আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ : حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ خُبَيْبٍ الْجُهَنِيَّ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَعَلَيْهِ أَثَرُ غُسْلٍ، وَهُوَ طَيِّبُ النَّفْسِ، فَظَنَنَّا أَنَّهُ أَلَمَّ بِأَهْلِهِ، فَقُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ، نَرَاكَ طَيِّبَ النَّفْسِ ؟ قَالَ : أَجَلْ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ ذُكِرَ الْغِنَى، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّهُ لاَ بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى، وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى، وَطِيبُ النَّفْسِ مِنَ النِّعَمِ .
৩০১। মুআয ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাবীব (রহঃ) থেকে তার পিতা ও চাচার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে এলেন, তাঁর দেহে ছিল গোসলের আলামত এবং তিনি ছিলেন আনন্দচিত্ত। আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তার কোন স্ত্রীর সঙ্গলাভ করেছেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে প্রসন্ন হৃদয় দেখছি। তিনি বলেনঃ হাঁ, আলহামদু লিল্লাহ। তারপর প্রাচুর্যের প্রসঙ্গ এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহভীরুর জন্য প্রাচুর্য ক্ষতিকর নয়। আল্লাহভীরুর জন্য প্রাচুর্যের চেয়ে সুস্বাস্থ্য অধিক উপকারী। মনের প্রসন্নতাও নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِرِّ وَالإِثْمِ ؟ فَقَالَ : الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ، وَالإِثْمُ مَا حَكَّ فِي نَفْسِكَ وَكَرِهْتَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ .
৩০২। নাওয়াস ইবনে সামআন আল-আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ পুণ্য হলো উত্তম স্বভাব-চরিত্র এবং পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধার সৃষ্টি করে এবং সেটা লোকে জানুক তা তুমি পছন্দ করো না (মুসলিম, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ، وَأَجْوَدَ النَّاسِ، وَأَشْجَعَ النَّاسِ، وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَانْطَلَقَ النَّاسُ قِبَلَ الصَّوْتِ، فَاسْتَقْبَلَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ سَبَقَ النَّاسَ إِلَى الصَّوْتِ وَهُوَ يَقُولُ : لَنْ تُرَاعُوا، لَنْ تُرَاعُوا، وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لأَبِي طَلْحَةَ عُرْيٍ، مَا عَلَيْهِ سَرْجٌ، وَفِي عُنُقِهِ السَّيْفُ، فَقَالَ : لَقَدْ وَجَدْتُهُ بَحْرًا، أَوْ إِنَّهُ لَبَحْرٌ .
৩০৩। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সর্বাধিক দানশীল এবং সর্বাধিক সাহসী বীর পুরুষ। এক রাতে মদীনাবাসীরা (এক বিকট শব্দে) ভীত-সন্ত্রস্ত হলো। লোকজন শব্দের অনুসরণ করে অগ্রসর হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সামনে পড়লেন। তিনি তাদের পূর্বেই শব্দের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেনঃ তোমরা ভীত হয়ে না। তোমরা ভয় পেও না। তিনি নিজ ঘাড়ে তরবারি ঝুলানো অবস্থায় আবু তালহার জিনপোষবিহীন ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন। তিনি বলেনঃ আমি একে সমুদ্ৰবত পেয়েছি অথবা এটি তো একটি সমুদ্র (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ، إِنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ طَلْقٍ، وَأَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ .
৩০৪। জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি পুণ্যই দান-খয়রাত স্বরূপ। তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাত এবং তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের পাত্রে একটু পানি ঢেলে দেয়াও সৎ কাজের অন্তর্ভুক্ত (তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا الأُوَيْسِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ : سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَيُّ الأَعْمَالِ خَيْرٌ ؟ قَالَ : إِيمَانٌ بِاللَّهِ، وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ، قَالَ : فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : أَغْلاَهَا ثَمَنًا، وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ بَعْضَ الْعَمَلِ ؟ قَالَ : تُعِينُ ضَائِعًا، أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ ضَعُفْتُ ؟ قَالَ : تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ، فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقَهَا عَلَى نَفْسِكَ .
