বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ ثَمَنِ السِّنَّوْرِ وَالْكَلْبِ فَقَالَ: زَجَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ ذَلِكَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ: إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1569)
رواه النسائي (7/ 190 و 309) وقال في الموطن الأول: «ليس بصحيح» وقال في الثاني: منكر
৭৮৯. আবূ যুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির (রাঃ)-কে বিড়াল ও কুকুরের মূল্য (এর বৈধাবৈধ) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণে ধমক দিয়েছেন। --নাসায়ীতে রয়েছে শিকারী কুকুরের মূল্য ব্যতীত। অর্থাৎ শিকারী কুকুরের মূল্য বৈধ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৬৯, তিরমিযী ১২৭৯, নাসায়ী ৪২৯৫, ৪৬৬৮, আবূ দাউদ ৩৪৭৯, ৩৪৮০, ইবনু মাজাহ ২১৬১, আহমাদ ১৪০০২, ১৪৭২৮
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ, فَقَالَتْ: كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعٍ أُوَاقٍ, فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ, فَأَعِينِينِي. فَقُلْتُ: إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ وَيَكُونَ وَلَاؤُكِ لِي فَعَلْتُ, فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا. فَقَالَتْ لَهُمْ; فَأَبَوْا عَلَيْهَا, فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِهِمْ, وَرَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - جَالِسٌ. فَقَالَتْ: إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ, فَسَمِعَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم -. فَقَالَ: «خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلَاءَ, فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ, ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي النَّاسِ [خَطِيبًا] , فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ. ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ, مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ - عز وجل - مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ, وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ, قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ, وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ, وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
وَعِنْدَ مُسْلِمٍ فَقَالَ: اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلَاءَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2168)، ومسلم (1504)
৭৯০. ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ (রাঃ) আমার কাছে এসে বলল, আমি আমার মালিক পক্ষের সাথে নয় উকিয়া দেয়ার শর্তে মুকাতাবা[1] করেছি- প্রতি বছর যা হতে এক উকিয়া করে দিতে হবে। আপনি (এ ব্যাপারে)। আমাকে সাহায্য করুন। আমি বললাম, যদি তোমার মালিক পক্ষ পছন্দ করে যে, আমি তাদের একবারেই তা পরিশোধ করব এবং তোমার ওয়ালা-এর অধিকার আমার হবে, তবে আমি তা করব। তখন বারীরাহ (রাঃ) তার মালিকদের নিকট গিয়ে তা বলল। তারা তাতে অস্বীকৃতি জানাল। বারীরাহ (রাঃ) তাদের নিকট হতে (আমার কাছে) এল। আর তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে বলল, আমি (আপনার) সে কথা তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের জন্য ওয়ালার অধিকার সংরক্ষণ ছাড়া রায়ী হয়নি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা সবিস্তারে জানালেন। তিনি