হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (1)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَالتِّرْمِذِيُّ، وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (83)، والنسائي (1/ 50 و 176 و 707)، والترمذي (69)، وابن ماجه (386) وابن أبي شيبة (131)، وابن خزيمة (111) من طريق صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة من آل بني الأزرق، عن المغيرة بن أبي بردة - وهو من بني عبد الدار- أنه سمع أبي هريرة يقول: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله! إنا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضأنا به عطشنا، أفنتوضأ به؟ فقال صلى الله عليه وسلم: فذكره. وقال الترمذي: «حسن صحيح». قلت: وهذا إسناد صحيح، وقد أعله بعضهم بما لا يقدح، كما أن للحديث شواهد، وتفصيل ذلك في الأصل




১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল।



চারজন এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। শব্দ বিন্যাস আবূ শাইবার, ইবনু খুযাইমাহ ও তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ বিন হাম্বালও এটি বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৮৩, নাসায়ী ১/৫০, ১৭৬, ৭০৭, তিরমিযী ৬৯, ইবনু মাযাহ ৩৮৬, ইবনু আবী শায়বাহ ১৩১, ইবনু খুযাইমাহ ১১১। সফওয়ান বিন সুলাইম সূত্রে; তিনি আলে বানী আযরাকে এর সাঈদ বিন সালামাহ (রাঃ) থেকে, তিনি বানী আব্দুদ দার এর মুগীরাহ বিন আবু বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আবু হুরায়রাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্রে বিচরণ করি, আর আমাদের সাথে অল্প পরিমাণ পানি নিয়ে যাই, ফলে আমরা যদি এই পানি দিয়ে অযূ করি তাহলে আমাদের খাবার পানির পিপাসায় ভোগার আশংকা রয়েছে। সুতরাং আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অযূ করতে পারি? অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ উক্তি করেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এই সনদ সহীহ । কেউ আবার এতে ক্ৰটি আছে বলে মন্তব্য করলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই, কেননা হাদীসটির কয়েকটি শাহেদ (সমর্থক) হাদীস রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (2)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ. أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ وَصَحَّحَهُ أَحْمَدُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح: رواه أبو داود (66)، والنسائي (174)، والترمذي (66) عن أبي سعيد الخدري، قال: قيل: يا رسول الله (!) أنتوضأ (رواية: أتتوضأ) من بئر بضاعة، وهي بئر يلقى فيها الحيض، ولحوم الكلاب، والنتن؟! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: .. الحديث. قلت: وهو حديث صحيح، وإن أعل بجهالة أحد رواته، لكن له طرق وشواهد أخرى يصح بها الحديث، كما تجد ذلك مفصلا «بالأصل». فائدة: قوله في الحديث: «وهي بئر يلقى فيها الحيض، ولحوم الكلاب، والنتن». قال الخطابي عن ذلك في «معالم السنن» (1/ 37): «يتوهم كثير من الناس إذا سمع هذا الحديث أن هذا كان منهم عادة، وأنهم كانوا يأتون هذا الفعل قصدا وعمدا، وهذا لا يجوز أن يظن بذمي، بل بوثني، فضلا عن مسلم! ولم يزل من عادة الناس قديما وحديثا؛ مسلمهم وكافرهم: تنزيه المياه، وصونها عن النجاسات، فكيف يظن بأهل ذلك الزمان، وهم أعلى طبقات أهل الدين، وأفضل جماعة المسلمين، والماء في بلادهم أعز، والحاجة إليه أمس، أن يكون هذا صنيعهم بالماء، امتهانهم له؟!. وقد لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم من تغوط في موارد الماء ومشارعه، فكيف من اتخذ عيون الماء ومنابعه رصدا للأنجاس، ومطرحا للأقذار؟ هذا ما لا يليق بحالهم. وإنما كان هذا من أجل أن هذه البئر في صدور من الأرض، وأن السيول كانت تكسح هذه الأقذار من الطرق والأفنية، وتحملها فتلقيها فيها، وكان الماء لكثرته لا تؤثر فيه وقوع هذه الأشياء ولا يغيره




২। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয় পানি পবিত্র জিনিস, কোন কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না”।[1]-৩ জনে; আহমাদ একে সহীহ বলেছেন।”[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৬৬, নাসায়ী ১৭৪, তিরমিযী ৬৬। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলা হলো, আমরা কি বুযা’আহ নামক কূপের পানি দিয়ে অযূ করতে পারি? আর ঐ কূপটি এমন ছিল যে, তাতে হায়েযের নেকড়া, কুকুরের গোশত এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ, যদিও একজন রাবী অস্পষ্টতার কারণে হাদীসটিকে ক্ৰটিযুক্ত বলা হয়েছে। কিন্তু এর অন্য একটি সনদ ও কয়েকটি শাহেদ রয়েছে যা হাদীসটি বিশুদ্ধ হাদীসে পরিণত করছে।

বিঃ দ্রঃ হাদীসের কথা وهي بئر يلقى فيها الحيض، ولحوم الكلاب، والنتن বিষয়ে ইমাম খাত্তাবী তাঁর মা’আলিমুস সুনান (১/৩৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস শ্রবণ করে অনেকের মনে এ ধারণা জন্মাতে পারে যে, তারা এ কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করতো। তাদের সম্পর্কে এমন মন্দ ধারণা করা জায়েজ নয়; বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে আরো নয়। তাছাড়া এমন (নোংরা) স্বভাব পূর্বেকার বা বর্তমানকালের কোন মানুষের সে মুসলিম হোক বা কাফির হোক এমন (নোংরা) স্বভাব হতে পারে না। বরং তারা পানিকে সবসময় পবিত্র, পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতেন। অতএব এমন যুগের লোকেদের সম্বন্ধে এমন ধারণা কিভাবে করা যায়। অথচ তারা দ্বীনের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব এবং মুসলিমদের সবচেয়ে সম্মানিত দল! তাছাড়া সেদেশে পানি দুষ্প্রাপ্য অথচ তার প্রয়োজন নিতান্ত বেশি। তা সত্ত্বেও পানির সাথে এমন আচরণ করা কি অত্যন্ত কঠিন কথা নয়!? এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির ঘাট এবং নালায় মলমূত্র ত্যাগকারীর উপর লানত করেছেন। তাহলে কি করে তারা পানির কূপ ও নালাসমূহকে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট করতে পারে; আর তাতে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হতে পারে? এমন আচরণ তাদের জন্য মোটেই মানানসই নয়। হ্যাঁ বিষয়টি এমন হতে পারে যে, ঐ কূপটি কোন মধ্যবর্তী স্থানে ছিল এবং পানির প্রবাহ রাস্তা ও ময়লা ফেলার স্থানের বর্জ্যকে ভাষিয়ে নিয়ে উক্ত কূপে নিক্ষেপ করতো। আর তাতে পানির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় তাতে কোন প্রভাব পড়তো না এবং পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্টের কোন পরিবর্তন করতো না।

[2] এ বিষয়টিকে ইমাম মুনজিরী তার ‘মুখতাসার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।









বুলূগুল মারাম (3)


وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ, إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ وَطَعْمِهِ, وَلَوْنِهِ. أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ وَضَعَّفَهُ أَبُو حَاتِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (521) من طريق رشدين بن سعد، حدثنا معاوية بن صالح، عن راشد بن سعد، عن أبي إمامة به. وهو ضعيف؛ لضعف رشدين، وقد اضطرب أيضا في إسناده




৩। আবূ উমামাহ বাহিলী (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় পানিকে কোন কিছু অপবিত্র করতে পারে না। তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে পরিবর্তন করে দেয়”।-ইবনু মাজাহ[1], আবূ হাতিম এটিকে যঈফ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ, ইবনু মাযাহ ৫২১- রুশদাইন বিন সা'দ সূত্রে। মুয়াবিয়াহ বিন সালিহ রাশিদ বিন সা'দ থেকে, তিনি আবু উমামাহ হতে। তিনি দুর্বল, আবু রুশদাইন এর দুর্বলতার কারণে। তাছাড়া হাদীসের সনদে ইজতিরাব-এর সমস্যা রয়েছে।

