হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1881)


` أحسنوا الأصوات في القرآن `.
ضعيف جدا.

أخرجه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 170 / 2) عن نعيم
بن حماد أخبرنا عبدة بن سليمان عن سعيد أبي سعد البقال عن الضحاك عن ابن عباس
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا
، الضحاك وهو ابن مزاحم لم يسمع من ابن عباس. وسعيد وهو ابن مرزبان العبسي
، ضعيف مدلس. ونعيم بن حماد ضعيف متهم. ويغني عن هذا الحديث قوله صلى الله
عليه وسلم: ` زينوا القرآن بأصواتكم `. انظر ` صحيح الجامع ` (رقم




১৮৮১। তোমরা কুরআনের (তিলাওয়াতের) ব্যাপারে আওয়াযকে সুন্দর কর।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১৭০/২) নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ হতে, তিনি আবদাল্লাহ ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি সাঈদ আবু সা'দ বাক্কাল হতে, তিনি যহহাক হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ যহহাক হচ্ছেন ইবনু মুযাহিম। তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করেননি। আর সাঈদ হচ্ছেন ইবনু মারযুবান আবাসী। তিনি দুর্বল, মুদাল্লিস। আর নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ দুর্বল মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। এ খুবই দুর্বল সনদের হাদীস থেকে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে পারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম্নোক্ত বাণীঃ





“তোমরা কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর তোমাদের শব্দসমূহের দ্বারা।”





দেখুন “সহীহ জামেউস সাগীর” (৩৫৭৪, ৩৫৭৫)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1882)


` أحسن الناس قراءة من إذا قرأ القرآن يتحزن به `.
ضعيف.
رواه الطبراني (3 / 101 / 1) عن ابن لهيعة عن عمرو بن دينار عن
طاووس عن ابن عباس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف، فإن ابن لهيعة سيء
الحفظ.
‌‌




১৮৮২। তিলাওয়াতের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হচ্ছে সেই যে কুরআন পাঠ করে তাকে নিয়ে চিন্তিত হয় (আল্লাহ্) ভীতি সহকারে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী (৩/১০১/১) ইবনু লাহীয়াহ হতে, তিনি আমর ইবনু দীনার হতে, তিনি তাউস হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ ইবনু লাহীয়াহ মন্দ হেফযের অধিকারী।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1883)


` من أعيته المكاسب فعليه بتجارة الأنبياء - يعني الغنم - إنها إذا أقبلت (كذا
الأصل) ، وإذا أدبرت أقبلت `.
موضوع.
رواه ابن عساكر (17 / 156 / 1 - 2) عن إسحاق بن بشر: أنبأنا
مقاتل عن الضحاك عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
: فذكره. قلت: وهذا إسناد موضوع، مقاتل - وهو ابن سليمان البلخي المفسر -
وإسحاق بن بشر كلاهما كذاب، فأحدهما آفته. والضحاك - وهو ابن مزاحم - لم
يسمع من ابن عباس.
‌‌




১৮৮৩। যাকে উপার্জন করা পরিশ্রান্ত করে ফেলে তার উচিত হচ্ছে নবীগণের ব্যবসা ধারণ করা অর্থাৎ ছাগল। কারণ সে যখন আসা শুরু করে তখন আসতেই থাকে এবং যখন পিছু টান দেয় তখনও আসতে থাকে।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে ইবনু আসাকির (১৭/১৫৬/১-২) ইসহাক ইবনু বিশর হতে, তিনি মুকাতিল হতে, তিনি যহহাক হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। কারণ মুকাতিল হচ্ছেন ইবনু সুলাইমান বলখী আলমুফাসসির, তিনি এবং ইসহাক ইবনু বিশর তারা উভয়েই মিথ্যুক। তাদের দু'জনের একজনই এ হাদীসের সমস্যা।





আর যাহহাক ইবনু মুযাহিম আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে শ্রবণ করেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1884)


` من أعيته المكاسب فعليه بمصر، وعليه بالجانب الغربي منها `.
ضعيف.
رواه ابن عساكر (17 / 112 / 1) عن سليم بن منصور: أخبرنا أبي
أخبرنا ابن لهيعة عن أبي قبيل عن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى
الله عليه وسلم. قلت: وهذا إسناد ضعيف مسلسل بالضعفاء: الأول: ابن لهيعة
سيء الحفظ. الثاني: منصور وهو ابن عمار الواعظ، قال الذهبي في آخر ترجمته
من ` الميزان ` بعد أن ذكر كثيرا من النقول الجارحة: ` وساق له ابن عدي
أحاديث تدل على أنه واه في الحديث `.
الثالث: سليم بن منصور، أورده الذهبي
في ` الضعفاء `، وقال: ` تكلم فيه بعض البغداديين `. والحديث بيض له
المناوي، فلم يتكلم على إسناده بشيء! وأما في ` التيسير `، فجرى على الجادة
، فقال: ` وإسناده ضعيف `.
‌‌




১৮৮৪ যাকে উপার্জন করা পরিশ্রম্ভ করে ফেলে তার উচিত মিসরকে ধারণ করা এবং তার উচিত হচ্ছে তার পশ্চিম দিক ধারণ করা।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু আসাকির (১৭/১১২/১) সুলাইম ইবনু মানসূর হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইবনু লাহী'য়াহ হতে, তিনি আবূ কাবীল হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ধারাবাহিক দুর্বল বর্ণনাকারীর দ্বারা সনদটি দুর্বলঃ





১। ইবনু লাহীয়াহ মন্দ হেফযের অধিকারী।





২। মানসূর হচ্ছেন ইবনু আম্মার আয়েয। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে তার জীবনীর শেষে বহু সমালোচনাকারীদের মন্তব্য উল্লেখ করার পর বলেনঃ ইবনু আদী তার কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যেগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।





৩। সুলাইম ইবনু মানসূরকে হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ কোন কোন বাগদাদী তার সমালোচনা করেছেন। হাদীসটিকে মানবী “আততাইসীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এর সনদটি দুর্বল। যদিও অন্য গ্রন্থে সনদের ব্যাপারে কোন কিছুই বলেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1885)


` الجنة مائة درجة، ما بين كل درجتين خمسمائة عام `.
منكر بلفظ: ` خمسمائة `.
رواه الطبراني في ` المعجم الأوسط ` (




১৮৮৫। জান্নাতে একশতটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মাঝের দূরত্ব পাঁচশত বছরের দূরত্বের সমান।





হাদীসটি এ ভাষায় মুনকার।





এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৫৬৯৫) ও আবূ নুয়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৩০৫) ইয়াহইয়া হাম্মানী সূত্রে শারীক হতে, মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদাহ হতে, তিনি আতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। শারীক হচ্ছেন ইবনু আব্দুল্লাহ কাযী, তার হেফযে ক্রটি থাকার কারণে তিনি দুর্বল। আরেক বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হামানী, তিনিও তার মতই। তার ভাষারও বিরোধিতা করা হয়েছে। ইমাম আহমাদ (২/২৯২) ইয়াযীদ হতে, তিনি শারীক ইবনু আব্দুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি একশত বছরের কথা উল্লেখ করেছেন।





অনুরূপভাবে হাদীসটিকে তিরমিযী (৩/৩২৫) অন্য সূত্রে ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করে তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান। অন্য কপিতে বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ সহীহ। শারীকের হেফয ক্রটিপূর্ণ এ অবস্থা হতে তার মন্তব্য বহু দূরবর্তী বিষয়। তবে এর শাহেদ এসেছে যেমনটি আসবে।





আলোচ্য হাদীসটিকে হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (১০/৪১৯) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর সনদে ইয়াহইয়া ইবনু আব্দুল হামীদ হামানী রয়েছেন। তিনি দুর্বল। সুয়ূতীও ত্ববারানীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আর মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ লেখক থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কিংবা তাদের একজনও বর্ণনা করেননি। অথচ এটিকে ইমাম বুখারী, অনুরূপভাবে তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ ফিরদাউস হচ্ছে সেগুলোর সর্বোচ্চ স্তর, তার থেকেই জান্নাতের চারটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর তার উপরেই হচ্ছে আরশ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মানবী হতে এটা সন্দেহমূলকভাবে ঘটেছে। কারণ ইমাম বুখারী ও তিরমিযী হাদীসটিকে এ ভাষায় বর্ণনা করেননি। বরং তারা “দু’স্তরের মাঝের দূরত্ব আসমান ও যমীনের দূরত্বের ন্যায়” এ ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এটা গেল এক ব্যাপার। আর হাদীসের মধ্যে উল্লেখিত 'পাঁচশত বছর' এটি দ্বিতীয় বিষয়। কারণ অন্য বর্ণনায় একশত বছরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটিই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। এ সম্পর্কে আমি “সিলসিলাহ্ সহীহাহ” গ্রন্থে (নং ৯২১, ৯২২) বিস্তারিত আলোচনা করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1886)


` إن في الجنة مائة درجة، لوأن العالمين اجتمعوا في إحداهن لوسعتهم `.
ضعيف.

