হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (1177)


حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا يَحْيَى , قَالَ : حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ مُوسَى بْنِ دِهْقَانَ , قَالَ : رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ جَالِسًا عَلَى سَرِيرِ عَرُوسٍ ، عَلَيْهِ ثِيَابٌ حُمْرُ " ، وَعَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ , قَالَ : " رَأَيْتُ أَنَسًا جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى




১১৭৭। ইমরান ইবনে মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে গদিতে বসা অবস্থায় দেখেছি। (তাহাবী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1178)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ : سَمِعْتُ سَعِيدًا الْمَقْبُرِيَّ يَقُولُ : مَرَرْتُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، وَمَعَهُ رَجُلٌ يَتَحَدَّثُ، فَقُمْتُ إِلَيْهِمَا، فَلَطَمَ فِي صَدْرِي فَقَالَ : إِذَا وَجَدْتَ اثْنَيْنِ يَتَحَدَّثَانِ فَلاَ تَقُمُّ مَعَهُمَا، وَلاَ تَجْلِسْ مَعَهُمَا، حَتَّى تَسْتَأْذِنَهُمَا، فَقُلْتُ : أَصْلَحَكَ اللَّهُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّمَا رَجَوْتُ أَنْ أَسْمَعَ مِنْكُمَا خَيْرًا .




১১৭৮। সাঈদ আল-মাকবুরী (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তার সাথে এক ব্যক্তি কথা বলছিল। আমি তাদের পাশে দাড়ালে ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার বুকে চপেটাঘাত করে বলেন, তুমি দুই ব্যক্তিকে একত্রে কথাবার্তা বলতে দেখলে তাদের অনুমতি না নিয়ে তাদের সাথে দাঁড়াবেও না এবং বসবেও না। আমি বললাম, হে আবদুর রহমানের পিতা আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন, আমি আপনাদের দুইজনের নিকট কল্যাণকর কিছু শোনার আশাই করেছিলাম। (আবু দাউদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1179)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : مَنْ تَسَمَّعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ . وَمَنْ تَحَلَّمَ بِحُلْمٍ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ شَعِيرَةً .




১১৭৯। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা এটা পছন্দ করে না, তার কানের মধ্যে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে গমের দানায় গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1180)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً، فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ .




১১৮০। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনজন একসাথে থাকলে তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুইজনে যেন গোপন পরামর্শ না করে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আবু আওয়ানা)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1181)


حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ : حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِذَا كُنْتُمْ ثَلاَثَةً فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ، فَإِنَّهُ يُحْزِنُهُ ذَلِكَ .




১১৮১। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করো না। কারণ তা তাকে মনঃক্ষুণ্ণ করবে। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1182)


وَحَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ، قُلْنَا : فَإِنْ كَانُوا أَرْبَعَةً ؟ قَالَ : لا يَضُرُّهُ .




১১৮২। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আমরা বললাম, যদি তাদের সংখ্যা চার হয়। তিনি বলেনঃ তাহলে কোন ক্ষতি নাই। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1183)


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الْآخَرِ حَتَّى يَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ، مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ .




১১৮৩। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ রেখে দু’জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করবে না, যাবত না তারা লোকদের সাথে মিলিত হয়। কারণ তা তাকে মনোক্ষুণ্ন করবে। (বুখারী, মুসলিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1184)


حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : إِذَا كَانُوا أَرْبَعَةً فَلا بَأْسَ .




১১৮৪। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তারা চারজন একত্র হলে (দু’জনের স্বতন্ত্র গোপন আলাপে) কোন ক্ষতি নাই।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1185)


حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ : جَلَسْتُ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلاَّمٍ، فَقَالَ : إِنَّكَ جَلَسْتَ إِلَيْنَا، وَقَدْ حَانَ مِنَّا قِيَامٌ، فَقُلْتُ : فَإِذَا شِئْتَ، فَقَامَ، فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى بَلَغَ الْبَابَ .




