আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ أَبِي رَجَاءٍ، عَنْ مِحْجَنٍ الأَسْلَمِيِّ قَالَ رَجَاءٌ : أَقْبَلْتُ مَعَ مِحْجَنٍ ذَاتَ يَوْمٍ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى مَسْجِدِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، فَإِذَا بُرَيْدَةُ الأَسْلَمِيُّ عَلَى بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ جَالِسٌ، قَالَ : وَكَانَ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ : سُكْبَةُ، يُطِيلُ الصَّلاَةَ، فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَى بَابِ الْمَسْجِدِ، وَعَلَيْهِ بُرْدَةٌ، وَكَانَ بُرَيْدَةُ صَاحِبَ مُزَاحَاتٍ، فَقَالَ : يَا مِحْجَنُ أَتُصَلِّي كَمَا يُصَلِّي سُكْبَةُ ؟ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ مِحْجَنٌ، وَرَجَعَ، قَالَ : قَالَ مِحْجَنٌ : إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِي، فَانْطَلَقْنَا نَمْشِي حَتَّى صَعِدْنَا أُحُدًا، فَأَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ فَقَالَ : وَيْلُ أُمِّهَا مِنْ قَرْيَةٍ، يَتْرُكُهَا أَهْلُهَا كَأَعْمَرَ مَا تَكُونُ، يَأْتِيهَا الدَّجَّالُ، فَيَجِدُ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِهَا مَلَكًا، فَلاَ يَدْخُلُهَا، ثُمَّ انْحَدَرَ حَتَّى إِذَا كُنَّا فِي الْمَسْجِدِ، رَأَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي، وَيَسْجُدُ، وَيَرْكَعُ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : مَنْ هَذَا ؟ فَأَخَذْتُ أُطْرِيهِ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا فُلاَنٌ، وَهَذَا . فَقَالَ أَمْسِكْ، لاَ تُسْمِعْهُ فَتُهْلِكَهُ، قَالَ : فَانْطَلَقَ يَمْشِي، حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ حُجَرِهِ، لَكِنَّهُ نَفَضَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ : إِنَّ خَيْرَ دِينِكُمْ أَيْسَرُهُ، إِنَّ خَيْرَ دِينِكُمْ أَيْسَرُهُ ثَلاثًا .
৩৪১। রাজা (রহঃ) বলেন, আমি একদিন মিহজান আল-আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে ছিলাম। শেষে আমরা বসরাবাসীদের এক মসজিদে গিয়ে পৌছলাম। তখন মসজিদের এক দরজায় বুরাইদা আল-আসলামী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বসা ছিলেন। রাবী বলেন, মসজিদে সুকবা নামক এক ব্যক্তিও ছিলেন। তিনি নামায দীর্ঘ করে পড়তেন। আমরা যখন মসজিদের দরজায় পৌছলাম তখন বুরাইদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র গায়ে জড়ানো ছিল একটি চাদর। বুরাইদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন রসিক প্রকৃতির। তিনি বলেন, হে মিহজান! তুমি কি সুকবার মতো নামায পড়ো? মিহুজান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর প্রতিউত্তর না করেই প্রত্যাবর্তন করেন। রাবী বলেন, মিহজান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন। আমরা পদব্রজে অগ্রসর হলাম। শেষে আমরা গিয়ে উহুদ পাহাড়ে উঠলাম।