أخرجه الترمذي (3 / 326) وأحمد (3 / 29) وابن عساكر (6 / 29
/ 1) من طريق ابن لهيعة عن دراج عن أبي الهيثم عن أبي سعيد عن النبي صلى
الله عليه وسلم قال: فذكره. وقال الترمذي مضعفا: ` حديث غريب `. قلت:
وذلك لأن ابن لهيعة ودراجا ضعيفان، ونقل المناوي عنه في ` شرحيه ` أنه قال
: ` حسن صحيح `! وأقره، وهو خطأ مزدوج، فإنه مع منافاته لحال إسناده
، مخالف لكل نسخ الترمذي التي وقفنا عليها، ومنها نسخة ` تحفة الأحوذي ` التي
منها نقلت استغرابه، وهو
كذلك في ` المشكاة ` (5633) واغتر بهذا الخطأ
الغماري، فأورد الحديث في ` كنزه ` (992) ! وعزاه في ` المرقاة ` (5 / 294
) لابن حبان من وجه آخر، وصححه! وهذا خطأ آخر!
‌‌




১৮৮৬। জান্নাতে একশতটি স্তর রয়েছে। সারা জাহানের সবাই যদি সেগুলোর একটিতে একত্রিত হত তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (৩/৩২৬), আহমাদ (৩/২৯) ও ইবনু আসাকির (৬/২৯/১) ইবনু লাহীয়াহ সূত্রে দাররাজ হতে, তিনি আবু হাইসাম হতে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।





হাদীসটিকে তিরমিযী দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ হাদীসটি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু লাহীয়াহ ও দাররাজ এরা উভয়েই দুর্বল। মানবী তার দুটি ব্যাখ্যা গ্রন্থে হাদীসটিকে তার (তিরমিযী) থেকে নকল করেছেন যে, তিনি বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন।





এটা ডবল ভুল। কারণ এর সনদের অবস্থার সাথে তার কথা সাংঘর্ষিক এবং তিরমিযীর যত কপি রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি সেগুলোরও বিরোধী। সেগুলোর মধ্যে একটি কপি হচ্ছে `তুহফাতুল আহওয়াযী`র কপি যেটা থেকে আমি উল্লেখ করেছি যে, তিনি বলেনঃ হাদীসটি গারীব। “মিশকাত” গ্রন্থেও (৫৬৩৩) এরূপই উল্লেখিত হয়েছে।





হাদীসটিকে গুমারী এ ভুলের দ্বারা ধোকায় পড়ে তার “কানয” গ্রন্থে (৯৯২) উল্লেখ করেছেন। আর তিনি “আলমিরকাত” গ্রন্থে (৫/২৯৪) ইবনু হিব্বানের উদ্ধৃতিতে অন্য সূত্রে উল্লেখ করে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। এটি আরেক ভুল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1887)


` لأن يؤدب الرجل ولده، أوأحدكم ولده خير له من أن يتصدق كل يوم بنصف صاع `.
ضعيف جدا.

أخرجه الترمذي (2 / 131 - تحفة) والحاكم (4 / 462) وأحمد
(5 / 96 و102) وعنه الطبراني في ` المنتقى من حديثه ` (4 / 6 / 2)
والسهمي في ` تاريخ جرجان ` (352 - 353) من طرق عن ناصح أبي عبد الله عن سماك
بن حرب عن جابر بن سمرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. وقال
الترمذي: ` حديث غريب، وناصح بن علاء الكوفي، ليس عند أهل الحديث بالقوي
، ولا يعرف هذا الحديث إلا من هذا الوجه `. وقال عبد الله بن أحمد عقب
الحديث: ` لم يخرجه أبي في ` مسنده ` من أجل ناصح، لأنه ضعيف الحديث،
وأملاه علي في (النوادر) `. وقال في المكان الآخر: ` ما حدثني أبي عن ناصح
غير هذا الحديث `. قلت: وسكت عنه الحاكم، وتعقبه الذهبي بقوله: ` قلت
: ناصح هالك `. وقال في ` الضعفاء `: ` قال ابن معين وغيره: ليس بثقة
`. وقال الحافظ في ` التقريب `: ` ضعيف `. وأورده ابن أبي حاتم في ` العلل
` (2 / 240 - 241) وقال عن أبيه: ` هذا حديث منكر، وناصح ضعيف الحديث `.
‌‌




১৮৮৭। ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় সস্তানকে আদব শিক্ষা দেয়া, অথবা তোমাদের কোন একজন কর্তৃক স্বীয় সস্তানকে আদব শিক্ষা দেয়া তার জন্য বেশী উত্তম প্রতিদিন অৰ্ধ সা' করে সাদাকা করার চেয়ে।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (২/১৩১), হাকিম (৪/৪৬২), আহমাদ (৫/৯৬, ১০২), তার থেকে ত্ববারানী `আলমুনতাকা মিন হাদীস` গ্রন্থে (৪/৬/২) ও সাহমী “তারীখু জুরজান” গ্রন্থে (৩৫২-৩৫৩) বিভিন্ন সূত্রে নাসেহ আবু আবদুল্লাহ হতে, সাম্মাক ইবনু হারব হতে, তিনি জাবের ইবনু সামুরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গারীব। নাসেহ ইবনু আলা কূফী, তিনি আহলেহাদীসগণের নিকট শক্তিশালী নন। আর হাদীসটিকে শুধুমাত্র এ সূত্রেই চেনা যায়।





আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ হাদীসটির পরক্ষণেই বলেনঃ এ নাসেহের কারণে এটিকে আমার পিতা তার “মুসনাদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। কারণ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। তিনি আমাকে হাদীসটি “আননাওয়াদির” গ্রন্থে লিখিয়েছেন। তিনি অন্যত্র বলেনঃ আমার পিতা নাসেহ হতে শুধুমাত্র এ হাদীসটিই বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাকিম এ হাদীসের ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আর হাফিয যাহাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ নাসেহ হালেক। আর তিনি “আযযুয়াফা” গ্রন্থে বলেছেনঃ ইবনু মাঈন প্রমুখ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল। হাদীসটিকে ইবনু আবী হাতেম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/২৪০-২৪১) উল্লেখ করে তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ এ হাদীসটি মুনকার। নাসেহ হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1888)


` من اغتيب عنده أخوه المسلم، وهو يستطيع نصره فنصره، نصره الله في الدنيا والآخرة، فإن استطاع نصره، فلم ينصره، أدركه الله به في الدنيا والآخر `.
ضعيف جدا.

