হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (701)


وَعَنْهَا قَالَتْ: إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لَيُدْخِلُ عَلَيَّ رَأْسَهُ - وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ - فَأُرَجِّلُهُ, وَكَانَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةٍ, إِذَا كَانَ مُعْتَكِفًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2029)، ومسلم (297) (7) مع مراعاة أن قول الحافظ: «واللفظ للبخاري» لا قيمة له، وإن كان لا بد منه فصوابه أن يقول: «واللفظ لمسلم» إذ اللفظ المذكور هو لفظ مسلم حرفا حرفا. وهو لفظ البخاري أيضا عدا قولها: «علي» ولا أظن أن مثل هذا الخلاف مدعاة للتفريق بين اللفظين




৭০১. তাঁর [‘আয়িশা (রাঃ)] থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না। -শব্দ বুখারীর।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪৮, ২৫০, ২৬১, ২০২৯, মুসলিম ২১৬, ২১৯, ২২১, ৩২১, তিরমিযী ১৩২, ১৭৫৫, নাসায়ী ২৩১, ২২৩, আবূ দাউদ ৭৭, ২৪২, ২৪৩, ইবনু মাজাহ ৩৭৬, ৬৩৩, আহমাদ ২৩৪৯৪, ২৩৫৬১, ২২৬৪০, মুওয়াত্তা মালেক ১০০, ১২৮, দারেমী ৭৪৮, ১০৩৩, ১০৩৭









বুলূগুল মারাম (702)


وَعَنْهَا قَالَتْ: السُّنَّةُ عَلَى الْمُعْتَكِفِ أَنْ لَا يَعُودَ مَرِيضًا, وَلَا يَشْهَدَ جِنَازَةً, وَلَا يَمَسَّ امْرَأَةً, وَلَا يُبَاشِرَهَا, وَلَا يَخْرُجَ لِحَاجَةٍ, إِلَّا لِمَا لَا بُدَّ لَهُ مِنْهُ, وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا بِصَوْمٍ، وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا فِي مَسْجِدٍ جَامِعٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَلَا بَأْسَ بِرِجَالِهِ, إِلَّا أَنَّ الرَّاجِحَ وَقْفُ آخِرِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (2473) وأعل بما لا يقدح كما تجده في الأصل




৭০২. তাঁর [আয়িশা (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইতিকাফকারীর জন্য সুন্নাত বা শরীয়ী ব্যবস্থা হচ্ছে-তিনি কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাবেন না, জানাযায় শামিল হবেন না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না ও তাকে জড়াবে না, প্রয়োজন থাকলেও (মাসজিদ হতে) বের হবেন না। তবে যা না হলে মোটেই চলবে না। (যেমন পায়খানা ও পেশাব করার জন্যে); এবং সওম ব্যতীত ইতিকাফ হয় না এবং জুমুআহ মাসজিদ ব্যতীত অন্যত্র ইতিকাফ হয় না- আবূ দাউদ। এর রাবীদের মধ্যে কোন ত্রুটি নেই, তবে এর শেষাংশ মাওকুফ হওয়াটাই সমিচীন (অর্থাৎ সওম ব্যতীত ইতিকাফ নেই হতে শেষাংশ রাবীর নিজস্ব কথা)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৪৭৩









বুলূগুল মারাম (703)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَيْسَ عَلَى الْمُعْتَكِفِ صِيَامٌ إِلَّا أَنْ يَجْعَلَهُ عَلَى نَفْسِهِ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَالْحَاكِمُ, وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُ أَيْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني (2/ 199 / 3)، والحاكم (1/ 439)




৭০৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইতিকাফকারীর উপর সওম পালন জরুরী (ফরয) নয়, তবে সে যদি ইচ্ছা করে রাখতে পারে। -এটারও মাওকূফ হওয়া অধিক সঙ্গত (ইবনু ‘আব্বাসের নিজস্ব কথা)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী ২/১৯৯/৩, হাকিম ১/৪৩৯, মাওকূফ। শাইখ আলবানী যঈফুল জামি’ (৪৮৯৬), সিলসিলা যাঈফা (৪৩৩৭৮) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী আদদিরাইয়াহ ১/২৮৮ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মাওকুফ হওয়াই সঠিক। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা ৪/৩১৯ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসির আর রমলী এককভাবে বর্ণনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (704)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ, فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ, فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضبطها بعضهم بضم الهمزة، والمعنى: أظن. وضبطها آخرون بالفتح، والمعنى: أعلم
صحيح. رواه البخاري (2015)، ومسلم (1165)




