বুলূগুল মারাম
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا, نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْتَاعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ: وَكَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاحِهَا? قَالَ: «حَتَّى تَذْهَبَ عَاهَتُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2194)، ومسلم (3/ 1165 / رقم 1534)
৮৪৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের ফল ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন।
অন্য বর্ণনায় আছে- সেলাহ (পুষ্ট) হবার অর্থ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলতেন, ‘ফলের দুৰ্যোগকাল উত্তীর্ণ হওয়া।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এখানে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
বুখারী ১৪৮৬, ২১৭১, ২১৭৩, ২১৮৪, ২১৮৫, ২২০৫, মুসলিম ১৫৩৪, ১৫৩৮, ১৫৩৯, ১৫৪২, তিরমিযী ১২২৬, নাসায়ী ৩১২১, ৪৫১৯, ৪৫২০, আবূ দাউদ ৩৩৬১, ৩৩৬৭, ইবনু মাজাহ ২২১৪, ২২৬৭, আহমাদ ৪৪৭৬, ৪৫১১, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৩, দারেমী ২৫৫৫।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى تُزْهَى. قِيلَ: وَمَا زَهْوُهَا? قَالَ: «تَحْمَارُّ وَتَصْفَارُّ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1488)، ومسلم (1555)، وفي اللفظ الذي ساقه الحافظ، وتخصيصه بالبخاري نظر
৮৫০. আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্য ফলে পরিপক্কতা আসার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ‘পরিপক্কতার অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলেছেন- ফলের রং যেন লালচে বা হলুদ হয়ে ওঠে। -শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৮৮, ২১৯৫, ২১৯৭, ২১৯৯, মুসলিম ১৫৫৫, তিরমিযী ১২২৮, নাসায়ী ৪৫২৬, ইবনু মাজাহ ৩৩৭১, ইবনু মাজাহ ২২১৭, আহমাদ ১১৭২৮, ১২২৭, মুওয়াত্তা মালিক ১৩০৪।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ حَتَّى يَسْوَدَّ, وَعَنْ بَيْعِ الْحَبِّ حَتَّى يَشْتَدَّ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3371)، والترمذي (1228)، وابن ماجه (2217)، وأحمد (3/ 221 و 250)، وابن حبان (4972)، والحاكم (2/ 19) وقال الحاكم: «صحيح على شرط مسلم» وهو كما قال
৮৫১. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের ক্ষেত্রে কালচে রং না ধরা পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে এবং শস্য দৃঢ় পুষ্ট হবার পূর্বে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। -ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৮৮, ২১৯৭, ২১৯৯, ২২০৮, মুসলিম ১৩৫, আবূ দাউদ ৩৩৭১, তিরমিযী ১২২৮, নাসায়ী ৪৫২৬, ইবনু মাজাহ ২২১৭ আহমাদ ১২২২৭, ১২৯০১, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০৫।
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَوْ بِعْتَ مِنْ أَخِيكَ ثَمَرًا فَأَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ, فَلَا يَحِلُّ لَكَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا. بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَمَرَ بِوَضْعِ الْجَوَائِحِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1554) (14)
مسلم (3/ 1191) الجائحة: الآفة تصيب الثمار فتتلفها
৮৫২. জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যদি তুমি তোমার কোন (মুসলিম) ভাই-এর নিকটে ফল বিক্রয় কর তারপর তা কোন দুর্যোগে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তার নিকট থেকে কিছু (মূল্য বাবদ) গ্রহণ করা তোমার জন্য বৈধ হবে না। কারণ তোমার মুসলিম ভাইয়ের মাল (মূল্য) তুমি কিসের বিনিময়ে নেবে?
