আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ حَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ عَاصِمٍ، وَكَانَ حَرْمَلَةُ أَبَا أُمِّهِ، فَحَدَّثَتْنِي صَفِيَّةُ ابْنَةُ عُلَيْبَةَ، وَدُحَيْبَةُ ابْنَةُ عُلَيْبَةَ، وَكَانَ جَدَّهُمَا حَرْمَلَةُ أَبَا أَبِيهِمَا، أَنَّهُ أَخْبَرَهُمْ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّهُ خَرَجَ حَتَّى أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَكَانَ عِنْدَهُ حَتَّى عَرَفَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا ارْتَحَلَ قُلْتُ فِي نَفْسِي : وَاللَّهِ لَآتِيَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَزْدَادَ مِنَ الْعِلْمِ، فَجِئْتُ أَمْشِي حَتَّى قُمْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقُلْتُ مَا تَأْمُرُنِي أَعْمَلُ ؟ قَالَ : يَا حَرْمَلَةُ، ائْتِ الْمَعْرُوفَ، وَاجْتَنَبِ الْمُنْكَرَ، ثُمَّ رَجَعْتُ، حَتَّى جِئْتُ الرَّاحِلَةَ، ثُمَّ أَقْبَلْتُ حَتَّى قُمْتُ مَقَامِي قَرِيبًا مِنْهُ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، مَا تَأْمُرُنِي أَعْمَلُ ؟ قَالَ : يَا حَرْمَلَةُ، ائْتِ الْمَعْرُوفَ، وَاجْتَنَبِ الْمُنْكَرَ، وَانْظُرْ مَا يُعْجِبُ أُذُنَكَ أَنْ يَقُولَ لَكَ الْقَوْمُ إِذَا قُمْتَ مِنْ عِنْدِهِمْ فَأْتِهِ، وَانْظُرِ الَّذِي تَكْرَهُ أَنْ يَقُولَ لَكَ الْقَوْمُ إِذَا قُمْتَ مِنْ عِنْدِهِمْ فَاجْتَنِبْهُ، فَلَمَّا رَجَعْتُ تَفَكَّرْتُ، فَإِذَا هُمَا لَمْ يَدَعَا شَيْئًا .
২২১। হারমালা ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি রওনা হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত থাকতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিনে ফেলেন। তিনি রওয়ানা হলে আমি মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাবো এবং আমার জ্ঞানের পরিধি বাড়াবো। আমি হেঁটে হেঁটে তার নিকট গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম। আমি বললাম, আপনি আমাকে কি কাজের নির্দেশ দিবেন? তিনি বলেনঃ হে হারমালা! তুমি সৎকাজ করবে এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর আমি ফিরে এসে আমার বাহনের নিকট এলাম, আবার ফিরে গিয়ে তার নিকট আমার স্থানে দাঁড়ালাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে কি কাজ করার নির্দেশ দিবেন? তিনি বলেনঃ ”হে হারমালা! তুমি সৎকাজ করবে এবং পাপ কাজ বর্জন করবে। তুমি লক্ষ্য করো, তোমার কান কি শুনতে পছন্দ করে? তোমার সম্প্রদায় তোমার অনুপস্থিতিতে যা বললে তুমি আনন্দ পাও তা করো এবং তোমার অনুপস্থিতিতে তোমার সম্প্রদায় যা বললে তুমি অপছন্দ করো তা থেকে বিরত থাকো”। হারমালা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ফিরে এসে ভেবে দেখলাম, তা এমন দু’টি কথা, যাতে কিছুই বাদ পড়েনি (তায়ালিসী, আদাবুল মুহাদ্দিস, ইসাবা)।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ : ذَكَرْتُ لأَبِي حَدِيثَ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ أَهْلَ الْمَعْرُوفِ فِي الدُّنْيَا هُمْ أَهْلُ الْمَعْرُوفِ فِي الْآخِرَةِ، فَقَالَ : إِنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي عُثْمَانَ يُحَدِّثُهُ، عَنْ سَلْمَانَ، فَعَرَفْتُ أَنَّ ذَاكَ كَذَاكَ، فَمَا حَدَّثْتُ بِهِ أَحَدًا قَطُّ .
