হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1641)


` أرقاؤكم إخوانكم، فأحسنوا إليهم، استعينوهم على ما غلبكم، وأعينوهم على ما غلبوا `.
ضعيف.

أخرجه البخاري في ` الأدب المفرد ` (190) : حدثنا آدم قال: حدثنا شعبة قال: حدثنا أبو بشر قال: سمعت سلام بن عمرو يحدث عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا. ورجاله كلهم ثقات رجال البخاري في ` صحيحه ` غير سلام بن عمرو، قال الذهبي ` ما علمت حدث عنه سوى أبي بشر بن أبي وحشية `. قلت: وذكره مع ذلك ابن حبان في ` الثقات ` على قاعدته، وفي ` التقريب ` أنه: ` مقبول `. ومن طريقه أخرجه أحمد (5 / 371) دون لفظة: ` أرقاؤكم `.
وفي ` الصحيحين ` من حديث أبي ذر نحوه، لكن ليس فيه: ` استعينوهم على ما غلبكم `. وهو مخرج في ` الإرواء ` (2176) .
‌‌




১৬৪১। তোমাদের দাসরা তোমাদের ভাই। অতএব তোমরা তাদের প্রতি সদাচরণ কর। তোমরা তাদের থেকে সাহায্য প্রার্থনা কর সে ব্যাপারে যে ব্যাপারে তোমরা অপারগ হও আর তাদেরকে তোমরা সাহায্য করো যে ব্যাপারে তারা অপারগ হয়ে যায়।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম বুখারী “আলদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে (১৯০) আদম হতে, তিনি শু'বা হতে, তিনি আবূ বিশর হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি সালাম ইবনু আমরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের এক ব্যক্তি হতে মারফু হিসেবে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।





একমাত্র সালাম ইবনু আমর ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারীর মধ্যে ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারী। হাফিয যাহাবী বলেনঃ আবু বিশর ইবনু আবী অহশিয়্যাহ ছাড়া অন্য কাউকে তার থেকে হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে জানি না।





আমি (আলবানী) বলছি তা সত্ত্বেও ইবনু হিব্বান তার নীতি অনুযায়ী তাকে `আসসিকাত` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর `আত-তাকরীব` গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছেঃ তিনি মাকবুল।





আর তার সূত্রেই ইমাম আহমাদ (৫/৩৭১) `দাসরা` শব্দটি বাদ দিয়ে বর্ণনা করেছেন।





সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের মধ্যে আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে “তোমরা তাদের থেকে সাহায্য প্রার্থনা কর সে ব্যাপারে যে ব্যাপারে তোমরা অপারগ হও” এ কথাটুকু নেই।





সেটিকে আমি `আলইরওয়াউল গালীল` গ্রন্থে (২১৭৬) উল্লেখ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1642)


` مثل عروة - يعني: ابن مسعود الثقفي - مثل صاحب ياسين دعا قومه إلى الله فقتلوه `.
ضعيف.

أخرجه الحاكم (3 / 615 - 616) ومن طريقه البيهقي في ` دلائل النبوة ` (5 / 299) عن محمد بن عمرو بن خالد: حدثنا أبي حدثنا ابن لهيعة عن أبي الأسود عن عروة ابن الزبير قال: لما أتى الناس الحج سنة تسع، قدم
عروة بن مسعود الثقفي عم المغيرة بن شعبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاستأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرجع إلى قومه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
` إني أخاف أن يقتلوك `. قال: لو وجدوني نائما ما أيقظوني، فأذن له رسول الله صلى الله عليه وسلم، فخرج إلى قومه مسلما، فقدم عشاء، فجاءته ثقيف، فدعاهم إلى الإسلام، فاتهموه وعصوه، وأسمعوه ما لم يكن يحتسب، ثم خرجوا من عنده، حتى إذا أسحروا وطلع الفجر، قام عروة في داره فأذن بالصلاة وتشهد، فرماه رجل من ثقيف بسهم فقتله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد مرسل ضعيف، ابن لهيعة ضعيف لاختلاطه بعد احتراق كتبه. ومحمد بن عمرو بن خالد، لم أجد له ترجمة. وروي مرسلا من طريق أخرى عند ابن أبي حاتم - كما في ` تفسير ابن كثير ` (3 / 568) - من طريق ابن جابر - هو محمد - عن عبد الملك - يعني: ابن عمير - قال: قال عروة بن مسعود الثقفي رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم: ابعثني إلى قومي أدعوهم إلى الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ` إني أخاف أن يقتلوك `.. الحديث نحوه. قلت: وهذا كالذي قبله، ضعيف مع إرساله، فإن محمد بن جابر - وهو ابن سيار الحنفي اليمامي - ضعيف أيضا، قال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق، ذهبت كتبه، فساء حفظه وخلط كثيرا، وعمي فصار يلقن، ورجحه أبو حاتم على ابن لهيعة `. ورواه البيهقي عن موسى بن عقبة مرسلا أومعضلا.
وذكره ابن إسحاق في ` السيرة ` بغير إسناد كما في ` سيرة ابن هشام ` (4 / 194) . والحديث من الأحاديث الضعيفة التي أوردها الرفاعي في ` مختصره ` خلافا لالتزامه الذي نص عليه في مقدمته، بل صرح بتصحيحه في فهرسه الذي وضعه في آخر المجلد الثالث (ص 440) !
‌‌




১৬৪২। উরওয়ার -অর্থাৎ ইবনু মাসউদ সাকাফীর- উদাহরণ হচ্ছে এই যে, সে ইয়াসীনের সাথীর ন্যায়। সে তার সম্প্রদায়কে দাওয়াত দেয় ফলে তারা তাকে হত্যা করে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে হাকিম (৩/৬১৫-৬১৬) আর তার সূত্রে বাইহাকী `দালাইলুন নুবুওয়াহ` গ্রন্থে (৫/২৯৯) মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনে খালেদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু লাহীয়্যাহ হতে, তিনি আবুল আসওয়াদ হতে, তিনি উরওয়া ইবনুয যুবায়ের হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবম সালে (হিজরীতে) যখন লোকেরা হাজ্জ করার জন্য আগমন করল তখন মুগীরাহ ইবনু শু'বার চাচা উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা তোমাকে হত্যা করবে।





তখন সে বললঃ তারা যদি আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পায় তাহলে তারা আমাকে জাগ্রত করবে না। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করলেন। তিনি মুসলিম হিসেবে তার গোত্রের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলেন। তিনি এশার সময়ে তাদের নিকট পৌছলে সাকীফ গোত্র তার নিকট আসল। তখন তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এ কারণে তারা তাকে অপবাদ প্রদান করল এবং তার নাফারমানী করল এবং তাকে এমন কিছু শুনালো যা সে ধারণা করেনি। অতঃপর তারা তার নিকট হতে বেরিয়ে গেল। তারা যখন সাহরীর সময়ে আগমন করল এবং সকাল হয়ে গেলো তখন উরওয়া তার ঘরে উঠে সালাতের জন্য আযান দিয়ে তাশাহহুদ পাঠ করলেন। অতঃপর সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করে। এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ....।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি মুরসাল দুর্বল। ইবনু লাহীয়াহ দুর্বল তার গ্রন্থভাণ্ডার পুড়ে যাওয়ার পরে তার মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে। আর মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনে খালেদের জীবনী আমি পাইনি। যেমনটি “তাফসীর ইবনু কাসীর” গ্রন্থে (৩/৫৬৮) এসেছে মুহাম্মাদ ইবনু জাবের সূত্রে আব্দুল মালেক ইবনু উমায়ের হতে তিনি বলেনঃ উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেনঃ আপনি আমাকে আমার গোত্রের নিকট প্রেরণ করুন, আমি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিব। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা তোমাকে হত্যা করবে।” আলহাদীস।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এটিও পূর্বেরটির ন্যায় দুর্বল, মুরসাল হওয়ার কারণে। কারণ মুহাম্মাদ ইবনু জাবের হচ্ছেন ইবনু সাইয়্যার হানাফী ইয়ামামী। তিনিও দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি (ইয়ামামী) সত্যবাদী, তার কিতাবগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণে তার হেফয ক্রটিযুক্ত হয়ে যায় এবং অনেক কিছুই গোলমেলে হয়ে যায় এবং তিনি অন্ধ হয়ে যান। ফলে তাকে তালকীন (ভুল ধরিয়ে) দিতে হতো। তবে আবু হাতিম তাকে ইবনু লাহীয়ার চেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দিয়েছেন।





