আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِذَا شُمِّتَ : عَافَانَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ مِنَ النَّارِ، يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ .
৯৩৭। আবু জামরা (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে হাঁচির জবাবে বলতে শুনেছি, ”আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদের দোযখ থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদয় হোন”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا يَعْلَى، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو مُنَيْنٍ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رَجُلٌ فَحَمِدَ اللَّهَ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، ثُمَّ عَطَسَ آخَرُ، فَلَمْ يَقُلْ لَهُ شَيْئًا، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ، رَدَدْتَ عَلَى الْآخَرِ، وَلَمْ تَقُلْ لِي شَيْئًا ؟ قَالَ : إِنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ، وَسَكَتَّ .
৯৩৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাবে বলেনঃ ইয়ারহামুকাল্লাহ। অতঃপর আরেক ব্যক্তি হাঁচি দিলো কিন্তু তার জবাবে তিনি কিছুই বলেননি। সে ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ঐ লোকটির হাঁচির জবাব দিলেন, অথচ আমার জন্য কিছুই বলেননি। তিনি বলেনঃ সে তো আল্লাহর প্রশংসা করেছে কিন্তু তুমি তো কিছুই বলোনি।
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ : عَطَسَ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا، وَلَمْ يُشَمِّتِ الْآخَرَ، فَقَالَ : شَمَّتَّ هَذَا وَلَمْ تُشَمِّتْنِي ؟ قَالَ : إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَلَمْ تَحْمَدْهُ .
৯৩৯। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, দুই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁচি দিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একজনের হাঁচির জবাব দিলেন এবং অপরজনের হাঁচির জবাব দেননি। সে বললো, আপনি ঐ ব্যক্তির হাঁচির জবাব দিলেন, অথচ আমার হাঁচির জবাব দেননি। তিনি বলেনঃ সে তো আল্লাহর প্রশংসা করেছে কিন্তু তুমি আল্লাহর প্রশংসা করোনি। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا رِبْعِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ هُوَ أَخُو ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : جَلَسَ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا أَشْرَفُ مِنَ الْآخَرِ، فَعَطَسَ الشَّرِيفُ مِنْهُمَا فَلَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ، وَلَمْ يُشَمِّتْهُ، وَعَطَسَ الْآخَرُ فَحَمِدَ اللَّهَ، فَشَمَّتَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ الشَّرِيفُ : عَطَسْتُ عِنْدَكَ فَلَمْ تُشَمِّتْنِي، وَعَطَسَ هَذَا الْآخَرُ فَشَمَّتَّهُ، فَقَالَ : إِنَّ هَذَا ذَكَرَ اللَّهَ فَذَكَرْتُهُ، وَأَنْتَ نَسِيتَ اللَّهَ فَنَسِيتُكَ .
৯৪০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, দুই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসলো। তাদের একজন ছিল অপরজনের চেয়ে অধিক সম্মানী। তাদের মধ্যকার সম্মানী ব্যক্তিটি হাঁচি দিলো কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা করলো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার হাঁচির জবাব দেননি। অতঃপর অপর ব্যক্তি হাঁচি দিলো এবং আল্লাহর প্রশংসা করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাঁচির জবাব দিলেন। তখন শরীফ ব্যক্তি বললো, আমি আপনার সামনে হাঁচি দিয়েছি, কিন্তু আপনি আমার কোন জবাব দেননি। অথচ এই ব্যক্তি হাঁচি দিলে আপনি তার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ ঐ ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করেছে, তাই আমিও তাকে স্মরণ করেছি। অপরদিকে তুমি আল্লাহকে ভুলে রয়েছো, তাই আমিও তোমাকে ভুলে রয়েছি। (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا عَطَسَ فَقِيلَ لَهُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَقَالَ : يَرْحَمُنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ، وَيَغْفِرُ لَنَا وَلَكُمْ .
