আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ : كَنَّانِي عَبْدُ اللهِ قَبْلَ أَنْ يُولَدَ لِي .
৮৫৭। আলকামা (রহঃ) বলেন, আমার কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ না হতেই আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার ডাকনাম রাখেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، كَنَّيْتَ نِسَاءَكَ، فَاكْنِنِي، فَقَالَ : تَكَنِّي بِابْنِ أُخْتِكِ عَبْدِ اللهِ .
৮৫৮। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি। আপনার স্ত্রীগণের ডাকনাম রেখেছেন। অতএব আমারও একটি ডাকনাম রাখুন। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার বোনপুত আবদুল্লাহর নামে ডাকনাম গ্রহণ করো। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : يَا نَبِيَّ اللهِ، أَلاَ تُكَنِّينِي ؟ فَقَالَ : اكْتَنِي بِابْنِكِ، يَعْنِي : عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَكَانَتْ تُكَنَّى : أُمَّ عَبْدِ اللهِ .
৮৫৯। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি আমার ডাকনাম রাখবেন না? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার পুত্রের অর্থাৎ যুবাইরের পুত্র আবদুল্লাহর নামে ডাকনাম গ্রহণ করো। অতএব তাকে আবদুল্লাহর মা নামে ডাকা হতো। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، إِنْ كَانَتْ أَحَبَّ أَسْمَاءِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَيْهِ لَأَبُو تُرَابٍ، وَإِنْ كَانَ لَيَفْرَحُ أَنْ يُدْعَى بِهَا، وَمَا سَمَّاهُ أَبَا تُرَابٍ إِلاَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، غَاضَبَ يَوْمًا فَاطِمَةَ، فَخَرَجَ فَاضْطَجَعَ إِلَى الْجِدَارِ إِلَى الْمَسْجِدِ، وَجَاءَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتْبَعُهُ، فَقَالَ : هُوَ ذَا مُضْطَجِعٌ فِي الْجِدَارِ، فَجَاءَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَدِ امْتَلَأَ ظَهْرُهُ تُرَابًا، فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ التُّرَابَ عَنْ ظَهْرِهِ وَيَقُولُ : اجْلِسْ أَبَا تُرَابٍ .
৮৬০। সাহল ইবনে সাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট তার নামগুলোর মধ্যে ”আবু তুরাব” নামটি ছিল সর্বাধিক প্রিয় এবং তাকে এই নামে ডাকা হলে তিনি বিশেষভাবে আনন্দিত হতেন। আবু তুরাব ডাকনাম তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই দিয়েছেন। এক দিন তিনি ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে মসজিদে গিয়ে তার দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে পড়লেন। তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসলে এক লোক বলে যে, তিনি দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে আছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে যান। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পিঠে ধূলাবালি লেগে ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পিঠের ধূলাবালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলেনঃ হে আবু তুরাব! উঠে বসো। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي نَخْلٍ لَنَا، نَخْلٍ لأَبِي طَلْحَةَ، تَبَرَّزَ لِحَاجَتِهِ، وَبِلاَلٌ يَمْشِي وَرَاءَهُ، يُكْرِمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَمْشِيَ إِلَى جَنْبِهِ، فَمَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَبْرٍ فَقَامَ، حَتَّى تَمَّ إِلَيْهِ بِلاَلٌ، فَقَالَ : وَيْحَكَ يَا بِلاَلُ، هَلْ تَسْمَعُ مَا أَسْمَعُ ؟ قَالَ : مَا أَسْمَعُ شَيْئًا، فَقَالَ : صَاحِبُ هَذَا الْقَبْرِ يُعَذَّبُ، فَوُجِدَ يَهُودِيًّا .
৮৬১। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খেজুর বাগানে অর্থাৎ আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর খেজুর বাগানে ছিলেন। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলেন এবং বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও তাঁর পাশে পাশে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের নিকট পৌঁছলেন এবং বিলাল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর নিকট না আসা পর্যন্ত দাঁড়ালেন। তিনি বলেনঃ হে বিলাল! তোমার জন্য দুঃখ হয়। আমি যা শুনেছি তুমি কি তা শুনেছো? তিনি বলেন, আমি কিছুই শুনতে পাইনি। তিনি বলেনঃ এই কবরবাসীর শাস্তি হচ্ছে। কবরটি ছিল এক ইহুদীর। (আহমাদ হাঃ ১২৫৫৮)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ يَقُولُ لأَخٍ لَهُ صَغِيرٍ : أَرْدِفِ الْغُلاَمَ، فَأَبَى، فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ : بِئْسَ مَا أُدِّبْتَ، قَالَ قَيْسٌ : فَسَمِعْتُ أَبَا سُفْيَانَ يَقُولُ : دَعْ عَنْكَ أَخَاكَ .