অন্য বর্ণনায় আছে- অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্যোগে ক্ষতির পূরণ করতে বলেছেন। অর্থাৎ এ অবস্থায় ক্ষতির পরিমাণমত মূল্য না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] الجائحة প্রাকৃতিক দুযোগে ফলফলাদি নষ্ট হয়ে যাওয়া। বুখারী ৪৮৩২, ৪৯৮৭, ৫৯৮৭, মুসলিম ২৫৫৪, আহমাদ ৭৮৭২, ৮১৬৭, ৮৭৫২।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: مَنِ ابْتَاعَ نَخْلًا بَعْدَ أَنْ تُؤَبَّرَ, فَثَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ الَّذِي بَاعَهَا, إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2379)، ومسلم (1543) (80) وزادا: ومن ابتاع عبدًا وله مال فماله للذي باعه إلا أن يشترط المبتاع والتأبير: هو التشقيق والتلقيح
৮৫৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনmdash; যে ব্যক্তি খেজুর গাছ তাবীর (ফুলের পরাগায়ণ) করার পর গাছ বিক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার। কিন্তু ক্রেতা শর্ত করলে তা তারই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২০৩, ২২০৪, ২২০৬, ২৭১৬, ২৩৭৯, ২৭১৬ মুসলিম ১৫৪৩, তিরমিযী ১২৪৪, নাসায়ী ৪৬৩৫, ৪৬৩৬, আবূ দাউদ ৩৪৩৩, ইবনু মাজাহ ২২১০, ২২১১, আহমাদ ৫২৮৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৩০২, ২৫৬১, দারেমী ২৫৬১।
বুখারী এবং মুসলিমে আরো রয়েছে, আর যদি কেউ গোলাম বিক্রয় করে এবং তার সম্পদ থাকে। তবে সে সম্পদ যে বিক্রি করল তার। কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে তা হবে তার।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - الْمَدِينَةَ, وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثِّمَارِ السَّنَةَ وَالسَّنَتَيْنِ, فَقَالَ: مَنْ أَسْلَفَ فِي تَمْرٍ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ, وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ, إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِلْبُخَارِيِّ: مَنْ أَسْلَفَ فِي شَيْءٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2239)، ومسلم (1604)، واللفظ لمسلم
৮৫৪. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনায় আগমন করেন তখন লোকেরা এক বা দু বছরের বাকীতে খেজুর সলম (অগ্রিম বিক্রি পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা করত। এতে তিনি বললেন, যে ব্যক্তি খেজুরে সলম করতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে এবং নির্দিষ্ট ওজনে সলম করে। বুখারীতে ‘ফলের স্থলে ‘যে কোন বস্তুর কথা উল্লেখের রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৩৯, ২২৪১, ২২৫৩, মুসলিম ১৬০৪, তিরমিযী ১৩১১, ৪৬১৬, আবূ দাউদ ৩৪৬৩, ইবনু মাজাহ ২২৮০, আহমাদ ১৮৭১, ১৯৩৮, ২৫৪৪, দারেমী ২৫৮৩।
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَا: كُنَّا نُصِيبُ الْمَغَانِمَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَكَانَ يَأْتِينَا أَنْبَاطٌ مِنْ أَنْبَاطِ الشَّامِ, فَنُسْلِفُهُمْ فِي الْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالزَّبِيبِ.
وَفِي رِوَايَةٍ: وَالزَّيْتِ - إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى. قِيلَ: أَكَانَ لَهُمْ زَرْعٌ? قَالَا: مَا كُنَّا نَسْأَلُهُمْ عَنْ ذَلِكَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (4/ 434 / رقم 2254 و 2255) وهذا السياق بلفظ الزيت، وأما رواية: «الزبيب» فهي: (4/ 431)
৮৫৫. ‘আবদুর রহমান বিন আবযা ও ‘আবদুল্লাহ বিন আবী আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে (জিহাদে) আমরা মালে গনীমত লাভ করতাম, আমাদের কাছে সিরিয়া হতে কৃষকগণ আসলে আমরা তাদের সঙ্গে গম, যব ও যায়তুনে সলম করতাম।
