বুলূগুল মারাম
وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ - عَنْ سُتْرَةِ الْمُصَلِّي. فَقَالَ: «مِثْلُ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (500)، ووقع في «الأصل»: «ستر» بدل: «سُترة». و «مؤخرة الرحل»: هي الخشبة التي يستند إليها الراكب
২২৯. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতmdash; তিনি বলেন, ‘তাবুক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কারীর সুতরা (আড়) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বললেনঃ তা উটের পালানের পেছনের কাঠির সমপরিমাণ হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫০০
وَعَنْ سَبْرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْجُهَنِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لِيَسْتَتِرْ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ وَلَوْ بِسَهْمٍ». أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه الحاكم (1/ 252)، واللفظ الذي ساقه الحافظ لابن أبي شيبة (1/ 278)
২৩০. সাবরাহ বিন মাবাদ আল জুহনী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায় করার সময় সুতরা করে নেবে যদিও একখানা তীর দিয়ে তা করা হয়। হাকিম।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। হাকিম ১/২৫২। যে শব্দে ইবনু হাজার আসক্বালানী হাদীসটি উল্লেখ করেছেন তা মুসন্নাফ ইবনু আবূ শাইবার (১/২৭৮)
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَقْطَعُ صَلَاةَ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ - إِذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِثْلُ مُؤْخِرَةِ الرَّحْلِ - الْمَرْأَةُ, وَالْحِمَارُ, وَالْكَلْبُ الْأَسْوَدُ ... » الْحَدِيثَ. وَفِيهِ: «الْكَلْبُ الْأَسْوَدِ شَيْطَانٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (510)، وساقه الحافظ بمعناه، وإلا فلفظه عند مسلم هو: إذا قام أحدكم يصلي، فإنه يستره إذا كان بين يديه مثل مؤخرة الرحل. فإذا لم يكن بين يديه مثل مؤخرة الرحل فإنه يقطع صلاته الحمار، والمرأة والكلب الأسود». قال عبد الله بن الصامت: قلت يا أبا ذر! ما بال الكلب الأسود من الكلب الأحمر من الكلب الأصفر؟! قال يا ابن أخي! سألت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- فقال: الكلب الأسود شيطان
২৩১. আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাত আদায় করার সময় যদি উটের পালানের শেষাংশের কাঠির পরিমাণ একটা সুতরাহ দেয়া না হয় আর উক্ত মুসল্লীর সম্মুখ দিয়ে (প্রাপ্ত বয়স্কা) স্ত্রীলোক, গাধা ও কালো কুকুর অতিক্রম করলে সালাত (এর-একাগ্রতা) নষ্ট হয়ে যাবে। এটা একটা দীর্ঘ হাদীসের খণ্ডাংশ। তাতে একস্থানে আছেঃ কাল কুকুর হচ্ছে শয়তান।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫১০। হাফেজ ইবনু হাজার এখানে হাদীস বর্ণনায় অর্থগত দিককে গ্রহণ করেছেন। কেননা, হাদীসের শব্দ মুসলিমে যেভাবে রয়েছে, তা হচ্ছেঃ
إذا قام أحدكم يصلي، فإنه يستره إذا كان بين يديه مثل مؤخرة الرحل. فإذا لم يكن بين يديه مثل مؤخرة الرحل فإنه يقطع صلاته الحمار، والمرأة والكلب الأسود». قال عبد الله بن الصامت: قلت يا أبا ذر! ما بال الكلب الأسود من الكلب الأحمر من الكلب الأصفر؟! قال يا ابن أخي! سألت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- فقال: الكلب الأسود شيطان
যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়াবে তখন সে উটের পালানের শেষ অংশের লাঠির মত এক কিছু দিয়ে তার সামনে (সুতরা) আড়াল করে নেয়। তার সামনে যদি এ পরিমাণ কোন কিছুর আড়াল না থাকে তাহলে গাধা, নারী এবং কালো কুকুর তার সালাতকে কর্তন (নষ্ট) করে দিবে। আব্দুল্লাহ বিন সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ জার! লাল, হলুদ কুকুর চেয়ে কালো কুকুরের আবার কী হলো? তিনি বললেন, হে ভাতিজা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন ‘কালো কুকুর হলো শয়তান’।
وَلَهُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - نَحْوُهُ دُونَ: الْكَلْبِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (511) ولفظه: «يقطع الصلاة المرأة، والحمار، والكلب، ويقي ذلك مثل مؤخرة الرحل». وقول الحافظ: «دون الكلب» لعله وَهْم، وإلا فهذا لفظ مسلم وفيه لفظ «الكلب» أو لعل الحافظ أراد دون وصف الكلب. والله أعلم
২৩২. মুসলিম কুকুরের কথা ব্যতীত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে অনুরূপ আরো বর্ণিত হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫১১; মুসলিমের শব্দসমূহ হচ্ছে: يقطع الصلاة المرأة، والحمار، والكلب، ويقي ذلك مثل مؤخرة الرحل সালাতকে কর্তন (নষ্ট) করে দেয়- নারী, গাধা, কুকুর। আর এ হতে রক্ষা করবে ‘উটের পালানের শেষ অংশের লাঠির মত কিছুর (সুতরা) আড়াল’। دون الكلب বলাটা হয়তো ইবনু হাজারের ভুল। যেহেতু এই كلب শব্দটি মুসলিমে রয়েছে। অথবা তিনি এখানে কুকুরের গুণ বৰ্ণনা করেছেন। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
وَلِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- نَحْوُهُ, دُونَ آخِرِهِ. وَقَيَّدَ الْمَرْأَةَ بِالْحَائِضِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح مرفوعا. رواه أبو داود (703) ولفظه: «يقطع الصلاة: المرأة الحائض والكلب». وأما النسائي فرواه موقوفا ومرفوعا عن ابن عباس (2/ 64)
২৩৩. আর আবূ দাউদ ও নাসায়ীতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতেও অনুরূপই বর্ণিত। তবে তাতে উক্ত হাদীসের শেষাংশ (কুকুরের উল্লেখ) নাই এবং তাতে নারীকে ‘হায়িযা (হায়িয শুরু হয়েছে এমন বয়সের) বিশেষণের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফূ’ হিসেবে সহীহ। আবূ দাউদ ৭০৩; আবূ দাউদের শব্দসমূহ হচ্ছে: يقطع الصلاة: المرأة الحائض والكلب সালাতকে কর্তন (নষ্ট) করে দেয় হায়েযা নারী ও কুকুর। নাসায়ী (২/৬৪) ইবনু আব্বাস হতে হাদীসটিকে মারফূ’ ও মাওকুফ উভয় সূত্রেই বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَيْءٍ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ, فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلْيَدْفَعْهُ, فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ, فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (509)، ومسلم (505) وعند مسلم: فليدفع في نحره
২৩৪. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি লোকেদের জন্য সামনে সুতরাং রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫০৯। মুসলিম ৫০৫। মুসলিমে আছে- فليدفع في نحره সে তাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাধা দিবে।
وَفِي رِوَايَةٍ: فَإِنَّ مَعَهُ الْقَرِينَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهي لمسلم (506) من حديث ابن عمر، ووهم الصنعاني في «السبل» فجعلها من حديث أبي هريرة