৮৬২। কায়েস (রহঃ) বলেন, আমি মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে তার ছোট ভাইকে বলতে শুনেছি, তুমি গোলামটিকে তোমার বাহনের পেছন দিকে তুলে নাও। কিন্তু সে তা অস্বীকার করলো মুয়াবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বলেন, তুমি চরম অশিষ্ট। কায়েস (রহঃ) বলেন, আমি আবু সুফিয়ান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে বলতে শুনলাম, তোমার ভাইকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দাও।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ : حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ : إِذَا كَثُرَ الأَخِلاَّءُ كَثُرَ الْغُرَمَاءُ، قُلْتُ لِمُوسَى : وَمَا الْغُرَمَاءُ ؟ قَالَ : الْحُقُوقُ .
৮৬৩। আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বন্ধুর সংখ্যা যতো বাড়বে, দাবিদারের সংখ্যাও ততো বাড়বে। অধস্তন রাবী বলেন, আমি মূসা ইবনে আলী (রহঃ) কে বললাম, ‘গুরামা' অর্থ কি? তিনি বলেন, প্রাপক বা দাবিদার।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ خَالِدٍ هُوَ ابْنُ كَيْسَانَ قَالَ : كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ، فَوَقَفَ عَلَيْهِ إِيَاسُ بْنُ خَيْثَمَةَ قَالَ : أَلاَ أُنْشِدُكَ مِنْ شِعْرِي يَا ابْنَ الْفَارُوقِ ؟ قَالَ : بَلَى، وَلَكِنْ لاَ تُنْشِدْنِي إِلاَّ حَسَنًا . فَأَنْشَدَهُ حَتَّى إِذَا بَلَغَ شَيْئًا كَرِهَهُ ابْنُ عُمَرَ، قَالَ لَهُ : أَمْسِكْ .
৮৬৪। খালিদ ইবনে কায়সান (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন ইয়াস ইবনে খায়ছামা (রহঃ) তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলেন, হে ফারুক তনয়! আমার কিছু কবিতা কি আপনাকে আবৃত্তি করে শুনাবো? তিনি বলেন, হাঁ, তবে কেবল উত্তম কবিতাই শুনাবে। তিনি তাকে তা আবৃত্তি করে শুনাতে থাকেন। পরে কবিতায় ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর অপছন্দনীয় কিছু এলে তিনি বলেন, এবার থামো।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ مُطَرِّفًا قَالَ : صَحِبْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ مِنَ الْكُوفَةِ إِلَى الْبَصْرَةِ، فَقَلَّ مَنْزِلٌ يَنْزِلُهُ إِلاَّ وَهُوَ يُنْشِدُنِي شِعْرًا، وَقَالَ : إِنَّ فِي الْمَعَارِيضِ لَمَنْدُوحَةٌ عَنِ الْكَذِبِ .
৮৬৫। কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমি মুতাররিফ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর সাথে কূফা থেকে বসরা পর্যন্ত সফর করেছি। খুব কম মনযিলই এমন ছিল যেখানে তিনি যাত্রাবিরতি করেছেন, অথচ আমাকে কবিতা পড়ে শুনাননি। তিনি বলেন, পরোক্ষ বচন মিথ্যাকে এড়ানোর নিরাপদ উপায়।
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً .
৮৬৬। উবাই ইবনে কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় জ্ঞানের কথাও থাকে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ مُحَمَّدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي مَدَحْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِمَحَامِدَ، قَالَ : أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ، وَلَمْ يَزِدْهُ عَلَى ذَلِكَ .
৮৬৭। আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (স্বরচিত কবিতায়) নানাভাবে মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করেছি। তিনি বলেনঃ শোনো! তোমার প্রভু তার প্রশংসা অত্যন্ত পছন্দ করেন। তিনি এর বেশী আর কিছু বলেননি।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لَأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ رَجُلٍ قَيْحًا حَتَّى يَرِيَهُ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا .
৮৬৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিজের পেট কবিতা দ্বারা ভর্তি করার তুলনায় পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা যে কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ قَالَ : كُنْتُ شَاعِرًا، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ : أَلاَ أُنْشِدُكَ مَحَامِدَ حَمِدْتُ بِهَا رَبِّي ؟ قَالَ : إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْمَحَامِدَ، وَلَمْ يَزِدْنِي عَلَيْهِ .