হাদীসটিকে বাইহাকী মুরসাল অথবা মু'যাল হিসেবে মূসা ইবনু উকবাহ হতে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু ইসহাক `আস-সীরাহ` গ্রন্থে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন যেমনটি “সীরাতু ইবনু হিশাম” গ্রন্থে (৪/১৯৪) এসেছে।





হাদীসটি সেই সব দুর্বল হাদীসগুলোর একটি যেগুলোকে রেফাঈ তার `মুখতাসার` গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ভূমিকায় উল্লেখিত তার সিদ্ধান্তের (নীতির) বিরোধিতা করে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1643)


` استقيموا لقريش ما استقاموا لكم، فإن لم يفعلوا فضعوا سيوفكم عن عواتقكم، فأبيدوا خضراءهم `.
ضعيف.
رواه أحمد (5 / 277) والخلال في ` مسائل الإمام أحمد ` (1 / 7 / 2 نسخة المتحف البريطاني) وأبو سعيد بن الأعرابي في ` معجمه ` (125 / 2) وأبو نعيم في ` أخبار أصبهان ` (1 / 124) والطبراني في ` المعجم الصغير ` (ص 39) والخطيب (12 / 147) والخطابي في ` الغريب ` (71 / 1) عن سالم بن أبي الجعد عن ثوبان مرفوعا، وزاد الطبراني وابن حبان في ` روضة العقلاء ` (ص 159) : ` فإن لم تفعلوا، فكونوا حينئذ زراعين أشقياء، تأكلون من كد أيديكم `.
وقال الخطابي. ` الخوارج ومن يرى رأيهم، يتأولونه في الخروج على الأئمة، ويحملون قوله: ` ما استقاموا لكم ` على العدل في السيرة، وإنما الاستقامة هاهنا، الإقامة على الإسلام، يقال: أقام واستقام بمعنى واحد، كما يقال: أجاب واستجاب، قال الله تعالى: ` ادعوني أستجب لكم `، والمعنى استقيموا لهم ما أقاموا على الشريعة ولم يبدلوها `. ثم أيد هذا المعنى بأحاديث أخرى، منها قولهم: ` … قالوا: يا رسول الله! أفلا نقاتلهم؟ قال: لا ما أقاموا الصلاة `.
قلت: حديث ثوبان هذا، لا يصح من قبل إسناده، وابن أبي الجعد لم يسمع من ثوبان، فهو منقطع، فإذا ثبت ضعف الحديث، فلا حاجة إلى تكلف تأويله، لأنه يوهم صحته. وقال الخلال: ` قال حنبل: سمعت أبا عبد الله قال: الأحاديث خلاف هذا، قال النبي صلى الله عليه وسلم: ` اسمع وأطع، ولولعبد مجدع `، وقال: ` السمع والطاعة في عسرك ويسرك وأثرة عليك `، فالذي يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم من الأحاديث خلاف حديث ثوبان، وما أدري ما وجهه؟ `. ثم روى الخلال:
` عن مهنا قال: سألت أحمد عن هذا الحديث؟ فقال: ليس يصح، سالم بن أبي الجعد لم يلق ثوبان. وسألته عن علي بن عابس يحدث عنه الحماني عن أبي فزارة عن أبي صالح مولى أم هانىء عن أم هانىء قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مثل حديث ثوبان.. فقال: ليس يصح، هو منكر `. وكذا في ` المنتخب ` لابن قدامة المقدسي (10 / 200 / 2) .
‌‌




১৬৪৩। তোমরা কুরাইশদের আনুগত্যের উপর অটল থাক যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্য দ্বীন কায়েম করে। তারা যদি তা না করে তাহলে তোমরা তোমাদের কাঁধে তোমাদের তরবারীগুলো রেখে তাদের অধিক সংখ্যককে হত্যা করে বিছিন্ন করে ফেলো।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইমাম আহমাদ (৫/২৭৭), খাল্লাল “মাসাইলুল ইমাম আহমাদ” গ্রন্থে (১/৭/২), আবূ সাঈদ ইবনুল আ'রাবী তার `মু'জাম` গ্রন্থে (২/১২৫), আবু নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (১/১২৪), ত্ববারানী “আলমুজামুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৯), খাতীব (১২/১৪৭) ও খাত্তাবী “আলগারীব” গ্রন্থে (১/৭১) সালেম ইবনু আবিল জা'দ হতে, তিনি সাওবান হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ত্ববারানী ও ইবনু হিব্বান `রাওযাতুল ওকালা` গ্রন্থে (পৃঃ ১৫৯) কিছু বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ “যদি তোমরা তা না কর, তাহলে তোমরা বদনাসীব চাষীতে পরিণত হবে, ভক্ষণ করবে তোমাদের হাতের কষ্টার্জিত উপার্জন হতে।”





খাত্তাবী বলেনঃ খাওয়ারিজ এবং তাদের সাথে যারা ঐকমত্য পোষণ করে তারা এ হাদীস দ্বারা ইমামদের বিপক্ষে বের হওয়া জায়েয মর্মে দলীল গ্রহণ করে থাকে ...।





আমি (আলবানী) বলছি সাওবানের এ হাদীসটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। কারণ ইবনু আবিল জা'দ সাওবান হতে শ্রবণ করেননি। অতএব সনদটি মুনকাতি বিচ্ছিন্ন। যখন হাদীসটির দুর্বলতা সাব্যস্ত হচ্ছে তখন এর ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ তা করলে এটি সহীহ্ এরূপ সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে।





খাল্লাল বলেনঃ হাম্বাল বলেনঃ আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছিঃ (সহীহ) হাদীসগুলো এ (আলোচ্য) হাদীস বিরোধী। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তুমি শুনো এবং আনুগত্য কর যদিও সে নাক ও কান কাটা দাস হয়।” ... সাওবানের আলোচ্য এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত উক্ত হাদীসসহ অন্যান্য সহীহ হাদীস বিরোধী।





খাল্লাল মাহনা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আহমাদকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেনঃ এটি সহীহ নয়। কারণ সালেম ইবনু আবুল জা'দের সাওবানের সাথে সাক্ষাৎ ঘটেনি। আর আমি তাকে আলী ইবনু আবেসের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যার থেকে হামানী বর্ণনা করেছেন, আর তিনি আবূ ফাযারাহ হতে, তিনি উম্মু হানীর দাস আবু সালেহ্ হতে, তিনি উম্মু হানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ... সাওবানের হাদীসের ন্যায়। উত্তরে তিনি বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয় বরং মুনকার।





ইবনু কুদামা আলমাকদেসীর `আলমুন্তাখাব` গ্রন্থে (১০/২০০/২) এরূপই উল্লেখ করা হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1644)


` أغبوا في العيادة `.
ضعيف جدا.
رواه الخطيب في ` تاريخه ` (11 / 334) وعنه ابن عساكر (11 / 419 / 2) عن عقبة بن خالد السكوني عن موسى بن محمد بن إبراهيم عن أبيه عن جابر بن عبد الله مرفوعا.
قلت: وسنده ضعيف جدا، موسى هذا، قال يحيى: ` ليس بشيء، ولا يكتب حديثه `. وقال الدارقطني: ` متروك `. وقال أبو حاتم: ` ضعيف الحديث، منكر الحديث، وأحاديث عقبة بن خالد عنه من جناية موسى، ليس لعقبة فيها جرم `. وقال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 241) عن أبيه: ` حديث منكر كأنه موضوع، وموسى ضعيف الحديث جدا، وأبوه محمد بن إبراهيم التيمي لم يسمع من جابر `. والحديث عزاه في ` الجامع ` لأبي يعلى، وزاد الشارح وابن أبي الدنيا، قال الحافظ العراقي: ` إسناده ضعيف `.
‌‌




