আল-আদাবুল মুফরাদ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، وَمَا مِنَّا، وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ .
৯১৭। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘কুলক্ষণে’ বিশ্বাস শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মধ্যে অনুরূপ ধারণা আসে না। তবে আল্লাহর উপর ভরসা করার কারণে তিনি তা দূর করে দেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، يَعْنِي : عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ : أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ طِيَرَةَ، وَخَيْرُهَا الْفَأْلُ، قَالُوا : وَمَا الْفَأْلُ ؟ قَالَ : كَلِمَةٌ صَالِحَةٌ يَسْمَعُهَا أَحَدُكُمْ .
৯১৮। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ অশুভ লক্ষণ (বলতে কিছু নেই)। তার মধ্যে ফালই উত্তম। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ফাল কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ (অদৃশ্য থেকে) যে উত্তম কথা শোনতে পায় তা। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, তাহাবী)
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، وَآدَمُ، قَالاَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : عُرِضَتْ عَلَيَّ الأُمَمُ بِالْمَوْسِمِ أَيَّامَ الْحَجِّ، فَأَعْجَبَنِي كَثْرَةُ أُمَّتِي، قَدْ مَلَأُوا السَّهْلَ وَالْجَبَلَ، قَالُوا : يَا مُحَمَّدُ، أَرَضِيتَ ؟ قَالَ : نَعَمْ، أَيْ رَبِّ، قَالَ : فَإِنَّ مَعَ هَؤُلاَءِ سَبْعِينَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ، وَهُمُ الَّذِينَ لاَ يَسْتَرْقُونَ وَلاَ يَكْتَوُونَ، وَلاَ يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ، قَالَ عُكَّاشَةُ : فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، قَالَ : اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ، فَقَالَ رَجُلٌ آخَرُ : ادْعُ اللَّهَ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، قَالَ : سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ .
৯১৯। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একদা হজ্জের মৌসুমে আমার উম্মাতকে আমার সামনে পেশ করা হলো। আমার উম্মাতের সংখ্যাধিক্যে আমি অভিভূত হলাম। সমভূমি ও পাহাড়-পর্বত তাদের দ্বারা পরিপূর্ণ। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি সন্তুষ্ট? আমি বললামঃ হাঁ, হে প্রভু। তিনি বলেন, ”উপরন্তু এদের সাথে রয়েছে আরো সত্তর হাজার যারা বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করবে। তারা হচ্ছে সেইসব লোক যারা ঝাঁড়ফুক করায় না, শরীরে দাগ দেয়ায় না এবং অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না। তারা তাদের প্রভুর উপরই ভরসা করে”।
তখন উকাশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দোয়া করলেনঃ ”হে আল্লাহ! উকাশাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো”। অপর এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্যও দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেনঃ এ ব্যাপারে উকাশা তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে। (বুখারী, আহমাদ, মুসলিম)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ إِذَا وُلِدُوا، فَتَدْعُو لَهُمْ بِالْبَرَكَةِ، فَأُتِيَتْ بِصَبِيٍّ، فَذَهَبَتْ تَضَعُ وِسَادَتَهُ، فَإِذَا تَحْتَ رَأْسِهِ مُوسَى، فَسَأَلَتْهُمْ عَنِ الْمُوسَى، فَقَالُوا : نَجْعَلُهَا مِنَ الْجِنِّ، فَأَخَذَتِ الْمُوسَى فَرَمَتْ بِهَا، وَنَهَتْهُمْ عَنْهَا وَقَالَتْ : إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكْرَهُ الطِّيَرَةَ وَيُبْغِضُهَا، وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَنْهَى عَنْهَا .