৭০৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমযানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল কাদর দেখানো হয়। (এ শুনে) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে।[1] (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] কেউ কেউ হামযায় পেশ দিয়ে পড়েছেন তাহলে অর্থ হবে أظن তথা আমি ধারনা করছি। আবার অনেকেই হামযায় যাবর দিয়ে পড়েছেন, তাহলে অর্থ হবে, আমি জানি।

[2] বুখারী ২০১৫, ৬৯৯১, মুসলিম ১১৬৫, আহমাদ ৪৪৮৫, ৪৫৩৩, ৪৬৫৭, মুওয়াত্তা মালেক ৭০৬।









বুলূগুল মারাম (705)


وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ: «لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُ
وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي تَعْيِينِهَا عَلَى أَرْبَعِينَ قَوْلًا أَوْرَدْتُهَا فِي فَتْحِ الْبَارِي

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1386) مرفوعا، وله ما يشهد له كما هو مذكور بالأصل




৭০৫. মুআবীয়াহ বিন আবূ সুফইয়ান (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাইলাতুল কাদর সম্বন্ধে বলেছেন, তা ২৭শে রমযানের রাত। আবূ দাউদ এটি বর্ণনা করে মাওকুফ হবার ব্যাপারেই অভিমত দিয়েছেন।



লাইলাতুল কদরের দিনক্ষণ নির্ণয়ের ব্যাপারে ৪০ প্রকার মতভেদপূর্ণ কওল (কথা) রয়েছে। যার উল্লেখ আমি ফাতহুল বারীতে (বুখারীর শরাহয়) করেছি।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৩৮৬।









বুলূগুল মারাম (706)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَيَّ لَيْلَةٍ لَيْلَةُ الْقَدْرِ, مَا أَقُولُ فِيهَا? قَالَ: «قُولِي: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, غَيْرَ أَبِي دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي في «عمل اليوم والليلة» (872)، والترمذي (3513)، وابن ماجه (3850)، وأحمد (6/ 171)، والحاكم (1/ 530) وقال الترمذي: حسن صحيح




৭০৬. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি কদরের রাত পেয়ে যাই তবে তাতে কী বলবো? তিনি বলেন, তুমি বলব- আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুব্বুন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফাফু ‘আন্নী)। “হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও” ndash;তিরমিযী ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৩৫১৩, ইবনু মাজাহ ৩৮৫০।









বুলূগুল মারাম (707)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ, وَمَسْجِدِي هَذَا, وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1197)، ومسلم (2/ 975 - 976/ 415)




৭০৭. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- (সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে সফর কর না) তিনটি মাসজিদ ব্যতীত: ১. মাসজিদুল হারাম, ২. মাসজিদুল আকসা এবং ৩. আমার মাসজিদ[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৮৬, ১১৮৯, ১৮৬৪, মুসলিম ৮২৭, নাসায়ী ৫৬৬, ৫৬৭, ইবনু মাজাহ ১২৪৯, ১৪১০, ১৭২১, আহমাদ ১০৬৩৯, ১০৯৫৫, ১১০১৭, দারেমী ১৭৫৩









বুলূগুল মারাম (708)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا, وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1773)، ومسلم (1349)، وأصح ما قيل في معنى «المبرور» هو: الذي لا يخالطه إثم. قلت: وفي الحديث دلالة على استحباب تكرار العمرة خلافا لمن قال بكراهية ذلك. والله أعلم




৭০৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ‘উমরাহর পর আর এক ‘উমরাহ উভয়ের মধ্যবতী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা। আর জান্নাতই হলো হাজে মাবরূরের প্রতিদান।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১২৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, ২৮৮৮, আহমাদ ৭২০৭, ৯৬২৫, ৯৬৩২, মুওয়াত্তা মালেক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫

মাবরূর শব্দের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হচ্ছে, যে হজ্বের মধ্যে কোন প্রকার গুনাহর সংমিশ্রণ ঘটেনি। উক্ত হাদীসে বারংবার উমরা করা মুস্তাহাব প্রমাণিত হচ্ছে, আর যারা এটাকে অপছন্দনীয় বলে মনে করেন তাদের বিরোধিতা করছে উক্ত হাদীস। আল্লাহই ভাল জানেন।