অন্য একটি বর্ণনায় আছে- এবং তেলে- নির্দিষ্ট মেয়াদে। তিনি [মুহাম্মাদ ইবনু আবূ মুজালিদ (রহ.)] বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাদের নিকট সে সময় ফসল মাওজুদ থাকত, কি থাকত না? তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করিনি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৫৪, ২২৫৫, নাসায়ী ৪৬১৪, ৪৬১৫, আবূ দাউদ ৩৪৬৪, ৩৪,৬৬, ইবনু মাজাহ ২২৮২, আহমাদ ১৮৬৩৩, ১৮৯০৬।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ [ص: 252] يُرِيدُ أَدَاءَهَا, أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ, وَمَنْ أَخَذَهَا (1) يُرِيدُ إِتْلَافَهَا, أَتْلَفَهُ اللَّهُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2387)
৮৫৬. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মাল (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশে আল্লাহ তাআলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা তাকে ধবংস করেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৩৮৭, ইবনু মাজাহ ১৪১১, আহমাদ ৮৫১৬, ৫১৩৫।
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ فُلَانًا قَدِمَ لَهُ بَزٌّ مِنَ الشَّامِ, فَلَوْ بَعَثْتَ إِلَيْهِ, فَأَخَذْتَ مِنْهُ ثَوْبَيْنِ بِنَسِيئَةٍ إِلَى مَيْسَرَةٍ? فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ, فَامْتَنَعَ. أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ، وَالْبَيْهَقِيُّ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (2/ 23 - 24)، ولفظه: عن عائشة، قالت: كان على رسول الله -صلى الله عليه وسلم- بُرْدان قَطَرِيان غليظان خشنان. فقلت: يا رسول الله إن ثوبيك خشنان غليظان، وإنك ترشح فيهما يثقلان عليك، وإن فلانًا قدم له بَز من الشام، فلو بعثت إليه فأخذت منه ثوبين بنسيئة إلى ميسرة، فأرسل إليه رسول الله -صلى الله عليه وسلم-. فقال: قد علمت ما يريد محمد؛ يريد أن يذهب بثوبي، ويمطلني فيها، فأتى الرسول إلى النبي -صلى الله عليه وسلم- فأخبره فقال النبي -صلى الله عليه وسلم-: قد كذب. قد علموا أني أتقاهم لله، وآداهم للأمانة قلت: والحديث عند النسائي (7/ 294)، والترمذي (1213)، ولا أدري سبب عَزْو الحافظ الحديث للحاكم والبيهقي دونهما. ثم رأيته في «التلخيص» عزاه لهما
৮৫৭. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! অমুক (ইয়াহুদী) লোকের কাপড় সিরিয়া থেকে এসেছে, আপনি যদি তার নিকট লোক পাঠান তাহলে দুখানা কাপড় বাকীতে এ কথার উপর আনবেন যে, পরে সক্ষম হলে তার দাম দিয়ে দিবেন। ফলে তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন। কিন্তু সে তা দিলনা। -এ হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকা)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২১৩, নাসায়ী ৪৬২৮, হাকিম, ২য় খণ্ড ২৩-২৪ পৃষ্ঠা।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الظَّهْرُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا, وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا, وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ النَّفَقَةُ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2512)
৮৫৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫১১, ২৫১২, তিরমিযী ১২৫৪, আবূ দাউদ ৩৫২৬, ইবনু মাজাহ ২৪৪০, আহমাদ। ৭০৮৫, ৯৭৬০।
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَغْلَقُ الرَّهْنُ مِنْ صَاحِبِهِ الَّذِي رَهَنَهُ, لَهُ غُنْمُهُ, وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ, وَرِجَالهُ ثِقَاتٌ. إِلَّا أَنَّ الْمَحْفُوظَ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ إِرْسَالُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعًا. رواه الدارقطني (3/ 33)، والحاكم (2/ 51) مرفوعًا. ورواه مرسلًا أبو داود في «المراسيل» (187) وهو الصواب، كما ذهب إلى ذلك جماعة من أهل العلم
৮৫৯. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- বন্ধক রাখা বস্তু থেকে তাঁর মালিককে বঞ্চিত করা যাবে না। যা লাভ হবে তা তার এবং লোকসানও তাকেই নিতে হবে।
-হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য কিন্তু আবূ দাউদ ও অন্য মুহাদ্দিসের নিকটে এটা মুরসাল হাদীস বলে সংরক্ষিত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম, ২য় খণ্ড ৫১ পৃষ্ঠা, মারাসীল আবূ দাউদ ১৮৭ ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর ৩/১০০০ গ্রন্থে বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, لَهُ غُنْمُهُ, وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ কথাটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিজের কথা। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৪০৬ গ্রন্থে মুরসাল বলেছেন, তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৮১৮ গ্রন্থে মুনকার যঈফ মন্তব্য করেন, আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ২/৪৮১ গ্রন্থে বলেন, সানাদটি সহীহ মুসলিমের শর্তভিত্তিক। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনান ২/৬১৬ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবূ আসমাহ ও বাশার রয়েছে দু’জনই দুর্বল রাবী। মুহাম্মাদ বিন আমর হতে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক ২/১০৭ গ্রন্থে বলেন এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন নাসর আল উসাম নির্ভরযোগ্য নয়।
وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - اسْتَسْلَفَ مِنْ رَجُلٍ بَكْرًا فَقَدِمَتْ عَلَيْهِ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ, فَأَمَرَ أَبَا رَافِعٍ أَنْ يَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ, فَقَالَ: لَا أَجِدُ إِلَّا خَيَارًا. قَالَ: «أَعْطِهِ إِيَّاهُ, فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1600)، وفي رواية له: فإن خير عباد الله
৮৬০. আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে একটা অল্প বয়সের উট[1] ধার নিয়েছিলেন। তারপর তাঁর নিকটে যাকাতের উট এসে গেলে তিনি আবূ রাফেকে ঐ রূপ অল্প বয়সের একটি (বাকারাহ) উট দিয়ে দিতে আদেশ দিলেন। আবূ রাফে বললেন, আমি সপ্তম বছরে পদার্পণকারী রাবায়ী উত্তম উট ব্যতীত পাচ্ছি না।[2] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ভাল উটাই দিয়ে দাও। কারণ লোকেদের মধ্যে অবশ্য ঐ ব্যক্তি উত্তম যিনি ঋণ পরিশোধে উত্তম। (মুসলিম)[3]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অল্প বয়সের উটকে بَكْر (বাকর) বলা হয়।
[2] মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, خيارًا رَبَاعيًا আর رَبَاعيًا বলা হয় ঐ উটকে যার বয়স ছয় বছর পূর্ণ হয়ে সাত বছরে পড়েছে। خيارًا বলা হয় ভালো উটকে।
[3] মুসলিম ১৬০০, তিরমিযী ১৩১৮, নাসায়ী ৪৬১৭, আবূ দাউদ ৩৩৪৬, ইবনু মাজাহ ২২৮৫, আহমাদ ২৬৬৪০, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৮৪, দারেমী ২৫৬৫। মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি কর্জ পরিশোধে উত্তম।
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً, فَهُوَ رِبًا». رَوَاهُ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ, وَإِسْنَادُهُ سَاقِطٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا، ً وقد أفصح الحافظ في «التلخيص» (3/ 34) عن علته، فقال: في إسناده سوَّار بن مصعب، وهو متروك
৮৬১. ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাভ বা উপস্বত্ত লাভের এরূপ সমস্ত ঋণই সুদে গণ্য হবে। হাদীসটিকে হারিস বিন আবূ উসামাহ বৰ্ণনা করেছেন; এর সানাদ সাকিত বা অগ্রহণযোগ্য বা বাতিল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম শাওকানী আল ফাতহুর রব্বানী ৭/৩৬৬৬, নাইলুল আওত্বার ৫/৩৫১ ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম ৩/৮২, ইবনু হাজার আসকালানী আত-তালখীসুল হাবীর ৩/৯৯৭ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে সাওয়ার বিন মাসআব (আল হামদানী) মাতরূক। ইমাম সুয়ূতী আল জামেউস সগীর ৬৩৩৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। বিন বায মাজমু ফাতাওয়া ১৯/২৯৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন, তবে মাজমু ফাতাওয়া ২৫/২৫৬ গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল তবে অর্থগত দিক থেকে সহীহ। সালেহ আল উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/১০২, গ্রন্থে বলেন, ‘এটি বিশুদ্ধ নয়’। শারহুল মুমতি ৯/১০৬ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৮, যঈফুল জামে ৪২৪৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। তবে ইরওয়াউল গালীল ১৩৯৭ গ্রন্থে ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