২২২। সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, পৃথিবীর সৎকর্মশীল লোকেরাই আখেরাতে সৎকর্মশীল গণ্য হবেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলেছেন।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ .
২২৩। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রতিটি সৎকাজ দান-খয়রাততুল্য (বুখারী, মুসলিম, হাকিম)।
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ، قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَجِدْ ؟ قَالَ : فَيَعْتَمِلُ بِيَدَيْهِ، فَيَنْفَعُ نَفْسَهُ، وَيَتَصَدَّقُ، قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ، أَوْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : فَيُعِينُ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ، قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : فَيَأْمُرُ بِالْخَيْرِ، أَوْ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ، قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : فَيُمْسِكُ عَنِ الشَّرِّ، فَإِنَّهُ لَهُ صَدَقَةٌ .
২২৪। আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের দান-খয়রাত করা ওয়াজিব। সাহাবীগণ বলেন, সে যদি তা করতে সক্ষম না হয় বা তা করতে না পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে স্বহস্তে কাজ করে নিজেকে লাভবান করবে এবং দান-খয়রাত করবে। সাহাবীগণ বলেন, যদি তার সে সামর্থ্য না থাকে বা সে তা না করতে পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে দুস্থ-বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। সাহাবীগণ বলেন, সে যদি তাও না করতে পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে কল্যাণের বা সৎকাজের আদেশ দিবে। তারা বলেন, যদি সে তাও না করতে পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে অপরের ক্ষতিসাধন থেকে বিরত থাকবে। এটাই তার জন্য দানস্বরূপ। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، أَنَّ أَبَا مُرَاوِحٍ الْغِفَارِيَّ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَا ذَرٍّ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : إِيمَانٌ بِاللَّهِ، وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ، قَالَ : فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : أَغْلاَهَا ثَمَنًا، وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا، قَالَ : أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَفْعَلْ ؟ قَالَ : تُعِينُ ضَائِعًا، أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ، قَالَ : أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَفْعَلَ ؟ قَالَ : تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقُ بِهَا عَنْ نَفْسِكَ .
২২৫। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো, সর্বোত্তম আমল কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তার পথে জিহাদ। বলা হলো, আযাদ করার জন্য সর্বোত্তম গোলাম কে? তিনি বলেনঃ যার মূল্য সর্বাধিক এবং যে নিজ মনিব পরিবারের অধিক প্রিয়। প্রশ্নকারী বললো, আপনার কি মত, আমি যদি কোন কোন কাজ করতে সক্ষম না হই? তিনি বলেনঃ তাহলে কোন কারিগরের কাজে সাহায্য করো অথবা অনভিজ্ঞ লোকের কাজ করে দাও। সে বললো, আপনি কি মনে করেন, যদি তা করতে আমি অপারগ হই? তিনি বলেনঃ তোমার অনিষ্ট থেকে লোকজনকে নিরাপদ থাকতে দাও। কেননা তাও সদাকা যা তোমার নিজের জন্য করতে পারো (২১৯ নং দ্র.)।
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ قَالَ : حَدَّثَنِي مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَُرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ، ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالأُجُورِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ، قَالَ : أَلَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَدَّقُونَ ؟ إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ وَتَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً، وَبُضْعُ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ، قِيلَ : فِي شَهْوَتِهِ صَدَقَةٌ ؟ قَالَ : لَوْ وُضِعَ فِي الْحَرَامِ، أَلَيْسَ كَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ ؟ ذَلِكَ إِنْ وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ .
২২৬। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিত্তবানরা সওয়াব লুটে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যেমন নামায পড়ি, তারাও নামায পড়েন, আমরা যেমন রোযা রাখি, তারাও রোযা রাখেন এবং তারা তাদের উদৃত্ত মাল থেকে দান-খয়রাত করেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ কি তোমাদের জন্য দান-খয়রাতের ব্যবস্থা রাখেননি? নিশ্চয় প্রতিটি তাসবীহ ও তাহমীদ দানস্বরূপ এবং তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর মিলনও দানস্বরূপ। সাহাবীগণ বলেন, তার যৌনমিলনও কি দানস্বরূপ। তিনি বলেনঃ যদি সে হারাম পথে তা চরিতার্থ করতো তবে কি তা তার জন্য পাপ হতো না? অনুরূপ সে তা হালালভাবে চরিতার্থ করলে তার জন্য সওয়াব রয়েছে (মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ, ইবনে খুযাইমাহ)।
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَمْعَةَ، عَنْ أَبِي الْوَازِعِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ، قَالَ : أَمِطِ الأَذَى عَنْ طَرِيقِ النَّاسِ .
২২৭। আবু বারযা আল-আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটি আমল শিখিয়ে দিন, যা আমাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবে। তিনি বলেনঃ জনপথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করো (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَرَّ رَجُلٌ مُسْلِمٌ بِشَوْكٍ فِي الطَّرِيقِ، فَقَالَ : لَأُمِيطَنَّ هَذَا الشَّوْكَ، لاَ يَضُرُّ رَجُلاً مُسْلِمًا، فَغُفِرَ لَهُ .
২২৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা অতিক্রমকালে তার সামনে কাঁটা পড়লো। সে বললো, আমি অবশ্যই এই কাঁটা সরিয়ে ফেলবো, যাতে তা কোন মুসলিমকে কষ্ট দিতে না পারে। তাকে (এই) কাজের উসীলায় ক্ষমা করা হয় (বুখারী, মুসলিম, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَُرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي، حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا أَنَّ الأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِئِ أَعْمَالِهَا : النُّخَاعَةَ فِي الْمَسْجِدِ لاَ تُدْفَنُ .
২২৯। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উমাতের ভালো-মন্দ সমুদয় আমল আমার সামনে পেশ করা হলো। আমি তাদের নেক আমলসমূহের মধ্যে জনপথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও দেখতে পেলাম এবং তাদের বদ আমলসমূহের মধ্যে মসজিদে নিক্ষিপ্ত থুথুও দেখতে পেলাম যা মাটি দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়নি (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ العَبَّاسِ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ .
২৩০। আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-খাতমী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি সৎকাজ একটি দানস্বরূপ (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُتِيَ بِالشَّيْءِ يَقُولُ : اذْهَبُوا بِهِ إِلَى فُلاَنَةٍ، فَإِنَّهَا كَانَتْ صَدِيقَةَ خَدِيجَةَ . اذْهَبُوا بِهِ إِلَى بَيْتِ فُلاَنَةٍ، فَإِنَّهَا كَانَتْ تُحِبُّ خَدِيجَةَ .
২৩১। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু দেয়া হলে তিনি বলতেনঃ যাও, এটা অমুক নারীকে দিয়ে এসো। কেননা সে ছিল খাদীজার বান্ধবী। এটি নিয়ে অমুক মহিলার ঘরে যাও। কেননা সে খাদীজাকে মহব্বত করতো (বাযযার, হাকিম, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : قَالَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم : كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ .
২৩২। হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি সৎকাজই দানস্বরূপ (মুসলিম,আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قُرَّةَ الْكِنْدِيِّ قَالَ : عَرَضَ أَبِي عَلَى سَلْمَانَ أُخْتَهُ، فَأَبَى وَتَزَوَّجَ مَوْلاَةً لَهُ، يُقَالُ لَهَا : بُقَيْرَةُ، فَبَلَغَ أَبَا قُرَّةَ أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ حُذَيْفَةَ وَسَلْمَانَ شَيْءٌ، فَأَتَاهُ يَطْلُبُهُ، فَأَخْبَرَ أَنَّهُ فِي مَبْقَلَةٍ لَهُ، فَتَوَجَّهَ إِلَيْهِ، فَلَقِيَهُ مَعَهُ زَبِيلٌ فِيهِ بَقْلٌ، قَدْ أَدْخَلَ عَصَاهُ فِي عُرْوَةِ الزَّبِيلِ، وَهُوَ عَلَى عَاتِقِهِ، فَقَالَ : يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ، مَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ حُذَيْفَةَ ؟ قَالَ : يَقُولُ سَلْمَانُ : ( وَكَانَ الإِنْسَانُ عَجُولاً ) ، فَانْطَلَقَا حَتَّى أَتَيَا دَارَ سَلْمَانَ، فَدَخَلَ سَلْمَانُ الدَّارَ فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، ثُمَّ أَذِنَ لأَبِي قُرَّةَ، فَدَخَلَ، فَإِذَا نَمَطٌ مَوْضُوعٌ عَلَى بَابٍ، وَعِنْدَ رَأْسِهِ لَبِنَاتٌ، وَإِذَا قُرْطَاطٌ، فَقَالَ : اجْلِسْ عَلَى فِرَاشِ مَوْلاَتِكَ الَّتِي تُمَهِّدُ لِنَفْسِهَا، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ : إِنَّ حُذَيْفَةَ كَانَ يُحَدِّثُ بِأَشْيَاءَ، كَانَ يَقُولُهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَضَبِهِ لأَقْوَامٍ، فَأُوتَى فَأُسْأَلُ عَنْهَا ؟ فَأَقُولُ : حُذَيْفَةُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُ، وَأَكْرَهُ أَنْ تَكُونَ ضَغَائِنُ بَيْنَ أَقْوَامٍ، فَأُتِيَ حُذَيْفَةُ، فَقِيلَ لَهُ : إِنَّ سَلْمَانَ لاَ يُصَدِّقُكَ وَلاَ يُكَذِّبُكَ بِمَا تَقُولُ، فَجَاءَنِي حُذَيْفَةُ فَقَالَ : يَا سَلْمَانُ ابْنَ أُمِّ سَلْمَانَ، فَقُلْتُ يَا حُذَيْفَةُ ابْنَ أُمِّ حُذَيْفَةَ، لَتَنْتَهِيَنَّ، أَوْ لَأَكْتُبَنَّ فِيكَ إِلَى عُمَرَ، فَلَمَّا خَوَّفْتُهُ بِعُمَرَ تَرَكَنِي، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مِنْ وَلَدِ آدَمَ أَنَا، فَأَيُّمَا عَبْدٌ مِنْ أُمَّتِي لَعَنْتُهُ لَعْنَةً، أَوْ سَبَبْتُهُ سَبَّةً، فِي غَيْرِ كُنْهِهِ، فَاجْعَلْهَا عَلَيْهِ صَلاةً
২৩৩। আমর ইবনে আবু কুররা আল-কিন্দী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আবুল কুররা (রহঃ) সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট তার বোনের বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তিনি তাতে অসম্মত হলেন এবং বুকায়রা নাম্নী নিজ মুক্তদাসীকে বিবাহ করলেন। আবু কুররা (রহঃ) সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ও হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার মনোমালিন্যের কথা জানতে পারলেন। তিনি তার খোঁজে গেলেন। তাকে জানানো হলো যে, তিনি তার সবজি বাগানে আছেন। তিনি সেখানে গেলেন এবং তার সাক্ষাত পেলেন। তার সাথে সবজি ভর্তি একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি এর হাতার মধ্যে তার লাঠি ঢুকিয়ে তা কাঁধে তুলে নিলেন। তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহর পিতা! আপনার ও হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র মধ্যে কি ঘটেছে? আবু কুররা (রহঃ) বলেন, সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) পড়লেন, ”মানুষ তাড়াহুড়া প্রবণ” (১৭ঃ ১১)।
