হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (241)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : إِنِّي أُبْدِعَ بِي فَاحْمِلْنِي، قَالَ : لاَ أَجِدُ، وَلَكِنِ ائْتِ فُلاَنًا، فَلَعَلَّهُ أَنْ يَحْمِلَكَ، فَأَتَاهُ فَحَمَلَهُ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ : مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ .




২৪১। আবু মাসউদ আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছি। আমাকে একটি বাহন দান করুন। তিনি বলেনঃ আমার কাছে তা নেই। বরং তুমি অমুকের কাছে যাও। হয়তো সে তোমাকে বাহন দিতে পারে। সে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট গেলো এবং সে তাকে বাহন দান করলো। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করলো। তিনি বলেনঃ কেউ কল্যাণের পথ দেখালে সে কল্যাণ সাধনকারীর সমান সওয়াব পায় (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (242)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ، فَأَكَلَ مِنْهَا، فَجِيءَ بِهَا، فَقِيلَ : أَلاَ نَقْتُلُهَا ؟ قَالَ : لاَ، قَالَ : فَمَا زِلْتُ أَعْرِفُهَا فِي لَهَوَاتِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .




২৪২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ইহুদী নারী বিষ মিশ্রিত ছাগলের গোশত নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তিনি তার কিছুটা আহার করলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আনা হলো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বলেনঃ না। রাবী বলেন, আমি আজীবন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখগহ্বরে সেই বিষের ক্রিয়া লক্ষ্য করেছি (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (243)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ : ( خُذِ الْعَفْوَ ) وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ، قَالَ : وَاللَّهِ مَا أَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤْخَذَ إِلاَّ مِنْ أَخْلاَقِ النَّاسِ، وَاللَّهِ لَآخُذَنَّهَا مِنْهُمْ مَا صَحِبْتُهُمْ .




২৪৩। ওয়াহব ইবনে কায়সান (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ ”ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদের থেকে দূরে থাকো” (৭ঃ ১৯৯)। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এই আয়াতে লোকদের উত্তম চরিত্র গ্রহণের আদেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের সাথে থাকবো, ততক্ষণ তাদের থেকে তা গ্রহণ করতে থাকবো (বুখারী, আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (244)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا وَلاَ تُعَسِّرُوا، وَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُتْ .




২৪৪। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা জ্ঞান দান করো, দীনকে সহজসাধ্য করো, কঠিন করো না এবং তোমাদের মধ্যকার কেউ ক্রুদ্ধ হলে সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে (আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (245)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ : لَقِيتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَقُلْتُ : أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاةِ، قَالَ : فَقَالَ : أَجَلْ وَاللَّهِ، إِنَّهُ لَمَوْصُوفٌ فِي التَّوْرَاةِ بِبَعْضِ صِفَتِهِ فِي الْقُرْآنِ : ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ) ، وَحِرْزًا لِلأُمِّيِّينَ، أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي، سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ وَلاَ غَلِيظٍ، وَلاَ صَخَّابٍ فِي الأَسْوَاقِ، وَلاَ يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللَّهُ تَعَالَى حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ، بِأَنْ يَقُولُوا : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَيَفْتَحُوا بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا، وَآذَانًا صُمًّا، وَقُلُوبًا غُلْفًا .




২৪৫। আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, তাওরাতে উক্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, অবশ্যই। আল্লাহর শপথ! তাওরাতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কতক বৈশিষ্ট্য উক্ত আছে যা কুরআনেও উক্ত আছেঃ ”হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি” (৩৩ঃ ৪৫) এবং নিরক্ষরদের আশ্ৰয়স্থল, আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর উপর নির্ভরশীল)। আপনি রুক্ষ মেজাজ, পাষাণহৃদয় ও হাট-বাজারে শোরগোলকারী নন। আপনি মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না, বরং ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তুলে নিবেন না যতক্ষণ তাঁর দ্বারা বক্র জাতিকে সরল পথে প্রতিষ্ঠিত না করবেন এবং তারা বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। এর দ্বারা তিনি অন্ধ চক্ষু খুলে দিবেন, বধির কানকে শ্রবণশক্তি দান করবেন, আচ্ছাদিত অন্তরসমূহকে আচ্ছাদনমুক্ত করবেন (বুখারী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (246)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : إِنَّ هَذِهِ الْآيَةَ الَّتِي فِي الْقُرْآنِ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ) فِي التَّوْرَاةِ نَحْوَهُ .