[2] তাঁর ছেলে ‘ইলাল’ গ্রন্থে (১/৪৪) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেন: আমার পিতা বলেছেন যে, রুশদাইন বিন সা'দ হাদীসটিকে আবূ উমামাহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুত্তাছিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রুশদাইন শক্তিশালী রাবী নয়। সঠিক কথা এই যে, হাদীসটি মুরসাল।









বুলূগুল মারাম (4)


وَلِلْبَيْهَقِيِّ: الْمَاءُ طَاهِرٌ إِلَّا إِنْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ, أَوْ طَعْمُهُ, أَوْ لَوْنُهُ; بِنَجَاسَةٍ تَحْدُثُ فِيهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه البيهقي في «الكبرى» (159 - 260) من حديث أبي إمامة أيضا، وفي إسناده بقية بن الوليد، وهو مدلس وقد عنعن. وله طريق آخر ولكنه ضعيف أيضا




৪। বাইহাকীতে রয়েছে “পানি পবিত্র তবে কোন নাজাসাত (অপবিত্র বস্তু) পড়ার কারণে পানির ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে নষ্ট ও পরিবর্তন হলে সেই পানি অপবিত্র হয়ে যাবে”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। বায়হাকী তাঁর ‘আস-সুনানুল কুবরা’য় (১৫৯-২৬০) আবু উমামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বাকিয়াহ বিন ওয়ালীদ নামক একজন রাবী আছেন যিনি মুদাল্লিস। আর তিনি ‘আন'আন’ শব্দেও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের অন্য একটি সনদ রয়েছে, সেটিও দুর্বল।









বুলূগুল মারাম (5)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ الْمَاءَ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلْ الْخَبَثَ. وَفِي لَفْظٍ: لَمْ يَنْجُسْ. أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ. وَابْنُ حِبَّانَ وَالحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (63 و 64 و 65)، والنسائي (1/ 46 و175)، والترمذي (67)، وابن ماجه (517)، وهو حديث صحيح، وقد أعل بما لا يقدح. وصححه ابن خزيمة (92)، والحاكم (132)، وابن حبان (1249)




৫। আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘পানির পরিমাণ যদি দু কুল্লা (কুল্লা হচ্ছে বড় আকারের মাটির পাত্র বিশেষ যাতে প্রায় একশত তের কেজি পানি আটে) (মটকা) হয় তবে তার মধ্যে কোন অপবিত্র বস্তু পড়লে তা না-পাক হবে না। (চারজনে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান এক সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৬৩, ৬৪, ৬৫); নাসায়ী (১/৬৪, ১৭৫); তিরমিযী (৬৭); ইবনু মাযাহ (৫১৭)। হাসীদটি সহীহ। কিছু দোষ বর্ণনা করা হলেও তা ক্ষতিকর নয়। ইবনু খুযাইমাহ (৯২); হাকিম (১৩২); ইবনু হিব্বান (১২৪৯) প্রমুখ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (6)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
وَلِلْبُخَارِيِّ: لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي, ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيه
وَلِمُسْلِمٍ: مِنْهُ
وَلِأَبِي دَاوُدَ: وَلَا يَغْتَسِلُ فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح




৬। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থায় কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে (নেমে) গোসল না করে।”[1]



বুখারীর বর্ণনায় আছে, “কোন ব্যক্তি যেন স্রোত নেই এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করার পর তাতে নেমে আবার গোসল না করে।[2]



সহীহ মুসলিমেفِيه quot;ফীহিquot; শব্দের পরিবর্তেمِنْهُ quot;মিনহুquot; (উক্ত বর্ণনাকারী থেকে) শব্দ রয়েছে।”[3]



আর আবূ দাউদে রয়েছেঃ “অপবিত্র অবস্থায় তাতে যেন (নেমে) গোসল না করে।”[4]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (২৮৩)

[2] বুখারী (২৩৯)

[3] মুসলিম (২৮২)

[4] সুনান আবু দাউদ (৭০)









বুলূগুল মারাম (7)


