আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ شُمَيْسَةَ الْعَتَكِيَّةِ قَالَتْ : ذُكِرَ أَدَبُ الْيَتِيمِ عِنْدَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَقَالَتْ : إِنِّي لأَضْرِبُ الْيَتِيمَ حَتَّى يَنْبَسِطَ .
১৪১। শুমায়সা আতাকিয়া (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট ইয়াতীমকে আদব-কায়দা শিক্ষা দানের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ইয়াতীমকে আমি অবশ্যই আদব-কায়দা শিখাতে প্রহার করি যাবত না সে সটান হয় (বাযযার)।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَمُوتُ لأَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ثَلاَثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ، فَتَمَسَّهُ النَّارُ، إِلاَّ تَحِلَّةَ الْقَسَمِ .
১৪২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা যায় তাকে দোযখের আগুন স্পর্শ করবে না, অবশ্য শপথ পূর্ণ করার জন্য (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ طَلْقِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ امْرَأَةً أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ فَقَالَتِ : ادْعُ لَهُ، فَقَدْ دَفَنْتُ ثَلاَثَةً، فَقَالَ : احْتَظَرْتِ بِحِظَارٍ شَدِيدٍ مِنَ النَّارِ .
১৪৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা একটি শিশুসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর জন্য দোয়া করুন। আমি ইতিমধ্যে তিনটি সন্তানকে দাফন করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো দোযখের মোকাবিলায় মযবুত প্রতিবন্ধক গড়ে তুলেছো (মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عَيَّاشٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ خَالِدٍ الْعَبْسِيِّ قَالَ : مَاتَ ابْنٌ لِي، فَوَجَدْتُ عَلَيْهِ وَجَدَا شَدِيدًا، فَقُلْتُ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا سَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا تُسَخِّي بِهِ أَنْفُسَنَا عَنْ مَوْتَانَا ؟ قَالَ : سَمِعْتُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : صِغَارُكُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ .
১৪৪। খালিদ আল-আবসী (রহঃ) বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান মারা গেলে আমি অত্যন্ত শোকাহত হলাম। আমি বললাম, হে আবু হুরায়রা! আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন কিছু শুনেছেন যা দ্বারা আমরা আমাদের মৃতদের মৰ্মবেদনায় সান্তুনা লাভ করতে পারি? তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের ছোট শিশুরা বেহেশতের পতঙ্গ (মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَيَّاشٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ مَاتَ لَهُ ثَلاَثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ فَاحْتَسَبَهُمْ دَخَلَ الْجَنَّةَ، قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ، وَاثْنَانِ ؟ قَالَ : وَاثْنَانِ، قُلْتُ لِجَابِرٍ : وَاللَّهِ، أَرَى لَوْ قُلْتُمْ وَاحِدٌ لَقَالَ . قَالَ : وَأَنَا أَظُنُّهُ وَاللَّهِ .
১৪৫। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যার তিনটি সন্তান মারা গেছে এবং সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করেছে, সে বেহেশতে যাবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আর দুটি সন্তান? তিনি বলেনঃ এবং দুটিও? আমি (মাহমূদ) জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমার তো মনে হয় আপনারা যদি এক সন্তানের কথাও বলতেন তবে তিনি তাই বলতেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমার ধারণাও তাই (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ قَالَ : سَمِعْتُ طَلْقَ بْنَ مُعَاوِيَةَ، هُوَ جَدُّهُ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ امْرَأَةً أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ فَقَالَتِ : ادْعُ اللَّهَ لَهُ، فَقَدْ دَفَنْتُ ثَلاَثَةً، فَقَالَ : احْتَظَرْتِ بِحِظَارٍ شَدِيدٍ مِنَ النَّارِ .
১৪৬। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা একটি শিশুসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর জন্য দোয়া করুন। আমি ইতিমধ্যে তিনটি সন্তানকে দাফন করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো দোযখের মোকাবিলায় মযবুত প্রতিবন্ধক গড়ে তুলেছো (মুসলিম)!
