আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : اسْتَأْذَنَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَوْدَةُ لَيْلَةَ جَمْعٍ، وَكَانَتِ امْرَأَةً ثَقِيلَةً ثَبِطَةً، فَأَذِنَ لَهَا .
৭৬১। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সাওদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) মুযদালিফার রাতে যাত্রা করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। সাওদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) ছিলেন মন্থর গতিসম্পন্ন স্থূলদেহী মহিলা। সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : لَمَّا قَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعْرَانَةِ ازْدَحَمُوا عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللهِ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى قَوْمٍ، فَكَذَّبُوهُ وَشَجُّوهُ، فَكَانَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ جَبْهَتِهِ وَيَقُولُ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِقَوْمِي، فَإِنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ . قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ : فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي الرَّجُلَ يَمْسَحُ عَنْ جَبْهَتِهِ .
৭৬২। ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিরানা নামক স্থানে গনীমতের মাল বন্টন করেন তখন সেখানে লোকজনের প্রচণ্ড ভিড় হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাঁর কোন এক বান্দাকে এক সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান। তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং নির্যাতন করে আহত করে। তিনি তার কপাল থেকে রক্ত মুছছেন আর বলছেনঃ ”হে আল্লাহ! আমার সম্প্রদায়কে তুমি ক্ষমা করো, কেননা তারা অজ্ঞ”।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি যেন দিব্যি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি সেই কপাল মোছায় রত ব্যক্তির কাহিনী বর্ণনা করছেন। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَشِيطٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ قَالَ : جَاءَ قَوْمٌ إِلَى عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ فَقَالُوا : إِنَّ لَنَا جِيرَانًا يَشْرَبُونَ وَيَفْعَلُونَ، أَفَنَرْفَعُهُمْ إِلَى الإِمَامِ ؟ قَالَ : لاَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : مَنْ رَأَى مِنْ مُسْلِمٍ عَوْرَةً فَسَتَرَهَا، كَانَ كَمَنْ أَحْيَا مَوْءُودَةً مِنْ قَبْرِهَا .
৭৬৩। আবুল হাইসাম (রহঃ) বলেন, একদল লোক উকবা ইবনে আমের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট এসে বললো, আমাদের কতক প্রতিবেশী আছে, যারা মদ্যপান করে এবং বদ কাজে লিপ্ত থাকে। আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে শাসকের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করবো? তিনি বলেন, না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ দেখতে পেয়ে তা গোপন রাখলে সে যেন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তানকে কবর থেকে তুলে জীবন দান করলো। (আবু দাউদ, তাবারানী)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا سَمِعْتَ الرَّجُلَ يَقُولُ : هَلَكَ النَّاسُ، فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ .
৭৬৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি যদি কোন ব্যক্তিকে বলতে শোন, লোকজন ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে (বুঝবে) সে সর্বাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত। (মুসলিম, আবু দাউদ, মালিক, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَقُولُوا لِلْمُنَافِقِ : سَيِّدٌ، فَإِنَّهُ إِنْ يَكُ سَيِّدَكُمْ فَقَدْ أَسْخَطْتُمْ رَبَّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ .
৭৬৫। আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মুনাফিককে ‘নেতা’ বলো না। কেননা সে যদি তোমাদের নেতা হয়ে যায়, তাহলে তোমরা তোমাদের মহিমান্বিত প্রভুকে অসন্তুষ্ট করলে। (আবু দাউদ, হাকিম)
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ أَرْطَأَةَ قَالَ : كَانَ الرَّجُلُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا زُكِّيَ قَالَ : اللَّهُمَّ لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا يَقُولُونَ، وَاغْفِرْ لِي مَا لا يَعْلَمُونَ .
