আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا رُدَيْحُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَجُلاً أَتَاهَا فَقَالَ : إِنَّ رَجُلاً نَالَ مِنْكِ عِنْدَ عَبْدِ الْمَلِكِ، فَقَالَتْ : إِنْ نُؤْبَنَ بِمَا لَيْسَ فِينَا، فَطَالَمَا زُكِّينَا بِمَا لَيْسَ فِينَا .
৪২১। উম্মু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বললো, এক ব্যক্তি আবদুল মালেকের নিকট আপনার দুর্নাম করেছে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে যে দোষ নাই তা কেউ বলে থাকলে, কখনো আমরা এমন গুণের জন্যও প্রশংসিত হয়েছি যা আমাদের মধ্যে নেই।
حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللهِ : إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِصَاحِبِهِ : أَنْتَ عَدُوِّي، فَقَدْ خَرَجَ أَحَدُهُمَا مِنَ الإِسْلاَمِ، أَوْ بَرِئ مِنْ صَاحِبِهِ .
৪২২। কায়েস (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার সাথীকে বললো, তুমি আমার দুশমন অথবা বললো, সে তার বন্ধুত্ব থেকে দায়মুক্ত, তাদের একজন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেলো। কায়েস (রহঃ) বলেন, পরে আবু জুহাইফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে অবহিত করেন যে, তারপর আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, তবে যে তওবা করে সে ব্যতীত।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَظُنُّهُ رَفَعَهُ، شَكَّ لَيْثٌ، قَالَ : فِي ابْنِ آدَمَ سِتُّونَ وَثَلاَثُمِئَةِ سُلاَمَى، أَوْ عَظْمٍ، أَوْ مَفْصِلٍ، عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، كُلُّ كَلِمَةٍ طَيْبَةٍ صَدَقَةٌ، وَعَوْنُ الرَّجُلِ أَخَاهُ صَدَقَةٌ، وَالشَّرْبَةُ مِنَ الْمَاءِ يَسْقِيهَا صَدَقَةٌ، وَإِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ .
৪২৩। ইবনে আব্বাস (রহঃ) বলেন আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি সংযোগ অস্থি বা গ্রন্থি আছে। প্রতিদিন সেগুলোর প্রতিটির জন্য একটি সদাকা ধার্য আছে। প্রতিটি উত্তম কথা একটি সদাকা। কোন ব্যক্তির তার ভাইকে সাহায্য করাও একটি সদাকা। কেউ কাউকে পানি পান করালে তাও একটি সদাকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও একটি সদাকা (বাযযার, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالاَ فَعَلَى الْبَادِئِ، مَا لَمْ يَعْتَدِ الْمَظْلُومُ .
৪২৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই পরস্পর গালিদাতার পাপ সূচনাকারীর উপর বর্তায়, প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে সে সীমা লংঘন না করলে (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالاَ، فَعَلَى الْبَادِئِ، حَتَّى يَعْتَدِيَ الْمَظْلُومُ .
৪২৫। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুই পরস্পর গালিদাতার পাপ সূচনাকারীর উপর বর্তায়, প্রথমে যাকে গালি দেয়া হয়েছে সে সীমা লংঘন না করলে।– (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : أَتَدْرُونَ مَا الْعَضْهُ ؟ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : نَقْلُ الْحَدِيثِ مِنْ بَعْضِ النَّاسِ إِلَى بَعْضٍ، لِيُفْسِدُوا بَيْنَهُمْ .
৪২৬। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কি জানো চোগলখোর কে? সকলে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি লোকজনের মধ্যে বিবাদ ও হানাহানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের একের কথা অপরের কানে লাগায়।
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا، وَلاَ يَبْغِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ .
৪২৭। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহামহিম আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন, তোমরা বিনয়ী হও এবং একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করো না।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، الرَّجُلُ يَسُبُّنِي ؟ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ .
৪২৮। ইয়াদ ইবনে হিমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি আমাকে গালাগালি করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা একে অপরকে গালি দেয় তারা দুইটি শয়তান, তারা বাজে কথা বলে এবং তারা মিথ্যুক (ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ : حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً سَبَّنِي فِي مَلَأٍ هُمْ أَنْقُصُ مِنِّي، فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ، هَلْ عَلَيَّ فِي ذَلِكَ جُنَاحٌ ؟ قَالَ : الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ .
৪২৯। ইয়াদ ইবনে হিমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেনঃ তোমরা পরস্পর বিনয়ী হও, এমনকি একে অপরের সাথে বাড়াবাড়ি করবে না, একে অপরের সামনে অহংকার করবে না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার কি মত, কেউ যদি আমাকে আমার চেয়ে কম মর্যাদাসম্পন্ন লোকদের মজলিসে গালি দেয় এবং আমিও তার প্রতিউত্তর করি, তবে তাতে আমার গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ যারা একে অপরকে গালি দেয় তারা দুইটি শয়তান, উভয়ে বাজে কথা বলে এবং উভয়ে মিথ্যুক (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।
قَالَ عِيَاضٌ : وَكُنْتُ حَرْبًا لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهْدَيْتُ إِلَيْهِ نَاقَةً، قَبْلَ أَنْ أُسْلِمَ، فَلَمْ يَقْبَلْهَا وَقَالَ : إِنِّي أَكْرَهُ زَبْدَ الْمُشْرِكِينَ .
