হাদীস বিএন


সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ





সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1981)


` من كان سامعا مطيعا فلا يصلين العصر إلا ببني قريظة `.
منكر بهذا السياق.
ذكره ابن هشام في ` السيرة ` (3 / 252) عن ابن إسحاق
، قال: فذكره هكذا معلقا بغير إسناد، والمحفوظ منه الشطر الثاني فقط من حديث
ابن عمر قال: قال لنا النبي صلى الله عليه وسلم لما رجع من الأحزاب:
` لا يصلين أحد العصر إلا في بني قريظة `. أخرجه الشيخان والسياق للبخاري (4119)
. وفي آخره: ` فأدرك بعضهم العصر في الطريق، فقال بعضهم: لا نصلي حتى
نأتيهم. وقال بعضهم: بل نصلي لم يرد منا ذلك. فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه
وسلم، فلم يعنف واحدا منهم `. (تنبيه) : يحتج بعض الناس اليوم بهذا الحديث
على الدعاة من السلفيين وغيرهم الذي يدعون إلى الرجوع فيما اختلف فيه المسلمون
إلى الكتاب والسنة، يحتج أولئك على هؤلاء بأن النبي صلى الله عليه وسلم أقر
خلاف الصحابة في هذه القصة، وهي حجة داحضة واهية، لأنه ليس في الحديث إلا
أنه لم يعنف واحدا منهم، وهذا يتفق تماما مع حديث الاجتهاد المعروف، وفيه
أن من اجتهد فأخطأ فله أجر واحد، فكيف يعقل أن يعنف من قد أجر؟! وأما حمل
الحديث على الإقرار للخلاف فهو باطل لمخالفته للنصوص القاطعة الآمرة بالرجوع
إلى الكتاب والسنة عند التنازع والاختلاف، كقوله تعالى: ` فإن تنازعتم في
شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خيرا
وأحسن تأويلا `. وقوله ` وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله
أمرا أن يكون لهم الخيرة من أمرهم ` الآية. وإن عجبي لا يكاد ينتهي من أناس
يزعمون أنهم يدعون إلى الإسلام، فإذا دعوا إلى التحاكم إليه قالوا: قال عليه
الصلاة والسلام: ` اختلاف أمتي رحمة `! وهو حديث ضعيف لا أصل له كما تقدم
تحقيقه في أول هذه السلسلة، وهم يقرؤون قول الله تعالى في المسلمين حقا: `
إنما كان قول المؤمنين إذا دعوا إلى الله ورسوله ليحكم بينهم أن يقولوا سمعنا
وأطعنا وأولئك هم المفلحون `. وقد بسط القول في هذه المسألة بعض الشيء،
وفي قول أحد الدعاة: نتعاون على ما اتفقنا عليه، ويعذر بعضنا بعضا فيما
اختلفنا فيه، في تعليق لي كتبته على رسالة ` كلمة سواء ` لأحد المعاصرين لم
يسم نفسه! لعله يتاح لي إعادة النظر فيه وينشر.
‌‌




১৯৮১। যে শ্রবণকারী, আনুগত্যকারী সে আসরের সালাত বানু কুরাইযাতে না পৌঁছে আদায় করবে না।





হাদীসটি এভাবে মুনকার।





এটিকে ইবনু হিশাম “আসসীরাহ” গ্রন্থে (৩/২৫২) ইবনু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তিনি এর সনদ ছাড়াই এভাবে উল্লেখ করেছেন। এটির নিরাপদ অংশ হচ্ছে শুধুমাত্র দ্বিতীয় অংশ, যা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আহযাব হতে ফিরে আসেন তখন তিনি আমাদেরকে বলেনঃ “কেউ যেন বানু-কুরাইযায় না পৌঁছে সালাত আদায় না করে।”





এটিকে ইমাম বুখারী, মুসলিম বর্ণনা করেছেন তবে ভাষাটি হচ্ছে ইমাম বুখারীর (৪১১৯)। এ হাদীসের শেষে এসেছে তাদের কেউ কেউ রাস্তাতেই আসরের সালাতের সময় পেয়ে যায়, তখন তাদের কেউ বললঃ তাদের নিকট না পৌছে সালাত আদায় করব না। আর তাদের কেউ বললঃ বরং এখানেই সালাত আদায় করব ... । এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থাপন করা হলে তিনি তাদের কাউকেই কিছু বলেননি।





কেউ কেউ এ হাদীস দ্বারা মতভেদকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমর্থন করেছেন মর্মে দলীল দিয়ে থাকে। কিন্তু এটি একেবারে বাতিল ও দুর্বল কথা। কারণ তারা এ ব্যাপারে ইজতিহাদ করেছিল। এ কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাউকেই দোষারোপ করেননি। আর ইজতিহাদ করে ভুল করলেও একটি সাওয়াবের অধিকারী। অতএব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে সেই ব্যক্তিকে দোষারোপ করবেন যে ইজতিহাদ করে সাওয়াবের অধিকারী হয়েছে। মতভেদকে সমর্থন করা বাতিল এ কারণে যে, তা কুরআনের সূরা নিসার (৫৯) আয়াত ও সূরা আহযাবের (৩৬) নম্বর আয়াতসহ বহু আয়াত বিরোধী।





আবার বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হাদীস দ্বারাও মতভেদ রহমত হিসেবে দলীল দেয়া হয়ে থাকে। বিস্তারিত দেখুন প্রথম খণ্ডের (৫৭) নম্বর হাদীসের ব্যাখ্যা।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1982)


` إن في الجنة سوقا لا شراء فيه ولا بيع إلا الصور من الرجال والنساء، فإذا
اشتهى الرجل صورة دخلها، وفيها مجتمع الحور العين يرفعن أصواتا لم تسمع
الخلائق بمثلهن، يقلن: نحن الناعمات فلا نبأس أبدا، ونحن الخالدات فلا نموت
، ونحن الراضيات فلا نسخط أبدا، فطوبى لمن كان لنا وكنا له `.
ضعيف. رواه الترمذي (2 / 90 - 93) والمروزي في ` زوائد الزهد ` (1487
ورقم




১৯৮২। জান্নাতের মধ্যে একটি বাজার রয়েছে সেখানে পুরুষ ও নারীদের ছবি ছাড়া কিছুই ক্রয়-বিক্রয় হয় না। যখন কোন পুরুষ কোন ছবির ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষিত হয় তখন সে তার মধ্যে প্রবেশ করে। সে ছবির মধ্যে হুরদেরকে একত্রিত করে রাখা হয়েছে, যারা এমন উচু আওয়ায করবে যে, সে আওয়াযের ন্যায় সৃষ্টিকুল কোন আওয়ায শ্রবণ করেনি। তারা বলবেঃ আমরা নেয়ামাত দ্বারা পরিপূর্ণ আমরা কখনও কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নই। আমরা চিরস্থায়িত্বের অধিকারিণী, আমরা মৃত্যু বরণ করব না। আমরা (আল্লাহ্ এবং আমাদের সঙ্গীদের প্রতি) সম্ভষ্ট, কখনও রাগাম্বিত হব না। সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যে আমাদের জন্য আর আমরা যার জন্য।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (২/৯০-৯৩), মারওয়াযী “যাওয়াইদুয যুহুদ’ গ্রন্থে (১৪৮৭), তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/৬৬), সাকাফী “আসসাকাফিয়্যাত” গ্রন্থে (৪/২৯/১) ও যিয়া মাকদেসী `সিফাতুল জান্নাহ` গ্রন্থে (৩/৮১/২) আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক কুরাশী হতে, তিনি নুমান ইবনু সা'দ হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





তিরমিযী হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেনঃ হাদীসটি গারীব।





আমি (আলবানী) বলছিঃ অর্থাৎ এটি দুর্বল। এর সমস্যা হচ্ছে আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক, কারণ তিনি হচ্ছেন দুর্বল। ইমাম নাবাবী, যাইলা'ঈ বর্ণনা করেছেন যে, আলেমগণ তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।





হাদীসটির প্রথম অংশের مجتمع الحور العين এ অংশ ছাড়া জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস হতে শাহেদ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সেটি খুবই দুর্বল যেমনটি হাইসামী “উকূকুল অলেদাইন” গ্রন্থে (৮/১৪৯) ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আর মুনযেরী উভয় হাদীস দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন (৩/২২২, ৪/২৬৬, ২৬৮)। এর ভাষা এবং এ সম্পর্কে আলোচনা (৫৩২৯) নম্বর হাদীসের মধ্যে আসবে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1983)


` سيعزي الناس بعضهم بعضا من بعدي، التعزية بي `.
ضعيف.
رواه ابن سعد (2 / 275) وأبو يعلى (4 / 1824) والطبراني (6 /
166 / 5757) عن موسى بن يعقوب الزمعي قال: أخبرنا أبو حازم بن دينار عن سهل
بن سعد مرفوعا. قال: فكان الناس يقولون: ما هذا؟ فلما قبض رسول الله صلى
الله عليه وسلم لقي الناس بعضهم بعضا يعزي بعضهم بعضا برسول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت: وهذا إسناد رجاله ثقات رجال الشيخين غير موسى بن يعقوب الزمعي،
وقد أورده الذهبي في ` الضعفاء `، وقال: ` قال النسائي وغيره: ليس بالقوي
`. والحديث قال الهيثمي (9 / 38) : ` رواه أبو يعلى والطبراني ورجالهما
رجال الصحيح غير موسى بن يعقوب الزمعي، ووثقه جماعة! `. كذا قال! وقال
الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق سيء الحفظ `.
‌‌