وَلَهُ شَاهِدٌ ضَعِيفٌ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عِنْدَ الْبَيْهَقِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البيهقي (5/ 350) موقوفًا بلفظ: كل قرض جر منفعة، فهو وجه من وجوه الربا وهو ضعيف كما قال الحافظ
৮৬২. ফুযালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) থেকে, বাইহাকীতে দুর্বল সূত্রে এই হাদীসটির একটি শাহিদ (সমর্থক হাদীস) রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। বাইহাকী ৫ম খণ্ড ৩৫০ পৃষ্ঠা।
وَآخَرُ مَوْقُوفٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البخاري (3814) وهو من طريق أبي بُردة قال: أتيت المدينة، فلقيت عبد الله بن سلام -رضي الله عنه-، فقال: ألا تجيء فأطعمك سويقًا وتمرًا، وتدخل في بيت؟ ثم قال: إنك في أرضٍ الرِّبا بها فاشٍ، إذا كان لك على رجل حق، فأهدى إليك حِمْل تِبْن، أو حِمْل شعير، أو حمل قَتٍّ، فإنه ربا. «تنبيه»: نفى صاحب «سبل السلام» وجود هذا الأثر في البخاري، وتبعه على ذلك كل من أخرج «البلوغ» إما تصريحًا وإما تلميحًا. مع أنه يوجد في موضعين من «الصحيح». وانظر الأصل
৮৬৩. এবং ‘আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বুখারীতে একটা মাওকুফ হাদীস রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৮১৪, ৭৩৪২।
আবূ বুরদাহ (রহঃ) বলেন, আমি মদীনাহয় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার দেখা হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাকে) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার খুব ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় সামান্য কিছুও হাদীয়া পেশ করে তার কাছ থেকে তা গ্ৰহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত।
عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه -[قَالَ]: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ بِعَيْنِهِ عِنْدَ رَجُلٍ قَدْ أَفْلَسَ, فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2402)، ومسلم (1559)
৮৬৪। আবূ বাকর ইবনু ‘আবদির রহমান কর্তৃক আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চেয়ে সে-ই তার বেশী হকদার।[1]
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَمَالِكٌ: مِنْ رِوَايَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُرْسَلًا بِلَفْظِ: أَيُّمَا رَجُلٌ بَاعَ مَتَاعًا فَأَفْلَسَ الَّذِي ابْتَاعَهُ, وَلَمْ يَقْبِضِ الَّذِي بَاعَهُ مِنْ ثَمَنِهِ شَيْئًا, فَوَجَدَ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ, فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ, وَإِنْ مَاتَ الْمُشْتَرِي فَصَاحِبُ الْمَتَاعِ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ
وَوَصَلَهُ الْبَيْهَقِيُّ, وَضَعَّفَهُ تَبَعًا لِأَبِي دَاوُدَ
ইমাম আবূ দাউদ ও মালিক উক্ত আবূ বাকর (রাঃ) থেকে মুরসালরূপে এরূপ শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন ‘কোন ব্যক্তি কোন বস্তু (বাকীতে) বিক্রয় করল, তারপর ক্রেতা অভাবগ্ৰস্ত হয়ে পড়লো, অথচ বিক্রেতা তার মূল্য বাবদ কিছুই গ্রহণ করেনি-যদি ঐ বিক্রিত বস্তুটি পূর্ববৎই থেকে থাকে তাহলে বিক্রেতাই ঐ বস্তুর অধিক হকদার হবে।
আর যদি ক্রেতা মরে গিয়ে থাকে তাহলে বিক্রেতা অন্যান্য মহাজ্জনদের সমপর্যায়ভুক্ত হবে।[2]
বাইহাকী একে মাওসূল বা অবিচ্ছিন্ন সানাদযুক্ত হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন ও আবূ দাউদের অভিমতের অনুকূলে হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন।[3]
وَرَوَى أَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ: مِنْ رِوَايَةِ عُمَرَ بْنِ خَلْدَةَ قَالَ: أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فِي صَاحِبٍ لَنَا قَدْ أَفْلَسَ, فَقَالَ: لَأَقْضِيَنَّ فِيكُمْ بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: laquo;مَنْ أَفْلَسَ أَوْ مَاتَ فَوَجَدَ رَجُلٌ مَتَاعَهُ بِعَيْنِهِ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ. وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَضَعَّفَ أَبُو دَاوُدَ هَذِهِ الزِّيَادَةَ فِي ذِكْرِ الْمَوْتِ