وَعَنْ رَجُلٍ صَحِبَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ تَغْتَسِلَ الْمَرْأَةُ بِفَضْلِ الرَّجُلِ, أَوْ الرَّجُلُ بِفَضْلِ الْمَرْأَةِ, وَلْيَغْتَرِفَا جَمِيعًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ. وَالنَّسَائِيُّ, وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (81)، والنسائي (1/ 130) من طريق داود بن عبد الله الأودي، عن حميد الحميري، عن رجل صحب النبي صلى الله عليه وسلم، به. قلت: وهذا سند صحيح، كما قال الحافظ




৭। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুবী পুরুষের গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে নারীকে আর নারীর অবশিষ্ট পানি দ্বারা পুরুষকে গোসল করতে নিষেধ করেছেন। বরং তারা যেন পাত্র হতে একই সঙ্গে আজলা-আজলা করে পানি উঠিয়ে নিয়ে গোসল করে”। -আবূ দাউদ, নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদটি সহীহ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৮১); নাসায়ী (১/১৩০)- দাউদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আওদী সূত্রে, তিনি হামীদ আল-হুমাইরী থেকে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন। (টিকাকার বলেছেন), মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এই সনদটি সহীহ। হাফিজ ইবনু হাজার (রহঃ)ও অনুরূপ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (8)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ يَغْتَسِلُ بِفَضْلِ مَيْمُونَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (323)




৮। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইমূনাহ (রাঃ)র গোসলের অবশিষ্ট পানি দ্বারা গোসল করতেন। (মুসলিম)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (৩২৩)









বুলূগুল মারাম (9)


وَلِأَصْحَابِ السُّنَنِ: اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي جَفْنَةٍ, فَجَاءَ لِيَغْتَسِلَ مِنْهَا, فَقَالَتْ لَهُ: إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا؟ فَقَالَ: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُجْنِبُ». وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (68)، والترمذي (65)، وابن ماجه (370) من طريق سماك بن حرب، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال: ... الحديث. قال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح». قلت: وهو كذلك وإن كان من رواية سماك، عن عكرمة، وهي معلولة. «تنبيه»: وهم الحافظ في عزوة لأصحاب «السنن» إذ لم يخرجه النسائي، وأيضا تصحيح ابن خزيمة لغير هذا اللفظ




৯। আর সুনান চতুষ্টয় (আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)-র বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছেঃ “গামলার পানিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈকা স্ত্রী গোসল করেছিলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (অবশিষ্ট) পানি দিয়ে গোসল করতে এলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, আমি তো (জুনুবী) অপবিত্র ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘পানি তো আর অপবিত্র হয় না। তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৬৮); তিরমিযী (৬৫); ইবনু মাযাহ (৩৭০); সাম্মাক বিন হারব সূত্রে। তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন: “এ হাদীসটি হাসান সহীহ”। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: সনদটি সেরকমই। যদি তা সাম্মাক হতে ইকরিমা সূত্রে বর্ণিত হয়ে থাকে। এটা معلولة (ক্ৰটিযুক্ত)।









বুলূগুল মারাম (10)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ, أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
وَفِي لَفْظٍ لَهُ: فَلْيُرِقْهُ
وَلِلتِّرْمِذِيِّ: أُخْرَاهُنَّ, أَوْ أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح




১০। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ‘কুকুর কোন পাত্র চাটলে সেই পাত্রকে পবিত্র করতে সাতবার সেটিকে পরিষ্কার করে ধুতে হবে- তার প্রথম বার মাটি দিয়ে (মাজতে হবে)।[1]



মুসলিমের আরেক বর্ণনায় “সেটির (চেটে রাখা) উচ্ছিষ্ট বস্ত ফেলে দিবে” কথাটি রয়েছে।[2]



আর তিরমিযীতে আছে, “শেষের বার অথবা প্রথমবার মাটি দিয়ে (মেজে নিয়ে ধুবে)।”[3]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (৯১, ২৯৭)

[2] মুসলিম (৮৯, ২৭৯)