৯৪১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি হাঁচি দিলে তার জবাবে যখন বলা হতো, ইয়ারহামুকাল্লাহ, তখন তিনি প্রত্যুত্তরে বলতেন, ”আল্লাহ আমাকে ও তোমাদেরকে দয়া করুন এবং আমাকে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করুন”। (হাকিম, বাযযার)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَلْيَقُلْ مَنْ يَرُدُّ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، وَلْيَقُلْ هُوَ : يَغْفِرُ اللَّهُ لِي وَلَكُمْ .
৯৪২। আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি হাঁচি দিলে যেন বলে, ”আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন”। আর জবাবদাতা বলবে, ইয়ারহামুকাল্লাহ। প্রত্যুত্তরে প্রথম ব্যক্তি যেন বলে, ”ইয়াগফিরুল্লাহু লী ওয়ালাকুম” (আল্লাহ আমাকে ও তোমাদের ক্ষমা করুন)। (নাসাঈ, হাকিম, তাবারানী)
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : هَذَا مَزْكُومٌ .
৯৪৩। ইয়াস ইবনে সালাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে হাঁচি দিলে তিনি বলেনঃ ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমায় দয়া করুন)। সে পুনরায় হাঁচি দিলে তিনি বলেনঃ সে সর্দিতে আক্রান্ত। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا عَارِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ قَالَ : حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ الأَزْدِيُّ قَالَ : كُنْتُ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ، فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ إِنْ كُنْتَ حَمِدْتَ اللَّهَ .
৯৪৪। মাকহুল আল-আযদী (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর পাশে উপস্থিত ছিলাম। মসজিদের এক পাশে এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তুমি আল্লাহর প্রশংসা করে থাকলে আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَخْلَدٌ، قَالَ : أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ : عَطَسَ ابْنٌ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، إِمَّا أَبُو بَكْرٍ، وَإِمَّا عُمَرُ، فَقَالَ : آبَّ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : وَمَا آبَّ ؟ إِنَّ آبَّ اسْمُ شَيْطَانٍ مِنَ الشَّيَاطِينِ جَعَلَهَا بَيْنَ الْعَطْسَةِ وَالْحَمْدِ .
৯৪৫। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর এক পুত্র আবু বাকর অথবা উমার হাঁচি দিয়ে ‘আ-ব’ শব্দ করলো। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আ-ব আবার কি? আ-ব তো শয়তানদের মধ্যকার এক শয়তানের নাম। সে এটিকে হাঁচি ও আলহামদু লিল্লাহর মাঝখানে রেখে দিয়েছে। (ইবনে আবু শায়বাহ)
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ : حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ : كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رَجُلٌ، فَقَالَ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : هَذَا مَزْكُومٌ .
৯৪৬। ইয়াস ইবনে সালামা (রহঃ) বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইয়ারহামুকাল্লাহ। সে পুনরায় হাঁচি দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এতো সর্দিতে আক্রান্ত। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারিমী)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : شَمِّتْهُ وَاحِدَةً وَثِنْتَيْنِ وَثَلاَثًا، فَمَا كَانَ بَعْدَ هَذَا فَهُوَ زُكَامٌ .
৯৪৭। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হাঁচিদাতার জবাব দাও, একবার, দুইবার, তিনবার, এরপর যা তা সর্দি। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ الدَّيْلَمِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ : كَانَ الْيَهُودُ يَتَعَاطَسُونَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجَاءَ أَنْ يَقُولَ لَهُمْ : يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ، فَكَانَ يَقُولُ : يَهْدِيكُمُ اللَّهُ، وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ .
৯৪৮। আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে হাঁচি দিতো এই আশায় যে, তিনি তাদের জবাবে ”ইয়ারহামুকুমুল্লাহ” বলবেন। কিন্তু তিনি বলতেনঃ ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাদেরকে হেদায়াত দান করুন এবং তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন করুন)। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম, তাহাবী)
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ إِشْكَابَ، قَالاَ : حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى، وَهُوَ فِي بَيْتِ ابْنَتِهِ أُمِّ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، فَعَطَسْتُ فَلَمْ يُشَمِّتْنِي، وَعَطَسَتْ فَشَمَّتَهَا، فَأَخْبَرْتُ أُمِّي، فَلَمَّا أَتَاهَا وَقَعَتْ بِهِ وَقَالَتْ : عَطَسَ ابْنِي فَلَمْ تُشَمِّتْهُ، وَعَطَسَتْ فَشَمَّتَّهَا، فَقَالَ لَهَا : إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتُوهُ، وَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلاَ تُشَمِّتُوهُ، وَإِنَّ ابْنَكِ عَطَسَ فَلَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ، فَلَمْ أُشَمِّتْهُ، وَعَطَسَتْ فَحَمِدَتِ اللَّهَ فَشَمَّتُّهَا، فَقَالَتْ : أَحْسَنْتَ .
