আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو الزَّاهِرِيَّةِ قَالَ : حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ مُرَّةَ قَالَ : دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَوَجَدْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الأَشْجَعِيَّ جَالِسًا فِي حَلْقَةٍ مَادًّا رِجْلَيْهِ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَلَمَّا رَآنِي قَبَضَ رِجْلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ لِي : تَدْرِي لأَيِّ شَيْءٍ مَدَدْتُ رِجْلَيَّ ؟ لَيَجِيءَ رَجُلٌ صَالِحٌ فَيَجْلِسَ .
১১৫৭। কাছীর ইবনে মুররা (রহঃ) বলেন, আমি জুমুআর দিন মসজিদে প্রবেশ করে আওফ ইবনে মালেক আল-আশজাঈ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে একটি সভায় জনগণের দিকে তার দুই পা প্রসারিত করে দিয়ে বসা অবস্থায় পেলাম। তিনি আমাকে দেখামাত্র তার পদদ্বয় গুটিয়ে নিয়ে আমাকে বলেন, তুমি কি জানো, কি কারণে আমি আমার পদদ্বয় প্রসারিত করে রেখেছিলাম? যাতে কোন সৎকর্মশীল লোক এসে (আমার নিকটে) বসতে পারে।
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ : حَدَّثَنِي زُرَارَةُ بْنُ كَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو السَّهْمِيُّ، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو السَّهْمِيَّ حَدَّثَهُ قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِمِنًى، أَوْ بِعَرَفَاتٍ، وَقَدْ أَطَافَ بِهِ النَّاسُ، وَيَجِيءُ الأَعْرَابُ، فَإِذَا رَأَوْا وَجْهَهُ قَالُوا : هَذَا وَجْهٌ مُبَارَكٌ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا، فَدُرْتُ فَقُلْتُ : اسْتَغْفِرْ لِي، قَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا، فَدُرْتُ فَقُلْتُ : اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا، فَذَهَبَ يَبْزُقُ، فَقَالَ بِيَدِهِ فَأَخَذَ بِهَا بُزَاقَهُ، وَمَسَحَ بِهِ نَعْلَهُ، كَرِهَ أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِنْ حَوْلِهِ .
১১৫৮। হারিস ইবনে আমর আস-সাহ্মী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি মিনা অথবা আরাফাতে ছিলেন। লোকজন তার চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বেদুইনরা এসে যখন তাঁর চেহারা দেখতো তখন বলতো, এতো বরকতময় চেহারা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। আমি পুনরায় ঘুরে এসে বললাম, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তার মুখে থুথু এলে তিনি তা নিজ হাতে নিয়ে তার জুতায় মুছে ফেলেন এই আশংকায় যে, তা লোকজনের গায়ে না পড়ে। (আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকিম)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمَجَالِسِ بِالصُّعُدَاتِ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، لَيَشُقُّ عَلَيْنَا الْجُلُوسُ فِي بُيُوتِنَا ؟ قَالَ : فَإِنْ جَلَسْتُمْ فَأَعْطُوا الْمَجَالِسَ حَقَّهَا، قَالُوا : وَمَا حَقُّهَا يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : إِدْلاَلُ السَّائِلِ، وَرَدُّ السَّلاَمِ، وَغَضُّ الأَبْصَارِ، وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ .
১১৫৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেনঃ পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، مَا لَنَا بُدٌّ مِنْ مَجَالِسِنَا نَتَحَدَّثُ فِيهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَمَّا إِذْ أَبَيْتُمْ، فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ، قَالُوا : وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : غَضُّ الْبَصَرِ، وَكَفُّ الأَذَى، وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ .
১১৬০। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রাস্তায় বসার ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় না বসে তো আমাদের উপায় নাই, তথায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা যখন অসম্মত হচ্ছে, তাহলে রাস্তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ , قَالَ : خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا إِلَى حَائِطٍ مِنْ حَوَائِطِ الْمَدِينَةِ , لِحَاجَتِهِ ، وَخَرَجْتُ فِي أَثَرِهِ ، فَلَمَّا دَخَلَ الْحَائِطَ جَلَسْتُ عَلَى بَابِهِ ، وَقُلْتُ : لأَكُونَنَّ الْيَوْمَ بَوَّابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَلَمْ يَأْمُرْنِي ، فَذَهَبَ النَّبِيُّ فَقَضَى حَاجَتَهُ وَجَلَسَ عَلَى قُفِّ الْبِئْرِ ، وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ، وَدَلاهُمَا فِي الْبِئْرِ ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِيَسْتَأْذِنَ عَلَيْهِ لِيَدْخُلَ ، فَقُلْتُ : كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ ، فَوَقَفَ ، وَجِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْكَ ؟ ، فَقَالَ : " ائْذَنْ لَهُ ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " ، فَدَخَلَ , فَجَاءَ عَنْ يَمِينِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاهُمَا فِي الْبِئْرِ ، فَجَاءَ عُمَرُ ، فَقُلْتُ : كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ائْذَنْ لَهُ ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ " ، فَجَاءَ عُمَرُ عَنْ يَسَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَامْتَلأَ الْقُفُّ ، فَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مَجْلِسٌ ، ثُمَّ جَاءَ عُثْمَانُ ، فَقُلْتُ : كَمَا أَنْتَ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ لَكَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " ائْذَنْ لَهُ ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَهَا بَلاءٌ يُصِيبُهُ " ، فَدَخَلَ فَلَمْ يَجِدْ مَعَهُمْ مَجْلِسًا ، فَتَحَوَّلَ حَتَّى جَاءَ مُقَابِلَهُمْ عَلَى شَفَةِ الْبِئْرِ ، فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ دَلاهُمَا فِي الْبِئْرِ ، فَجَعَلْتُ أَتَمَنَّى أَنْ يَأْتِيَ أَخٌ لِي ، وَأَدْعُو اللَّهَ أَنْ يَأْتِيَ بِهِ ، فَلَمْ يَأْتِ حَتَّى قَامُوا ، قَالَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ : فَأَوَّلْتُ ذَلِكَ قُبُورَهُمْ ، اجْتَمَعَتْ هَا هُنَا ، وَانْفَرَدَ عُثْمَانُ
১১৬১। আবু মূসা আশআরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য মদীনার এক বাগানে প্রবেশ করেন। আমিও তার পিছে পিছে গেলাম। তিনি বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আমি এর ফটকে বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি আজ অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বাররক্ষী হবো, যদিও তিনি আমাকে আদেশ করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার পর একটি কূপের কিনারায় বসেন এবং তার পায়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করেন। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার জন্য অনুমতি চাই। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বলেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দাও। তিনি প্রবেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডান দিক দিয়ে এসে নিজ পায়ের নলা উদলা করে কূপের মধ্যে তা ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন।
অতঃপর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম পাশ দিয়ে এসে নিজ পদদ্বয়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। ফলে কূপের বেষ্টনী দেয়াল ভরে গেলো এবং তাতে আর বসার জায়গা থাকলো না। অতঃপর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকেও আসার অনুমতি দাও এবং তার উপর বিপদ আপতিত হওয়াসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করে তথায় তাদের সাথে বসার খালি জায়গা পেলেন না। তাই তিনি ঘুরে গিয়ে তাদের সম্মুখভাগে কূপের কিনারে এলেন। তিনিও নিজ পদদ্বয়ের নলা উন্মুক্ত করে দিয়ে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আকাঙ্ক্ষা করতে থাকলাম, আমার ভাইটি যদি এসে পৌছতো এবং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম যে, তিনি যেন তাকে নিয়ে আসেন। তাঁরা উঠে যাওয়া পর্যন্ত সে এসে পৌঁছেনি।
ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেন, আমি উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যা করেছি যে, সেটা তাদের তিনজনের কবর যা এখানে এক স্থানে অবস্থিত, আর উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র কবর পৃথক স্থানে অবস্থিত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي طَائِفَةِ النَّهَارِ لاَ يُكَلِّمُنِي وَلاَ أُكَلِّمُهُ، حَتَّى أَتَى سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعٍ، فَجَلَسَ بِفِنَاءِ بَيْتِ فَاطِمَةَ، فَقَالَ : أَثَمَّ لُكَعٌ ؟ أَثَمَّ لُكَعٌ ؟ فَحَبَستْهُ شَيْئًا، فَظَنَنْتُ أَنَّهَا تُلْبِسُهُ سِخَابًا أَوْ تُغَسِّلُهُ، فَجَاءَ يَشْتَدُّ حَتَّى عَانَقَهُ وَقَبَّلَهُ، وَقَالَ : اللَّهُمَّ أَحْبِبْهُ، وَأَحْبِبْ مَنْ يُحِبُّهُ .
