আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ هِلاَلٍ، أَنَّهُ رَأَى حُجَرَ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ جَرِيدٍ مَسْتُورَةً بِمُسُوحِ الشَّعْرِ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ بَيْتِ عَائِشَةَ، فَقَالَ : كَانَ بَابُهُ مِنْ وِجْهَةِ الشَّامِ، فَقُلْتُ : مِصْرَاعًا كَانَ أَوْ مِصْرَاعَيْنِ ؟ قَالَ : كَانَ بَابًا وَاحِدًا، قُلْتُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ كَانَ ؟ قَالَ : مِنْ عَرْعَرٍ أَوْ سَاجٍ .
৭৮১। মুহাম্মাদ ইবনে হেলাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি দেখেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের হুজরাসমূহে খেজুর পাতার ছাউনি এবং বেড়া শুষ্ক ঘাস বা খড়ের ছিল। আমি মুহাম্মাদ ইবনে হেলালকে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর ঘর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন, তার ঘরের দরজা ছিল সিরিয়া অভিমুখী। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, দরজার কপাট কি একটি ছিল না দুইটি? তিনি বলেন, একটি। আমি বললাম, তা কি কাঠের ছিল? তিনি বলেন, সাইপ্রাস অথবা সেগুন কাঠের।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَبْنِيَ النَّاسُ بُيُوتًا يُوشُونَهَا وَشْيَ الْمَرَاحِيلِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ : يَعْنِي الثِّيَابَ الْمُخَطَّطَةَ .
৭৮২। আবু হুরায়রা (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন নকশী কাঁথার মত কারুকার্য মণ্ডিত ঘর-বাড়ি তৈরি না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ أَجْرًا ؟ قَالَ : أَمَا وَأَبِيكَ لَتُنَبَّأَنَّهُ : أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَخْشَى الْفَقْرَ، وَتَأْمُلُ الْغِنَى، وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ : لِفُلاَنٍ كَذَا، وَلِفُلاَنٍ كَذَا، وَقَدْ كَانَ لِفلانٍ .
৭৮৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ধরনের দান সর্বাধিক পুণ্যের? তিনি বলেনঃ তোমার মঙ্গল হউক, অবশ্যই তোমাকে তা বলব। তুমি সুস্থ ও অর্থের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় এবং দারিদ্র্যের আশংকা করছে, ধনী হওয়ার আশাও পোষণ করছো, এমতাবস্থায় যে দান করবে। আর ঐ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করো না, যখন তোমার প্রাণ হবে কণ্ঠাগত, আর তুমি বলবে, অমুককে এতা, অমুককে এতো দিলাম। তা তো তখন অপরের হয়েই গেছে। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ : حَدَّثَنِي الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : إِذَا طَلَبَ أَحَدُكُمُ الْحَاجَةَ فَلْيَطْلُبْهَا طَلَبًا يَسِيرًا، فَإِنَّمَا لَهُ مَا قُدِّرَ لَهُ، وَلاَ يَأْتِي أَحَدُكُمْ صَاحِبَهُ فَيَمْدَحَهُ، فَيَقْطَعَ ظَهْرَهُ .
৭৮৪। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের কেউ প্রয়োজনে কারো কাছে কিছু চাইলে যেন সহজভাবে চায় (বারংবার না চায়)। কেননা তার তাকদীরে যা নির্ধারিত আছে তা সে পাবেই। তোমাদের কেউ যেন তার কোন সহযোগীর নিকট গিয়ে তার চাটুকারিতা না করে। তা করলে সে যেন তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিলো।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي عَزَّةَ يَسَارِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْهُذَلِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ قَبْضَ عَبْدٍ بِأَرْضٍ، جَعَلَ لَهُ بِهَا، أَوْ : فِيهَا أ حَاجَةً .