৯৪৯। আবু বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাতা উম্মুল ফাদল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ঘরে ছিলেন। আমি হাঁচি দিলাম কিন্তু তিনি তার জবাব দেননি। অথচ উম্মুল ফাদল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাঁচি দিলে তিনি তার জবাব দিলেন। আমি (ফিরে এসে) আমার মাতাকে এই কথা জানালাম। অতঃপর আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আমার মায়ের কাছে এলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে হাঁচি দিয়েছিল, কিন্তু আপনি তার জবাব দেননি। অথচ উম্মুল ফাদল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাঁচি দিলে আপনি তার জবাব দিয়েছেন।
আবু মূসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ”তোমাদের কোন ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে তোমরা তার জবাব দিও। আর যদি সে আল্লাহর প্রশংসা না করে তবে তোমরা তার জবাব দিও না”। আমার ছেলেটি (অর্থাৎ আপনার ছেলেটি) হাঁচি দিয়েছে, কিন্তু আলহামদু লিল্লাহ বলেনি, তাই আমিও তার জবাব দেইনি। উম্মুল ফাদল (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাঁচি দিয়েছেন এবং আলহামদু লিল্লাহ বলেছেন। তাই আমিও তার জবাব দিয়েছি। আমার মা বলেন, আপনি ঠিক করেছেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ .
৯৫০। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন যথাসাধ্য তা চেপে রাখে (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ مُعَاذٍ قَالَ : أَنَا رَدِيفُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ : يَا مُعَاذُ، قُلْتُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، ثُمَّ قَالَ مِثْلَهُ ثَلاَثًا : هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ ؟ قُلْتُ : لاَ، قَالَ : أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، ثُمَّ سَارَ سَاعَةً فَقَالَ : يَا مُعَاذُ، قُلْتُ : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ : هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ ؟ أَنْ لا يُعَذِّبَهُمْ .
৯৫১। মুআয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি জন্তুযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আরোহিত ছিলাম। তখন তিনি বলেনঃ হে মুআয! আমি বললাম, লাব্বায়েক ওয়া সাদায়েক (আমি হাযির আছি)। তিনি পরপর তিনবার এভাবে ডাকলেন, তুমি কি জানো, বান্দার কাছে আল্লাহর কি দাবি আছে? ”তারা তার ইবাদত করবে এবং তার সাথে অপর কিছু শরীক করবে না”। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ পথ চলার পর আবার ডাকলেনঃ হে মুআয! আমি জবাব দিলাম, লাব্বায়েক ওয়া সাদায়েক। তিনি বলেনঃ তুমি কি জানো, তারা যদি তাই করে তবে মহামহিম আল্লাহর কাছে তাদের কি দাবি আছে? তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ كَعْبٍ، وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ، قَالَ : سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَتَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ : وَآذَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِتَوْبَةِ اللهِ عَلَيْنَا حِينَ صَلَّى صَلاَةَ الْفَجْرَ، فَتَلَقَّانِي النَّاسُ فَوْجًا فَوْجًا، يُهَنُّونِي بِالتَّوْبَةِ يَقُولُونَ : لِتَهْنِكَ تَوْبَةُ اللهِ عَلَيْكَ، حَتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَوْلَهُ النَّاسُ، فَقَامَ إِلَيَّ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ يُهَرْوِلُ، حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنَّانِي، وَاللَّهِ مَا قَامَ إِلَيَّ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ غَيْرُهُ، لا أَنْسَاهَا لِطَلْحَةَ .