অতএব তারা রওয়ানা হয়ে সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র বাড়িতে এসে পৌছলেন। সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ঘরে প্রবেশ করে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললেন। আবু কুররাকে অনুমতি দিলে তিনিও ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে একখানা মাদুর বিছানো ছিল। সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আপনার দাসীর বিছানায় বসুন। সে নিজের জন্য তা পেতেছে। অতঃপর তিনি তার সাথে কথা শুরু করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট অবস্থায় যা বিভিন্নজনকে বলতেন, হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তা লোকদের নিকট বর্ণনা করেন। এসব সম্পর্কে আমার নিকট এসে আমাকে জিজ্ঞেস করা হতো। আমি বলতাম, হুযায়ফা-ই তার কথা সম্পর্কে অধিক অবগত। লোকজনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়া আমি অপছন্দ করতাম।
লোকজন আবার হুযায়ফার কাছে গিয়ে বলতো, সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আপনার বক্তব্যকে সমর্থনও করেননি এবং মিথা প্রতিপন্নও করেননি। হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার নিকট এসে বলেন, হে সালমানের মায়ের পুত্র সালমান। আমিও বললাম, হে হুযায়ফার মায়ের পুত্র হুযায়ফা! তুমি বিরত হবে, অন্যথায় আমি উমারকে তোমার সম্পর্কে লিখে জানাবো। আমি তাকে উমারের ভয় প্রদর্শন করলে তিনি আমাকে ত্যাগ করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ”আমিও আদমেরই সন্তান। (হে আল্লাহ) আমি আমার কোন উম্মাতকে অকারণে ভৎসনা করলে বা গালি দিলে তুমি তা তার পক্ষে দোয়ারূপে গ্রহণ কর” (আবু দাউদ, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : اخْرُجُوا بِنَا إِلَى أَرْضِ قَوْمِنَا . فَخَرَجْنَا، فَكُنْتُ أَنَا وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ فِي مُؤَخَّرِ النَّاسِ، فَهَاجَتْ سَحَابَةٌ، فَقَالَ أُبَيُّ : اللَّهُمَّ اصْرِفْ عَنَّا أَذَاهَا . فَلَحِقْنَاهُمْ، وَقَدِ ابْتَلَّتْ رِحَالُهُمْ، فَقَالُوا : مَا أَصَابَكُمُ الَّذِي أَصَابَنَا ؟ قُلْتُ : إِنَّهُ دَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَصْرِفَ عَنَّا أَذَاهَا، فَقَالَ عُمَرُ : أَلاَ دَعَوْتُمْ لَنَا مَعَكُمْ .
২৩৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, তোমরা আমার সাথে চলো, আমাদের লোকজনের এলাকায় ঘুরে আসি। আমরা রওয়ানা হলাম। আমি ও উবাই ইবনে কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলাম সকলের পেছনে। আকাশে মেঘ উঠলে উবাই (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে এর কষ্ট দূর করো। পরে আমরা অন্যান্যদের সাথে গিয়ে মিলিত হলাম। তাদের হাওদাসমূহ ভিজে গিয়েছিল। তারা জিজ্ঞেস করলো, আমাদের উপর যা (বৃষ্টি) বর্ষিত হলো তা কি তোমাদের উপর হয়নি? আমি বললাম, ইনি (উবাই) মহামহিম আল্লাহর নিকট এর কষ্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য দোয়া করেছিলেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের সাথে আমাদের জন্যও দোয়া করলে না কেন (তারীখ ইবনে আসাকির)।
حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ : أَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، وَكَانَ لِي صَدِيقًا، فَقُلْتُ : أَلاَ تَخْرُجُ بِنَا إِلَى النَّخْلِ ؟ فَخَرَجَ، وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ لَهُ .