[3] সুনান তিরমিযী (৯১), তাঁর মতে আরো কিছু অতিরিক্ত শব্দ রয়েছে। তা হচ্ছে ‘পাত্রে যদি বিড়াল মুখ দেয়। তবে একবার ধুয়ে নিবে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এ অতিরিক্ত শব্দসমূহ সহীহ। ইবনু শাহিনের ‘নাসিখুল হাদীস ওয়াল মানসূখাহ’ গ্রন্থে (১৪০) এরূপ বর্ণনা রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (11)


وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ فِي الْهِرَّةِ: «إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ, إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ. وَابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (75)، والنسائي (1/ 55 و 178)، والترمذي (92)، وابن ماجه (367) وابن خزيمة (104) من طريق كبشة بنت كعب بن مالك -وكانت تحت ابن أبي قتادة- أن أبا قتادة دخل عليها، فسكبت له وضوءا. قالت: فجاءت هرة تشرب، فأصغى لها الإناء حتى شربت، قالت كبشة: فرآني أنظر إليه! فقال: أتعجبين يا بنت أخي؟ فقلت: نعم. قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. وقال الترمذي: حديث حسن صحيح




১১। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত-আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়াল প্রসঙ্গে বলেছেন, “সে অপবিত্র নয় এবং সে তো তোমাদের মাঝে চলাফেরা করতে থাকে।” তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৭৫); নাসায়ী (১/৫৫, ১৭৮); তিরমিযী (৯২), ইবনু মাযাহ (৩৬৭); ইবনু খুযাইমাহ (১০৪)। কাবশাহ বিনতে কা’ব বিন মালিক সূত্রে। সে যখন ইবনু আবু কাতাদাহর অধীনে ছিল তখন আবু কাতাদাহ (রাঃ) একদিন তার নিকট গেলে সে অযূর পানিপাত্র পেশ করলেন। কাবশাহ বলেন, অতঃপর একটি বিড়াল এসে পাত্রে মুখ দিয়ে তা থেকে কিছু পান করে ফেলল। তারপর ইবনু আবু কাতাদাহ পাত্রটি নিয়ে তা থেকে পান করলেন। কাবশা বলেন, আমি তার পান করার দৃশ্য দেখছিলাম! পান করা শেষে তিনি বললেন, হে আমার ভাতিজী! তুমি আশ্চর্য হয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বলে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করলেন। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।









বুলূগুল মারাম (12)


وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي طَائِفَةِ الْمَسْجِدِ, فَزَجَرَهُ النَّاسُ, فَنَهَاهُمْ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَلَمَّا قَضَى بَوْلَهُ أَمَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ; فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (219)، ومسلم (284)، وله طرق عن أنس، وجاء أيضا من رواية بعض الصحابة غير أنس




১২। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন এসে মসজিদের এক পাশে পেশাব করে দিল। তা দেখে লোকজন তাকে ধমক দিতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। সে তার পেশাব করা শেষ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে এর উপর এক বালতি পানি ঢেলে দেয়া হল।” (মুত্তাফাকুন আলাইহ)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২১৯); মুসলিম (২৮৪); আনাস (রাঃ) হতেও এ হাদীসের একটি সূত্র বিদ্যমান। আনাস ছাড়াও অন্যান্য কতক সাহাবা (রাঃ) হতেও এরূপ বৰ্ণিত আছে।









বুলূগুল মারাম (13)


وَعَن ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ, فَأَمَّا الْمَيْتَتَانِ: فَالْجَرَادُ وَالْحُوتُ, وَأَمَّا الدَّمَانُ: فَالطِّحَالُ وَالْكَبِدُ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَفِيهِ ضَعْفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه أحمد (2/ 97)، وابن ماجه (3314)، وسنده ضعيف كما أشار إلى ذلك الحافظ. ولكنه يصح عن ابن عمر موقوفا، والموقوف له حكم الرفع كما قاله البيهقي رحمه الله