বললেন, তুমি তাকে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও। কেননা, ওয়ালা এর হক তারই, যে আযাদ করে। ‘আয়িশা (রাঃ) তাই করলেন। এরপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, লোকদের কী হলো যে, তারা আল্লাহর বিধান বহির্ভূত শর্তারোপ করে। আল্লাহর বিধানে যে শর্তের উল্লেখ নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, একশত শর্ত করলেও না। আল্লাহর ফায়সালাই সঠিক, আল্লাহর শর্তই সুদৃঢ়। ওয়ালার হাক্ব তো তারই, যে মুক্ত করে। শব্দ বিন্যাস বুখারীর। মুসলিমে আছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, তাকে কিনে নাও, তাদের জন্য অলা-র শর্ত কর।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৫৬, ১৪৯৩, ২১৫৫, ২৫৩৬, ২৫৬১, মুসলিম ১৫০৪, তিরমিযী ১২৫৬, আবূ দাউদ ৩৯২৯, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৫১৯।
নিজের দাস-দাসীকে কোন কিছুর বিনিময়ে আযাদ করার চুক্তিকে মুকাতাবা বলে।
[2] ‘অলা’ অর্থ মুক্তির পর দাস দাসীর সঙ্গে মুক্তিদাতার আত্মীয়তা সুলভ সম্পর্ক ও মিরাস লাভের অধিকার।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: نَهَى عُمَرُ عَنْ بَيْعِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ، فَقَالَ: لَا تُبَاعُ, وَلَا تُوهَبُ, وَلَا تُورَثُ, لِيَسْتَمْتِعْ بِهَا مَا بَدَا لَهُ، فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ. رَوَاهُ مَالِكٌ, وَالْبَيْهَقِيُّ, وَقَالَ: رَفَعَهُ بَعْضُ الرُّوَاةِ, فَوَهِمَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح موقوفًا. رواه مالك في «الموطأ» (2/ 776 / 6)، والبيهقي في «الكبرى» (10/ 342 - 343) وقال البيهقي: «وغلط فيه بعض الرواة» فرفعه إلى النبي -صلى الله عليه وسلم-، وهو وَهْم لا يحل ذِكره
৭৯১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার (রাঃ) জননী দাসী বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, তিনি বলেছেন, বিক্রি করা যাবে না, হেবা (দান) করা যাবে না, ওয়ারিস হিসেবেও কেউ তাকে অধিগ্রহণ করতে পারবে না। তার মালিক যতদিন চাইবে ততদিন তার দ্বারা ফায়দা উঠাবে। মালিকের মৃত্যুর পর সে স্বাধীন হয়ে যাবে। mdash;বাইহাকী বলেছেন- এ হাদীসের কিছু বর্ণনাকারী, অহম বা অনিশ্চয়তার ভিত্তিতে ‘মারফূ বৰ্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৫১৭, আবূ দাউদ ৩৯৫৪।
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا نَبِيعُ سَرَارِيَنَا, أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ, وَالنَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - حَيٌّ, لَا نَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي في «الكبرى» (3/ 199)، وابن ماجه (2517)، والدارقطني (4/ 135 / 37) وابن حبان (1215) قلت: وفي رواية أخرى لحديث جابر قال: بِعنا أمهات الأولاد على عهد رسول الله -صلى الله عليه وسلم-، وأبي بكر، فلما كان عمر نهانا، فانتهينا
৭৯২. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমরা জননী দাসী বিক্রি করে দিতাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন, এ বিষয়টিকে আমরা দোষ হিসেবে দেখতাম না। -ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী কুবরা ৩য় খণ্ড ১৯৯ পৃষ্ঠা, ইবনু মাজাহ ২৫১৭, দারাকুতনী ৪র্থ খণ্ড ১৩৫, ১৩৬ পৃষ্ঠা, ইবনু হিব্বান ১২১৫।
অপর একটি রিওয়ায়াতে রয়েছে, জাবির ছেড়ে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) এর যুগে উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রি করতাম। যখন উমার (রাঃ) খলিফা হলেন, তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন। অতঃপর আমরা এ থেকে বিরত হলাম।