৯৫২। আবদুল্লাহ ইবনে কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। কাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্ধ হয়ে গেলে তার পুত্রদের মধ্যে তিনি তার পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি বলেন, কাব ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাবুক যুদ্ধে যোগদান না করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে থেকে যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, অতঃপর আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায পড়ার পর আল্লাহ কর্তৃক আমাদের তওবা কবুল করার কথা ঘোষণা করলেন। তাতে দলে দলে লোক এসে আমার তওবা কবুল হওয়ার জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। তারা বলেন, আপনার তওবা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ায় আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই।
এমতাবস্থায় আমি গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পরিবেষ্টিত অবস্থায় সমাসীন। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উঠে দৌড়ে এসে আমার সাথে মোসাফাহা (করমর্দন) করেন এবং আমাকে অভিনন্দন জানান। আল্লাহর শপথ! মুহাজিরদের মধ্যে তিনি ব্যতীত আর কেউ আমার দিকে উঠে আসেননি। আমি তালহার এ ব্যবহার কখনও ভুলতে পারবো না। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ، فَجَاءَ عَلَى حِمَارٍ، فَلَمَّا بَلَغَ قَرِيبًا مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : ائْتُوا خَيْرَكُمْ، أَوْ سَيِّدَكُمْ، فَقَالَ : يَا سَعْدُ إِنَّ هَؤُلاَءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ، فَقَالَ سَعْدٌ : أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ مُقَاتِلَتُهُمْ، وَتُسْبَى ذُرِّيَّتُهُمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : حَكَمْتَ بِحُكْمِ اللهِ، أَوْ قَالَ : حَكَمْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ .
৯৫৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। লোকেরা (ইহুদীরা) সা'দ ইবনে মুআয (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফয়সালা মেনে নেয়ার ব্যাপারে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করলে তার জন্য লোক পাঠানো হলো। তিনি একটি গাধায় চড়ে আসলেন। তিনি মসজিদের নিকটে এসে পৌছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তিকে বা তোমাদের নেতাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করো। তিনি বলেনঃ হে সা'দ! তারা তোমার ফয়সালা মেনে নেয়ার সম্মতি প্রকাশ করেছে। সা'দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তাদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা এই যে, তাদের মধ্যকার যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদের হত্যা করা হবে এবং তাদের শিশুদের বন্দী করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি আল্লাহর বা মহান মালিকের ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছো। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ : مَا كَانَ شَخْصٌ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ رُؤْيَةً مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَكَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُومُوا إِلَيْهِ، لِمَا يَعْلَمُونَ مِنْ كَرَاهِيَتِهِ لِذَلِكَ .
৯৫৪। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সাহাবীগণের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দর্শন যতো প্রিয় ছিল, আর কারো দর্শন তাদের নিকট এতো প্রিয় ছিলো না। অথচ তারা তাঁকে (আসতে) দেখে তাঁর (সম্মানার্থে) কখনো উঠে দাঁড়াতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, তা তাঁর অপছন্দীয়। (তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ : أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مَيْسَرَةُ بْنُ حَبِيبٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي الْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ : حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ كَانَ أَشْبَهَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَلاَمًا وَلاَ حَدِيثًا وَلاَ جِلْسَةً مِنْ فَاطِمَةَ، قَالَتْ : وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَآهَا قَدْ أَقْبَلَتْ رَحَّبَ بِهَا، ثُمَّ قَامَ إِلَيْهَا فَقَبَّلَهَا، ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَا حَتَّى يُجْلِسَهَا فِي مَكَانِهِ، وَكَانَتْ إِذَا أَتَاهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَحَّبَتْ بِهِ، ثُمَّ قَامَتْ إِلَيْهِ فَقَبَّلَتْهُ، وأَنَّهَا دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ، فَرَحَّبَ وَقَبَّلَهَا، وَأَسَرَّ إِلَيْهَا، فَبَكَتْ، ثُمَّ أَسَرَّ إِلَيْهَا، فَضَحِكَتْ، فَقُلْتُ لِلنِّسَاءِ : إِنْ كُنْتُ لَأَرَى أَنَّ لِهَذِهِ الْمَرْأَةِ فَضْلاً عَلَى النِّسَاءِ، فَإِذَا هِيَ مِنَ النِّسَاءِ، بَيْنَمَا هِيَ تَبْكِي إِذَا هِيَ تَضْحَكُ، فَسَأَلْتُهَا : مَا قَالَ لَكِ ؟ قَالَتْ : إِنِّي إِذًا لَبَذِرَةٌ، فَلَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ : أَسَرَّ إِلَيَّ فَقَالَ : إِنِّي مَيِّتٌ، فَبَكَيْتُ، ثُمَّ أَسَرَّ إِلَيَّ فَقَالَ : إِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي بِي لُحُوقًا، فَسُرِرْتُ بِذَلِكَ وَأَعْجَبَنِي .