১৯৮৩। আমার পরে অচিরেই লোকেরা তাদের পরস্পরের কাছে আমাকে নিয়ে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করবে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু সা'দ (২/২৭৫), আবু ইয়ালা (৪/১৮২৪) ও ত্ববারানী (৬/১৬৬/৫৭৫৭) মূসা ইবনু ইয়াকুব যাম'ঈ হতে, তিনি আবু হযেম ইবনু দীনার হতে, তিনি সাহল ইবনু সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ লোকেরা বলতঃ এটা কি? অতঃপর রসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মা যখন কবয করা হলো তখন লোকেরা পরস্পরে মিলিত হয়ে পরস্পরকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মূসা ইবনু ইয়াকুব যামঈ ছাড়া এ সনদের বর্ণনাকারীগণ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী, তারা সকলেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাকে হাফিয যাহাবী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ নাসাঈ প্রমুখ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।





হাদীসটি সম্পর্কে হাইসামী (৯/৩৮) বলেনঃ হাদীসটিকে আবূ ইয়ালা ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন আর তাদের দু'জনের বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী একমাত্র মূসা ইবনু ইয়াকুব যাম'ঈ ছাড়া। তাকে একদল নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।





হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী মন্দ হেফযের অধিকারী।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1984)


` إنما تدفن الأجساد حيث تقبض الأرواح `.
ضعيف جدا.

أخرجه ابن سعد (2 / 293) عن إبراهيم بن يزيد عن يحيى بن
بهماه مولى عثمان بن عفان قال: بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، يحيى بن بهماه مجهول، وإبراهيم بن يزيد
، وهو الخوزي، متروك. ولعله يغني عن هذا الحديث الواهي قوله صلى الله عليه
وسلم في شهداء أحد: ` ادفنوا القتلى في مصارعهم `. وهو حديث صحيح مخرج في `
أحكام الجنائز ` (ص 14) .
‌‌




১৯৮৪। শরীরগুলো সেখানেই দাফন করা হবে যেখানে রূহগুলো কবয করা হবে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু সা'দ (২/২৯৩) ইব্রাহীম ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দাস ইয়াহইয়া ইবনু বাহমা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমার নিকট পৌঁছেছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ ইয়াহইয়া ইবনু বাহমা মাজহুল। আর ইবরাহীম ইবনু ইয়াযীদ হচ্ছেন খাওযী, তিনি মাতরূক।





সম্ভবত এ দুর্বল হাদীস হতে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে পারে উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের ব্যাপারে বর্ণিত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী “তোমরা নিহতদেরকে (শহীদদেরকে) তাদের নিহত হওয়ার স্থলেই দাফন কর।” এ হাদীসটি সহীহ, এর তাখরীজ করা হয়েছে “আহকামুল জানায়েয” গ্রন্থে (পৃঃ ১৪)।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1985)


` إن أدنى أهل الجنة منزلة لمن ينظر إلى جنانه وزوجاته ونعيمه وخدمه وسرره، مسيرة ألف سنة، وأكرمهم على الله من ينظر إلى وجهه غدوة وعشية، ثم قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ` وجوه يومئذ ناضرة ` `.
ضعيف.

أخرجه الترمذي (3 / 334 - تحفة) والحاكم (2 / 509 - 510) وأحمد (2 / 13 و64) وأبو يعلى (3 / 1371 و4 / 1376) وأبو عبد الله القطان في
حديثه عن الحسن بن عرفة ` (ق 144 / 1 - 2) وابن الأعرابي في
الرؤية ` (254 / 1) وأبو بكر بن سلمان الفقيه في ` الفوائد المنتقاة ` (16
/ 2 و18 / 1) والخطيب في ` الموضح ` (2 / 9) من طرق عن ثوير بن أبي فاختة
عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال الحاكم
: ` حديث مفسر في الرد على المبتدعة، وثوير، وإن لم يخرجاه، فلم ينقم عليه
غير التشيع `. وتعقبه الذهبي بقوله: ` قلت: بل هو واهي الحديث `. وقال
الترمذي: ` ورواه عبد الملك بن أبجر عن ثوير عن ابن عمر موقوفا، ورواه عبيد
الله الأشجعي عن سفيان عن ثوير عن مجاهد عن ابن عمر قوله، ولم يرفعه `. قلت
: هو عند أحمد من طريق ابن أبجر عن ثوير به مرفوعا. وثوير ضعيف كما في `
التقريب `، فلا يصح الحديث لا مرفوعا ولا موقوفا. وقد أخرجه ابن أبي الدنيا
موقوفا، والبيهقي - يعني في ` البعث ` - مرفوعا وزاد في لفظ له كما في `
الترغيب ` (4 / 249) : ` وإن أفضلهم منزلة لمن ينظر إلى الله عز وجل في وجهه
في كل يوم مرتين `.
‌‌




১৯৮৫। সর্বনিম্ন মর্যাদার জান্নাতীদের মধ্যে হবে সেই ব্যক্তি যে তার বাগিচাগুলো, তার স্ত্রীদের, তার নেয়ামাতরাজী, তার খাদেম ও তার খাটগুলোর দিকে দেখতে থাকবে এক হাজার বছর পথের দূরত্ব পর্যন্ত। আর তাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বেশী মর্যাদার অধিকারী হবে সেই ব্যক্তি যে তার (আল্লাহর) চেহারার দিকে সকাল ও সন্ধ্যা দৃষ্টি দিতে থাকবে। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেনঃ `কতক মুখ সেদিন উজ্জ্বল হবে।`





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (৩/৩৩৪), হাকিম (২/৫০৯-৫০১), আহমাদ (২/১৩, ৬৪), আবু ইয়ালা (৩/১৩৭১, ৪/১৩৭৬), আবু আব্দুল্লাহ কাত্তান `হাদীসুহু আনিল হাসান ইবনু আরাফাহ` গ্রন্থে (কাফ ১৪৪/১-২), ইবনুল আ'রাবী “আররুয়্যাহ” গ্রন্থে (২৫৪/১), আবু বাকর ইবনু সালমান ফকীহ “আলফাওয়াইদুল মুনতাকাত” গ্রন্থে (২/১৬, ১/১৮) ও খাতীব “আলমুওয়াযযিহ” গ্রন্থে (২/৯) বিভিন্ন সূত্রে সুওয়াইর ইবনু আবু ফাখেতাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





হাকিম বলেনঃ বিদ'আতীদের প্রতিবাদে ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীস। আর সুওয়াইর হতে বুখারী ও মুসলিম যদিও বর্ণনা করেননি, তবুও শী’য়া হওয়া ছাড়া তার কোন সমালোচনা করা হয়নি। হাফিয যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ বরং তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।





তিরমিযী বলেনঃ আব্দুল মালেক ইবনু আবজার হাদীসটিকে সুওয়াইর হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ওবাইদুল্লাহ আশজাঈ হাদীসটিকে সুফইয়ান হতে, তিনি সুওয়াইর হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তার কথা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মারফু' বানাননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি ইমাম আহমাদের নিকট ইবনু আবজার সূত্রে সুওয়াইর হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর সুওয়াইর দুর্বল যেমনটি `আততাকরীব` গ্রন্থে এসেছে। অতএব হাদীসটি মারফু এবং মওকুফ কোনভাবেই সহীহ নয়।





ইবনু আবিদ দুনিয়া মওকুফ হিসেবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর বাইহাকী “আলবা'স” গ্রন্থে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তার ভাষায় কিছুটা বৃদ্ধি করেছেন যেমনটি `আততারগীব` গ্রন্থে (৪/২৪৯) এসেছেঃ `তাদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সর্বোত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর চেহারার দিকে প্রতিদিন দু'বার দৃষ্টি দিবে`।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1986)


` إن الكافر ليجر لسانه يوم القيامة فرسخين يتوطأه الناس `.
ضعيف.
رواه الترمذي (3 / 341 - تحفة) وأحمد (2 / 92) وابن أبي
الدنيا في ` كتاب الأهو ال ` (86 / 2) والخطيب (12 / 363) عن أبي العجلان
المحاربي قال: سمعت عبد الله بن عمر يقول: فذكره مرفوعا، وكلهم قالوا:
عن أبي العجلان غير الترمذي فقال: ` عن أبي المخارق `، وقال:
` إنما نعرفه
من هذا الوجه، وأبو المخارق ليس بمعروف `. وقال الذهبي: ` والصواب بدله
عن أبي عجلان، لا يعرف `.
‌‌