২৩৫। আবু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট আসলাম। তিনি ছিলেন আমার বন্ধু। আমি বললাম, আপনি কি আমাদের সাথে খেজুর বাগানে বেড়াতে যাবেন না? অতএব তিনি তার কালো চাদর পরিহিত অবস্থায় রওয়ানা হলেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى قَالَتْ : سَمِعْتُ عَلِيًّا صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُولُ : أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ أَنْ يَصْعَدَ شَجَرَةً فَيَأْتِيَهُ مِنْهَا بِشَيْءٍ، فَنَظَرَ أَصْحَابُهُ إِلَى سَاقِ عَبْدِ اللهِ فَضَحِكُوا مِنْ حُمُوشَةِ سَاقَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَا تَضْحَكُونَ ؟ لَرِجْلُ عَبْدِ اللهِ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ مِنْ أُحُدٍ .
২৩৬। উম্মু মূসা (রহঃ) বলেন, আমি আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে গাছে উঠে কিছু নিয়ে আসতে হুকুম দিলেন। তার সাথীরা আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র উরুর দিকে তাকিয়ে তার কৃশতার কারণে তারা হেসে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কেন হাসছো? (পুণ্যের) পাল্লায় আবদুল্লাহর পা উহুদ পাহাড়ের তুলনায় অধিক ভারী হবে।
حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : الْمُؤْمِنُ مَرْآةُ أَخِيهِ، إِذَا رَأَى فِيهَا عَيْبًا أَصْلَحَهُ .
২৩৭। আবু হুরায়রা (রহঃ) বলেন, মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের আয়নাস্বরূপ। সে তার মধ্যে কোনরূপ দোষ দেখতে পেলে তা সংশোধন করে দেয়।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُؤْمِنُ مَرْآةُ أَخِيهِ، وَالْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ، يَكُفُّ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ، وَيَحُوطُهُ مِنْ وَرَائِهِ .
২৩৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি তার ভাইয়ের আয়নাস্বরূপ। এক মুমিন অপর মুমিনের ভাই। সে তার অনুপস্থিতিতে তার সম্পদের হেফাযত করবে (এবং তার অবর্তমানেও তার হেফাযত করবে) (দারেমী)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ : حَدَّثَنِي حَيْوَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَقَّاصِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ أَكَلَ بِمُسْلِمٍ أُكْلَةً، فَإِنَّ اللَّهَ يُطْعِمُهُ مِثْلَهَا مِنْ جَهَنَّمَ، وَمَنْ كُسِيَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَكْسُوهُ مِنْ جَهَنَّمَ، وَمَنْ قَامَ بِرَجُلٍ مَقَامَ رِيَاءٍ وَسُمْعَةٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَقُومُ بِهِ مَقَامَ رِيَاءٍ وَسُمْعَةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
২৩৯। মুসতাওরিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি মুসলিমের মাল থেকে (অবৈধভাবে) গ্রাস করলে, আল্লাহ জাহান্নামের অনুরূপ এক গ্রাস তাকে খাওয়াবেন। কেউ মুসলিমের বস্ত্র (অবৈধভাবে) হরণ করলে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের অনুরূপ বস্ত্র পরাবেন। কেউ মুসলিমের প্রতিপক্ষ হয়ে নাম-যশের দাবিদার হলে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নাম-যশের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন (আবু দাউদ, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَعْنِي، يَقُولُ : لاَ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مَتَاعَ صَاحِبِهِ لاَعِبًا وَلاَ جَادًّا، فَإِذَا أَخَذَ أَحَدُكُمْ عَصَا صَاحِبِهِ فَلْيَرُدَّهَا إِلَيْهِ .
২৪০। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রহঃ) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যেন তার সাথীর কোন বস্তু হস্তগত না করে, ঠাট্টাচ্ছলেও নয়, বাস্তবিকপক্ষেও নয়। তোমাদের কেউ তার সাথীর লাঠি নিলেও তা যেন তাকে ফেরত দেয় (দারিমী, তিরমিযী, তাহাবী)।