أخرجه ابن وهب في ` الجامع ` (ص 68) : حدثني الحارث بن نبهان
عن أبان عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. قلت: وهذا
إسناد ضعيف جدا، أبان وهو ابن أبي عياش متروك، وكذلك الحارث بن نبهان.
لكن هذا قد توبع، فأخرجه ابن أبي الدنيا في ` الصمت ` (2 / 5 / 1) وابن عدي
في ` الكامل ` (ق 25 / 1 و2) والبغوي في ` شرح السنة ` (3 / 441 - نسخة
المكتب) ، من طرق أخرى عن أبان به. وأدخل ابن أبي الدنيا بين أبان وأنس
العلاء بن أنس، وهو رواية لابن عدي، وقال في أبان: ` هو بين الأمر في
الضعف، وأرجوأنه ممن لا يتعمد الكذب، إلا أنه يشتبه عليه ويغلط، وهو إلى
الضعف أقرب منه إلى الصدق `.
‌‌




১৮৮৮। যার নিকটে তার মুসলিম ভাইয়ের গীবাত করা হবে, এমতাবস্থায় যে সে তাকে সাহায্য করতে সক্ষম এবং সে তাকে সহযোগিতাও করল তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দুনিয়া এবং আখেরাতে সাহায্য করবেন। আর যদি সে তাকে সহযোগিতা করতে সক্ষম হয়ে তাকে সাহায্য না করে তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দুনিয়া এবং আখেরাতে ধরবেন।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ইবনু ওয়াহাব “আলজামে” গ্রন্থে (পৃঃ ৬৮) হারেস ইবনু নাবহান হতে, তিনি আবান হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ আবান হচ্ছেন ইবনু আবী আইয়্যাশ, তিনি মাতরূক। অনুরূপভাবে হারেস ইবনু নাবহানও মাতরক।





কিন্তু হারেসের মুতাবায়াত করা হয়েছে। এটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া `আসসমত` গ্রন্থে (২/৫/১), ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ২৫/১, ২) ও বাগাবী `শারহুস সুন্নাহ` গ্রন্থে (৩/৪৪১) অন্যান্য সূত্রে আবান হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবিদ দুনিয়া আবান আর আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাঝে 'আলা ইবনু আনাসকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এটি ইবনু আদীর বর্ণনা, আর তিনি আবান সম্পর্কে বলেছেনঃ দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে তার বিষয়টি স্পষ্ট। আশা করি তিনি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলতেন তাদের অন্তর্ভুক্ত নন। তবে তার কাছে গোলমেলে হয়ে যেত এবং তিনি ভুল করতেন। তিনি দুর্বল হওয়ার দিকেই নিকটবর্তী সত্যবাদিতার দিক চেয়ে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1889)


` إن أحدكم مرآة أخيه، فإن رأى به أذى فليمطه عنه `.
ضعيف جدا.
رواه عبد الله بن المبارك في ` الزهد ` (730) وعنه الترمذي (
1 / 351 - بولاق) وابن أبي شيبة (8 / 584) والسمناني في ` الفوائد
المنتقاة ` (2 / 1) وأبو الحسن الحربي في ` الفوائد المنتقاة ` (4 / 2 / 2
) وابن عساكر (14 / 248 / 1 و18 / 82 / 2) عن يحيى بن عبيد الله قال: سمعت
أبي قال: سمعت أبا هريرة يقول مرفوعا. وقال الترمذي: ` ويحيى بن عبيد
الله ضعفه شعبة، وفي الباب عن أنس `. قلت: يحيى هذا متروك، وأفحش الحاكم
فرماه بالوضع، كما في ` التقريب `.
ومن طريقه أخرجه ابن منيع بلفظ: `
المسلم مرآة المسلم، فإذا رأى به شيئا فليأخذه `. كما في ` فيض القدير `.
وقد أخرجه ابن وهب في ` الجامع ` (ص 30) وعنه البخاري في ` المفرد ` (238
) من طريق أخرى عن أبي هريرة موقوفا عليه بلفظ: ` المؤمن مرآة المؤمن، إذا
رأى فيه عيبا أصلحه `. ورجاله ثقات غير سليمان بن راشد، وهو مستور كما قال
الحافظ، فهو أصح من المرفوع. (تنبيه) : من الأخطاء الفاحشة التي وقعت
لبعضهم في هذا الحديث، قول المعلق على ` سنن الترمذي ` (6 / 175 - طبعة حمص)
: ` أخرجه البخاري ومسلم بلفظ: ` المؤمن مرآة المؤمن، والمؤمن أخوالمؤمن
، يكف عنه ضيعته ويحوطه من ورائه `، وكذلك رواه أبو داود … `. قلت:
وفيه مؤاخذتان إحداهما أسوأ من الأخرى: الأولى: عزوه لمسلم، وهذا خطأ محض.
الأخرى: إطلاق العزوللبخاري يوهم أنه في ` صحيحه `! وليس فيه، وإنما رواه
في ` الأدب المفرد ` (239) وإسناده حسن، وهو مخرج في ` الصحيحة ` (926) .
‌‌




১৮৮৯। তোমাদের একেকজন তার ভাইয়ের জন্য আয়না স্বরূপ। অতএব তার মাঝে যদি কষ্টদায়ক কিছু দেখে তাহলে সে যেন তার থেকে তা মুছে ফেলে (দূর করে)।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক “আযযুহুদ” গ্রন্থে (৭৩০), তার থেকে তিরমিযী (১/৩৫১), ইবনু আবী শাইবাহ (৮/৫৮৪), সিমনানী `আলফাওয়াইদুল মুনতাকাত` গ্রন্থে (২/১), আবুল হাসান হারবী “আলফাওয়াইদ মুনতাকাত” গ্রন্থে (৪/২/২) ও ইবনু আসাকির (১৪/২৮৪/১, ১৮/৮২/২) ইয়াহইয়া ইবনু ওবাইদুল্লাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু ওবাইদুল্লাকে শুবা দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। এ অধ্যায়ে আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ ইয়াহইয়া মাতরূক। হাকিম কঠোর ভাষায় তাকে জাল করার দোষে দোষী করেছেন। যেমনটি `আততাকরীব` গ্রন্থে এসেছে। তার সূত্রেই ইবনু মানী নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





“মুসলিম হচ্ছে মুসলিমের আয়না স্বরূপ। যদি তার মাঝে কোন কিছু (ক্রটি) দেখে তাহলে সে যেন তাকে ধরিয়ে দেয়।” “আলফাইয” গ্রন্থে এরূপই এসেছে।





এটিকে ইবনু ওয়াহাব “আলজামে” গ্রন্থে (পৃঃ ৩০) আর তার থেকে বুখারী `আলমুফরাদ` গ্রন্থে (২৩৮) অন্য সূত্রে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





`মু'মিন হচ্ছে মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ, অতএব সে যদি তার মধ্যে কোন দোষ দেখে তাহলে তাকে যেন সংশোধন করে দেয়।`





সুলাইমান ইবনু রাশেদ ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, আর তার অবস্থা অস্পষ্ট। যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন। তবে মারফুর চেয়ে এটির অবস্থা বেশী ভালো।





সতর্কবাণীঃ তাদের কোন কোন ব্যক্তি হতে এ হাদীসের ব্যাপারে মারাত্মক ভুল সংঘটিত হয়েছে। যেমন “সুনানুত তিরমিযী’ (৬/১৭৫)এর টীকা লেখক বলেছেনঃ এটিকে ইমাম বুখারী ও মুসলিম এ ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





المؤمن مرآة المؤمن، والمؤمن أخوالمؤمن، يكف عنه ضيعته ويحوطه من ورائه





“মু'মিন হচ্ছে মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ, মু'মিন হচ্ছে মুমিনের ভাই, সে তার থেকে তার নষ্ট হয়ে যাওয়াকে রক্ষা করে এবং সে তাকে তার পেছনে থেকে হেফাযাত করে।” অনুরূপভাবে আবু দাউদ ... বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তার এ কথায় দু'টি ধরার বিষয় রয়েছে, যে দু'টির একটি অন্যটির চেয়ে বেশী মন্দঃ





১। ইমাম মুসলিমের উদ্ধৃতি দেয়াটা ভুল।





২। আর ইমাম বুখারীর উদ্ধৃতি দেয়াটা সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে যে তিনি এটিকে তার “সহীহ” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আসলে তা নয়। তিনি এটিকে “আলআদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে (২৩৯) বর্ণনা করেছেন। যার সনদটি হাসান। আমি এটিকে “সহীহাহ” গ্রন্থে (৯২৬) তাখরীজ করেছি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1890)