আর ‘উমার বিন খালদাহ কর্তৃক আবূ দাউদে ও ইবনু মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে- আমরা আমাদের এক নিঃস্ব বন্ধুর ব্যাপারে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর নিকটে আসলাম। তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা দেব। (তা হচ্ছে) যে ব্যক্তি বাকীতে কোন বস্তু ক্রয় করার পর নিঃস্ব হয়ে যায় অথবা মারা যায়, আর বিক্রেতা ব্যক্তি তার ঐ মাল ঠিকভাবে পেয়ে যায়, তাহলে সে ঐ বস্তুর সর্বাপেক্ষা অধিক হকদার হবে। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর আবূ দাউদ একে যঈফ বলেছেন এবং অত্র হাদীসে মৃত্যুর উল্লেখ সংযোজিত অংশটুকুকেও তিনি যঈফ বলেছেন।[4]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪০২, মুসলিম ১৫৫৯, তিরমিযী ১২৬২, ৪৬৭৬, নাসায়ী ৪৬৭৬, ৪৬৭৭, আবূ দাউদ ৩৫১৯, ৩৫২০, ইবনু মাজাহ ২৩৫৮, ২৩৫৯, আহমাদ ৭০৮৪, ৭৩২৫, ৭৩৪৩, মুওয়াত্তা মালেক ১৩৮৩, দারেমী ২৫৯০।
[2] আবু দাউদ ৩৫২২।
[3] বাইহাকী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৭ পৃষ্ঠা।
[4] হাদীসের সানাদটি দুর্বল। আবূ দাউদ ৩৫২৩, ইবনু মাজাহ ২৩৬০, হাকিম, ২য় খণ্ড ৫০ পৃষ্ঠা।
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَعَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه البخاري معلقًا (5/ 62)، ووصله أبو داود (3628)، والنسائي (7/ 316)، وأيضًا ابن ماجه (3627)، وابن حبان (1164) وقال الحافظ في «الفتح»: «إسناده حسن». و «الليّ»: المطل. و «الواجد»: الغنيّ. علق البخاري عن سفيان قوله: عرضه: يقول: مطلتني. وعقوبته: الحبس. قلت: ودليل الحبس في الشريعة حديث بَهْز بن حكيم، عن أبيه، عن جده، أن النبي -صلى الله عليه وسلم- حبس رجلًا في تهمة، ثم خلى عنه وهو حديث حسن، وقد خرجته في كتاب «الأقضية النبوية» لابن الطلَّاع -يسر الله نشره-
৮৬৫. ‘আমর ইবনু শারীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সামৰ্থ্যবান ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করার অপরাধ তার সম্মানহানি ও শাস্তিপ্রাপ্তিকে বৈধ করে দেয়। -বুখারী হাদীসটিকে মুআল্লাকরূপে বর্ণনা করেছেন; ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ৩৬২৭, আবূ দাউদ ৩৬২৮, নাসাঈ ৪৬৯০, ইবনু মাজাহ ২৪২৭, আহমাদ ১৮৯৬২।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا, فَكَثُرَ دَيْنُهُ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ»، فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ, وَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِغُرَمَائِهِ: «خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ, وَلَيْسَ لَكُمْ إِلَّا ذَلِكَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1556)
৮৬৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কোন ব্যক্তি ফল ক্রয় করে তাতে বিপদগ্ৰস্ত হয়ে পড়েন এবং তার ঋণের বােঝা বেড়ে যায়। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে সাদাকাহ (সাহায্য) প্ৰদান কর। লোকেরা তাকে সাদাকাহ বা সাহায্য করলো কিন্তু ঐ সাহায্যের পরিমাণ ঋণ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করার মত হল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাওনাদারদেরকে বললেন, যা পাচ্ছ তা নাও, এর অধিক আর তোমাদের জন্য হবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৫৬, তিরমিযী ৬৫৫, নাসায়ী ৪৫৩০, ৪৬৭৮, আবূ দাউদ ৩৪৬৯, ইবনু মাজাহ ২৩৫৬ আহমাদ ১১১১৫৭।
وَعَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ, عَنْ أَبِيهِ; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - حَجَرَ عَلَى مُعَاذٍ مَالَهُ, وَبَاعَهُ فِي دَيْنٍ كَانَ عَلَيْهِ. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ مُرْسَلًا, وَرُجِّحَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعًا. والصحيح فيه الإرسال كما رجح ذلك غير واحد، وقد تكلمت عليه مفصلًا في «الأقضية النبوية «لابن الطلاع
