সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদ্বুআহ
` خصلتان معلقتان في أعناق المؤذنين للمسلمين: صلاتهم وصيامهم `.
موضوع.
رواه ابن ماجه رقم (712) عن بقية عن مروان بن سالم عن عبد العزيز بن أبي رواد عن نافع عن ابن عمر مرفوعا.
قلت: قال البوصيري في ` الزوائد ` (ق 47 / 2) : ` هذا إسناد ضعيف، لتدليس بقية بن الوليد `.
قلت: شيخه مروان شر منه، قال فيه البخاري وغيره: ` منكر الحديث `. وقال أبو عروبة الحراني: ` يضع الحديث `، وقال ابن حبان (2 / 317) : ` كان ممن يروي عن المشاهير المناكير، ويأتي عن الثقات بما ليس من حديث الأثبات `.
৯০১। মুসলিমদের জন্য মুয়াযযিনদের কাঁধে দুটি অভ্যাস ঝুলন্ত থাকে। তাদের সালাত ও সিয়াম।
হাদীছটি জাল।
এটি ইবনু মাজাহ (নং ৭১২) বাকিয়াহ হতে তিনি মারওয়ান ইবনু সালেম হতে তিনি আব্দুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ হতে ... বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বুসয়রী `আয-যাওয়ায়েদ` (কাফ ২/৪৭) গ্রন্থে বলেনঃ বাকিয়াহ ইবনুল ওয়ালীদ কর্তৃক তাদলীস সংঘটিত হওয়ায় এ সনদটি দুর্বল।
আমি বলছিঃ তার শাইখ মারওয়ান তার চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও অন্য বিদ্বানগণ বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীছ। আবু আরূবাহ আল-হাররানী বলেনঃ তিনি হাদীছ জালকারী। ইবনু হিব্বান (২/৩১৭) বলেনঃ তিনি প্রসিদ্ধদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে যা তাদের হাদীছ নয় তাই নিয়ে আসতেন।
923) - ، فما قيمتها من حيث الصحة وهذه حالها؟!
ثم سرد بعدها أحاديث جابر بن زيد المرسلة - من رقم (
৯০২। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কর্ম যদি আল্লাহর প্রশংসা ও আমার উপর সালাত না আদায় করে শুরু করা হয়, তাহলে তা লেজ কাটা (বরকতহীন) হয়ে যায়, সকল প্রকার বরকত হতে সে কর্ম বঞ্চিত হয়।
হাদীছটি জাল।
হাদীছটি সুবকী “তাবাকাতুশ শাফেইয়াতিল কুবরা” (১/৮) গ্রন্থে ইসমাঈল হতে তিনি আবু সালামা হতে তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেনঃ হাদীছটি সাব্যস্ত হয়নি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং হাদীছটি বানোয়াট। তার সমস্যা হচ্ছে এই ইসমাঈল। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীছ।
আমি বলছিঃ হাদীছটি অন্য সূত্রে যুহরী হতে الصلاة علي 'আস-সালাতু আলাইয়্যা' এবং أبتر 'আবতার ...' অংশ দুটি ছাড়া বর্ণনা করা হয়েছে। উক্ত অংশ দুটি ছাড়া হাদীছটি দুর্বল যেমনটি আমি `ইরওয়াউল গালীল` গ্রন্থে ব্যাখ্যা দিয়েছি।
` إذا توضأتم فأشربوا أعينكم الماء، ولا تنفضوا أيديكم من الماء، فإنها مراوح الشيطان `.
موضوع.
أخرجه ابن أبي حاتم في ` العلل ` (1 / 36 رقم 73) وابن حبان في ` المجروحين ` (1 / 194) وابن عدي في ` الكامل ` (40 / 1) من طريق البختري بن عبيد عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا، وقال ابن أبي حاتم: ` سألت أبي عنه؟ فقال: هذا حديث منكر، والبختري ضعيف الحديث، وأبوه مجهول `. وكذا قال ابن عدي أن الحديث منكر. قلت: والبختري هذا متهم، قال أبو نعيم: ` روى عن أبيه عن أبي هريرة موضوعات `، وكذا قال الحاكم والنقاش، وقال ابن حبان: ` روى عن أبيه عن أبي هريرة نسخة فيها عجائب، كان يسرق الحديث، وربما قلبه `.
قلت: وحديثه هذا من الأدلة على ذلك، فقد روي عنه صلى الله عليه وسلم ما يقطع كل عارف بهديه صلى الله عليه وسلم في طهوره أنه لم يكن يفعل بمقتضى هذا الحديث، بل صح عنه ما يخالفه في شطره الثاني، فقد أخرج الشيخان وغيرهما عن ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: وضعت للنبي صلى الله عليه وسلم غسلا فسترته بثوب، وصب على يديه فغسلها، ثم صب بيمينه على شماله فغسل فرجه، فضرب بيده الأرض فمسحها، ثم غسلها، فمضمض واستنشق، وغسل وجهه وذراعيه، ثم صب على رأسه، وأفاض على جسده، ثم تنحى فغسل قدميه، فناولته ثوبا، فلم يأخذه، فانطلق وهو ينفض يديه.
ومن تراجم البخاري لهذا الحديث: ` باب نقض اليدين من الغسل عن الجنابة `. قال الحافظ: ` استدل به على جواز نقض ماء الغسل والوضوء، وهو ظاهر قال: وفيه حديث ضعيف أورده الرافعي وغيره `، ثم ذكر هذا ثم قال: ` قال ابن الصلاح: ` لم أجده `. وتبعه النووي، وقد أخرجه ابن حبان في ` الضعفاء ` وابن أبي حاتم في ` العلل ` من حديث أبي هريرة، ولو لم يعارضه هذا الحديث الصحيح لم يكن صالحا لأن يحتج به `. وقال ابن عدي في ` الكامل ` في ترجمة البختري (ق 140 / 1) : ` روى عن أبيه عن أبي هريرة قدر عشرين حديثا، عامتها مناكير، فمنها: أشربوا أعينكم الماء `. وقال الذهبي: ` هذا أنكرها `.
إذا عرفت هذا فمن العجائب قول بعضهم: أن الأولى ترك النفض لقوله صلى الله عليه وسلم: ` إذا توضأتم فلا تنفضوا أيديكم `! فاحتج بالحديث الضعيف! وتأول بعضهم من أجله الحديث الصحيح الذي ذكرته فحمل النقض المذكور فيه على تحريك اليدين في المشي، حكاه القاضي عياض ورده بقوله: ` وهو تأول بعيد `. فتعقبه الشيخ علي القاري في ` المرقاة ` بقوله (1 / 325) : ` قلت: وإن كان التأويل بعيدا فالحمل عليه جمعا بين الحديثين أولى من الحمل على ترك الأولى `! قلت: وكأنه خفي عليه ضعف هذا الحديث وإلا فمثله لا يخفى عليه أنه لا يسوغ تأويل النص الصحيح من أجل الضعيف، فهذا من آثار الأحاديث الضعيفة والجهل بها، فتأمل. والحديث أورده السيوطي في ` الجامع الكبير ` (ج 1 / 50 / 1) بهذا السياق من رواية الديلمي في ` مسند الفردوس ` عن أبي هريرة. وأورده فيه (1 / 101 / 2) وفي ` الصغير ` بلفظ ` أشربوا أعينكم الماء عند الوضوء، ولا تنفضوا … ` الحديث من رواية أبي يعلى وابن عدي، وزاد في ` الكبير `: ` وابن عساكر ` وقال فيه: ` والبختري ضعفه أبو حاتم، وتركه غيره ` ثم ذكر قول ابن عدي المتقدم أن الحديث من مناكيره.
৯০৩। তোমরা যখন উযু করবে তখন তোমাদের চোখগুলোতে পানি দিবে। তোমাদের হাতগুলোর পানি ঝেড়ে ফেলবে না। কারণ তা শয়তানের জন্য আরামদায়ক।
হাদীছটি জাল।
এটি ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” (১/৩৬ নং ৭৩) গ্রন্থে , ইবনু হিব্বান `আল-মাজরুহীন` (১/১৯৪) গ্রন্থে এবং ইবনু আদী “আল-কামিল” (১/৪০) গ্রন্থে আল-বাখতারী ইবনু ওবায়েদ হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবী হাতিম বলেনঃ আমি আমার পিতাকে এ হাদীছটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ এ হাদীছটি মুনকার। বাখতারী হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল ও তার পিতা মাজহুল। অনুরূপভাবে ইবনু আদীও বলেনঃ হাদীছটি মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এই বাখতারী মিথ্যার দোষে দোষী। আবু নোয়াইম বলেনঃ তিনি তার পিতা হতে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ কথা হাকিম ও নাক্কাশও বলেছেন।
আর ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি তার পিতা হতে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উদ্ধৃতিতে একটি পাগুলিপি বর্ণনা করেছেন তাতে আজব আজব বস্তু রয়েছে। তিনি হাদীছ চুরি করতেন। কখনও কখনও তা উল্টিয়ে ফেলেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীছটি তারই প্রমাণ বহন করছে। কারণ সহীহ হাদীছে দ্বিতীয় অংশের বিপরীত কথা এসেছে। যেটি বুখারী, মুসলিম ও অন্য বিদ্বানগণ বর্ণনা করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ ... তিনি তার দু' হাত ঝেড়ে ফেলতেন।
এ সহীহ হাদীছ দ্বারা ইবনু হাজার উযূ ও গোসলের সময় হাতের পানি ঝেড়ে ফেলা জায়েয মর্মে দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ এ বিষয়ে দুর্বল হাদীছও রয়েছে, রাফে'ঈ ও অন্য বিদ্বানগণ সেটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি আলোচ্য হাদীছটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইবনুস সালাহ বলেনঃ আমি হাদীছটি পাচ্ছি না। ইমাম নাবাবীও তার অনুসরণ করেছেন। হাদীছটি ইবনু হিব্বান `আয-যোয়াফা` গ্রন্থে এবং ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ হতে বর্ণনা করেছেন। এ দুর্বল হাদীছটি যদি সহীহ হাদীছের বিপরীতে নাও হয় তবুও এটি দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্যতার উপযোগী নয়।
ইবনু আদী “আল-কামিল” (কাফ ১/১৪০) গ্রন্থে বাখতারীর জীবনীতে বলেছেনঃ তিনি তার পিতার মাধ্যমে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বিশটির মত হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যার অধিকাংশই মুনকার। সেগুলোর একটি হচ্ছে আলোচ্য হাদীছটি।
যাহাবী বলেনঃ এ হাদীছটি সেগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশী মুনকার।
এ সব কথা জানার পর যে ব্যক্তি বলবেনঃ হাত ঝাড়া পরিত্যাগ করাই উত্তম তা আশ্চর্যজনক কথা। তিনি এ কথা বলে দুর্বল হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন যে, এ সহীহ হাদীছটির অর্থ হচ্ছে চলার সময় হাতকে নাড়ানো। এটি খুবই দুরবর্তী ব্যাখ্যা। দুর্বল হাদীছের উপর আমল করার লক্ষে সহীহ হাদীছের ব্যাখ্যা করে তার অর্থকে ভিন্নরূপে প্রকাশ করাও দুর্বল হাদীছের এক কুপ্রভাব। বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে দেখুন।
` نسخ الأضحى كل ذبح وصوم رمضان كل صوم والغسل من الجنابة كل غسل، والزكاة كل صدقة `.
ضعيف جدا.
رواه الدارقطني في ` سننه ` (ص 543) من طريق الهيثم بن سهل: المسيب بن شريك: أخبرنا عبيد المكتب عن عامر عن مسروق عن علي مرفوعا، وقال: ` خالفه المسيب بن واضح عن المسيب - هو ابن شريك - وكلاهما ضعيفان، والمسيب ابن شريك متروك `.
ثم ساقه من طريق ابن واضح: أخبرنا المسيب بن شريك عن عتبة بن يقظان عن الشعبي عن مسروق به وقال: ` عتبة بن يقظان متروك أيضا `. ورواه البيهقي (9 / 261 - 262) عن ابن شريك بالوجهين، ونقل عن الدارقطني ما سبق من التضعيف الشديد، وأقره عليه، ونقل الزيلعي في ` نصب الراية ` (4 / 208) عنه أنه قال: إسناده ضعيف بمرة `. وأقره عليه.
ومن آثار هذا الحديث السيئة أنه صرف جما غفيرا من هذه الأمة، عن سنة صحيحة مشهورة، ألا وهي العقيقة، وهي الذبح عن المولود في اليوم السابع، عن الغلام شاتين وعن الأنثى شاة واحدة، وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة تراجع في كتاب ` تحفة الودود في أحكام المولود ` للعلامة ابن القيم، أجتزئ هنا بإيراد واحد منها وهو قوله صلى الله عليه وسلم: ` مع الغلام عقيقه، فأهريقوا عنه دما `. رواه البخاري (9 / 486) وغيره من حديث سلمان بن عامر الضبي مرفوعا.
لقد تُرَك العمل بهذا الحديث الصحيح وغيره مما في الباب حتى لا تكاد تسمع في هذه البلاد وغيرها أن أحدا من أهل العلم والفضل - دع غيرهم - يقوم بهذه السنة! ولو أنهم تركوها إهمالا كما أهملوا كثيرا من السنن الأخرى لربما هانت المصيبة، ولكن بعضهم تركها إنكارا لمشروعيتها! لا لشيء إلا لهذا الحديث الواهي! فقد استدل به بعض الحنفية على نسخ مشروعية العقيقة! فإلى الله المشتكى من غفلة الناس عن الأحاديث الصحيحة، وتمسكهم بالأحاديث الواهية والضعيفة.
৯০৪। কুরবানী সকল প্রকার যবেহকে রহিত করেছে, রমযানের সওম সকল প্রকার সওমকে রহিত করেছে, জানাবাতের (ফরয গোসল) গোসল সকল প্রকার গোসলকে রহিত করেছে আর যাকাত সকল প্রকারের সাদকাহকে রহিত করেছে।
হাদীছটি নিতান্তই দুর্বল।
এটি দারাকুতনী তার `সুনান` (পৃঃ ৫৪৩) গ্রন্থে হায়ছাম ইবনু সাহাল সূত্রে হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ মুসাইয়্যাব ইবনু ওয়াযেহ মুসাইয়্যাব ইবনু শুরায়িকের বিরোধিতা করে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই দুর্বল। মুসাইয়্যাব ইবনু শুরায়িক মাতরুক। অতঃপর তিনি ইবনু ওয়াযেহ সূত্রে মুসাইয়্যাব ইবনু শুরায়িক হতে তিনি উতবাহ ইবনু ইয়াকযান হতে তিনি শা'বী হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ উতবাহ ইবনু ইয়াকযানও মাতরূক।
হাদীছটি বাইহাকী (৯/২৬১-২৬২) ইবনু শুরায়িক হতে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং দারাকুতনী হতে খুবই দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে নিজেও তাকে সমর্থন করেছেন। যায়লাঈ `নাসবুর রায়া` (৪/২০৮) গ্রন্থে তার থেকে হাদীছটির সনদ একেবারে দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তা স্বীকার করেছেন। এ হাদীছের কুপ্রভাব উম্মাতের একটি বড় অংশকে প্রসিদ্ধ সহীহ সুন্নাহ হতে বিমুখ করে রেখেছে। সেটি হচ্ছে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সপ্তম দিনে ছেলের ক্ষেত্রে দুটি খাসি আর মেয়ের ক্ষেত্রে একটি খাসি দ্বারা আকীকাহ দেয়ার সুন্নাত।' যদি এ সহীহ হাদীছটি অবহেলা বশত গুরুত্ব না দিয়ে অন্যান্য সুন্নাত ছেড়ে দেয়ার ন্যায় ছেড়ে দেয়া হত, তাহলে হয়তো সমস্যাটাকে তুচ্ছ হিসাবে গণ্য করা যেত। কিন্তু তাদের কেউ কেউ এ সহীহ সুন্নাহকে শরীয়ত সম্মত নয় বলে পরিত্যাগ করেছেন। আর তা অন্য কোন কারণে নয় বরং এ নিতান্তই দুর্বল হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে! এমনকি কোন কোন হানাফী আলেম আলোচ্য হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করে আকীকাহ দেয়াকে মানসূখ হিসাবে চিহৃিত করেছেন।
` كان إذا أتي بطعام أكل مما يليه، وإذا أتي بالتمر جالت يده `.