` من رابط فواق ناقة حرمه الله على النار `.
ضعيف جدا.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (165) عن محمد بن عبد الرحمن بن
أبي بكر الجدعاني قال: حدثنا سليمان بن مرقاع الجندعي عن مجاهد عن عائشة
مرفوعا، وقال: ` منكر، لا يتابع عليه ولا يعرف إلا به `. يعني ابن مرقاع
هذا، وقال فيه: ` منكر الحديث، ولا يتابع على حديثه `. والجدعاني متروك
الحديث.
وله طريق آخر رواه العقيلي أيضا (ص 6) والخطيب (7 / 203) وأبو
حزم بن يعقوب الحنبلي في ` الفروسية ` (1 / 8 / 1) عن محمد بن حميد الرازي
قال: حدثنا أنس بن عبد الحميد قال: حدثنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة
مرفوعا. وقال العقيلي: ` هذا حديث منكر، وقد رأيت له غير حديث من هذا
النحو، فإن كان ابن حميد ضبط عنه، فليس هو ممن يحتج به `. قلت: وفي كلامه
إشارة إلى أن ابن حميد غير ضابط، وهو كما قال، ففي ` التقريب `: ` حافظ
ضعيف `. وأقول: بل هو متهم أورده الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال
: ` قال أبو زرعة: كذاب. وقال صالح: ما رأيت أحذق بالكذب منه ومن
الشاذكوني `. وقد تقدم الحديث برقم (626) بأخصر مما هنا، فتركته لما فيه
من زيادة فائدة.
‌‌




১৮৯০ । যে ব্যক্তি একবার উট দোহনের সমপরিমাণ সময়, অথবা দু’বার দুধ দোহনের মাঝের সময়ের সমপরিমাণ (আল্লাহর পথে) জড়িত থাকবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জাহান্নামের আগুনের উপর হারাম করে দিবেন।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (১৬৫) মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকর জুদ'আনী হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু মিরকা জুন্দা'ঈ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আয়েশ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ওকাইলী) বলেনঃ হাদীসটি মুনকার। এর মুতাবা'য়াত করা হয়নি এবং হাদীসটিকে একমাত্র তার (ইবনু মিরকার) মাধ্যমেই চেনা যায়। তার সম্পর্কে তিনি বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। তার হাদীসের মুতাবা'য়াত করা হয়নি। আর জুদ'আনী মাতরূকুল হাদীস।





হাদীসটির আরেকটি সূত্র রয়েছে। এটিকে সে সূত্রেও ওকাইলী, খাতীব (৭/২০৩), আবু হাযম ইবনু ইয়াকুব হাম্বালী `আলফারুসিয়াহ` গ্রন্থে (১/৮/১) মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়েদ রাযী হতে, তিনি আনাস ইবনুল আব্দুল হামীদ হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





ওকাইলী বলেনঃ এ হাদীসটি মুনকার। এটি ছাড়াও তার এরূপ আরো হাদীস দেখেছি। ইবনু হুমায়েদ যদি তার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যৰত করতেন, কারণ তিনি সেই ব্যক্তি নন যার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি তার কথার দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি যকৃবতকারী নন। তিনি সেরূপই যেরূপ ওকাইলী বলেছেন। “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছেঃ তিনি দুর্বল হাফেয।





আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী, তাকে হাফিয যাহাবী `আয যুয়াফা অল মাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ আবু যুর'আহ বলেনঃ তিনি বড়ই মিথ্যুক। সালেহ বলেনঃ তার এবং শাযকূনীর চেয়ে স্পষ্টবাদী মিথ্যুক আর দেখিনি।





এরূপ একটি হাদীস (নং ৬২৬) আলোচিত হয়েছে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1891)


` من حمل جوانب السرير الأربع، كفر الله عنه أربعين كبيرة `.
منكر.
رواه ابن عدي في ` الكامل ` (ق 287 / 2) والطبراني في ` الأوسط `
(79 / 1 من ترتيبه) من طريق محمد بن عقبة السدوسي: حدثنا علي بن أبي سارة:
سمعت ثابتا البناني سمعت أنس بن مالك مرفوعا. وقال: ` لا يروى عن أنس
إلا بهذا الإسناد تفرد به علي `. قلت: وهو ضعيف جدا. قال البخاري: ` في
حديثه نظر `. وقال أبو داود: ` تركوا حديثه `.
وقال ابن حبان: ` غلب على
روايته المناكير فاستحق الترك `. وساق الذهبي مما أنكر عليه هذا الحديث.
ومحمد بن عقبة السدوسي صدوق يخطىء كثيرا. قلت: لكنه قد توبع، فأخرجه أبو
يعلى (2 / 883) وابن حبان في ` الضعفاء ` (2 / 104) من طريقين آخرين عن
علي بن أبي سارة، فهو الآفة. وسيأتي له حديث آخر برقم (5186) . وللحديث
طريق أخرى وشاهد، أما الطريق فرواه الأزدي بسنده عن إبراهيم بن عبد الله
الكوفي عن عبد الله بن قيس عن حميد الطويل عن أنس به. ذكره ابن الجوزي في `
الموضوعات `، وقال: ` لا أصل له، إبراهيم وشيخه كذابان `. وتعقبه
السيوطي في ` اللآلىء ` (2 / 405) ، ثم ابن عراق (386 / 2) بالطريق الأولى
، ولا وجه له لما عرفت من شدة ضعفه. وأما الشاهد فأخرجه ابن عساكر (8 / 521 / 1) من طريق تمام: حدثني أبو القاسم الفضل بن جعفر التميمي - من حفظه - :
أخبرنا أبو قصي إسماعيل بن محمد بن إسحاق العذري حدثني أبي وعمي قالا: أخبرنا
معروف الخياط عن واثلة بن الأسقع مرفوعا به. قلت: وهذا سند مظلم، ما بين
واثلة وتمام لم أعرف أحدا منهم، غير معروف الخياط، وهو معروف بالضعف، قال
أبو حاتم: ` ليس بالقوي `. وقال ابن عدي: ` له أحاديث منكرة جدا وعامة ما
يرويه لا يتابع عليه `. وعم أبي قصي اسمه عبد الله بن إسحاق، وفي ترجمته
أورد ابن عساكر الحديث، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. والفضل بن جعفر
التميمي يحتمل أنه أبو القاسم بن أبي المنادي أخوأبي الحسين
أحمد، فإن يكن هو
فقد ترجمه الخطيب (12 / 374) ولكنه لم ينسبه تميميا، ولم يذكر فيه جرحا
ولا تعديلا. وقد فات السيوطي هذا الشاهد فلم يورده في ` اللآلىء `! مع أنه
أورده في ` الجامع الصغير ` من رواية ابن عساكر، ولم يتكلم على إسناده
المناوي، بل إنه أوهم أن الطبراني رواه عن واثلة، وإنما هو عنده عن أنس كما
سبق. ثم إنه عزاه لـ ` كبير ` الطبراني، ولم أره فيه، ولا عزاه إليه
الهيثمي (3 / 26) .




১৮৯১। যে ব্যক্তি খাটলির চার পার্শ্ব বহন করবে আল্লাহ্ তাআলা তার থেকে চল্লিশটি গুনাহ্ ক্ষমা করে দিবেন।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ২/২৮৭) ও ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১/৭৯) মুহাম্মাদ ইবনু উকবাহ সাদূসী সূত্রে ‘আলী ইবনু আবূ সারাহ হতে, তিনি বুনানী হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





তিনি বলেনঃ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে একমাত্র এ সনদেই হাদীসটিকে বর্ণনা করা হয়েছে, আলী এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেনঃ তার হাদীসের মধ্যে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। আবু দাউদ বলেনঃ তার হাদীসকে তারা (মুহাদ্দিসগণ) পরিত্যাগ করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তার বর্ণনায় মুনকারগুলোর আধিক্যতা পেয়ে যাওয়ায় তাকে ত্যাগ করারই সে উপযুক্ত হয়ে যায়। হাফিয যাহাবী এ হাদীসটিকে তার মুনকার হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।