১৯৮৬। কাফের ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার দু’ফারসাখ (ছয় মাইল) দীর্ঘ যবানকে টানতে থাকবে লোকেরা যাকে পা দিয়ে দলিত করবে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে তিরমিযী (৩/৩৪১), আহমাদ (২/৯২), ইবনু আবিদ দুনিয়া “কিতাবুল আহওয়াল” গ্রন্থে (২/৮৬) ও খাতীব (১২/৩৬৩) আবুল আজলান মুহারেবী হতে, তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছিঃ তিনি মারফু হিসেবে উল্লেখ করেন। তিরমিযী ছাড়া তারা সকলে বলেছেনঃ আবুল আজলান মুহারিবী হতে, তিনি (তিরমিযী) বলেনঃ আবুল মুখারিক্ব হতে। তিরমিযী বলেনঃ আমরা এটিকে এ সূত্র হতেই চিনি আর আবুল মুখারিক্ব পরিচিত নন।





হাফিয যাহাবী বলেনঃ সঠিক হচ্ছে (তার পরিবর্তে) আবুল আজলান হতে, যাকে চেনা যায় না।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1987)


` أشقى الناس ثلاثة: عاقر ناقة ثمود، وابن آدم الذي قتل أخاه، ما سفك على الأرض من دم إلا لحقه منه لأنه أول من سن القتل `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` الحلية ` (4 / 307 - 308) والواحدي في `
الوسيط ` (1 / 209 / 1) وابن عساكر (14 / 157 / 1) عن محمد بن إسحاق عن
حكيم بن جبير عن سعيد بن جبير عن عبد الله بن عمرو مرفوعا. قلت: وهذا
إسناد ضعيف. من أجل عنعنة ابن إسحاق. وحكيم بن جبير ضعيف كما في ` التقريب `
. وفي ` الفيض `: ` قال الهيثمي وغيره: فيه ابن إسحاق مدلس، وحكيم بن
جبير وهو متروك `. ونقل عنه أنه قال: ` سقط من الأصل: الثالث، والظاهر
أنه قاتل علي كرم الله وجهه كما ورد في خبر رواه الطبراني أيضا `. قلت: الخبر
المشار إليه صحيح، خرجته في الكتاب الآخر (1088) . ثم إن الجملة الأخيرة من
حديث الترجمة قد جاءت في حديث آخر بلفظ: ` لا تقتل نفس ظلما إلا كان على ابن
آدم الأول كفل من دمها، لأنه أول من سن القتل `. أخرجه الشيخان وغيرهما،
وهو مخرج في ` التعليق الرغيب ` (1 / 48) .
(تنبيه) : عزاه السيوطي في `
الجامع الصغير ` و` الكبير ` أيضا (1 / 102) للحاكم في ` المستدرك `، وحتى
الآن لم أعثر عليه فيه، ولا ذكر المناوي موضعه منه، خلافا لعادته. والله أعلم.
‌‌




১৯৮৭। লোকদের মধ্যে বদ নাসীব হচ্ছে তিনজনঃ সামূদের উটনীর পেট কর্তনকারী, আদম (আঃ) এর সেই সন্তান যে তার ভাইকে হত্যা করেছিল, ফলে যমীনের মধ্যে যে রক্তই প্রবাহিত করা হবে তা থেকে (গুনাহের অংশ) তার নিকট পৌঁছবে। কারণ সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন ঘটিয়েছিল।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আবূ নুয়াইম `আলহিলইয়াহ` গ্রন্থে (৪/৩০৭-৩০৮), অহেদী “আলঅসীত” গ্রন্থে (১/২০৯/১) ও ইবনু আসাকির (১৪/১৫৭/১) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক হতে, তিনি হাকীম ইবনু জুবায়ের হতে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। ইবনু ইসহাক কর্তৃক আন আন করে বর্ণিত হওয়ার কারণে। আর হাকীম ইবনু জুবায়ের দুর্বল যেমনটি হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেছেন। আর `আলফায়েয` গ্রন্থে এসেছেঃ হাইসামী প্রমুখ বলেনঃ এর মধ্যে ইবনু ইসহাক রয়েছেন তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। আর হাকীম ইবনু জুবায়ের হচ্ছেন মাতরূক।





তৃতীয় ব্যক্তির কথা মূল হতে ছুটে গেছে, তিনি হচ্ছেন আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে হত্যাকারী। যেমনটি একটি হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে সেটিকেও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছি তার (আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর) দিকে ইঙ্গিত করে বর্ণনাকৃত হাদীসটি সহীহ। এ কারণে আমি সেটিকে অন্য কিতাকে তাখরীজ করেছি `সিলসিলাহ সহীহাহ` (১০৮৮)। আলোচ্য হাদীসটির শেষ বাক্যটি অন্য হাদীসে নিম্নের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে`





“যে আত্মাকেই অন্যায়ভাবে হত্যা করা হবে আদম (আঃ) এর প্রথম ছেলে তার রক্তের গুনাহের ভাগিদার হবে। কারণ সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন ঘটিয়েছিল।”





এটিকে ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন এবং এটির তাখরীজ করা হয়েছে “আততালীকুর রাগীব” গ্রন্থে (১/৪৮)।





সতর্কবাণীঃ সুয়ূতী “আলজামেউস সাগীর” এবং “আলকাবীর” গ্রন্থেও (১/১০২) হাদীসটিকে হাকিমের “আলমুস্তাদরাক” গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত এ গ্রন্থে হাদীসটি আছে বলে অবগত হইনি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1988)


` إن لله ملائكة ترعد فرائصهم من خيفته، ما منهم ملك يقطر دمعه من عينيه إلا وقعت ملكا قائما يصلي، وإن منهم ملائكة سجودا، منذ خلق الله السماوات والأرض، لم يرفعوا رؤسهم ولا يرفعونها إلى يوم القيامة، وإن منهم ركوعا لم يرفعوا رؤوسهم منذ خلق الله السماوات والأرض، فلا يرفعونها إلى يوم القيامة، فإذا رفعوا رؤوسهم، ونظروا إلى وجه الله قالوا: سبحانك ما عبدناك كما ينبغي لك `.
ضعيف.

أخرجه ابن نصر في ` الصلاة ` (46 / 2) عن عباد بن منصور قال:
سمعت عدي بن أرطاة وهو يخطبنا على منبر المدائن قال: سمعت رجلا من أصحاب رسول
الله صلى الله عليه وسلم ما بيني وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم غيره،
يحدثني عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. قلت: وهذا إسناد ضعيف
من أجل عباد بن منصور، قال الحافظ: ` صدوق وكان يدلس، وتغير بآخره `.
‌‌




১৯৮৮। আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের এমন সব ফেরেশতা রয়েছে যাদের হৃদপিণ্ড তার ভয়ে প্রকম্পিত হতে থাকে। তাদের মধ্য হতে কোন এক ফেরেশতা তার চোখ দিয়ে অশ্র ঝরালেই তা এক ফেরেশতার উপর পতিত হয় যে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়রত আছে। তাদের মধ্য হতে এমন সব ফেরেশতা রয়েছে আল্লাহ্ তা'য়ালা যখন থেকে আসমান এবং যমীনকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই তারা সাজদারত আছে। তারা তাদের মাথাগুলো উঠায়নি এবং তারা তা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উঠাবেও না। তাদের মধ্য হতে এমন সব ফেরেশতা রয়েছে যারা রুকূ’ অবস্থায় রয়েছে, আল্লাহ্ তা'য়ালা যখন আসমান এবং যমীনকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই তারা তাদের মাথাগুলোকে উঠায়নি এবং তারা তাদের মাথাগুলো কিয়ামত দিবস পর্যন্ত উঠাবেও না। যখন তারা তাদের মাথাগুলো উঠাবে এবং তারা আল্লাহর চেহারার দিকে দৃষ্টি দিবে তখন তারা বলবে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তোমার জন্য যেরূপ উচিত ছিলো আমরা সেরূপ তোমার এবাদাত করতে পরিনি।





হাদিসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু নাসর “আসসালাত” গ্রন্থে (২/৪৬) আব্বাদ ইবনু মানসুর হতে, তিনি বলেনঃ আমি আদী ইবনু আরত্বাতকে মাদায়েনে মিম্বারে আমাদের সামনে খুৎবাহ দেয়া অবস্থায় শুনেছি তিনি বলেনঃ আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীগণের মধ্য থেকে একজন হতে শুনেছি আমার আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাকে হাদীস বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল আব্বাদ ইবনু মানসূরের কারণে। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, তবে তিনি তাদলীস করতেন। তার শেষ বয়সে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1989)