موضوع.
رواه أبو بكر الشافعي في ` الفوائد ` (106 / 1) وابن حبان (2 / 165) وابن عدي في ` الكامل ` (254 / 2) وأبو الشيخ في ` أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم ` (ص 222) والخطيب في ` تاريخ بغداد ` (11 / 95) واللفظ له من طريق عبيد بن القاسم: أخبرنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا.
قلت: وهذا سند موضوع، آفته عبيد هذا وهو ابن أخت سفيان الثوري كذبه ابن معين. وقال صالح جزرة: ` يضع الحديث `. وكذا قال أبو داود كما في ` الميزان `. ثم ساق له أحاديث هذا أحدها وقال ابن حبان: ` كان يروي عن هشام بنسخة موضوعة لا يحل كتابة حديثه إلا على وجه التعجب `.
والحديث مما سود به السيوطي كتابه ` الجامع الصغير ` أورده فيه من رواية الخطيب فقط! وتعقبه المناوي فأجاد قائلا:
` وظاهر صنيع المصنف أن مخرجه الخطيب خرجه وسكت عليه وهو تلبيس فاحش، فقد تعقبه بما نصه: قال أبو علي (صالح بن محمد جزرة) : هذا كذب وعبيد بن أخت سفيان كان يضع الحديث، وله أحاديث مناكير اهـ كلامه `.
أورده الهيثمي (5 / 27) وقال: ` رواه البزار وفيه خالد بن إسماعيل وهو متروك `. قلت: والشطر الثاني منه رواه أبو الشيخ من طريق رجل من بني ثور عن هشام بن عروة به.
وهذا الرجل الذي لم يسم هو عبيد بن القاسم الكذاب المذكور في الطريق الأولى لأنه ابن أخت سفيان الثوري كما سبق، وهذا من الأدلة الكثيرة على عدم الاحتجاج بحديث المجهولين لاحتمال أن يكونوا من الضعفاء، أو الكذابين، فلا يجوز الاحتجاج بهم حتى ينكشف حقيقة أمرهم.
ولعل ما يتداوله أهل الشام فيما بينهم وهم يتفكهون: ` كل شيء بحشمة إلا التوت ` أصله هذا الحديث الموضوع! وله شاهد ضعيف من قوله صلى الله عليه وسلم، سنتكلم عليه إن شاء الله تعالى برقم (1127) .
৯০৫। তার নিকট যখন খাদ্য নেয়া হতো তখন তিনি তার নিকট হতে খাওয়া শুরু করতেন। আর যখন খেজুর নেয়া হতো তখন তার হাত ঘুরতে থাকতো।
হাদীছটি জাল।
এটি আবু বাকর আশ-শাফে'ঈ `আল-ফাওয়ায়েদ` (১/১০৬) গ্রন্থে, ইবনু হিব্বান (২/১৬৫), ইবনু আদী `আল-কামিল` (২/২৫৪) গ্রন্থে, আবুশ শাইখ `আখলাকুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম` (পৃঃ ২২২) গ্রন্থে এবং আল-খাতীব `তারীখু বাগদাদ` (১১/৯৫) গ্রন্থে (শব্দটি তারই) ওবায়েদ ইবনুল কাসেম হতে তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি বানোয়াট। তার সমস্যা হচ্ছে এই ওবায়েদ। তিনি সুফিয়ান ছাওরীর বোনের ছেলে। ইবনু মাঈন তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। সালেহ জাযারাহ বলেনঃ তিনি হাদীছ জালকারী। আবু দাউদও অনুরূপ বলেছেন যেমনটি `আল-মীযান` গ্রন্থে এসেছে। তিনি তার কতিপয় হাদীছ উল্লেখ করেছেন। এটি সেগুলোর একটি। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হিশাম হতে একটি বানোয়াট পাণ্ডলিপি বর্ণনা করেছেন। তার হাদীছ আশ্চর্য হওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া লিখাই হালাল নয়। সুয়ূতী হাদীছটি `আল-জামেউস সাগীর` গ্রন্থে উল্লেখ করে গ্রন্থটিকে কালিমালিপ্ত করেছেন। মানবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ আবু আলী সালেহ ইবনু জাযারাহ বলেনঃ এটি মিথ্যা। ওবায়দুল্লাহ ইবনু উখতে সুফিয়ান হাদীছ জাল করতেন। তার কতিপয় মুনকার হাদীছ রয়েছে।
হাদীছটি হায়ছামী (৫/২৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে বাযযার বর্ণনা করেছেন। তাতে খালেদ ইবনু ইসমাঈল রয়েছেন, তিনি মাতরূক।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীছটির দ্বিতীয় অংশটি আবুশ শাইখ বানু ছাওরের এক ব্যক্তির সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। এ ব্যক্তিই মিথ্যুক ওবায়েদ ইবনু কাসেম যিনি প্রথম সূত্রে রয়েছেন। কারণ তিনিই সুফিয়ান ছাওরীর বোনের ছেলে।
` كرسيه موضع قدمه، والعرش لا يقدر قدره `.
ضعيف.
رواه الضياء في ` المختارة ` (252 / 1 - 2) عن شجاع بن مخلد الفلاس عن أبي عاصم عن سفيان عن عمار الدهني عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن قول الله (وسع كرسيه السموات والأرض) قال: فذكره.
ورواه من طرق أخرى عن أبي عاصم به موقوفا على ابن عباس وقال: ` إنه الأولى `. والموقوف أخرجه الطبراني في ` معجمه الكبير ` (ج 3) وقد فاتني موضعه منه، وغالب الظن أنه بين الورقة (150 والورقة 170) وقال الهيثمي (6 / 323) : ` ورجاله رجال الصحيح `.
وكذلك أخرجه محمد بن عثمان بن أبي شيبة في ` العرش ` (114 / 2) والحاكم (2 / 282) عن أبي عاصم به موقوفا وقال: ` صحيح على شرط الشيخين ` ووافقه الذهبي. ورواه ابن مردويه من طريق شجاع بن مخلد به مرفوعا كما في ` تفسير ابن كثير ` وقال: ` وهو غلط.
ورواه ابن مردويه من طريق الحكم بن ظهير الفزاري الكوفي وهو متروك عن السدي عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعا ولا يصح أيضا `. وروى ابن أبي شيبة أيضا (114 / 1 - 2) وابن جرير في تفسيره (5 / 398 طبع … ) والبيهقي في ` الأسماء والصفات ` (ص 290 - هند) عن عمارة بن عمير عن أبي موسى قال:
` الكرسي موضع القدمين، وله أطيط كأطيط الرجل `. قلت: وإسناده صحيح إن كان عمارة بن عمير سمع من أبي موسى، فإنه يروي عنه بواسطة ابنه إبراهيم بن أبي موسى الأشعري، ولكنه موقوف، ولا يصح في الأطيط حديث مرفوع، كما تقدم تحت رقم (866) ، وانظر تفسير ابن كثير (2 / 13 - 14 طبع المنار) .
৯০৬। তার পা রাখার স্থল হচ্ছে তার কুরসী। আর আরশের পরিমাপ করা যায় না।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি যিয়া `আল-মূখতারাহ` (২৫২/১-২) গ্রন্থে শুজা ইবনু মিখলাদ আল-ফাল্লাস হতে তিনি আবূ আসেম হতে তিনি সুফিয়ান হতে তিনি আম্মার আদ-দুহনী হতে তিনি মুসলিম আল-বাতীন হতে তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি অন্য সূত্রে মওকুফ হিসাবেও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটিই উত্তম। এই মওকুফটি তাবারানী তার `আল-মুজামুল কাবীর` (খণ্ড ৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
হায়ছামী (৬/৩২৩) (মওকুফটির সনদ সম্পর্কে) বলেনঃ এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ বর্ণনাকারী। অনুরূপভাবে মুহাম্মাদ ইবনু উছমান ইবনে আবী শাইবাহ `আল-আরশ` (২/১১৪) গ্রন্থে এবং হাকিম (২/২৮২) মওকুফ হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ শাইখায়েনের শর্তানুযায়ী হাদীছটি সহীহ। হাফিয যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
ইবনু মারদুবিয়াহ শুজা ইবনু মিখলাদ সূত্রে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি “তাফসীর ইবনু কাছীর” গ্রন্থে এসেছে। অতঃপর বলেছেনঃ এটি ভুল। ইবনু মারদুবিয়া হাকাম ইবনু যাহীর আল-ফাযারী আল-কুফী সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি সুদ্দী হতে বর্ণনাকারী হিসাবে মাতরূক। এটিও সহীহ নয়।
মোটকথা হাদীছটি মারফু হিসাবে সহীহ নয়। মওকুফ হিসাবে সহীহ।
` أعتقوا عنه، يعتق الله بكل عضومنه، عضوا منه من النار `.
ضعيف.
رواه أبو داود (2964) وعنه الخطيب في ` الفقيه والمتفقه ` (2 / 45 - طبع الرياض) والطحاوي في ` المشكل ` (1 / 315) والحاكم (2 / 212) وعنه البيهقي (8 / 132 - 133 و133) وأحمد (3 / 471) عن ضمرة بن ربيعة عن إبراهيم بن أبي عبلة عن الغريف بن الديلمي قال: ` أتينا واثلة بن الأسقع فقلنا له: حدثنا حديثا ليس فيه زيادة ولا نقصان، فغضب وقال: إن أحدكم ليقرأ ومصحفه معلق في بيته فيزيد وينقص! قلنا: إنما أردنا حديثا سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم قال: أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في صاحب لنا أو جب - يعني النار - بالقتل، فقال: فذكره.
ثم رواه الطحاوي (1 / 314) وأحمد (4 / 107) من طريق عبد الله بن المبارك، والخطيب من طريق يحيى بن حمزة، كلاهما عن إبراهيم بن أبي عبلة عن الغريق بن عياش به مختصرا بلفظ: أتى النبي صلى الله عليه وسلم نفر من بني سليم، فقالوا: إن صاحبا لنا أو جب، قال: ` فليعتق رقبة، يفدي الله بكل عضومنها عضوا منه من النار `.
ثم رواه أحمد (3 / 490) من طريق أبي علاثة قال: حدثنا إبراهيم بن أبي عبلة عن واثلة بن الأسقع به. وأسقط من الإسناد الغريق هذا. وابن علاثة فيه ضعف. قلت والإسناد ضعيف من أجل الغريق فإنه لم يرو عنه غير إبراهيم بن أبي عبلة، ولم يوثقه غير ابن حبان (1 / 183) . قال الحافظ في ` التهذيب `: ` وقال ابن حزم: مجهول. وذكره بالعين المهملة `.
قلت: وكذلك وقع في ` مستدرك الحاكم ` وقال: ` عريف هذا لقب عبد الله بن الديلمي، حدثنا بصحة ما ذكرته أبو إسحاق إبراهيم ابن فراس الفقيه: حدثنا بكر بن سهل الدمياطي: حدثنا عبد الله بن يوسف التنيسي: حدثنا عبد الله بن سالم: حدثني إبراهيم بن أبي عبلة قال: كنت جالسا بـ (ريحاء) فمر بي واثلة بن الأسقع متوكئا على عبد الله بن الديلمي، فأجلسه، ثم جاء إلي فقال: عجب ما حدثني هذا الشيخ، يعني واثلة، قلت: ما حدثك؟ فقال: حدثني: كنت جالسا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك فأتاه نفر من بني سليم فقالوا.... `.
قلت: فذكر الحديث مثل رواية ضمرة ثم قال الحاكم: ` فصار الحديث بهذه الروايات صحيحا على شرط الشيخين `. قلت: ووافقه الذهبي، وليس كذلك لأمرين: الأول: أن هذه الرواية التي ساقها مستدلا على صحة ما ذكر، فيها الدمياطي وهو ضعيف. لكنه قد توبع فقال الطحاوي (1 / 316) : حدثنا علي بن عبد الرحمن: حدثنا عبد الله بن يوسف الدمشقي: حدثنا عبد الله بن سالم به. وعلي بن عبد الرحمن هو المعروف بـ (علان) المصري، قال ابن أبي حاتم (3 / 1 / 195) : ` صدوق `.
وتابعه إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني: حدثنا عبد الله بن يوسف به. أخرجه ابن حبان (1206) . ثم رواه الطحاوي من طريق الوليد بن مسلم: حدثني مالك بن أنس وغيره عن إبراهيم بن أبي عبلة أنه حدثهم عن عبد الله بن الديلمي عن واثلة نحوحديث ابن المبارك. قلت: فهذا كله يصحح ما ذكره الحاكم أن الغريف لقب لعبد الله بن الديلمي، أو على الأصح يدل على أن اسم الغريف عبد الله، وهي فائدة لا تجدها في كتب الرجال، ولكن هل يصير الحديث بذلك صحيحا؟ ذلك ما سترى الجواب عنه فيما يأتي. الأمر الثاني: أن عبد الله بن الديلمي المذكور في هذه الروايات ليس هو الذي عناه الحاكم: عبد الله بن فيروز الديلمي أبو بشر وهو الذي وثقه ابن معين والعجلي وغيرهما، وروى له أصحاب السنن إلا الترمذي، بل هو ابن أخي هذا، فقد تقدم في بعض الرويات أنه الغريف بن عياش، وفي أخرى عند الطحاوي والخطيب ` الغريف بن عياش بن فيروز الديلمي `، ولذلك قال في ترجمة أبي بشر من ` التهذيب `: ` هو أخو الضحاك بن فيروز وعم الغريف بن عياش بن فيروز `.