১৬৪৪ ৷ তোমরা দৈনন্দিন রোগী দেখতে না গিয়ে একদিন পরপর রোগী দেখতে যাও।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী তার “তারীখ” গ্রন্থে (১১/৩৩৪) এবং তার থেকে ইবনু আসাকির (১১/৪১৯/২) উকবাহ ইবনু খালেদ সাকূনী হতে, তিনি মূসা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। বর্ণনাকারী মূসা সম্পর্কে ইয়াহইয়া বলেনঃ তিনি কিছুই না এবং তার হাদীস লিখা যাবে না। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূক। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল, মুনকারুল হাদীস। আর মূসা হতে উকবাহ ইবনু খালেদ কর্তৃক বর্ণনাকৃত হাদীসগুলোর ব্যাপারে অপরাধী হচ্ছেন মূসা। এ ক্ষেত্রে উকবার কোন দোষ নেই।





ইবনু আবী হাতিম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/২৪১) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেনঃ হাদীসটি মুনকার, যেন বানোয়াট। আর মূসা হাদীসের ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল। আর তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম তাইমী জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্ৰবণ করেননি। হাদীসটিকে “আলজামে” গ্রন্থে আবূ ইয়ালার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তার ভাষ্যকার বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ ইবনু আবিদ দুনিয়াও (বর্ণনা করেছেন)। হাফিয ইরাকী বলেনঃ হাদীসটির সনদ দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1645)


` أغبوا العيادة، وخير العيادة أخفها، إلا أن يكون مغلوبا فلا يعاد، والتعزية مرة `.
موضوع.
رواه الخطيب في ` الموضح ` (5 / 235) عن أبي عصمة عن عبد الرحمن بن الحارث عن أبيه عن أنس بن مالك مرفوعا، وقال: ` أبو عصمة هذا هو نوح بن أبي مريم `. قلت: وضاع، معروف بالوضع، واعترف هو نفسه به. نسأل الله السلامة.
‌‌




১৬৪৫। তোমরা দৈনন্দিন রোগী দেখতে না গিয়ে একদিন পরপর রোগী দেখতে যাও। কম পরিমাণে রোগী দেখতে যাওয়াই উত্তম। তবে যদি রোগীর মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে চিনতে না পারে, তাহলে তাকে দেখতে যাওয়া যাবে না। আর শোক জানাতে হবে মাত্র একবার।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে খাতীব বাগদাদী “আলমুওয়াযযেহ” গ্রন্থে (৫/২৩৫) আবূ ইসমাহ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল হারেস হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খাতীব বলেনঃ আবু ইসমাহ হচ্ছেন নূহ ইবনু আবী মারইয়াম।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি জলকারী। তিনি জাল করার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। তিনি জাল করার বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1646)


` أغنى الناس حملة القرآن `.
ضعيف.
رواه ابن عبد الهادي في ` هداية الإنسان ` (135 / 2 - 136 / 1) من طريق أبي نعيم عن عيسى بن حرب الوسقندي: حدثنا أحمد بن عبد الوهاب حدثنا جنادة حدثنا الحارث بن النعمان قال: سمعت الحسن يحدث قال: أتيت أبا ذر بالربذة، فأنشأ يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لأصحابه: ` أي الناس أغنى؟ قالوا: أبو سفيان، وقال آخر: عبد الرحمن بن عوف، وقال آخر: عثمان بن عفان، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ` لا ولكن.. ` فذكره. قلت: وهذا سند ضعيف من أجل الحارث بن النعمان، وهو الليثي الكوفي، ضعيف كما في ` التقريب `.
وعيسى بن حرب الوسقندي، لم أجد من ترجمه. والوسقندي - بالفتح ثم السكون وفتح القاف وسكون النون ودال - نسبة إلي وسقند من قرى الري كما في ` معجم البلدان `، وقد فاتت هذه النسبة على السمعاني فلم يوردها في كتابه، ولا استدركها عليه ابن الأثير في ` لبابه `!! والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية ابن عساكر عن أبي ذر، وعن أنس، وبيض له المناوي في ` الفيض `، فلم يتكلم على إسناده بشيء! وأما في ` التيسير ` فجزم بضعف إسناده.
‌‌




১৬৪৬। কুরআনকে বহনকারী সর্বাপেক্ষা বেশী ধনী ব্যক্তি।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে আব্দুল হাদী “হিদায়াতুল ইনসান” গ্রন্থে (২/১৩৫, ১/১৩৬) আবু নুয়াইম সূত্রে ঈসা ইবনু হারব অসকান্দী হতে, তিনি আহমাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব হতে, তিনি জুনাদাহ হতে, তিনি হারেস ইবনুন নু'মান হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি হাসানকে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ আমি রাবযাতে আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্ধৃতিতে হাদীস বর্ণনা করা শুরু করলেন। তিনি তার সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে বলেনঃ কোন লোকটি সর্বাপেক্ষা বেশী ধনী? তারা উত্তরে বললঃ আবূ সুফইয়ান। অন্য কেউ বললঃ আব্দুর রহমান ইবনু আউফ। আর কেউ বললঃ উসমান ইবনু আফফান। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তবে ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি হারেস ইবনুন নুমানের কারণে দুর্বল। তিনি হচ্ছেন লাইসী কূফী। তিনি দুর্বল যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।





আর ঈসা ইবনু হারব অস্কান্দীর জীবনী আমি পাচ্ছি না।





হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামে” গ্রন্থে ইবনু আসাকিরের বর্ণনায় আবূ যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আর “আলফায়েয” গ্রন্থে মানবী হাদীসটির সনদ সম্পর্কে কোন কিছুই বলেননি। তবে তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে এর সনদটি দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1647)


` افرشوا لي قطيفتي في لحدي، فإن الأرض لم تسلط على أجساد الأنبياء `.
ضعيف.

أخرجه ابن سعد في ` الطبقات ` (ج 2 ق 2 ص 75) : أخبرنا حماد بن خالد الخياط عن عقبة بن أبي الصهباء قال: سمعت الحسن يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد صحيح، لكنه مرسل، فإن الحسن هو البصري، والشطر الثاني من الحديث صحيح له شاهد، بل شواهد، فانظر الترغيب (2 / 281 - 282) .
‌‌




১৬৪৭। তোমরা আমার লাহাদ কবরে আমার কাতীফা কাপড়টি আমার জন্য বিছিয়ে দিও। কারণ নবীগণের শরীরসমূহের উপর যমীনের কর্তৃত্ব দেয়া হয়নি।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু সা'দ “আতত্ববাকাত” গ্রন্থে (খণ্ড ২, কাফ ২, পৃ ৭৫) হাম্মাদ ইবনু খালেদ আলখাইয়্যাত হতে, তিনি উকবাহ ইবনু আবিস সাহাবা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি সহীহ। কিন্তু মুরসাল। কারণ হাসান হচ্ছেন হাসান বাসরী। আর হাদীসটির দ্বিতীয় অংশটুকু সহীহ কতিপয় শাহেদ থাকার কারণে। দেখুন `আততারগীব` (২/২৮১-২৮২)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1648)


` نصف ما يحفر لأمتي من القبور من العين `.
موضوع.

أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (24 / 155 / 399) من طريق علي بن عروة عن عبد الملك عن داود بن أبي عاصم عن أسماء بنت عميس قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره. قلت: وهذا موضوع، آفته ابن عروة هذا، قال الهيثمي في ` المجمع ` (5 / 106) ، والسخاوي في ` المقاصد `: ` وهو كذاب `. قلت: وهو مما سود به السيوطي ` الجامع الصغير `! وانظر ` الصحيحة ` (747) .
‌‌




১৬৪৮। আমার উম্মাতের অর্ধেকের জন্য কবর খনন করা হয় কৃদৃষ্টির কারণে। (অর্থাৎ অর্ধেক উন্মাতের মৃত্যু হয় কৃদৃষ্টির কারণে)।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ত্ববারানী `আলমুজামুল কাবীর` গ্রন্থে (২৪/১৫৫/৩৯৯) আলী ইবনু উরওয়া সূত্রে আব্দুল মালেক হতে, তিনি দাউদ ইবনু আবী আসেম হতে, তিনি আসমা বিনতু উমায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি বানোয়াট। এর সমস্যা হচ্ছে ইবনু উরওয়া। হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (৫/১০৬) আর সাখাবী “আলমাকাসিদ” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম সুয়ুতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটিকে উল্লেখ করে গ্রন্থটিকে কালিমালিপ্ত করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1649)


` أكرموا أولادكم، وأحسنوا أدبهم `.
ضعيف جدا.
رواه ابن ماجة (3671) والعقيلي في ` الضعفاء ` (ص 76) وأبو محمد المخلدي في ` الفوائد ` (289 / 2) والخطيب (8 / 288) وابن عساكر (6 / 8 / 2 و7 / 161 / 2) عن سعيد بن عمارة عن صفوان: حدثنا الحارث بن النعمان ابن أخت سعيد بن جبير قال: سمعت أنس بن مالك يقول: فذكره مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف جدا، الحارث، روى العقيلي عن البخاري أنه قال فيه:
` منكر الحديث `. وساق له هذا الحديث. وسعيد بن عمارة قال الأزدي: ` متروك `. وقال ابن حزم: ` مجهول `. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `. وأما الذهبي فقال في ` الميزان `: ` جائز الحديث `! والأقرب قوله في ` الكاشف `: ` مستور `.
‌‌




১৬৪৯। তোমরা তোমাদের সস্তানদেরকে সম্মান প্রদান কর এবং তাদের সুন্দরভাবে শিষ্টাচার শিখাও।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু মাজাহ (৩৬৭১), ওকাইলী `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (পৃঃ ৭৬), আবু মুহাম্মাদ মিখলাদী `আলফাওয়াইদ` গ্রন্থে (২/২৮৯), খাতীব (৮/২৮৮) ও ইবনু আসাকির (৬/৮/২, ৭/১৬১/২) সাঈদ ইবনু আম্মারাহ ইবনু সাফওয়ান হতে, তিনি হারেস ইবনুন নুমান ইবনু উখতু সাঈদ ইবনু জুবায়ের হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি তিনি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। ওকাইলী ইমাম বুখারীর উদ্ধৃতিতে হারেস সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। আর তিনি তার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আর সাঈদ ইবনু আম্মারাহ সম্পর্কে আযদী বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইবনু হাযম বলেনঃ তিনি মাজহুল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি খুবই দুর্বল।





আর হাফিয যাহাবী `আল-মিযান` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি জায়েযুল হাদিস অর্থাৎ হাদীসের ক্ষেত্রে বৈধ। আর তিনি “আলকাশেফ” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মাসতুর (অর্থাৎ তার অবস্থা অস্পষ্ট)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1650)


` الزموا الجهاد تصحوا وتستغنوا `.
ضعيف جدا.
رواه ابن عدي (34 / 1) عن بشر بن آدم: حدثنا صالح بن موسى عن سهيل عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا. وقال: ` بشر بن آدم، قال ابن معين: ` لا أعرفه `. ولم أر له حديثا منكرا جدا `. قلت: هو من شيوخ البخاري في ` صحيحه `، ووثقه جماعة، وفي ` التقريب `: إنه صدوق. وإنما علة الحديث شيخه صالح بن موسى، وهو الطلحي، وهو متروك كما في ` التقريب `، فالسند ضعيف جدا، فقول المناوي: إنه ` ضعيف ` فقط، قصور. ثم رأيت ابن أبي حاتم قد ذكر الحديث في ` العلل ` (1 / 320) من هذا الوجه وقال: ` قال أبي: هذا حديث باطل، وصالح الطلحي ضعيف الحديث `.
‌‌




১৬৫০। তোমরা জেহাদ করাকে আঁকড়ে ধরো সুস্থ থাকবে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু আদী (১/৩৪) বিশর ইবনু আদম হতে, তিনি সালেহ ইবনু মূসা হতে, তিনি সুহায়েল হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





তিনি বলেনঃ বিশর ইবনু আদম সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ আমি তাকে চিনি না। আর আমি তার কোন বেশী মুনকার হাদীস দেখছি না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সহীহ বুখারীর মধ্যে তিনি ইমাম বুখারীর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। তাকে একদল নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে তিনি সত্যবাদী।





হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে তার শাইখ সালেহ ইবনু মূসা। তিনি হচ্ছেন ত্বলহী। তিনি মাতরূক যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। ফলে সনদটি খুবই দুর্বল। মানবী বলেনঃ তিনি শুধুমাত্র দুর্বল।





অতঃপর আমি ইবনু আবী হাতিমকে দেখেছি তিনি হাদীসটিকে `আলইলাল` গ্রন্থে (১/৩২০) এ সূত্রেই উল্লেখ করে বলেছেনঃ আমার পিতা বলেনঃ এ হাদীসটি বাতিল। আর সালেহ ত্বলহী হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1651)


` اللهم إني أعوذ بك من غلبة الدين وغلبة العدوومن بوار الأيم ومن فتنة المسيح الدجال `.
ضعيف.

أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 139 / 1) وفي ` الصغير ` (ص 218) وعنه الضياء المقدسي في ` المختارة ` (66 / 83 / 1) والدارقطني في ` الأفراد ` (2 رقم 15 - نسختي) والخطيب في ` التاريخ ` (12 / 450) من طرق عن عباد بن زكريا الصريمي: حدثنا هشام بن حسان عن عكرمة عن ابن عباس قال: ` كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول.... ` فذكره، وقال الدارقطني: ` غريب من حديث هشام بن حسان عن عكرمة عن ابن عباس، تفرد به عباد بن زكريا، ولم يروه عنه غير أبي يوسف القلوسي `. قلت: قد رواه غيره عنه، كما أشرنا إلى ذلك، فعلة الحديث إنما هو الصريمي، ولم أجد له ترجمة. وقال الهيثمي (10 / 143) : ` ولم أعرفه، وبقية رجاله رجال الصحيح `.
(تنبيه) : إنما أوردت الحديث من أجل جملة البوار، وإلا فسائره صحيح، في ` الصحيحين ` وغيرهما، فانظر ` غاية المرام ` (347) .
‌‌




১৬৫১। হে আল্লাহ্ আমি তোমার কাছে ঋণের আধিক্য, শক্রর বিজয় লাভ, বিধবার ফেতনা (যাকে বিয়ে করতে কেউ উৎসাহিত হয় না) এবং মসদিনাজলেরক্ষিতনা থেকে আশ্ৰয়প্রার্থনা করছি।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১৩৯/১) ও “সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ২১৮), তার থেকে যিয়া মাকদেসী `আলমুখতারাহ` গ্রন্থে (৬৬/৮৩/১), দারাকুতনী “আলআফরাদ” গ্রন্থে (২/নং ১৫) ও খাতীব বাগদাদী (১২/৪৫০) আব্বাদ ইবনু যাকারিয়া সুরাইমী হতে, তিনি হিশাম ইবনু হাসসান হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ... ।





দারাকুতনী বলেনঃ হিশাম ইবনু হাসসানের হাদীস হতে এটি গারীব। এটিকে আব্বাদ ইবনু যাকারিয়া এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আবু ইউসুফ কালুসী ছাড়া তার থেকে অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার থেকে অন্য ব্যক্তিও বর্ণনা করেছেন। যেমনটি আমি সে দিকে ইঙ্গিত করেছি। অতএব হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে সুরাইমী আর তার জীবনীও পাচ্ছি না।





হাইসামী (১০/১৪৩) বলেনঃ আমি তাকে চিনি না। আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী।





সতর্কবাণীঃ আমি এখানে হাদীসটি উল্লেখ করেছি 'বাওয়ার' সম্বলিত বাক্যের কারণে। অন্যথায় অবশিষ্ট বাক্যগুলো সহীহ বুখারী ও মুসলিম প্রমুখ হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন “গায়াতুল মারাম” (৩৪৭)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1652)


` لولا أن بني إسرائيل استثنوا، فقالوا: ` وإنا إن شاء الله لمهتدون ` ما أعطوا، ولكن استثنوا `.
ضعيف.