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: نَهَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ: وَعَنْ بَيْعِ ضِرَابِ الْجَمَلِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1565)
صحيح مسلم (1565) (35) وتمامها: «وعن بيع الماء والأرض لتحرث، فعن ذلك نهى النبي -صلى الله عليه وسلم
৭৯৩। জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্ধৃত্ত পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
(মুসলিমের) অন্য বর্ণনায় আছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নরকে মাদীর উপর (গর্ভসঞ্চারের উদ্দেশ্যে যৌন মিলন ঘটানোর ব্যবস্থা বিক্রি করতে) উঠাতে নিষেধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৬৫, নাসায়ী ৪৬৬০, ৪৬৭০, ইবনু মাজাহ ২৪৭৭, আহমাদ ১৪২২৯, ১৪২৩৪, ১৪৪২৮।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2284) وعَسْب: بفتح فسكون. وهو ثمن ماء الفحل، وقيل: أُجرة الجماع. قاله الحافظ
৭৯৪. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুকে পাল দেয়া বাবদ বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৮৪, তিরমিযী ১২৭৩, নাসায়ী ৪৬৭১, আবূ দাউদ ৩৪২৯, আহমাদ ৪৬১৬।
وَعَنْهُ; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ حَبَلِ الْحَبَلَةِ, وَكَانَ بَيْعًا يَتَبَايَعُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ: كَانَ الرَّجُلُ يَبْتَاعُ الْجَزُورَ إِلَى أَنْ تُنْتَجَ النَّاقَةُ, ثُمَّ تُنْتَجُ الَّتِي فِي بَطْنِهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2143)، ومسلم (1514) قلت: ولمسلم صدر الحديث مثل لفظ البخاري، وأما باقيه فلفظه عنده: كان أهل الجاهلية يتبايعون لحم الجَزور إلى حبَل الحبَلة. وحبَل الحبَلة أن تُنْتَج الناقة، ثم تحمل التي نُتِجَت. فنهاهم رسول الله -صلى الله عليه وسلم- عن ذلك
৭৯৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন গৰ্ভস্থত বাচ্চার গর্ভের প্রসবের মেয়াদের উপর বিক্রি করতে। এটি জাহিলিয়াতের যুগে প্রচলিত এক ধরনের বিক্রি ব্যবস্থা। কেউ এ শর্তে উটনী ক্রয় করত যে, এই উটনীটি প্রসব করবে। পরে ঐ শাবক। তার গৰ্ভ প্রসব করার পর তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। mdash;শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২১৪৩, ২২৫৬, ৩৮৪৩, মুসলিম ১৫১৪, তিরমিযী ১২২৯, নাসায়ী ৪৬২৩, ৪৪২৪, ৪৬২৫, আবূ দাউদ ৩৩৮০, ইবনু মাজাহ ২১৯৭, আহমাদ ৩১৬, ৪৪৭৭, ৪৪৫৬৮।
وَعَنْهُ- أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ, وَعَنْ هِبَتِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6756)، ومسلم (1506)
৭৯৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘অলা-এর বিক্রয় ও হেব্বা (দান)-কে নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫৩৫, ৬৭৫৬, মুসলিম ১৫০৬ তিরমিযী ১২৩৬, ২১২৬, নাসায়ী ৪৬৫৭, ৪৬৫৮, আবূ দাউদ ২৯১৯, ইবনু মাজাহ ২৭৪৭, ২৭৪৮, আহমাদ ৪৫৪৭, ৫৪৭২, মুওয়াত্তা মালেক ১৫২২, দারেমী ২৫৭২, ৩১৫৫, ৩১৫৬।
অলা বলা হয় উত্তরাধিকারের অধিকারকে। আযাদকৃত দাস দাসীর মৃত্যুর পর তার ফেলে যাওয়া সম্পদের হকদার হয় সেই আযাদকারী অথবা তার ওয়ারিসগণ। পক্ষ থেকে আযাদকারী ব্যক্তি অর্জন করে থাকে। জাহেলিয়াতের যুগে আযাদলাভকারীর মৃত্যুর পূর্বেই দাস দাসীদের বিক্রি অথবা দান করে দিত।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ, وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1513)