আর মুহাম্মাদ ইবনু উকবাহ সাদূসী সত্যবাদী, তবে তিনি বহু ভুলকারী।





আমি (আলবানী) বলছি তবে তার মুতাবায়াত করা হয়েছে। এটিকে আবু ইয়ালা (২/৮৮৩) ও ইবনু হিব্বান `আযযুয়াফা` গ্রন্থে (২/১০৪) দুটি সূত্রে ‘আলী ইবনু সারাহ হতে বর্ণনা করেছেন। ইনিই সমস্যা। তার আরেকটি হাদীস (৫১৮৬ নম্বরে) আসবে।





হাদীসটির আরেকটি সূত্র এবং একটি শাহেদ রয়েছে। সূত্রটিতে আযদী তার সনদে ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ কূফী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু কায়েস হতে, তিনি হুমায়েদ ত্ববীল হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে ইবনুল জাওযী তার “আলমাওয়ূয়াত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই। ইবরাহীম ও তার শাইখ তারা উভয়েই বড় মিথ্যুক।





সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/৪০৫), অতঃপর ইবনু ইরাক (২/৩৮৬) প্রথম সূত্রটির দ্বারা ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এর কোন যৌক্তিকতা নেই, সেটি খুবই দুর্বল হওয়ার কারণে।





আর শাহেদটিকে ইবনু আসাকির (৮/৫২১/১) তাম্মামের সূত্রে আবুল কাসেম ফাযল ইবনু জা’ফার তামীমী হতে, তিনি আবু কুসাই ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক উযরী হতে, তিনি তার পিতা ও তার চাচা হতে, তারা দু’জন মা’রূফ খাইয়্যাত হতে, তিনি অসেলাহ ইবনুল আসকা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন। মা’রূফ খাইয়্যাত ছাড়া অসেলাহ এবং তাম্মামের মাঝের বর্ণনাকারীগণের কাউকেই আমি চিনি না। আর তিনিও দুর্বল হিসেবে পরিচিত।





আবু হাতিম বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। আর ইবনু আদী বলেনঃ তার হাদীসগুলো খুবই মুনকার। তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশেরই মুতাবায়াত করা হয়নি।





আবু কুসাই এর চাচার নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনু ইসহাক। তার জীবনীতে হাদীসটিকে ইবনু আসাকির উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই উল্লেখ করেননি।





আর ফাযল ইবনু জা’ফার তামীমী; হতে পারে তিনি আবুল হুসাইন আহমাদের ভাই আবুল কাসেম ইবনু আবুল মুনাদী। তিনিই যদি হন তাহলে খাতীব (১২/৩৭৪) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তাকে তামীমী হিসেবে উল্লেখ করেননি, এবং তিনি তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1892)


` أنزل الناس منازلهم من الخير والشر، وأحسن أدبهم على الأخلاق الفاضلة `.
ضعيف.
رواه الخرائطي في ` مكارم الأخلاق ` (ص 8) عن بكر بن سليمان أبي
معاذ عن أبي سليمان الفلسطيني عن عبادة بن نسي عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ
بن جبل مرفوعا. قلت: وهذا سند ضعيف، وله علتان: الأولى: أبو سليمان
هذا قال البخاري: ` له حديث طويل منكر في القصص `. والأخرى: بكر بن سليمان
، لم أجد من ذكره.
‌‌




১৮৯২। ভাল আর মদের দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি লোকদেরকে তাদের স্বস্ব মর্যাদা প্রদান কর। তাদেরকে ভালোভাবে উত্তম চরিত্রের উপর শিষ্টাচার শিখাও।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে খারায়েতী “মাকারিমুল আখলাক” গ্রন্থে (পৃঃ ৮) বাকর ইবনু সুলাইমান আবু মুয়ায হতে, তিনি আবু সুলাইমান ফিলিস্তীনী হতে, তিনি ওবাদাহ ইবনু নুসায় হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু গানাম হতে, তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুটি কারণে দুর্বলঃ





১। এ আবূ সুলাইমান সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেনঃ ঘটনার ক্ষেত্রে তার এক দীর্ঘ মুনকার হাদীস রয়েছে।





২। আর বাকর ইবনু সুলাইমানকে কে উল্লেখ করেছেন পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1893)


` أنزلت علي الليلة سورة مريم، فسمها مريم `.
ضعيف.
رواه الدولابي (1 / 53) عن أبي بكر بن عبد الله بن أبي مريم
الغساني عن أبيه عن جده قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: ولدت لي
الليلة جارية فقال النبي صلى الله عليه وسلم: فذكره. فكان يكنى بأبي مريم.
قلت: وهذا سند ضعيف، أبو بكر بن أبي مريم ضعيف مختلط. والحديث مما خلا منه
` الجوامع `: ` الصغير `، و` الزيادة عليه `، و` الكبير `، و` الجامع
الأزهر `!
‌‌




১৮৯৩। রাতে আমার উপর সূরা মারইয়াম নাযিল করা হয়েছে। অতএব তুমি তার নাম রাখ মারইয়াম।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে দূলাবী (১/৫৩) আবূ বাকর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবী মারইয়াম গাসসানী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললামঃ রাতে আমার একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ...।





তাকে আবু মারইয়াম নামে ডাকা হতো।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আবূ বাকর ইবনু আবী মারইয়াম দুর্বল, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1894)


` أنزلوا الناس منازلهم `.
ضعيف.
رواه ابن عساكر (12 / 200 / 1) عن نوح بن قيس عن سلامة الكندي عن
الأصبغ بن نباته عن علي بن أبي طالب قال: جاءه رجل، فقال: يا أمير
المؤمنين إن لي إليك حاجة فرفعتها إلى الله قبل أن أرفعها إليك، فإن أنت
قضيتها حمدت الله وشكرتك، وإن أنت لم تقضها حمدت الله وعذرتك، فقال علي
: اكتب على الأرض فإني أكره أن أرى ذل السؤال في وجهك، فكتب: إني محتاج،
فقال علي: علي بحلة، فأتي بها، فأخذها الرجل فلبسها، ثم أنشأ يقول:
كسوتني حلة تبلى محاسنها فسوف أكسوك من حسن الثنا حللا
إن نلت حسن ثنائي نلت مكرمة ولست تبقى بما قد قلته بدلا
إن الثناء ليحيى ذكر صاحبه كالغيث يحي نداه السهل والجبلا
لا تزهد الدهر في زهد تواقعه فكل عبد سيجزى بالذي عملا
فقال علي: علي بالدنانير! فأتي بمائة دينار فدفعها إليه، فقال الأصبغ: فقلت
: يا أمير المؤمنين! حلة ومائة دينار؟ قال: نعم سمعت رسول الله صلى الله
عليه وسلم يقول: فذكره. قال: وهذه منزلة هذا الرجل عندي. قلت: وهذا
إسناد واه جدا، آفته الأصبغ هذا، فإنه متروك متهم بالكذب. وسلامة الكندي
، كأنه مجهول، أورده ابن أبي حاتم من رواية نوح بن قيس هذا فقط عنه، ولم
يذكر فيه جرحا ولا تعديلا. والقصة تلوح عليها لوائح الوضع.
وأما الحديث المترجم له، فقد أخرجه أبو داود، وأبو الشيخ في ` الأمثال ` (241) عن عائشة مرفوعا، وإسناده خير من هذا، ولكن فيه علل ثلاثة بينتها في ` تخريج المشكاة ` رقم (4989 - التحقيق الثاني) . وأحدها الانقطاع، وبه
أعله أبو داود نفسه، وأيده المنذري في ` مختصره ` (4675) وحسنه السخاوي
لشواهد ذكرها، منها حديث معاذ المتقدم قبل حديث، وهو مع ضعفه البين هناك
يختلف معناه عن هذا.
وأما الحاكم فجزم في ` علوم الحديث ` (ص 49) بصحة الحديث! ولعل منشأ هذا
الوهم أن مسلما علقه في ` مقدمة الصحيح `،وقد أشار لضعفه.
‌‌