২৩৫. ভিন্ন এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘ঐ ব্যক্তির সঙ্গে শয়তান তার সাথী রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিমে (৫০৬) ইবনু উমার হতে বৰ্ণিত। আল্লামা সনয়ানী সুবুলুস সালামে ভুলক্রমে এ হাদীসটিকে আবূ হুরাইরা হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ شَيْئًا, فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيَنْصِبْ عَصًا, فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَلْيَخُطَّ خَطًّا, ثُمَّ لَا يَضُرُّهُ مَنْ مَرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَلَمْ يُصِبْ مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ مُضْطَرِبٌ, بَلْ هُوَ حَسَنٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف؛ لاضطرابه، وجهالة بعض رواته، وممن ضعفه سفيان بن عيينة، والشافعي، والبغوي، والعراقي، وغيرهم. ورواه أحمد (2/ 249و 255و 266)، وابن ماجه (943)، وابن حبان (2361) ونفي الاضطراب من الحافظ قد يمشى، أما التحسين فلا، إذ لو سلمنا بنفي الاضطراب تبقى الجهالة، والحافظ نفسه حكم على بعض رواته بالجهالة، كما هو مذكور بالأصل
২৩৬. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে যাবে তখন যেন তার সম্মুখে কিছু স্থাপন করে, না পেলে লাঠি খাড়া করে দেয়, তাও যদি না হয় তাহলে একটা রেখা টেনে দিবে। এর ফলে সুতরার বাইরে সামনে দিয়ে কেউ গেলে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আহমাদ, ইবনু মাজাহ। ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। যিনি এটিকে ‘মুযতারিব (শব্দ বিন্যাসে ত্রুটি) বলে ধারণা করেছেন তিনি ভুল করেছেন। বরং হাদীসটি হাসান।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সনদে ইযতিরাব এবং কতক রাবীর সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে হাদীসটি যঈফ। হাদীসটিকে যারা যঈফ বলেছেন তারা হচ্ছেন: সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ, শাফিয়ী, বাগাবী, ইরাকী এবং অন্যান্য আয়েম্মাগণ। হাদীসটিকে আহমাদ (২/২৪৯, ২৫৫, ২৬৬), ইবনু মাযাহ (৯৪৩); ইবনু হিব্বান (২৩৬১) বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনু হাজার হাদীসটিকে ইযতিরাব হওয়া অস্বীকার করেছেন। তবে হাদীসটিকে সুন্দর বলা যাবে না। কেননা, যদি আমরা ইযতিরাবি না হওয়া মেনে নেই। তবুও তাতে جهالة তথা অস্পষ্টতা থেকে যায়। আর হাফিজ ইবনু হাজার নিজেই এর কতক রাবী সম্পর্কে অজ্ঞতার হুকুম দিয়েছেন।
ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর তালখীসে (২/৪৭১) বলেন, ইমাম আহমাদ ইবনু মাদীনী সহীহ বলেছেন। সূফীয়ান বিন ওয়াইনাহ হাদীসটিকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ইমাম যাহাবী মিযানুল ই’তিদাল গ্রন্থে (১/৪৭৫) ইমাম যাহাবী বলেন, হাদীসটি উযরী থেকে ইসমাঈল বিন ‘উমাইয়া এককভাবে বর্ণনা করেন এবং হাদীসটিতে ইযতিরাবি সংঘটিত হয়েছে।
তামামুল মিন্নাহ ৩০০, যয়ীফুল জামে’ ৫৬৯, ইবনু মাজাহ ৬৮৯ গ্ৰন্থত্রয়ে হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদরীবুর রাবী (১/৪২৯) গ্রন্থে ইমাম সুয়ুতী বলেন, আলী ইসমাঈলকে নিয়ে অনেক সমালোচনা করা হয়েছে।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَقْطَعُ الصَّلَاةَ شَيْءٌ, وَادْرَأْ مَا اسْتَطَعْتَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَفِي سَنَدِهِ ضَعْفٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (719) وتمامه عنده: «فإنما هو شيطان». وعلته في أحد رواته، وهو مجالد بن سعيد فإنه ضعيف، ثم هو قد اضطرب في الحديث، فمرة رفعه ومرة أوقفه. وكذا وقع في الأصلين: «وادرأ ما استطعت» وهو في «السنن» بلفظ الجمع