৮৬৯। আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ছিলাম কবি। অতএব আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, আমি যে কবিতার মাধ্যমে আমার প্রভুর প্রশংসা করেছি তা দ্বারা কি আপনার প্রশংসা করতে পারি না? তিনি বলেনঃ নিশ্চয় তোমার প্রভু প্রশংসা পছন্দ করেন। তিনি আমাকে এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتِ : اسْتَأْذَنَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي هِجَاءِ الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : فَكَيْفَ بِنِسْبَتِي ؟ فَقَالَ : لَأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعْرَةُ مِنَ الْعَجِينِ .
৮৭০। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসসান ইবনে ছাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) (কবিতার মাধ্যমে) মুশরিকদের নিন্দা প্রচার করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি বলেনঃ আমার বংশকে কি করবে? হাসসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আটার খামীর থেকে চুলকে যেভাবে টেনে বের করা হয় সেভাবে আমি আপনাকে তাদের থেকে আলাদা করে নিবো। (বুখারী, মুসলিম)
وَعَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : ذَهَبْتُ أَسُبُّ حَسَّانَ عِنْدَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ : لاَ تَسُبَّهُ، فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم .
৮৭১। হিশাম (রহঃ) বলেন, আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সামনে হাসসান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কে ভর্ৎসনা করতে উদ্যত হলাম। তিনি বলেন, তাকে ভর্ৎসনা করো না। কেননা সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে (কবিতার মাধ্যমে) দুশমনদেরকে প্রতিহত করেছে। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ زِيَادٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةٌ .
৮৭২। উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় জ্ঞানের কথাও থাকে। (বুখারী,আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : الشِّعْرُ بِمَنْزِلَةِ الْكَلاَمِ، حَسَنُهُ كَحَسَنِ الْكَلامِ، وَقَبِيحُهُ كَقَبِيحِ الْكَلامِ .
৮৭৩। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবিতাও কথারই মত (কথার সমষ্টি)। রুচি সম্মত কবিতা উত্তম কথাতুল্য এবং কুরুচিপূর্ণ কবিতা কুরুচিপূর্ণ কথাতুল্য। (দারকুতনী)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ تَلِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَغَيْرُهُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ : الشِّعْرُ مِنْهُ حَسَنٌ وَمِنْهُ قَبِيحٌ، خُذْ بِالْحَسَنِ وَدَعِ الْقَبِيحَ، وَلَقَدْ رَوَيْتُ مِنْ شِعْرِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَشْعَارًا، مِنْهَا الْقَصِيدَةُ فِيهَا أَرْبَعُونَ بَيْتًا، وَدُونَ ذَلِكَ .
৮৭৪। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, কবিতার মধ্যে কতক ভালো এবং কতক নিকৃষ্ট। তুমি তার ভালোটা গ্রহণ করে এবং নিকৃষ্টটা পরিহার করো। আমার কাছে কাব ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর এমন কবিতাও বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যকার একটি কাসীদায় চল্লিশ বা তার কিছু কম সংখ্যক চরণ ছিলো।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَتَمَثَّلُ بِشَيْءٍ مِنَ الشِّعْرِ ؟ فَقَالَتْ : كَانَ يَتَمَثَّلُ بِشَيْءٍ مِنْ شِعْرِ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَوَاحَةَ : وَيَأْتِيكَ بِالأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوِّدِ .
৮৭৫। মিকদাম ইবনে শুরায়হ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি উপমা দেয়ার জন্য কবিতা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার এ কবিতা আবৃত্তি করে উপমা দিতেনঃ ”যাকে তুমি দাওনি তোশা, খবর আনবে সে নিশ্চয়”। -(তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, তাহাবী)
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا مُبَارَكٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ الأَسْوَدَ بْنَ سَرِيعٍ حَدَّثَهُ قَالَ : كُنْتُ شَاعِرًا فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ، امْتَدَحْتُ رَبِّي، فَقَالَ : أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ، وَمَا اسْتَزَادَنِي عَلَى ذَلِكَ .
৮৭৬। আল-আসওয়াদ ইবনে সারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি ছিলাম কবি। অতএব আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম, আমি যে কবিতার মাধ্যমে আমার প্রভুর প্রশংসা করেছি তা দ্বারা কি আপনার প্রশংসা করতে পারি না? তিনি বলেনঃ ”নিশ্চয় তোমার প্রভু প্রশংসা পছন্দ করেন”। তিনি আমাকে এর অধিক কিছু বলেননি। (তাহাবীর কিতাবুল কারাহিয়্যা)