১৮৯৪। তোমরা লোকদেরকে তাদের স্বস্ব মর্যাদা প্রদান কর।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু আসাকির (১২/২০০/১) নূহ ইবনু কায়েস হতে, তিনি সালামাহ কিন্দী হতে, তিনি আসবাগ ইবনু নুবাতাহ হতে, তিনি আলী ইবনু আবী তালেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনার নিকট আমার প্রয়োজন রয়েছে। আপনার নিকট উপস্থাপন করার পূর্বে আমি আল্লাহর নিকট তা উপস্থাপন করেছিলাম। আপনি যদি তা পূর্ণ করেন, তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করব আর আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। আর আপনি যদি তা পূর্ণ না করেন তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করব আর আপনার নিকট ওযর পেশ করব। ... তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সনদটি খুবই দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে বর্ণনাকারী আসবাগ। কারণ তিনি মাতরূক, মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। আর সালামাহ কিন্দী সম্ভবত মাজহুল। তাকে (কিন্দীকে) ইবনু আবী হাতিম শুধুমাত্র এ নূহ ইবনু কায়েসের বর্ণনাতেই উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি। আর ঘটনাটিতে বানোয়াট হওয়ার আলামত চমকাচ্ছে।





আর আলোচ্য হাদীসটিকে আবু দাউদ ও আবুশ শাইখ `আলআমসাল` গ্রন্থে (২৪১) আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সনদটি এ সনদ থেকে উত্তম। কিন্তু তার মধ্যে তিনটি সমস্যা রয়েছে যেগুলোকে আমি “তাখরাজু মিশকাত” গ্রন্থে (৪৯৮৯) বর্ণনা করেছি। একটি হচ্ছে সনদে বিচ্ছিন্নতা। আর আবু দাউদ নিজেই এর দ্বারা সমস্যা বর্ণনা করেছেন। আর মুনযেরী তার “মুখতাসার” গ্রন্থে তার কথাকে শক্তিশালী করেছেন। আর সাখাবী কতিপয় শাহেদ উল্লেখ করে হাসান আখ্যা দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে একটি হাদীস পূর্বে উল্লেখিত মুয়ায (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। সেটি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সেটির অর্থ এটি হতে ভিন্ন। আর হাকিম `উলুমুল হাদীস` গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে হাদিসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। এ সন্দেহের কারণ হচ্ছে এই যে, মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থের ভূমিকাতে মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এর দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1895)


` المرء كثير بأخيه `.
ضعيف رواه القضاعي (2 / 8 / 1) عن المسيب بن واضح قال: أخبرنا سليمان بن
عمرو النخعي عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة عن أنس بن مالك مرفوعا. قلت
: وهذا سند موضوع، المسيب ضعيف، وشيخه النخعي كذبه غير واحد، وجزم ابن
عدي بأنه وضع على إسحاق هذا حديثا آخر سيأتي بلفظ: ` الناس كأسنان المشط `.
والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع ` لابن أبي الدنيا في ` الإخوان ` عن سهل بن
سعد. وسكت المناوي عن إسناده، وقال: ` ورواه الديلمي والقضاعي عن أنس
. قال شارحه المعامري: وهو غريب `. ثم وقفت على إسناد حديث سهل عند أبي بكر
الشيروي في ` العوالي الصحاح ` (211 / 2) أخرجه من طريق أبي صالح كاتب الليث
: حدثنا الحسن بن الخليل بن مرة: حدثني أبي عن أبي حازم عن سهل بن سعد مرفوعا
به في حديث. قلت: وهذا إسناد ضعيف من أجل أبي صالح، فإنه ضعيف من قبل حفظه
. ومثله بل شر منه الخليل بن مرة، فإنه ضعيف كما في ` التقريب `، وأشار
البخاري إلى تضعيفه جدا بقوله: ` فيه نظر `. وابنه الحسن بن الخليل بن مرة
لم أجد من ذكره، ولم يذكره الحافظ في الرواة عن أبيه الخليل، وإنما ذكر
أخاه علي بن الخليل، ولم أجد له ترجمة أيضا.
‌‌




১৮৯৫। ব্যক্তি তার ভাইয়ের সহযোগিতা ও সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী হয়।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে কাযাঈ (২/৮/১) মুসাইয়্যাব ইবনু অযেহ হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু আমর নাখ'ঈ হতে, তিনি ইসহাক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ত্বলহা হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। কারণ মুসাইয়্যাব দুর্বল আর তার শাইখ নাখ'ঈকে একাধিক ব্যক্তি মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন। আর ইবনু আদী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, ইসহাকের উপর তিনিই অন্য একটি হাদীস জাল করেছেন। যেটি সম্পর্কে আলোচনা আসবে নিম্নের ভাষায়ঃ





(الناس كأسنان المشط) মানুষ চিরুনীর দাতের মত।





হাদিসটিকে সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে ইবনু আবিদ দুনিয়ার `আলইখওয়ান` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উল্লেখ করেছেন। আর মানবী তার সনদের ব্যাপারে চুপ থেকে বলেছেনঃ এটিকে দূলামী ও কাযাঈ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) আবূ বাকর শাইরাজীর “আলআওয়ালীস সিহহাহ” গ্রন্থে (২/২১১) সাহলের হাদীসটির সনদ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। হাদীসটিকে তিনি লাইসের কাতেব আবু সালেহ সূত্রে হাসান ইবনু খালীল ইবনু মুররার হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি হাযেম হতে, তিনি সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি আবু সালেহের কারণে দুর্বল। কারণ তার হেফযের দিক থেকে তিনি দুর্বল। আর খালীল ইবনু মুররাহ তার মতই বরং তার চেয়েও মন্দ বর্ণনাকারী। তিনি দুর্বল যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। ইমাম বুখারী তার খুবই দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তার এ বাণীর দ্বারাঃ তার ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।





আর তার ছেলে হাসান ইবনু খালীল ইবনু মুররাকে কে উল্লেখ করেছেন পাচ্ছি না। হাফিয ইবনু হাজার তাকে তার পিতা খালীল হতে বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। তার ভাই আলী ইবনু খালীলকে উল্লেখ করেছেন। আমি তার জীবনীও পাচ্ছি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1896)


` ليستتر أحدكم في الصلاة بالخط بين يديه، وبالحجر، وبما وجد من شيء، مع أن المؤمن لا يقطع صلاته شيء `.
منكر.
رواه ابن عساكر (2 / 395 / 1) من طريق حمزة بن يوسف إجازة قال
: قال أبو أحمد محمد بن أحمد بن الغطريف: أخبرنا أبي أخبرنا إسحاق بن أبي
عمران الإستراباذي أخبرنا
حيون بن المبارك البصري - بمصر - : أخبرنا محمد بن
عبد الله الأنصاري أخبرنا أبي عن جدي عن أنس مرفوعا. وهذا سند رجال كلهم
ثقات معروفون، غير حيون هذا أورده الذهبي لهذا الحديث، وقال: ` رواته ثقات
غير حيون، والخبر منكر `. والحديث المذكور هو في ` تاريخ جرجان ` لحمزة بن
يوسف السهمي (ص 474 رقم 1073) معلقا كما رواه عنه ابن عساكر: قال أبو أحمد
محمد بن أحمد بن الغطريف … وفي الخط حديث آخر مخرج في ` ضعيف أبي داود ` (
107 - 108) والجملة الأخيرة منه تخالف أحاديث صحيحة، فانظر ` صحيح الجامع `
(7984 - 7978) .
‌‌




১৮৯৬। তোমাদের কেউ যেন সালাতের মধ্যে তার সামনে দাগ দেয়ার দ্বারা, পাথর দ্বারা এবং যা কিছু পাবে তার দ্বারা সুতরাহ্ ব্যবহার করে। যদিও মুমিনের সালাতকে কোন কিছুই ভঙ্গ করতে পারে না।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে ইবনু আসাকির (২/৩৯৫/১) হামযাহ্ ইবনু ইউসুফ সূত্রে আবূ আহমাদ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু গাতরীফ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি ইসহাক ইবনু আবূ ইমরান ইসতারাবাযী হতে, তিনি হাইউন ইবনুল মুবারাক বাসরী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এ সনদের সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য পরিচিত এ হাইউন ছাড়া। তাকে হাফিয যাহাৰী এ হাদীসটির কারণেই উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাইউন ছাড়া সকলে নির্ভরযোগ্য, আর হাদীসটি মুনকার।