৭৯৭. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন, কেনাবেচায় পাথর নিক্ষেপ প্ৰথা আর প্রতারণামূলক যাবতীয় ব্যবসায়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২৩০, নাসায়ী ৪৫১৮, আবূ দাউদ ৩৩৭৮, ইবনু মাজাহ ২১৯৪, আহমাদ ৭৩৬৩, দারেমী ২৫৫৪, ২৫৬৩।
وَعَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنِ اشْتَرَى طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَكْتَالَهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1528)
৭৯৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু ক্রয় করলো, সে যেন তা না মেপে বিক্রি না করে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫২৮, আহমাদ ৮২৩৫, ৮৩৮৩
وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ
وَلِأَبِي دَاوُدَ: «مَنْ بَاعَ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ فَلَهُ أَوَكَسُهُمَا, أَوْ الرِّبَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (2/ 432 و 475 و 503)، والنسائي (7/ 295 - 296)، والترمذي (1231)، وابن حبان (1109 موارد) عن طريق محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة، به. وقال الترمذي: حديث حسن صحيح
رواه أبو داود (3460)
৭৯৯. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই বিক্রয়ের মধ্যে দুটি বিক্রয় সাব্যস্ত করাকে নিষিদ্ধ করেছেন। -তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।
আবূ দাউদে আছে- যে ব্যক্তি একই বিক্রয়ের মধ্যে একাধিক বিক্রয় করতে চায় তার জন্য বিক্রয়টি কম-বেশী হবেmdash;যা সুদ বলে গণ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২৩১, আবূ দাউদ ৩৪৬১, আহমাদ ৯৩০১, ২৭২৪৫, নাসায়ী ৪৬৩২।
وَعَنْ عَمْرِوِ بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ سَلَفٌ وَبَيْعٌ وَلَا شَرْطَانِ فِي بَيْعٍ, وَلَا رِبْحُ مَا لَمْ يُضْمَنْ, وَلَا بَيْعُ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ, وَالْحَاكِمُ
وَأَخْرَجَهُ فِي «عُلُومِ الْحَدِيثِ» مِنْ رِوَايَةِ أَبِي حَنِيفَةَ, عَنْ عَمْرٍو الْمَذْكُورِ بِلَفْظِ
نَهَى عَنْ بَيْعٍ وَشَرْطٍ» وَمِنْ هَذَا الْوَجْهِ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي «الْأَوْسَطِ» وَهُوَ غَرِيبٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (3504)، والنسائي (7/ 288)، والترمذي (1234)، وابن ماجه (2188)، وأحمد (2/ 174 و 179 و 205) والحاكم (2/ 17) قوله: «سلف وبيع» قال ابن الأثير في «النهاية» (2/ 390): «هو مثل أن يقول: بعتك هذا العبد بألف على أن تسلفني ألفًا في متاع، أو على أن تقرضني ألفًا؛ لأنه إنما يُقرضه ليُحابيه في الثمن، فيدخل في حد الجهالة؛ ولأن كل قرض جر منفعة فهو رِبا؛ ولأن في العقد شرطًا لا يصح». قوله: «ولا شرطان في بيع» قال ابن الأثير (2/ 459): «هو كقولك: بعتك هذا الثوب نقدًا بدينار، ونسيئة بدينارين، وهو كالبيعتين في بيعة». قوله: «ولا ربح ما لم يضمن»: قال ابن الأثير (2/ 182): «هو أن يبيعه سلعة قد اشتراها ولم يكن قبضها بربح، فلا يصح البيع، ولا يحل الربح؛ لأنها في ضمان البائع الأول، وليست من ضمان الثاني، فربحها وخسارتها للأول». قوله: «وبيع ما ليس عندك»: قال الخطابي في «المعالم»: «يريد بيع العين دون بيع الصفة، ألا ترى أنه أجاز السلَم إلى الآجال، وهو بيع ما ليس عند البائع في الحال؟، وإنما نهى عن بيع ما ليس عند البائع من قبل الغرر، وذلك مثل أن يبيع عبد الآبق، أو جمله الشارد