فإذا ثبت أنه عبد الله بن عياش بن فيروز وهو غير عبد الله بن فيروز، وجب أن نتطلب معرفة حاله، وإذا عرفت مما سبق في ترجمته أنه مجهول، نستنتج من ذلك أن الحديث ضعيف لا يصح وأن الحاكم والذهبي وهما في تصحيحهما إياه، لاسيما وقد صححاه على شرط الشيخين، والعصمة لله وحده.
وفي الحديث علة أخرى، وهي الاضطراب في متنه، ففي رواية ضمرة وعبد الله بن سالم: ` أعتقوا عنه `، وفي رواية ابن المبارك ومالك: ` فليعتق رقبة `. وتابعهما عليها يحيى بن حمزة وهانىء بن عبد الرحمن عند الطحاوي، ولفظ هانىء: ` مروه فليعتق رقبة `. فهذه الرواية أرجح لاتفاق هؤلاء الأربعة عليها، وفيهم مالك وابن المبارك وهما في التثبت والحفظ على ما هما عليه، كما قال الطحاوي.
ثم ذكر أن الرواية الأولى تعارض القرآن فقال: ` ووجدنا كتاب الله قد دفع مثل هذا المعنى عن ذوي الذنوب، وهو قوله تعالى في الجزاء عن كفارة الصيد المقتول في الإحرام في (سورة المائدة) على ما ذكر فيها، ثم أعقبه بقوله: (ليذوق وبال أمره) فأخبر أنه جعل الكفارة في الصيد في الإحرام على قاتله ليذوق وبال قتله، فمثل ذلك على كل كفارة عن ذنب، إنما يراد بها ذوق المذنب وبالها، وفي ذلك ما يمنع تكفير غيره عنه في ذلك بعتاق عنه أو بغيره `.
ثم ختم الطحاوي كلامه على الحديث بأن ذكر وجها للتوفيق بين الروايتين لا أرى فائدة من حكايته، لسببين:
الأول: أن الحديث من أصله ضعيف.
الثاني: أنه لوصح فإحدى الروايتين خطأ قطعا، لأن الحادثة واحدة لم تكرر، وبالتالي فاللفظ الذي نطق به عليه السلام واحد، اختلف الرواة في تحديده، فلابد من المصير إلى الترجيح، وقد فعلنا، وذلك يغني عن محاولة التوفيق، والله أعلم.
(تنبيه) : الحديث سكت عليه المنذري في ` مختصر السنن ` (5 / 424) وقال: ` أخرجه النسائي `. والظاهر أنه يعني في ` الكبرى ` له فإني لم أجده في ` الصغرى `، ولا عزاه إليه النابلسي في ` ذخائر المواريث ` (2 / 125 - 126) ، وعزاه السيوطي في ` الجامع الكبير ` (1 / 107 / 1) لأبي داود وابن حبان والطبراني في ` الكبير ` والحاكم والبيهقي.
هذا وقد يستدل بالحديث من يقول بوصول ثواب العمل إلى غير عامله إذا وهبه له، وهو خلاف قوله تعالى (وأن ليس للإنسان إلا ما سعى) وما في معناه من الأحاديث ولوصح هذا الحديث لكان من جملة المخصصات للآية، وقد حقق الإمام الشوكاني القول في هذا الموضوع وذكر ما وقف عليه من المخصصات المشار إليها، فراجعه في ` نيل الأوطار ` (3 / 333 - 336) ، مع فصل ` ما ينتفع به الميت ` من كتابي ` أحكام الجنائز ` (ص 168 - 178) .
৯০৭ (হত্যাকারী) ব্যক্তির পক্ষ হতে তোমরা (দাসী) মুক্ত করো, আল্লাহ তা'আলা তার একেকটি অঙ্গের বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন হতে তার অঙ্গগুলো মুক্ত করে দিবেন।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি আবু দাউদ (২৯৬৪), তার থেকে আল-খাতীব `আল-ফাকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ` (২/৪৫) গ্রন্থে, তাহাবী `আল-মুশকিল` (১/৩১৫) গ্রন্থে, হাকিম (২/২১২), তার থেকে বাইহাকী (৮/১৩২-১৩৩) এবং ইমাম আহমাদ (৩/৪৭১) যামারাহ ইবনু রাবী'আহ হতে তিনি ইবরাহীম ইবনু আবী আবলাহ হতে তিনি আল-গারীফ ইবনুদ দাইলামী হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তাহাবী ও ইমাম আহমাদ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক সূত্রে এবং আল-খাতীব ইয়াহইয়া ইবনু হামযাহ সূত্রেও ইবরাহীম ইবনু আবী আবলাহ হতে ... বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ ইবনু ওলাছাহ সূত্রেও তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ইবনুল গারীককে সনদ হতে ফেলে দিয়েছেন। এই ইবনু ওলাছাহ দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এই গারকের কারণেই সনদটি দুর্বল। তার থেকে ইবরাহীম ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। আর ইবনু হিব্বান (১/১৮৩) ছাড়া তাকে কেউ নির্ভরযোগ্যও বলেননি। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাহযীব” গ্রন্থে বলেনঃ ইবনু হাযম বলেছেনঃ তিনি মাজহুল। হাদীছটির আরেকটি সমস্যা হচ্ছে এই যে, এটির বাক্যে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে।
` إن عيسى بن مريم كان يقول: لا تكثروا الكلام بغير ذكر الله فتقسوا قلوبكم، فإن القلب القاسي بعيد من الله، ولكن لا تعلمون، ولا تنظروا في ذنوب الناس كأنكم أرباب، وانظروا في ذنوبكم كأنكم عبيد، فإنما الناس مبتلى ومعافى، فارحموا أهل البلاء، واحمدوا الله على العافية `.
لا أصل له مرفوعا.
وإنما أورده الإمام مالك في ` الموطأ ` (2 / 986 / 8) بدون إسناد أنه بلغه أن عيسى بن مريم كان يقوله. وليس من عادتي أن أورد مثل هذا الكلام لأن راويه لم يعزه إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولكني
رأيت الأستاذ محمد فؤاد عبد الباقي كتب تحت هذا الكلام في نسخة ` الموطأ ` التي قام هو على تصحيحها وتخريج أحاديثها ما نصه: ` مرسل، وقد وصله العلاء بن عبد الرحمن بن يعقوب عن أبيه عن أبي هريرة، أخرجه مسلم في: 45 - كتاب البر والصلة والآداب، 20 - باب تحريم الغيبة، حديث 7 `.
ولما وقف على هذا بعض من لا علم عنده، نقل هذا الكلام المنسوب إلى عيسى عليه السلام في كتاب له، وعزاه للموطأ ومسلم! فلما وقفت عليه (قبل أن يطبع كتابه، وخير له أن لا يطبعه لكثرة أوهامه) استنكرت عزوه لمسلم أشد الاستنكار، ولما نبهته على ذلك احتج بتخريج فؤاد عبد الباقي - وهو يظنه لبالغ جهله بهذا العلم أنه من تخريج الإمام مالك نفسه! - فأكدت له أنه خطأ، ثم رأيت من الواجب أن أنبه عليه هنا، كي لا يغتر به آخرون، فيقعون في الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث لا يريدون ولا يشعرون.
وقد تبين لي فور رجوعي إلى تخريج عبد الباقي أن الخطأ - فيما أظن - ليس منه مباشرة، بل من الطابع، فإن هذا التخريج كان حقه أن يوضع في الباب الذي يلي كلام عيسى عليه السلام، ففيه أورد مالك حديثا مرسلا في الغيبة، وهو الذي وصله مسلم في الباب الذي ذكره فؤاد عبد الباقي، فيبدو أن التخريج كان مكتوبا في ورقة مفصولة عن الحديث، فسها الطابع وطبعه تحت كلام عيسى عليه السلام، فكان هذا الخطأ الفاحش، وبقي حديث الغيبة بدون تخريج، ثم لا أدري إذا كان الأستاذ فؤاد أشرف على تصحيح الكتاب بنفسه وهو يطبع، فذهل عن هذه الخطيئة، أو وكل أمر التصحيح إلى من لا علم عنده بالحديث إطلاقا، فبدهي أن تنطلي عليه الخطيئة، والعصمة لله وحده. نعم قد روي الحديث مرفوعا مختصرا، وإسناده ضعيف كما سيأتي بيانه برقم (920) .
৯০৮। ঈসা ইবনু মারিয়াম বলতেনঃ তোমরা আল্লাহর যিকর বাদ দিয়ে বেশী কথা বলো না, তোমাদের হৃদয়গুলো শক্ত হয়ে যাবে। কারণ শক্ত হৃদয় আল্লাহর নিকট হতে দূরে। অথচ তোমরা তা জানো না। তোমরা মানুষের গুনাহের ব্যাপারে এমনভাবে দৃষ্টি দিও না যেন তোমরা অধিপতি। তোমরা তোমাদের গুনাহের দিকে এমনভাবে দৃষ্টি দাও যেন তোমরা দাস। কারণ লোকদেরকে পরীক্ষা করা হয় আবার ক্ষমা করাও হয়। তোমরা বিপদগ্রস্তদের উপর দয়া করো আর ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।
মারফু হিসাবে হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।
এটি ইমাম মালেক `আল-মুয়াত্তা` (২/৯৮৬৮) গ্রন্থে সনদ ছাড়া এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ঈসা ইবনু মারিয়াম যা বলতেন তা তার নিকট পৌছেছে।
হাদীছটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন বলে মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দিল বাকী `আল-মুয়াত্তা` গ্রন্থের এক পাণ্ডলিপিতে তার হাদীছগুলো তাখরীজ করতে গিয়ে লিখেছেন, হাদীছটি মুরসাল...। তিনি তাতে ভুল করেছেন। সম্ভবত তিনি গীবাত বিষয়ে মুয়াত্তার একটি মুরসাল হাদীছ সম্পর্কে বলেছেনঃ ইমাম মুসলিম হাদীছটি মওসূল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মুদ্রণের সময় মুদ্রক তার এই তাখরীজ গীবতের হাদীছের সাথে সংযোগ না করে আলোচ্য হাদীছটির সাথে সংযোগ করে ফেলেছেন। ফলে মুয়াত্তায় গীবতের হাদীছটি সনদহীনই রয়ে গেছে। হাদীছটি সংক্ষিপ্তাকারে মারফু হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সনদটি দুর্বল। তার আলোচনা ৯২০ নং হাদীছে আসবে ইনশাআল্লাহ।
920) من طريق معمر وشريك وزائدة وأبي عوانة وابن عيينة وزيد بن أبي أنيسة والحكم بن هشام وعمرو بن قيس والأعمش؛ كلهم عن ابن عمير؛ دون الزيادة، وبعض رواياتهم في الصحيحين كما تقدم.
ثم إن رواية مسعر التي عزاها للطبراني، لعلها في كتاب (الدعاء) له فإني لم أرها في (معاجيمه الثلاثة) بل هي في (كبيره) (رقم908) من رواية أبي نعيم عن مسعر دون الشطر الثاني كله.
ثم روى عقبها رواية عبد الزراق عن معمر التي تقدمت برواية عبد بن حميد؛ لكن ليس فيها: (ولا راد لما قضيت) . فذلك مما يؤكد شذوذها. والله أعلم.
وقد غفل عن هذا التحقيق الشيخ مصطفى العدوي في تخريجه على (مسند عبد الحميد) (1 / 355 / 391) فصححه، ثم عزاه للشيخين! !
هذا، وقد رويت بعض تلك الزيادات في أحاديث، فرأيت من تمام الفائدة أن أتكلم عليها.
الأول: عن جابر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا صلى قال: (لا إله إلا الله. . .) إلخ، وفيه زيادة:
(يحيي ويميت) .
أخرجه البزار (4 / 21 - 22 - الكشف) من طريق ابن علاثة عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن جابر. وقال:
(لا نعلمه عن جابر إلا بهذا الإسناد) .
قلت: وهو ضعيف من أجل ابن علاثة، واسمه محمد بن عبد الله بن علاثة، وهو ضعيف؛ تقدمت له بعض الأحاديث. وأما الهيثمي؛ فقال: (10 / 103) : (رواه البزار، وإسناده حسن) .
وأقول: أما بالزيادة هنا فلا، أعني: دبر كل صلاة. وإنما صحت في صلاة الصبح والمغرب؛ كما هو مخرج فيما سبق (2563) .
الثاني: عن ابن عباس قال:. . . فذكره بزيادة:
(بيده الخير) .
أخرجه البزار أيضاً (4 / 22 / 3099) ، والطبراني في (المعجم الكبير) (12 / 173 / 12796) من طريق يحيى بن عمرو بن مالك النكري عن أبيه عن أبي الجوزاء عنه. ولم يذكر الطبراني الزيادة؛ ولكنه ذكر مكانها:
(يحيي ويميت) . وقال البزار:
(لا يروى عن ابن عباس إلا بهذا الإسناد) .
قلت: وهو ضعيف أيضاً؛ يحيى بن عمرو هذا ضعيف؛ كما قال الذهبي في (الكاشف) والحافظ في (التقريب) وزاد:
(ويقال: إن حماد بن زيد كذبه) .
وأما الهيثمي؛ فقال بعدما عزاه للبزار والطبراني:
(وإسنادهما حسن) !
وهذا من تساهله
ثم إن الزيادتين يقال فيهما ما قلته في الزيادة الأولى.
৯০৯। হে আমার চাচা আল্লাহর কসম তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চন্দ্র রেখে দেয় এ কর্ম ছেড়ে দেয়ার শর্তে তবুও আমি তা পরিত্যাগ করবো না। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে আল্লাহ বিজয়ী না করবে কিংবা তাতে আমিই ধ্বংস না হয়ে যায়।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি ইবনু ইসহাক `আল-মাগাখী` (১/২৮৪-২৮৫ সীরাত ইবনু হিশাম) অংশে ইয়াকুব ইবনু উতবাহ ইবনিল মুগীরাহ হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি মু'যাল দুর্বল। ইয়াকুব ইবনু উতবাহ নির্ভরযোগ্য তাবে তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মারা গেছেন ১২৮ হিজরীতে। আমি হাদীছটি ভিন্ন ভাষায় অন্য সূত্রে পেয়েছি। যার সনদটি হাসান পর্যায়ভুক্ত। আমি সেটিকে “আল-আহাদীছিস সাহীহাহ” গ্রন্থে ৯২ নম্বরে উল্লেখ করেছি।
` يا جبريل صف لي النار، وانعت لي جهنم، فقال جبريل: إن الله تبارك وتعالى أمر بجهنم فأو قد عليها ألف عام حتى ابيضت، ثم أمر بها فأو قد عليها ألف عام حتى احمرت، ثم أمر فأو قد عليها ألف عام حتى اسودت، فهي سوداء مظلمة، لا يضيء شررها، ولا يطفأ لهبها، والذي بعثك بالحق لوأن خازنا من خزنة جهنم برز إلى أهل الدنيا فنظروا إليه لمات من في الأرض كلهم من قبح وجهه، ومن نتن ريحه، والذي بعثك بالحق لوأن حلقة من حلق سلسلة أهل النار التي نعت الله في كتابه وضعت على جبال الدنيا لارفضت وما تقارت حتى تنتهي إلى الأرض السفلى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حسبي يا جبريل لا يتصدع قلبي، فأموت، قال: فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى جبريل وهو يبكي، فقال: تبكي يا جبريل وأنت من الله بالمكان الذي أنت به، فقال: مالي لا أبكي؟ أنا أحق بالبكاء! لعلي ابتلى بما ابتلي به إبليس، فقد كان من الملائكة، وما أدري لعلي ابتلي مثل ما ابتلي به هاروت وماروت، قال: فبكى رسول الله صلى الله عليه وسلم وبكى جبريل عليه السلام، فما زالا يبكيان حتى نوديا: أن يا جبريل ويا محمد إن الله عز وجل قد أمنكما أن تعصياه، فارتفع جبريل عليه السلام، وخرج
رسول الله صلى الله عليه وسلم فمر بقوم من الأنصار يضحكون ويلعبون، فقال: أتضحكون ووراءكم جهنم؟! لوتعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا، ولما أسغتم الطعام والشراب، ولخرجتم إلى الصعدات تجأرون إلى الله عز وجل.. فنودي: يا محمد! لا تقنط عبادي، إنما بعثتك ميسرا ولم أبعثك معسرا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سددوا وقاربوا `.