أخرجه تمام الرازي في ` الفوائد ` (11 / 2) عن سرور بن المغيرة بن أخي منصور بن زاذان الواسطي عن عباد بن منصور الناجي عن الحسن عن ابن رافع عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف، عباد بن منصور، مدلس وكان تغير بآخرة. وسرور بن المغيرة، تكلم فيه الأزدي، وذكره ابن حبان في ` الثقات `، وقال ` روى عنه أبو سعيد الحداد الغرائب `. والمعروف في الحديث الوقف، كذلك رواه غير واحد، كما تراه في ` الدر المنثور `.
‌‌




১৬৫২। যদি বনী ইসরাঈল ইসতিসনা না করত (ইনশাআল্লাহ্ না বলত), তারা বলেছিলঃ “আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিশ্চয় আমরা পথের দিশা পাব” তাহলে তাদেরকে দেয়া হতো না। কিন্তু তারা ইসতিসনা করেছিল।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটি তাম্মাম রাযী “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/১১) সুরূর ইবনুল মুগীরাহ ইবনে আখী মানসূর ইবনু যাযান অসেতী হতে, তিনি আব্বাদ ইবনু মানসূর নাজী হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি ইবনু রাফে' হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আব্বাদ ইবনু মানসূর মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। তার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।





আর আযদী, সুরূর ইবনুল মুগীরার সমালোচনা করেছেন। ইবনু হিব্বান তাকে “আসসিকাত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তার থেকে আবু সাঈদ হাদ্দাদ কতিপয় গারীব হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি মওকুফ হিসেবেই পরিচিত। একাধিক ব্যক্তি এরূপই বর্ণনা করেছেন। যেমনটি “আদদুররুল মানসূর” গ্রন্থে আপনি দেখছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1653)


` ائتزروا كما رأيت الملائكة تأتزر عند ربها إلى أنصاف سوقها `.
موضوع.
رواه الطبراني في ` الأوسط ` من حديث عبد الله بن عمرو مرفوعا، وفيه المثنى ابن الصباح، وثقه ابن معين وضعفه أحمد وجمهو ر الأئمة حتى قيل: إنه متروك، ويحيى بن السكن ضعيف جدا. كذا في ` مجمع الزوائد ` (5 / 123) . وأورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية الديلمي في ` مسند الفردوس ` عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده. وذكر المناوي أنه من حديث عمران القطان عن المثنى بن الصباح عن عمرو به. ثم ذكر أن الديلمي خرجه من طريق الطبراني، فلو عزاه المؤلف إليه كان أولى.
والحديث أورده الغماري في ` المغير على الأحاديث الموضوعة في الجامع الصغير `، وهو أول حديث فيه، ولوائح الوضع عليه ظاهرة.
ثم وقفت على سند الحديث في ` مختصر الديلمي ` للحافظ (1 / 1 / 46) ، فإذا هو من طريق ابن السني - لا الطبراني - بسنده عن يحيى بن السكن عن عمران القطان به. وقال الحافظ: ` قلت: المثنى ضعيف `. وأقول: إعلاله بيحيى بن السكن - وهو البصري - أولى لأنه لم يوثق، بل قال أبو الوليد (النيسابوري) : ` يكذب `، وقال صالح جزرة: ` لا يساوي فلسا `. كما في ` تاريخ الخطيب ` (14 / 146) .
‌‌




১৬৫৩। আমি ফেরেশতাদের তাদের প্রতিপালকের নিকট যেভাবে নিসফে সাক পর্যন্ত লুঙ্গি পরা অবস্থায় দেখেছি তোমরা সেভাবে লুঙ্গি পরিধান কর।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীস হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে মুসান্না ইবনুস সবাহ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন তাকে ইবনু মাঈন নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন আর ইমাম আহমাদ ও জমহুর ইমামগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। আর ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান খুবই দুর্বল। “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৫/১২৩) এরূপই এসেছে।





সুয়ূতী `আল জামে` গ্রন্থে হাদিসটিকে দাইলামীর `মুসনাদুল ফিরদাউস` গ্রন্থের বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। তিনি আমর ইবনু শুয়াইব হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। মানবী উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইমরান আলকাত্তানের হাদীস, তিনি মুসান্না ইবনুস সবাহ হতে, তিনি আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দাইলামী হাদীসটিকে ত্ববারানীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অতএব লেখক যদি তার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করতেন তাহলে সেটিই উত্তম ছিল। হাদীসটিকে গুমারী “আলমুগাইয়েরু আলাল আহাদীসিল মাওযুয়াতে ফিল জামেইস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর এ গ্রন্থে এটিই প্রথম হাদীস আর এতে বানোয়াটের আলামাত সুস্পষ্ট।





অতঃপর আমি হাফিযের “মুখতাসারুদ দাইলামী” গ্রন্থে (১/১/৪৬) হাদীসটির সনদ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তা থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, হাদিসটি ইবনুস সুন্নীর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান হতে, তিনি ইমরান কাত্তান হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি ত্ববারানীর নয়।





হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ আমি বলছিঃ মুসান্না দুর্বল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান, তিনি হচ্ছেন বাসরী। তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়া হয়নি। বরং আবুল আলীদ নাইসাবুরী বলেনঃ তিনি মিথ্যা বলতেন। সালেহ জাযারাহ বলেনঃ তিনি এক পয়সারও সমান নন। যেমনটি “তারীখুল খাতীব” গ্রন্থে (১৪/১৪৬) এসেছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1654)


` بردوا طعامكم يبارك لكم فيه `.
منكر.
رواه ابن عدي (40 / 2) عن بزيع بن عبد الله الخلال: حدثنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا. قلت: كذا وقع في الأصل: ` بزيع بن عبد الله الخلال ` وابن عدي إنما ساقه في جملة أحاديث ذكرها في ترجمة بزيع بن حسان الخصاف، فلا أدري هل تحرف اسمه في سند هذا الحديث على الناسخ، أم كذلك الرواية فيه؟ والراجح عندي الأول، ثم قال ابن عدي:
` وهذه الأحاديث عن هشام بن عروة بهذا الإسناد مع أحاديث أخر - يروي ذلك كله بزيع أبو الخليل -
مناكير كلها لا يتابعه عليها أحد `. والحديث أورده السيوطي في ` الجامع ` من رواية ابن عدي، ولم يتكلم المناوي على سنده بشيء، فكأنه لم يطلع عليه. وأما في ` التيسير ` فجزم بضعف إسناده، فكأن ذلك منه بناء على تفرد ابن عدي به، وهو أسوأ مما قال، كما ستعرف من حال راويه، وكما سبق التصريح به تحت الحديث المتقدم (1587) . وبزيع بن حسان هذا أورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال: ` متروك `.
‌‌