১১৬২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের কোন এক অংশে বের হলেন। (পথিমধ্যে) তিনিও আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কোন কথা বলিনি। এমতাবস্থায় তিনি কায়নুকা গোত্রের বাজারে এলেন। (ফেরার পথে) তিনি ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ডেকে বলেনঃ খোকা (হাসান) কি এখানে আছে, খোকা কি এখানে আছে? ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) শিশুকে আসতে দিতে খানিক বিলম্ব করলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি তাকে পোশাক পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। সে দ্রুতবেগে বের হয়ে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বুকে চেপে ধরে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ ”হে আল্লাহ! তুমি তাকে মহব্বত করো এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদেরকেও মহব্বত করো”। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلَ مِنَ الْمَجْلِسِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ .
১১৬৩। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন ব্যক্তিকে স্বস্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে সেখানে বসতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিযী,আহমাদ) ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সম্মানে কেউ স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে তিনি তার সেই জায়গায় বসতেন না। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ : خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، حَتَّى إِذَا رَأَيْتُ أَنِّي قَدْ فَرَغْتُ مِنْ خِدْمَتِهِ قُلْتُ : يَقِيلُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ، فَإِذَا غِلْمَةٌ يَلْعَبُونَ، فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ إِلَى لَعِبِهِمْ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَانْتَهَى إِلَيْهِمْ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، ثُمَّ دَعَانِي فَبَعَثَنِي إِلَى حَاجَةٍ، فَكَانَ فِي فَيْءٍ حَتَّى أَتَيْتُهُ . وَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّي، فَقَالَتْ : مَا حَبَسَكَ ؟ قُلْتُ : بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى حَاجَةٍ، قَالَتْ : مَا هِيَ ؟ قُلْتُ : إِنَّهُ سِرٌّ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتِ : احْفَظْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم سِرَّهُ، فَمَا حَدَّثْتُ بِتِلْكَ الْحَاجَةِ أَحَدًا مِنَ الْخَلْقِ، فَلَوْ كُنْتُ مُحَدِّثًا حَدَّثْتُكَ بِهَا .
১১৬৪। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক দিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত করলাম। শেষে আমি যখন দেখলাম যে, আমি তাঁর খেদমত থেকে অবসর হয়েছি, আমি ভাবলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো দুপুরের বিশ্রাম নিবেন। তাই আমি তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে চলে গেলাম। পথিমধ্যে শিশুরা খেলছিল। আমি তাদের খেলা দেখার জন্য দাড়িয়ে গেলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাদের নিকট পৌঁছে তাদের সালাম দিলেন। অতঃপর আমাকে ডেকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি তার প্রয়োজন সেরে তার নিকট ফিরে এলাম এবং মায়ের নিকট ফিরে যেতে আমার বিলম্ব হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বিলম্বের কারণ কি? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি প্রয়োজনে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপনীয় বিষয়ের হেফাজত করো। সৃষ্টিকুলের কারো সাথে আমি সে বিষয়ে আলোচনা করিনি। আমি যদি তা কারো কাছে বলতাম, তবে তা আপনার কাছে বলতাম। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَصِفُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم : كَانَ رَبْعَةً، وَهُوَ إِلَى الطُّوَلِ أَقْرَبُ، شَدِيدُ الْبَيَاضِ، أَسْوَدُ شَعْرِ اللِّحْيَةِ، حَسَنُ الثَّغْرِ، أَهْدَبُ أَشْفَارِ الْعَيْنَيْنِ، بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، مُفَاضُ الْجَبِينِ، يَطَأُ بِقَدَمِهِ جَمِيعًا، لَيْسَ لَهَا أَخْمُصُ، يُقْبِلُ جَمِيعًا، وَيُدْبِرُ جَمِيعًا، لَمْ أَرَ مِثْلَهُ قَبْلُ وَلا بَعْدُ .