বুলূগুল মারাম (709)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ? قَالَ: «نَعَمْ, عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ، لَا قِتَالَ فِيهِ: الْحَجُّ, وَالْعُمْرَةُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَابْنُ مَاجَهْ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ
وَأَصْلُهُ فِي الصَّحِيحِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (6/ 165)، وابن ماجه (2901)، وقول الحافظ أن اللفظ لابن ماجه لا فائدة فيه إذ هو عند أحمد بنفس اللفظ، نعم. هو عند أحمد في مواطن أخر بألفاظ أخر

البخاري رقم (1520)، عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها؛ أنها قالت: يا رسول الله! نرى الجهاد أفضل العمل، أفلا نجاهد؟ قال: «لا. ولكن أفضل الجهاد حج مبرور». وفي رواية أخرى (1761): «لكن أحسن الجهاد وأجمله: الحج، حج مبرور». وله ألفاظ أخر عنده وعند أحمد وغيرهما، وقد فصلت ذلك في الأصل




৭০৯. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেন, হাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরয, তবে তাতে অস্ত্ৰবাজি নাই। তা হচ্ছে হজ্জ ও উমরা। -শব্দ বিন্যাস ইবনু মাজাহর, সহীহ সানাদে। এর মূল রয়েছে বুখারীতে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৭৭৫, নাসায়ী ২৬২৮, ২৯০১

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্, (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেন, না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজে মাবরূর। অপর একটি রিওয়ায়াতে আছে, সবোত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জিহাদ হচ্ছে হাজ্জ্ব, হাজে মাবরূর।









বুলূগুল মারাম (710)


وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَعْرَابِيٌّ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَخْبِرْنِي عَنِ الْعُمْرَةِ, أَوَاجِبَةٌ هِيَ? فَقَالَ: «لَا، وَأَنْ تَعْتَمِرَ [ص: 206] خَيْرٌ لَكَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَالرَّاجِحُ وَقْفُهُ

وَأَخْرَجَهُ ابْنُ عَدِيٍّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعا وموقوفا. رواه أحمد (3/ 316)، والترمذي (931)

ضعيف جدا. رواه ابن عدي (7/ 2507) وفي سنده متروك




৭১০. জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে জানান যে ‘উমরাহ পালন আমার উপর কি ওয়াজিব। (আবশ্যক)? তিনি বললেন-না, তবে যদি তুমি কর তা তোমার জন্য কল্যাণের কাজ হবে। -এর মাওকুফ হওয়াটা বেশি যুক্তিযুক্ত। ইবনু ‘আদী অন্য একটি দুর্বল সানাদে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৯৩১, আহমাদ ১৩৯৮৮, ১৪৪৩১

ইবনু হাযম মুহাল্লা (৭/৩৬) গ্রন্থে বলেছেন। এর সানাদে হাজ্জাজ বিন আরত্বআ রয়েছে, তার দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হয় না। ইমাম বাইহাক্বী তাঁর সুনান আল সুগরা ২/১৪৩ গ্রন্থে বলেন, মাওকুফ হিসেবে এটি মাহফুয, আর এটি মারফু হিসেবে দুর্বল সানাদে বর্ণিত। ইমাম যাহাবী আল মুহাযযিব ৪/১৭২৯ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইয়াহইয়া দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী যদিও তাকে সহীহ রিজালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ২/৮৭ গ্রন্থে বলেন, ইমাম আহমাদ ও ইমাম তিরমিযীর সানাদেও হাজ্জাজ বিন আরত্বআ রয়েছে, আর সে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত।









বুলূগুল মারাম (711)


عَنْ جَابِرٍ مَرْفُوعًا: «الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ فَرِيضَتَانِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن عدي في «الكامل» (4/ 1468) وضعفه




৭১১. জাবির (রাঃ) হতে মারফূরূপে, তাতে আছে, “হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয় ফরয কাজ”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু আদী ফিল কামিল ৪/১৪৬৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (৪/৩৫০) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন লাহিয়া রয়েছেন যার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায় না। ইমাম যাইলায়ী তাঁর নাসবুর রায়াহ (৩/১৪৭) গ্রন্থে যায়দ বিন সাবিতের অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করে বলেন, এর সানাদে ইসমাঈল বিন মুসলিম আল মাক্কী রয়েছেন যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল বলেছেন। ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/৩০১) গ্রন্থেও উক্ত রাবীকে অত্যন্ত দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন।