১৬৫৪। তোমরা তোমাদের খানাকে ঠাণ্ডা করো তাতে তোমাদের জন্য বরকত দান করা হবে।





হাদীসটি মুনকার।





হাদীসটিকে ইবনু আদী (২/৪০) বাযী ইবনু আব্দুল্লাহ খাল্লাল হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এভাবেই আসলের মধ্যে উল্লেখিত হয়েছে। আর ইবনু আদী হাদিসটিকে বাযী ইবনু হাসসান খাসসাফের জীবনীতে একগুচ্ছ হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। জানি না নামের ক্ষেত্রে এ হাদীসের সনদে এ গোলমাল কপিকারকের পক্ষ থেকে ঘটেছে, নাকি তাতে এরূপই বর্ণিত হয়েছে? তবে আমার নিকট প্রথম নামটিই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। অতঃপর ইবনু আদী বলেনঃ এ হাদীসগুলো হিশাম ইবনু উরওয়ার উদ্ধৃতিতে এ সনদেই অন্যান্য হাদীসের সাথে বাযী আবুল খালীল বর্ণনা করেছেন। যার সবগুলোই মুনকার, সেগুলোর কেউ মুতাবা’আত করেননি।





হাদিসটিকে সুয়ূতী `আল জামে` গ্রন্থে ইবনু আদীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। আর মানবী তার সনদের ব্যাপারে কিছুই আলোকপাত করেননি। সম্ভবত তিনি এ সম্পর্কে অবগত হননি।





তবে তিনি `আততাইসীর` গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে সনদ দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ...।





আর বাযী ইবনু হাসসানকে হাফিয যাহাবী `আয যুয়াফা অলমাতরুকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি মাতরুক।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1655)


` من سره أن ينجوفليلزم الصمت `.
ضعيف.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (283) عن سليمان بن عمر بن يسار قال: حدثني أبي عن ابن أخي الزهري قال: حدثنا الزهري عن أنس بن مالك مرفوعا. وقال: ` لا يتابع عليه عمر بن سيار، وإنما يعرف بالوقاصي واسمه عثمان بن عبد الرحمن الزهري، ليس هو من حديث ابن أخي الزهري، وقد حدث عمر بن سيار هذا عن ابن أخي الزهري بما لا يعرف عنه ولا يتابع عليه، وقد روي في الصمت أحاديث بأسانيد جياد بغير هذا اللفظ `. قلت: من ذلك حديث: ` من صمت نجا `. وهو مخرج في ` الصحيحة ` (536) .
وانظر إن شئت ` الترغيب ` (4 / 2 - 11) . وقال الذهبي في عمر هذا: ` ليس بالمتين `. قلت: ابنه سليمان لم أعرفه. وحديث الوقاصي أخرجه تمام في ` الفوائد ` (15 / 1) والقضاعي (30 / 2) عن محمد بن إسماعيل بن أبي فديك عن عمر بن حفص عنه عن الزهري به.
وأورده ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 239) من هذا الوجه، وقال: ` قال أبي: عمر بن حفص مجهول، وهذا الحديث باطل `. قلت: وآفته عثمان بن عبد الرحمن وهو الزهري الوقاصي متهم بالوضع. ونسبه الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 298) لأبي يعلى والطبراني، وأعله بالوقاصي.
‌‌




১৬৫৫। যে ব্যক্তিকে নাজাত লাভ করা খুশি করে সে যেন চুপ থাকাকে ধারণ করে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ওকাইলী `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (২৮৩) সুলাইমান ইবনু উমার ইবনু সাইয়্যার হতে তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু আখীয যুহরী হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ওকাইলী) বলেনঃ এ হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে উমার ইবনু সাইয়্যারের মুতাবা'য়াত করা হয়নি। হাদীসটিকে অকাসীর মাধ্যমে চেনা যায় আর তার নাম হচ্ছে উসমান ইবনু আব্দুর রহমান যুহরী। এটি ইবনু আখীয যুহরীর হাদীস নয়। উমার ইবনু সাইয়্যার, ইবনু আখীয যুহরী হতে এমন হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তার উদ্ধৃতিতে চেনা যায় না এবং তার মুতাবায়াতও করা হয়নি। আর চুপ থাকার বিষয়ে ভালো ভালো সনদে কতিপয় হাদীস বর্ণিত হয়েছে যার ভাষা হচ্ছেঃ (من صمت نجا) “যে চুপ থাকবে সে নাজাত পাবে।” এটিকে “সিলসিলাহ্ সহীহাহ” গ্রন্থে (৫৩৬) উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যদি চান তাহলে দেখুন “আততারগীব” (৪/২-১১)।





হাফিয যাহাবী এ উমার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি তার ছেলে সুলাইমানকে চিনি না। আর অকাসীর হাদীসটিকে তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/১৫) ও কাযাঈ (২/৩০) মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু আবী ফুদায়েক হতে, তিনি উমার ইবনু হাফস হতে, তিনি অকাসী হতে, তিনি যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটিকে ইবনু আবী হাতিম `আলইলাল` গ্রন্থে (২/২৩৯) এ সূত্রেই উল্লেখ করে বলেছেনঃ আমার পিতা বলেছেনঃ উমার ইবনু হাফস মাজহুল আর এ হাদীসটি বাতিল।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সমস্যা হচ্ছে উসমান ইবনু আব্দুর রহমান যুহরী অকাসী। তিনি জাল করার দোষে দোষী । হাদীসটিকে হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (১০/২৯৮) আবূ ইয়ালা এবং ত্ববারানীর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন আর অকাসীকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1656)


` نهى أن يخصى أحد من بني آدم `.
باطل.
رواه تمام في ` الفوائد ` (23 / 1) وابن عدي (336 / 2) وابن عساكر (17 / 133 / 1) عن أبي عمران موسى بن الحسن السقلي: حدثنا معاوية بن عطاء بن رجاء ابن بنت أبي عمران الجوني: حدثنا سفيان عن منصور عن إبراهيم عن الأسود عن عبد الله مرفوعا.
ورواه الطبراني (3 / 68 / 1) : حدثنا أحمد بن داود المكي: أخبرنا معاوية بن عطاء الخزاعي به، وعلقه العقيلي في ` الضعفاء ` (414) وقال: ` وهذا باطل لا أصل له `. وقال في معاوية هذا: ` في حديثه مناكير وما لا يتابع على أكثره `. وقال ابن عدي: ` وهذا عن الثوري باطل `. وقال الهيثمي في ` مجمع الزوائد ` (6 / 250) وأقره المناوي: ` رواه الطبراني، وفيه معاوية بن عطاء الخزاعي، وهو ضعيف `.
‌‌




১৬৫৬। তিনি আদম সস্তানের কাউকে খাসী করতে নিষেধ করেছেন।





হাদীসটি বাতিল।





হাদীসটিকে তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৩), ইবনু আদী (২/৩৩৬) ও ইবনু আসাকির (১৭/১৩৩/১) আবু ইমরান মূসা ইবনুল হাসান সাকালী হতে, তিনি মুয়াবিয়্যাহ্ ইবনু আতা ইবনু রাজা ইবনু আবূ ইমরান জুনী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আলআসওয়াদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





হাদীসটিকে ত্ববারানী (৩/৬৮/১) আহমাদ ইবনু দাউদ মাক্কী হতে, তিনি মুয়াবিয়্যাহ ইবনু আতা খুযাঈ হতে বর্ণনা করেছেন। ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (৪১৪) টীকায় বলেছেনঃ এটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই। তিনি এ মুয়াবিয়্যাহ সম্পর্কে বলেনঃ তার হাদীসের মধ্যে এমন সব মুনকার রয়েছে যেগুলোর অধিকাংশের মুতাবা'য়াত করা হয়নি।





ইবনু আদী বলেনঃ সাওরী হতে বর্ণিত এ হাদীসটি বাতিল। হাইসামী “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৬/২৫০) বলেনঃ মানবী তা স্বীকার করে বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। আর এ সনদের মধ্যে মুয়াবিয়্যাহ ইবনু আতা খুযাঈ রয়েছেন যিনি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1657)


` إن الذي يسجد قبل الإمام ويرفع رأسه قبله، إنما ناصيته بيد الشيطان `.
ضعيف.