৭৬৬। আদী ইবনে আরতাত (রহঃ) বলেন, কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সাহাবীর পূত-পবিত্রতা বর্ণনা করা হলে তিনি বলতেন, ”হে আল্লাহ! তারা যা বলে সেজন্য আমাকে অভিযুক্ত করো না এবং তারা যে ব্যাপারে জ্ঞাত নয় সে ব্যাপারে আমাকে ক্ষমা করো”। (বাযযার)
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللهِ قَالَ لأَبِي مَسْعُودٍ، أَوْ أَبُو مَسْعُودٍ قَالَ لأَبِي عَبْدِ اللهِ : مَا سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي ( زَعَمَ ) ؟ قَالَ : بِئْسَ مَطِيَّةُ الرَّجُلِ .
৭৬৭। আবু কিলাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলেন অথবা আবু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেন, ”অলিক ধারণা-অনুমান” সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, (তা) লোকটির কতই না মন্দ বাহন। (আবু দাউদ, আহমাদ, তাবাকাত ইবনে সাদ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْيَمَامِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَامِرٍ قَالَ : يَا أَبَا مَسْعُودٍ، مَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي زَعَمُوا ؟ قَالَ : سَمِعْتُهُ يَقُولُ : بِئْسَ مَطِيَّةُ الرَّجُلِ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ : لَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ .
৭৬৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমের (রহঃ) বলেন, হে আবু মাসউদ! ”তারা আন্দাজ-অনুমান করেছে” এরূপ কথা সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তা লোকের অত্যন্ত মন্দ বাহন। আমি তাঁকে আরো বলতে শুনেছিঃ মুমিন ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করা তাকে হত্যা করার সমতুল্য।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ : قَالَ عَمْرٌو : عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ لِشَيْءٍ لاَ يَعْلَمُهُ : اللَّهُ يَعْلَمُهُ ؛ وَاللَّهُ يَعْلَمُ غَيْرَ ذَلِكَ، فَيُعَلِّمَ اللَّهَ مَا لاَ يَعْلَمُ، فَذَاكَ عِنْدَ اللهِ عَظِيمٌ .
৭৬৯। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তোমাদের কেউ যেন (তার অজ্ঞাত বিষয়ে মন্তব্য করার পর) না বলে, সে তা জানে না, আল্লাহ তা জানেন। অথচ আল্লাহর জ্ঞানে হয়তো অন্যরূপ আছে। সে যেন (ভাবছে) আল্লাহ যা জানেন না তা তাঁকে জানাচ্ছে। আল্লাহর কাছে তা (অর্থাৎ জিজ্ঞাসিত বিষয়ে অজ্ঞ হওয়া সত্বেও উত্তর দিতে চাওয়া) গুরুতর ব্যাপার।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ قَالَ : حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : الْمَجَرَّةُ : بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ، وَأَمَّا قَوْسُ قُزَحٍ : فَأَمَانٌ مِنَ الْغَرَقِ بَعْدَ قَوْمِ نُوحٍ عَلَيْهِ السَّلامُ .
৭৭০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ছায়াপথ হলো আসমানের দরজাসমূহের মধ্যকার একটি দরজা এবং রংধনু হলো নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত হওয়ার পর নিরাপত্তার প্রতীক।
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ وَغَيْرِهِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ سَأَلَ ابْنُ الْكَوَّا عَلِيًّا عَنِ الْمَجَرَّةِ، قَالَ : هُوَ شَرَجُ السَّمَاءِ، وَمِنْهَا فُتِحَتِ السَّمَاءُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ .
৭৭১। আবুত তুফাইল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ইবনুল কাওয়া (রহঃ) আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ছায়াপথ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, তা হলো আসমানের প্রবেশদ্বার এবং নৃহের বন্যায় প্রবল বৃষ্টি বর্ষণের জন্য আকাশের ঐ দ্বারই খুলে দেয়া হয়েছিল (৫৪ঃ ১১ আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত)।
حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : الْقَوْسُ : أَمَانٌ لأَهْلِ الأَرْضِ مِنَ الْغَرَقِ، وَالْمَجَرَّةُ : بَابُ السَّمَاءِ الَّذِي تَنْشَقُّ مِنْهُ
৭৭২। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রংধনু হলো পৃথিবীবাসীর জন্য মহাপ্লাবনের পর নিরাপত্তার প্রতীক এবং ছায়াপথ হলো আকাশের একটি দরজা, যা থেকে আকাশ বিদীর্ণ হবে।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو الْحَارِثِ الْكَرْمَانِيُّ قَالَ : سَمِعْتُ رَجُلاً قَالَ لأَبِي رَجَاءٍ : أَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلاَمَ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ فِي مُسْتَقَرِّ رَحْمَتِهِ، قَالَ : وَهَلْ يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ ذَلِكَ ؟ قَالَ : فَمَا مُسْتَقَرُّ رَحْمَتِهِ ؟ قَالَ : الْجَنَّةُ، قَالَ : لَمْ تُصِبْ، قَالَ : فَمَا مُسْتَقَرُّ رَحْمَتِهِ ؟ قَالَ : قُلْتُ : رَبُّ الْعَالَمِينَ .