তিনি মদীনার দিকে তাকিয়ে বলেনঃ এই জনপদের জন্য দুঃখ হয় যখন তা বসতিপূর্ণ থাকবে, এমন অবস্থায় তার অধিবাসীরা তা ত্যাগ করবে। এখানে দাজ্জাল আসবে এবং মদীনার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে একজন করে ফেরেশতা দেখতে পাবে। অতএব সে তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তিনি ফিরে এলেন। আমরা মসজিদে পৌছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামায ও রুকূ-সিজদায় মশগুল দেখলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ লোকটি কে? আমি তার অতিরিক্ত প্রশংসা করে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে অমুক লোক যার এই গুণ আছে। তিনি বলেনঃ ক্ষান্ত হও, তাকে শুনাবে না, অন্যথায় তুমি তার সর্বনাশ করবে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি চলতে থাকলেন, শেষে যখন তাঁর হুজরার নিকট এলেন তখন তার দুই হাত জড়িয়ে ধরে বলেনঃ তোমাদের উত্তম দীন হলো তার সহজতা, তোমাদের উত্তম দীন হলো তার সহজতা। তিনি একথা তিনবার বলেন (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ ১৯১৮৫)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، قَدْ مَدَحْتُ اللَّهَ بِمَحَامِدَ وَمِدَحٍ، وَإِيَّاكَ . فَقَالَ : أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ، فَجَعَلْتُ أُنْشِدُهُ، فَاسْتَأْذَنَ رَجُلٌ طُوَالٌ أَصْلَعُ، فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : اسْكُتْ، فَدَخَلَ، فَتَكَلَّمَ سَاعَةً ثُمَّ خَرَجَ، فَأَنْشَدْتُهُ، ثُمَّ جَاءَ فَسَكَّتَنِي، ثُمَّ خَرَجَ، فَعَلَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، فَقُلْتُ : مَنْ هَذَا الَّذِي سَكَّتَّنِي لَهُ ؟ قَالَ : هَذَا رَجُلٌ لاَ يُحِبُّ الْبَاطِلَ .
৩৪২। আল-আসওয়াদ ইবনুস সারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর পর্যাপ্ত প্রশংসা করেছি এবং আপনারও। তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিপালক তো তাঁর প্রশংসা পছন্দ করেন। আমি তাঁকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতে লাগলাম। তখন দীর্ঘকায় ও টাকমাথার এক ব্যক্তি তার সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ থামো। সেই ব্যক্তি প্রবেশ করে ক্ষণিক তাঁর সাথে আলাপ করে বের হয়ে চলে গেলেন। আমি পুনরায় আবৃত্তি করতে লাগলাম। লোকটি পুনরায় এলে তিনি আমাকে থামিয়ে দিলেন, অতঃপর বের হয়ে চলে গেলেন। তিনি দুই কি তিনবার এরূপ করলেন। আমি বললাম, এ লোকটি কে, যার জন্য আপনি আমাকে থামিয়ে দিলেন? তিনি বলেনঃ ইনি এমন ব্যক্তি (উমার) যিনি বাতিলকে পছন্দ করেন না (আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ : حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُجَيْدِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ الْخُزَاعِيُّ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي نُجَيْدٌ، أَنَّ شَاعِرًا جَاءَ إِلَى عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ فَأَعْطَاهُ، فَقِيلَ لَهُ : تُعْطِي شَاعِرًا ؟ فَقَالَ : أُبْقِي عَلَى عِرْضِي .
৩৪৩। নুজাইদ ইবনে ইমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এক কবি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট এলে তিনি তাকে কিছু বখশিশ দেন। তাকে বলা হলো, আপনিও কবিকে বখশিশ দিলেন। তিনি বলেন, নিজের ইজ্জত রক্ষার্থে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ : كَانُوا يَقُولُونَ : لاَ تُكْرِمْ صَدِيقَكَ بِمَا يَشُقُّ عَلَيْهِ .
৩৪৪। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, প্রবীণগণ বলতেন, তুমি তোমার বন্ধুকে এমনভাবে সম্মান দেখাবে না যা তার জন্য কষ্টকর বা অস্বস্তিকর হতে পারে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ الشَّامِيِّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا عَادَ الرَّجُلُ أَخَاهُ أَوْ زَارَهُ، قَالَ اللَّهُ لَهُ : طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ، وَتَبَوَّأْتَ مَنْزِلاً فِي الْجَنَّةِ .