৯২০। আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নবজাতকদের আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট আনা হতো। তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন। আমি (আলকামার মা) একটি নবজাতককে নিয়ে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র নিকট এলাম। তিনি নবজাতকের বালিশ সরাতেই দেখা গেলো, একটি ক্ষুর তার শিয়রের নিচে। তিনি ক্ষুর সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, আমরা জিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তা রেখেছি। তিনি ক্ষুরটি ধরে তা দূরে নিক্ষেপ করেন এবং তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস অপছন্দ করতেন এবং তাতে অসন্তুষ্ট হতেন। অতএব আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও এরূপ করতে বারণ করেন।
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : لاَ عَدْوَى، وَلاَ طِيَرَةَ، وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ الصَّالِحُ، الْكَلِمَةُ الْحَسَنَةُ .
৯২১। আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ রোগ সংক্রমণ বলতে কিছু নেই বা অশুভ লক্ষণেরও কোন বাস্তবতা নেই। আর শুভ ফাল অর্থাৎ (অদৃশ্য থেকে শ্রুত) উৎকৃষ্ট কথা আমার পছন্দনীয়। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ : حَدَّثَنِي حَيَّةُ التَّمِيمِيُّ، أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : لاَ شَيْءَ فِي الْهَامِّ، وَأَصْدَقُ الطِّيَرَةِ الْفَأْلُ، وَالْعَيْنُ حَقٌّ .
৯২২। হাব্বা (তিরমিয়ীতে হায়্যা) ইবনে হাবিস আত-তামীমী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ পেঁচার ডাকে অশুভ কিছু নেই। ফাল-ই হলো অধিক নির্ভরযোগ্য শুভ লক্ষণ এবং বদনজর সত্য বা বাস্তব। (তিরমিযী)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ مُؤَمَّلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ، حِينَ ذَكَرَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَنَّ سُهَيْلاً قَدْ أَرْسَلَهُ إِلَيْهِ قَوْمُهُ، فَصَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَرْجِعَ عَنْهُمْ هَذَا الْعَامَ، وَيُخَلُّوهَا لَهُمْ قَابِلَ ثَلاَثَةٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَتَى فَقِيلَ : أَتَى سُهَيْلٌ : سَهَّلَ اللَّهُ أَمْرَكُمْ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ السَّائِبِ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .
৯২৩। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির বছর যখন উসমান ইবনে আফফান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, সুহাইলকে তার সম্প্রদায় সন্ধির এই প্রস্তাবসহ পাঠিয়েছে যে, মুসলিমগণ এই বছর ফিরে যাবে এবং আগামী বছর কুরাইশগণ তিন দিনের জন্য (মক্কা নগরী মুসলিমদের জন্য) খালি করে দিবে। সুহাইল এসে পৌছলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুহাইল এসেছে। আল্লাহ তোমাদের বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেন।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ، وَسَالِمٍ ابْنَيْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الشُّؤْمُ فِي الدَّارِ، وَالْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ .
৯২৪। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কুলক্ষণ (বলতে কিছু থাকলে তা) ঘরবাড়ি, স্ত্রীলোক ও ঘোড়ায়। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তাহাবী)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنْ كَانَ الشُّؤْمُ فِي شَيْءٍ، فَفِي الْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ، وَالْمَسْكَنِ .
৯২৫। সাহল ইবনে সাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যদি কিছুতে লক্ষণ থাকতো তবে তা স্ত্রীলোক, ঘোড়া ও বাসস্থানে থাকতো। (বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, তাহাবী)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ يَعْنِي أَبَا قُدَامَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّا كُنَّا فِي دَارٍ كَثُرَ فِيهَا عَدَدُنَا، وَكَثُرَ فِيهَا أَمْوَالُنَا، فَتَحَوَّلْنَا إِلَى دَارٍ أُخْرَى، فَقَلَّ فِيهَا عَدَدُنَا، وَقَلَّتْ فِيهَا أَمْوَالُنَا ؟ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : رُدَّهَا، أَوْ دَعُوهَا، وَهِيَ ذَمِيمَةٌ .