৭৮৫। আবু আযযা ইয়াসার ইবনে আবদুল্লাহ আল-হুযালী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যখন তাঁর কোন বাদাকে নির্দিষ্ট কোন স্থানে মৃত্যুদান করতে চান, তখন সেখানে (যাওয়ার জন্য) সেই বান্দার কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا الصَّعْقُ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا جَمْرَةَ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ : أَمْسَى عِنْدَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، فَنَظَرَ إِلَى نَجْمٍ عَلَى حِيَالِهِ فَقَالَ : وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ، لَيَوَدَّنَّ أَقْوَامٌ وَلَوْا إِمَارَاتٍ فِي الدُّنْيَا وَأَعْمَالاً أَنَّهُمْ كَانُوا مُتَعَلِّقِينَ عِنْدَ ذَلِكَ النَّجْمِ، وَلَمْ يَلُوا تِلْكَ الإِمَارَاتِ، وَلاَ تِلْكَ الأَعْمَالَ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيَّ فَقَالَ : لاَ بُلَّ شَانِئُكَ، أَكُلُّ هَذَا سَاغَ لأَهْلِ الْمَشْرِقِ فِي مَشْرِقِهِمْ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ وَاللَّهِ، قَالَ : لَقَدْ قَبَّحَ اللَّهُ وَمَكَرَ، فَوَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ، لَيَسُوقُنَّهُمْ حُمُرًا غِضَابًا، كَأَنَّمَا وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ، حَتَّى يُلْحِقُوا ذَا الزَّرْعِ بِزَرْعِهِ، وَذَا الضَّرْعِ بِضَرْعِهِ .
৭৮৬। আবু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) রাতে আমাদের এখানে থাকলেন। তিনি একটি উজ্জল তারকার দিকে তাকিয়ে বলেন, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্ৰাণ! কোন কোন সম্প্রদায়ের দখলে পার্থিব শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আসলে তারা চাইবে যে, তারা যদি ঐ তারকার সাথে মিলিত হতে পারতো এবং শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব তাদের না থাকতো। অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বলেন, তোমার শত্রু নিপাত যাক। প্রাচ্যবাসীরা কি তাদের সেই প্রাচ্যের রাজত্ব-কর্তৃত্বে বিভোর হয়ে আছে? আমি বললাম, হাঁ, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাদের অমঙ্গল করুন এবং বিহিত ব্যবস্থা করুন। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ! তাদেরকে গৌর বর্ণের প্রশস্ত চেহারাবিশিষ্ট ক্রুর স্বভাবের লোকেরা এমনভাবে হাঁকিয়ে বেড়াবে যে, কৃষকদের তাদের খামারে এবং পশু পালকদেরকে তাদের পশুপালে পৌঁছিয়ে দিবে। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ : سَمِعْتُ مُغِيثًا يَزْعُمُ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ سَأَلَهُ : مَنْ مَوْلاَهُ ؟ فَقَالَ : اللَّهُ وَفُلاَنٌ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ : لاَ تَقُلْ كَذَلِكَ، لاَ تَجْعَلْ مَعَ اللهِ أَحَدًا، وَلَكِنْ قُلْ : فُلاَنٌ بَعْدَ اللهِ .
৭৮৭। মুগীছ ইবনে উমার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে তার মনিব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আল্লাহ এবং অমুক। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এভাবে বলো না। তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শামিল করো না। বরং তুমি বলো, আল্লাহর পর অমুক।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنْ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، قَالَ : جَعَلْتَ لِلَّهِ نِدًّا، مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ .
৭৮৮। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, আল্লাহর মর্জি এবং আপনার মর্জি। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর সাথে শরীক করলে। বলো, একমাত্র আল্লাহর মর্জি। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, দারিমী, তাহাবী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ إِلَى السُّوقِ، فَمَرَّ عَلَى جَارِيَةٍ صَغِيرَةٍ تُغَنِّي، فَقَالَ : إِنَّ الشَّيْطَانَ لَوْ تَرَكَ أَحَدًا لَتَرَكَ هَذِهِ .