موضوع.
أخرجه الطبراني في ` الأوسط ` بسنده عن عمر بن الخطاب قال: ` جاء جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حين غير حينه الذي كان يأتيه فيه، فقام إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا جبريل: مالي أراك متغير اللون؟ فقال: ما جئتك حتى أمر الله بمفاتيح النار، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا جبريل صف لي النار. الحديث، أورده المنذري في ` الترغيب والترهيب ` (4 / 225 - 226) وأشار لضعفه أو وضعه، وقد بين علته الهيثمي في ` المجمع ` فقال (10 / 387) : ` وفيه سلام الطويل وهو مجمع على ضعفه `.
قلت: وذلك لأنه كان كذابا كما قال ابن خراش، وقال ابن حبان: (1 / 335 - 336) : ` روى عن الثقات الموضوعات، كأنه كان المعتمد لها `. وقال الحاكم - على تساهله - : ` روى أحاديث موضوعة `. قلت: وهذا منها بلا شك فإن التركيب والصنع عليه ظاهر، ثم إن فيه ما هو مخالف للقرآن الكريم في موضعين منه:
الأول: قوله في إبليس: ` كان من الملائكة ` والله عز وجل يقول فيه: (كان من الجن ففسق عن أمر ربه) ، وما يروى عن ابن عباس في تفسير قوله: (من الجن) أي من خزان الجنان، وأن إبليس كان من الملائكة، فمما لا يصح إسناده عنه، ومما يبطله أنه خلق من نار كما ثبت في القرآن الكريم، والملائكة خلقت من نور كما في ` صحيح مسلم ` عن عائشة مرفوعا، فكيف يصح أن يكون منهم خلقة، وإنما دخل معهم في الأمر بالسجود لآدم عليه السلام لأنه كان قد تشبه بهم وتعبد وتنسك، كما قال الحافظ ابن كثير، وقد صح عن الحسن البصري أنه قال: ` ما كان إبليس من الملائكة طرفة عين قط وإنه لأصل الجن، كما أن آدم عليه السلام أصل البشر `.
الموضع الثاني: قوله: ` ابتلي به هاروت وماروت `. فإن فيه إشارة إلى ما ذكر في بعض كتب التفسير أنهما أنزلا إلى الأرض، وأنهما شربا الخمر وزنيا وقتلا النفس بغير، فهذا مخالف لقول الله تعالى في حق الملائكة: (لا يعصون الله ما أمرهم ويفعلون ما يؤمرون) ، ولم يرد ما يشهد لما ذكر، إلا في بعض الإسرائيليات التي لا ينبغي
أن يوثق بها، وإلا في حديث مرفوع، قد يتوهم - بل أوهم - بعضهم صحته، وهو منكر بل باطل كما سبق تحقيقه برقم 170، ويأتي بعد حديث من وجه آخر.
৯১০। হে জিবরীল আপনি আমাকে আগুনের রূপ বর্ণনা করুন। আমাকে আপনি জাহান্নামের বিবরণ দিন। জিবরীল বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে নির্দেশ দিলেন ফলে আগুনের উপর এক হাজার বছর সাদা না হওয়া পর্যন্ত জ্বলতে থাকলো। আবার তাকে নির্দেশ দিলেন ফলে সে তার উপর এক হাজার বছর লাল না হওয়া পর্যন্ত জ্বলতে থাকলো। আবার তাকে নির্দেশ দিলেন ফলে সে তার উপর এক হাজার বছর কালো না হওয়া পর্যন্ত জ্বলতে থাকলো। সেটি কালো অন্ধকার। তার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ কখনও আলোকিত হবে না এবং তার প্রজ্জ্বলিত হওয়া কখনও নিভে যাবে না। সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন যদি জাহান্নামের একজন পাহাদার দুনিয়াবাসীদের নিকট প্রকাশ পেত আর তারা তার দিকে দৃষ্টি দিত তাহলে তার চেহারার বীভৎসতা ও তার দুর্গন্ধের ভয়াবহতার কারণে দুনিয়ার সকল বসবাসকারীই মারা যেত।
সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন যদি জাহান্নামীদের বালাগুলোর একটি বালা দুনিয়ার পাহাড়গুলোর উপর রেখে দেয়া হতো যেগুলো সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তার গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, তাহলে সেগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত আর যমীনের সর্বনিম্ন স্তরে না পোঁছা পর্যন্ত স্থিতিশীল হতো না।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যথেষ্ট হয়েছে হে জিবরীল! আমার হৃদয় যেন না ফেটে যায়, ফলে আমি মৃত্যু বরণ করি। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীলকে কাঁদতে দেখে বললেনঃ হে জিবরীল! আপনি কাঁদছেন অথচ আপনার অবস্থান আল্লাহর কাছে যেখানে আপনি আছেন সেখানেই। তখন তিনি উত্তরে বললেনঃ আমার কী হয়েছে আমি কাদবো না? আমিই তো কাঁদার বেশী উপযোগী হতে পারে আমাকে পরীক্ষায় পড়তে হতে হবে যেভাবে ইবলীসকে পরীক্ষায় পড়তে হয়েছিল। সে ছিল ফেরেশতাদের একজন। জানি না আমাকে হয়তো সেরূপ পরীক্ষায় পড়তে হতে পারে যেরূপ হারূত মারূত পরীক্ষায় পড়েছিল।
বর্ণনাকারী বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে শুরু করলেন আর জিবরীলও কাঁদতে শুরু করলেন। তারা দু’জনে কাঁদা অব্যাহত রাখলো এমতাবস্থায় উভয়কেই ডাক দেয়া হলোঃ হে জিবরীল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দু'জনকে তাঁর নাফারমানী করা হতে নিরাপদে রেখেছেন। অতঃপর জিবরীল উঠে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বেরিয়ে আসলেন। তারপর তিনি আনসারদের একটি সম্প্রদায়কে অতিক্রম করছিলেন যারা হাসছিল এবং খেলাধুলা করছিল। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা হাসছ আর তোমাদের পিছনে জাহান্নাম? আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে অবশ্যই তোমরা হাসতে কম আর কাঁদতে বেশী। আর খাদ্য ও পানীয়কে কখনও সুস্বাদু পেতে না। তোমরা উঁচু স্থানের সন্ধানে বেরিয়ে যেতে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে। ডাক দেয়া হলোঃ হে মুহাম্মাদ। আপনি আমার বান্দাদেরকে নিরাশ করবেন না। আমি আপনাকে সরল করে প্রেরণ করেছি, কঠোরতা প্রদর্শনকারী হিসাবে প্রেরণ করিনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সৎপথ প্রদর্শন করো আর পরস্পরে নিকটবর্তী হও।
হাদীছটি জাল।
এটি তাবারানী “আল-আওসাত” গ্রন্থে তার সনদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। হায়ছামী `আল-মাজমা` (১০/৩৮৭) গ্রন্থে হাদীছটির সমস্যা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ তাতে সাল্লাম আত-তাবীল রয়েছেন, তার দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কারণ তিনি একজন মিথ্যুক ছিলেন যেমনটি ইবনু খাররাশ বলেছেন।
ইবনু হিব্বান (১/৩৩৫-৩৩৬) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি যেন তা ইচ্ছাকৃতই করতেন। হাকিম শিথিলতা প্রদর্শনকারী হওয়া সত্ত্বেও বলেছেনঃ তিনি কতিপয় বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
হাদীছটি দুটি স্থানে কুরআনের বিরোধীঃ
১। বলা হয়েছে যে, ইবলীস ছিল ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে, সে ছিল জিন সম্প্রদায়ভুক্ত। এর প্রমাণ এই যে তাকে আগুন হতে সৃষ্টি করা হয়েছে যেমনটি কুরআনে এসেছে আর ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে যেমনটি সহীহ মুসলিমে এসেছে।
২। হাদীছটিতে বলা হয়েছে, যেরূপ হারূত মারূত পরীক্ষায় পড়েছিল। কোন কোন তাফসীর গ্রন্থে এসেছে তাদের দু'জনকে যমীনে নামানো হয়েছিল। তারা উভয়ে মদ পান করেছিল, যেনা করেছিল, না হকভাবে একজনকে হত্যা করেছিল। এগুলো ফেরেশতাদের শানে বর্ণিত আল্লাহর কালাম বিরোধী। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ
لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
`আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে যে বিষয়ে নির্দেশ দেন তারা তার নাফারমানী করেন না এবং তারা তাই করেন যা তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়।`
` اللهم اجعلني صبورا، اللهم اجعلني شكورا، اللهم اجعلني في عيني صغيرا وفي أعين الناس كبيرا `.
منكر.
رواه الديلمي في ` مسند الفردوس ` (1 / 2 / 191) وذكره ابن أبي حاتم في ` العلل ` (2 / 184) كلاهما من طريق عقبة بن عبد الله الأصم عن ابن بريدة عن أبيه: ` أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: علمني دعوة، فقال:.. فذكره، وقال ابن أبي حاتم عن أبيه: ` هذا حديث منكر لا يعرف، وعقبة لين الحديث `.
والحديث أورده الهيثمي في ` المجمع ` (10 / 181) من دعائه صلى الله عليه وسلم لا من تعليمه وقال: ` رواه البزار، وفيه عقبة بن عبد الله الأصم، وهو ضعيف، وحسن البزار حديثه `.
قلت: لعل تحسين البزار لحديثه يعني حديثا خاصا غير هذا، وأراد الحسن المعنوي لا الاصطلاحي، فقد قال هو نفسه في عقبة هذا: ` غير حافظ، وإن روى عنه جماعة فليس بالقوي `. وقال ابن حبان (2 / 188) : ` كان ممن ينفرد بالمناكير عن الثقات المشاهير، حتى إذا سمعها من الحديث صناعته شهد لها بالوضع `.
৯১১। হে আল্লাহ তুমি আমাকে ধৈর্যশীল বানাও। হে আল্লাহ তুমি আমাকে কৃতজ্ঞ বানাও। হে আল্লাহ তুমি আমাকে আমার নিজ দৃষ্টিতে ছোট আর লোকদের দৃষ্টিতে বড় বানাও।
হাদীছটি মুনকার।
এটি দাইলামী `মুসনাদুল ফিরদাউস` (১/২/১৯১) গ্রন্থে এবং ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” (২/১৮৪) গ্রন্থে উকবাহ ইবনু আবদিল্লাহ আল-আসাম হতে তিনি ইবনু বুরায়দাহ হতে তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।
ইবনু আবী হাতিম তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেনঃ এ হাদীছটি মুনকার চেনা যায় না। উকবাহ হাদীছের ক্ষেত্রে দুর্বল।
হাদীছটি হায়ছামী `আল-মাজমা` (১০/১৮১) গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোআ হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে বাৰ্য্যার বর্ণনা করেছেন। তাতে উকবাহ ইবনু আবদিল্লাহ রয়েছেন। তিনি দুর্বল। তার হাদীছকে বাযযার হাসান আখ্যা দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত তিনি বুঝিয়েছেন অর্থগুলো হাসান। পারিভাষিক অর্থে হাসান নয়। কারণ তিনি নিজেই বলেছেনঃ তিনি হাফিয ছিলেন না, যদিও তার থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। তিনি শক্তিশালী নন।
ইবনু হিব্বান (২/১৮৮) বলেনঃ তিনি প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীছ এককভাবে বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ...।
` إن الملائكة قالت: يا رب كيف صبرك على بني آدم في الخطايا والذنوب؟ قال: إني ابتليتهم وعافيتكم، قالوا لوكنا مكانهم ما عصيناك، قال فاختاروا ملكين منكم، فلم يألوا أن يختاروا، فاختاروا هاروت وماروت، فنزلا، فألقى الله تعالى عليهما الشبق، قلت: وما الشبق؟ قال: الشهو ة، قال: فنزلا، فجاءت امرأة يقال لها الزهرة، فوقعت في قلوبهما، فجعل كل واحد منهما يخفي عن صاحبه ما في نفسه، فرجع إليها، ثم جاء الآخر، فقال: هل وقع في نفسك ما وقع في قلبي؟ قال: نعم، فطلباها نفسها، فقالت: لا أمكنكما حتى تعلماني الاسم الذي تعرجان به إلى السماء وتهبطان، فأبيا، ثم سألاها أيضا فأبت، ففعلا فلما استطيرت
طمسها الله كوكبا وقطع أجنحتها، ثم سألا التوبة من ربهما، فخيرهما، فقال: إن شئتما رددتكم إلى ما كنتما عليه، فإذا كان يوم القيامة عذبتكما، وإن شئتما عذبتكما في الدنيا فإذا كان يوم القيامة رددتكما إلى ما كنتما عليه، فقال أحدهما لصاحبه: أن عذاب الدنيا ينقطع ويزول، فاختارا عذاب الدنيا على الآخرة، فأو حى الله إليهما أن ائتيا بابل، فانطلقا إلى بابل فخسف بهما، فهما منكوسان بين السماء والأرض معذبان إلى يوم القيامة `.
باطل مرفوعا.