৯২৬। আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এক বাড়িতে বসবাস করতাম। সেখানে আমাদের জনসংখ্যা ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অতঃপর আমরা অপর একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সেখানে আমাদের জনসংখ্যা ও ধন-সম্পদ হ্রাস পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আগের বাড়িতে ফিরে যাও অথবা তিনি বলেনঃ তোমরা এই বাড়ি ত্যাগ করো। কেননা এটি নিন্দনীয় বাড়ি। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসের সনদে ত্রুটি আছে।
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ، فَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَحَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يُشَمِّتَهُ، وَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِذَا قَالَ : هَاهْ، ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ .
৯২৭। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন কিন্তু হাই তোলা অপছন্দ করেন। অতএব কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করলে এবং যে কোন মুসলিম তা শোনতে পেলে হাঁচির জবাব দেয়া তার কর্তব্য। আর হাই উঠে শয়তানের পক্ষ থেকে। অতএব কেউ তা যেন যথাসাধ্য প্রতিহত করে। কোন ব্যক্তি হাই তুলে ‘হা’ (মুখ গহব্বর ফাঁক) করলে তাতে শয়তান (আনন্দে) অট্টহাসি দেয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমাহ)
حَدَّثَنَا مُوسَى، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَقَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ، قَالَ الْمَلَكُ : رَبَّ الْعَالَمِينَ، فَإِذَا قَالَ : رَبَّ الْعَالَمِينَ، قَالَ الْمَلَكُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ .
৯২৮। ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে শুধু ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বললে একজন ফেরেশতা বলেন, ‘রব্বিল আলামীন’। আর সে ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন’ বললে ফেরেশতা বলেন, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন)। (তাবারানী)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا عَطَسَ فَلْيَقُلِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَإِذَا قَالَ فَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَإِذَا قَالَ لَهُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَلْيَقُلْ : يَهْدِيكَ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكَ .
৯২৯। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ হাঁচি দিয়ে যেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে। সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার অপর (মুসলিম) ভাই বা সংগী যেন ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে। সে তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে (শুকরিয়াস্বরূপ) সে যেন বলে, ‘ইয়াহদিকাল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকা’ (আল্লাহ তোমায় সৎপথে চালিত করুন এবং তোমার অবস্থার সংশোধন করুন)। (বুখারী, আবু দাউদ)
ইমাম বুখারী (রহঃ) এই বিষয়বস্তু সংক্রান্ত হাদীসমূহের মধ্যে উক্ত হাদীসকে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ , قَالَ : أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ الإِفْرِيقِيِّ , قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي ، أَنَّهُمْ كَانُوا غُزَاةً فِي الْبَحْرِ زَمَنَ مُعَاوِيَةَ ، فَانْضَمَّ مَرْكَبُنَا إِلَى مَرْكَبِ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ ، فَلَمَّا حَضَرَ غَدَاؤُنَا أَرْسَلْنَا إِلَيْهِ ، فَأَتَانَا , فَقَالَ : دَعَوْتُمُونِي وَأَنَا صَائِمٌ ، فَلَمْ يَكُنْ لِي بُدٌّ مِنْ أَنْ أُجِيبَكُمْ ، لأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " إِنَّ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ سِتَّ خِصَالٍ وَاجِبَةٍ ، إِنْ تَرَكَ مِنْهَا شَيْئًا فَقَدْ تَرَكَ حَقًّا وَاجِبًا لأَخِيهِ عَلَيْهِ : يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لَقِيَهُ ، وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ ، وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ ، وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ ، وَيَحْضُرُهُ إِذَا مَاتَ ، وَيَنْصَحُهُ إِذَا اسْتَنْصَحَهُ " ، قَالَ : وَكَانَ مَعَنَا رَجُلٌ مَزَّاحٌ , يَقُولُ لِرَجُلٍ أَصَابَ طَعَامَنَا : جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا وَبِرًّا ، فَغَضِبَ عَلَيْهِ حِينَ أَكْثَرَ عَلَيْهِ ، فَقَالَ لأَبِي أَيُّوبَ : مَا تَرَى فِي رَجُلٍ إِذَا قُلْتُ لَهُ : جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا وَبِرًّا ، غَضِبَ وَشَتَمَنِي ؟ ، فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ : إِنَّا كُنَّا نَقُولُ : إِنَّ مَنْ لَمْ يُصْلِحْهُ الْخَيْرُ أَصْلَحْهُ الشَّرُّ ، فَاقْلِبْ عَلَيْهِ ، فَقَالَ لَهُ حِينَ أَتَاهُ : جَزَاكَ اللَّهُ شَرًّا وَعَرًّا ، فَضَحِكَ وَرَضِيَ ، وَقَالَ : مَا تَدَعُ مُزَاحَكَ ، فَقَالَ الرَّجُلُ : جَزَى اللَّهُ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ خَيْرًا
৯৩০। আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আল-ইফরীকী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তারা মুআবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আমলে নৌ-যুদ্ধে যোগদান করেন। পথিমধ্যে আমাদের জাহাজ আবু আইউব আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-র জাহাজের নিকটবর্তী হলে এবং আমাদের সকালের খাবার উপস্থিত হলে আমরা তার নিকট লোক পাঠালাম। তিনি এসে বলেন, তোমরা আমাকে দাওয়াত দিয়েছো। কিন্তু আমি রোযাদার। তবুও আমি তোমাদের দাওয়াত কবুল করেছি। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এক মুসলিমের উপর তার অপর মুসলিম ভাইয়ের ছয়টি অনিবার্য দাবি রয়েছে। যদি কেউ তার একটিও লংঘন করে তবে সে তার ভাইয়ের প্রতি একটি অপরিহার্য কর্তব্য পালন করলো না।
(১) তার সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দিবে। (২) সে তাকে দাওয়াত দিলে তা কবুল করবে। (৩) সে হাঁচি দিলে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) তার জবাব দিবে। (৪) সে রোগগ্ৰস্ত হলে তাকে দেখতে যাবে। (৫) সে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে এবং (৬) সে পরামর্শ চাইলে তাকে উত্তম পরামর্শ দিবে।
রাবী বলেন, আমাদের সাথে (ঐ অভিযানে) একজন রসিক লোকও ছিলেন। তিনি আমাদের সাথে আহাররত এক ব্যক্তিকে বলেন, আল্লাহ তোমাকে অতিশয় উত্তম প্রতিদান দিন। তাকে বারবার এরূপ বললে সে ক্ষেপে যেতো। রসিক ব্যক্তি আবু আইউব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেন, এই লোকটি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, আমি তাকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান ওয়া বাররান’ বললে সে ক্ষেপে যায় এবং আমাকে গালি দেয়। আবু আইউব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা বলতাম, কল্যাণ যার জন্য বাঞ্ছনীয় নয় অমঙ্গলই তার জন্য বাঞ্ছনীয়। অতএব তাকে এর উল্টা বলো। ঐ লোকটি তার নিকট এলে রসিক ব্যক্তি তাকে বলেন, জাযাকাল্লাহু শাররান ওয়া আররান (আল্লাহ তোমাকে অমঙ্গল ও কঠোর প্রতিদান দিন)। লোকটি হেসে দিলো এবং প্রসন্ন হলো আর বললো, তুমি বুঝি তোমার রসিকতা ত্যাগ করতে পারো না। তিনি বলেন, আল্লাহ আবু আইউব আনসারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে উত্তম প্রতিদান দিন (তাহযীবুল কামাল)।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : أَرْبَعٌ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ : يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ، وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ، وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ، وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ .
৯৩১। আবু মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের চারটি কর্তব্য রয়েছে। (১) সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। (২) সে মারা গেলে তার জানাযায় শামিল হবে। (৩) সে তাকে দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করবে। (৪) সে হাঁচি দিলে তার হাঁচির জবাব দিবে। (ইবনে মাজাহ, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ : أَخْبَرَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ : أَمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ، وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ، وَإِفْشَاءِ السَّلاَمِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي . وَنَهَانَا عَنْ : خَوَاتِيمِ الذَّهَبِ، وَعَنْ آنِيَةِ الْفِضَّةِ، وَعَنِ الْمَيَاثِرِ، وَالْقَسِّيَّةِ، وَالإِسْتَبْرَقِ، وَالدِّيبَاجِ، وَالْحَرِيرِ .