২৩৭. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি অসাল্লাম বলেছেনঃ কোন কিছুই সালাতকে বিনষ্ট করতে পারবে না; তবে তোমরা সাধ্যানুযায়ী প্রতিহত করতে (বাধা দিতে) থাকবে। এর সানাদ দুর্বল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবূ দাউদ ৭১৯) হাদীসের বাকী অংশ হচ্ছে: فإنما هو شيطان সে তো শয়তান। এ হাদীসের এক বরাতে ত্রুটি রয়েছে। তিনি হচ্ছেন, মুজালিদ বিন সাঈদ। সে দুর্বল। তারপরও কথা হচ্ছে যে, ঐ রাবী হাদীসে ইযতিরাব করেছে। সে কখনও হাদীসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন আবার কখনো মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তানকীহুত তাহক্বীক্ব (১/১৮৭) গ্রন্থে ইমাম যাহাবী বলেন, এ হাদীসের সনদে ইবরাহীম খুযী আছে, তিনি পরিত্যক্ত। নাইলুল আওতার (৩/১৫) গ্রন্থে ইমাম শাওকানীর উক্ত রাবীকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ফাতহুল বারীতে (২/১৯৬) গ্রন্থে ইবনে রজব উক্ত রাবীকে অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া তুহফাতুল আহওয়াযী (২/১৩৭) গ্রন্থে আব্দুর রহমান মুবারকপুরী, ইবরাহীম বিন ইয়াযিদ আলখুযীকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
وَمَعْنَاهُ: أَنْ يَجْعَلَ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1219و 1220)، ومسلم (545)
২৩৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে- আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুখতাসির বা কোমরে হাত রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।[1] শব্দ বিন্যাস মুসলিমের এবং মুখতাসির অর্থ হলো সে তার হাতকে কোমরে রাখে।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২১৯, ১২২০; মুসলিম ৫৪৫
وَفِي الْبُخَارِيِّ: عَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ ذَلِكَ فِعْلُ الْيَهُودِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح موقوفا. رواه البخاري (3458) من طريق مسروق، عن عائشة - رضي الله عنها- كانت تكره أن يجعل المصلي يده في خاصرته، وتقول: إن اليهود تفعله
২৩৯. বুখারীতে ‘আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে- ‘মুখতাসির বা কোমরে হাত রাখা অবস্থায় সালাতে দাঁড়ান হচ্ছে ইয়াহুদ জাতির কাজ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফূ’ হিসেবে সহীহ। বুখারী ৩৪৫৮ হাদীসটিকে মাসরুক সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি কোন মুসল্লীর সালাতরত অবস্থায় কোমরে হাত রাখাকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন, ইহুদীরা এরকম করে থাকে।
وَعَنْ أَنَسٍ- رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا قُدِّمَ الْعَشَاءُ فَابْدَءُوا بِهِ قَبْلَ أَنْ تُصَلُّوا الْمَغْرِبَ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (672)، ومسلم (557)، وعند مسلم «قُرِّبَ» بدل «قُدِّمَ» وعندهما «تصلوا صلاة المغرب». وزادا: ولا تعجلوا عند عشائكم
২৪০. আনাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রাতের খাবার সামনে এসে গেলে মাগরিবের সালাত আদায়ের পূর্বেই খানা শুরু করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭২; মুসলিম ৫৫৭; মুসলিমের বর্ণনায় قُدِّمَ শব্দের পরিবর্তে قُرِّبَ শব্দ রয়েছে। আর তাদের উভয়ের বর্ণনায় রয়েছে: تصلوا صلاة المغرب তোমরা মাগরিবের সালাত আদায় করবে। তাঁরা উভয়েই ولا تعجلوا عند عشائكم বাক্যাংশটি বৃদ্ধি করেছেন।