` ليس الجهاد أن يضرب بسيفه في سبيل الله، إنما الجهاد من عال والديه، وعال ولده، فهو في جهاد، ومن عال نفسه يكفها عن الناس، فهو في جهاد `.
ضعيف.
رواه أبو نعيم في ` الحلية ` (6 / 300 - 301) وعنه ابن عساكر (7 / 144) عن محمد بن علان: أخبرنا أحمد بن محمد القرشي أخبرنا أحمد بن محمد العمي أخبرنا أبو روح سعيد بن دينار أخبرنا الربيع عن الحسن عن أنس بن مالك مرفوعا.
قلت: وهذا سند ضعيف، الربيع هو ابن صبيح، لا الربيع بن وبرة،
وإن توهم بعض الرواة أنه الربيع بن وبرة، كما قال أبو نعيم، وابن صبيح سيء
الحفظ. وسعيد هذا مجهول كما قال أبو حاتم والذهبي وغيرهما. وأحمد بن محمد
العمي لم أعرفه. وأحمد بن محمد القرشي ومحمد بن علان ترجمهما الخطيب في
تاريخه (5 / 12، 3 / 141) ولم يذكر فيهما جرحا ولا تعديلا. والحديث
أورده السيوطي في ` الجامع الصغير ` من رواية ابن عساكر وحده، فتعقبه المناوي
بقوله: ` قضية تصرف المصنف أن هذا لم يره مخرجا لأحد من المشاهير الذين وضع
لهم الرموز، وهو عجب، فقد خرجه أبو نعيم والديلمي باللفظ المزبور عن أنس
المذكور، فكان ينبغي عزوه إليهما معا `. قلت: فشغله التعقب عما هو أهم منه،
وهو بيان علله وضعفه، واقتصر في ` التيسير ` على قوله: ` وإسناده ضعيف `.
‌‌




১৯৮৯। আল্লাহর পথে নিজ তরবারী দ্বারা প্রহার করাটা জিহাদ নয়। বরং যে তার পিতা-মাতার দায়ভার গ্রহণ করেছে এবং তার সন্তানের দায়ভার গ্রহণ করেছে সে জিহাদের মধ্যে রয়েছে। আর যে নিজের ব্যয়ভার গ্রহণ করে নিজেকে লোকদের থেকে বাঁচিয়ে রাখে সে জিহাদের মধ্যে রয়েছে।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে আবু নুয়াইম `আলহিলয়্যাহ্` গ্রন্থে (৬/৩০০-৩০১) ও তার থেকে ইবনু আসাকির (৭/১৪৪) মুহাম্মাদ ইবনু আলান হতে, তিনি আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ কুরাশী হতে, তিনি আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আম্মী হতে, তিনি আবূ রাওহ্ সাঈদ ইবনু দীনার হতে, তিনি রাবী' হতে, তিনি হাসান হতে, তিনি আনাস ইবনু মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। রাবী’ হচ্ছেন ইবনু সবীহ। রাবী' ইবনু অবরাহ নন। যদিও কোন কোন বর্ণনাকারী সন্দেহ করেছেন যে, তিনি হচ্ছেন রাবী' ইবনু অবরাহ। যেমনটি আবু নুয়াইম বলেছেন। আর ইবনু সবীহ হচ্ছেন মন্দ হেফযের অধিকারী।





আর বর্ণনাকারী সাঈদ হচ্ছেন মাজহুল যেমনটি আবু হাতিম, হাফিয যাহাবী প্রমুখ বলেছেন। আর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আমীকে আমি চিনি না। আর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ কুরাশী এবং মুহাম্মাদ ইবনু আলানের জীবনী খাতীব “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৫/১২, ৩/১৪১) উল্লেখ করে তাদের দু’জন সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি।





হাদীসটিকে সুয়ূতী `আলজামেউস সাগীর` গ্রন্থে শুধুমাত্র ইবনু আসাকিরের বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। আর মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ ... লেখকের উচিত ছিল এটা উল্লেখ করা যে, হাদীসটি আবু নুয়াইম ও দাইলামী আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে উক্ত ভাষায় বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি যে সম্পর্কে সুয়ুতীর সমালোচনা করেছেন এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন আর তা হচ্ছে এ হাদীসটির সনদের সমস্যা বর্ণনা করে তার দুর্বলতা প্রকাশ করা। আর তিনি “আততাইসীর” গ্রন্থে শুধুমাত্র বলেছেনঃ এর সনদটি দুর্বল।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1990)


` يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله تعالى، فإن كانوا في القراءة سواء. فأفقههم في
دين الله، فإن كانوا في الفقه سواء فأكبرهم سنا، فإن كانوا في السن سواء
فأصبحهم وأحسنهم وجها، فإن كانوا في الصباحة والحسن - أحسبه قال: سواء -
فأكبرهم حسبا `.
ضعيف جدا. رواه أبو بكر الكلاباذي في ` مفتاح المعاني ` (324 - 325) من
طريق الباغندي حدثنا حفص بن عمر الأيلي حدثنا أبو المقدام وابن أبي ذئب قالا:
حدثنا الزهري عن عروة بن الزبير عن عائشة وأبي هريرة مرفوعا. قلت: وهذا
إسناد واه جدا، حفص بن عمر الأيلي كذبه أبو حاتم وغيره.
وأبو المقدام متروك
، لكنه مقرون بابن أبي ذئب، فالعلة من الأيلي. والحديث منكر بهذه الزيادة:
` فأصبحهم … `، فقد أخرجه مسلم (2 / 123) وغيره من حديث أبي مسعود البدري
مرفوعا نحوه بدون الزيادة، وهو مخرج في ` صحيح أبي داود ` (594) و` إرواء
الغليل ` (494) . نعم قد رويت هذه الزيادة من طرق أخرى عن عائشة وغيرها،
خرجها السيوطي في ` اللآلىء ` (2 / 12) وابن عراق (2 / 103) ومع أنها
كلها معلولة، فليس فيها أيضا: ` … فأكبرهم حسبا `!
‌‌




১৯৯০ । সম্প্রদায়ের (সালাতের) ইমামাত করবে তাদের মধ্যে যে বেশী ভালোভাবে কিতাবুল্লাহ্ পড়তে পারে। যদি কিরাআতের ক্ষেত্রে উভয়ে সমান হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে বেশী ফাকীহ সে (ইমামাত করবে)। যদি ফিকহের ক্ষেত্রে সমান হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে (ইমামাত করবে)। যদি বয়সের ক্ষেত্রে সমান হয় তাহলে তাদের মধ্যে যার চেহারা বেশী উজ্জল এবং বেশী সুন্দর সে (ইমামাত করবে)। যদি উজ্জলতা আর সৌন্দর্যের দিক দিয়ে (আমার ধারণা তিনি বলেনঃ) সমান হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে মর্যাদায় বড় সে (ইমামাত করবে)।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে আবু বাকর কালাবাযী `মিফতাহুল মায়ানী` গ্রন্থে (৩২৪-৩২৫) বাগান্দী সূত্রে হাফস ইবনু উমার উবুল্লী হতে, তিনি আবুল মিকদাম হতে ও ইবনু আবী যিইব হতে, তারা দু’জন যুহরী হতে, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও আবূ হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ হাফস ইবনু উমার উবুল্লীকে আবু হাতেম প্রমুখ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আর আবুল মিকদাম মাতরূক। কিন্তু তিনি ইবনু আবী যিইবের সাথে মিলিত হয়ে বর্ণনা করেছেন। অতএব সমস্যা উবুল্লী হতেই।





হাদীসটি এ বর্ধিত অংশ দ্বারা মুনকার (... فأصبحهم)। ইমাম মুসলিম (২/১৩৩) প্রমুখ আবূ মাসউদ বাদরীর হাদীস হতে বর্ধিত অংশ ছাড়া অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটিকে `সহীহ্ আবী দাউদ` গ্রন্থে (৫৯৪) এবং “ইরওয়াউল গালীল” গ্রন্থে (৪৯৪) তাখরীজ করেছি।





হ্যাঁ, এ বর্ধিত অংশ বিভিন্ন সূত্রে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রমুখ হতে বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলোকে সুয়ূতী “আললাআলী” গ্রন্থে (২/১২) ও ইবনু ইরাক (২/১০৩) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেগুলোর সবগুলোই ক্ৰটিযুক্ত। সেগুলোতে (... فأكبرهم حسبا) এ অংশও নাই।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1991)


` قرأ هذه الآية: ` ذلك ليعلم أني لم أخنه بالغيب `، قال: لما قالها يوسف عليه السلام، قال له جبريل عليه السلام: يا يوسف! اذكر همك، قال: ` وما أبرئ نفسي ` `.
منكر. أخرجه الحاكم في ` تاريخه ` وابن مردويه والديلمي عن أنس رضي
الله عنه مرفوعا. كذا في ` الدر المنثور ` (4 / 23) . وقد وقفت على إسناد
الحاكم. أخرجه من طريقه الديلمي في ` مسند الفردوس ` (2 / 81 / 1) بسنده عن
المؤمل بن إسماعيل: حدثنا حماد عن ثابت عن أنس.. قلت: وهذا إسناد ضعيف علته
المؤمل هذا، قال الحافظ في ` التقريب `: ` صدوق سيء الحفظ `. وقد أورده
الذهبي في ` الميزان `، وحكى أقوال الأئمة فيه، وذكر له حديثا استنكره،
وأعتقد أن هذا الحديث من مناكيره أيضا لأنه مع ضعفه قد خالف الثقات في رفعه،
فقد رواه عفان بن مسلم وزيد بن حباب فقالا: عن حماد بن سلمة عن ثابت عن الحسن
: فذكره موقوفا عليه مقطوعا. والحسن هو البصري. أخرجه ابن جرير الطبري في `
تفسيره ` (6 / 145 - شاكر) .
وأخرج نحوه عن سعيد بن جبير وأبي الهذيل نحوه
موقوفا. وهذا هو الصواب: الوقف، ورفعه باطل، فإنه مخالف لسياق القصة في
القرآن الكريم، فقد ذكر الله تعالى عن الملك أنه: ` قال ما خطبكن إذ راودتن
يوسف عن نفسه قلن حاش لله ما علمنا عليه من سوء. قالت امرأة العزيز الآن حصحص
الحق أنا راودته عن نفسه وإنه لمن الصادقين. ذلك ليعلم (تعني الملك) أني لم
أخنه بالغيب وأن الله لا يهدي كيد الخائنين. وما أبرئ نفسي إن النفس لأمارة
بالسوء إلا ما رحم ربي إن ربي غفور رحيم `. فقوله: ` وما أبرئ نفسي ` هو
من تمام كلام امرأة العزيز، وهو الذي رجحه شيخ الإسلام ابن تيمية، وتبعه
ابن كثير في ` تفسيره ` فراجعه إن شئت.
‌‌