বুলূগুল মারাম (712)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, مَا السَّبِيلُ قَالَ: «الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَالرَّاجِحُ إِرْسَالُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني (2/ 216)، والحاكم (1/ 442) من طريق قتادة، عن أنس مرفوعا، وهذا وهم، إذا الصواب كما قال ابن عبد الهادي في «التنقيح» نقلا عن «الإرواء» (4/ 161): «الصواب عن قتادة، عن الحسن، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا، وأما رفعه عن أنس فهو وهم




৭১২. আনাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হল: হে আল্লাহর রসূল! সাবীল কি জিনিস? তিনি বললেন, পাথেয় ও বাহন। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন। এর সানাদের মুরসাল হওয়াই যুক্তিযুক্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর (৩/৮৩৩) বলেছেন তার সানাদ সহীহ।

আলবানী ইরওয়াউল গালীল (৯৮৮) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। বিন বায তাঁর মাজমুআ ফাতাওয়া ১৬/৩৮৬ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। ইমাম আবূ দাউদ তাঁর মারাসীলে ২৩৪ নম্বরে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (713)


وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ أَيْضًا, وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الترمذي (813) في سنده متروك، وقد روي الحديث عن جماعة آخرين من الصحابة رضي الله عنهم، وكلها واهية لا تصلح للاعتبار، وبيان ذلك في الأصل




৭১৩. তিরমিযীও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন-কিন্তু তাঁর সানাদ যঈফ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ২৯৯৮, ইবনু মাজাহ ২৮৯৬

শাইখ আলবানী যঈফ তিরমিযী ২৯৯৮ গ্রন্থে বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্বল, তবে العج والثج কথাটি অন্য হাদীস দ্বারা সুসাব্যস্ত। ইমাম যায়লায়ী নাসবুর রায়াহ ৩/৯ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে হুসাইন ইবনুল মাখারিক হচ্ছে দুর্বল।









বুলূগুল মারাম (714)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - لَقِيَ رَكْبًا بِالرَّوْحَاءِ فَقَالَ: «مَنِ الْقَوْمُ?» قَالُوا: الْمُسْلِمُونَ. فَقَالُوا: مَنْ أَنْتَ? قَالَ: «رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم» فَرَفَعَتْ إِلَيْهِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا. فَقَالَتْ: أَلِهَذَا حَجٌّ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1336)، والروحاء: مكان على ستة وثلاثين ميلا من المدينة




৭১৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রাওহা[1] নামক স্থানে একদল যাত্রীর সাক্ষাত হলে তাদেরকে বললেন, তোমরা কে? তারা বললো, (আমরা) মুসলিম। তারপর তারা জিজ্ঞেস করল, আপনি কে? তিনি বললেন-(আমি) আল্লাহর রসূল! এ সময় জনৈকা মহিলা তার বাচ্চা তুলে ধরে বললো, এর কি হাজ্জ আছে? তিনি বললেন, হাঁ, তবে তার নেকী তুমি পাবে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] রাওহা’ মদীনা থেকে ৬৩ মাইল দূরে অবস্থিত একটি জায়গার নাম।

[2] মুসলিম ১৩৩৬, নাসায়ী ২৬৪৫, ২৬৪৬, ২৬৪৭, আবূ দাউদ ১৭৩৬, ১৯০১, আহমাদ ২১৭৭, ২৬০৫, মুওয়াত্তা মালেক ১৬৩১









বুলূগুল মারাম (715)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم. فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ مَنْ خَثْعَمَ، فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الْآخَرِ. فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا, لَا يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ, أَفَأَحُجُّ عَنْهُ? قَالَ: «نَعَمْ»، وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1513)، ومسلم (1334)




৭১৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, ফযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাশআম গোত্রের জনৈকা মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফরযকৃত হাজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হাজ্জ আদায় করবো? তিনি বললেনঃ হাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হাজের সময়ের। শব্দ বুখারীর।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৫১৩, ১৮৫৪, ১৮৫৫, ৪৩৯৯, মুসলিম ১২৩৪, ১২৩৫, তিরমিযী ৯৩৮, নাসায়ী ২৬৩৫, ২৬৪১, আবূ দাউদ ১৮০৯, ইবনু মাজাহ ২৯০৭, আহমাদ ১৮১৫, ১৮২৫, মুওয়াত্তা মালেক ৮০৬, দারেমী ১৮৩১, ১৮৩২









বুলূগুল মারাম (716)


وَعَنْهُ: أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ, فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ, أَفَأَحُجُّ عَنْهَا? قَالَ: «نَعَمْ, حُجِّي عَنْهَا, أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ, أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ اقْضُوا اللَّهَ, فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1852)