২৪৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কুরআনের আয়াতঃ ”হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি” (৩৩ঃ ৪৫), তাওরাতে অনুরূপ উল্লেখ আছে (বুখারী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (247)


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ الأَشْعَرِيُّ، عَنْ مُحَمَّدٍ هُوَ ابْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ وَهُوَ يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ يَقُولُ : سَمِعْتُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَلاَمًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِهِ، سَمِعْتُهُ يَقُولُ، أَوْ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِنَّكَ إِذَا اتَّبَعْتَ الرِّيبَةَ فِي النَّاسِ أَفْسَدْتَهُمْ فَإِنِّي لاَ أَتَّبِعُ الرِّيبَةَ فِيهِمْ فَأُفْسِدَهُمْ .




২৪৭। মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন কথা শুনেছি যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করেছেন। আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ ”তুমি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কারো পেছনে লেগে গেলে তাদের সর্বনাশ করবে”। সুতরাং আমি তাদের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ হবো না এবং তাদের সর্বনাশও করবো না (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (248)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي مُزَرِّدٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ : سَمِعَ أُذُنَايَ هَاتَانِ، وَبَصُرَ عَيْنَايَ هَاتَانِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدَيْهِ جَمِيعًا بِكَفَّيِّ الْحَسَنِ، أَوِ الْحُسَيْنِ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِمَا وَقَدَمَيهِ عَلَى قَدَمِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : ارْقَهْ، قَالَ : فَرَقِيَ الْغُلاَمُ حَتَّى وَضَعَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : افْتَحْ فَاكَ، ثُمَّ قَبَّلَهُ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ أَحِبَّهُ، فَإِنِّي أُحِبُّهُ .




২৪৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমার এই দুই কান শুনেছে এবং আমার এই দুই চোখ দেখেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাতে হাসান অথবা হুসাইনের দুই হাত চেপে ধরলেন। তার দুই পা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের উপর। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ আরোহণ করো। বালকটি চড়তে থাকে, এমনকি তার পদদ্বয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বুকের উপর রাখলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার মুখ উম্মুক্ত করো। অতঃপর তিনি তাকে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে মহব্বত করুন। কেননা আমি তাকে মহব্বত করি (তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (249)


حَدَّثَنِا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ قَالَ : سَمِعْتُ جَرِيرًا يَقُولُ : مَا رَآنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ أَسْلَمْتُ إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي، وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : يَدْخُلُ مِنْ هَذَا الْبَابِ رَجُلٌ مِنْ خَيْرِ ذِي يَمَنٍ، عَلَى وَجْهِهِ مَسْحَةُ مَلَكٍ، فَدَخَلَ جَرِيرٌ .




২৪৯। কায়েস (রহঃ) বলেন, আমি জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই দরজা দিয়ে কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করবে যার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রয়েছে। জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তখন সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (250)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ حَدَّثَهُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ : وَكَانَ إِذَا رَأَى غَيْمًا أَوْ رِيحًا عُرِفَ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْغَيْمَ فَرِحُوا، رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ فِيهِ الْمَطَرُ، وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عُرِفَتْ فِي وَجْهِكَ الْكَرَاهَةُ ؟ فَقَالَ : يَا عَائِشَةُ، مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ ؟ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى قَوْمٌ الْعَذَابَ مِنْهُ فَقَالُوا : ( هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا ) .




২৫০। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমনভাবে হাসতে দেখিনি যাতে তার আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। তিনি আরও বলেন, তিনি মেঘ অথবা বাতাস বইতে দেখলে তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেতো। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা মেঘ দেখে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়। আর আমি লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মেঘ দেখলে আপনার চেহারায় বিরূপ অবস্থা প্রতিভাত হয়। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তা যে শাস্তির বাহক নয় সেই নিশ্চয়তা আমাকে কে দিবে? এক সম্প্রদায়কে বায়ু দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এক সম্প্রদায় শাস্তি আসতে দেখে বললো, তা আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে (বুখারী, মুসলিম, দারিমী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (251)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، عَنْ بُرْدٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَقِلَّ الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ .




২৫১। আবু হুরায়রা (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কম হাসো, কেননা অধিক হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায় (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (252)


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تُكْثِرُوا الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ .




২৫২। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা বেশি হাসবে না। কেননা অধিক হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায় (ইবনে মাজাহ, তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (253)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِهِ يَضْحَكُونَ وَيَتَحَدَّثُونَ، فَقَالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً، وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، ثُمَّ انْصَرَفَ وَأَبْكَى الْقَوْمَ، وَأَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِ : يَا مُحَمَّدُ، لِمَ تُقَنِّطُ عِبَادِي ؟ ، فَرَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : أَبْشِرُوا، وَسَدِّدُوا، وَقَارِبُوا .




২৫৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক সাহাবীকে অতিক্রম করছিলেন। তখন তারা হাস্যালাপ ও কথাবার্তায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং লোকজন কাঁদতে লাগলো। তখন মহামহিম আল্লাহ ওহী নাযিল করেন, হে মুহাম্মাদ! আমার বান্দাদেরকে কেন নিরাশ করছো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে বলেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, সরল পথ অবলম্বন করো এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে তৎপর হও (বুখারী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (254)


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ مُسْلِمٍ مَوْلَى ابْنَةِ قَارِظٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ رُبَّمَا حَدَّثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَيَقُولُ : حَدَّثَنِيهِ أَهْدَبُ الشُّفْرَيْنِ، أَبْيَضُ الْكَشْحَيْنِ، إِذَا أَقْبَلَ أَقْبَلَ جَمِيعًا، وَإِذَا أَدْبَرَ، أَدْبَرَ جَمِيعًا، لَمْ تَرَ عَيْنٌ مِثْلَهُ، وَلَنْ تَرَاهُ .




২৫৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি এ হাদীস বর্ণনাকালে প্রায়ই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ করে বলতেন, যাঁর ভ্রুযুগল প্রশস্ত, বাহুদ্বয় শুভ্র তিনি আমাকে বলেছেনঃ ”তুমি যখন আবির্ভূত হবে পূর্ণদেহে আবির্ভূত হবে এবং যখন প্রস্থান করবে পূর্ণদেহে প্রস্থান করবে”। কোন চোখ তাঁর সমকক্ষ কাউকে কখনও দেখেনি এবং কখনও দেখবে না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (255)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لأَبِي الْهَيْثَمِ : هَلْ لَكَ خَادِمٌ ؟ قَالَ : لاَ، قَالَ : فَإِذَا أَتَانَا سَبْيٌ فَأْتِنَا فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَأْسَيْنِ لَيْسَ مَعَهُمَا ثَالِثٌ، فَأَتَاهُ أَبُو الْهَيْثَمِ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : اخْتَرْ مِنْهُمَا، قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، اخْتَرْ لِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ الْمُسْتَشَارَ مُؤْتَمَنٌ، خُذْ هَذَا، فَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي، وَاسْتَوْصِ بِهِ خَيْرًا، فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ : مَا أَنْتَ بِبَالِغٍ مَا قَالَ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ أَنْ تُعْتِقَهُ، قَالَ : فَهُوَ عَتِيقٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا وَلاَ خَلِيفَةً، إِلاَّ وَلَهُ بِطَانَتَانِ : بِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَاهُ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَبِطَانَةٌ لاَ تَأْلُوهُ خَبَالاً، وَمَنْ يُوقَ بِطَانَةَ السُّوءِ فَقَدْ وُقِيَ .




