হাদীস বিএন


আল-আদাবুল মুফরাদ





আল-আদাবুল মুফরাদ (877)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْلَى قَالَ : سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الشَّرِيدِ، عَنِ الشَّرِيدِ قَالَ : اسْتَنْشَدَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شِعْرَ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ، وَأَنْشَدْتُهُ، فَأَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : هِيهِ، هِيهِ حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِئَةَ قَافِيَةٍ، فَقَالَ : إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ .




৮৭৭। আশ-শারীদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কবি উমাইয়্যা ইবনে আবুস সালতের কবিতা আবৃত্তি করে তাঁকে শুনাতে বলেন। আমি তাঁকে তা আবৃত্তি করে শুনলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে থাকলেনঃ চালাতে থাকো, চালাতে থাকো। শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে এক শত চরণ আবৃত্তি করে শুনালাম। তিনি বলেনঃ সে তো প্রায় মুসলিম হয়েই গিয়েছিলো। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, দারিমী, ইবনে খুজাইমাহ, আহমাদ, তাহাবী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (878)


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا .




৮৭৮। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিজের পেট কবিতা দ্বারা ভর্তি করার তুলনায় পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা যে কোন ব্যক্তির জন্য উত্তম। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (879)


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : ( وَالشُّعَرَاءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ ) إِلَى قَوْلِهِ : ( وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لاَ يَفْعَلُونَ ) ، فَنَسَخَ مِنْ ذَلِكَ وَاسْتَثْنَى فَقَالَ : ( إِلاَّ الَّذِينَ آمَنُوا ) إِلَى قَوْلِهِ : ( يَنْقَلِبُونَ ) .




৮৭৯। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ”বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে। তুমি কি দেখো না যে, তারা প্রতিটি ময়দানে উদভ্ৰান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং এমন কথা বলে যা তারা করে না” (সূরা শুআরাঃ ২২৪-২২৫)? উপরোক্ত অংশ (মহামহিম আল্লাহ) মানসূখ (রহিত) করেছেন এবং নিম্নোক্ত অংশ ব্যতিক্রম করেছেন, মহান আল্লাহ বলেনঃ ”তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, আল্লাহকে পর্যাপ্ত স্মরণ করে এবং নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নির্যাতনকারী অচিরেই জানতে পারবে তাদের গন্তব্য কিরূপ” (সূরা শুআরাঃ ২২৭)। (আবু দাউদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (880)


حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَوْ أَعْرَابِيًّا، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ بِكَلاَمٍ بَيِّنٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا، وَإِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً .




৮৮০। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বা এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় কথাবার্তা বললো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কথায়ও যাদুকরী প্রভাব থাকে এবং কবিতাও প্রজ্ঞাপূর্ণ হতে পারে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, তহাবী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (881)


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ : حَدَّثَنِي مَعْنٌ قَالَ : حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَلاَّمٍ، أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ دَفَعَ وَلَدَهُ إِلَى الشَّعْبِيِّ يُؤَدِّبُهُمْ، فَقَالَ : عَلِّمْهُمُ الشِّعْرَ يَمْجُدُوا وَيُنْجِدُوا، وَأَطْعِمْهُمُ اللَّحْمَ تَشْتَدُّ قُلُوبُهُمْ، وَجُزَّ شُعُورَهُمْ تَشْتَدُّ رِقَابُهُمْ، وَجَالِسْ بِهِمْ عِلْيَةَ الرِّجَالِ يُنَاقِضُوهُمُ الْكَلامَ .




৮৮১। উমার ইবনে সালাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান তার সন্তানদের আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়ার জন্য শাবী (রহঃ) এর নিকট সোপর্দ করেন। তিনি বলেন, এদের কবিতা শিক্ষা দিন, তাতে তারা উচ্চাভিলাসী ও নির্ভীক হবে, এদের গোশত খাওয়ান, তাতে তাদের হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এদের মস্তক মুণ্ডন করান, তাতে তাদের ঘাড় শক্ত হবে এবং এদের নিয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সমাবেশে বসুন। তাতে তাদের সাথে বাক্য বিনিময়ে তারা কথা বলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে। (তারীখুল কাবীর, আবু হাতেম, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (882)


حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ جُرْمًا إِنْسَانٌ شَاعِرٌ يَهْجُو الْقَبِيلَةَ مِنْ أَسْرِهَا، وَرَجُلٌ انْتَفَى مِنْ أَبِيهِ .