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا لاَ نَقْدِرُ عَلَيْكَ فِي مَجْلِسِكَ، فَوَاعِدْنَا يَوْمًا نَأْتِكَ فِيهِ، فَقَالَ : مَوْعِدُكُنَّ بَيْتُ فُلاَنٍ، فَجَاءَهُنَّ لِذَلِكَ الْوَعْدِ، وَكَانَ فِيمَا حَدَّثَهُنَّ : مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ يَمُوتُ لَهَا ثَلاَثٌ مِنَ الْوَلَدِ، فَتَحْتَسِبَهُمْ، إِلاَّ دَخَلَتِ الْجَنَّةَ، فَقَالَتِ امْرَأَةٌ : أَوِ اثْنَانِ ؟ قَالَ : أَوَِ اثْنَانِ كَانَ سُهَيْلٌ يَتَشَدَّدُ فِي الْحَدِيثِ وَيَحْفَظُ، وَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ يَقْدِرُ أَنْ يَكْتُبَ عِنْدَهُ .
১৪৭। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার মজলিসে আসতে পারি না। আপনি আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন। সেদিন আমরা আপনার নিকট হাযির হবো। তিনি বলেনঃ অমুকের ঘরে তোমরা সমবেত হবে। তিনি প্রতিশ্রুত স্থানে তাদের নিকট এলেন। তিনি তাদেরকে যা বললেন তার মধ্যে এ কথাও ছিলোঃ তোমাদের মধ্যে যে নারীর তিনটি সন্তান মারা যায় এবং সে তাদের দ্বারা সওয়াবের আশা করে, সে জান্নাতে যাবে। এক মহিলা বলেন, আর দুটি? তিনি বলেনঃ দুটি সন্তানের মৃত্যু হলেও (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَامِرٍ الأَنْصَارِيُّ قَالَ : حَدَّثَتْنِي أُمُّ سُلَيْمٍ قَالَتْ : كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَمُوتُ لَهُمَا ثَلاَثَةُ أَوْلاَدٍ، إِلاَّ أَدْخَلَهُمَا اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إِيَّاهُمْ، قُلْتُ : وَاثْنَانِ ؟ قَالَ : وَاثْنَانِ .
১৪৮। উম্মু সুলাইম (রহঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেনঃ হে উম্মু সুলাইম! যে দুই মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা যায় তাদের দু’জনকেই (পিতা-মাতাকে) আল্লাহ বেহেশতে প্রবেশ করাবেন, তাদের প্রতি তার দয়ার কল্যাণে। আমি বললাম, দুইজন মারা গেলে?
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ : قَرَأْتُ عَلَى الْفُضَيْلِ : عَنْ أَبِي حَرِيزٍ، أَنَّ الْحَسَنَ حَدَّثَهُ بِوَاسِطَ، أَنَّ صَعْصَعَةَ بْنَ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا ذَرٍّ مُتَوَشِّحًا قِرْبَةً، قَالَ : مَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ يَا أَبَا ذَرٍّ قَالَ : أَلاَ أُحَدِّثُكَ ؟ قُلْتُ : بَلَى، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلاَثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ، إِلاَّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إِيَّاهُمْ، وَمَا مِنْ رَجُلٍ أَعْتَقَ مُسْلِمًا إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلَّ عُضْوٍ مِنْهُ، فِكَاكَهُ لِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ .
১৪৯। সাসাআ ইবনে মুয়াবিয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাত করলেন। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি মশক জড়িয়ে ধরা অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, হে আবু যার! আপনার সন্তানের কী প্রয়োজন! তিনি বলেন, আমি তোমাকে হাদীস শুনাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে মুসলিমের তিনটি সন্তান নাবালেগ অবস্থায় মারা যায়, তাদের প্রতি তার মায়ার কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমকে দাসত্বমুক্ত করবে, মহামহিম আল্লাহ তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুক্তি দিবেন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عُمَارَةَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ مَاتَ لَهُ ثَلاَثَةٌ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ وَإِيَّاهُمْ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ الْجَنَّةَ .
১৫০। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার তিনটি সন্তান অপ্রাপ্ত বয়সে মারা গেছে আল্লাহ তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাকে এবং তাদেরকে অবশ্যই বেহেশতে প্রবেশ করাবেন (বুখারী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ، وَكَانَ لاَ يُولَدُ لَهُ، فَقَالَ : لأَنْ يُولَدَ لِي فِي الإِسْلاَمِ وَلَدٌ سَقْطٌ فَأَحْتَسِبَهُ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يكُونَ لِيَ الدُّنْيَا جَمِيعًا وَمَا فِيهَا وَكَانَ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ .
১৫১৷ সাহল ইবনুল হানযালিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তার সন্তানাদি হতো না। তিনি বলেন, ইসলামী যুগে যদি আমার একটি সন্তান গর্ভপাত হয়ে মারা যেতো এবং আমি তাতে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করতাম, তাহলে আমি তাকে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু আমার মালিকানাভুক্ত হওয়ার চেয়েও উত্তম বিবেচনা করতাম। ইবনুল হানযালিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন বৃক্ষতলে (হুদায়বিয়ায়) বায়আত গ্রহণকারী সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَيُّكُمْ مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ ؟ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، مَا مِنَّا مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : اعْلَمُوا أَنَّهُ لَيْسَ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلاَّ مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ، مَالُكَ مَا قَدَّمْتَ، وَمَالُ وَارِثِكَ مَا أَخَّرْتَ .
১৫২। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যার নিকট নিজ সম্পত্তির চেয়ে তার ওয়ারিসদের সম্পত্তিই অধিক প্রিয়? সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রত্যেকের কাছে তার নিজের সম্পত্তি তার ওয়ারিসদের সম্পত্তির চেয়ে অধিক প্রিয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যেনে রেখো! তোমাদের মধ্য এমন কেউ নাই যার কাছে তার নিজ সম্পত্তি অপেক্ষা তার ওয়ারিসদের সম্পত্তি অধিক প্রিয় নয়। তোমার সম্পত্তি হলো যা তুমি অগ্রিম প্রেরণ করেছো। আর তোমার ওয়ারিসদের সম্পত্তি হলো যা তুমি রেখে দিয়েছে (বুখারী, নাসাঈ)।
عن عبد الله بن مسعود قَالَ : وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَا تَعُدُّونَ فِيكُمُ الرَّقُوبَ ؟ قَالُوا : الرَّقُوبُ الَّذِي لاَ يُولَدُ لَهُ، قَالَ : لاَ، وَلَكِنَّ الرَّقُوبَ الَّذِي لَمْ يُقَدِّمْ مِنْ وَلَدِهِ شَيْئًا .
১৫৩। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে নিঃসন্তান বলো? সাহাবীগণ বলেন, যার সন্তান হয় না সে নিঃসন্তান। তিনি বলেনঃ না, বরং নিঃসন্তান হলো যে কোন সন্তান অগ্রে প্রেরণ করেনি অর্থাৎ যার কোন সন্তান মারা যায়নি (বুখারী, মুসলিম)।
عن عبد الله قَالَ : وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَا تَعُدُّونَ فِيكُمُ الصُّرَعَةَ ؟ قَالُوا : هُوَ الَّذِي لاَ تَصْرَعُهُ الرِّجَالُ، فَقَالَ : لاَ، وَلَكِنَّ الصُّرَعَةَ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ .
১৫৪। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে মল্লযোদ্ধা বলো? সাহাবীগণ বলেন, লোকেরা যাকে ভূপাতিত করতে পারে না। তিনি বলেনঃ না, বরং যে ব্যক্তি ক্রোধের সময় আত্মসংবরণ করতে পারে সে-ই হলো মল্লযোদ্ধা (মুসলিম)।
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ : حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا ثَقُلَ قَالَ : يَا عَلِيُّ، ائْتِنِي بِطَبَقٍ أَكْتُبْ فِيهِ مَا لاَ تَضِلُّ أُمَّتِي بَعْدِي، فَخَشِيتُ أَنْ يَسْبِقَنِي فَقُلْتُ : إِنِّي لَأَحْفَظُ مِنْ ذِرَاعَيِ الصَّحِيفَةِ، وَكَانَ رَأْسُهُ بَيْنَ ذِرَاعِي وَعَضُدِي، فَجَعَلَ يُوصِي بِالصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ، وَقَالَ كَذَاكَ حَتَّى فَاضَتْ نَفْسُهُ، وَأَمَرَهُ بِشَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، مَنْ شَهِدَ بِهِمَا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ .
১৫৫। আলী ইবনে আবু তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে তিনি বলেনঃ হে আলী! আমার নিকট একখানা ফলক নিয়ে আসো। আমি তাতে এমন কিছু লিখে দিবো যাতে আমার উম্মাত পথভ্রষ্ট না হয়। আমার আশঙ্কা যে, হয়তো সে সময় আমি পাবো না। আমি বললাম, নিশ্চয় আমি আমার কাঁধের পাণ্ডুলিপিতে এটা সংরক্ষণ করবো। তখন তাঁর মাথা তার কনুই ও আমার দুই বাহুর মাঝখানে ছিল। তিনি নামায, যাকাত এবং তোমাদের দাসদাসী সম্পর্কে ওসিয়াত করেন। তিনি এরূপ বলতে বলতে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাকে আদেশ দেন এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যঃ ”আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল” এবং বলেনঃ যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দিবে, দোযখের জন্য তাকে হারাম করা হবে (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَجِيبُوا الدَّاعِيَ، وَلاَ تَرُدُّوا الْهَدِيَّةَ، وَلاَ تَضْرِبُوا الْمُسْلِمِينَ .
১৫৬। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা দাওয়াত দানকারীর ডাকে সাড়া দিও, উপহারাদি ফেরত দিও না এবং মুসলিমদেরকে প্রহার করো না (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيٍّ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ : كَانَ آخِرُ كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : الصَّلاَةَ، الصَّلاَةَ، اتَّقُوا اللَّهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ .
১৫৭। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম কথা ছিলঃ নামায! নামায! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِلنَّاسِ : نَحْنُ أَعْرَفُ بِكُمْ مِنَ الْبَيَاطِرَةِ بِالدَّوَابِّ، قَدْ عَرَفْنَا خِيَارَكُمْ مِنْ شِرَارِكُمْ . أَمَّا خِيَارُكُمُ : الَّذِي يُرْجَى خَيْرُهُ، وَيُؤْمَنُ شَرُّهُ . وَأَمَّا شِرَارُكُمْ : فَالَّذِي لاَ يُرْجَى خَيْرُهُ، وَلاَ يُؤْمَنُ شَرُّهُ، وَلاَ يُعْتَقُ مُحَرَّرُهُ .
صحيح الإسناد موقوفا ، وقد صح منه مرفوعا جملة الخيار والشرار دون العتق - الألباني
১৫৮। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি লোকদেরকে বলতেন, পশু চিকিৎসকগণ পশুদেরকে যেরূপ চিনতে পারে, আমি তোমাদেরকে তার চেয়েও উত্তমরূপে চিনি। আমি তোমাদের মধ্যকার উত্তম ও নিকৃষ্ট লোকদের চিনি। অতএব তোমাদের মধ্যকার উত্তম লোক হলো, যাদের নিকট কল্যাণ আশা করা যায় এবং যাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ বোধ করা যায়। আর তোমাদের মধ্যকার মন্দ লোক হলো, যাদের নিকট কল্যাণ আশা করা যায় না, যাদের অনিষ্ট থেকেও নিরাপদ বোধ করা যায় না এবং যাদের প্রতিশ্রুত দাসের মুক্তি দেয়া হয় না।
حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَرِيزُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ : الْكَنُودُ : الَّذِي يَمْنَعُ رِفْدَهُ، وَيَنْزِلُ وَحْدَهُ، وَيَضْرِبُ عَبْدَهُ .
১৫৯। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘কানুদ’ (অকৃতজ্ঞ) সেই ব্যক্তি যে তার দান-খয়রাত বন্ধ রাখে, জনবিচ্ছিন্ন থাকে এবং নিজের দাসকে মারধর করে।
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، وَحَمَّادٍ، عَنْ حَبِيبٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ رَجُلاً أَمَرَ غُلاَمًا لَهُ أَنْ يَسْنُوَ عَلَى بَعِيرٍ لَهُ، فَنَامَ الْغُلاَمُ، فَجَاءَ بِشُعْلَةٍ مِنْ نَارٍ فَأَلْقَاهَا فِي وَجْهِهِ، فَتَرَدَّى الْغُلاَمُ فِي بِئْرٍ، فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَرَأَى الَّذِي فِي وَجْهِهِ، فَأَعْتَقَهُ .
১৬০। হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার উটে করে তার গোলামকে কূপ থেকে পানি তুলে আনতে নির্দেশ দিলো। কিন্তু গোলামটি ঘুমিয়ে গেলো। তার মনিব অগ্নিশিখাসহ এসে তা তার মুখের উপর নিক্ষেপ করলো। গোলামটি কূপের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লো। পরদিন সকালে সে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট উপস্থিত হলো। তিনি তার মুখে পোড়া দাগ দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে দাসত্বমুক্ত ঘোষণা করেন।