৭৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে বাজারে গেলাম। তিনি সঙ্গীতরত একটি বালিকাকে অতিক্রম করতে করতে বলেন, শয়তান যদি কাউকেও ত্যাগ করতো তবে একেও ত্যাগ করতো (বাযযার, দারাওয়ারদী)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ قَالَ : سَمِعْتُ عَمْرًا مَوْلَى الْمُطَّلِبِ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لَسْتُ مِنْ دَدٍ، وَلاَ الدَّدُ مِنِّي بِشَيْءٍ، يَعْنِي : لَيْسَ الْبَاطِلُ مِنِّي بِشَيْءٍ .
৭৯০। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি খেল-তামাশা পছন্দ করি না এবং খেল-তামাশারও আমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। অর্থাৎ আমার সাথে বাতিলের কোন সম্পর্ক নাই।
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : ( وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ ) ، قَالَ : الْغِنَاءُ وَأَشْبَاهُهُ .
৭৯১। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ”এমন কতক লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্ৰষ্ট করার লক্ষ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে” (সূরা লোকমানঃ ৬)। তা হচ্ছে গান-বাজনা ও অনুরূপ বস্তুসমূহ। (তাবারী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالاَ : أَخْبَرَنَا قِنَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ النَّهْمِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : أَفْشُوا السَّلاَمَ تَسْلَمُوا، وَالأشَرَةُ شَرٌّ .
৭৯২। বারাআ ইবনে আযেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রচলন করো, শান্তিতে থাকতে পারবে। অনর্থক কথাবার্তা ক্ষতিকর। (মুসনাদে আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান, মুখতারাত)
حَدَّثَنَا عِصَامٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ سُمَيْرٍ الأَلَهَانِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَكَانَ بِجَمْعٍ مِنَ الْمَجَامِعِ، فَبَلَغَهُ أَنَّ أَقْوَامًا يَلْعَبُونَ بِالْكُوبَةِ، فَقَامَ غَضْبَانَ يَنْهَى عَنْهَا أَشَدَّ النَّهْيِ، ثُمَّ قَالَ : أَلاَ إِنَّ اللاَّعِبَ بِهَا لَيَأْكُلُ ثَمَرَهَا، كَآكِلِ لَحْمِ الْخِنْزِيرِ، وَمُتَوَضِّئٍ بِالدَّمِ . يَعْنِي بِالْكُوبَةِ : النَّرْدَ .
৭৯৩। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কোন এক মজলিসে বসা ছিলেন। তখন তিনি জানতে পারলেন যে, কতক লোক দাবা/পাশা খেলায় মত্ত আছে। তিনি ক্রোধান্বিত অবস্থায় তৎক্ষণাৎ উঠে গিয়ে তাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, অতঃপর বললেন, সাবধান! যারা পাশা খেলে এবং তার ফল (উপার্জন) খায় তারা শূকরের গোশত ভক্ষণকারী এবং রক্ত দিয়ে উযুকারীর সমতুল্য।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ حَصِيرَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ : إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ : كَثِيرٌ فُقَهَاؤُهُ، قَلِيلٌ خُطَبَاؤُهُ، قَلِيلٌ سُؤَّالُهُ، كَثِيرٌ مُعْطُوهُ، الْعَمَلُ فِيهِ قَائِدٌ لِلْهَوَى . وَسَيَأْتِي مِنْ بَعْدِكُمْ زَمَانٌ : قَلِيلٌ فُقَهَاؤُهُ، كَثِيرٌ خُطَبَاؤُهُ، كَثِيرٌ سُؤَّالُهُ، قَلِيلٌ مُعْطُوهُ، الْهَوَى فِيهِ قَائِدٌ لِلْعَمَلِ، اعْلَمُوا أَنَّ حُسْنَ الْهَدْيِ، فِي آخِرِ الزَّمَانِ، خَيْرٌ مِنْ بَعْضِ الْعَمَلِ .