৩০৫। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান এবং তার পথে জিহাদ। প্রশ্নকারী বললো, কোন গোলাম আযাদ করা সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ যা অধিক মূল্যবান এবং যে নিজ মনিবের প্রিয়তম। প্রশ্নকারী বললো, আপনি কি মনে করেন, আমি যদি তার কতক করতে না পারি? তিনি বলেনঃ দুস্থজনকে সাহায্য করো অথবা অনভিজ্ঞের কাজ সেরে দাও প্রশ্নকারী বললো, যদি আমি তাতে অপারগ হই? তিনি বলেনঃ তোমার অনিষ্ট থেকে লোকজনকে নিরাপদ রাখো। কেননা তাও সদাকাস্বরূপ যা তোমার পক্ষ থেকে তুমি করতে পারো (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ : أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ، سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ جَدِّي، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَجِدْ ؟ قَالَ : فَلْيَعْمَلْ، فَلْيَنْفَعْ نَفْسَهُ، وَلْيَتَصَدَّقْ، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ، أَوْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : لِيُعِنْ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ، أَوْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : فَلْيَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ، قَالَ : أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ، أَوْ لَمْ يَفْعَلْ ؟ قَالَ : يُمْسِكْ عَنِ الشَّرِّ، فَإِنَّهَا لَهُ صَدَقَةٌ .
৩০৬। সাঈদ ইবনে আবু বুরদা (রহঃ) থেকে তার পিতার মাধ্যমে তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক মুসলিমকেই দান-খয়রাত করতে হবে। রাবী বলেন, যদি তার সেই সামর্থ্য না থাকে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে শ্রম নিয়োগ করে নিজেও উপকৃত হবে এবং দান-খয়রাতও করবে। রাবী বলেন, আপনি কি মনে করেন, যদি তার সেই সামর্থ্যও না থাকে বা সে তা না করতে পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে যেন কোন দুঃস্থজনকে সাহায্য করে। রাবী বলেন, আপনার কি মত, যদি তার সেই সামর্থ্যও না থাকে বা সে তা করতে না পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে সৎ কাজের আদেশ করবে। রাবী বলেন, আপনার কি মত, যদি তার সেই সামর্থ্যও না থাকে বা সে তাও করতে না পারে? তিনি বলেনঃ তাহলে সে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা তাও তার জন্য সদাকাস্বরূপ (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ التَّنُوخِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكْثِرُ أَنْ يَدْعُوَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ، وَالْعِفَّةَ، وَالأَمَانَةَ، وَحُسْنَ الْخُلُقِ، وَالرِّضَا بِالْقَدَرِ .
৩০৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যাপ্ত পরিমাণে দোয়া করতেনঃ ”হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুস্বাস্থ্য, পুত-পবিত্র চরিত্র, আমানতদারি এবং তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকতে পারার সামর্থ্য প্রার্থনা করছি (বাযযার)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلامِ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ قَالَ : دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْنَا : يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، مَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَتْ : كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ، تَقْرَؤُونَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ ؟ قَالَتِ : اقْرَأْ : ( قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ) ، قَالَ يَزِيدُ : فَقَرَأْتُ : ( قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ) إِلَى ( لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ) ، قَالَتْ : هَكَذَا كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .
৩০৮। ইয়াযীদ ইবনে বাবানূস (রহঃ) বলেন, আমরা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে মুমিন জননী! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য কি ছিল? তিনি বলেন, কুরআনই ছিল তার চরিত্র। আপনার সূরা মুমিনূন পড়ে থাকেন। তিনি বলেন, পড়ুনঃ ”কাদ আফলাহাল মুমিনূন”। ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, আমি পড়লাম, ”কাদ আফলাহাল মুমিনুন.... লিফুরূজিহিম হাফিযুন” পর্যন্ত (১-৫)। তিনি বলেন, এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র বৈশিষ্ট্য (নাসাঈ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شَيْبَةَ قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي الْفُدَيْكِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : مَا سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ لاَعِنًا أَحَدًا قَطُّ، لَيْسَ إِنْسَانًا . وَكَانَ سَالِمٌ يَقُولُ : قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ يَنْبَغِي لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَكُونَ لَعَّانًا .
৩০৯। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কখনো কাউকে অভিশাপ দিতে শুনিনি, মানুষকেও নয়। সালেম (রহঃ) বলতেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তির অভিশাপকারী হওয়া শোভনীয় নয়। (তিরমিযী, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ مُبَشِّرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْفَاحِشَ الْمُتَفَحِّشَ، وَلاَ الصَّيَّاحَ فِي الاسْوَاقِ .