১৯৯১। তিনি এ আয়াত পাঠ করেন “আমার উদ্দেশ্য এই যে, সে (অর্থাৎ আযীয) যেন জানতে পারে যে, ভার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি”। তিনি বলেন যখন ইউসুফ (আঃ) সেটি বলেন (পাঠ করেন), তখন জিবরীল (আঃ) তাকে বললেনঃ হে ইউসুফ! তুমি তোমার উদ্বেগের কথা বল। তখন তিনি বলেনঃ “আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না।





হাদীসটি মুনকার।





এটিকে হাকিম তার তারীখ গ্রন্থে ইবনু মারদুবিয়্যাহ দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (২/৮১/১) তার সনদে মুয়াম্মিল ইবনু ইসমাঈল হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ এ মুয়াম্মিল। হাফিয ইবনু হাজার `আততাকরীব` গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী তবে ক্রটিপূর্ণ হেফযের অধিকারী।





হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ইমামগণের মতামত নকল করে তার একটি মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন। আমার বিশ্বাস এ হাদীসটি তার মুনকারগুলোরই একটি। কারণ তিনি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও হাদীসটিকে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন। এটিকে আফফান ইবনু মুসলিম ও যায়েদ ইবনু হুবাব বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে, তিনি সাবেত হতে, তিনি হাসান হতে। তিনি হাদীসটিকে মওকুফ মাকতু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হাসান হচ্ছেন বাসরী।





এটিকে ইবনু জারীর ত্ববার তার “তাফসীর” গ্রন্থে (৬/১৪৫) বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং আবু হুযাইল(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই হচ্ছে সঠিক। অর্থাৎ মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করাই হচ্ছে সঠিক আর মারফু হিসেবে বর্ণনা করাটা হচ্ছে বাতিল। কারণ কুরআনের মধ্যে উল্লেখ করা ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিরোধী। বাদশার উদ্ধৃতিতে আল্লাহ্ তা'য়ালা উল্লেখ করেছেন যে,





قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُنَّ يُوسُفَ عَنْ نَفْسِهِ قُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِنْ سُوءٍ قَالَتِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَاوَدْتُهُ عَنْ نَفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ٭ ذَٰلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِينَ ٭ وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ





`রাজা মহিলাদের জিজ্ঞেস করল– তোমরা যখন ইউসুফকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলে তখন তোমাদের কী হয়েছিল?’ তারা বলল, “আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন। আমরা তার মাঝে কোন দোষ দেখতে পাইনি। আযীযের স্ত্রী বলল, “এখন সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়েছে, আমিই তাকে ভুলাতে চেষ্টা করেছিলাম, নিশ্চয়ই সে ছিল সত্যবাদী।’ ইউসুফ বলল, “আমার উদ্দেশ্য এই যে, সে (অর্থাৎ আযীয) যেন জানতে পারে যে, তার অনুপস্থিতিতে আমি তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিনি আর আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের কৌশলকে অবশ্যই সফল হতে দেন না।’ সে বলল, “আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, নফস্ তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করতেই থাকে, আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। আমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।” [সূরা ইউসুফঃ৫১- ৫৩]





وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي এ বাক্যটি হচ্ছে আযীযের স্ত্রীর। আর এটিকে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ অগ্রাধিকার দিয়েছেন আর ইবনু কাসীর তার অনুসরণ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1992)


` إن مريم سألت الله عز وجل أن يطعمها لحما ليس فيه دم، فأطعمها الجراد `.
ضعيف.
رواه العقيلي في ` الضعفاء ` (435) وتمام في ` الفوائد ` (98 / 1) والضياء في ` المنتقى من مسموعاته بمرو` (89 / 2) وابن عساكر (19 / 267 / 2) عن حفص بن عمر أبي عمر المازني: حدثنا النضر بن عاصم أبو عباد
الهجيمي عن قتادة عن محمد ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه
وسلم: أنه سئل عن الجراد؟ فقال: فذكره. وقال العقيلي: ` النضر بن عاصم لا
يتابع عليه، ولا يعرف إلا به `. وقال الأزدي: ` متروك الحديث `. قال
الذهبي: ` وله إسناد آخر `.
قلت: ثم ساقه من طريق أبي الفضل بن عساكر عن
أبي عتبة الحمصي حدثنا بقية بن الوليد حدثنا نمير بن يزيد القيني عن أبيه:
سمعت أبا أمامة الباهلي يقول: فذكره مرفوعا، وزاد: فقلت: اللهم أعشه بغير
رضاع، وتابع بنيه بغير شياع. فقلت (القائل هو الذهبي) : يا أبا الفضل (
يعني ابن عساكر شيخه) : ما الشياع؟ قال: الصوت. قال الذهبي: ` فهذا
الإسناد على ركاكة متنه أنظف من الأول، ويريبني فيه هذا الدعاء، فإنها ما
كانت لتدعوبأمر واقع، وما زال الجراد بلا رضاع ولا شياع! `. قال الحافظ:
` وهذا الإشكال غير مشكل لجواز أن يكون الجراد ما كان موجودا قبل `! قلت:
وحفص بن عمر المازني في الطريق الأول لم أعرفه، وفي الطريق الثاني أبو عتبة
الحمصي، واسمه أحمد بن الفرج قال الذهبي: ` ضعفه محمد بن عوف الطائي، قال
ابن عدي: لا يحتج به هو وسط، وقال ابن أبي حاتم: محله الصدق، ونمير بن
يزيد القيني قال الذهبي: ` قال الأزدي: ليس بشيء، قلت: تفرد عنه بقية `.
قلت: فهو مثل النضر بن عاصم، فلا أدري ما وجه قول الذهبي في السند أنه أنظف
من الإسناد الأول! والطريق الثاني أخرجه ابن قتيبة في ` غريب الحديث ` (1 / 103 / 2) من طريق عمرو بن عثمان عن بقية به. وعمرو هذا صدوق، وقد تابعه
عيسى بن المنذر عند الحربي في ` الغريب ` (5 / 106 / 1 - 2) فقد برئت من
الحديث عهدة أبي عتبة، وانحصرت الشبهة في بقية أوفي شيخه نمير، والله أعلم.
‌‌




১৯৯২। মারইয়াম আল্লাহর নিকট চেয়েছিলেন যে, তাকে যেন এমন গোশত খাওয়ানো হয় যার মধ্যে রক্ত নেই। তখন তাকে জারাদ খাওয়ানো হয়েছিল।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ওকাইলী “আযযুয়াফা” গ্রন্থে (৪৩৫), তাম্মাম “আলফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/৯৮), যিয়া `আলমুন্তাকা মিন মাসমূয়াতিহি বিমারু` গ্রন্থে (২/৮৯) ও ইবনু আসাকির (১৯/২৬৭/২) হাফস ইবনু উমার আবূ উমার মাযেনী হতে, তিনি নাযর ইবনু আসেম আবূ আব্বাদ হুজাইমী হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেনঃ তাকে জারাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি উত্তরে বলেনঃ ...।





ওকাইলী বলেনঃ নাযর ইবনু আসেমের মুতাবায়াত করা হয়নি আর হাদীসটি একমাত্র তার মাধ্যমেই চেনা যায়। আযদী বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার আরেকটি সনদ রয়েছে।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি আবুল ফাযল ইবনু আসাকির সূত্রে আবূ উতবাহ হিমসী হতে, তিনি বাকিয়্যাহ ইবনুল অলীদ হতে, তিনি নুমায়ের ইবনু ইয়াযীদ কাইনী হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবূ উমামাহ্ বাহেলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেনঃ ... তিনি মারফু' হিসেবে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। আর বৃদ্ধি করে বলেছেনঃ তিনি (মারইয়াম) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি তাকে -জারাদকে- (মায়ের) দুধ ছাড়া জীবন ধারণ করার তাওফীক দান কর, আর তার সন্তানদের শব্দ ছাড়া অনুসরণ কর। হাফিয যাহাবী বলেন, আমি বললামঃ হে আবুল ফাযল (অর্থাৎ তার শাইখ ইবনু আসাকির) শিইয়া' কি? তিনি বললেনঃ শব্দ। হাফিয যাহাবী বলেনঃ এ সনদটির ভাষার মধ্যে বক্রতা থাকা সত্ত্বেও এটি বেশী পরিষ্কার প্রথমটির চেয়ে। এ ব্যাপারে আমাকে সন্দেহে ফেলেছে এ দু'য়াটি। আর তিনি ঘটে যাওয়া ব্যাপারে দুয়া করবেন তা হতে পারে না। কারণ জারাদ দুগ্ধ পানও করে আবার শব্দও করে না।





হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ এ প্রশ্ন কঠিন নয়। কারণ হতে পারে পূর্বে জারাদ ছিল না।





আমি (আলবানী) বলছিঃ প্রথম সূত্রের হাফস ইবনু উমার মাযেনীকে আমি চিনি না। আর দ্বিতীয় সূত্রের আবু উতবাহ হিমসীর নাম হচ্ছে আহমাদ ইবনু ফারাজ, তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তাকে মুহাম্মাদ ইবনু আউফ ত্বাঈ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না ... । ইবনু আবী হাতেম বলেনঃ তার অবস্থান সত্যবাদী হিসেবে। আর নুমায়ের ইবনু ইয়াযীদ কাইনী সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ আযদী বলেনঃ তিনি কিছুই না। আমি (যাহাবী) বলছিঃ তিনি উতবাহ হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি নাযর ইবনু আসেমের মত। আমি জানি না, হাফিয যাহাবীর এরূপ কথার ব্যাখ্যা কি যে, প্রথমটির সনদের চেয়ে এটি বেশী পরিষ্কার! দ্বিতীয় সূত্রটিকে ইবনু কুতাইবাহ “গারীবুল হাদীস” গ্রন্থে (১/১০৩/২) আমর ইবনু উসমান সূত্রে বাকিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেছেন। আর আমর হচ্ছেন সত্যবাদী। আর ঈসা ইবনুল মুনযির তার মুতাবায়াত করেছেন হারবীর নিকট তার “আলগারীব” গ্রন্থে (৫/১০৬/১-২) অতএব হাদীসটি আবূ উতবার সমস্যা হতে মুক্ত। ফলে সমস্যর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাকিয়্যাহ অথবা তার শাইখ নুমায়ের রয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহই বেশী জানেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1993)


` لقد رأيت الملائكة تغسل حمزة `.
ضعيف.

أخرجه ابن سعد في ` الطبقات ` (3 / 16) : أخبرنا محمد بن عبد الله
الأنصاري قال: حدثني أشعت قال: سئل الحسن: أيغسل الشهداء؟ قال: نعم،
قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد صحيح
مرسل، رجاله كلهم ثقات رجال البخاري غير أشعث، وهو ابن عبد الملك الحمراني،
وهو ثقة، لكنه مرسل، فإن الحسن هو البصري، ولكنه من أقوى المراسيل، لأن
مرسله قد احتج به كما ترى، فهو عنده صحيح قطعا، ولكن ذلك مما لا يحملنا على
اعتقاد صحته، لجهالة الواسطة بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم على ما هو
مقرر في علم المصطلح، لاسيما وهو معروف بالرواية عن الضعفاء والتدليس عنهم،
فقد حدث مرة بحديث حدثه به علي بن زيد بن جدعان، ثم لما حدث به لم يذكر أنه
تلقاه عن ابن جدعان! وكأنه لذلك قال الدارقطني: ` مراسيله فيها ضعف `. نعم
، قد رواه مسندا معلى بن عبد الرحمن الواسطي حدثنا عبد الحميد بن جعفر حدثنا
محمد بن كعب القرظي عن ابن عباس قال: ` قتل حمزة بن عبد المطلب عم رسول الله
صلى الله عليه وسلم جنبا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: غسلته الملائكة
`. أخرجه الحاكم (3 / 195) وقال: ` صحيح الإسناد `. قلت: لكن رده الذهبي
بقوله: ` قلت: معلى هالك `. وأورده في ` الضعفاء `، وقال `: ` قال
الدارقطني: كذاب `.
‌‌




১৯৯৩। আমি ফেরেশতাদেরকে হামযাকে গোসল করাতে দেখেছি।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ইবনু সা'দ “আতত্ববাকাত” গ্রন্থে (৩/১৬), মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ্ আনসারী হতে, তিনি আশয়াস হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ হাসানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, শাহীদদেরকে কি গোসল করানো হয়? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি আরো বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি সহীহ তবে মুরসাল। আশায়াস ছাড়া বর্ণনাকারীগণ সকলে নির্ভরযোগ্য, ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারী। তিনি হচ্ছেন ইবনু আব্দুল মালেক হুমরানী, তিনি নির্ভরযোগ্য তবে হাদীসটি মুরসাল। হাসান হচ্ছেন বাসরী আর তার মুরসালগুলো শক্তিশালী। কারণ তার মুরসাল দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হয়েছে যেমনটি দেখছেন। এটি তার নিকট নিঃসন্দেহে সহীহ। কিন্তু তা আমাদের মাঝে হাদীসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস জন্মায় না। হাদীস শাস্ত্রের নীতির কারণে- তার এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝের ব্যক্তি অজ্ঞাত হওয়ায়। এছাড়াও হাসান বাসরী দুর্বলদের থেকে বর্ণনা করা এবং তাদের থেকে তাদলীস করার ব্যাপারে পরিচিত। তিনি একবার আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জাদ'য়ান হতে বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি যখন পুনরায় হাদীসটি বর্ণনা করেন তখন তিনি স্মরণ রাখতে পারেননি যে, তিনি হাদীসটি ইবনু জাদ'য়ান হতে গ্রহণ করেছেন!





এ কারণেই দারাকুতনী বলেনঃ তার মুরসালগুলোর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।





হ্যাঁ, হাদীসটিকে মুসনাদ হিসেবে মুয়াল্লা ইবনু আব্দুর রহমান অসেতী বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামীদ ইবনু জা’ফার হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযী হতে, তিন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে, তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হামযাহ ইবনু আব্দুল মুত্তালিবকে জুনবী অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে ফেরেশতারা গোসল করিয়েছেন।





এটিকে হাকিম (৩/১৯৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ সনদটি সহীহ।





আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু হাফিয যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ মুয়াল্লা হালেক (ধ্বংসপ্রাপ্ত)।





তিনি তাকে “আযযুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ তিনি বড়ই মিথ্যুক।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1994)


` ما أخاف على أمتي إلا ضعف اليقين `.
ضعيف.

أخرجه ابن نصر في ` الصلاة ` (172 / 1) والبخاري في ` التاريخ `
(3 / 1 / 264) وابن أبي الدنيا في ` اليقين ` (ق 2 / 1) والكلاباذي في `
مفتاح المعاني ` (234 / 1) وابن عساكر (14 / 375 / 1) من طريق سعيد بن أبي
أيوب عن عبد الرحمن بن بزرج سمع أبا هريرة يقول: قال رسول الله صلى الله
عليه وسلم: فذكره. قلت: وهذا إسناد رجاله ثقات غير عبد الرحمن بن بزرج،
فأورده ابن أبي حاتم (2 / 2 / 216) من رواية سعيد هذا وابن لهيعة عنه، ولم
يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وكذلك صنع البخاري. وأما ابن حبان، فذكره في `
الثقات ` (5 / 95) .
‌‌




১৯৯৪। আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে দুর্বল ইয়াকীন ছাড়া অন্য কিছুর ব্যাপারে ভয় করি না।





হাদীসটি দুর্বল।





হাদীসটিকে ইবনু নাসর “আসসালাত” গ্রন্থে (১/১৭২), বুখারী “আততারীখ” গ্রন্থে (৩/১/২৬৪), ইবনু আবিদ দুনিয়া `আলইয়াকীন` গ্রন্থে (কাফ ১/২), কালাবাযী “মিফতাহুল মায়ানী” গ্রন্থে (১/২৩৪) ও ইবনু আসাকির (১৪/৩৭৫/১) সাঈদ ইবনু আবু আইউব সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনু বুযুরজ হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আব্দুর রহমান ইবনু বুযুরজ ছাড়া এ সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাকে ইবনু আবী হাতেম (২/২/২১৬) এ সাঈদ এবং ইবনু লাহীয়ার বর্ণনায় উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই বলেননি। ইমাম বুখারীও তাই করেছেন।





আর ইবনু হিব্বান তাকে “আসসিকাত” গ্রন্থে (৫/৯৫) উল্লেখ করেছেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1995)


` اتقوا محاش النساء `.
ضعيف جدا.
الديلمي (1 / 1 / 45) عن عبد الرحمن بن إبراهيم: حدثنا ابن
أبي فديك عن علي بن أبي علي عن محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا. بيض له
الحافظ، وإسناده ضعيف، علي هذا وهو اللهبي المدني: ` قال أحمد: له مناكير
. وقال أبو حاتم والنسائي: متروك. وقال ابن معين: ليس بشيء `. كذا في
` الميزان `، وساق له من مناكيره أحاديث هذا أحدها.
‌‌