أخرجه تمام في ` الفوائد ` (29 / 1) وعنه ابن عساكر في ` تاريخ دمشق ` (2 / 186 / 1) من طريق زهير بن عباد: حدثنا أبو عمر حفص بن ميسرة عن محمد بن عجلان عن أبيه عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره.
قلت: وهذا إسناد ضعيف، زهير بن عباد قال ابن حبان: ` يخطيء ويخالف `. وقال ابن عبد البر: ` ضعيف `. وقد خولف في إسناده، فقال أبو سعد الأشهلي: حدثني محمد بن عجلان عن محمد بن عمرو بن علقمة عن مليح بن عبد الله الخطمي عن أبي هريرة به مرفوعا. أخرجه الطبراني في ` الأوسط ` (1 / 31 / 1) . قلت: وأبو سعد هذا لم أعرفه، وكذلك مليح بن عبد الله، ولعلهما في ` ثقات ابن حبان `، فقد قال المنذري في ` الترغيب ` (1 / 181) وتبعه الهيثمي في ` المجمع ` (2 / 78) : ` رواه البزار والطبراني في ` الأوسط ` وإسناده حسن `.
كذا قالا! وقد أخرجه مالك في ` الموطأ ` (1 / 92 / 57) عن محمد بن عمرو بن علقمة به موقوفا على أبي هريرة. قال الحافظ في ` الفتح ` (2 / 146) : ` وهو المحفوظ `.
ثم وقفت على إسناد البزار في ` كشف الأستار ` (475) ، فإذا هو من طريق عبد العزيز بن محمد عن محمد بن عمرو به. فتأكدت من خطأ زهير في إسناده المتقدم، لمتابعة عبد العزيز - وهو الدراوردي - لابن عجلان، وتبينت أن رواية البزار كرواية الطبراني من حيث إن مدارهما على مليح بن عبد الله، وقد ذكر البزار عقبها أنه ما روى عن أبي هريرة غير هذا. قلت: كأنه يشير إلى قلة حديثه، ولم يذكره ابن أبي حاتم (4 / 1 / 367) إلا برواية محمد بن عمرو هذه، وكذلك ابن حبان في ` ثقاته ` (5 / 450) الأمر الذي يدل على جهالته، ويمنع من تحسين إسناده، مع وقف مالك إياه.
‌‌




১৬৫৭। যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে সাজদা করবে এবং তার মাথাকে তার পূর্বে উঠাবে তার কপাল শয়তানের হাতে রয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৯), তার থেকে ইবনু আসাকির “তারীখু দামেস্ক” গ্রন্থে (২/১৮৬/১) যুহায়ের ইবনু আব্বাদ হতে, তিনি আবূ উমার হাফস ইবনু মাইসারাহ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। বর্ণনাকারী যুহায়ের ইবনু আব্বাদ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি ভুলকারী এবং বিরোধিতা করে বর্ণনাকারী।





ইবনু আব্দিল বার বলেনঃ তিনি দুর্বল। তার সনদে বিরোধিতা করা হয়েছে। আবু সা’দ আশহালী বলেনঃ আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আলকামাহ হতে, তিনি মালীহ ইবনু আবদুল্লাহ খাতমী হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১/৩১/১) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু সা'দকে আমি চিনি না। অনুরূপভাবে মালীহ ইবনু আব্দুল্লাকেও চিনি না। সম্ভবত তারা দু’জনই ইবনু হিব্বানের “আসসিকাত” গ্রন্থে রয়েছে। মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (১/১৮১) আর হাইসামীও “আলমাজমা” গ্রন্থে (২/৭৮) তার অনুসরণ করে বলেনঃ এটিকে বাযযার ও ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি হাসান।





হাদীসটিকে ইমাম মালেক “আলমুওয়াত্তা” গ্রন্থে (১/৯২/৫৭) মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনে আলকামাহ হতে মওকুফ হিসেবে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার `আলফাতহ` গ্রন্থে (২/১৪৬) বলেনঃ এটিই নিরাপদ।





অতঃপর আমি বাযযার কর্তৃক বর্ণনাকৃত সনদ সম্পর্কে “কাশফুল আসতার” গ্রন্থে (৪৭৫) অবগত হয়েছি। সেটি আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে বর্ণনাকৃত। এর ফলে আমার নিকট পূর্বোক্ত যুহায়েরের ভুলের ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ আব্দুল আযীয দারাঅরদী ইবনু আজলানের মুতাবায়াত করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1658)


` الويل كل الويل لمن ترك عياله بخير، وقدم على ربه بشر `.
موضوع.
رواه القضاعي في ` مسند الشهاب ` (24 / 1) عن إبراهيم بن أحمد بن بشير العسكري قال: أخبرنا قتادة بن الوسيم أبو عوسجة الطائي قال: أخبرنا عبيد بن آدم العسقلاني قال: أخبرنا أبي قال: أخبرنا ابن أبي ذئب عن نافع عن ابن عمر مرفوعا.
قلت: وإبراهيم هذا وشيخه قتادة مجهولان، وقد ساق الحديث الذهبي في ترجمة قتادة ابن الوسيم، ثم قال: ` هذا وإن كان معناه حقا، فهو موضوع، رواه عن قتادة إبراهيم بن أحمد العسكري، مجهول مثله `. وأقره الحافظ في ` اللسان `.
والحديث عزاه في ` الجامع الصغير ` للديلمي في ` مسند الفردوس ` عن ابن عمر. وأعله المناوي بما نقلته عن ` الميزان ` و` اللسان `. وهو خطأ، لأن إسناده غير إسناد القضاعي، فإن الديلمي أخرجه (3 / 144) عن محمد بن الحسين القطان بسنده الصحيح عن عبيد الله بن عمر عن نافع به، لم يرفعه.
قلت: والقطان - وهو ابن شهريار - اتهمه ابن ناجية بالكذب، وقال الدارقطني: ` ليس به بأس `: كما في ` تاريخ الخطيب ` (2 / 232) ودونه من لم أعرفه.
‌‌




১৬৫৮। ধ্বংস সকল প্রকার ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে তার পরিবারকে কল্যাণের মধ্যে ছেড়ে তার প্রতিপালকের নিকট মন্দ নিয়ে উপস্থিত হয়।





হাদীসটি বানোয়াট।





হাদীসটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (১/২৪) ইব্রাহীম ইবনু আহমাদ ইবনে বাশীর আসকারী হতে, তিনি কাতাদা ইবনুল অসীম আবূ আওসাজা ত্বাঈ হতে, তিনি ওবায়েদ ইবনু আদম আসকালানী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু আবী যিইব হতে, তিনি নাফে' হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ইবরাহীম এবং তার শাইখ কাতাদা এরা উভয়েই মাজহুল (অপরিচিত)। হাফিয যাহাবী হাদীসটিকে কাতাদা ইবনুল অসীমের জীবনীর মধ্যে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এর ভাবার্থ যদিও সত্য তবুও এটি বানোয়াট। কাতাদা হতে ইবরাহীম ইবনু আহমাদ আসকারী বর্ণনা করেছেন। ইনিও তার ন্যায় মাজহুল। হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে তার কথাকে সমর্থন করেছেন।





হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে দাইলামীর `মুসনাদুল ফিরদাউস` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মানবী আমি যা “আলমীযান” এবং “আললিসান” গ্রন্থ হতে উল্লেখ করেছি তার দ্বারা সমস্যা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা তার ভুল, কারণ তার সনদটি কাযাঈর সনদের মত নয়। কারণ দাইলামী হাদীসটিকে (৩/১৪৪) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন কাত্তান হতে তার সহীহ সনদে ওবাইদুল্লাহ ইবনু উমার হতে, তিনি নাফে হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ কাত্তান হচ্ছেন ইবনু শাহরিয়ার। তাকে ইবনু নাজিয়্যাহ মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন। দারাকুতনী বলেনঃ তার ব্যাপারে সমস্যা নেই। যেমনটি “তারীখুল খাতীব” গ্রন্থে এসেছে। আর তার নিচে এমন কেউ আছে যাকে আমি চিনি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1659)