১১৮৫। আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট বসলাম। তিনি বলেন, তুমি আমার পাশে এসে বসেছে অথচ আমার উঠে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি বললাম, তা আপনার ইচ্ছা। অতএব তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি দরজায় পৌছা পর্যন্ত তার সাথে সাথে গেলাম।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1186)


حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي قَيْسٌ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ جَاءَ وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ، فَقَامَ فِي الشَّمْسِ، فَأَمَرَهُ فَتَحَوَّلَ إِلَى الظِّلِّ .




১১৮৬। কায়েস (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি যখন এসে উপস্থিত হন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলে তিনি ছায়ায় চলে আসেন। (আহমাদ, হাকিম, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান,তায়ালিসী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1187)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لِبْسَتَيْنِ وَبَيْعَتَيْنِ : نَهَى عَنِ الْمُلاَمَسَةِ، وَالْمُنَابَذَةِ فِي الْبَيْعِ، الْمُلاَمَسَةُ : أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ثَوْبَهُ، وَالْمُنَابَذَةُ : يَنْبُذُ الْآخَرُ إِلَيْهِ ثَوْبَهُ، وَيَكُونُ ذَلِكَ بَيْعَهُمْ عَنْ غَيْرِ نَظَرٍ . وَاللِّبْسَتَيْنِ اشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ، وَالصَّمَّاءُ : أَنْ يَجْعَلَ طَرَفَ ثَوْبِهِ عَلَى إِحْدَى عَاتِقَيْهِ، فَيَبْدُو أَحَدُ شِقَّيْهِ لَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ، وَاللِّبْسَةُ الأُخْرَى احْتِبَاؤُهُ بِثَوْبِهِ وَهُوَ جَالِسٌ، لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ .




১১৮৭। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ধরনের পোশাক পরিধানের নিয়ম এবং দুই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রয়-বিক্রয়ে মুলামাসা ও মুনাবাযা নিষিদ্ধ করেছেন। মুলামাসা হলো, কোন ব্যক্তির অপর ব্যক্তির কাপড় স্পর্শ করা। আর মুনাবাযা হলো, কোন ব্যক্তির কাপড় অপর ব্যক্তির দিকে ছুঁড়ে মারা। (পণ্য নিরীক্ষণ করে না দেখলেও) এতে উভয়ের জন্য ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যেতো।

আর দুই ধরনের পোশাক পরার নিয়মের ক্ষেত্রে তিনি ইশতিমালুস সাম্মা নিষিদ্ধ করেছেন। সাম্মা এই যে, নিজের পরিধেয় বস্ত্র নিজের এক কাঁধে এমনভাবে তুলে দেয়া, যাতে অন্য কাঁধ অনাবৃত থেকে যায়। পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ অপর নিয়ম এই যে, এক পরত কাপড় নিজের গোটা দেহে পেঁচিয়ে কারো এমনভাবে বসা, যাতে তার লজ্জাস্থানে কোন কাপড়ই থাকে না। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1188)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْفٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو الْمَلِيحِ قَالَ : دَخَلْتُ مَعَ أَبِيكَ زَيْدٍ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، فَحَدَّثَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي، فَدَخَلَ عَلَيَّ، فَأَلْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، فَجَلَسَ عَلَى الأَرْضِ، وَصَارَتِ الْوِسَادَةُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ، فَقَالَ لِي : أَمَا يَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ ؟ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : خَمْسًا، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : سَبْعًا، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : تِسْعًا، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : إِحْدَى عَشْرَةَ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : لاَ صَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ شَطْرَ الدَّهْرِ، صِيَامُ يَوْمٍ وَإِفْطَارُ يَوْمٍ .




১১৮৮। আবু কিলাবা (রহঃ) বলেন, আবুল মালীহ (রহঃ) আমাকে অবহিত করে বলেন, আমি তোমার পিতা যায়েদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আমার রোযা সম্পর্কে আলোচনা হলো। তিনি আমার নিকট এলেন। আমি তাঁর জন্য খেজুর গাছের ছাল ভর্তি চামড়ার একটি বালিশ পেশ করলাম। কিন্তু তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশটি আমার ও তার মাঝখানে পড়ে থাকলো। তিনি আমাকে বলেনঃ প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখলে কি তোমার জন্য যথেষ্ট হয় না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আরো অধিক)। তিনি বলেনঃ পাঁচ দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো অধিক)। তিনি বলেনঃ সাত দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেনঃ নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ এগারো দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ দাউদ (আঃ)-এর রোযার চেয়ে উত্তম রোযা হয় না, অর্ধবছর। একদিন রোযা এবং এক দিন বিরতি। (বুখারী, মুসলিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1189)


حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى أَبِيهِ، فَأَلْقَى لَهُ قَطِيفَةً فَجَلَسَ عَلَيْهَا .