৮৮২। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষের মধ্যে মারাত্মক অপরাধী হলো সেই কবি যে সমগ্র গোত্রের নিন্দা করে এবং যে ব্যক্তি নিজ পিতাকে অস্বীকার করে। (ইবনে মাজাহ হাঃ ৩৭৬১)









আল-আদাবুল মুফরাদ (883)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ : قَدِمَ رَجُلاَنِ مِنَ الْمَشْرِقِ خَطِيبَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَامَا فَتَكَلَّمَا ثُمَّ قَعَدَا، وَقَامَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ، خَطِيبُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ، فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْ كَلاَمِهِمَا، فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ، قُولُوا قَوْلَكُمْ، فَإِنَّمَا تَشْقِيقُ الْكَلاَمِ مِنَ الشَّيْطَانِ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا .




৮৮৩। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে প্রাচ্য থেকে দুই বাগ্মী পুরুষ (মদীনায়) আসে। তারা দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করলো, অতঃপর বসলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তা সাবিত ইবনে কায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। কিন্তু লোকজন পূর্বের দুই বক্তার বক্তৃতায়ই অভিভূত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে জনগণ! নিজেদের কথা বলো। কেননা মারপ্যাচের কথা বলা শয়তানের অভ্যাস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে। (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (884)


حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسًا يَقُولُ : خَطَبَ رَجُلٌ عِنْدَ عُمَرَ فَأَكْثَرَ الْكَلاَمَ، فَقَالَ عُمَرُ : إِنَّ كَثْرَةَ الْكَلاَمِ فِي الْخُطَبِ مِنْ شَقَاشِقِ الشَّيْطَانِ .




৮৮৪। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সামনে দীর্ঘ বক্তৃতা করলো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, বক্তৃতায় লম্বা-চওড়া কথা বলা শয়তানের কাজ।









আল-আদাবুল মুফরাদ (885)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ قَالَ : حَدَّثَنِي سُهَيْلُ بْنُ ذِرَاعٍ قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا يَزِيدَ أَوْ مَعْنَ بْنَ يَزِيدَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : اجْتَمِعُوا فِي مَسَاجِدِكُمْ، وَكُلَّمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فَلْيُؤْذِنُونِي، فَأَتَانَا أَوَّلَ مَنْ أَتَى، فَجَلَسَ، فَتَكَلَّمَ مُتَكَلِّمٌ مِنَّا، ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ الَّذِي لَيْسَ لِلْحَمْدِ دُونَهُ مَقْصَدٌ، وَلاَ وَرَاءَهُ مَنْفَذٌ . فَغَضِبَ فَقَامَ، فَتَلاَوَمْنَا بَيْنَنَا، فَقُلْنَا : أَتَانَا أَوَّلَ مَنْ أَتَى، فَذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ فَجَلَسَ فِيهِ، فَأَتَيْنَاهُ فَكَلَّمْنَاهُ، فَجَاءَ مَعَنَا فَقَعَدَ فِي مَجْلِسِهِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَا شَاءَ جَعَلَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَمَا شَاءَ جَعَلَ خَلْفَهُ، وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا، ثُمَّ أَمَرَنَا وَعَلَّمَنَا .




৮৮৫। আবু ইয়াযীদ অথবা মান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে পাঠানঃ তোমরা তোমাদের মসজিসমূহে একত্র হও। লোকজন একত্র হলে তারা যেন আমাকে খবর দেয়। অতঃপর আগমনকারী প্রথমে আমাদের মসজিদে আসেন এবং বসেন। তখন আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যাঁর প্রশংসা দ্বারা একমাত্র তাঁর সত্তা ছাড়া আর কিছুই কাম্য নয়। আর তিনি ছাড়া পালিয়ে যাবার অন্য কোন ঠাই নাই। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হন এবং উঠে চলে যান।

আমরা এজন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে বললাম, আগন্তুক তো প্রথমেই আমাদের মসজিদে আসেন (আর আমরা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলাম)। অতঃপর তিনি অন্য এক মসজিদে গিয়ে সেখানে বসেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট (ক্ষমা চাইলাম)। অতএব তিনি আমাদের সাথে ফিরে এলেন এবং তাঁর আগের জায়গায় বা তার সন্নিকটে বসেন, অতঃপর বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি যা ইচ্ছা তাঁর সম্মুখে করেন এবং যা ইচ্ছা তাঁর পশ্চাতে করেন। আর কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে। অতঃপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-নসীহত করেন এবং জ্ঞান দান করেন। (আহমাদ হাঃ ১৫৯৫৫)









আল-আদাবুল মুফরাদ (886)


حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ يَقُولُ : قَالَتْ عَائِشَةُ : أَرِقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ : لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَجِيئُنِي فَيَحْرُسَنِي اللَّيْلَةَ، إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ السِّلاَحِ، فَقَالَ : مَنْ هَذَا ؟ قَالَ : سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ، جِئْتُ أَحْرُسُكَ، فَنَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى سَمِعْنَا غَطِيطَهُ .