৪৩০। ইয়াদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ছিলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শত্রু। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি তাঁকে একটি উল্লী হাদিয়া দিতে চাইলাম, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেনঃ মুশরিকদের উপহারাদি গ্রহণ আমার পছন্দনীয় নয় (আবু দাউদ, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالَ : أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ .
৪৩১। সাদ ইবনে মালক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া জঘন্য পাপ (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا، وَلاَ لَعَّانًا، وَلاَ سَبَّابًا، كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْمَعْتَبَةِ : مَا لَهُ تَرِبَ جَبِينُهُ .
৪৩২। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো অশ্লীলভাষী, অভিশাপকারী বা গালি বর্ষণকারী ছিলেন না। অসন্তুষ্ট হলে তিনি বলতেনঃ তার কি হলো? তার কপাল ধূলিমলিন হোক (বুখারী)।
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ .
৪৩৩। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া জঘন্য পাপ এবং তাকে হত্যা করা কুফরী কাজ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْمَُرَ، أَنَّ أَبَا الأَسْوَدِ الدِّيلِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفُسُوقِ، وَلاَ يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ، إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ .
৪৩৪। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে যেন পাপাচারী বা কাফের বলে অভিহিত না করে। বাস্তবে সেই ব্যক্তি তদ্রুপ না হলে উক্ত অপবাদ অপবাদ দানকারীর উপর পতিত হয় (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ)।
وَبِالسَّنَدِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنِ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ فَقَدْ كَفَرَ، وَمَنِ ادَّعَى قَوْمًا لَيْسَ هُوَ مِنْهُمْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ، أَوْ قَالَ : عَدُوُّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلا حَارَتْ عَلَيْهِ .
৪৩৫। আবু যার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি সজ্ঞানে নিজ পিতা ব্যতীত অপর কাউকে তার পিতা বলে পরিচয় দেয় এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন কোন বংশের লোক বলে পরিচয় দেয়, যে বংশে তার জন্ম হয়নি, সে যেন দোযখকে তার বাসস্থান বানালো। আর যে ব্যক্তি কাউকে কাফের বা আল্লাহর দুশমন বলে অথচ সে তা নয়, তা তার উপর পতিত হয় (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ : سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ صُرَدٍ، رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ : اسْتَبَّ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ أَحَدُهُمَا، فَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتَّى انْتَفَخَ وَجْهُهُ وَتَغَيَّرَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ الَّذِي يَجِدُ، فَانْطَلَقَ إِلَيْهِ الرَّجُلُ، فَأَخْبَرَهُ بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ : تَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، وَقَالَ : أَتَرَى بِي بَأْسًا، أَمَجْنُونٌ أَنَا ؟ اذْهَبْ .
৪৩৬। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী সুলাইমান ইবনে সুরাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দুই লোক পরস্পরকে গালি দিলো। তাদের একজন অতিমাত্রায় রাগান্বিত হয়ে গেলো, এমনকি তার চেহারা ফুলে বিকৃত হয়ে গেলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এমন একটি কথা জানি যা সে বললে তার ক্রোধ তিরোহিত হতো। একথা শুনে এক ব্যক্তি লোকটির কাছে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ উক্তিটি তাকে অবহিত করলো এবং বললো, তুমি শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও অর্থাৎ আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়ো। প্রত্যুত্তরে সে বললো, আমার মধ্যে কি তুমি কোন খারাপ কিছু দেখতে পাচ্ছো? আমি কি পাগল? তুমি চলে যাও (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ إِلاَّ بَيْنَهُمَا مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ سِتْرٌ، فَإِذَا قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ كَلِمَةَ هَجْرٍ فَقَدْ خَرَقَ سِتْرَ اللهِ، وَإِذَا قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ : أَنْتَ كَافِرٌ، فَقَدْ كَفَرَ أَحَدُهُمَا .
৪৩৭। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, প্রতি দু’জন মুসলিম যাদের মধ্যে মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আচ্ছাদন বিদ্যমান আছে। কোন ব্যক্তি তার অপর সাখীকে অশ্লীল কথা বললে সে আল্লাহর সেই আচ্ছাদন ছিন্ন করলো এবং একজন অপরজনকে তুমি কাফের বললে তাদের মধ্যকার একজন তো কাফের হয়েই যায়।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ : قَالَتْ عَائِشَةُ : صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا، فَرَخَّصَ فِيهِ، فَتَنَزَّهَ عَنْهُ قَوْمٌ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَ، فَحَمِدَ اللَّهَ، ثُمَّ قَالَ : مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنِ الشَّيْءِ أَصْنَعُهُ ؟ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ، وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً .
৪৩৮। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা কিছু করলেন এবং লোকদেরকেও তা করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু লোকেরা তা করা থেকে বিরত থাকলো। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌছলে তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে কিছু বক্তব্য পেশ করলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তারপর বলেনঃ লোকদের কি হয়েছে যে, এমন কাজ থেকে তারা বিরত থাকছে যা আমি করেছি? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তাদের চেয়ে বেশী জানি এবং তাদের চেয়ে বেশী ভয়ও করি (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَلَّ مَا يُوَاجِهُ الرَّجُلَ بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا رَجُلٌ، وَعَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ، فَلَمَّا قَامَ قَالَ لأَصْحَابِهِ : لَوْ غَيَّرَ، أَوْ نَزَعَ، هَذِهِ الصُّفْرَةَ .
৪৩৯। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কারো কোন আচরণ অপছন্দ হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাদাচিৎ মুখের উপর কিছু বলেছেন। একদিন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হলো যার পরিধেয় বস্ত্রে হলুদ রং-এর ছাপ ছিল। সে চলে গেলে তিনি তার সাহাবীদের বলেনঃ কতই না উত্তম হতো যদি এই ব্যক্তি এই রংটি পরিবর্তন করতো বা তা তুলে ফেলতো (আবু দাউদ, আহমাদ, তিরমিযী)।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ : بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ، وَكِلاَنَا فَارِسٌ، فَقَالَ : انْطَلِقُوا حَتَّى تَبْلُغُوا رَوْضَةَ كَذَا وَكَذَا، وَبِهَا امْرَأَةٌ مَعَهَا كِتَابٌ مِنْ حَاطِبٍ إِلَى الْمُشْرِكِينَ، فَأْتُونِي بِهَا، فَوَافَيْنَاهَا تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا حَيْثُ وَصَفَ لَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْنَا : الْكِتَابُ الَّذِي مَعَكِ ؟ قَالَتْ : مَا مَعِي كِتَابٌ، فَبَحَثْنَاهَا وَبَعِيرَهَا، فَقَالَ صَاحِبِي : مَا أَرَى، فَقُلْتُ : مَا كَذَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَأُجَرِّدَنَّكِ أَوْ لَتُخْرِجِنَّهُ، فَأَهْوَتْ بِيَدِهَا إِلَى حُجْزَتِهَا وَعَلَيْهَا إِزَارٌ صُوفٌ، فَأَخْرَجَتْ، فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ عُمَرُ : خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ، وَقَالَ : مَا حَمَلَكَ ؟ فَقَالَ : مَا بِي إِلاَّ أَنْ أَكُونَ مُؤْمِنًا بِاللَّهِ، وَأَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ لِي عِنْدَ الْقَوْمِ يَدٌ، قَالَ : صَدَقَ يَا عُمَرُ، أَوَ لَيْسَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا، لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ : اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ وَجَبَتْ لَكُمُ الْجَنَّةُ، فَدَمَعَتْ عَيْنَا عُمَرَ وَقَالَ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ .
৪৪০। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে পাঠালেন। আমরা দুজনই ছিলাম ঘোড়সওয়ার। তিনি বলেনঃ ”তোমরা রওয়ানা হয়ে অমুক অমুক রওদায় (বাগানে) গিয়ে পৌছবে। সেখানে এক নারীকে পাবে। তার সাথে একটি চিঠি আছে যা হাতেব মুশরিকদের লিখেছে। তোমরা সেই পত্র উদ্ধার করে আমার নিকট নিয়ে আসবে”। আমরা পথ চলতে লাগলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেয়া তথ্য মোতাবেক সেই নারীকে পেয়ে গেলাম। সে তার উটে করে যাচ্ছিল। আমরা বললাম, তোমার সাথের চিঠি কোথায়? সে বললো, আমার সাথে কোন চিঠি নাই। আমরা তাকে এবং তার উট তল্লাশী করলাম। আমার সাথী বললো, আমি তো (চিঠি) দেখি না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেননি। আল্লাহর শপথ! হয় তুমি পত্র বের করে দিবে, নতুবা আমি তোমাকে উলঙ্গ করবো। তখন সে তার কোমরের দিকে তার হাত বাড়ালো।
সে একটি পশমী কাপড় পরিহিত ছিল। সে চিঠি বের করলো। আমি তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এলাম। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, এই ব্যক্তি (হাতিব) আল্লাহ, তার রাসূল এবং মুসলিম জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কেন এটা করলে? হাতিব বললেন, আল্লাহর উপর আমার ঈমান ঠিক আছে। আমি ইচ্ছা করলাম যে তাদের উপর আমার একটু অনুগ্রহ থাকুক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে ঠিক বলেছে। হে উমার! সে কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন, ”তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে”। এ কথায় উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে গেলো এবং তিনি বলেন, আল্লাহ এবং তার রাসূলই অধিক জ্ঞাত (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)