১১৬৫। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৈহিক গঠন বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁর দেহের গড়ন ছিল মধ্যম আকৃতির, প্রায় দীর্ঘকায়, অত্যন্ত গৌরবর্ণের, দাঁড়ির চুল কালো, সুন্দর মুখাবয়ব, লম্বা ভ্রুযুগল, বাহুদ্বয় চওড়া, প্রশস্ত গণ্ডদেশ, পদদ্বয় সম্পূর্ণ সমতল, তার তালুতে গর্ত ছিলো না। কারো প্রতি তাকালে সমস্ত শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন এবং সমস্ত শরীরে পশ্চাদমুখী হতেন। আমি তাঁর আগে কিংবা পরে আর কাউকে তার অনুরূপ দেখিনি।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : قَالَ لِي عُمَرُ : إِذَا أَرْسَلْتُكَ إِلَى رَجُلٍ، فَلاَ تُخْبِرْهُ بِمَا أَرْسَلْتُكَ إِلَيْهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يُعِدُّ لَهُ كِذْبَةً عِنْدَ ذَلِكَ .
১১৬৬। আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে কারো নিকট পাঠালে তুমি (অপরকে) অবহিত করো না যে, কেন আমি তোমাকে তার নিকট পাঠিয়েছি। অন্যথায় শয়তান ঐ সময় তার জন্য মিথ্যা রচনা করবে।
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ : كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يُحِدَّ الرَّجُلُ النَّظَرَ إِلَى أَخِيهِ، أَوْ يُتْبِعَهُ بَصَرَهُ إِذَا قَامَ مِنْ عِنْدِهِ، أَوْ يَسْأَلَهُ : مِنْ أَيْنَ جِئْتَ، وَأَيْنَ تَذْهَبُ ؟ .
১১৬৭। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকানো অথবা সে উঠে চলে গেলে তার দিকে নজরদারি করা অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে ইত্যাকার আচরণ দূষণীয়।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ زُبَيْدٍ قَالَ : مَرَرْنَا عَلَى أَبِي ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، فَقَالَ : مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتُمْ ؟ قُلْنَا : مِنْ مَكَّةَ، أَوْ مِنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ، قَالَ : هَذَا عَمَلُكُمْ ؟ قُلْنَا : نَعَمْ، قَالَ : أَمَا مَعَهُ تِجَارَةٌ وَلاَ بَيْعٌ ؟ قُلْنَا : لاَ، قَالَ : اسْتَأْنِفُوا الْعَمَلَ .
১১৬৮। মালেক ইবনে যুবাইদ (রহঃ) বলেন, আমরা রাবাযা নামক স্থানে আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোথা থেকে আগমন করেছো? আমরা বললাম, মক্কা থেকে অথবা বাইতুল আতীক (কাবা) থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এটাই কি তোমাদের কাজ ছিল? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, এর সাথে কি ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো না? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তোমাদের কাজ অব্যাহত রাখো।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ صَوَّرَ صُورَةً كُلِّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهِ وَعُذِّبَ، وَلَنْ يَنْفُخَ فِيهِ . وَمَنْ تَحَلَّمَ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَعُذِّبَ، وَلَنْ يَعْقِدَ بَيْنَهُمَا، وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ يَفِرُّونَ مِنْهُ، صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ الآنُكُ .