৯৫৫। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, কথাবার্তায়, উঠাবসায় ফাতেমার চাইতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেই অভ্যর্থনা জানাতেন, তার জন্য উঠে দাঁড়াতেন এবং তাকে চুমা দিতেন, অতঃপর তার হাত ধরে তাকে এনে নিজের বসার স্থানে বসাতেন। অপরদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার নিকট গেলে তিনি তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতেন এবং উঠে গিয়ে তাঁকে চুমা দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম রোগের সময় তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে অভ্যর্থনা জানালেন, তাকে চুমা দিলেন এবং তার সাথে গোপনে কথা বললেন। ফাতেমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাতে কেঁদে দিলেন। তিনি পুনরায় তাকে গোপনে কিছু বললে এবার তিনি (ফাতেমা) হাসেন।
আমি উপস্থিত মহিলাগণকে বললাম, আমি মনে করি নারী জাতির মধ্যে এই মহিলা মর্যাদায় অনন্য। তবুও ইনি একজন নারীই, কখনো কাঁদেন আবার কখনও হাসেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আপনাকে কী বলেছেন? তিনি বলেন, নিশ্চয় আমি এখন গোপন রহস্যের সংরক্ষক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করার পর তিন বলেন, প্রথমার তিনি গোপনে বলেনঃ ”আমার মৃত্যু আসন্ন”। তাই আমি কেঁদেছি। অতঃপর তিনি গোপনে আমাকে বলেনঃ ”আমার পরিজনদের মধ্যে সর্বপ্রথম তুমিই (মৃত্যুবরণ করে) আমার সাথে মিলিত হবে”। এতে আমি খুশি হই এবং তা আমাকে আনন্দিত করে। (বুখারী হাঃ ৩৩৫৪, তিরমিযী হাঃ ৩৮০৯, মুসলিম, আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ : اشْتَكَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ، وَأَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ، فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَرَآنَا قِيَامًا، فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا، فَصَلَّيْنَا بِصَلاَتِهِ قُعُودًا، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ : إِنْ كِدْتُمْ لَتَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومِ، يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ، فَلاَ تَفْعَلُوا، ائْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ، إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا .
৯৫৬। জাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তাঁর পেছনে নামায পড়লাম। তিনি বসা অবস্থায় ইমামতি করেন। আর আবু বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর মুকাব্বির হন। তিনি আমাদের দিকে লক্ষ্য করে আমাদেরকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেন। তিনি আমাদেরকে বসবার জন্য ইঙ্গিত করলেন। তাই আমরা বসে পড়লাম এবং বসা অবস্থায় তাঁর সাথে নামায পড়লাম। তিনি সালাম ফিরানোর পর বলেনঃ তোমরা তো প্রায় পারস্যবাসী ও রোমবাসীদের মত আচরণ করলে। তারা তাদের রাজা-বাদশাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, অথচ রাজা-বাদশাগণ থাকে বসা অবস্থায়। তোমরা এরূপ করো না। তোমরা তোমাদের ইমামগণের অনুসরণ করো। ইমাম যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়েন তবে তোমরাও দাড়ানো অবস্থায় নামায পড়ো। আর যদি তারা বসা অবস্থায় নামায পড়েন তবে তোমরাও বসা অবস্থায় নামায পড়ো। (মুসলিম)