২৫৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবুল হায়ছাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেনঃ তোমার কি খাদেম আছে? তিনি বলেন, না। তিনি বলেনঃ আমাদের কাছে বন্দী আসলে তুমি আমাদের নিকট আসবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে দু’জন বন্দী আনা হলো, এদের সাথে তৃতীয় কেউ ছিলো না। তখন আবুল হায়ছাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এদের দুইজনের মধ্যে একজনকে বেছে নাও। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিই আমাকে একজন বেছে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় তাকে বিশ্বস্ত হতে হয়। একে নিয়ে যাও।

আমি তাকে নামায পড়তে দেখেছি। তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। পরে তার স্ত্রী তাকে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে যা বলেছেন, তাকে দাসত্বমুক্ত করা ছাড়া অন্যভাবে তার দাবি তুমি পূরণ করতে পারবে না। আবুল হায়ছাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সে স্বাধীন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ কোন নবী অথবা খলীফা প্রেরণ করেননি যার সাথে দুইজন অন্তরঙ্গ বন্ধু দেননি। এক বন্ধু তাকে উত্তম কাজের প্রেরণা দেয় এবং পাপ কাজ থেকে বারণ করে এবং অপরটি তার সর্বনাশ সাধন করে। যে ব্যক্তি মন্দ প্ররোচনাদানকারী বন্ধুর প্ররোচনা থেকে রক্ষা পেয়েছে সে রক্ষা পেয়েছ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, তাহাবী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (256)


حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ : قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ : وَشَاوِرْهُمْ فِي بَعْضِ الامْرِ .




২৫৬। আমর ইবনে দীনার (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তিলাওয়াত করেন, ”তাদের সাথে কোন কোন ব্যাপারে পরামর্শ করুন” (মুসান্নাফ ইবনে শায়বা, তাবারানী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (257)


حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ السَّرِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : وَاللَّهِ مَا اسْتَشَارَ قَوْمٌ قَطُّ إِلاَّ هُدُوا لأَفْضَلِ مَا بِحَضْرَتِهِمْ، ثُمَّ تَلاَ : ( وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ ) .




২৫৭। হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! যে সম্প্রদায়ের লোকজন পরামর্শ করে কাজ করে, তারা সর্বোত্তম পন্থার সন্ধান পেয়ে যায়। তারপর তিনি তিলাওয়াত করেন, ”তাদের বিষয়সমূহ পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়” (৪২ঃ ৩৮)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (258)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ : حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : مَنْ تَقَوَّلَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ، فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنِ اسْتَشَارَهُ أَخُوهُ الْمُسْلِمُ، فَأَشَارَ عَلَيْهِ بِغَيْرِ رُشْدٍ فَقَدْ خَانَهُ وَمَنْ أُفْتِيَ فُتْيَا بِغَيْرِ ثَبْتٍ، فَإِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ .




২৫৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যা বলিনি তা যে ব্যক্তি আমার প্রতি আরোপ করবে সে যেন দোযখে তার স্থান করে নিলো। কোন ব্যক্তির নিকট তার কোন মুসলিম ভাই পরামর্শ চাইলো কিন্তু সে তাকে ভ্রান্ত পরামর্শ দিলো। সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো। আর যে ব্যক্তি দলীল-প্রমাণ ছাড়াই ফতোয়া দিলো, তার এই ফতোয়াদানের পাপ তার উপরই বর্তাবে (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (259)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُسْلِمُوا، وَلاَ تُسْلِمُوا حَتَّى تَحَابُّوا، وَأَفْشُوا السَّلاَمَ تَحَابُّوا، وَإِيَّاكُمْ وَالْبُغْضَةَ، فَإِنَّهَا هِيَ الْحَالِقَةُ، لاَ أَقُولُ لَكُمْ : تَحْلِقُ الشَّعْرَ، وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ .




২৫৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত মুসলিম হতে পারবে না। তোমরা সালামের প্রসার ঘটালে তোমাদের মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি হবে। সাবধান! তোমরা অবশ্যই বিদ্বেষ পরিহার করবে। কারণ তা মুণ্ডনকারী। আমি তোমাদের বলি না যে, তা চুল মুণ্ডন করে, বরং দীনকে মুণ্ডন করে (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (260)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ هِلاَلٍ الصَّدَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ رُوحَ الْمُؤْمِنَيْنِ لَيَلْتَقِيَانِ فِي مَسِيرَةِ يَوْمٍ، وَمَا رَأَى أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ .




২৬০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন দুই ব্যক্তির রূহ এক দিনের দূরত্ব থেকে পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করে, অথচ তাদের একজন অপরজনকে কখনো দেখেনি (ইতহাফ)।