৩১০। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে আল্লাহ অশ্লীল আচরণকারীকে, অশ্লীলতার প্রশ্ৰয় দানকারীকে এবং হাটে-বাজারে শোরগোলকারীকে পছন্দ করেন না।
وَعَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ يَهُودًا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا : السَّامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ : وَعَلَيْكُمْ، وَلَعَنَكُمُ اللَّهُ، وَغَضِبُ اللَّهُ عَلَيْكُمْ، قَالَ : مَهْلاً يَا عَائِشَةُ، عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، وَإِيَّاكِ وَالْعُنْفَ وَالْفُحْشَ، قَالَتْ : أَوَ لَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا ؟ قَالَ : أَوَ لَمْ تَسْمَعِي مَا قُلْتُ ؟ رَدَدْتُ عَلَيْهِمْ، فَيُسْتَجَابُ لِي فِيهِمْ، وَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ فِيَّ .
৩১১। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কতক ইহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আসসামু আলাইকুম (তোমাদের মৃত্যু হোক)। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ওয়া আলাইকুম ওয়া লাআনাকুমুল্লাহু ওয়া গাদিবাল্লাহু আলাইকুম’ (তোমাদের উপর-ই, আল্লাহ তোমাদেরকে অভিশপ্ত করুন ও ক্রোধ নিপতিত করুন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ থামো আয়েশা! নম্রতা অবলম্বন করো এবং অবশ্যই অশ্লীল ও কর্কষ ভাষা ব্যবহার করো না। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আপনি কি শুনেননি তারা কি বলেছে? তিনি বলেনঃ তুমি কি শুনোনি যে, আমি কি বলেছি? আমি তো তাদের একই প্রতিউত্তর দিয়েছি। তাদের ব্যাপারে আমার দোয়া তো কবুল হবে। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কবুল হবে না (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ، وَلاَ اللِّعَانِ، وَلاَ الْفَاحِشِ وَلاَ الْبَذِي .
৩১২। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি খোঁটাদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও বাচাল হতে পারে না (তিরমিযী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَنْبَغِي لِذِي الْوَجْهَيْنِ أَنْ يَكُونَ أَمِينًا .
৩১৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চোগলখোর কখনো বিশ্বস্ত হতে পারে না (তিরমিযী, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : أَلأَمُ أَخْلاَقِ الْمُؤْمِنِ الْفُحْشُ .
৩১৪। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মুমিন ব্যক্তির চরিত্রের সর্বাপেক্ষা কষ্টদায়ক বিষয় হলো অশ্লীলতা (ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ، يَقُولُ : لُعِنَ اللَّعَّانُونَ .
৩১৫। আলী ইবনে আবু তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, অভিশাপকারীরা অভিশপ্ত। মারওয়ান বলেন, যারা মানুষকে অভিশাপ দেয় (তারা অভিশাপকারী)।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّعَّانِينَ لاَ يَكُونُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُهَدَاءَ، وَلا شُفَعَاءَ .
৩১৬। আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অভিশাপকারীরা কিয়ামতের দিন সাক্ষ্যদাতা ও সুপারিশকারী হতে পারবে না (মুসলিম, আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান))।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ يَنْبَغِي لِلصِّدِّيقِ أَنْ يَكُونَ لَعَّانًا .
৩১৭। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পরম সত্যবাদীর পক্ষে অভিসম্পাতকারী হওয়া শোভনীয় নয় (মুসলিম, হাকিম)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : مَا تَلاَعَنَ قَوْمٌ قَطُّ إِلاَّ حُقَّ عَلَيْهِمُ اللَّعْنَةُ .
৩১৮। হুযায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন সম্প্রদায় পরস্পরের প্রতি অভিসম্পাত করলে তাদের জন্য অভিশাপ অবধারিত হয়ে যায়।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ : حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ لَعَنَ بَعْضَ رَقِيقِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : يَا أَبَا بَكْرٍ، اللَّعَّانِينَ وَالصِّدِّيقِينَ ؟ كَلاَّ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، فَأَعْتَقَ أَبُو بَكْرٍ يَوْمَئِذٍ بَعْضَ رَقِيقِهِ، ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : لا أَعُودُ .
৩১৯। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কোন গোলামকে অভিসম্পাত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবু বাকর! কাবার প্রভুর শপথ! একই ব্যক্তি একই সাথে পরম সত্যবাদী ও অভিসম্পাতকারী হতে পারে না। তিনি দুই বা তিনবার একথা বলেন। আবু বাকর (রহঃ) সেদিনই ঐ গোলামকে আযাদ করে দেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেন, আমি আর কখনো এরূপ আচরণ করবো না (বাযযার)।
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَتَلاَعَنُوا بِلَعْنَةِ اللهِ، وَلاَ بِغَضَبِ اللهِ، وَلاَ بِالنَّارِ .
৩২০। সামুরা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পরকে আল্লাহর অভিশাপ, আল্লাহর ক্রোধ এবং আগুনের দ্বারা অভিসম্পাত করো না (দারিমী, তিরমিযী)।