৮০০. ‘আমর বিন শুআইব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘সালাফ ও বিক্রয় বৈধ নয়। ‘একই বিক্রয়ে দুটি শর্ত বৈধ নয়। ‘যাতে কোন জিম্মাদারী নেই তাতে কোন লাভ নেই। যা তোমার দখলে নেই তা বিক্রয়যোগ্যও নয়। -তিরমিযী, ইবনু খুযাইমাহ ও হাকিম সহীহ বলেছেন।[1]
ইমাম হাকিম উলূমুল হাদীস গ্রন্থে উপরোক্ত সাহাবী থেকেই ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর একটি বর্ণন উদ্ধৃত করেন, তাতে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ শর্তারোপ করে বিক্রি করা নিষেধ করেছেন। ইমাম তাবারানীও তাঁর আওসাত গ্রন্থে একই সানাদে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যা গরীব।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫০৪, তিরমিযী ১২৩৪, নাসায়ী ৪৬১১, ইবনু মাজাহ ২১৮৮, আহমাদ ৬৫৯১, দারেমী ২৫৬০, হাকিম, ২য় খণ্ড ১৭।
‘সালাফ ও বিক্রয়’ অর্থ: ক্রেতা-বিক্রেতাকে ঋণ হিসেবে অর্থ দেবে এ শর্তে যে তার নিকটে বিক্রেতা পণ্যের মূল্য কম নেবে।
[2] ইমাম হাকিম তাঁর লিখিত উলুমিল হাদীস গ্রন্থে ১২৮দৃষ্ঠায়, ইমাম ত্বাব্বারানী তাঁর আল ওয়াসাত গ্রন্থে, যেমনটি রয়েছে মাজমাউল বাহরাইন (১৯৭৩) আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব আয যরীর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আযযুহালী থেকে, তিনি আবদুল ওয়ারিস বিন সাঈদ থেকে, তিনি বলেন, আমি মাক্কায় এসে সেখানে আবূ হানীফা, ইবনু আবী লাইলা, ইবনু শুবরুমাকে পেলাম। আমি আবূ হানীফাকে জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি শর্তারোপ করে কোন কিছু বিক্রি করে, তার সম্পর্কে আপনার কি অভিমত। তিনি বললেন, বিক্রি ও শর্ত উভয়ই বাতিল। এরপর আবূ লাইলার নিকট এসে একই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, বিক্রি বৈধ, কিন্তু শর্ত বাতিল। এরপর ইবনু শুবরুমার নিকট অনুরূপ জিজ্ঞেস করলে, তিনি উত্তর দিলেন, বিক্রি ও শর্ত উভয়টি বৈধ। সুবহানাল্লাহ। ইরাকের তিনজন ফকীহের মধ্যে একটি মাসআলাতেই মতানৈক্য। এরপর আমি ইমাম আবূ হানীফার নিকট এসে তাদের কথা বললে, তিনি বললেন, তারা কি বলেছে তা আমি জানিনা। এই বলে তিনি উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন, তা শুনে আমি বললাম, এর সানাদ অত্যন্ত দুর্বল। আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব হচ্ছে মাতরুক। আবূ হানীফা সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী যে মন্তব্য করেছেন তা হচ্ছে, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ।
وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعِ الْعُرْبَانِ. رَوَاهُ مَالِكٌ, قَالَ: بَلَغَنِي عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, بِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه مالك في «الموطأ» (2/ 609 / 1) عن الثقة عنده، عن عمرو به. ورواه أبو داود وابن ماجه من طريق مالك قال: بلغني عن عمرو بن شعيب، به. قلت: وسبب ضعفه جهالة الواسطة بين مالك وعمرو بن شعيب. والعُرْبان ويقال: عَرَبُون وعُرْبُون قال ابن الأثير في «النهاية»: قيل: «سمي بذلك؛ لأن فيه إعرابًا لعقد البيع، أي: إصلاحًا وإزالة فساد، لئلا يملكه غيره باشترائه». وقد فسر الإمام مالك في «الموطأ» فقال: «وذلك فيما نرى -والله أعلم- أن يشتري الرجل العبد أو الوليدة، أو يَتَكَارى الدابة، ثم يقول للذي اشترى منه أو تَكَارى منه: أعطيك دينارًا أو درهمًا أو أكثر من ذلك أو أقل على أني إن أخذت السلعة أو ركبت ما تكاريت منك فالذي أعطيتك هو من ثمن السلعة أو من كراء الدابة، وإن تركت ابتياع السلعة أو كراء الدابة فما أعطيتك، فهو لك باطل بغير شيء
