হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (441)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَيُّمَا رَجُلٌ قَالَ لأَخِيهِ : كَافِرٌ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا .




৪৪১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন লোক তার কোন ভাইকে ‘হে কাফের’ বলে সম্বোধন করলে তাদের একজন কুফরীর শিকার হলো (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, মুওয়াত্ত্বা মালিক)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (442)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَالِكٌ، أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا قَالَ لِلْآخَرِ : كَافِرٌ، فَقَدْ كَفَرَ أَحَدُهُمَا، إِنْ كَانَ الَّذِي قَالَ لَهُ كَافِرًا فَقَدْ صَدَقَ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَمَا قَالَ لَهُ فَقَدْ بَاءَ الَّذِي قَالَ لَهُ بِالْكُفْرِ .




৪৪২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কাফের বললে তাদের দুইজনের মধ্যে একজন কাফের হয়ে যায়। সেই ব্যক্তি যাকে কাফের বলেছে, সে যদি সত্যিই কাফের হয়ে থাকে তাহলে সে যথার্থই বলেছে। আর সে যদি তার মন্তব্য অনুযায়ী কাফের না হয়ে থাকে, তবে যে তাকে কাফের বললো সে কাফের হয়ে যায় (বুখারী, আহমাদ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (443)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ سُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الأعداء .




৪৪৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্ভাগ্য এবং শক্রর আনন্দ-উল্লাস থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (444)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاَثًا، وَيَسْخَطُ لَكُمْ ثَلاَثًا، يَرْضَى لَكُمْ : أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا، وَأَنْ تَنَاصَحُوا مَنْ وَلاَّهُ اللَّهُ أَمْرَكُمْ، وَيَكْرَهُ لَكُمْ : قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ الْمَالِ .




৪৪৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তোমাদের তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যে তিনটি কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন তা হলো, তোমরা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে অন্য কিছু শরীক করবে না। তোমরা একতাবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরবে। আল্লাহ যাকে তোমাদের শাসক বানিয়েছেন তোমরা তার কল্যাণ কামনা করবে বা তাকে সদুপদেশ দিবে। তিনি তোমাদের যে তিনটি কাজ অপছন্দ করেন তা হলো, আসার কথা (গুজব), অধিক যাঞ্চা ও সম্পদের অপচয় (বুখারী,মুয়াত্তা মালিক, ইবনু হিব্বান)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (445)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ : ( وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يَخْلُفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ) ، قَالَ : فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ، ولا تَقْتِيرٍ .




৪৪৫। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণীঃ ”তোমরা যা কিছু খরচ করো আল্লাহ তার বিনিময় দেন, তিনি উত্তম রিযিকদাতা” (৩৪ঃ ৩৯) সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহর এই ওয়াদা তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন তোমরা অপচয় করবে না এবং কার্পণ্যও করবে না।









আল-আদাবুল মুফরাদ (446)


حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ أَبِي الْعُبَيْدَيْنِ قَالَ : سَأَلْتُ عَبْدَ اللهِ عَنِ الْمُبَذِّرِينَ، قَالَ : الَّذِينَ يُنْفِقُونَ فِي غَيْرِ حَقٍّ .




৪৪৬। আবু উবায়দায়ন (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে মুবাযযিরীন (অপব্যয়কারী) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, যারা অন্যায় পথে সম্পদ খরচ করে তারাই অপব্যয়কারী (বাযযার)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (447)


حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : ( الْمُبَذِّرِينَ ) ، قَالَ : الْمُبَذِّرِينَ فِي غَيْرِ حَقٍّ .




৪৪৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যারা অন্যায় পন্থায় সম্পদ খরচ করে তারাই অপচয়কারী।









আল-আদাবুল মুফরাদ (448)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ عُمَرُ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَصْلِحُوا عَلَيْكُمْ مَثَاوِيكُمْ، وَأَخِيفُوا هَذِهِ الْجِنَّانَ قَبْلَ أَنْ تُخِيفَكُمْ، فَإِنَّهُ لَنْ يَبْدُوَ لَكُمْ مُسْلِمُوهَا، وَإِنَّا وَاللَّهِ مَا سَالَمْنَاهُنَّ مُنْذُ عَادَيْنَاهُنَّ .




৪৪৮। যায়েদ ইবনে আসলাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মিম্বারে দাড়িয়ে বলতেন, হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের বাসস্থানসমূহ সংস্কার করো এবং এই জিনেরা তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শনের পূর্বেই তোমরা তাদের ভীতি প্রদর্শন করো। এদের মধ্যকার মুসলিমরা তোমাদের সামনে আবির্ভূত হবে না। আল্লাহর শপথ! যখন থেকে তাদের সাথে আমার শত্রুতা হয়েছে তারপর আর কোন দিন তাদের সাথে আমি আপোষ করিনি।









আল-আদাবুল মুফরাদ (449)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، عَنْ خَبَّابٍ قَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ لَيُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ، إِلا الْبِنَاءَ .