৮৮৬। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘুম আসছিলো না। তিনি বলেন, আহা! আমার সাহাবীদের মধ্যকার কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তি এসে এই রাতটুকু যদি আমাকে পাহারা দিতো। তৎক্ষণাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই লোক? বলা হলো, সাদ। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে গেলেন, এমনকি আমরা তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম। (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (887)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كَانَ فَزَعٌ بِالْمَدِينَةِ، فَاسْتَعَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَسًا لأَبِي طَلْحَةَ، يُقَالُ لَهُ : الْمَنْدُوبُ، فَرَكِبَهُ، فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ : مَا رَأَيْنَا مِنْ شَيْءٍ، وَإِنْ وَجَدْنَاهُ لَبَحْرًا .




৮৮৭। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা মদীনায় (বিকট শব্দ হলে) ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র মানদূৰ নামের ঘোড়াটি ধার নিয়ে তাতে চড়ে সেদিকে গেলেন। অতঃপর ফিরে এসে বলেনঃ তেমন কিছু তো দেখলাম না। আর ঘোড়াটি তো দেখছি সমুদ্রবৎ (দ্রুতগামী)। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (888)


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ : كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضْرِبُ وَلَدَهُ عَلَى اللَّحْنِ .




৮৮৮। নাফে (রহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তার ছেলেকে উচ্চারণের ভুলের জন্য প্রহার করতেন। (আবু দাউদ)









আল-আদাবুল মুফরাদ (889)


حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ كَثِيرٍ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَجْلاَنَ قَالَ : مَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِرَجُلَيْنِ يَرْمِيَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ : أسَبْتَ، فَقَالَ عُمَرُ : سُوءُ اللَّحْنِ أَشَدُّ مِنْ سُوءِ الرَّمْيِ .




৮৮৯। আবদুর রহমান ইবনে আজলান (রহঃ) বলেন, উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) দুই ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তখন তীর নিক্ষেপ করছিল। তাদের একজন অপরজনকে বললো, اسبت (শুদ্ধ اصبت) অর্থাৎ তুমি নির্ভুল তীর ছুঁড়েছো। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উচ্চারণের ভুল তীর নিক্ষেপে ভুল করার চেয়েও মারাত্মক। (ইবনে আদী)









আল-আদাবুল মুফরাদ (890)


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ : قَالَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : سَأَلَ نَاسٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْكُهَّانِ، فَقَالَ لَهُمْ : لَيْسُوا بِشَيْءٍ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ، فَإِنَّهُمْ يُحَدِّثُونَ بِالشَّيْءِ يَكُونُ حَقًّا ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الشَّيْطَانُ، فَيُقَرْقِرُهُ بِأُذُنَيْ وَلِيِّهِ كَقَرْقَرَةِ الدَّجَاجَةِ، فَيَخْلِطُونَ فِيهَا بِأَكْثَرَ مِنْ مِئَةِ كِذْبَةٍ .




৮৯০। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি তাদের বলেনঃ তারা কিছুই না। লোকজন আবার বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা এমন কিছুও বলে যা সঠিক হতে দেখা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেটা শয়তানের লুফে নেয়া কথা (আসমানবাসী থেকে)। সে তার বন্ধুদের দুই কানে মুরগীর ডাকের মত তা পৌঁছে দেয়। অতঃপর সেই গণক তার সাথে শত মিথ্যা যোগ করে। (বুখারী, মুসলিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (891)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ لَهُ، فَحَدَا الْحَادِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : ارْفُقْ يَا أَنْجَشَةُ وَيْحَكَ بِالْقَوَارِيرِ .




৮৯১। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক সফরে ছিলেন। চালক হুদী গান গেয়ে (জন্তুযান হাঁকিয়ে নিয়ে) যাচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আনজাশা! তোমার জন্য আফসোস, সদয় হও কাঁচপাত্রগুলোর ব্যাপারে। (বুখারী, মুসলিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (892)


حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ ، قَالَ أَبِي : حَدَّثَنَا ابْنُ عُمَرَ ، عَنْ عُمَرَ فِيمَا أَرَى شَكَّ أَبِي ، أَنَّهُ قَالَ : " حَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ " ، قَالَ : وَفِيمَا أَرَى ، قَالَ : قَالَ عُمَرُ : " أَمَا فِي الْمَعَارِيضِ مَا يَكْفِي الْمُسْلِمَ مِنَ الْكَذِبِ




৮৯২। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতোটুকু যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই নির্বিচারে বলে বেড়ায়। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, পরোক্ষ বচন মুসলিমের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (হাকিম)









আল-আদাবুল মুফরাদ (893)


حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ قَالَ : صَحِبْتُ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ إِلَى الْبَصْرَةِ، فَمَا أَتَى عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلاَّ أَنْشَدْنَا فِيهِ الشِّعْرَ، وَقَالَ : إِنَّ فِي مَعَارِيضِ الْكَلاَمِ لَمَنْدُوحَةٌ عَنِ الْكَذِبِ .