১৯৯৫। তোমরা নারীদের সংস্পর্শ হতে বেঁচে থাক।





হাদীসটি খুবই দুর্বল।





এটিকে দাইলামী (১/১/৪৫) আব্দুর রহমান ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি ইবনু আবী ফুদায়েক হতে, তিনি আলী ইবনু আবূ আলী হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





হাফিয ইবনু হাজার এর জন্য সাদা স্থান ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ এর সনদটি দুর্বল। আর এ আলী হচ্ছেন লাহবী মাদানী। তার সম্পর্কে আহমাদ বলেনঃ তার কতিপয় মুনকার রয়েছে। আবু হাতিম ও নাসাঈ বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। “আলমীযান” গ্রন্থে এরূপই এসেছে। তিনি তার কতিপয় মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন এটি সেগুলোর একটি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1996)


` أثبتكم على الصراط أشد حبا لأهل بيتي وأصحابي `.
موضوع.
الديلمي (1 / 1 / 84) من طريق أبي نعيم عن الحسين بن علان:
حدثنا أحمد بن حماد بن سفيان حدثنا الحسين بن حمران. حدثنا القاسم بن بهرام عن
جعفر بن محمد عن أبيه عن علي مرفوعا.
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، القاسم
بن بهرام قال الذهبي: ` له عجائب عن ابن المنكدر، وهاه ابن حبان وغيره `.
والحسين بن حمران ومن دونه لم أعرفهم، لكن قال في ` الفيض `: ` وهو ضعيف،
وسببه أن فيه الحسين بن علان، قال في ` اللسان ` عن أصله كابن الجوزي: وضع
حديثا عن أحمد بن حماد `. قلت: ولم أجد هذا في ` اللسان `، ولا في أصله `
الميزان `، ولا في ` الموضوعات ` لابن الجوزي. فالله أعلم. ثم وجدته في ` (
الحسن بن علان) - ` اللسان ` (2 / 221) . ومن عجائبه - أعني المناوي - أنه
ينقل اتهام ابن علان بالوضع، ثم يقتصر على تضعيف الحديث كما رأيت، وكذا في
كتابه الآخر: ` التيسير `! وللحديث طريق أخرى عن جعفر بن محمد به. وفيه
متهم عند ابن عدي (6 / 2303) وهو ابن الأشعت المتقدم تحت الحديث (1795)
ولم يتكلم المناوي عليها بشيء!
‌‌




১৯৯৬। তোমাদের মধ্যে পুলসিরাতের উপর বেশী স্থিতিশিলতা অর্জন করবে সেই ব্যক্তি যে আমার আহলেবাইত এবং আমার সাথীগণকে বেশী ভালোবাসবে।





হাদীসটি বানেয়াট।





এটিকে দাইলামী (১/১/৮৪) আবূ নুয়াইম সূত্রে হুসাইন ইবনু আলান হতে, তিনি আহমাদ ইবনু হাম্মাদ ইবনু সুফইয়ান হতে, তিনি হুসাইন ইবনু হুমরান হতে, তিনি কাসেম ইবনু বাহরাম হতে, তিনি জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি খুবই দুর্বল। কাসেম ইবনু বাহরাম সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ ইবনুল মুনকাদির হতে বর্ণিত তার আজব আজব বিষয় রয়েছে। ইবনু হিব্বান প্রমুখ তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর হুসাইন ইবনু হুমরান এবং তার নিচের বর্ণনাকারীদেরকে আমি চিনি না। তবে মানবী `আলফায়েয” গ্রন্থে বলেনঃ এটি দুর্বল। এর কারণ এর মধ্যে হুসাইন ইবনু আলান রয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার `আললিসান` গ্রন্থে তার মূলের উদ্ধৃতিতে বলেন যেমন ইবনুল জাওযী; তিনি আহমাদ ইবনু হাম্মাদের উদ্ধৃতিতে একটি হাদীস জাল করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ `আললিসান` গ্রন্থে এটি আমি পাচ্ছি না। “আলমীযান” গ্রন্থেও পাচ্ছি না, ইবনুল জাওযীর `আলমাওযুয়াত` গ্রন্থেও পাচ্ছি না। আল্লাহই বেশী জানেন। অতঃপর আমি উক্ত কথা হাসান ইবনু আলানের ব্যাপারে `আললিসান` গ্রন্থে (২/২২১) পেয়েছি।





মানবীর আজব ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তিনি ইবনু আলানকে জাল করার দোষে দোষী এ বিষয়টি নকল করার পরেও তিনি শুধুমাত্র হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন যেমনটি দেখছেন। অনুরূপভাবে তিনি তার `আততায়সীর` গ্রন্থেও একই কারবার করেছেন।





হাদীসটির জাফর ইবনু মুহাম্মাদ হতে আরেকটি সূত্র রয়েছে। যার মধ্যে ইবনু আদীর নিকট অপবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি (৬/২৩০৩) হচ্ছেন ইবনুল আশয়াস। যার সম্পর্কে (১৭৯৫) নম্বর হাদীসের মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু মানবী এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1997)


` اثنان لا ينظر الله إليهما يوم القيامة، قاطع الرحم وجار السوء `.
موضوع.
الديلمي (1 / 1 / 85) عن أحمد بن داود عن محمد بن مهدي البصري عن
أبيه عن أبان عن أنس مرفوعا. قلت: هذا إسناد موضوع، أبان - وهو ابن أبي
عياش - كذبه شعبة، وقال: ` لأن يزني الرجل خير من أن يروي عن أبان `. وقال
ابن حبان: ` روى عن أنس أكثر من ألف وخمسمائة حديث، ما لكبير شيء منها أصل
يرجع إليه ` ومحمد بن مهدي، لم أعرفه. وأبو هـ مهدي، هو ابن هلال البصري،
كذبه يحيى بن سعيد، وقال ابن معين:
` يضع الحديث `. وأحمد بن داود إن كان
ابن عبد الغفار الحراني المصري، أوابن أخت عبد الرزاق، فكلاهما متهم بالكذب
. فالأول كذبه الدارقطني وغيره، وذكر له الذهبي من أكاذيبه أحاديث. والآخر
قال أحمد: كان من أكذب الناس.
‌‌




১৯৯৭। দু’ব্যক্তির দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'য়ালা তাকাবেন না। রেহেমের (রক্তের) সম্পর্ক ছিন্নকারী আর মন্দ প্রতিবেশী।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে দাইলামী (১/১/৮৫) আহমাদ ইবনু দাউদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু মাহদী বাসরী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবান হতে, তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। আবান হচ্ছেন ইবনু আবী আইয়্যাশ, শুবা তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ ব্যক্তি কর্তৃক যেনা করা বেশী ভালো আবান হতে বর্ণনা করার চেয়ে। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে এক হাজার পাঁচশতটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। যেগুলোর বড় অংশের এমন ভিত্তি নেই যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায়।





আর মুহাম্মাদ ইবনু মাহদীকে আমি চিনি না। আর তার পিতা মাহদী হচ্ছেন ইবনু হিলাল বাসরী। তাকে ইয়াহইয়াহ ইবনু সাঈদ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আর ইবনু মাঈন বলেছেনঃ তিনি হাদীস জালকারী।





আর আহমাদ ইবনু দাউদ যদি ইবনু আব্দুল গাফফার হাররানী মিসরী হন অথবা আব্দুর রাযযাকের বোনের ভাই হন তাহলে তারা উভয়েই মিথ্যা বর্ণনা করার দোষে দোষী। প্রথমজনকে দারাকুতনী প্রমুখ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আর হাফিয যাহাবী তার কতিপয় মিথ্যা হাদীস উল্লেখ করেছেন। আর দ্বিতীয়জন সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় মিথ্যুক ছিলেন।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1998)


` أحبكم إلى الله تعالى أقلكم طعما، وأخفكم بدنا `.
ضعيف.
الديلمي (1 / 1 / 86) عن حفص بن عمر الفقيه الزاهد: حدثنا أبو
بكر ابن عياش عن عباد عن عكرمة عن ابن عباس مرفوعا. قلت: وهذا إسناد
ضعيف، عباد هو ابن منصور الناجي ضعيف مدلس. وحفص بن عمر الفقيه الزاهد لم
أعرفه. وقد أبعد المناوي النجعة، فضعف الحديث بأبي بكر بن عياش، وهو ممن
احتج به البخاري! فقال: ` ومن ثم رمز المؤلف لضعفه `! وهو خطأ مزدوج، فإن
الحديث لا يعل بمن احتج به البخاري، وبخاصة إذا كان شيخه ضعيفا، ولا يجوز
أن ينسب مثل هذا الإعلال إلى مثل السيوطي! ثم أفاد أنه رواه الحاكم في
` تاريخه `، ثم أخطأ مرة أخرى فأطلق العزوللحاكم في ` تيسيره `، فأوهم أنه
في ` مستدركه `!
‌‌