رواه الخطيب في تاريخه (8 / 42 - 43) وكذا ابن جرير في تفسيره (2 / 364) من طريق الحسين: سنيد بن داود: حدثنا الفرج بن فضالة عن معاوية بن صالح عن نافع قال: سافرت مع ابن عمر، فلما كان آخر الليل قال: يا نافع طلعت الحمراء؟ قلت: لا (مرتين أو ثلاثة) ، ثم قلت: قد طلعت، قال: لا مرحبا بها وأهلا، قلت: سبحان الله، نجم سامع مطيع؟ قال: ما قلت لك إلا ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره بتمامه، لكن ليس عند ابن جرير: ` فنزلا.... ` إلخ، وقال الحافظ ابن كثير في ` تفسيره ` (1 / 255) : ` غريب جدا `. قلت: وآفته الفرج بن فضالة أو الراوي عنه سنيد، فإنهما ضعيفان كما في ` التقريب `، والحديث أصله موقوف خطأ في رفعه أحدهما، والدليل على ذلك ما أخرجه ابن أبي حاتم بسند صحيح عن مجاهد قال: كنت نازلا على عبد الله بن عمر في سفر، فلما كان ذات ليلة قال لغلامه (الظاهر أنه نافع) : انظر هل طلعت الحمراء؟ لا مرحبا بها ولا أهلا، ولا حباها الله، هي صاحبة الملكين، قالت الملائكة، يا رب كيف تدع عصاة بني آدم....؟ قال: إني ابتليتهم … الحديث نحوه، قال ابن كثير: ` وهذا إسناد جيد وهو أصح من حديث معاوية بن صالح هذا، ثم هو مما أخذه ابن عمر عن كعب الأحبار كما تقدم بالسند الصحيح عنه في الحديث الذي قبله بحديث، والله أعلم، ثم قال ابن كثير: ` وقد روي في قصة هاروت وماروت عن جماعة من التابعين كمجاهد والسدي والحسن البصري وقتادة وأبي العالية والزهري والربيع بن أنس ومقاتل بن حيان وغيرهم، وقصها خلق من المفسرين من المتقدمين والمتأخرين، وحاصلها راجع في تفصيلها إلى أخبار بني إسرائيل إذ ليس فيها حديث مرفوع صحيح متصل الإسناد إلى الصادق المصدوق المعصوم الذي لا ينطق عن
الهوى. وظاهر سياق القرآن إجمال القصة من غير بسط ولا إطناب فيها، فنحن نؤمن بما ورد في القرآن على ما أورده الله تعالى، والله أعلم بحقيقة الحال `.
قلت: وقد زعمت امرأة من أهل دومة الجندل أنها رأتهما معلقين بأرجلهما ببابل، وأنها تعلمت منهم السحر، وهما في هذه الحالة، في قصة طويلة حكتها لعائشة رضي الله تعالى عنها، رواها ابن جرير في ` تفسيره ` (2 /366 - 367) بإسناد حسن عن عائشة، ولكن المرأة مجهولة فلا يوثق بخبرها، وقد قال ابن كثير (1 / 260) : ` إنه أثر غريب وسياق عجيب `. وقد اكتفيت بالإشارة إليه، فمن شاء الوقوف على سياقه بتمامه فليرجع إليه. ومما يتصل بما سبق الحديث الآتي:
৯১২। ফেরেশতারা বললঃ হে প্ৰভু, আদম সন্তানের ভুলভ্রান্তি ও গুনাহসমূহের ব্যাপারে তোমার ধৈর্যের ধরণ কেমন? তিনি বললেনঃ আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি আবার তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তারা বললঃ আমরা যদি তাদের স্থলে হতাম তাহলে তোমার নাফরমানী করতাম না। আল্লাহ বললেনঃ তোমাদের মধ্য হতে দু'জন ফেরেশতাকে বাছাই করো। তারা বাছাই করতে অলসতা করল না। তারা হারূত ও মারতকে বাছাই করল। তারা উভয়ে যমীনে অবতরণ করল। আল্লাহ তা'আলা তাদের উভয়ের উপর শাবাক দিয়ে দিলেন। আমি জানতে চাইলাম শাবাক কী? তিনি উত্তরে বললেনঃ যৌন উত্তেজনা। তিনি বললেনঃ তারা অবতরণ করল। অতঃপর তাদের নিকট এক নারী আসল, তাকে বলা হয় যুহারাহ। তাদের উভয়ের অন্তরে নারীটিকে পাওয়ার কামনা জাগলো। ফলে দু'জনের প্রত্যেকে তার নিজ অন্তরে যা উদয় হয়েছে তা লুকাতে লাগল।
একজন তার (নারীটির) নিকট আসল। অতঃপর দ্বিতীয়জন আসল এবং বললঃ আমার অন্তরে যা জেগেছে তোমার অন্তরেও কি তা জেগেছে? সে বললঃ হ্যাঁ। তারা উভয়ে সেই নারীটিকে কামনা করল। নারীটি বললঃ তোমাদেরকে আমি সক্ষম হতে দেব না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা আমাকে সেই মন্ত্র শিক্ষা না দিবে যার দ্বারা তোমরা আসমানে উঠ আর নেমে আস। তারা উভয়ে তা অস্বীকার করল। অতঃপর উভয়েই নারীটিকে পূনরায় কামনা করল। সে অসম্মতি জানাল। ফলে তারা উভয়েই তাকে মন্ত্র জানিয়ে দিল।
সে নারী যখন (আসমানে) উড়া শুরু করল তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে নক্ষত্রে রূপান্তরিত করলেন। আর তার ডানাগুলো কেটে ফেললেন। অতঃপর তারা উভয়েই তাদের প্রভুর কাছে তওবার আবদার রাখল। আল্লাহ তাদের দু’জনকে স্বাধীনতা দিয়ে বললেনঃ যদি তোমরা দু’জন চাও তাহলে আমি তোমাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব। তবে তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দিব। আর যদি চাও তাহলে দুনিয়াতে শাস্তি দিব আর কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিব। তাদের একজন অন্যজনকে বললঃ দুনিয়ার আযাব বন্ধ হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। এ কারণে তারা উভয়েই দুনিয়ার শাস্তিকে আখেরাতের শাস্তির উপর বেছে নিল। আল্লাহ তা'আলা উভয়ের নিকট বাবেলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তারা উভয়েই বাবেলে গেল, অতঃপর তাদের দু'জনকে মাটিতে গেড়ে দেয়া হল। তারা দু’জনকে আসমান ও যমীনের মধ্যে উপুড় করে রেখে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
হাদীছটি মারুফু হিসাবে বাতিল।
এটি আল-খাতীব “আত-তারীখ” (৮/৪২-৪৩) গ্রন্থে এবং অনুরূপভাবে ইবনু জারীর তার “তাফসীর” (২/৩৬৪) গ্রন্থে হুসাইন সূত্রে সুনায়েদ ইবনু দাউদ হতে তিনি আল-ফারাজ ইবনু ফুযালাহ হতে তিনি মুয়াবিয়াহ ইবনু সালেহ হতে ... বর্ণনা করেছেন।
হাফিয ইবনু কাছীর তার “তাফসীর” (১/২৫৫) গ্রন্থে বলেছেনঃ হাদীছটি খুবই গারীব (দুর্বল)।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার সমস্যা হচ্ছে আল-ফারাজ ইবনু ফুযালাহ অথবা তার থেকে বর্ণনাকারী সুনায়েদ। কারণ তারা উভয়েই দুর্বল যেমনটি “আত-তাকরীব` গ্রন্থে এসেছে। হাদীছটি আসলে মওকুফ। তাদের দু'জনের একজন এটিকে মারফু করে ফেলেছেন।
ইবনু কাছীর বলেনঃ হারূত মারূতের ঘটনাটি একদল তাবেঈ হতে বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী একদল মুফাসসিরও ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। যার সার সংক্ষেপ এই যে, এটি ইসরাঈলীদের থেকে বর্ণিত একটি ঘটনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মুত্তাসিল সহীহ সনদে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি।
` لعن الله الزهرة، فإنها هي التي فتنت الملكين: هاروت وماروت `.
موضوع.
رواه ابن السني في ` عمل اليوم والليلة ` (648) وابن منده في ` تفسيره ` كما في ` تفسير ابن كثير ` (1 / 256) من طريق جابر عن أبي الطفيل عن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال الحافظ ابن كثير: ` لا يصح، وهو منكر جدا `.
قلت: وآفته جابر وهو ابن يزيد الجعفي وهو متهم بالكذب، وكان يؤمن برجعة علي ويقول: إنه دابة الأرض
المذكورة في القرآن! والحديث أورده السيوطي في ` الدر المنثور ` (1 / 97) وكذا في ` الجامع الصغير ` من رواية ابن راهويه وابن منده، وبيض له المناوي فلم يتعقبه بالشيء، ومن العجيب، أن السيوطي لم يورده في ` الجامع الكبير ` وهو كان أحق به!
৯১৩। যুহারাকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। কারণ সে সেই নারী যে দু' ফেরেশতা হারূত ও মারুতকে ফেতনায় ফেলেছিল।
হাদীছটি জাল।
এটি ইবনুস সুন্নী `আমলুল ইওয়াম ওয়াল লাইলাহ` (৬৪৮) গ্রন্থে, ইবনু মান্দাহ তার “তাফসীর” গ্রন্থে (যেমনটি “তাফসীর ইবনু কাছীর” (১/২৫৬) গ্রন্থে এসেছে) জাবের সূত্রে তিনি আবুত তুফায়েল হতে তিনি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু কাছীর বলেনঃ এটি সহীহ নয়, হাদীছটি খুবই মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তার সমস্যা এই জাবের ইবনু ইয়াযীদ আল-জুফী। তিনি মিথ্যার দোষে দোষী। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পুনরায় ফিরে আসবেন এ বিশ্বাসে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আরো বলতেনঃ কুরআনের মধ্যে যে দাব্বাতুল আরযের (যমীনের পশু) কথা রয়েছে সেটি স্বয়ং আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)।
তা সত্ত্বেও সুয়ূতী `আদ-দুররুল মানছুর` (১/৯৭) গ্রন্থে এবং “আল-জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করেছেন।
` أرشدوا أخاكم `.
ضعيف.
رواه الحاكم (2 / 439) عن سعد بن عبد الله بن سعد عن أبيه عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: ` سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا قرأ فلحن، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم … ` فذكره، وقال: ` صحيح الإسناد `، ووافقه الذهبي.
وأقول: كلا، فإن عبد الله بن سعد والد سعد وهو الأيلي غير معروف، ولم يترجموا له، مع أنهم ترجموا لابنه، ولم يذكروا له رواية عن أبيه، والله أعلم.
৯১৪। তোমরা তোমাদের ভাইকে সঠিকভাবে পরিচালিত করো।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি হাকিম (২/৪৩৯) সা’আদ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনে সা’আদ হতে তিনি তার পিতা হতে, তিনি আবুদ দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। কোন এক ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত করতে ভুল করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত কথাটি বলেন।
হাকিম বলেনঃ সনদটি সহীহ। যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কক্ষণও নয়। কারণ সাআদের পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনু সা’আদ পরিচিত নন। তারা (মুহাদ্দিছগণ) তার জীবনী আলোচনা করেননি। তারা তার পুত্রের জীবনী আলোচনা করলেও তার পিতা হতে তার কোন বর্ণনা উল্লেখ করেননি।
` إن العبد ليموت والداه أو أحدهما وإنه لعاق، فلا يزال يدعولهما حتى يكتب عند الله بارا `.
ضعيف.
أورده ابن الجوزي في ` الموضوعات ` (3 / 88) من طريق لاحق بن الحسين بسنده عن إسماعيل بن محمد بن جحادة عن أبيه عن أنس مرفوعا قال: ` لا أصل له، لاحق كذاب يضع `.
وتعقبه السيوطي في ` اللآلىء المصنوعة ` (2 / 297) بأن له طريق آخر، أخرجه البيهقي في ` الشعب ` قال: أنبأنا أبو عبد الرحمن السلمي … عن يحيى بن عقبة بن أبي العيزار عن محمد بن جحادة عن أنس بن مالك به وقال السيوطي: ` ويحيى بن عقبة ضعيف `.
قلت: بل هو شر من ذلك فقد قال أبو حاتم: ` يفتعل الحديث `. وقال ابن حبان: ` يروي الموضوعات عن الأثبات `. وقال ابن معين: ` كذاب خبيث عدوالله `. وقد أورده ابن عراق في ` الوضاعين ` من مقدمة كتابه ` تنزيه الشريعة ` ثم نسي ذلك فتابع السيوطي في تعقبه على ابن الجوزي! وأورد الحديث من أجل ذلك في ` الفصل الثاني ` (2 / 297) . قلت: وأبو عبد الرحمن السلمي متهم أيضا، فالسند هالك، لكن قال السيوطي بعد ذلك: ` وقال ابن أبي الدنيا في ` كتاب القبور `: حدثني خالد بن خداش: حدثنا عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن عبد العزيز بن أبي سلمة الماجشون عن أيوب السختياني عن محمد بن سيرين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الرجل ليموت.... ` الحديث. قال خالد: فحدثت حماد بن زيد فأعجب بذلك، أخرجه البيهقي وقال: هذا على إرساله أصح من الأول. وقال العراقي في ` تخريج الإحياء `: ` هذا مرسل صحيح الإسناد `.
قلت: كلا، فإن خالد بن خداش مخدوش! قال الذهبي في ` الميزان `: ` وثق وقال أبو حاتم وغيره، صدوق، وقال ابن معين ينفرد عن حماد بأحاديث، وقال ابن المديني وزكريا الساجي: ضعيف `.
ثم ساق الذهبي له حديث: ` لا يولد مولود بعد ستمائة لله فيه حاجة ` وقال: ` منكر `. قلت: فالإسناد على إرساله ضعيف من أجله، فالحديث لا يصح بوجه من الوجوه، والله أعلم.
৯১৫। কোন বান্দা তার পিতা-মাতা বা যে কোন একজন মারা যাওয়া অবস্থায় অবাধ্য থাকলে, তাদের দু'জনের জন্য সে আল্লাহর নিকট নেককার বান্দা হিসাবে না লিখা পর্যন্ত সর্বদা দোআ করবে।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি ইবনুল জাওযী `আল-মাওষু'আত` (৩/৮৮) গ্রন্থে লাহেক ইবনুল হুসাইন সূত্রে তার সনদে ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে জাহাদাহ হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু' হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই। লাহেক মিথ্যুক, জালকারী।
সুয়ুতী “আল-লাআলী” (২/২৯৭) গ্রন্থে তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীছটির অন্য সূত্রও রয়েছে, সেটি বাইহাকী “আশ-শু'আব` গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী বলেনঃ তাতে ইয়াহইয়া ইবনু উকবাহ রয়েছেন তিনি দুর্বল।
আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি তার চেয়েও নিকৃষ্ট। আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি হাদীছ তৈরি করতেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করতেন। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, খাবীছ, আল্লাহর দুশমন।
ইবনু ইরাক `তানযীহুশ শারীয়াহ` গ্রন্থের ভূমিকায় তাকে জালকারীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি তা ভুলে গিয়ে ইবনুল জাওযীর সমালোচনায় সুয়ুতীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী জাল করার দোষে দোষী। সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু সুয়ূতী বলেছেনঃ ইবনু আবিদ দুনিয়া `কিতাবুল কুবূর` গ্রন্থে খালেদ ইবনু খুদাশ হতে ... বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইরাকী `তাখরীজুল ইহইয়্যা` গ্রন্থে বলেনঃ মুরসাল হিসাবে এটির সনদ সহীহ।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কক্ষণও নয়, কারণ এই খালেদ ইবনু খুদাশ দোষী। তার সম্পর্কে হাফিয যাহাবী `আল-মীযান` গ্রন্থে বলেনঃ তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। আবু হাতিম ও অন্য বিদ্বানগণ বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি হাম্মাদ হতে কতিপয় হাদীছ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মাদীনী ও যাকারিয়া আস-সাজী বলেনঃ তিনি দুর্বল। অতঃপর যাহাবী তার একটি হাদীছ উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি মুনকার।
আমি (আলবানী) বলছিঃ মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও তার কারণেই সনদটি দুর্বল।
918) .