৭১৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার আম্মা হাজের মান্নত করেছিলেন তবে তিনি হাজ্জ আদায় না করেই ইন্তিকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ হতে হাজ্জ করতে পারি? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার পক্ষ হতে তুমি হাজ্জ আদায় করা। তুমি এ ব্যাপারে কি মনে কর যদি তোমার আম্মার উপর ঋণ থাকত তা হলে কি তুমি তা আদায় করতে না? সুতরাং আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা আল্লাহর হকই সবচেয়ে বেশী আদায়যোগ্য।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৮৫২, ৬৬৯৯, ৭৩১৫, নাসায়ী ২৬৩৩, আহমাদ ২১৪১, ২৫১৪, দারেমী ২২৩২।









বুলূগুল মারাম (717)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا صَبِيٍّ حَجَّ, ثُمَّ بَلَغَ الْحِنْثَ, فَعَلَيْهِ [أَنْ يَحُجَّ] حَجَّةً أُخْرَى, وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ, ثُمَّ أُعْتِقَ, فَعَلَيْهِ [أَنْ يَحُجَّ] حَجَّةً أُخْرَى». رَوَاهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ, وَالْبَيْهَقِيُّ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ, إِلَّا أَنَّهُ اخْتُلِفَ فِي رَفْعِهِ, وَالْمَحْفُوظُ أَنَّهُ مَوْقُوفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح مرفوعا -كما ذهب إلى ذلك الحافظ نفسه في «التلخيص» (2/ 220) - وموقوفا. رواه البيهقي (4/ 325) وزاد: «وأيما أعرابي حج ثم هاجر فعليه حجة أخرى». ولم أجد الحديث في «المطبوع» من المصنف




৭১৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে হাজ্জ করল। অতঃপর বয়োঃপ্রাপ্ত হলে (সামর্থবান থাকলে) অন্য আরো একটি হাজ্জ তাকে করতে হবে। কোন দাস তার দাসত্বকালে হাজ্জ করলে তাকে স্বাধীন হবার পর আবার একটি হাজ্জ করতে হবে। ইবনু আবূ শাইবাহ, বায়হাক্বী, এর সবগুলো বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, তবে তার মারফূ হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং মাওকুফ হওয়াটাই নিরাপদ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফু হিসেবে হাদীসটি সহীহ।

আত্-তালখীসুল হাবীর ২/২২০, বাইহাকী ৪/৩২৫। ইমাম বায়হাক্বীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, যে কোন আরবী ব্যক্তি হাজ্জ করার পর হিজরত করে তাহলে তাকে আবার হাজ্জ করতে হবে।









বুলূগুল মারাম (718)


وَعَنْهُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَخْطُبُ يَقُولُ: «لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ, وَلَا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ»، فَقَامَ رَجُلٌ, فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, إِنَّ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةً, وَإِنِّي اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا, قَالَ: «انْطَلِقْ, فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1862)، ومسلم (1341)، وانظر الدليل الأول من رسالتي: «أوضح البيان في حكم سفر النسوان




৭১৮। তাঁর [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর খুৎবাহতে বলতে শুনেছি: কোন পুরুষ কোন স্ত্রীলোকের একাকী সঙ্গী হবে না, তবে তার সঙ্গে যদি তার মাহরাম (স্বামী ও যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ এমন লোক) থাকে। আর কোন মহিলা যেন তার মাহরাম ব্যতীত একাকী সফরে না যায়। এটি শুনে এক গুন লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার সহধর্মিনী হাজ্জের জন্য বেরিয়ে গেছে আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য লিপিবদ্ধ (নির্বাচিত) হয়েছি। তিনি পুণঃ) বললেন-যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হাজ্জ পালন কর। -শব্দ মুসলিমের।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৮৬২, ২০০৬, ২০৬১, ৫২৪৩, মুসলিম ১৩৪১, ইবনু মাজাহ ২৯০০, আহমাদ ১৯২৫, ২২২১









বুলূগুল মারাম (719)


وَعَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ, قَالَ: «مَنْ شُبْرُمَةُ?» قَالَ: أَخٌ [لِي] , أَوْ قَرِيبٌ لِي, قَالَ: «حَجَجْتَ عَنْ نَفْسِكَ» قَالَ: لَا. قَالَ: «حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ, ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالرَّاجِحُ عِنْدَ أَحْمَدَ وَقْفُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (1811)، وابن ماجه (2903)، وابن حبان (962)، وهذا الحديث اختلف فيه كثيرا، لكن أعله أئمة كبار كأحمد، والطحاوي، والدارقطني، وابن دقيق العيد، وغيرهم، فالقول إن شاء الله قولهم