৮৬৭. কাব বিন মালিক কর্তৃক তাঁর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, অবশ্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর প্রিয় সাহাবী) মুআযের মালের উপর ক্রোক আরোপ করেছিলেন, আর তাঁর ঋণ পরিশোধ হেতু তাঁর মাল বিক্রয় করে দিয়েছিলেন। দারাকুতনী, হাকিম একে সহীহ বলেছেন; আবূ দাউদ একে মুরসাল হাদীসররূপে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটি মুরসাল হওয়াকে অগ্রগণ্য বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফূ’ হিসেবে যঈফ। মুরসাল হিসেবে সহীহ। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে ৩য় খণ্ড ১০০১ পৃষ্ঠায় হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন। তিনি তার লিসানুল মীযান গ্রন্থে ১ম খণ্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠায় বলেন, এর বর্ণনাকারীর মধ্যে ইবরাহীম বিন মু’আবিয়া আয যিয়াদী রয়েছে। উকাইলী তার আযযুআফা আল কাবীর গ্রন্থে ১ম খণ্ড ৬৮ পৃষ্ঠায় উক্ত ইবরাহীম সম্পর্কে বলেন, তার বর্ণিত হাদীসের সমর্থনে অন্য কেউ হাদীস বর্ণনা করেন নি। ইমাম হাইসামী মাজমাউজ যাওয়ায়েদ গ্রন্থে ৪র্থ খণ্ড ১৪৬ পৃষ্ঠায় এ রাবীকে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: عُرِضْتُ عَلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - يَوْمَ أُحُدٍ, وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً, فَلَمْ يُجِزْنِي, وَعُرِضْتُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْخَنْدَقِ, وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً, فَأَجَازَنِي. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبَيْهَقِيِّ: «فَلَمْ يُجِزْنِي, وَلَمْ يَرَنِي بَلَغْتُ». وَصَحَّحَهَا ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2664)، ومسلم (1868)، وزادا: «قال نافع: فقدمت على عمر بن عبد العزيز - وهو يومئذ خليفة - فحدثته هذا الحديث. فقال: إن هذا لحدّ بين الصغير والكبير. فكتب لعماله أن يفرضوا لمن بلغ خمس عشرة». وزاد مسلم: «ومن كان دون ذلك فاجعلوه في العيال
صحيح بهذه الزيادة، وإن لم أجده في «سنن البيهقي» بهذه الزيادة. لكن رواه ابن حبان في «صحيحه» (4708) بهذه الزيادة وسنده صحيح. ثم رأيت الحافظ في «الفتح» (5/ 279) قال: «أخرجه عبد الرازق، عن ابن جريج ورواه أبو عَوانة وابن حبان في «صحيحيهما» من وجه آخر عن ابن جريج. أخبرني نافع - قال سمير: كذا قال والذي في ابن حبان: أخبرني عبيد الله بن عمر، عن نافع فذكر الحديث بلفظ: «ولم يرني بلغت». وهي زيادة صحيحة لا مطعن فيها؛ لجلالة ابن جريج، وتقدمه على غيره في حديث نافع، وقد صرح فيها بالتحديث، فانتقى ما يخشى من تدليسه
৮৬৮. ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার ১৪ বছর বয়সে ওহুদ যুদ্ধের সময় আমাকে যোদ্ধাদের মধ্যে শামিল করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে হাজির করা হলে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তারপর খন্দকের যুদ্ধের সময় ১৫ বছর বয়সে আমাকে তাঁর সম্মুখে পেশ করা হলে তিনি আমাকে এর অনুমতি প্ৰদান করেন।[1]
বাইহাকীতে আছে, আমাকে অনুমতি দেননি। আর আমাকে সাবালক মনে করেননি। ইবনু খুযাইমাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৬৬৪, ৪০৯৭, ৪১০৭, মুসলিম ১৮৬৮, তিরমিযী ১৭১১, নাসায়ী ৩৪৩১, আবূ দাউদ ৪৪০৬, ইবনু মাজাহ ২৫৪৩, ৪৬৪৭।
বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমি খলীফা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীযের নিকট গিয়ে এ হাদীস শুনালাম। তিনি বললেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা। অতঃপর তিনি তাঁর গভর্নরদেরকে লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, (সেনাবাহিনীতে)। যাদের বয়স পনের হয়েছে তাদের জন্য যেন ভাতা নির্দিষ্ট করেন।
[2] ইবনু হিব্বান ৪৭০৮, দারাকুতনী ৩য় খণ্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা। আবদুর রাযযাক ইবনু জুরাইজ থেকে এ হাদীসটিকে সহীহ হিসেবে সমর্থন করেছেন।