১১৬৯৷ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (বিচরণশীল প্রাণীর) প্রতিকৃতি নির্মাণ করে তাকে তাতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না। যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে দুটি গমের দানার মধ্যে গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে গিঠ দিতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা তার শ্রবণ অপছন্দ করে, তার দুই কানের মধ্যে উত্তপ্ত তরল সীসা ঢেলে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُضَارِبٍ، عَنِ الْعُرْيَانِ بْنِ الْهَيْثَمِ قَالَ : وَفَدَ أَبِي إِلَى مُعَاوِيَةَ، وَأَنَا غُلاَمٌ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ : مَرْحَبًا مَرْحَبًا، وَرَجُلٌ قَاعِدٌ مَعَهُ عَلَى السَّرِيرِ، قَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مَنْ هَذَا الَّذِي تُرَحِّبُ بِهِ ؟ قَالَ : هَذَا سَيِّدُ أَهْلِ الْمَشْرِقِ، وَهَذَا الْهَيْثَمُ بْنُ الأَسْوَدِ، قُلْتُ : مَنْ هَذَا ؟ قَالُوا : هَذَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قُلْتُ لَهُ : يَا أَبَا فُلاَنٍ، مِنْ أَيْنَ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ ؟ قَالَ : مَا رَأَيْتُ أَهْلَ بَلَدٍ أَسْأَلَ عَنْ بَعِيدٍ، وَلاَ أَتْرَكَ لِلْقَرِيبِ مِنْ أَهْلِ بَلَدٍ أَنْتَ مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ : يَخْرُجُ مِنْ أَرْضِ الْعِرَاقِ، ذَاتِ شَجَرٍ وَنَخْلٍ .
১১৭০। উরয়ান ইবনুল হায়ছাম (রহঃ) বলেন, আমার পিতা প্রতিনিধি হিসাবে মুআবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট গেলেন। আমি তখন তরুণ। তিনি তার নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, মারহাবা মারহাবা। তার নিকটেই এক ব্যক্তি সোফায় বসা ছিল। তিনি বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি কে যাকে আপনি মারহাবা বলে স্বাগত জানালেন? তিনি বলেন, ইনি প্রাচ্যবাসীর নেতা। ইনি হায়ছাম ইবনুল আসওয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি বললাম, ইনি কে? লোকজন বললো, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)। আমি তাকে বললাম, হে অমুকের পিতা! দাজ্জাল কোথা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে? তিনি বলেন, তুমি যে এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার লোকদের চেয়ে দূরবর্তী বিষয় সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাকারী এবং নিকটবর্তী বিষয় অধিক ত্যাগকারী আমি আর কোন এলাকার লোককে পাইনি। অতঃপর তিনি বলেন, গাছপালা ও খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ ইরাক থেকে সে আত্মপ্রকাশ করবে। (তাবারানী)
حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ : جَلَسْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى سَرِيرٍ .
১১৭১। আবুল আলিয়া (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সাথে গদিতে বসেছি।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ : كُنْتُ أَقْعُدُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ، فَكَانَ يُقْعِدُنِي عَلَى سَرِيرِهِ، فَقَالَ لِي : أَقِمْ عِنْدِي حَتَّى أَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِنْ مَالِي، فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ شَهْرَيْنِ
১১৭২। আবু জামরা (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সাথে উঠা-বসা করতাম। তিনি আমাকে তার গদিতে বসাতেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি আমার নিকট অবস্থান করে যাবত না আমি তোমাকে আমার মালের একটি অংশ দান করি। অতএব আমি তার নিকট দুই মাস অবস্থান করলাম। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا عُبَيْدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَهُوَ مَعَ الْحَكَمِ أَمِيرٌ بِالْبَصْرَةِ عَلَى السَّرِيرِ، يَقُولُ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلاَةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ بَكَّرَ بِالصَّلاةِ .