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلَا يَمْسَحِ الْحَصَى, فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
وَزَادَ أَحْمَدُ: «وَاحِدَةً أَوْ دَعْ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (945)، والنسائي (3/ 6)، والترمذي (379)، وابن ماجه (1027)، وأحمد (5/ 150و163و179) من طريق أبي الأحوص، عن أبي ذر. وقال الترمذي: «حديث حسن «. قلت: كلا. فإن أبا الأحوص «لا يعرف له حال «كما قال ابن القطان، والعجب بن الحافظ -رحمه الله- إذ أطلق القول بصحة الإسناد هنا. بينما قال في «التقريب» عن أبي الأحوص: «مقبول» يعني: إذا توبع وإلا فَلَيِّن الحديث. قلت: وفي الحديث علة أخرى، فهو ضعيف على أية حال
صحيح. رواه أحمد (5/ 163) وهو وإن كان في سنده ابن أبي ليلى وهو مُتَكَلَّم فيه من قِبَل حفظه إلا أنه حفظه، ومما يدل على ذلك الحديث التالي
২৪১. আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতে দাঁড়িয়ে কেউ যেন সামনের কঙ্কর অপসারণ না করে। কেননা, সালাত আদায়কারী ব্যক্তির সম্মুখে আল্লাহর রহমত সমাগত হয়। সহীহ সানাদ সহকারে ৫ জনে[1] আহমাদ অতিরিক্ত শব্দ বৃদ্ধি করেছেন: “একবার কর নাহলে বিরত থাকবে”।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবূ দাউদ (৯৪৫; নাসায়ী ৩/৬; তিরমিযী ৩৭৯; ইবনু মাজাহ ১০৯৭; আহমাদ ৫/১৫০, ১৬৩, ১৭৯ হাদীসটিকে আবিল আহওয়াস সূত্রে আবূ যার্র হতে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: কক্ষনো না। কেননা, আবিল আহওয়াসের অবস্থা জানা যায় না। যেমনটি বলেছেন ইবনুল কাত্তান। হাফিয (রহঃ) এর কথা আশ্চর্যজনক। তিনি এখানে সনদ সহীহ হওয়ার দিক থেকে কোন উক্তিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। তিনি তাঁর তাকরীবে কখনো আবিল আহওয়াস থেকে বর্ণিত হাদীসকে مقبول গ্রহণযোগ্য বলেছেন। অর্থাৎ যখন তার অনুগামী হাদীস পাওয়া যাবে। নচেৎ তা দুর্বল বলে বিবেচিত হবে। আমি বলি: এ হাদীসের মধ্যে আরেকটি ত্রুটি আছে। সুতরাং হাদীসটি সর্বাবস্থায় দুর্বল।
[2] আহমাদ ৫/১৬৩। হাদীসের মধ্যে ইবনু আবূ লায়লা নামক একজন রাবী আছেন, যিনি স্মরণশক্তির দিক থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এ হাদীসটি মুখস্ত রেখেছেন। পরবর্তী হাদীস এর প্রমাণ বহন করে।
তুহফাতুল আহওয়াযী (২/১৯৩) গ্রন্থে আব্দুর রহমান মুবারকপুরী বলেন, এই হাদীসের রাবী আবূল আহওয়াস সম্পর্কে মুনযীরী বলেন, এ নামে তিনি কাউকে চেনেন না ইয়াহইয়া বিন মুঈন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। ইবনু হাজার তাকে মাককূল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ((৯১৩) গ্রন্থে আবূল আহওয়াসকে আলবানী মাজহুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তামামুল মিন্নাহ (৩১৩) গ্রন্থেও আলবানী অনুরূপ বলেছেন। তবে আত-তামহীদ (২৪/১১৬) গ্রন্থে ইবনু আব্দুল বার হাদীসটিকে মারফূ’ সহীহ মাহফুয হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম সুয়ূতী আল জামিউস সগীর গ্রন্থে ও ইমাম নববী আল খুলাসা (১/৪৮৫) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে বিন বায মাজমুয়া ফাতাওয়া (১১/২৬৫) গ্রন্থে, আহমাদ শাকের শারহু সুনানু তিরমিযী (২/২/১৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
وَفِي «الصَّحِيحِ» عَنْ مُعَيْقِيبٍ نَحْوُهُ بِغَيْرِ تَعْلِيلٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1207)، ومسلم (546) ولفظه: إن كنت فاعلا فواحدة