৮৯৩। মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুস শিখখীর (রহঃ) বলেন, বসরা যেতে আমি ইমরান ইবনুল হুসাইন (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) র সফরসংগী হলাম। সফরে প্রতি দিনই তিনি আমাদের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, পরোক্ষ বচন মিথ্যাকে এড়ানোর নিরাপদ উপায়।









আল-আদাবুল মুফরাদ (894)


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ : عَجِبْتُ مِنَ الرَّجُلِ يَفِرُّ مِنَ الْقَدَرِ وَهُوَ مُوَاقِعُهُ، وَيَرَى الْقَذَاةَ فِي عَيْنِ أَخِيهِ وَيَدَعُ الْجِذْعَ فِي عَيْنِهِ، وَيُخْرِجُ الضَّغْنَ مِنْ نَفْسِ أَخِيهِ وَيَدَعُ الضَّغْنَ فِي نَفْسِهِ، وَمَا وَضَعْتُ سِرِّي عِنْدَ أَحَدٍ فَلُمْتُهُ عَلَى إِفْشَائِهِ، وَكَيْفَ أَلُومُهُ وَقَدْ ضِقْتُ بِهِ ذَرْعًا ؟ .




৮৯৪। আমর ইবনুল আস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে ব্যক্তি তাকদীর থেকে পলায়ন করে তার সম্পর্কে আমার অবাক লাগে। কারণ তাকদীরের সাথে তার সাক্ষাত ঘটবেই। সে তার (অপর মুসলিম) ভাইয়ের চোখে পতিত সামান্য ময়লাটুকুও দেখতে পায় কিন্তু নিজ চোখে পতিত গাছের গুঁড়িও দেখে না। সে তার ভাইয়ের অন্তর থেকে ঘৃণা-বিদ্বেষ বের করার প্রয়াস পায়, অথচ নিজের অন্তরের বিদ্বেষ ত্যাগ করে না। আমি কারো কাছে আমার গোপনীয় বিষয় বলবো, আর তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার জন্য তাকে তিরস্কার করবো, এটা হতে পারে না। যে গোপনীয়তা চেপে রাখতে আমি সমর্থ হয়নি, তার (ফাঁস হয়ে যাওয়ার) জন্য অপরকে কিভাবে তিরস্কার করতে পারি? (ইবনে হিব্বান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (895)


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : مَرَّ رَجُلٌ مُصَابٌ عَلَى نِسْوَةٍ، فَتَضَاحَكْنَ بِهِ يَسْخَرْنَ، فَأُصِيبَ بَعْضُهُنَّ .




৮৯৫। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কতক নারীকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বিদ্রুপাত্মক হাসি হাসলো। ফলে তাদের কেউ কেউ বিপদগ্রস্ত হলো। (তাবারী, তাবারানী, ইবনে আদী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)









আল-আদাবুল মুফরাদ (896)


حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَلِيٍّ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَبِي، فَنَاجَى أَبِي دُونِي، قَالَ : فَقُلْتُ لأَبِي : مَا قَالَ لَكَ ؟ قَالَ : إِذَا أَرَدْتَ أَمْرًا فَعَلَيْكَ بِالتُّؤَدَةِ حَتَّى يُرِيَكَ اللَّهُ مِنْهُ الْمَخْرَجَ، أَوْ حَتَّى يَجْعَلَ اللَّهُ لَكَ مَخْرَجًا .




৮৯৬। যুহরী (রহঃ) থেকে ঘটনার সাথে সংশিষ্ট এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। আমার পিতা আমাকে বাদ দিয়ে (মহানবীর সাথে) একান্তে আলাপ করলেন। রাবী বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ ”তুমি কোন কাজ করার মনস্থ করলে ধীরস্থিরভাবে অগ্রসর হবে, যাবত না আল্লাহ তোমাকে তা থেকে নির্গমনের পথ দেখান অথবা আল্লাহ তোমার জন্য নির্গমনের ব্যবস্থা করেন।