৮০১. আমার বিন শুআইবের সূত্রে উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (দুঃ) ‘উরবান* নামক ক্ৰয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী ইমাম মালিক; তিনি বলেন, হাদীসটি ‘আমর বিন শুআইব এর সূত্রে পৌছেছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুওয়াত্তা মালেক ২য় খণ্ড ৬০৯। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা ৫/৩৪২ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আসেম বিন আবদুল আযীয আল শাজাঈ রয়েছে যার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আর হাবীব বিন আবূ হাবীব হচ্ছে দুর্বল, আবদুল্লাহ বিন আমের ও ইবনু লাহীআহ এর দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না। তাহযীবুল কামাল ৪/১১৬ গ্রন্থে আবূ হাতিম ও ইমাম নাসায়ী হাবীব বিন আবূ হাবীবকে মাতরূক আখ্যা দিয়েছেন। আর ইমাম আবূ দাউদ তাকে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/২৮ গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসে একজন রাবী আছেন যাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্য একটি বর্ণনায় নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি দুর্বল। তাছাড়া এর আরো অনেক সানাদ রয়েছে যেগুলো সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাত ২৭৯৩, যঈফ আবূ দাউদ ৩৫০২ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীনও বুলুগুল মারামের শরাহ ৩/৫৬০ গ্রন্থে হাদীসটিকে বিশুদ্ধ নয় বলেছেন।
* ‘উরবানের অর্থ : বিক্রেতাকে দেয়া অফেরত যোগ্য বায়না।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: ابْتَعْتُ زَيْتًا فِي السُّوقِ, فَلَمَّا اسْتَوْجَبْتُهُ لَقِيَنِي رَجُلٌ فَأَعْطَانِي بِهِ رِبْحًا حَسَنًا، فَأَرَدْتُ أَنْ أَضْرِبَ عَلَى يَدِ الرَّجُلِ، فَأَخَذَ رَجُلٌ مِنْ خَلْفِي بِذِرَاعِي، فَالْتَفَتُّ, فَإِذَا هُوَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ, فَقَالَ: لَا تَبِعْهُ حَيْثُ ابْتَعْتَهُ حَتَّى تَحُوزَهُ إِلَى رَحْلِكَ; فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى أَنْ تُبَاعَ السِّلَعُ حَيْثُ تُبْتَاعُ, حَتَّى يَحُوزَهَا التُّجَّارُ إِلَى رِحَالِهِمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (5/ 191)، وأبو داود (3499)، وابن حبان (1120 موارد)، والحاكم (2/ 40)
৮০২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি বাজারে জয়তুনের তেল ক্রয় করলাম। ক্রয় পাকাপাকি হবার পর একজন লোক আমার কাছে এসে আমাকে তাতে একটা ভাল লাভ দিতে চাইলো। আমিও তার হাতে হাত মেরে বিক্রয় পাকাপাকি করতে চাইলাম। হঠাৎ করে কোন লোক পেছন থেকে আমার হাত ধরে নিল। আমি পেছনে চেয়ে দেখলাম।mdash; তিনি যায়দ বিন সাবেত (রাঃ)। তিনি বললেন, যেখানে ক্রয় করবেন ঐ স্থানে বিক্রয় করবেন না-যতক্ষণ না আপনার স্থানে নিয়ে না যান। অবশ্য রসূলুল্লাহ (১) ক্রয় করার স্থানে পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন-যতক্ষণ না তা ক্রেতা তার ডেরায় বা স্থানে নিয়ে না যায়। -শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের। ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৪৯৯, ইবনু হিব্বান ১১২০, হাকিম, ২য় খণ্ড ৪০পৃষ্ঠা। আহমাদ ৩৯৭, ৪৬২৫, ৪৭০২, ৫২১৩, ৫২৮২।
وَعَنْهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنِّي أَبِيعُ بِالْبَقِيعِ, فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ, وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ, آخُذُ هَذَا مِنْ هَذِهِ وَأُعْطِي هَذَهِ مِنْ هَذِا? فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا بَأْسَ أَنْ تَأْخُذَهَا بِسِعْرِ يَوْمِهَا مَا لَمْ تَتَفَرَّقَا وَبَيْنَكُمَا شَيْءٌ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعًا. رواه أحمد (2/ 33 و 83 - 84 و 139)، وأبو داود (3354 و 3355)، والنسائي (7/ 81 - 83)، والترمذي (1242)، وابن ماجه (2262)، والحاكم (2/ 44)، من طريق سِماك بن حرب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر، به. قلت: وعِلَّته سِماك بن حرب، فهو كما قال الحافظ في «التقريب»: صدوق، وروايته عن عكرمة خاصة مضطربة، وقد تغيّر بأخرة، فكان ربما يلقن. ولذلك قال الترمذي: «هذا حديث لا نعرفه مرفوعًا، إلا من حديث سماك بن حرب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر. وروى داود بن أبي هند هذا الحديث عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر موقوفًا». وقال الحافظ في «التلخيص» (3/ 26): «روى البيهقي من طريق أبي داود الطيالسي قال: سئل شعبة عن حديث سماك هذا؟ فقال شعبة: سمعت أيوب، عن نافع، عن ابن عمر، ولم يرفعه، وحدثنا قتادة، عن سعيد بن المسيب، عن ابن عمر، ولم يرفعه. وحدثنا يحيى بن أبي إسحاق، عن سالم، عن ابن عمر، ولم يرفعه. ورفعه لنا سماك، وأنا أفرقه
৮০৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অবশ্য আমি ‘বাকী (নামক স্থানে) উট বিক্রয় করে থাকি; দীনারের বিনিময়ে বিক্রয়ের কথা বলে দিরহাম নিয়ে থাকি- আর দিরহামের বিনিময়ের কথা বলে দীনার নিয়ে থাকি। এটার পরিবর্তে এগুলো আর এগুলোর পরিবর্তে এটা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ দিনের বাজার দরে নিলে তাতে দোষ নেই। তাহলে যেন একে অপর থেকে আলাদা হয়ে যাবার পূর্বেই তোমাদের মধ্যের (লেন-দেনের) আর কিছু বাকী না থাকে। mdash; হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৩৫৪, তিরমিযী ১২৪২, নাসায়ী ৪৫৮২, ৪৫৮৩, ৪৫৮৯, ইবনু মাজাহ ২২৬২, আহমাদ ৫৫৩০, ৬২০৩, দারেমী ২৫৮১।
শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদ ৩৩৫৪, ইরওয়াউল গালীল ১৩৫৯ গ্রন্থে যঈফ বলেছেন। যঈফ নাসায়ী ৪৫৯৬ গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল তবে মাওকুফ হিসেবে সহীহ। ইমাম বাইহাকী সুনান আল কুবরা ৫/২৮৪ গ্রন্থে বলেন, সাম্মাক বিন হারব একাই সাঈদ বিন যুবাইর থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ শাকের মুসনাদ আহমাদ ৭/২৬৪, ৯/১৬৭ গ্রন্থে এর সানাদকে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْهُ قَالَ: نَهَى - صلى الله عليه وسلم - عَنِ النَّجْشِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2142)، ومسلم (1516) والنجْش: الزيادة في ثمن السلعة ممن لا يريد شرائها؛ ليغرّ بذلك غيره
৮০৪. ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজশ বা ধোঁকা দিয়ে দাম বাড়ানোর কাজকে নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২১৪২, নাসাঈ ৪৪৯৭, ৪৫০৫, ইবনু মাজাহ ২১৭৩, আহমাদ ৬৪১৫, মালিক ১৩৯২।
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ الْمُحَاقَلَةِ, وَالْمُزَابَنَةِ, وَالْمُخَابَرَةِ, وَعَنْ الثُّنْيَا, إِلَّا أَنْ تُعْلَمَ - رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا اِبْنَ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3405)، والنسائي (7/ 37 - 38)، والترمذي (1290)، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح
৮০৫. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালাহ (ওজন করা গমের বিনিময়ে জমির কোন শস্য বিক্রয় করা) মুযাবানাহ (গাছে লাগানো ফলকে শুকনো ফলের বিনিময়ে বিক্রয় করা); মুখাবারাহ (অর্থাৎ জমির অনির্দিষ্ট কিছু অংশ ভাড়া দেয়া) এবং সুনইয়াই (কোন বস্তুর সওদার সমষ্টি থেকে কিছু অংশ পৃথকীকরণকে) নিষিদ্ধ করেছেন- তবে তা নিশ্চিতভাবে জানা থাকলে দোষ নেই। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৪০৪, ৩৪০৬, বুখারী ২৩৮১, মুসলিম ১৫৩৬, তিরমিযী ১২৯০, নাসায়ী ৩৯২০, ৪৫২৩, ৪৫২৪, ইবনু মাজাহ ২২৬৬, আহমাদ ১৩৯৪৮, ১৪৪২৭, ১৪৭৮২।
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنِ الْمُحَاقَلَةِ, وَالْمُخَاضَرَةِ, وَالْمُلَامَسَةِ, وَالْمُنَابَذَةِ, وَالْمُزَابَنَةِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2207) المُخَاضَرة: أي بيع الثمار والحبوب قبل أن يَبْدُو صلاحها
৮০৬. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালাহ; মুখাযারাহ (ব্যবহাররোপযোগী হয়নি এমন কাঁচা ফল বিক্রয় করা), মুলামাসাহ (বিক্রয়ের কাপড় না দেখেই হাত দিয়ে ছুয়ে বিক্রয় পাকা করা), মুনাবাযাহ (পণ্যদ্রব্য যেমন কাপড়কে ক্রেতা বিক্রেতা একে অপরের উপর নিক্ষেপ দ্বারা বিক্রয় পাকা করা) ও মুযাবানাহ (অর্থাৎ গাছে ফল থাকা অবস্থায় তা শুকনো ফলের বিনিময়ে বিক্রি করা)-এর বেচা-কেনা নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২০৭৷ المُخَاضَرة শস্যদানা এবং ফলফলাদি উপযোগী হওয়ার পূর্বেই বিক্রি করা।
وَعَنْ طَاوُسٍ, عَنِ اِبْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَلَقَّوْا الرُّكْبَانَ, وَلَا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ». قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: مَا قَوْلُهُ: «وَلَا يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ?» قَالَ: لَا يَكُونُ لَهُ سِمْسَارًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2158)، ومسلم (1521)
৮০৭. ত্বাউস থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পণ্যবাহী কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে সস্তায় পণ্য খরিদের উদ্দেশে) সাক্ষাৎ করবে না এবং শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে। রাবী তাউস (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্রয় না করে, তাঁর এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, তার হয়ে যেন সে প্রতারণামূলক দালালী না করে। আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, শহরে লোক গ্ৰাম্য লোকের (ক্রয়-বিক্রয়ে) যেন দালালী না করে। mdash;শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২১৬৪, ২২৭৪, মুসলিম ১৫২১, নাসায়ী ৪৫০০, আবূ দাউদ ৩৪৩৯, ইবনু মাজাহ ২১১৭, আহমাদ ৩৪৭২।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَلَقَّوا الْجَلَبَ، فَمَنْ تُلُقِّيَ فَاشْتُرِيَ مِنْهُ, فَإِذَا أَتَى سَيِّدُهُ السُّوقَ فَهُوَ بِالْخِيَارِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1519) والجلب: هو ما يجلب للبيع و «سيده «هو مالك المجلوب، ومعناه إذا جاء صاحب المتاع إلى السوق، وعرف السعر، فله الخيار في الاسترداد
৮০৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পণ্য আমদানীকারীদের সাথে পথে গিয়ে ক্রয় করবে না; এভাবে ক্রয় করলে বিক্রেতা মোকামে পৌছে ঐ ক্রয় বাতিল করার অধিকারী হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫১৯, তিরমিযী ১২২১, নাসায়ী ৪৫০১, আবূ দাউদ ৩৪৩৭, ইবনু মাজাহ ২১৭৮, আহমাদ ৭৭৬৬, ৮৯৬৯, দারেমী ২৫৬৬।