সুতরাহ হিসেবে দাগ দেয়ার ব্যাপারে আরেকটি দুর্বল হাদীস “য'ঈফু আবী দাউদ” গ্রন্থে (১০৭-১০৮) তাখরীজ করেছি। এছাড়াও এ হাদীসের শেষাংশ কতিপয় সহীহ হাদীস বিরোধী। দেখুন “সহীহ জামেউস সাগীর” (৭৯৭৮-৭৯৮৪) ।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1897)


` إن في الجنة لعمدا من ياقوته، عليها غرف من زبرجد، تبص كما يبص الكوكب الدري، قلنا: من يسكنها؟ قال: المتحابون في الله عز وجل، والمتلاقون في الله، والمتباذلون في الله، أوكلمة نحوها `.
ضعيف.
رواه الحسين المروزي في زوائد ` الزهد ` لابن المبارك (120 / 2 من
الكواكب ` 575 رقم 1481 ط) والبزار (3592 - الكشف) وتمام في ` الفوائد
(74 / 1 - 2) عن محمد بن أبي حميد عن موسى ابن وردان عن أبي هريرة مرفوعا
. قلت: وهذا إسناد ضعيف من أجل ابن أبي حميد هذا، قال الحافظ في ` التقريب
`: ` ضعيف `. وكذا قال شيخه الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 278) وقد عزاه
للبزار. وأشار المنذري في ` الترغيب ` (4 / 49) إلى أن الحديث ضعيف.
وعزاه في ` المشكاة ` (5026) للبيهقي في ` شعب الإيمان `، وكذا السيوطي في
` الجامع ` قال: ` وابن أبي الدنيا في (كتاب الإخوان) `. ورواه ليث عن
موسى بن وردان به.
قال ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 132) عن أبيه: ` لا
أعلم روى ليث عن موسى بن وردان، وهذا وهم، وهذا الحديث يرويه محمد بن أبي
حميد عن موسى بن وردان، لا أعلم رواه غيره `.
‌‌




১৮৯৭। জান্নাতে ইয়াকূতের এক স্তম্ভ (টাওয়ার) রয়েছে যার উপরে যাবারযাদের তৈরি ঘরসমূহ রয়েছে। তা আলো ছড়ায় যেভাবে আলোকিত গ্রহ আলো ছড়ায়। আমরা বললামঃ কে তাতে বসবাস করবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াস্তে যারা পরস্পরকে ভালোবাসবে তারা, আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াস্তে যারা পরস্পরের সাথে মিলিত হবে তারা, আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াস্তে যারা পরস্পরকে সম্মান দেখাবে তারা। অথবা তিনি অনুরূপ ভাষা ব্যবহার করেন।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে হুসাইন মারওয়াযী ইবনুল মুবারাকের “যাওয়াইদুয যুহদ” গ্রন্থে (২/১২০), বাযযার (৩৫৯২) ও তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (৭৪/১/২) মুহাম্মাদ ইবনু আবু হুমায়েদ হতে, তিনি মুসা ইবনু অরদান হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি ইবনু আবু হুমায়েদের কারণে দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল। তার শাইখ হাইসামী “আলমাজমা” গ্রন্থে (১০/২৭৮) অনুরূপ কথাই বলেছেন এবং তিনি বাযযারের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। মুনযেরী “আততারগীব” গ্রন্থে (৪/৯৪) হাদীসটির দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।





“মিশকাত” গ্রন্থে (৫০২৬) বাইহাকীর “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে সুয়ূতী `আলজামে` গ্রন্থে তাই করেছেন এবং বলেছেনঃ হাদীসটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া “কিতাবুল ইখওয়ান” গ্রন্থে লাইস হতে, তিনি মূসা ইবনু অরদান হতে বর্ণনা করেছেন।





ইবনু আবী হাতিম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/১৩২) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেনঃ আমি জানি না যে, মূসা ইবনু অরদান হতে লাইস বর্ণনা করেছেন। এটি ধারণা মাত্র। কারণ এ হাদীসটিকে মূসা ইবনু অরদান হতে মুহাম্মাদ ইবনু আবু হুমায়েদ বর্ণনা করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে বর্ণনা করেছেন বলে জানি না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1898)


` إن في الجنة نهرا يقال له: رجب، [ماؤه أشد بياضا من اللبن، وأحلى من العسل] ، من صام من رجب يوما واحدا، سقاه الله من ذلك النهر `.
باطل.
رواه أبو محمد الخلال في ` فضل شهر رجب ` (11 / 1) والديلمي (1
/ 2 / 281) والأصبهاني في ` الترغيب ` (224 / 1 - 2) عن منصور بن يزيد
الأسدي: حدثنا موسى بن عمران قال: سمعت أنس بن مالك يقول … ، فذكره
مرفوعا. قلت: وهذا إسناد ضعيف مجهول، موسى بن عمران لم أعرفه، ووقع عند
الديلمي: ` موسى بن عبد الله بن يزيد `. ومنصور بن يزيد قال الذهبي: ` لا
يعرف، والخبر باطل، قرأته … `. ثم ساقه بإسناده إلى منصور به، إلا أنه
وقع فيه: ` موسى بن عبد الله الأنصاري `. والله أعلم. وقد أقره الحافظ في
` اللسان `. وأما في ` تبيين العجب `، فقد قال (ص 5 - 7) : ` لا يتهيأ
الحكم عليه بالوضع `. قلت: ولعله يعني من جهة السند. والله أعلم.
‌‌




১৮৯৮। জান্নাতে একটি নদী আছে তাকে রজাব বলা হয়। তার পানি দুধের চেয়েও বেশী সাদা আর মধুর চেয়েও বেশী মিঠা। যে ব্যক্তি রজাব মাসে এক দিন সওম পালন করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সে নদী হতে পান করাবেন।





হাদীসটি বাতিল।





এটিকে আবু মুহাম্মাদ খাল্লাল “ফাযলু শাহরি রজাব” গ্রন্থে (১/১১), দাইলামী (১/২/২৮১) ও আসবাহানী “আততারগীব” গ্রন্থে (২২৪/১-২) মানসূর ইবনু ইয়াযীদ আসাদী হতে, তিনি মূসা ইবনু ইমরান হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি ... । তিনি মারফু হিসেবে হাদীসটিকে উল্লেখ করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল, মাজহুল। মূসা ইবনু ইমরানকে আমি চিনি না। দাইলামীর নিকট মূসা ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আরেক বর্ণনাকারী মানসূর ইবনু ইয়াযীদ সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না এবং হাদীসটি বাতিল ...।





অতঃপর তিনি তার সনদে মানসূর পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেনঃ মূসা ইবনু আব্দুল্লাহ্ আনসারী।





হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে তাকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি “তাবঈনুল আজাব” গ্রন্থে পৃঃ (৫-৭) বলেনঃ এর উপর বানোয়াটের হুকুম লাগানো যাচ্ছে না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত তা সনদের দিক দিয়ে। আল্লাহই বেশী ভাল জানেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1899)


` الدعاء جند من أجناد الله تبارك وتعالى، مجند يرد القضاء بعد أن يبرم `.
موضوع.
رواه ابن عساكر (7 / 264 / 1 و17 / 324 / 2) عن سلم بن يحيى
الحجراوي: أخبرنا نمير بن الوليد بن نمير بن أوس الأشعري: أخبرنا أبي عن جدي
مرفوعا. وقال:
` هذا مرسل، نمير بن أوس ليست له صحبة، وهو تابعي، وكان
قاضيا بدمشق `. قلت: وهذا إسناد تالف، نمير هذا اتهمه الذهبي بحديثين
ذكرهما له، ونقل عن أبي سعد الماليني أنه قال: ` يقال: إن نميرا تفرد بهذين
الحديثين `. قال الذهبي: ` وهما موضوعان، ونمير ما عرفته، وأما أبو هـ
وجده فمعروفان `. والحديثان المشار إليهما سبقا بلفظ: ` أكرموا الخبز.... `
، و` اللهم متعنا بالإسلام والخبز … `. والحديث أورده السيوطي في `
الجامع الصغير ` من رواية ابن عساكر هذه المرسلة، فقال المناوي: ` ظاهر صنيع
المصنف أنه لم يره مسندا لأحد، وإلا لما عدل لرواية إرساله، وهو ذهو ل، فقد
رواه أبو الشيخ ثم الديلمي من حديث أبي موسى الأشعري `. قلت: ولم يتكلم على
إسنادهما لا المرسل ولا الموصول، والظاهر أن الموصول من طريق نمير أيضا،
والله أعلم. ثم تأكدت مما استظهرته حين رأيت الحديث في ` مسند الديلمي ` (2 /
146) من طريق أبي الشيخ عن نمير بن الوليد به عن جده عن أبي موسى.
‌‌