২৪২. বুখারীর মধ্যে মুআইকিব (রাঃ) থেকে এর কারণ দর্শান ব্যতীত পূর্বানুরূপ আরো একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২০৭, মুসলিম ৫৪৬, তিরমিযী ৩৮০, নাসায়ী ১২৯২, আবূ দাউদ ৯৪৬, মুওয়াত্তা মালেক ১০২৬, আহমাদ ১৫০৮৩, ২৩০৯৮, দারেমী ১৩৮৭ সহীহ। মুসলিমের শব্দ হচ্ছে: “إن كنت فاعلا فواحدة“ যদি তুমি তা করতেই চাও তাহলে একবার করতে পারে।
عَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ الِالْتِفَاتِ فِي الصَّلَاةِ? فَقَالَ: «هُوَ اخْتِلَاسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلَاةِ الْعَبْدِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (751)
২৪৩. ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৫১, ৩২,৯১, তিরমিযী ৫৯০, নাসায়ী ১১৯৬, ১১৯৯, আবূ দাউদ ৯১০, আহমাদ ২৩৮৯১, ২৪২২৫
وَلِلتِّرْمِذِيِّ: عَنْ أَنَسٍ - وَصَحَّحَهُ: «إِيَّاكَ وَالِالْتِفَاتَ فِي الصَّلَاةِ, فَإِنَّهُ هَلَكَةٌ, فَإِنْ كَانَ فَلَا بُدَّ فَفِي التَّطَوُّعِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (589)، وللحديث تتمة طويلة، ولئن نقل الحافظ هنا عن الترمذي تصحيحه، فإن النقل عن الترمذي في ذلك مختلف باعتراف الحافظ نفسه، وبيان ذلك «بالأصل
২৪৪. তিরমিযীতে আনাস (রাঃ) হতে এ হাদীস রয়েছে এবং তিনি একে সহীহও বলেছেন। তাতে আছে- ‘সালাতে এদিক ওদিক দৃষ্টি দেয়া হতে অবশ্য বিরত থাকবে; কেননা এটা একটা সর্বনাশকর কর্ম। তবে আবশ্যক হলে তা নফল সালাতে (বৈধ)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। তিরমিযী ৫৮৯।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সুনানুত তিরমিযী (৫৮৯) গ্রন্থে হাসান গরীব হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ইমাম ইবনুল কাইয়ূম যাদুল মায়াদ (১/২৪১) গ্রন্থে হাদীসটির দু’টি দোষের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনু রজব ফাতহুল বারী (৪/৪০৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ সহীহ নয়। দারাকুতনীও অনুরূপ বলেছেন। এর সনদে ইযতিরাব সংঘঠিত হয়েছে। নাসিরুদ্দীন আলবানী মিশকাতুল মাসাবীহ (হাঃ ৯৬৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল ও মুনকাতে। তিরমিযী (হাঃ ৫৮৯) তারগীব ওয়াত তারহীব ২৯, তামামুল মিন্নাহ গ্ৰন্থত্ৰয়েও হাদীসটিকে দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিন বায তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৯০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আলী বিন জাদয়ান সে হাদীস বিষয়ে দুর্বল। আবার এর সনদে আরেক জন রাবী আব্দুল্লাহ বিন মুসান্না আল আনসারী। তিনি অধিক ভুল বর্ণনাকারী হিসেবে চিহ্নিত।
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ, فَلَا يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ, وَلَكِنْ عَنْ شِمَالِهِ تَحْتَ قَدَمِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ: أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1214)، ومسلم (551)
২৪৫. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন তো সে তার রবের সাথে নিবিড় আলাপে মশগুল থাকে। কাজেই সে যেন তার সামনে বা ভানে থুথু না ফেলে; তবে (প্রয়োজনে) বাঁ দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে।[1] ভিন্ন এক বর্ণনায় রয়েছে অথবা তার পায়ের নিচে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২১৪; মুসলিম ৫৫১
[2] বুখারী ২৪১, ৪০৫, ৪১২, ৪১৩, ৪১৭, ৫৩১, ৫৩২, ৪২২, ১২:১৪, মুসলিম ৪৯৩ নাসায়ী ৩০৮, ৭২৮, আবূ দাউদ ৪৬০, ইবনু মাজাহ ৭৬২, ৭৬২, ১০:২৪, আহমাদ ১১৬৫১, ১২৩৯৮, ১২৫৪৭, দারেমী ১৩৯৬।