১৯৯৮। তোমাদের মধ্য থেকে আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা ভালোবাসার পাত্র হচ্ছে সেই তোমাদের যে কম ভক্ষণ করে এবং তোমাদের মধ্যে যে সর্বাপেক্ষা হালকা শরীরের অধিকারী।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে দাইলামী (১/১/৮৬) হাফস ইবনু উমার ফাকীহ আযযাহেদ হতে, তিনি আবু বাকর ইবনু আইয়্যাশ হতে, তিনি আব্বাদ হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি দুর্বল। আব্বাদ হচ্ছেন ইবনু মানসূর নাজী, তিনি দুর্বল এবং মুদাল্লিস।





আর হাফস ইবনু উমার ফাকীহ আযযাহেদকে আমি চিনি না।





মানবী হাদিসটিকে আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ দ্বারা দুর্বল আখ্যা দিয়ে এক অশুদ্ধ দূরবর্তী কথা বলেছেন। অথচ ইমাম বুখারী তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি (মানবী) বলেনঃ এ কারণেই মুসান্নিফ হাদীসটি দুর্বল হওয়ার চিহ্ন ব্যবহার করেছেন। এটি ডবল ভুল। কারণ যার দ্বারা ইমাম বুখারী দলীল গ্রহণ করেছেন তার দ্বারা হাদীসটির সমস্যা বর্ণনা করা যায় না। আর দ্বিতীয় ভুলটি এই যে, তিনি তার “আততাইসীর” গ্রন্থে হাকিমের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যা থেকে সন্দেহ হতে পারে যে, তিনি এটিকে তার “আলমুসতাদরাক” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অথচ এটি রয়েছে তার “তারীখ” গ্রন্থে।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (1999)


` احذروا الشهرتين: الصوف والحمرة `.
موضوع.
الديلمي (1 / 1 / 21) عن محمد بن الحسين السلمي: أخبرنا الحسين
ابن أحمد الصفار حدثنا أحمد بن عيسى الوشا حدثنا الربيع بن سليمان حدثنا أسد بن
موسى حدثنا سفيان عن معمر عن الزهري عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة
مرفوعا. بيض له الحافظ، وأحمد بن عيسى الوشا لم أعرفه، ويحتمل أن يكون هو
التستري المصري الحافظ، وهو كما قال الذهبي: ` موثق `! مع كونه من رجال
الشيخين! لكن الراوي عنه الحسين بن أحمد الصفار، قال الحاكم: ` كذاب لا
يشتغل به `. ومحمد بن الحسين السلمي هو أبو عبد الرحمن الصوفي. قال الذهبي:
تكلموا فيه، وليس بعمدة. وفي القلب مما يتفرد به `. وقال الخطيب:
قال لي محمد بن يوسف القطان: كان يضع الأحاديث للصوفية `. قلت: فأنا أخشى أن
يكون هذا من وضعه إن سلم من شيخه! قلت: مع كل هذه الآفات في إسناد هذا الحديث
، فقد أورده السيوطي في ` الجامع الصغير ` وفي ` الجامع الكبير ` أيضا، وكان
فيه أقرب إلى الصواب لأنه قال: ` وضعف `! فرده المناوي بقوله: ` وفيه أحمد
بن الحسين الصفار، كذبوه `. كذا وقع فيه على القلب، ولم تتنبه له اللجنة
القائمة على ` الجامع الكبير `، فنقلته عنه مقلوبا، والصواب ` الحسين بن
أحمد الصفار `، كما سبق.
‌‌




১৯৯৯। তোমরা দুটি খ্যাতিসম্পন্ন বস্তু হতে বেঁচে থাকঃ পশম আর লাল রং।





হাদীসটি বানোয়াট।





এটিকে দাইলামী (১/১/২১) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন সুলামী হতে, তিনি হুসাইন ইবনু আহমাদ সফফার হতে, তিনি আহমাদ ইবনু ঈসা অশা হতে, তিনি রাবী' ইবনু সুলাইমান হতে, তিনি আসাদ ইবনু মূসা হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি মা'মার হতে, তিনি যুহরী হতে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





হাফিয ইবনু হাজার সাদা জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। আহমাদ ইবনু ঈসা অশাকে আমি চিনি না। হতে পারে তিনি তাসতুর মিসরী হাফিয। তিনি সেরূপই যেরূপ হাফিয যাহাবী বলেছেনঃ তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দেয়া হয়েছে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু তার থেকে বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনু আহমাদ সফফার সম্পর্কে হাকিম বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়া যায় না।





আর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন সুলামী হচ্ছেন আবু আব্দুর রহমান সূফী। হাফিয যাহাবী তার সম্পর্কে বলেনঃ মুহাদ্দিসগণ তার সমালোচনা করেছেন। তিনি ভালো নন। অন্তরের মধ্যে কিন্তু সৃষ্টি করে যখন তিনি এককভাবে কিছু বর্ণনা করেন। খাতীব বলেনঃ আমাকে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ কাত্তান বলেনঃ তিনি সুফীদের জন্য হাদীস জাল করতেন।





আমি (আলবানী) বলছিঃ আমি আশঙ্কা করছি যে, এটি তারই জাল করা হাদীস যদি তার শাইখ এ কর্ম হতে নিরাপদ হয়।





আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসের সনদে এতো সব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটিকে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থে এবং “আলজামেউল কাবীর” গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন ... আর তিনি বলেছেন যে, দুর্বল আখ্যা দেয়া হয়েছে। আর মানবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ এর সনদে আহমাদ ইবনুল হুসাইন সফফার রয়েছেন, তারা (মুহাদ্দিসগণ) তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। এরূপই উল্টা করে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সঠিক হচ্ছে হুসাইন ইবনু আহমাদ সাফফার।











সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ (2000)


` ما امعرّ حاج قط `.
ضعيف. رواه الطبراني في ` الأوسط ` (1 / 110 / 2) عن شريك عن محمد بن
زيد عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله مرفوعا، وقال: ` لم يروه عن
ابن المنكدر إلا محمد بن زيد `. قلت: وهو محمد بن زيد بن المهاجر بن قنفذ
وهو ثقة، لكن الراوي عنه شريك وهو
ابن عبد الله القاضي ضعيف لسوء حفظه، ولذلك أخرج له مسلم متابعة، فلا تغتر بقول من أطلق فقال: ` ورجاله رجال الصحيح `، كالمنذري (2 / 114) والهيثمي (3 / 280) ومن قلدهما كالمناوي والغماري، فإنه ذكر الحديث في ` كنزه `! ولم يتفرد به محمد بن زيد، فقد أخرجه ابن عساكر (5 / 327 / 2) من طريق محمد بن خالد بن عثمة: أخبرنا عبد الله بن محمد بن المنكدر عن أبيه به. وعبد الله بن محمد بن المنكدر لم أجد من ترجمه، ولم يذكره الحافظ في الرواة عن أبيه، وإنما ذكر ابنيه يوسف والمنكدر فقط. وفي الطريق إليه جماعة لا يعرفون. وعلي بن أحمد بن زهير التميمي قال الذهبي: ` ليس يوثق به `
انتهى المجلد الرابع من ` سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيء في الأمة `.
ويليه بإذن الله تبارك وتعالى المجلد الخامس وأوله:

‌‌




২০০০। হাজী কখনও মুজা পরবে না।





হাদীসটি দুর্বল।





এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১/১১০/২) শারীক হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু যায়েদ হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ্ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।








তিনি বলেনঃ এটিকে ইবনুল মুনকাদির হতে মুহাম্মাদ ইবনু যায়েদ ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি।





আমি (আলবানী) বলছিঃ মুহাম্মাদ ইবনু যায়েদ ইবনুল মুহাজির ইবনু কুনফুয হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য। কিন্তু তার থেকে বর্ণনাকারী শারীক হচ্ছেন ইবনু আব্দুল্লাহ কাযী তিনি দুর্বল তার মন্দ হেফযের কারণে। এ কারণে ইমাম মুসলিম মুতাবায়াত থাকা অবস্থায় তার থেকে বর্ণনা করেছেন। এ কারণে কেউ যেন ধোকায় না পড়ে সেই ব্যক্তির কথার দ্বার যিনি বলেছেন যে, এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী। যেমন করেছেন মুনযেরী (২/১১৪), হাইসামী (৩/২০৮) আর তাদের দু'জনের অন্ধ অনুসরণ করেছেন মানবী এবং গুমারী। কারণ তিনি হাদীসটিকে তার “কানয” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।





তবে মুহাম্মাদ ইবনু যায়েদ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেননি। ইবনু আসাকির হাদীসটিকে (৫/৩২৭/২) মুহাম্মাদ ইবনু খালেদ ইবনু আসমাহ সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।





আর আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের জীবনী কে আলোচনা করেছেন পাচ্ছি না। হাফিয ইবনু হাজার বর্ণনাকারীদের মধ্যে তার পিতা হতে কথাটি উল্লেখ করেননি। তিনি শুধুমাত্র তার দু'ছেলে ইউসুফ ও মুনকাদিরের কথা উল্লেখ করেছেন। আর সূত্রে তার নিকট পর্যন্ত একদল রয়েছেন যাদেরকে চেনা যায় না। আর আলী ইবনু আহমাদ যুহায়ের তামীমী সম্পর্কে হাফিয যাহাবী বলেনঃ তার উপর নির্ভর করা যায় না।