৩৪৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি তার (রুগ্ন) ভাইকে দেখতে গেলে বা তার সাথে সাক্ষাত করতে গেলে আল্লাহ তাকে বলেন, তুমি উত্তম, তোমার পদচারণা কল্যাণময় হোক এবং তুমি তোমার স্থান জান্নাতে নির্ধারিত করে নিয়েছে (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ قَالَ : سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ : زَارَنَا سَلْمَانُ مِنَ الْمَدَائِنِ إِلَى الشَّامِ مَاشِيًا، وَعَلَيْهِ كِسَاءٌ وَانْدَرْوَرْدُ، قَالَ : يَعْنِي سَرَاوِيلَ مُشَمَّرَةً، قَالَ ابْنُ شَوْذَبٍ : رُؤِيَ سَلْمَانُ وَعَلَيْهِ كِسَاءٌ مَطْمُومُ الرَّأْسِ سَاقِطُ الأُذُنَيْنِ، يَعْنِي أَنَّهُ كَانَ أَرْفَشَ . فَقِيلَ لَهُ : شَوَّهْتَ نَفْسَكَ، قَالَ : إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الاخِرَةِ .
৩৪৬। উম্মু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মাদায়েন থেকে পদব্রজে সিরিয়া এসে আমাদের সাথে সাক্ষাত করেন। তখন তার পরনে ছিল পাজামা। ইবনে শাওযাব (রহঃ) বলেন, সালমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দেখা গেলো যে, তার গায়ে চাদর জড়ানো, তার মাথা মুণ্ডিত এবং কান প্রশস্ত। তাকে বলা হলো, আপনি নিজেকে কদাকার করে ফেলেছেন। তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আখেরাতের কল্যাণই প্রকৃত কল্যাণ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَارَ أَهْلَ بَيْتٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَطَعِمَ عِنْدَهُمْ طَعَامًا، فَلَمَّا خَرَجَ أَمَرَ بِمَكَانٍ مِنَ الْبَيْتِ، فَنُضِحَ لَهُ عَلَى بِسَاطٍ، فَصَلَّى عَلَيْهِ، وَدَعَا لَهُمْ .
৩৪৭। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর বাড়িতে দেখা-সাক্ষাত করতে গেলেন এবং সেখানে তাদের সাথে আহার করলেন। তিনি রওয়ানা হওয়ার সময় আদেশ করলে ঘরের একটি স্থানে পানি ছিটিয়ে বিছানা পেতে দেয়া হলো। তিনি সেখানে নামায পড়লেন এবং তাদের জন্য দোয়া করলেন (বুখারী হা/৫৬৪২)।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عُمَرَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ أَبِي خَلْدَةَ قَالَ : جَاءَ عَبْدُ الْكَرِيمِ أَبُو أُمَيَّةَ إِلَى أَبِي الْعَالِيَةِ، وَعَلَيْهِ ثِيَابُ صُوفٍ، فَقَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ : إِنَّمَا هَذِهِ ثِيَابُ الرُّهْبَانِ، إِنْ كَانَ الْمُسْلِمُونَ إِذَا تَزَاوَرُوا تَجَمَّلُوا .
৩৪৮। আবু খালদা (রহঃ) বলেন, আবু উমাইয়্যা আবদুল করীম (রহঃ) মোটা পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় আবুল আলিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে আসেন। আবুল আলিয়া (রহঃ) তাকে বলেন, এটা তো খৃস্টান সন্যাসীদের পোশাক। মুসলিমগণ পরস্পরের সাথে দেখা-সাক্ষাত করতে গেলে উত্তম পোশাক পরতেন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ ، قَالَ : " أَخْرَجَتْ إِلَيَّ أَسْمَاءُ جُبَّةً مِنْ طَيَالِسَةٍ عَلَيْهَا لَبِنَةُ شِبْرٍ مِنْ دِيبَاجٍ ، وَإِنَّ فَرْجَيْهَا مَكْفُوفَانِ بِهِ ، فَقَالَتْ : هَذِهِ جُبَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، كَانَ يَلْبَسُهَا لِلْوُفُودِ ، وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ
৩৪৯। আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুক্তদাস আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার সামনে একটি তায়ালিসী জুব্বা বের করলেন। তাতে এক বিঘৎ পরিমাণ এক টুকরা রেশমী কাপড় লাগানো ছিল, যা দ্বারা জুব্বার দুইটি কিনারা মোড়ানো ছিল। তিনি বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুব্বা। তিনি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে এবং জুমুআর দিন তা পরতেন (মুসলিম, আবু দাউদ, তাহাবী)।
حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ : وَجَدَ عُمَرُ حُلَّةَ إِسْتَبْرَقٍ، فَأَتَى بِهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : اشْتَرِ هَذِهِ، وَالْبَسْهَا عِنْدَ الْجُمُعَةِ، أَوْ حِينَ تَقْدِمُ عَلَيْكَ الْوُفُودُ، فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ : إِنَّمَا يَلْبَسُهَا مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَأُتِيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِحُلَلٍ، فَأَرْسَلَ إِلَى عُمَرَ بِحُلَّةٍ، وَإِلَى أُسَامَةَ بِحُلَّةٍ، وَإِلَى عَلِيٍّ بِحُلَّةٍ، فَقَالَ عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرْسَلْتَ بِهَا إِلَيَّ، لَقَدْ سَمِعْتُكَ تَقُولُ فِيهَا مَا قُلْتَ ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : تَبِيعُهَا، أَوْ تَقْضِي بِهَا حَاجَتَكَ .