` أول الأرضين خرابا، يسراها ثم يمناها `.
ضعيف.
رواه تمام في ` الفوائد ` (48 / 1) وابن جميع في ` معجمه ` (258) وابن عساكر (15 / 36 / 2 و256 / 2) عن حفص بن عمر بن الصباح الرقي - سنجة - : حدثنا أبو حذيفة موسى بن مسعود حدثنا سفيان الثوري عن إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن جرير بن عبد الله مرفوعا.
وكذا رواه الطبراني في ` الأوسط ` (




১৬৫৯। যমীনের সর্বপ্রথম বামপার্শ্ব ধ্বংস হবে এরপর তার ডানপার্শ্ব ধ্বংস হবে।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/৪৮), ইবনু জামী' তার `মু'জাম` (২৫৮) ও ইবনু আসাকির (১৫/৩৬/২, ২/২৫৬) হাফস ইবনু উমার ইবনুস সাবাহ আররাকী হতে, তিনি আবূ হুযাইফাহ মূসা ইবনু মাসউদ হতে, তিনি সুফইয়ান সাওরী হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবু খালেদ হতে, তিনি কায়েস ইবনু আবূ হাযেম হতে, তিনি জারীর ইবনু আবদুল্লাহ হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ত্ববারানী `আলআওসাত` গ্রন্থে (৩৬৬৩) বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। এর বর্ণনাকারী হাফস ইবনু উমার দুর্বল। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি পরিচিত শাইখ, ত্ববারানীর বড় শাইখদের একজন। তিনি কাবীসাহ প্রমুখ হতে বেশী বেশী বর্ণনাকারী। আবু আহমাদ হাকিম বলেনঃ তিনি হাদীস ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করেছেন তার মুতাবা'য়াত করা হয়নি। তাকে ইবনু হিব্বান `আসসিকাত` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি কখনও কখনও ভুল করতেন।





এ আবু হুযাইফাহ ছাড়া অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ বুখারীর বর্ণনাকারী। তার হেফযের দিক থেকে তার সমালোচনা করা হয়েছে। এ কারণে হাফিয যাহাবী তাকে `আয-যুয়াফা অল-মাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু খুযাইমাহ বলেনঃ তার থেকে হাদীস বর্ণনা করি না। আর তিনি “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি ইমাম বুখারীর একজন শাইখ। তিনি সত্যবাদী ইন শা আল্লাহ, সন্দেহ করতেন। ইমাম আহমাদ তার সমালোচনা করেছেন আর ইমাম তিরমিযী তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।





এ কারণে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, মন্দ হেফযের অধিকারী, উল্টাপাল্টা করে ফেলতেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনিই হাদীসটির সমস্যা, যদি আররাকী হতে নিরাপদে থাকে।





হাইসামী `আলমাজমা` গ্রন্থে (৭/২৮৯) বলেনঃ হাদীসটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে হাফস্ ইবনু উমার ইবনুস সবাহ আররাকী রয়েছেন। তাকে ইবনু হিব্বান নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী।





তিনি এরূপই বলেছেন। কিন্তু তিনি আবু হুযাইফার ব্যাপারে যে সব কথা বলা হয়েছে সেদিকে লক্ষ্য করেননি।





আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (৭/১১২) ত্ববারানীর সূত্রে নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ





أسرع الأرض خرابا يسراها ثم يمناها





অর্থাৎ `যমীন তার বাম দিক থেকে দ্রুত গতিতে ধ্বংস হবে অতঃপর তার ডানদিক ধ্বংস হবে।`





অতঃপর বলেছেনঃ সাওরীর হাদীস হতে এটি গারীব ...।





এছাড়া হাদীসটির বাহ্যিকতার নিরিখে আমার (আলবানীর) নিকট হাদীসটি মুনকার। কারণ যমীন গোলাকৃতির হওয়া যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণিত তেমনি তা শার'ঈ দলীল বিরোধীও নয়। যদি বিষয়টি এরূপই হয় তাহলে যমীনের ডান এবং বাম দিক কোথায়?











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1660)


` الصلاة نور المؤمن `.
ضعيف.
رواه أبو سعيد الأشج في ` حديثه ` (215 / 2) : حدثنا أبو خالد (يعني: الأحمر) عن عيسى بن ميسرة عن أبي الزناد عن أنس مرفوعا. ومن طريق الأشج رواه المخلص في ` الفوائد المنتقاة ` (1 / 24 / 1) وكذا تمام (82 / 1) ورواه أبو عروبة الحراني في ` جزئه ` (101 / 1) والخطيب في ` الموضح ` (1 / 83) وكذا أبو يعلى في ` مسنده ` (178 / 2) والبيهقي في ` الشعب ` (2 / 286 / 1) وابن نصر في ` الصلاة ` (30 / 2) عن أبي خالد به. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، عيسى بن ميسرة، هو الحناط أبو موسى الغفاري متروك كما في ` التقريب `. لكن أخرجه ابن نصر من طريق واقد بن سلامة عن الرقاشي عن أنس. والرقاشي وواقد ضعيفان. والحديث عزاه في ` الجامع الصغير ` للقضاعي وابن عساكر فقط! وتعقبه المناوي بقوله: ` ورواه عنه أبو يعلى والديلمي باللفظ المزبور، فلوعزاه إليهما لكان أولى. قال العامري في ` شرح الشهاب `: صحيح `. كذا قال! وكأنه يعني صحيح المعنى، وفي ` صحيح مسلم ` من حديث أبي مالك الأشعري: ` الطهور شطر الإيمان و … والصلاة نور، والصدقة برهان و … `.
‌‌




১৬৬০ সালাত হচ্ছে মুমিনের নূর।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আবু সাঈদ আলআশুয তার “হাদীস” গ্রন্থে (২/২১৫), আবূ খালেদ (আলআহমার) হতে, তিনি 'ঈসা ইবনু মাইসারাহ হতে, তিনি আবুয যিনাদ হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আশুয এর সূত্রেই হাদীসটিকে মুখাল্লেস `আলফাওয়াইদুল মুনতাকাত` গ্রন্থে (১/২৪/১), অনুরূপভাবে তাম্মাম (১/৮২), আবু আরবাহ হাররানী তার “জুমউ” গ্রন্থে (১/১০১), খাতীব “আলমুওয়াযযিহ” গ্রন্থে (১/৮৩), আবু ইয়ালা তার `মুসনাদ` গ্রন্থে (২/১৭৮), বাইহাকী `আশশুয়াব` গ্রন্থে (২/২৮৬/১) ও ইবনু নাসর “আসসালাত” গ্রন্থে (২/৩০) আবূ খালেদ হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। ঈসা ইবনু মাইসারাহ হচ্ছেন হান্নাত আবূ মূসা গিফারী। তিনি মাতরূক যেমনটি `আততাকরীব` গ্রন্থে এসেছে।





তবে ইবনু নাসর হাদিসটিকে অকিদ ইবনু সালামাহ সূত্রে রুকাশী হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। এ রুকাশী এবং অকিদ উভয়েই দুর্বল।





হাদীসটিকে সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে শুধুমাত্র কাযাঈ এবং ইবনু আসাকিরের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ তার থেকে আবূ ইয়ালা ও দাইলামী বর্ণনা করেছেন। এ কারণে যদি তিনি এদের দু'জনের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করতেন তাহলে এটিই বেশী উত্তম হতো। আর আমের “শারহুশ শিহাব” গ্রন্থে বলেনঃ হাদীসটি সহীহ।





সম্ভবত তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন ভাবার্থ সহীহ। কারণ সহীহ মুসলিম, সহীহ ইবনু মাজাহ (২৮০), সহীহ তিরমিযী’র (৩৫১৭) মধ্যে আবূ মূসা আশ'আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসে এসেছে পবিত্রতা হচ্ছে অর্ধেক ঈমান ... সালাত হচ্ছে নূর, সাদাকাহ হচ্ছে দলীল।