৭১৯। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: “শুবরুমার পক্ষ থেকে আমি তোমার কাছে হাযির হয়েছি”। রাসূলুল্লাহ (রঃ) জিজ্ঞেস করেন: শুবরুমা কে? সে বললো, আমার ভাই, অথবা বললো, আমার এক নিকটাত্মীয়। তিনি বলেন, তুমি কি কখনও নিজের পক্ষ হতে হজ্জ করেছো? সে বললো, না। তিনি বলেন: তাহলে তোমার নিজের পক্ষ থেকে আগে হজ্জ করো, অতঃপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ্জ করো। আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। আর আহমাদের নিকট হাদীসটির মাককুফ হওয়াটাই অধিক সাব্যস্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৮১১, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ৯৬২।

উক্ত হাদীসের দুর্বলতা নিয়ে অনেক মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু বড় বড় আয়েম্মায়ে কিরামগণ যেমন আহমাদ,তাহাবী, দারাকুতনী, ইবনু দাকীকুল ঈদ এবং অন্যান্যরা উক্ত হাদীসটিকে দূর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর এটাই নির্ভরযোগ্য কথা।

ইমাম শাওকানী আল ফাতহুর রব্বানী ৮/৪১৪ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে মাওকূফ বলে, তবে এটি ত্রুটি নয়, কেননা, আবদাহ বিন সুলাইমান মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি বিশ্বস্ত বৰ্ণনাকারী। যদিও হাদীসটিকে মাওকুফের দোষে দুষ্ট বলা হয়েছে তথাপি আবদাহ বিন সুলাইমান কর্তৃক হাদীসটি মারফূ’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অধিকন্তু তিনি সিকাহ রাবীদের অন্তর্ভুক্ত। শাইখ আলবানী সহীহ আবূ দাউদ ১৮১১, সহীহ ইবনু মাজাহ ২৩৬৪, ইরাওয়াউল গালীল ৯৯৪ গ্ৰন্থত্রয়ে একে সহীহ বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ শারহুল মুমতি ৭/৩১ গ্রন্থে বলেন, اختلف العلماء فى رفعه ووقفه واختلفوا فى تصحيحه وتضعيفه অর্থাৎ বিদ্বানগণ এ হাদীসের মারফূ’-মাওকূফ এবং সহীহ-যঈফ হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন।









বুলূগুল মারাম (720)


وَعَنْهُ قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ»، فَقَامَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَقَالَ: أَفِي كُلِّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ: «لَوْ قُلْتُهَا لَوَجَبَتْ, الْحَجُّ مَرَّةٌ, فَمَا زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, غَيْرَ التِّرْمِذِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1721)، والنسائي (5/ 111)، وابن ماجه (2886)، وأحمد (3303) و (3510) والحديث ساقه الحافظ بمعناه. وزاد أحمد فر رواية: «ولو وجبت لم تسمعوا، ولم تطيعوا «. وهي عند النسائي بلفظ:» ثم إذا لا تسمعوني ولا تطيعون




৭২০। ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খেতাব করলেন। (খুতবাহ দিলেন): আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের উপর হাজ্জ ফরয করেছেন। (একথা শুনে) আকরা বিন হাবিস দাঁড়িয়ে গেল আর বলল, প্রতিবছরই কি (ফরয) হে আল্লাহর রসূল!। তিনি বললেন-আমি তা বললেই তোমাদের উপর ওয়াজিব (ফরয) হয়ে যেত। হাজ্জ একবারই ফরয। আর যা বাড়তি করবে সেটা নফল হিসেবে পরিগণিত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৭২১, নাসায়ী ২৬২০, ইবনু মাজাহ ২৮৮৬, আহমাদ ২৩০৪, ২৬২৭, ২৫০০, দারেমী ১৭৮৮ ইমাম আহমাদের বর্ণনায় আরো রয়েছে, যদি তা ফরয করা হয়, তোমরা শুনবেন এবং আনুগত্যও করবেন। নাসায়ীর বর্ণনায় রয়েছে, অতঃপর তোমরা আমার কথা শুনবেন এবং আমার আনুগত্যও করবেনা।