১১৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিতার নিকট এলে তিনি তার জন্য নরম গদি পেতে দেন। তিনি তার উপর বসেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1190)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ حَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ : حَدَّثَتْنِي جَدَّتَايَ صَفِيَّةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ، وَدُحَيْبَةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ، وَكَانَتَا رَبِيبَتَيْ قَيْلَةَ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَتْهُمَا قَيْلَةُ قَالَتْ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَاعِدًا الْقُرْفُصَاءَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ النَّبِيَّ الْمُتَخَشِّعَ فِي الْجِلْسَةِ أُرْعِدْتُ مِنَ الْفَرَقِ .




১১৯০। কাইলা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা অবস্থায় দেখেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ বিনীতভাবে বসা অবস্থায় দেখে আমি ভীত-কম্পিত হলাম। (আবু দাউদ হাঃ ৪৮৪৭)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1191)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا ذَيَّالُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ حَنْظَلَةَ، حَدَّثَنِي جَدِّي حَنْظَلَةُ بْنُ حِذْيَمٍ قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُ جَالِسًا مُتَرَبِّعًا .




১১৯১। হানযালা ইবনে হিযয়াম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখলাম। (তাহযীবুল কামাল, ইসতীআব)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1192)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ : حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو رُزَيْقٍ، أَنَّهُ رَأَى عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، جَالِسًا مُتَرَبِّعًا، وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى، الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى .




১১৯২। আবু যুরাইক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র পুত্র আলীকে তার এক পা অপর পায়ের উপর অর্থাৎ ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখেছেন।









আল-আদাবুল মুফরাদ (1193)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ : رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَجْلِسُ هَكَذَا مُتَرَبِّعًا، وَيَضَعُ إِحْدَى قَدَمَيْهِ عَلَى الأخْرَى .




১১৯৩। ইমরান ইবনে মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসে থাকতে দেখেছি। (তাহাবী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1194)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي قُرَّةُ بْنُ مُوسَى الْهُجَيْمِيُّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ جَابِرٍ الْهُجَيْمِيِّ قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي بُرْدَةٍ، وَإِنَّ هُدَّابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَوْصِنِي، قَالَ : عَلَيْكَ بِاتِّقَاءِ اللهِ، وَلاَ تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا، وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ لِلْمُسْتَسْقِي مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَائِهِ، أَوْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطٌ، وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الإِزَارِ، فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ، وَلاَ يُحِبُّهَا اللَّهُ، وَإِنِ امْرُؤٌ عَيَّرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ مِنْكَ فَلاَ تُعَيِّرْهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ، دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ، وَأَجْرُهُ لَكَ، وَلاَ تَسُبَّنَّ شَيْئًا .