৪৪৯। খাব্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আদম সন্তানকে প্রতিটি ব্যাপারেই সওয়াব দেয়া হবে, ঘরবাড়ি নির্মাণ ব্যয় ব্যতীত (তিরমিযী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (450)


حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ وَهْبٍ الطَّائِفِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا غُطَيْفُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَاصِمٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ لِابْنِ أَخٍ لَهُ خَرَجَ مِنَ الْوَهْطِ : أَيَعْمَلُ عُمَّالُكَ ؟ قَالَ : لاَ أَدْرِي، قَالَ : أَمَا لَوْ كُنْتَ ثَقَفِيًّا لَعَلِمْتَ مَا يَعْمَلُ عُمَّالُكَ، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيْنَا فَقَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا عَمِلَ مَعَ عُمَّالِهِ فِي دَارِهِ، وَقَالَ أَبُو عَاصِمٍ مَرَّةً : فِي مَالِهِ، كَانَ عَامِلاً مِنْ عُمَّالِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ .




৪৫০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ওয়াহত নামক স্থান থেকে আগত তার এক ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলেন, তোমার কর্মচারীরা কি কাজ করে? সে বললো, আমি জানি না। তিনি বলেন, যদি তুমি সাকাফী গোত্রের লোক হতে তবে তোমার কর্মচারীরা কি কাজ করে তা তুমি অবশ্যই জানতে। অতঃপর তিনি আমাদের লক্ষ্য করে বলেন, কোন ব্যক্তি নিজের ঘরে বা সম্পদে তার কর্মচারীদের সাথে কাজ করলে সে হয় মহামহিম আল্লাহর কর্মচারী।









আল-আদাবুল মুফরাদ (451)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ .




৪৫১। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ সুউচ্চ দালানকোঠা নিয়ে গর্বে মত্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবে না (বুখারী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (452)


أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُرَيْثُ بْنُ السَّائِبِ قَالَ : سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ : كُنْتُ أَدْخُلُ بُيُوتَ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خِلاَفَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَأَتَنَاوَلُ سُقُفَهَا بِيَدِي .




৪৫২। হাসান (রহঃ) বলেন, আমি উসমান ইবনে আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খেলাফতকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের ঘরসমূহে যাতায়াত করতাম। আমি তাদের ঘরসমূহের ছাদসমূহ আমার দুই হাতে নাগাল পেতাম (মারাসীল)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (453)


وَبِالسَّنَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ : رَأَيْتُ الْحُجُرَاتِ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ مَغْشِيًّا مِنْ خَارِجٍ بِمُسُوحِ الشَّعْرِ، وَأَظُنُّ عَرْضَ الْبَيْتِ مِنْ بَابِ الْحُجْرَةِ إِلَى بَابِ الْبَيْتِ نَحْوًا مِنْ سِتِّ أَوْ سَبْعِ أَذْرُعٍ، وَأَحْزِرُ الْبَيْتَ الدَّاخِلَ عَشْرَ أَذْرُعٍ، وَأَظُنُّ سُمْكَهُ بَيْنَ الثَّمَانِ وَالسَّبْعِ نَحْوَ ذَلِكَ، وَوَقَفْتُ عِنْدَ بَابِ عَائِشَةَ فَإِذَا هُوَ مُسْتَقْبِلٌ الْمَغْرِبَ .




৪৫৩। দাউদ ইবনে কায়েস (রহঃ) বলেন, খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত মুমিন জননীদের ঘরসমূহ আমি দেখেছি। এসব ঘরের বহির্দিকে (দেয়ালে) ছিল ঘাসের পলেস্তারা। আমার মনে হয় ঘরের প্রস্থ ছিল ঘরের দরজা থেকে বাড়ির ফটক পর্যন্ত প্রায় ছয়-সাত হাত, ভিতরের অংশ দশ হাত এবং উচ্চতা মনে হয় সাত-আট হাত হবে। আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়েছি। তা ছিল পশ্চিমমুখী (আবু দাউদের মারাসীল)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (454)


وَبِالسَّنَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيِّ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ طَلْقٍ فَقُلْتُ : مَا أَقْصَرَ سَقْفَ بَيْتِكِ هَذَا ؟ قَالَتْ : يَا بُنَيَّ إِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ : أَنْ لاَ تُطِيلُوا بِنَاءَكُمْ، فَإِنَّهُ مِنْ شَرِّ أَيَّامِكُمْ .




৪৫৪। আবদুল্লাহ রুমী (রহঃ) বলেন, আমি উম্মে তাল্‌ক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বাড়িতে গেলাম। আমি তাকে বললাম, আপনার এই ঘরের ছাদ কতো নিচু। তিনি বলেন, হে ব্যৎস! আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার কর্মচারীদেরকে লিখে পাঠান, তোমাদের ঘর-বাড়িগুলো সুউচ্চ করে বানাবে না। কেননা তা তোমাদের দুর্দিনের ইঙ্গিতবহ।









আল-আদাবুল মুফরাদ (455)


حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَلاَّمِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ حَبَّةَ بْنِ خَالِدٍ، وَسَوَاءَ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُمَا أَتَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُعَالِجُ حَائِطًا أَوْ بِنَاءً لَهُ، فَأَعَانَاهُ .