১৩। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্যরূপে ‘দুপ্রকারের মৃত প্রাণী এবং দুপ্রকার রক্তকে আমাদের (মুসলিমদের) জন্য হালাল করা হয়েছে। দুপ্রকার মৃত প্রাণী হচ্ছেঃ টিড্ডি (পঙ্গপাল) ও মাছ। এবং রক্তের দুপ্রকার হচ্ছেmdash; (হালাল প্রাণীর) কলিজা ও হৃৎপিণ্ড।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৫৬৯০); ইবনু মাযাহ (৩৩১৪); এর সনদ দুর্বল। ইবনু হাজার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু ইবনু উমার হতে মাওকুফ সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে সহীহ মন্তব্য করেছেন। কেননা তার মাওকুফ বর্ণনার ক্ষেত্রে মারফু’এর বিধান প্রযোজ্য হয়। যেমনটি ইমাম বায়হাকী বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (14)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي شَرَابِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ, ثُمَّ لِيَنْزِعْهُ, فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً, وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
وَأَبُو دَاوُدَ, وَزَادَ: «وَإِنَّهُ يَتَّقِي بِجَنَاحِهِ الَّذِي فِيهِ الدَّاءُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3320)، (5782)
سنن أبي داود (3844) وإسنادها حسن




১৪। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের ‘কারো পানীয় বস্তুর মধ্যে মাছি পড়ে তখন সে যেন তাকে তার মধ্যে ডুবিয়ে দেয়। তারপর তাকে বাইরে ফেলে দেয়। কেননা ওর এক ডানায় রোগ আর অন্য ডানায় আরোগ্য রয়েছে।”[1]



আবূ দাউদে (অতিরিক্ত শব্দ) এসেছে; ‘মাছি তার জীবাণু যুক্ত ডানাটি (প্রথমে পানীয়ের মধ্যে ডুবিয়ে) তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৩৩২০), (৫৭৮২)

[2] সুনান আবু দাউদ (৩৮৪৪), এ হাদীসের সূত্রটি সহীহ।









বুলূগুল মারাম (15)


وَعَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «مَا قُطِعَ مِنَ الْبَهِيمَةِ - وَهِيَ حَيَّةٌ - فَهُوَ مَيِّتٌ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ, وَاللَّفْظُ لَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (2858)، الترمذي (1480)، من طريق عطاء بن يسار، عن أبي واقد الليثي قال: قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، والناس يجبون أسنمة الإبل، ويقطعون أليات الغنم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فذكر الحديث




১৫। আবূ ওয়াকিদ আল-লায়সী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জীবিত কোন জন্তুর শরীরের অংশ বিশেষ কেটে নেয়ার পর তা (পশুটি) জীবিত থাকলে সেটা (কাটা অংশ) মৃত গন্য করা হবে। (অথাৎ ঐ অংশটি হারাম।) আবূ দাউদ ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন এবং শব্দ বিন্যাস তারই। (তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবূ দাউদ (২৮৫৮); তিরমিযী (১৪৮০); আতা বিন ইয়াসার সুত্রে আবূ ওয়াকি আল-লাইসী থেকে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করে দেখলেন যে, লোকেরা উটের কূঁজ এবং বকরির নিতম্বের গোশত (আহারের উদ্দেশ্যে) কেটে নিচ্ছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করেন।









বুলূগুল মারাম (16)


عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ والْفِضَّةِ، وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا، وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةِ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5426)، ومسلم (2067) عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، قال: إنهم كانوا عند حذيفة، فاستسقى، فسقاه مجوسي، فلما وضع القدح في يده، رماه به، وقال: لولا أني نهيته غير مرة ولا مرتين! -كأنه يقول: لم أفعل هذا- لكني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم، يقول: «لا تلبس الحرير ولا الديباج، ولا تشربوا» .. الحديث. واللفظ للبخاري، وعنده «ولنا في الآخرة». وهذه الجملة ليست عند مسلم