১১৯৪। সুলাইম ইবনে জাবের আল-হুজায়মী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। চাদরের ঝালর তাঁর পায়ের পাতার উপর ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ ”তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৎকাজকেও তুচ্ছজান করো না, তা যদি তোমার বালতি থেকে পানি প্রার্থীর পাত্রে পানি ঢেলে দেয়ার মত নগণ্য কাজও হয় অথবা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার আলাপ-আলোচনাও হয়। পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে দেয়া থেকে সাবধান হও। কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। কোন ব্যক্তি যদি তার জ্ঞাত তোমার কোন ত্রুটির কারণে তোমাকে গালি দেয়, তবে তুমি তোমার জ্ঞাত তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে গালি দিও না। তার কর্মের পরিণতি ভোগের জন্য তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সওয়াব পাবে তুমি। তুমি কোন কিছুকে গালি দিও না”। রাবী বলেন, পরে আমি কখনো পশু বা মানুষ কাউকে গালি দেইনি। (আবু দাউদ, আহমাদ, হাকিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1195)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ قَالَ : حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : مَا رَأَيْتُ حَسَنًا قَطُّ إِلاَّ فَاضَتْ عَيْنَايَ دُمُوعًا، وَذَلِكَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمًا، فَوَجَدَنِي فِي الْمَسْجِدِ، فَأَخَذَ بِيَدِي، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، فَمَا كَلَّمَنِي حَتَّى جِئْنَا سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعٍ، فَطَافَ فِيهِ وَنَظَرَ، ثُمَّ انْصَرَفَ وَأَنَا مَعَهُ، حَتَّى جِئْنَا الْمَسْجِدَ، فَجَلَسَ فَاحْتَبَى ثُمَّ قَالَ : أَيْنَ لَكَاعٌ ؟ ادْعُ لِي لَكَاعًا، فَجَاءَ حَسَنٌ يَشْتَدُّ فَوَقَعَ فِي حِجْرِهِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي لِحْيَتِهِ، ثُمَّ جَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَفْتَحُ فَاهُ فَيُدْخِلُ فَاهُ فِي فِيهِ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ، فَأَحْبِبْهُ، وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ .




১১৯৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি যখনই হাসানকে দেখেছি আমার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। তা এজন্য যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে এসে আমাকে মসজিদে পেলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা কায়নুকা গোত্রের বাজারে না পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি। তিনি বাজারে ঘুরলেন এবং দেখলেন, অতঃপর আমাকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষে আমরা মসজিদে এসে পৌছলাম। তিনি চার জানু হয়ে বসলেন, অতঃপর বলেনঃ খোকা কোথায়? খোকাকে আমার নিকট ডেকে আনো। হাসান দ্রুতবেগে বের হয়ে এসে তার কোলে ঝাপিয়ে পড়লো, অতঃপর তার হাত তাঁর দাড়ির ভেতর ঢুকালো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মুখ ফাঁক করে তার মুখ নিজের মুখে প্রবেশ করান (মুখে চুমা দেন)। তারপর বলেনঃ ”হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো এবং যারা তাকে মহব্বত করে, তুমি তাদেরকেও মহব্বত করো”। (বুখারী, মুসলিম, হাকিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (1196)


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى الْكَلْبِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ السَّاعَةَ، وَذَكَرَ أَنَّ فِيهَا أُمُورًا عِظَامًا، ثُمَّ قَالَ : مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْ عَنْهُ، فَوَاللَّهِ لاَ تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلاَّ أَخْبَرْتُكُمْ مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا، قَالَ أَنَسٌ : فَأَكْثَرَ النَّاسُ الْبُكَاءَ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُولَ : سَلُوا، فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ : رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً، فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ ذَلِكَ عُمَرُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَوْلَى، أَمَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فِي عُرْضِ هَذَا الْحَائِطِ، وَأَنَا أُصَلِّي، فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ .




১১৯৬। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে নিয়ে যুহরের নামায পড়লেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন, কিয়ামতের উল্লেখ করলেন এবং আরো উল্লেখ করেন যে, এর সাথে রয়েছে অনেক সাংঘাতিক বিষয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ কেউ আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে সে তা জিজ্ঞেস করুক। আল্লাহর শপথ! আমি আমার এই জায়গায় থাকা পর্যন্ত তোমরা আমার নিকট যা-ই জিজ্ঞেস করবে, আমি তোমাদের তা অবহিত করবো। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে এটা শোনার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও বারবার বলতে থাকেনঃ তোমরা জিজ্ঞেস করো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাঁটু গেড়ে বসে বলেন, আমরা আল্লাহকে প্রভুরূপে, ইসলামকে দীনরুপে এবং মুহাম্মাদকে রাসূলরুপে পেয়ে সন্তুষ্ট। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একথা বলাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চুপ হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিপদ সন্নিকটে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এইমাত্র এই দেয়ালের পাশে আমার নামাযরত অবস্থায় আমার সামনে বেহেশত ও দোযখ উপস্থিত করা হয়েছে। অতএব আজকের মত কল্যাণ ও অনিষ্টকে (একত্রে) আর দেখিনি। (বুখারী, মুসলিম)