৭৭৩। আবুল হারিস কিরমানী (রহঃ) বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে আবু রাজা (রহঃ) এর নিকট বলতে শুনেছি, আমি আপনাকে সালাম জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি যেন আল্লাহ তাঁর স্থায়ী রহমতের স্থানে আপনাকে ও আমাকে একত্র করেন। তিনি বলেন, সেই সামর্থ্য কি কারো আছে? তিনি জিজ্ঞেস করেন, তাঁর স্থায়ী রহমতের স্থান কি? সে বললো, জান্নাত। আবু রাজা (রহঃ) বলেন, তুমি সঠিক বলোনি। লোকটি বললো, তবে তাঁর স্থায়ী রহমতের স্থান কি? তিনি বলেন, আমি বললাম, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ .
৭৭৪। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে, হায় সর্বনাশ কাল। কেননা কাল তো স্বয়ং আল্লাহ (সৃষ্ট)। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ يَحْيَى الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ يَقُلْ أَحَدُكُمْ : يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : أَنَا الدَّهْرُ، أُرْسِلُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، فَإِذَا شِئْتُ قَبَضْتُهُمَا . وَلاَ يَقُولَنَّ لِلْعِنَبِ : الْكَرْمَ، فَإِنَّ الْكَرْمَ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ .
৭৭৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন না বলে, হায় সর্বনাশ কাল। মহা মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন, কাল তো আমিই (সৃষ্টি করেছি)। আমিই রাত ও দিন পাঠাই। যখন আমি চাইবো তাকে কবজা করবো। আর কেউ যেন আঙ্গুরকে কারম না বলে। কেননা কারম হলো মুমিন ব্যক্তি। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, দারিমী, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ : يُكْرَهُ أَنْ يُحِدَّ الرَّجُلُ إِلَى أَخِيهِ النَّظَرَ، أَوْ يُتْبِعَهُ بَصَرَهُ إِذَا وَلَّى، أَوْ يَسْأَلَهُ : مِنْ أَيْنَ جِئْتَ، وَأَيْنَ تَذْهَبُ ؟ .
৭৭৬। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির প্রতি অপর ব্যক্তির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকানো অথবা তার ফিরে যাবার সময় তার দিকে সন্ধানী দৃষ্টিতে তাকানো অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে, এরূপ আচরণ আপত্তিকর।
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً، فَقَالَ : ارْكَبْهَا، فَقَالَ : إِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ : ارْكَبْهَا، قَالَ : إِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ : ارْكَبْهَا، قَالَ : فَإِنَّهَا بَدَنَةٌ، قَالَ : ارْكَبْهَا، وَيْلَكَ .
৭৭৭। আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কোরবানীর একটি উট হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বলেনঃ উটের পিঠে আরোহণ করো। লোকটি বললো, এটি কোরবানীর উট। তিনি পুনরায় বলেন, এর পিঠে আরোহণ করো। সে বললো, এটি কোরবানীর উট। তিনি বলেনঃ তুমি এর পিঠে আরোহণ করো। সে বললো, এটি কোরবানীর উট। তিনি বলেনঃ তোমার অকল্যাণ হোক, তুমি এর পিঠে আরোহণ করো। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে খুজাইমাহ)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَلْقَمَةَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، حَدَّثَنِي الْمِسْوَرُ بْنُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيُّ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَرَجُلٌ يَسْأَلُهُ، فَقَالَ : إِنِّي أَكَلْتُ خُبْزًا وَلَحْمًا، فَهَلْ أَتَوَضَّأُ ؟ فَقَالَ : وَيْحَكَ، أَتَتَوَضَّأُ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ؟ .