১১৭৩। খালিদ ইবনে দীনার আবু খালদা (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বসরার শাসক আল-হাকামের সাথে গদিতে বসা অবস্থায় বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গরমের মৌসুমে বিলম্বে এবং শীতের মৌসুমে ত্বরায় (ওয়াক্তের প্রারম্ভে) নামায পড়তেন। (বুখারী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى سَرِيرٍ مَرْمُولٍ بِشَرِيطٍ، تَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، مَا بَيْنَ جِلْدِهِ وَبَيْنَ السَّرِيرِ ثَوْبٌ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَبَكَى، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : مَا يُبْكِيكَ يَا عُمَرُ ؟ قَالَ : أَمَا وَاللَّهِ مَا أَبْكِي يَا رَسُولَ اللهِ، أَلاَّ أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّكَ أَكْرَمُ عَلَى اللهِ مِنْ كِسْرَى وَقَيْصَرَ، فَهُمَا يَعِيثَانِ فِيمَا يَعِيثَانِ فِيهِ مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَرَى، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَمَا تَرْضَى يَا عُمَرُ أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ ؟ قُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ : فَإِنَّهُ كَذَلِكَ .
১১৭৪। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি খেজুর পাতার দড়ির তৈরী একটি চারপায়ার উপর শায়িত ছিলেন। তার মাথার নিচে ছিল খেজুর গাছের বাকল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ। চারপায়া ও তার দেহের মাঝখানে কোন কাপড় বিছানো ছিলো না। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার নিকট প্রবেশ করে কেঁদে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ হে উমার! তোমাকে কিসে কাঁদালো? তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এজন্যই কাদছি যে, আমি জানি আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা (পারস্য রাজ) কিসরা ও (রোমসম্রাট) কাইজারের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে। তারা এই পার্থিব জগতের কতো অফুরন্ত ভোগবিলাসের মধ্যে ডুবে আছে। আর হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অবস্থা তো আমি স্বচক্ষে দেখছি! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে উমার! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে না যে, তাদের জন্য দুনিয়ার ভোগসামগ্ৰী আর আমাদের জন্য আখেরাতের ভোগসামগ্ৰী? আমি বললাম, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ বিষয়টি এরূপই। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي رِفَاعَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ : انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، رَجُلٌ غَرِيبٌ جَاءَ يَسْأَلُ عَنْ دِينِهِ، لاَ يَدْرِي مَا دِينُهُ، فَأَقْبَلَ إِلَيَّ وَتَرَكَ خُطْبَتَهُ، فَأَتَى بِكُرْسِيٍّ خِلْتُ قَوَائِمَهُ حَدِيدًا، قَالَ حُمَيْدٌ : أُرَاهُ خَشَبًا أَسْوَدَ حَسَبُهُ حَدِيدًا، فَقَعَدَ عَلَيْهِ، فَجَعَلَ يُعَلِّمُنِي مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ، ثُمَّ أَتَمَّ خُطْبَتَهُ، آخِرَهَا .
১১৭৫। আবু রিফাআ আল-আদাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি তখন ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন মুসাফির এসেছে, সে তার দীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায়। সে জানে না তার দীন কি? তিনি তৎক্ষণাৎ তার ভাষণ স্থগিত রেখে আমার সামনে এলেন। একটি কুরছি (চেয়ার) আনা হলো, আমার ধারণামতে এর পায়াগুলো ছিল লোহার। অধস্তন রাবী হুমাইদ (রহঃ) বলেন, মনে হয় পায়াগুলো ছিল কালো কাঠের এবং তিনি তাকে লোহা ধারণা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যা শিখিয়েছেন তা তাকে শিখালেন। অতঃপর তিনি তার অসমাপ্ত ভাষণ সমাপ্ত করলেন। (মুসলিম, নাসাঈ, দূলাবী)
حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ دِهْقَانَ قَالَ : رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ جَالِسًا عَلَى سَرِيرِ عَرُوسٍ، عَلَيْهِ ثِيَابٌ حُمْرُ .
১১৭৬। মূসা ইবনে দিহকান (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে লাল রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় বাসর রাতের খাটের উপর বসা দেখেছি। (তাহাবী)