ووجه المخالفة واضح جدّاً: ففيه أن الرفع المستنكر إنما هو رفع الأيدي عند
السلام في آخر التشهد، وأنه وقع في عهده صلى الله عليه وسلم فأنكره. وفي حديث الإباضية
أنه سيقع بعده صلى الله عليه وسلم! وقد حملوه على رفع الأيدي عند الإحرام والركوع المتواتر
فعله عن الصحابة والسلف رضي الله عنهم. فقد ترجم له مرتب `مسند الربيع بن
حبيب ` يوسف بن إبراهيم السدراني الوارجلاني (ت 570) فقال:
` ما جاء في منع الاقتداء بمن يرفع يديه في الصلاة`!
وعلى هذا مشى شارحه الشيخ عبد الله ابن حميد السالمي؛ فقال في شرحه
لحديثهم (1/317) :
` المشار إليهم في هذا الحديث هم قومنا (يعني: أهل السنة) ؛ فإنهم هم
الذين اختصوا برفع أيديهم في الصلاة كأنها أذناب خيل شمس، حتى نقل غير
واحد منهم الإجماع على رفع اليدين عند تكبيرة الإحرام، ولم يتركه إلا النادر
منهم (!) فقد نقل عن مالك أنه لا يستحب. وحكاه الباجي عن كثير من
متقدميهم. ونقل عن الزيدية أنه لا يجوز رفع اليدين عند تكبيرة الإحرام ولا
عند غيرها. وقيل: لم يقل بتركه منهم إلا الهادي يحيى بن الحسين وجده
القاسم بن إبراهيم. والحق: المنع … لحديث الباب؛ وحديث جابر بن سمرة:
`ما لي أراكم رافعي أيديكم كأنها أذناب خيل شمس، اسكنوا في الصلاة` رواه
مسلم. وروى الحاكم في `المدخل ` من حديث أنس: `من رفع يديه في الصلاة؛
فلا صلاة له `.
وقد روى قومنا أحاديت الرفع عن العدد الكثير من الصحابة، فإن صح ذلك
- ولا أراه يصح (!) - ؛ فمنسوخ بما ذكرنا (!) ، ويمكن أنه صلى الله عليه وسلم رفع مرة واحدة؛ كما
قيل: أنه أراد أن يفضح المنافقين الذين علقوا الأصنام تحت آباطهم، فإذا رفعوا؛
أيديهم؛ سقطت وانكشفت، فيفتضحون بذلك فلا يفعلونه مرة أخرى، وإن لم
يرفعوا؛ افتضحوا بالمخالفة (!) ، وعلى الحالين فهو زجر لهم. فرواه قومنا سنة مسلوكة،
رغبوا فيها؛ بل أوجبها بعضهم، وقد كشف لرسول الله صلى الله عليه وسلم ما سيفعلونه بعده؛
فأخبرنا به تحذيراً بقوله: (كأني بقوم يأتون بعدي يرفعون … ) ` إا
هذا كلامه بالحرف الواحد! عامله الله بما يستحق إا
ولقد أكد لي حين وقفت عليه أن ثناء الأستاذ عز الدين التنوخي عليه - في
تقديمه لـ `شرح مسند الربيع بن حبيب` (ص: ك) ، وقوله فيه: `أن أبحاثه تدل
على اعتدال في التحقيق، وبُعْد عن التعصب `، أن ذلك - إنما كان منه تزلفاً إليه،
ومداهنة … ولا أقول مداراة، اللهم! إلا إن كان التنوخي لا علم عنده مطلقاً
بالأحاديث وفقهها؛ فإن شرح الشيخ السالمي لهذا الحديث وتعليقه عليه فقط يؤكد
أنه من كبار أهل الأهواء المتعصبين لمذاهبهم، والمتكلفين لرد أدلة الحق المخالفة
لهم. وإليك البيان:
أولاً: قوله: `لم يتركه إلا النادر منهم ` … هذا من عندياته؛ فإنه لم يذكر
أحداً من أهل العلم ترك الرفع عند تكبيرة الإحرام، بل هو مخالف للإجماع الذي
حكاه هو عن أهل السنة - ومنهم الطحاوي في `شرح معاني الآثار` (1/134) - ،
ومن الظاهر أنه لا يعتد بإجماعهم، ولا بما كان عليه جماهير الصحابة والسلف في
الرفع كما سيأتي.
ث! انيأ: فقد نقل عن مالك أنه لا يستحب!
فأقول: هذا كالذي قبله، والكلام في الرفع عند تكبيرة الإحرام؛ فإنه خلاف
ما في `المدونة` (1/68) و`الموطأ، (1/97) ، وخلاف ما نقله العلماء عنه كابن
رشد في `البداية`: أن مذهبه الرفع عند تكبيرة الإحرام، دون أي خلاف عنه،
بخلاف الرفع عند الركوع، فعنه روايتان، رجح الباجي في `المنتقى` (1/142)
الرفع، وهو الموافق لما في ` الموطأ! .
ثالثاً: قوله: `وحكاه الباجي عن كثير من متقدميهم `!
قلت: نص كلام الباجي:
`وروي عن بعض المتقدمين المنع من ذلك `.
فأنت ترى أن الشيخ السالمي حرّف لفظة: (بعض) … إلى: (كثير) ! فهل
كان ذلك عن غير قصد؟ الجواب في المثالين الأولين! ثم إن الباجي أشار إلى
تمريض الرواية بذلك!
رابعاً: قوله: `ونقل عن الزيدية أنه لا يجوز … `.
قلت: فيه إيهام خبيث: أن الناقل هو الباجي! وليس كذلك؛ فهو من كلام
السالمي نفسه، فكان عليه أن يدفع الإيهام بمثل قوله: `ونقل بعضهم … ! .
والناقل هو ابن المنذر والعبدري؛ كما في `نيل الأوطار` للشوكاني (2/149) ،
ثم رده بقوله:
`وهو غلط على الزيدية؛ فإن إمامهم زيد بن علي رحمه الله ذكر في كتابه
المشهور بـ `المجموع ` حديث الرفع (1) ، وقال باستحبابه أكابر أئمتهم المتقدمين
والمتأخرين … `.
ولذلك انتقد الشوكاني رحمه الله مؤلف كتاب `حدائق الأزهار` الذي لم
يذكر هذه السنة في (فصل سنن الصلاة) ` فقال في `السيل الجرار` (1/226) :
`وكان ينبغي له أن يذكر في هذا الفصل المشتمل على ذكر سنن الصلاة:
السنة العظمى والخصلة الكبرى التي هي أشهر من شمس النهار، وهي العلم الذي
في رأسه نار؛ وذلك: سنة الرفع عند افتتاح الصلاة؛ فإنها قد ثبتت من طريق
خمسين من الصحابة منهم العشرة المبشرة بالجنة.
(1) ` مسند الإمام زيد` (ص 90) . واعلم أن هذا `المسند` حاله عندنا كحال `مسند الربيع
ابن حبيب ` أو أسوأ؛ فإنه من رواية عمرو بن خالد أبي خالد الواسطي عن الإمام زيد.
والواسطي هذا اتفق أئمتنا على أنه كذاب وضاع؛ فراجع ترجمته في `الميزان` وغيره.
ثم سنة الرفع عند الركوع وعند الاعتدال منه، ثم سنة ضَمّ اليد اليمنى على
اليسرى؛ فإن هذه سنن ثابتة بأحاديث متواترة … ، إلخ.
خامساً: قال: `والحق: المنع … لحديث الباب `.
قلت: قد عرفت أن الحديث منكر سنداً، باطل متناً، وإن مما يؤكد ذلك أن
ابن عباس الذي نسبوا الحديث إليه قد صح عنه من طرق أنه كان يرفع يديه عند
افتتاح الصلاة، وإذا ركع، وإذا رفع رأسه من الركوع.
أخرجه عبد الرزاق في (المصنف ` (2/69) ، وابن أبي شيبة أيضاً (1/235)
بسندٍ صحيح عنه.
ثم أخرجه عبد الرزاق بسند آخر صحيح عن طاوس قال:
رأيت عبد الله بن عمر، وعبد الله بن عباس، وعبد الله بن الزبير يرفعون أيديهم
في الصلاة.
قلت: فلو كان الحديث صحيحاً عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ، وبالمعنى الذي حملوه عليه؛
لم يخالفه ابن عباس ولا غيره من الأصحاب - كما هو ظاهر - .
سادساً: قال: `وحديث جابر بن سمرة: (ما لي أراكم … ) ` الحديث.
فأقول: هذه رواية مختصرة، قد فسرتها رواية أخري لمسلم وغيره، وبينت أن
الإنكار كان على رفع الأيدي عند السلام - كما تقدم - . وبهذا أجاب الشوكاني،
ولكنه قال عقبه:
`ورُدّ هذا الجواب بأنه قصر للعام على السبب، وهو مذهب مرجوح - كما تقرر
في الأصول - . وهذا الرد متجه؛ لولا أن الرفع قد ثبت من فعله صلى الله عليه وسلم ثبوتاً متواتراً
- كما تقدم - ، وأقل أحوال هذه السنة المتواترة أن تصلح لجعلها قرينة لقصر ذلك
العام على السبب، أو لتخصيص ذلك العموم على تسليم عدم القصر. وربما نازع
في هذا بعضهم فقال: قد تقرر عند بعض أهل الأصول: أنه إذا جُهل تاريخ العام
والخاص أُطْرِحَا! وهو لا يدري أن الصحابة قد أجمعت على هذه السنة بعد موته
صلى الله عليه وسلم، وهم لا يجتمعون إلا على أمر فارقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عليه. على أنه قد ثبت
من حديث ابن عمر عند البيهقي أنه قال - بعد أن ذكر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يرفع
يديه عند تكبيرة الإحرام وعند الركوع وعند الاعتدال - :
فما زالت تلك صلاته حتى لقي الله تعالى.
وأيضاً؛ المتقرر في الأصول بأن العام والخاص إذا جُهل تاريخهما؛ وجب
البناء. وقد جعله بعض أئمة الأصول مجمعاً عليه؛ كما في `شرح الغاية`
وغيره `. انتهى كلام الشوكاني رحمه الله.
ولقد كابر الزيلعي في `نصب الراية` (1/393) والمعلق عليه، فأبيا تفسير
الرواية المختصرة بالرواية المفصلة، وتجاهلا ما ذكره الزيلعي عن البخاري في رده على
الحنفية، وهو قوله:
إ ولو كان كما ذهبوا إليه لكان الرفع في تكبيرات العيد أيضاً منهيّاً عنه؛ لأنه
لم يستثن رفعاً دون رفع، بل أطلق `.
ورفع اليدين في تكبيرات العيدين هو قول أبي حنيفة وصاحبيه كما في
`مختصر الطحاوي ` (ص 37) ، و`الهداية` (2/43) ، وروي رفعهما في تكبيرات
الجنازة أيضاً عن أبي حنيفة، وتعجب منه ابن حزم في `المحلى` (5/128) ؛ لأنه
- كما قال - لم يأت قط عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومنعه في سائر الصلوات، وقد صح عن
النبي صلى الله عليه وسلم!!
وكابر المعلق أيضاً على `نصب الراية` (2/285) فقال عقبه:
`قلت: هذه النسبة منه أعجب `.
وأقول: لا عجب؛ فإن قول أبي حنيفة هذا منقول في `حاشية ابن عابدين `
وغيره، وعليه عمل أئمة بلْخ الحنفيين؛ خلافاً لحنفية اليوم!
سابعاً: قوله: `وروى الحاكم في `المدخل `: … من رفع يديه في الصلاة؛
فلا صلاة له `.
قلت: هذا غاية الضلال. أن يحتج بهذا الحديث وهو موضوع باتفاق العلماء!
حتى الحنفية منهم؛ كالزيلعي والقاري، فقال في `موضوعاته`:
`هذا الحديث وضعه محمد بن عكاشة الكرماني قبَّحه الله `.
وأورده ابن الجوزي في `الموضوعات ` (2/96 - 98) من حديث أنس وغيره،
وقال:
`وما أبله من وضع هذه الأحاديث الباطلة ليقاوم بها الأحاديث الصحيحة!
ففي `الصحيحين، من حديث ابن عمر: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا افتتح الصلاة؛ رفع
يديه … ` الحديث.
وقول الشيخ الإباضي: `وروى الحاكم … ` يوهم أنه رواه بإسناده إلى محمد
ابن عكاشة! وليس كذلك؛ فإنه إنما ذكره تحت جماعة وضعوا الحديث في الوقت
لحاجتهم إليه، منهم ابن عكاشة هذا! راجع `نصب الراية` (1/404 - 405) ،
وإنما رواه ابن الجوزي بإسناده إليه، وأقره السيوطي على وضعه في `اللآلي` (2/19
و470) وغيره. انظر الكلام عليه فيما تقدم برقم (568) .
وإن احتجاج الإباضي بهذا الحديث الموضوع لهو من أكبر الأدلة على جهله
بهذا العلم أو تجاهله، وهو هنا شر من الجهل؛ لدخوله تحت قوله صلى الله عليه وسلم: `من حدث
عني بحديث يرى أنه كذب؛ فهو أحد الكاذبين `. رواه مسلم وابن حبان وغيرهما.
والله المستعان، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
ثامنأ: قال: `وقد روى قومنا أحاديث الرفع عن العدد الكثير من الصحابة،
فإن صح ذلك - ولا أراه يصح - ؛ فمنسوخ `.
قلت: هذا إعلان صريح منه أنه لا يقيم وزناً للأحاديث الصحيحة! ولو كانت
متواترة، وعمل بها الصحابة ومن بعدهم ممن سلك سبيلهم! وأن التصحيح
والتضعيف عنده خاضع لهواه! وأن من كان على شاكلته لا يفيد البحث معهم إلا
بعد الاتفاق على الأصول والقواعد. وهيهات هيهات!
وقد وقفت حديثاً على رسالة لأحدهم في الرفع وضم اليدين في الصلاة؛
ذهب فيها إلى تضعيف أحاديث الرفع والضم كلها! وإن مما يُضحك الثكلى أنه
صرح بأن حديث ابن عمر في الرفع المذكور آنفاً موضوع! وأن علته الإمام الزهري!!
وقد رددت عليه ردّاً موجزاً في مقدمة الطبعة الجديدة لكتابي `صفة الصلاة`.
وأما ادعاء النسخ فقد سبق الجواب عنه من كلام الشوكاني، وفيه مَقْنَغٌ لكل
منصف. وكيف يستقيم في لُبِّ مسلم غير سكران بالهوى أن يتصور استمرار الصحابة
على الرفع بعد النبي صلى الله عليه وسلم وهو منسوخ؟! وقد صح عن الحسن البصري أنه قال:
كان أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يرفعون أيديهم إذا ركعوا، وإذا رفعوا رؤوسهم من
الركوع … كأنما أيديهم مراوح.