৭৯৪। ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমরা এমন একটি যুগে আছো যে সময় ফকীহগণের সংখ্যা অধিক, বক্তাগণের সংখ্যা কম, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা কম, দাতার সংখ্যা অধিক এবং আমল হচ্ছে প্রবৃত্তির পরিচালক। কিন্তু তোমাদের পর অচিরেই এমন এক যুগ আসবে যখন ফকীহগণের সংখ্যা হবে কম, বক্তার সংখ্যা হবে প্রচুর, যাঞ্চাকারীর সংখ্যা হবে অধিক, দাতার সংখ্যা হবে অল্প এবং প্রবৃত্তিই হবে আমলের পরিচালক। জেনে রাখো! আখেরী যমানায় উত্তম স্বভাব হবে কোন কোন আমলের চেয়েও উত্তম। (মুয়াত্তা মালিক)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ : قُلْتُ لَهُ : رَأَيْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ؟ قَالَ : نَعَمْ، وَلاَ أَعْلَمُ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ رَجُلاً حَيًّا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم غَيْرِي، قَالَ : وَكَانَ أَبْيَضَ، مَلِيحَ الْوَجْهِ .
৭৯৫। আল-জুরাইরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আবুত তুফাইল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন? তিনি বলেন, হাঁ। আমার জানামতে যারা তাঁকে দেখেছেন আমি ছাড়া তাদের কেউ ভূপৃষ্ঠে বেঁচে নাই। তিনি ছিলেন ফর্সা ও লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী (মুসলিম, হাঃ ৫৮৬২)।
وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ , قَالَ : كُنْتُ أَنَا وَأَبُو الطُّفَيْلِ نَطُوفُ بِالْبَيْتِ ، قَالَ أَبُو الطُّفَيْلِ : " مَا بَقِيَ أَحَدٌ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرِي ، قُلْتُ : وَرَأَيْتَهُ ؟ ، قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : كَيْفَ كَانَ ؟ ، قَالَ : كَانَ أَبْيَضَ مَلِيحًا مُقَصَّدًا
৭৯৬। আল-জুরাইরী (রহঃ) বলেন, আমি ও আবুত তুফাইল আমের ইবনে ওয়াসেলা আল-কানানী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করছিলাম। তখন আবুত তুফাইল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন, আমি ছাড়া এমন কেউ আর বেঁচে নাই। আমি বললাম, আপনি কি তাঁকে দেখেছেন? তিনি বলেন, হাঁ। আমি বললাম, তিনি কেমন ছিলেন? তিনি বলেন, তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময়, মধ্যম আকৃতির।(1) (মুসলিম, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ قَابُوسَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْهَدْيُ الصَّالِحُ، وَالسَّمْتُ الصَّالِحُ، وَالِاقْتِصَادُ، جُزْءٌ مِنْ خَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ .
৭৯৭। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উত্তম চালচলন, উত্তম স্বভাব, উত্তম আচরণ এবং মিতাচার নবুয়াতের পঁচিশ ভাগের এক ভাগ। -(মুয়াত্তা মালিক, আবু দাউদ, আহমাদ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَابُوسُ ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " إِنَّ الْهَدْيَ الصَّالِحَ ، وَالسَّمْتَ الصَّالِحَ ، وَالاقْتِصَادَ ، جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ
৭৯৮। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উত্তম চালচলন উত্তম আচরণ ও মিতাচার নবুয়াতের সত্তর ভাগের এক ভাগ। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : هَلْ سَمِعْتِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَتَمَثَّلُ شِعْرًا قَطُّ ؟ فَقَالَتْ : أَحْيَانًا، إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ يَقُولُ : وَيَأْتِيكَ بِالأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوِّدِ .
৭৯৯। ইকরিমা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো কবিতা দ্বারা উপমা দিতে শুনেছেন? তিনি বলেন, কখনো কখনো তিনি ঘরে প্রবেশকালে আবৃত্তি করতেনঃ ”যাকে তুমি দাওনি তোশা, আনবে খবর সে নিশ্চয়”। -(তিরমিযী, তাহাবী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : إِنَّهَا كَلِمَةُ نَبِيٍّ : وَيَأْتِيكَ بِالأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوِّدِ
৮০০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ”যাকে তুমি দাওনি তোশা, আনবে খবর সে নিশ্চয়” একজন নবীর কথা (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও একথা বলেছেন)।