১৮৯৯। দুয়া হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার সৈন্যদের এক সৈন্য। তাকে এমনভাবে নিযুক্ত করা হয়েছে যে, সে ফয়সালাকে (তাকদীরকে) পরিবর্তন করে তাকে নির্ধারিত করে দেয়ার পরে।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে ইবনু আসাকির (৭/২৬৪/১, ১৭/৩২৪/২) সালাম ইবনু ইয়াহইয়া খাজরাবী হতে, তিনি নুমায়ের ইবনুল অলীদ ইবনু নুমায়ের ইবনু আউস আশ'য়ারী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





তিনি বলেনঃ এটি মুরসাল। নুমায়ের ইবনু আউসের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি একজন তাবেঈ, তিনি দেমাস্কের কাযী ছিলেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত। এ নুমায়েরকে হাফিয যাহাবী তার দু'টি হাদীস উল্লেখ করে মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী করেছেন। আর তিনি আবু সা'দ মালীনীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেনঃ নুমায়ের এ দু'টি হাদীস এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





হাফিয যাহাবী বলেনঃ সে দু'টি বানোয়াট। আর আমি নুমায়েরকে চিনতে পারিনি। তবে তার পিতা এবং তার দাদা পরিচিত। ইঙ্গিত করা তার দু'টি হাদীস হচ্ছেঃ





(أكرموا الخبز....) আর (اللهم متعنا بالإسلام والخبز ...)





আলোচ্য হাদীসটিকে আবুশ শাইখ ও দাইলামী আবূ মুসা আশ'আরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মানবী তাদের দু'জনের সনদের ব্যাপারে কোন কথা বলেননি। না মুরসাল আর না মওসূল কোন ব্যাপারেই নয়। তবে বাহ্যিক অবস্থা এই যে, নুমায়েরের সূত্রটিও মওসূল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।





অতঃপর আমার নিকট তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যখন আমি হাদীসটিকে “মুসনাদুদ দাইলামী” গ্রন্থে (২/১৪৬) দেখলাম যে, আবুশ শাইখ সূত্রে নুমায়ের ইবনুল অলীদ হতে, তিনি তার দাদা হতে আর তিনি আবূ মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1900)


` الخلق كلهم عيال الله، فأحب خلقه إليه، أنفعهم لعياله `.
ضعيف.
روي من حديث أنس بن مالك وعبد الله بن مسعود وأبي هريرة.
1 - أما حديث أنس، فيرويه يوسف بن عطية الصفار عن ثابت عنه مرفوعا. أخرجه ابن
أبي الدنيا في ` قضاء الحوائج ` (ص 77) والمخلص في ` المجلس الأول من
المجالس السبعة ` (48 / 2) والسلفي في ` الطيوريات ` (115 / 1) وكذا
البيهقي
في ` الشعب `، وأبو يعلى والبزار والطبراني والحارث بن أبي أسامة
والعسكري وغيرهم، كما في ` المقاصد الحسنة `. ويوسف هذا متروك كما في `
التقريب `. وقال الذهبي في ` الميزان `: ` مجمع على ضعفه … ومن مناكيره
… `. ثم ساق له أحاديث، هذا أحدها. 2 - وأما حديث ابن مسعود، فيرويه
موسى بن عمير عن الحكم عن إبراهيم عن الأسود بن يزيد عنه مرفوعا به. أخرجه ابن
عدي في ` الكامل ` (ق 324 / 1) وأبو نعيم في ` الحلية ` (2 / 102 و4 / 237
) والخطيب في ` التاريخ ` (6 / 334) وكذا البيهقي في ` الشعب `، وقال ابن
عدي: ` لا أعلم يرويه عن الحكم غير موسى بن عمير، وعامة ما يرويه لا يتابعه
الثقات عليه `. قلت: وقال أبو حاتم: ` ذاهب الحديث، كذاب `. 3 - وأما
حديث أبي هريرة، فيرويه بشر بن رافع عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عنه رفعه
بلفظ: ` الخلق كلهم عيال الله، وتحت كنفه، فأحب الخلق إلى الله من أحسن إلى
عياله `. أخرجه الديلمي. وبشر هذا ضعيف الحديث كما قال الحافظ في ` التقريب
`. وذكره الذهبي في ` الضعفاء والمتروكين `، وقال: ` ليس بحجة `. وقد
ثبت الشطر الثاني من الحديث بلفظ: ` خير الناس أنفعهم للناس `. وهو مخرج في
` الصحيحة ` (427) .
‌‌




১৯০০। সৃষ্টির সবই আল্লাহর পরিবার। তার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সৃষ্টি হচ্ছে তাদের মধ্যে যে তার পরিবারের জন্য বেশী উপকারী।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা), আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করা হয়েছে।





১। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদীস। ইউসুফ ইবনু আতিয়্যাহ সফফার এটিকে সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু আবিদ দুনিয়া `কাযাউল হাওয়াইজ` গ্রন্থে (পৃঃ ৭৭), মুখলিস “আলমাজলিসুল আউয়াল মিনাল মাজালিসিস সাব'আহ” গ্রন্থে (২/৪৮), সিলাফী “আততাউরিয়্যাত” গ্রন্থে (১/১১৫), অনুরূপভাবে বাইহাকী `আশশুয়াব` গ্রন্থে, আবূ ইয়ালা, বাযযার, ত্ববারানী, হারেস ইবনু আবু উসামাহ ও আসকারী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি `আলমাকাসিদুল হাসানাহ` গ্রন্থে এসেছে।





বর্ণনাকারী এ ইউসুফ মাতরূক, যেমনটি “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। হাফিয যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ইজমা হয়েছে ... তার মুনকারগুলোর মধ্যে ....। অতঃপর তিনি তার কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। এটি সেগুলোর একটি।





২। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস। মূসা ইবনু উমায়ের এটিকে হাকাম হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





এটিকে ইবনু আদী “আলকামেল” গ্রন্থে (কাফ ১/৩২৪), আবু নুয়াইম “আলহিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (২/১০২, ৪/২৩৭), খাতীব `আততারীখ` গ্রন্থে (৬/৩৩৪), অনুরূপভাবে বাইহাকী `আশশুয়াব` গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ হাকাম হতে মূসা ইবনু উমায়ের ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানি না। আর তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন নির্ভরযোগ্যগণ তার অধিকাংশের মুতাবা'য়াত করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস, মহা মিথ্যুক।





৩। আবু হুরাইরাহ (রা.)-এর হাদীস। বিশর ইবনু রাফে এটিকে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে, তিনি আবূ সালামাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ





الخلق كلهم عيال الله، وتحت كنفه، فأحب الخلق إلى الله من أحسن إلى عياله





সৃষ্টির সবাই আল্লাহর পরিবার এবং তার হেফাযাতে। তার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সৃষ্টি হচ্ছে তাদের মধ্যে যে তার পরিবারের জন্য ভালো আচরণ করে।





এটিকে দাইলামী বর্ণনা করেছেন। এ বিশর হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল, যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন।





আর হাফিয যাহাবী তাকে `আয যুয়াফা অল মাতরূকীন` গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি দলীল নন। হাদীসটির দ্বিতীয়াংশ নিম্নের বাক্যে সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছেঃ





خير الناس أنفعهم للناس `লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি হচ্ছে সেই যে লোকদের জন্য বেশী উপকারী।` দেখুন `সিলসিলাহ সহীহাহ` (৪২৭)।