১৬। হুযাইফাহ বিন ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা দুনিয়াতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর আখিরাতে তোমাদের জন্য[1]।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৫৪২৬); মুসলিম (২০৬৭); আব্দুর রহমান বিন আবু ইয়া'লা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারা হুযাইফাহ (রাঃ) এর নিকট ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। ফলে তাকে এক অগ্নিপূজারী পান করালেন। যখন পানপাত্রটিকে হাত থেকে রাখলেন তখন তাকে ছুড়ে মারলেন এবং বললেন, এ ব্যাপারে আমাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে। তিনি যেন বলছেন, আমি একাজ করতাম না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ রেশম বস্ত্র পরিধান করবে না এবং...। হাদীসের শব্দ ইমাম বুখারী (রহঃ) এর। তার বর্ণনায় ولنا في الآخرة আর আমাদের জন্য আখিরাতে শব্দ টি রয়েছে। এই বাক্যটি মুসলিমের বর্ণনায় নেই।









বুলূগুল মারাম (17)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الَّذِي يَشْرَبُ فِي إِنَاءِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5634)، ومسلم (2065)




১৭। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে সে যেন তাঁর পেটে জাহান্নামের আগুনই ঢক ঢক করে ভরে নেয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৫৬৩৪); মুসলিম (৭, ২০৬৫)









বুলূগুল মারাম (18)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا دُبِغَ الْإِهَابُ فَقَدْ طَهُرَ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. وَعِنْدَ الْأَرْبَعَةِ: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (366)
رواه النسائي (773)، والترمذي (1728)، وابن ماجه (3609) عن ابن عباس أيضا، وهو صحيح كسابقه. «تنبيه»: وهم الحافظ رحمه الله في قوله: «وعند الأربعة» وذلك لأن أبا داود لم يروا الحديث بهذا اللفظ، وإنما لفظه كلفظ مسلم




১৮। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দাবাগাত (বিশেষ পন্থায় পাকানো) দিলে চামড়া পাক হয়ে যায়[1]। আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহতে আছেঃ “যে কোন চামড়া দাবাগত করলে তা পবিত্র হয়”।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (৩৬৬)

[2] নাসায়ী (৭৭৩); তিরমিযী (১৭২৮); ইবনু মাজাহ (৩৬০৯)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং পূর্বের হাদীসের মতো এটিও সহীহ।

বিঃ দ্রঃ হাফেজ ইবনু হাজার وعند الأربعة বলে ভুল করেছেন। কেননা ইমাম আবু দাউদ এ শব্দে হাদীস বর্ণনা করেননি। বরং আবু দাউদের শব্দ ইমাম মুসলিমের শব্দের ন্যায়।









বুলূগুল মারাম (19)


وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «دِبَاغُ جُلُودِ الْمَيْتَةِ طُهُورُهاَ». صَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وإن وهم فيه الحافظ، إذ عزو هذا اللفظ لابن حبان من رواية ابن المحبق ليس بصواب، وإنما هو لفظ حديث عائشة. وبيان ذلك بالأصل




১৯। সালামাহ বিন মুহাব্বিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, quot;মৃত পশুর চামড়া দাবাগত করা হলেই পাক হয়quot;। ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হাজার এ হাদীস বর্ণনায় ভুল করেছেন। অধিকন্তু ইবনু হিব্বানের এ শব্দকে ইবনুল মুহাব্বিক এর বর্ণনার সাথে সংযুক্ত করা সঠিক নয়। বরং এটা আয়িশাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের শব্দ।









বুলূগুল মারাম (20)


وَعَنْ مَيْمُونَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِشَاةٍ يَجُرُّونَهَا، فَقَالَ: «لَوْ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا؟» فَقَالُوا: إِنَّهَا مَيْتَةٌ، فَقَالَ: «يُطَهِّرُهَا الْمَاءُ وَالْقَرَظُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4126)، والنسائي (774 - 175)، وله ما يشهد له




২০। মাইমুনাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, একটি মৃত ছাগলের নিকট দিয়ে গমণের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন যে, লোকেরা সেটিকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি বললেন, ‘এর চামড়াটা যদি নিতে? তারা বললো, ‘এটা তো মৃত ছাগল। তিনি তাদের বললেন, ‘পানি ও বাবলার ছাল একে পবিত্র করে দিবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৪১২৬); নাসায়ী (১৭৫-৭৭৪); এ হাদীসের আরো সমর্থক হাদীস রয়েছে।