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ قِرَامٌ لِعَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - سَتَرَتْ بِهِ جَانِبَ بَيْتِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «أَمِيطِي عَنَّا قِرَامَكِ هَذَا, فَإِنَّهُ لَا تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ لِي فِي صَلَاتِي». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (374) و «القرام» بكسر القاف وتخفيف الراء: ستر رقيق من صوف ذو ألوان و «أميطي»: أزيلي وزْنًا ومعنى
২৪৬. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের এক দিকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সামনে থেকে তোমার এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত আদায়ের সময় এর ছবিগুলো আমার সামনে ভেসে ওঠে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৭৪; হাদীসে لقرام অর্থ পশমের তৈরি পাতলা রঙিন কাপড়।
وَاتَّفَقَا عَلَى حَدِيثِهَا فِي قِصَّةِ أَنْبِجَانِيَّةِ أَبِي جَهْمٍ, وَفِيهِ: فَإِنَّهَا أَلْهَتْنِي عَنْ صَلَاتِي
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (373)، ومسلم (556) ولفظه: عن عائشة -رضي الله عنها- قالت: صلى النبي -صلى الله عليه وسلم- في خميصة ذات أعلام، فنظر إلى أعلامها نظرة، فلما انصرف قال: «اذهبوا بخميصتي هذه إلى أبي جهم، وائتوني بأنبجانية أبي جهم، فإنها ألهتني عن صلاتي» و «الخميصة»: كساء مربع من صوف. و «الأنبجانية»: كساء يتخذ من صوف، وله خمل، ولا علم له
২৪৭. বুখারী, মুসলিম ঐকমত্যভাবে আবূ জাহামের আম্বেজানিয়া চাদরের ঘটনায় আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আছেmdash; ‘পর্দাখানির চিত্র (ছবি)-গুলো আমাকে সালাত হতে অমনযোগী বা উদাসীন করে দিচ্ছিল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৭৩, ৭৫২, ৫৮১৭; মুসলিম ৫৫৬। নাসায়ী ৭৭১, আবূ দাউদ ৯১৪, ৪০৫২, মুসলিম ৩৫৫০, আহমাদ ২৩৫৬৭, ২৩৬৭০, ২৪৯১৭, মুওয়াত্তা মালেক ২২০, ২২১। মুসলিমের শব্দসমুহ হচ্ছে: عن عائشة -رضي الله عنها- قالت: صلى النبي -صلى الله عليه وسلم- في خميصة ذات أعلام، فنظر إلى أعلامها نظرة، فلما انصرف قال: اذهبوا بخميصتي هذه إلى أبي جهم، وائتوني بأنبجانية أبي جهم، فإنها ألهتني عن صلاتي আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা নকশাবিশিষ্ট কাপড়ে সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে তার দৃষ্টি সেই নকশার উপর পড়ল। সালাত শেষে তিনি বললেন, তুমি আমার এ কাপড় আবূ জাহমের নিকট নিয়ে যাও এবং তার থেকে আম্বেজানিয়া কাপড় নিয়ে আসো। কেননা এ নকশাদার কাপড় আমার মনোযোগ নষ্ট করে দিচ্ছিল।
الخميصة হচ্ছে একপ্রকার চতুষ্কোণবিশিষ্ট পরিধেয় বস্ত্ৰ। আর الأنبجانية হচ্ছে: পশম থেকে তৈরি এক প্রকার কাপড়। এ কাপড়ের ঝালর রয়েছে; তবে কোন নকশা নেই।
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَيَنْتَهِيَنَّ قَوْمٌ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي الصَّلَاةِ أَوْ لَا تَرْجِعَ إِلَيْهِمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (428) وفي «أ»: «أقوام» وهو الموافق لما في الصحيح
২৪৮. জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের অবস্থায় লোকেরা যেন তাদের দৃষ্টিকে আকাশের দিকে দেয়া থেকে বিরত থাকে নতুবা তাদের চক্ষু (দৃষ্টিশক্তি) তাদের পানে ফিরে না আসতেও পারে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪২৮, আবূ দাউদ ৯১২, ইবনু মাজাহ ১০৪৫, আহমাদ ২০৩:২৬, ২০৩৬২, ২০৪৫৭, দারেমী। ১৩০১, ১৩০৬।