কারণে তাদের ভৎসণা করেন। ফলে তিনি যার দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করেন তা থেকে তারা মুক্ত হতে সক্ষম হয় না। অতঃপর তিনি তাদেরকে শাস্তি প্ৰদান করেন। আর এটাই হচ্ছে তাদের জন্য তার ইনসাফ।
হাদীসটি দুর্বল।
হাদীসটিকে দারাকুতনী “আলআফরাদ” গ্রন্থে আর দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন যেমনটি “যাওয়াইদুল জামেউস সাগীর” গ্রন্থে এসেছে।
হাদীসটি “আলআফরাদ” গ্রন্থে (খণ্ড ২ নং ৪৬), `ত্ববাকাতুল আসবাহানিয়ীন` গ্রন্থে (কাফ ৭৬/১-২) ও “আখবারু আসফাহান” গ্রন্থে (১/৩২৬) সাঈদ ইবনু ঈসা কুরাইযী বাসর সূত্রে আবু উমার যরীর হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু যায়েদ ও ইয়াযীদ ইবনু যুরাঈ হতে, তিনি ইউনুস ইবনু ওবাইদ হতে, তিনি ইবনু সীরীন হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ ...।
তিনি বলেছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন সূত্রে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ইউনুস ইবনু ওবাইদের বর্ণনাকৃত হাদীস গারীব। আবু উমার যরীর হাফস ইবনু উমার এ সনদে এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর আমরা এটিকে একমাত্র এ সূত্র হতেই লিখেছি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদে কুরাইয়ীর উপরের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। একমাত্র তিনি ছাড়া।
দারাকুতনী তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি দুর্বল। যেমনটি “আলমীযান” গ্রন্থে এসেছে।
হাফিয যাহাবী `আল-লিসান` গ্রন্থে বলেনঃ এ ব্যাক্তি হচ্ছেন সা'ঈদ ইবনু উসমান। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তিনি আসবাহানে কতিপয় মুনকার হাদীস বর্ণনা করেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই এ সনদটির সমস্যা।