وعن سعيد بن جبير: أنه سئل عن رفع اليدين في الصلاة؛ فقال: هو شيء
يزين به الرجل صلاته، كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفعون أيديهم في الافتتاح،
وعند الركوع، وإذا رفعوا رؤوسهم.
أخرجهما البيهقي (2/ 75) .
وقال محمد بن عمرو بن عطاء: سمعت أبا حميد الساعدي في عشرة من
أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم منهم أبو قتادة - ، قال أبو حميد: أنا أعلمكم بصلاة رسول
الله صلى الله عليه وسلم. قالوا: فاعرض. قال:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة؛ رفع يديه حتى يحاذي بهما منكبيه،
ثم كبر … الحديث بطوله، وفيه الرفع عند الركوع والرفع منه، وفي آخره:
قالوا: صدقت؛ هكذا كان يصلي صلى الله عليه وسلم.
أخرجه أبو داود وغيره بإسناد صحيح على شرط مسلم، وصححه الترمذي وابن
الجارود وابن حبان وغيرهم، وهو مخرج في `الإرواء` (2/13/305) ، و`صحيح
أبي داود` (720) .
وماذا عسى أن يقول القائل في رجل يتجرأ على تضعيف ما تواترت صحته
عنه صلى الله عليه وسلم، ثم هو لا يخجل أن يقول؛ `ويمكن أنه صلى الله عليه وسلم رفع لعذر مرة واحدة كما
قيل … ` إلى آخر هراثه وخرافته التي لا تعرف إلا من روايته` {فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى
الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} .
৯১৬। লাঠির উপর ভর করা নবীগণের চরিত্রগত অভ্যাস। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি লাঠি ছিল তিনি তার উপর ভর দিতেন এবং আমাদেরকে তার উপর ভর দিতে নির্দেশ দিতেন।
হাদীছটি জাল।
এটি আবুশ শাইখ `আখলাকুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)` (পৃঃ ২৫৯) গ্রন্থে এবং ইবনু আদী “আল-কামিল” (কাফ ১/৩৩০) গ্রন্থে উছমান ইবনু আবদির রহমান হতে তিনি আল-মুয়াল্লা ইবনু হিলাল হতে তিনি লাইছ হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী এই আল-মুয়াল্লার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ তিনি হাদীছ জলকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আর উছমান ইবনু আবদির রহমান হচ্ছেন হাররানী আত-তারায়েফী। তিনি সত্যবাদী। তবে তার অধিকাংশ বর্ণনায় দুর্বল ও মাজহুল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণিত। সে কারণেই তিনি দুর্বল। এমনকি ইবনু নুমায়ের তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন। আর ইবনু মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, যেমনটি `আত-তাকরীব` গ্রন্থে এসেছে।
ترقيمي) .
৯১৭। শহরের জামে মসজিদ ছাড়া জুম'আহ ও ঈদের সালাত নেই।
হাদীছটির মারফু হিসাবে কোন ভিত্তি নেই।
তবে আবু ইউসুফ “কিতাবুল আছার” নং (২৯৭) গ্রন্থে বলেনঃ আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) ধারণা করতেন যে, তার নিকট হাদীছটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পৌছেছে। এটি তার ধারণা মাত্র। এদিকেই আবু ইউসুফ তারزعم أبو حنيفة এ ভাষার দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন, যদিও তিনি তার ইমাম। হাদীছটির সনদটি মু'যাল। আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি হাফিয যায়লাঈ `নাসবুর রায়াহ` (২/১৯৫) গ্রন্থে নিম্নলিখিত ভাষায় সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেনঃ
হাদীছটি মারফু হিসাবে গারীব। এটিকে আমরা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মওকুফ হিসাবে পেয়েছি।
হাফিয ইবনু হাজার সন্দেহ জাগিয়েছেন মারফু হওয়ার। তিনি “আত-তালখীস` (পৃঃ ১৩২) গ্রন্থে বলেছেনঃ আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীছ ...। এ হাদীছটিকে ইমাম আহমাদ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম নবাবী `আল-মাজমূ` (৪/৪৮৮) গ্রন্থে বলেনঃ হাদীছটি নিতান্তই দুর্বল। হাদীছটি কে বর্ণনা করেছেন তারা দু'জন তা বর্ণনা করেননি।
এটিকে আরো শক্তিশালী করছে মওকুফটিকে ইমাম আহমাদ কর্তৃক দুর্বল আখ্যা দান। আর মারফুটিকে তিনি উল্লেখ করেননি। আমার বিশ্বাস তিনি মারফু হিসাবে শুনেননি।
ইসহাক ইবনু মানসূর মারওয়ায়ী ইমাম আহমাদ হতে তার “মাসায়েল” (পৃঃ ২১৯) গ্রন্থে বলেছেনঃ আমি তার নিকট আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কথাটি উল্লেখ করলেلا جمعة তিনি বলেনঃ আ'মাশ সা’আদ হতে শুনেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সা’আদ হচ্ছেন ইবনু ওবায়দাহ। হাদীছটি ইবনু আবী শাইবাহ `আল-মুসান্নাফ` (১/২০৪/১) গ্রন্থে আবু মুয়াবিয়াহ সূত্রে ... আর আলী ইবনুল জা'য়াদ আল-জাওহারী তার `হাদীছ` (১২/১৭৮/১) গ্রন্থে আবু জাফার সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ আমাশ ও সাআদের মধ্যে ইনকিতা' (বিচ্ছিন্নতা) সাব্যস্ত করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ কিন্তু আ'মাশ সা’আদ হতে এককভাবে বর্ণনা করেননি। বরং ইবনু আবী শাইবার নিকট তালহাহ ইবনু মুসাররাফ আর ইমাম তাহাবী [`আল-মুশকিলুল আছার` (২/৫৪) গ্রন্থে] ও বাইহাকীর [`আস-সুনান` (৩/১৭৯)] নিকট আল-ইয়ামী সা’আদ হতে বর্ণনা করতে তার (আ'মাশ) মুতাবা'য়াত করেছেন।
অতএব মওকুফ হিসাবে সনদটি সহীহ। ইবনু হাযম `আল-মুহাল্লাহ` (৫/৫৩) গ্রন্থে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। এটিই ইমাম তাহাবীর কথার সাথে মিলে যায়। কিন্তু তিনি বলেছেনঃ আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার নিজ মত হতে বলেননি। কারণ এরূপ কথা নিজ মত হতে বলা যায় না। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবহিত হয়েই বলেছেন।
ইমাম তাহাবীর উক্ত কথায় সুস্পষ্ট বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারণ হৃদয় সাক্ষী দিচ্ছে যে, এরূপ কথা নিজ মত ও ইজতিহাদ হতেই বলা যায়। কারণ উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে তার বিপরীত কথা বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে। সে ক্ষেত্রেও কি বলতে হবে, এটিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবহিত হওয়া গেছে? যদিও এটিই সঠিক। ইবনু আবী শাইবাহ `জুম'আর সালাত গ্রাম ও অন্য স্থানে কায়েম করার পক্ষে যারা মত দিয়েছেন` অধ্যায়ে আবু রাফের সূত্রে আবু হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তারা উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট জুম'আর সালাতের ব্যাপারে লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠালেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) লিখিতভাবে জানালেনঃ جمعوا حيثما كنتم যেখানেই তোমরা থাক না কেন তোমরা জুম'আর সালাত কায়েম কর।’
আমি (আলবানী) বলছিঃ শাইখায়েনের শর্তানুযায়ী উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আছারটির সনদ সহীহ। আবু রাফে হচ্ছেন, নুফায়ে ইবনু রাফে আস-সায়েগ আল-মাদানী। ইমাম আহমাদ এ আছারটির দ্বারা দলীল গ্রহণ করার মাধ্যমে আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আছারটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ প্রথম জুম'আহ যেটি মদীনায় কায়েম করা হয়েছিল। তাদেরকে মুসআব ইবনু উমায়ের জুম'আর জন্য একত্রিত করে তিনি তাদের জন্য একটি ছাগল যবেহ করেছিলেন। তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছিল। তারা সংখ্যায় ছিলেন চল্লিশজন...।
ইসহাক আল-মারওয়ায়ী বলেন, আমি তাকে বললামঃ মারু স্থানের গ্রামে যদি তারা জুম'আর সালাতের জন্য একত্রিত হয়, তা কি আপনি জায়েয মনে করেন না? তিনি (আহমাদ) বললেনঃ হ্যাঁ (জায়েয বলি)।
ইবনু আবী শাইবাহ (১/২০৪/২) সহীহ সনদে মালেক হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীগণ মক্কা ও মদীনার মধ্য স্থানে পানির স্থানগুলোতে জুম'আহ কায়েম করেছেন।
ইমাম বুখারী (২/৩১৬ ফতহুলবারী সহ), আবু দাউদ (১০৬৮) ও অন্য বিদ্বানগণ ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ মদীনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে কায়েমকৃত জুম'আর পরে ইসলামের মধ্যে প্রথম যে জুম'আহ কায়েম করা হয়েছিল, সেটি ছিল বাহরাইনের গ্রামগুলোর জাওছা নামক গ্রামের জুম'আহ। অন্য বর্ণনায় এসেছে আব্দুল কায়েস-এর গ্রামগুলোর এক গ্রামে।
ইমাম বুখারী ও আবু দাউদ “গ্রামে জুম'আহ” নামে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ আবুল কায়েসরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ ব্যতিরিকে জুম'আহ কায়েম করেননি। কারণ ওহী নাযিল হওয়ার সময় সাহাবাদের অভ্যাস ছিল এই যে, তারা নিজেদের পক্ষ হতে কোন কিছু কায়েম করতেন না। আর গ্রামে যদি জুম'আহ কায়েম করা জায়েয না হত, তাহলে এ বিষয়ে কুরআন নাযিল হয়ে যেত।
এ আছারগুলো প্রমাণ করছে যে, জুম'আর সালাত আদায় করতে এবং তা হেফাযাত করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এমনকি গ্রাম এবং একত্রিত হওয়ার স্থানগুলোতেও। কুরআনের আম আয়াত তারই প্রমাণ বহন করে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থঃ “হে ঈমানদারগণ যখন জুম'আর দিবসে সালাতের জন্য আহবান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করতে তোমাদের ব্যবসা বাণিজ্য পরিত্যাগ করে দ্রুত ছুটে আস।` (সূরা জুমুআহঃ ৯)
আয়াতে বলা হয়নি যে, এ স্থানে সালাত কায়েম করলে তা জায়েয হবে আর অন্য স্থানে করলে না জায়েয হবে।
` أخروهن من حيث أخرهن الله. يعني النساء `.
لا أصل له مرفوعا.
وقد أشار إلى ذلك الحافظ الزيلعي في ` نصب الراية ` (2 / 36) بقوله: ` حديث غريب مرفوعا. وهو في ` مصنف عبد الرزاق ` (1) موقوف على ابن مسعود فقال: أخبرنا سفيان الثوري عن الأعمش عن إبراهيم عن أبي معمر عن ابن مسعود قال: كان الرجال والنساء في بني إسرائيل يصلون جميعا، فكانت المرأة (لها الخليل) تلبس القالبين فتقوم عليهما، تقول بهما لخليلها، فألقي عليهن الحيض، فكان ابن مسعود يقول: أخروهن من حيث أخرهن الله. قيل: فما القالبان؟ قال: أرجل من خشب يتخذها النساء يتشرفن الرجال في المساجد، ومن
طريق عبد الرزاق رواه الطبراني في (معجمه) `.
قلت: ورواه الطبراني في ` المعجم الكبير ` (3 / 36 / 2) من طريق زائدة أيضا عن الأعمش به، إلا أنه لم يذكر أبا معمر في سنده. ثم ذكر الزيلعي أن بعض الجهال (كذا) من فقهاء الحنفية كان يعزوه إلى ` مسند رزين ` و` دلائل النبوة ` للبيهقي. قال: ` وقد تتبعته فلم أجده فيه لا مرفوعا ولا موقوفا `. وأفحش من هذا الخطأ أن بعضهم عزاه للصحيحين كما نبه عليه الزركشي، ونقله السخاوي (41) وغيره عنه، ونقل الشيخ علي القاريء في ` الموضوعات ` عن ابن الهمام أنه قال في شرح الهداية `: لا يثبت رفعه، فضلا عن شهرته، والصحيح أنه موقوف على ابن مسعود كما في ` كشف الخفاء ` (1 / 67) . قلت: والموقوف صحيح الإسناد، ولكن لا يحتج به لوقفه، والظاهر أن القصة من الإسرائيليات.
ومن العجائب أن الحنفية أقاموا على هذا الحديث مسألة فقهية خالفوا فيها جماهير العلماء، فقالوا: إن المرأة إذا وقفت بجانب الرجل أو تقدمت عليه في الصلاة أفسدت عليه صلاته، وأما المرأة فصلاتها صحيحة، مع أنها هي المعتدية! بل ذهب بعضهم إلى إبطال الصلاة ولوكانت على السدة فوقه محاذية له! وقد استدلوا على ذلك بالأمر في هذا الحديث بتأخيرهن، ولا يدل على ما ذهبوا إليه البتة، وذلك من وجوه: أولا: أن الحديث موقوف فلا حجة فيه كما سبق.
(1) (ج 3 / 149 رقم 5115 - طبع المكتب الإسلامي) ، والزيادة منه، مع تصحيح بعض الألفاظ. اهـ.
ثانيا: أن الأمر وإن كان يفيد الوجوب فهو لا يقتضي فساد الصلاة، بل الإثم كما سيأتي عن الحافظ. ثالثا: أنه لو اقتضى فساد الصلاة فإنما ذلك إذا خالف الرجل الأمر ولم يؤخر المرأة أولم يتقدم عليها، أما إذا دخل في الصلاة ثم اعتدت المرأة ووقفت بجانبه، أو تقدمت عليه، فلا يدل على بطلان صلاته بوجه من الوجوه، بل لوقيل ببطلان صلاة المرأة في هذه الحالة لم يبعد، لوكان صح رفع الحديث، ومع ذلك فهم لا يقولون ببطلان صلاتها! وهذا من غرائب أقوال الحنفية التي لا يشهد لصحتها أثر ولا نظر! نعم من السنة أن تتأخر المرأة في الصلاة عن الرجال كما روى البخاري وغيره عن أنس بن مالك قال: ` صليت خلف النبي صلى الله عليه وسلم، أنا ويتيم في بيتنا خلف النبي صلى الله عليه وسلم وأمي أم سليم خلفنا `. قال الحافظ في ` شرحه ` (2 / 177) : ` وفيه أن المرأة لا تصف مع الرجل، وأصله ما يخشى من الافتتان بها، فإذا خالفت أجزأت صلاتها عند الجمهور.