৩৫০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি রেশমী চাদর পেলেন। তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গিয়ে বলেন, আপনি এটি ক্রয় করুন এবং তা জুমুআর দিন অথবা যখন বিভিন্ন প্রতিনিধি দল আপনার সাথে সাক্ষাত করতে আসবে তখন পরবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যার আখেরাতে কোন প্রাপ্য নাই কেবল সে এটা পরতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুরূপ কয়েকটি রেশমী চাদর আসলো। তিনি তার একটি চাদর উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য, একটি চাদর উসামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য এবং একটি চাদর আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য পাঠান। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটা আমার জন্য পাঠিয়েছেন। অথচ আপনি এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা তো আমি শুনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এটা বিক্রি করো অথবা এটা দ্বারা তোমার কোন প্রয়োজন পূরণ করো (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : زَارَ رَجُلٌ أَخًا لَهُ فِي قَرْيَةٍ، فَأَرْصَدَ اللَّهُ لَهُ مَلَكًا عَلَى مَدْرَجَتِهِ، فَقَالَ : أَيْنَ تُرِيدُ ؟ قَالَ : أَخًا لِي فِي هَذِهِ الْقَرْيَةِ، فَقَالَ : هَلْ لَهُ عَلَيْكَ مِنْ نِعْمَةٍ تَرُبُّهَا ؟ قَالَ : لاَ، إِنِّي أُحِبُّهُ فِي اللهِ، قَالَ : فَإِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكَ، أَنَّ اللَّهَ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ .
৩৫১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক ব্যক্তি তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করার জন্য তার গ্রামে গেলো। আল্লাহ তার পথে একজন ফেরেশতাকে মোতায়েন করেন। ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কোথায় যেতে চান? সে বললো, এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। ফেরেশতা বলেন, আপনার উপর কি তার কোন অনুগ্রহ আছে, যার কারণে আপনি যাচ্ছেন? সে বললো, না, আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। ফেরেশতা বলেন, আমি আল্লাহর দূতরূপে আপনার নিকট এসেছি। আপনি যেমন ঐ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, আল্লাহও তদ্রুপ আপনাকে ভালোবাসেন (মুসলিম, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، الرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَلْحَقَ بِعَمَلِهِمْ ؟ قَالَ : أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ، قُلْتُ : إِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، قَالَ : أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ .
৩৫২। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়কে ভালোবাসে, কিন্তু কার্যত তাদের সাথে মিলিত হতে পারছে না। তিনি বলেনঃ হে আবু যার! তুমি যাকে ভালোবাসো তারই সাথে হবে। আমি বললাম, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বলেনঃ হে আবু যার! তুমি যাকে ভালোবাসো তার সাথেই থাকবে (আবু দাউদ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا نَبِيَّ اللهِ، مَتَى السَّاعَةُ ؟ فَقَالَ : وَمَا أَعْدَدْتَ لَهَا ؟ قَالَ : مَا أَعْدَدْتُ مِنْ كَبِيرٍ، إِلاَّ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَقَالَ : الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ .
৩৫৩। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করে বললো, হে আল্লাহর নবী! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বলেনঃ তুমি তার জন্য কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছো? সে বললো, আমি ব্যাপক কিছু প্রস্তুতি নিতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে, সে তার সাথেই থাকবে। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর থেকে সেদিন মুসলিমরা যতো অধিক খুশি হয়েছে, আর কোন দিন আমি তাদেরকে এতো খুশি হতে দেখিনি (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا، فَلَيْسَ مِنَّا .
৩৫৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়োদের অধিকারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي جُرَيْجٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ : مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا، فَلَيْسَ مِنَّا .
৩৫৫। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়োদের অধিকারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় (দারিমী, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا .
৩৫৬। আমর ইবনে শোয়াইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের বড়োদের অধিকার মানে না এবং আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ جَمِيلٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيُجِلَّ كَبِيرَنَا، فَلَيْسَ مِنَّا .
৩৫৭। আবু উমামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের দয়া করে না এবং বড়োদের সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِخْرَاقٍ قَالَ : قَالَ أَبُو كِنَانَةَ، عَنِ الأَشْعَرِيِّ قَالَ : إِنَّ مِنَ إِجْلاَلِ اللهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ، غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ، وَلاَ الْجَافِي عَنْهُ، وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ .
৩৫৮। আবু মূসা আশআরী (রহঃ) বলেন, প্রবীণ মুসলিমদের প্রতি সমান প্রদর্শন, কুরআনের ভারসাম্যপূর্ণ ভাষ্যকারের প্রতি, অযৌক্তিক ব্যাখ্যাকার ও রূঢ় আচরণকারীর প্রতি নয়, এবং ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيُوَقِّرْ كَبِيرَنَا .
৩৫৯। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের দয়া করে না এবং আমাদের বড়োদের সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় (দারিমী, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ مَوْلَى الأَنْصَارِ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُمَا حَدَثَا، أَوْ حَدَّثَاهُ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ، أَتَيَا خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ، فَقُتِلَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَهْلٍ، فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ، فَبَدَأَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : كَبِّرِ الْكِبَرَ، قَالَ يَحْيَى : لِيَلِيَ الْكَلاَمَ الأَكْبَرُ، فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : اسْتَحِقُّوا قَتِيلَكُمْ، أَوْ قَالَ : صَاحِبَكُمْ، بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، أَمْرٌ لَمْ نَرَهُ، قَالَ : فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، قَوْمٌ كُفَّارٌ . فَفَدَاهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قِبَلِهِ .
৩৬০। রাফে ইবনে খাদীজ ও সাহল ইবনে আবু হাসমা (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাহল ও মুহাইয়্যাসা ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) খায়বারে পৌছে এক খেজুর বাগানে তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যান। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে সাহল (গুপ্ত ঘাতক দ্বারা) নিহত হন। (এ খবর মদীনায় পৌছলে) সাহলের পুত্র আবদুর রহমান এবং মাসউদের দুই পুত্ৰ হুআইয়্যাসা ও মুহাইয়্যাসা এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসেন। আবদুর রহমান কথা শুরু করলেন। তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ বড়োকে অগ্রাধিকার দাও।
রাবী ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরই প্রথম কথা বলা উচিত। অতএব তারা তাদের সাথীর ব্যাপারে আলাপ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি তোমাদের পঞ্চাশ ব্যক্তির শপথের দ্বারা তোমাদের নিহত ব্যক্তির দিয়াতের দাবিদার হবে? তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন একটি বিষয় যা আমরা স্বচক্ষে দেখিনি। তিনি বলেনঃ তাহলে ইহুদীরা তাদের পঞ্চাশ ব্যক্তির শপথের দ্বারা এই খুনের দায় থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তো কাফের সম্প্রদায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির দিয়াত পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। সাহল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, দিয়াতের উটগুলোর মধ্যকার একটি উষ্ট্রী আমার ভাগে পড়ে। আমি এদের খোয়াড়ে গেলে সেই উষ্ট্রী আমাকে লাথি মারে (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।