৭৭৮। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাকে বললো, আমি রুটি ও গোশত খেয়েছি। আমাকে কি উযু করতে হবে? তিনি বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়। তুমি কি পাক জিনিস আহার করে উযু করবে?
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعْرَانَةِ، وَالتِّبْرُ فِي حِجْرِ بِلاَلٍ، وَهُوَ يَقْسِمُ، فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ : اعْدِلْ، فَإِنَّكَ لاَ تَعْدِلُ، فَقَالَ : وَيْلَكَ، فَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَعْدِلُ ؟ قَالَ عُمَرُ : دَعْنِي يَا رَسُولَ اللهِ، أَضْرِبُ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ، فَقَالَ : إِنَّ هَذَا مَعَ أَصْحَابٍ لَهُ، أَوْ : فِي أَصْحَابٍ لَهُ، يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ، لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ .
৭৭৯। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন যুদ্ধের দিন জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি বিলালের কোলে (কাপড়ের মধ্যে রাখা) সোনা বিতরণ করছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইনসাফ করুন। আপনি ইনসাফ করছেন না। তিনি বলেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়। আমি যদি ইনসাফ না করি তবে ইনসাফ আর কে করবে? উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন আমি এই মুনাফিকের ঘাড়ে আঘাত হানি (হত্যা করি)। তিনি বলেনঃ সে তার সঙ্গী-সাথীসহ এখানে আছে। তারা কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা ধনুক থেকে তীর বের হয়ে যাওয়ার গতিতে দীন থেকে বের হয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سُمَيْرٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ بَشِيرٍ، وَكَانَ اسْمُهُ زَحْمَ بْنَ مَعْبَدٍ، فَهَاجَرَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : زَحْمٌ، قَالَ : بَلْ أَنْتَ بَشِيرٌ، قَالَ : بَيْنَمَا أَنَا أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّ بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ : لَقَدْ سَبَقَ هَؤُلاَءِ خَيْرٌ كَثِيرٌ ثَلاَثًا، فَمَرَّ بِقُبُورِ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ : لَقَدْ أَدْرَكَ هَؤُلاَءِ خَيْرًا كَثِيرًا ثَلاَثًا، فَحَانَتْ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَظْرَةٌ، فَرَأَى رَجُلاً يَمْشِي فِي الْقُبُورِ، وَعَلَيْهِ نَعْلاَنِ، فَقَالَ : يَا صَاحِبَ السِّبْتِيَّتَيْنِ، أَلْقِ سِبْتِيَّتَيْكَ، فَنَظَرَ الرَّجُلُ، فَلَمَّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَلَعَ نَعْلَيْهِ فَرَمَى بِهِمَا .
৭৮০। বশীর ইবনে মাবাদ আস-সাদূসী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তার পূর্বনাম ছিল জাহম ইবনে মাবাদ। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হিজরত করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেঃ তোমার নাম কি? তিনি বলেন, জাহম (দুর্দশা)। তিনি বলেনঃ তুমি হচ্ছে বশীর (সুসংবাদদাতা)। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হাঁটছিলাম। তিনি মুশরিকদের কবরস্থানের নিকট পৌঁছে বলেনঃ এরা প্রভূত কল্যাণ হারিয়েছে। তিনি তিনবার এরূপ বলেন। অতঃপর তিনি মুসলিমদের কবরস্থানে পৌছে বলেনঃ এরা প্রভূত কল্যাণ লাভ করেছে। তিনি তিনবার এরূপ বলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃষ্টি এক ব্যক্তির উপর পতিত হলো। সে জুতা পরিহিত অবস্থায় কবরস্থানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেনঃ হে জুতাধারী! তোমার জুতা খুলে ফেলে দাও। লোকটি তাকালো। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে তৎক্ষণাৎ তার জুতাজোড়া খুলে ফেলে দিলো। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)