৪৫৫। হাব্বা ইবনে খালিদ এবং সাওয়া ইবনে খালিদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন। তখন তিনি ঘরের দেয়াল মেরামত করছিলেন। তারা উভয়ে তাঁর সেই কাজে তাকে সহায়তা করেন। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (456)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ : دَخَلْنَا عَلَى خَبَّابٍ نَعُودُهُ، وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعَ كَيَّاتٍ، فَقَالَ : إِنَّ أَصْحَابَنَا الَّذِينَ سَلَفُوا مَضَوْا وَلَمْ تُنْقِصْهُمُ الدُّنْيَا، وَإِنَّا أَصَبْنَا مَا لاَ نَجِدُ لَهُ مَوْضِعًا إِلاَّ التُّرَابَ، وَلَوْلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ بِهِ .




৪৫৬। কায়েস ইবনে আবু হাযেম (রহঃ) বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে দেখতে গেলাম। তিনি তার দেহে (গরম লোহার) সাতটি দাগ নিলেন। তিনি বলেন, আমাদের যে সকল সাথী অতীত হয়েছেন, দুনিয়া তাদের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। এখন আমরা এমন বস্তুর অধিকারী হয়েছি যা রাখার জন্য মাটি ছাড়া আর কিছু পাচ্ছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি আমাদেরকে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন তবে আমি অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (457)


ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى، وَهُوَ يَبْنِي حَائِطًا لَهُ، فَقَالَ : إِنَّ الْمُسْلِمَ يُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ يُنْفِقُهُ إِلاَّ فِي شَيْءٍ يَجْعَلُهُ فِي التُّرَابِ .




৪৫৭। কায়েস ইবনে আবু হাযেম (রহঃ) বলেন, অতঃপর আর একদিন আমরা তার নিকট আসলাম। তখন তিনি তার একটি দেয়াল নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, মুসলিমকে তার প্রতিটি খরচের জন্য সওয়াব দেয়া হয়, কিন্তু যা সে মাটিতে খরচ করে (ঘরবাড়ি নির্মাণ করে) তাতে নয় (বুখারী, মুসলিম)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (458)


حَدَّثَنَا عُمَرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو السَّفَرِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَا أُصْلِحُ خُصًّا لَنَا، فَقَالَ : مَا هَذَا ؟ قُلْتُ : أُصْلِحُ خُصَّنَا يَا رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ : الأَمْرُ أَسْرَعُ مِنْ ذَلِكَ .




৪৫৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাচ্ছিলেন, তখন আমি আমার কুড়ে ঘর মেরামত করছিলাম। তিনি বলেনঃ এটা কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কুড়ে ঘর মেরামত করছি। তিনি বলেনঃ ব্যাপারটি (মৃত্যু বা কিয়ামত) এর চেয়েও দ্রুত ধেয়ে আসছে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবেন হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (459)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَقَبِيصَةُ قَالاَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ خَمِيلٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ الْحَارِثِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مِنْ سَعَادَةِ الْمَرْءِ الْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ، وَالْجَارُ الصَّالِحُ، وَالْمَرْكَبُ الْهَنِيءُ .




৪৫৯। নাফে ইবনে আবদুল হারিস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির সৌভাগ্যের নিদর্শন হলো প্রশস্ত বসতবাড়ি, উত্তম প্রতিবেশী এবং মনোপূত বা আরামদায়ক বাহন (আহমাদ, তাহাবী)।









আল-আদাবুল মুফরাদ (460)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ نِبْرَاسٍ أَبُو الْحَسَنِ، عَنْ ثَابِتٍ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ أَنَسٍ بِالزَّاوِيَةِ فَوْقَ غُرْفَةٍ لَهُ، فَسَمِعَ الأَذَانَ، فَنَزَلَ وَنَزَلْتُ، فَقَارَبَ فِي الْخُطَا فَقَالَ : كُنْتُ مَعَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَمَشَى بِي هَذِهِ الْمِشْيَةَ وَقَالَ : أَتَدْرِي لِمَ فَعَلْتُ بِكَ ؟ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَشَى بِي هَذِهِ الْمِشْيَةَ وَقَالَ : أَتَدْرِي لِمَ مَشَيْتُ بِكَ ؟ قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ : لِيَكْثُرَ عَدَدُ خُطَانَا فِي طَلَبِ الصَّلاةِ .




৪৬০। সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে তার ঘরে উপরের মাচানে ছিলেন। তিনি আযান শুনে নিচে নামলে আমিও তার সাথে নিচে নামলাম। তিনি ঘন ঘন পা ফেলে (মসজিদে) যেতে লাগলেন। তিনি বলেন, একদা আমি যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে ছিলাম। তিনি এভাবে আমাকে সাথে নিয়ে হাটলেন এবং বললেন, তুমি কি জানো, আমি তোমার সাথে এভাবে কেন হাঁটছি? কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সাথে নিয়ে এভাবে (ঘন কদমে) হেঁটেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ তুমি কি জানো, আমি কেন তোমার সাথে এভাবে হাঁটছি? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ যাতে নামাযের উদ্দেশ্যে আমাদের পদচারণার সংখ্যা অধিক হয় (ইবনে আবু শায়বা)।