وعن الحنفية: تفسد صلاة الرجل دون المرأة، وهو عجيب، وفي توجيهه تعسف، حيث قال قائلهم، دليله قول ابن مسعود هذا، والأمر للوجوب، وحيث ظرف مكان، ولا مكان يجب تأخرهن فيه إلا مكان الصلاة، فإذا حاذت الرجل فسدت صلاة الرجل، لأنه ترك ما أمر به من تأخيرها! وحكاية هذا تغني عن تكلف جوابه.
والله المستعان، فقد ثبت النهي عن الصلاة في الثوب المغصوب، وأمر لابسه أن ينزعه، فلو خالف فصلى فيه ولم ينزعه أثم وأجزأته صلاته، فلم لا يقال في الرجل الذي حاذته المرأة ذلك، وأوضح منه لو كان لباب المسجد صفة مملوكة فصلى فيها شخص بغير إذنه مع اقتداره على أن ينتقل عنها إلى أرض المسجد بخطوة واحدة صحت صلاته وأثم، وكذلك الرجل مع المرأة التي حاذته، ولاسيما إن جاءت بعد أن دخل في الصلاة فصلت بجنبه `.
৯১৮। তাদেরকে তোমরা পিছনে করে দাও যেভাবে আল্লাহ তাদেরকে পিছনে করেছেন। অর্থাৎ নারীদেরকে।
মারফু হিসাবে হাদীছটির কোন ভিত্তি নেই।
হাফিয যায়লাঈ “নাসবুর রায়া` (২/৩৬) গ্রন্থে নিম্নলিখিত বাক্য দ্বারা সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ হাদীছটি মারফু হিসাবে গারীব।
এটি “মুসান্নাফু আবদির রাযযাক” গ্রন্থে ইবনু মাসউদ হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাতে বলেছেনঃ বানূ ইসরাঈলরা নারী-পুরুষ মিলে এক সাথে সালাত আদায় করত ... অতএব তোমরা তাদেরকে তোমাদের ...।
এটি আব্দুর রাযযাকের সূত্রে তাবারানী “আল-মুজামুল কাবীর” (৩/৩৬/২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাফিয যায়লাঈ বলেনঃ হানাফী মাযহাবের কোন কোন জাহেল (অজ্ঞ) ফাকীহ “মুসনাদু রামীন” এবং বাইহাকীর `দালায়েলুন নবুওয়াহ` গ্রন্থের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আমি এটিকে খুঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু মারফূ’ ও মওকুফ কোনভাবেই পায়নি।
এর চেয়ে আরো লজ্জাজনক এই যে, তাদের কেউ কেউ সহীহায়েনের বরাতেও উল্লেখ করেছেন। হাফিয সাখাবী ও অন্য বিদ্বানগণ তা নকল করেছেন। শাইখ আলী আল-কারী তার “আল-মাওযু’আত” গ্রন্থে ইবনুল হুমাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি `শারহুল হেদায়াহ` গ্রন্থে বলেনঃ হাদিসটি মারফূ' হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। এটি ইবনু মাসউদ হতে মওকুফ হিসাবেই সঠিক যেমনটি “কাশফুল খাফা” (১/৬৭) গ্রন্থে এসেছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ মওকুফ হিসাবে সনদটি সহীহ। কিন্তু মওকুফ হওয়ার কারণে এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। বাহ্যিকতা প্রমাণ করে যে, এটি ইসরাঈলীদের থেকে একটি কিসসা।
আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, হানাফীরা এ হাদীছের উপর ভিত্তি করে ফেকহী মাসআলা সাব্যস্ত করে তাতে তারা জামহুরে ওলামার বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন যে, কোন নারী পুরুষের পার্শ্বে দাড়ালে বা সালাতে তার থেকে এগিয়ে গেলে সেই নারী তার (পুরুষের) সালাতকে নষ্ট করে দিল। কিন্তু সেই মহিলার সালাত বিশুদ্ধ হবে। অথচ সেই সীমালংঘনকারী! তাদের কেউ কেউ আবার বলেছেন যে, নারীটি যদি পুরুষের কাতারের বরাবর হয় তাহলেই সালাত বাতিল হয়ে যাবে। তারা এ হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করে উক্ত কথা বলেছেন। অথচ এ হাদীছ তাদের বক্তব্যের প্রমাণ বহন করে না নিম্নোক্ত কারণেঃ
১। হাদীছটি মওকুফ তাতে এর দলীল মিলে না। যেমনটি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
২। যদি নির্দেশটা ওয়াজিবের অর্থ দেয় তবুও এটি সালাত নষ্ট হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। বরং গুনাহগার হতে পারে।
৩। সালাত নষ্ট হতে পারত যদি পুরুষ উক্ত নির্দেশের বিরোধিতা করত, মহিলাকে পিছনে না করত কিংবা তার সামনে এগিয়ে না দাঁড়াত। যখন পুরুষটি সালাতে প্রবেশ করেছে, অতঃপর এমতাবস্থায় মহিলা সীমালংঘন করে তার পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়িয়েছে অথবা পুরুষের আগে এগিয়ে গেছে। এ অবস্থা কোন ভাবেই পুরুষের সালাতকে বাতিল করতে পারে না। বরং এ অবস্থায় যদি মহিলাটির সালাত বাতিল হওয়ার কথা বলা হতো তাহলে তা দূরবর্তী কথা হতো না। (তবুও এ সব কথা যদি হাদীছটি মারফু হিসাবে সহীহ হতো তাহলে)। তা সত্ত্বেও তারা মহিলার সালাত বাতিল হওয়ার কথা বলেন না! এটি হানাফীদের আশ্চর্যজনক ভাষ্যগুলোর একটি যা সহীহ হওয়ার জন্য কোন আছার বা দৃষ্টিভঙ্গিই সাক্ষ্য প্রদান করে না।
জি হ্যাঁ, সুন্নাতের মধ্যে পাওয়া যায় মহিলা সালাতে পুরুষদের পিছনে থাকবে যেমনটি ইমাম বুখারী ও অন্য বিদ্বানগণ আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। আমি আর এক ইয়াতীম আমার বাড়ীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর আমার মা উম্মু সুলায়েম আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’
হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারী” (২/১৭৭) গ্রন্থে বলেনঃ মহিলা পুরুষের সাথে কাতারে দাঁড়াবে না। কারণ মহিলার কারণে ফেতনায় পড়ার আশংকা আছে। যদি মহিলা এর বিপরীত করে তাহলে মহিলার সালাত জামহুরে ওলামার নিকট যথেষ্ট হয়ে যাবে। হানাফীদের নিকট পুরুষের সালাত নষ্ট হয়ে যাবে আর মহিলার সালাত সঠিক হবে। এটি আজব ধরণের সিদ্ধান্ত। এমন কি তাদের নিকট মহিলা যদি পুরুষের বরাবর হয়ে যায় তাহলেও পুরুষের সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ তাকে মহিলাকে পিছনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কিন্তু সে তা পরিত্যাগ করেছে!
` ما قال عبد لا إله إلا الله مخلصا إلا صعدت لا يردها حجاب، فإذا وصلت إلى الله عز وجل نظر إلى قائلها، وحق على الله أن لا ينظر إلى موحد إلا رحمه `.
منكر.
رواه ابن بشران في ` الأمالي ` (70 / 1 و108 / 2) عن علي بن الحسين بن يزيد الصدائي: حدثنا أبي حدثنا الوليد بن القاسم عن يزيد بن كيسان عن أبي حازم عن أبي هريرة مرفوعا.
ومن طريق ابن بشران رواه الخطيب في ترجمة علي بن الحسين هذا (11 / 394) وذكر أن وفاته كانت سنة (286) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وأنه روى عنه أبو بكر الشافعي وأبو علي أحمد بن الفضل بن خزيمة. قلت: وقد خالفه في متنه الإمام الترمذي فرواه عن الحسين بن يزيد به، بلفظ:
`.... إلا فتحت له أبواب السماء حتى تقضي إلى العرش، ما اجتنبت الكبائر `. قلت: فهذا يدل على ضعف علي بن الحسين عندي، لمخالفته الترمزي في لفظ حديثه على قلة روايته، ولذلك أوردت الحديث بلفظ الترمذي في ` الأحاديث الصحيحة ` و` المشكاة ` (2314) . والحديث عزاه السيوطي في ` الجامع الكبير ` (2 / 175 / 2) للخطيب وحده.
৯১৯। ইখলাসের সাথে কোন বান্দা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললেই তা উপরে উঠে যাবে কোন বাধাই তাকে প্রতিহত করতে পারবে না। যখন তা আল্লাহর নিকট পৌঁছে যাবে তখন আল্লাহ তাকে পাঠকারীর দিকে দৃষ্টি দিবেন। আর আল্লাহ একত্ববাদে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দিলেই তাকে দয়া করা তার উপর অপরিহার্য হয়ে যায়।
হাদীছটি মুনকার।
এটি ইবনু বিশরান “আল-আমলী” (১/৭০, ২/১০৮) গ্রন্থে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আস-সুদাঈ হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি ওয়ালীদ ইবনুল কাসেম হতে তিনি ইয়াযীদ ইবনু কায়সান হতে ... বর্ণনা করেছেন। আল-খতীব ইবনু বিশরানের সূত্রে আলী ইবনুল হুসায়নের জীবনীতে (১১/৩৯৪) হাদীছটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি ২৮৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ তার সম্পর্কে ভাল মন্দ কিছুই বলেননি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম তিরমিযী তার ভাষার বিরোধিতা করে হুসাইন ইবনু ইয়াযীদ হতে নিম্নলিখিত ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ
إلا فتحت له أبواب السماء حتى تقضي إلى العرش، ما اجتنبت الكبائر
অর্থাৎ, তার জন্য জান্নাতের দরযাগুলো খুলে দেয়া হবে এমনকি আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যদি কাবীরাহ গুনাহ হতে বেঁচে যাকে ।
এটি প্রমাণ করছে যে, আলী ইবনুল হুসাইন দুর্বল। ইমাম তিরমিযী কর্তৃক হাদীছের ভাষায় তার বিরোধিতা করার কারণে। এ কারণে আমি হাদীছটি তিরমিযীর ভাষায় “আল-আহাদীছিস সাহীহাহ” ও `আল-মিশকাত` (২৩১৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।
সুয়ূতী হাদীছটি “আল-জামেউস সাগীর” (২/১৭৫/২) গ্রন্থে শুধুমাত্র আল-খাতীবের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।
` لا تكثروا الكلام بغير ذكر الله، فإن كثرة الكلام بغير ذكر الله قسوة للقلب، وإن أبعد الناس من الله القلب القاسي `.
ضعيف.
أخرجه الترمذي (2 / 66) والواحدي في ` الوسيط ` (1 / 27 / 2) وأبو جعفر الطوسي الفقيه الشيعي في ` الأمالي (ص 2) والبيهقي في ` شعب الإيمان ` (2 / 65 / 1 - 2) من طريق إبراهيم بن عبد الله بن حاطب عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكره، وقال الترمذي: ` حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من حديث إبراهيم `.
قلت: وهو ابن عبد الله بن الحارث بن حاطب الجمحي، ترجمه ابن أبي حاتم (1 / 110 / 1) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وأورده الذهبي في ` الميزان ` وساق له هذا الحديث من غرائبه، وقال: ` ما علمت فيه جرحا `. قلت: فقد يقال فهل علمت فيه توثيقا؟ فإن عدم الجرح لا يستلزم التوثيق كما لا يخفى، ولذلك فالأحسن في
الإفصاح عن حاله قول ابن القطان: ` لا يعرف حاله `. وأما ابن حبان فذكره في ` الثقات ` على قاعدته! واغتر به الشيخ أحمد شاكر رحمه الله فصحح إسناده في ` عمدة التفسير ` (1 / 168) .
والحديث رواه الإمام مالك في ` الموطأ ` (2 / 986 / 8) أنه بلغه أن عيسى بن مريم كان يقول: فذكره بأتم منه من قول عيسى عليه السلام، وقد مضى قريبا (908) .
وهذا هو اللائق بمثل هذا الكلام أن يكون مما يرويه أهل الكتاب عن عيسى عليه الصلاة والسلام، وليس من حديث نبينا محمد صلى الله عليه وآله وسلم.
(تنبيه) : هذا الحديث لم يورده السيوطي في ` الجامع الكبير ` مع أنه ذكره في ` الزيادة على الجامع الصغير `، ووقع لبعض الأفاضل فيه وهم فاحش، سبق بيانه هناك.
৯২০। আল্লাহর যিকর বাদ দিয়ে তোমরা বেশী কথা বল না। কারণ আল্লাহর যিকর বাদ দিয়ে বেশী কথা বলা হৃদয়ের জন্য বক্রতা স্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট হতে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী ব্যক্তি হচ্ছে কঠোর হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি।
হাদীছটি দুর্বল।
এটি ইমাম তিরমিযী (২/৬৬), আল-ওয়াহেদী `আল-ওয়াসীত` (১/২৭/২) গ্রন্থে, আবু জাফর আত-তুসী আল-ফাকীহ আশ-শীঈ `আল-আমলী` (পৃঃ ২) গ্রন্থে এবং বাইহাকী “শু'আবুল ঈমান” (২/৬৫/১-২) গ্রন্থে ইবরাহীম ইবনু আবদিল্লাহ হতে তিনি আবদিল্লাহ ইবনু দীনার হতে তিনি ইবনু উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
তিরমিযী বলেনঃ এ হাদীছটি হাসান গারীব। একমাত্র ইবরাহীমের হাদীছ হতেই এটিকে চিনি।
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি হচ্ছেন ইবনু আবদিল্লাহ ইবনিল হারেছ ইবনে হাতিব আল-জামহী। ইবনু আবী হাতিম তার জীবনী (১/১১০/১) উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি। হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে এ হাদীছটি তার গারীবগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেনঃ তার সম্পর্কে কোন খারাপ মন্তব্য জানি না।
আমি বলছিঃ যদি বলা হয় তার সম্পর্কে কেউ নির্ভরযোগ্য হিসাবে মন্তব্য করেছেন আপনি কি এমন কিছু জানেন? খারাপ মন্তব্য না করা নির্ভরযোগ্য হওয়াকে অপরিহার্য করে না। এ কারণেই ইবনুল কাত্তান তার অবস্থা সম্পর্কে বলেছেনঃ তার অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় না। তা বলে তিনি ঠিকই করেছেন। ইবনু হিব্বান যে তাকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা তার থিওরীর কারণে! সে সম্পর্কে পূর্বে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। আর তার এ নির্ভরযোগ্য বলার কারণেই শাইখ আহমাদ শাকের “উমদাতুত তাফসীর” (১/১৬৮) গ্রন্থে তার সনদটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন।
হাদীছটি ইমাম মালেক `আল-মুওয়াত্তা` (২/৯৮৬/৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তার নিকট পৌঁছেছে যে, ঈসা (আঃ) এরূপ বলতেন। ৯০৮ নম্বর হাদীছে এটি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি ইসরাঈলীদের থেকে বর্ণনাকৃত। আর এরূপ কথার জন্য এমন হওয়ায় উপযোগী। এটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছ নয়।