৯৩২। বারাআ ইবনে আযেব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের আদেশ করেছেনঃ (১) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতে, (২) জানাযায় শরীক হতে, (৩) হাঁচিদাতার হাঁচির জবাব দিতে, (৪) প্রতিজ্ঞা পালন করতে, (৫) উৎপীড়িতের সাহায্য করতে, (৬) সালামের বহুল প্রচলন করতে এবং (৭) দাওয়াত দানকারীর দাওয়াত কবুল করতে।
তিনি আমাদের নিষেধ করেছেনঃ (১) সোনার আংটি পরতে, (২) রূপার বাসনপত্র ব্যবহার করতে এবং (৩) নরম তুলতুলে রেশমী বস্ত্র, (৪) (তৎকালে মিসরে উৎপাদিত) এক প্রকার রেশমী বস্ত্র, (৫) মোটা রেশমী বস্ত্র, (৬) রেশম ও সূতা মিশ্রিত রেশমী বস্ত্র ও (৭) মিহি রেশমী বস্ত্র ব্যবহার করতে। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
وَعَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ، قِيلَ : مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ تَعُودُهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ .
৯৩৩। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের ছয়টি কর্তব্য রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই কর্তব্যগুলো কি কি? তিনি বলেনঃ (১) তার সাথে তোমার সাক্ষাত হলে সালাম দিবে। (২) সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করবে। (৩) সে তোমার কাছে পরামর্শ চাইলে তুমি তাকে পরামর্শ দিবে। (৪) সে হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে তুমি তার জবাব দিবে। (৫) সে অসুস্থ হলে তুমি তাকে দেখতে যাবে। (৬) সে মারা গেলে তুমি তার জানাযায় ও দাফনে শরীক হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : مَنْ قَالَ عِنْدَ عَطْسَةٍ سَمِعَهَا : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا كَانَ، لَمْ يَجِدْ وَجَعَ الضِّرْسِ وَلا الأُذُنٍ أَبَدًا .
৯৩৪। আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে হাঁচি দিতে শোনে বলে, ”আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আল কুল্লি হালিন মাকানা” (সর্বাবস্থায় বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য প্রশংসা), কখনো তার দাঁতের ও কানের অসুখ হবে না। (আহমাদ, তাবারানী, ইবনে শায়বাহ)
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَإِذَا قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ، وَلْيَقُلْ هُوَ : يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ .
৯৩৫। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে যেন বলে, আলহামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। সে আলহামদু লিল্লাহ বললে তার অপর ভাই বা সাথী যেন বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন)। আবার হাঁচিদাতা যেন বলে, ইয়াহদীকুমুল্লাহ ওয়া ইউসলিহু বালাকুম (আল্লাহ তোমাকে সৎপথে চালিত করুন এবং তোমাকে স্বাচ্ছন্দ প্রদান করুন)। (বুখারী, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ، وَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وَحَمِدَ اللَّهَ كَانَ حَقًّا عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يَقُولَ : يَرْحَمُكَ اللَّهُ . فَأَمَّا التَّثَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَثَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ .
৯৩৬। আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে (আলহামদুলিল্লাহ বললে) এবং অপর মুসলিম ব্যক্তি তা শোনতে পেলে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন) বলা তার কর্তব্য হয়ে যায়। আর হাই উঠে শয়তানের পক্ষ থেকে। অতএব তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তা যথাসাধ্য চেপে রাখে। কারণ তোমাদের কোন ব্যক্তি হাই তুললে তাতে শয়তান আনন্দের হাসি দেয়। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)