Part 5 | Page 148
খন্ডঃ 5 | পৃষ্ঠাঃ 148
ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম যদি সালাতকে তার প্রথম ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করেন, তবে মুক্তাদীর জন্য মুস্তাহাব হলো ওয়াক্তের শুরুতে একাকী সালাত আদায় করে নেওয়া, অতঃপর ইমামের সাথে পুনরায় তা আদায় করা। এভাবে সে ওয়াক্তের শুরু এবং জামাআত—উভয় ফযীলত অর্জন করতে পারবে। যদি কেউ যে কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায়, তবে ওয়াক্তের শুরুতে একাকী আদায় করা উত্তম নাকি ওয়াক্তের শেষে জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম—এ বিষয়ে আমাদের (শাফিয়ী) আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। তাঁরা অগ্রগণ্য মতটির ব্যাপারেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আমি 'শারহুল মুহাযযাব'-এর তায়াম্মুম অধ্যায়ে এটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। অগ্রগণ্য মত হলো, যদি বিলম্ব অত্যধিক না হয়, তবে অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। এতে পাপে লিপ্ত না হওয়া সাপেক্ষে শাসকবৃন্দের আনুগত্য ও ঐকমত্য পোষণের গুরুত্ব বুঝা যায়, যাতে বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং ফিতনা না ঘটে। এ কারণেই অন্য রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে: "আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি কথা শুনি ও আনুগত্য করি, যদিও সে নাক-কান কাটা অঙ্গহানি হওয়া কোনো দাসও হয়।" এতে আরও রয়েছে যে, যে সালাত দুইবার আদায় করা হয়, তার প্রথমটি হবে ফরয এবং দ্বিতীয়টি হবে নফল। এই হাদীসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল এবং অন্য হাদীসেও এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আলেমগণ এ মাসআলা নিয়ে মতভেদ করেছেন। আমাদের মাযহাবে এক্ষেত্রে চারটি মত রয়েছে: বিশুদ্ধ মত হলো প্রথমটিই ফরয—হাদীসের কারণে এবং যেহেতু প্রথমটি আদায়ের মাধ্যমে ফরযের দায় মুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় মত হলো, দুটির মধ্যে যেটি পূর্ণাঙ্গ সেটি ফরয। তৃতীয় মত হলো, উভয়টিই ফরয। চতুর্থ মত হলো, যে কোনো একটি অনির্দিষ্টভাবে ফরয, আল্লাহ তাআলা যেটি ইচ্ছা কবুল করবেন। এই হাদীসে আরও প্রমাণিত হয় যে, ফজর, আসর এবং মাগরিব পুনরায় আদায় করাতে কোনো দোষ নেই, যেমনটা অন্যান্য সালাতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাধারণভাবে সালাত পুনরায় আদায়ের আদেশ দিয়েছেন এবং এক সালাত ও অন্য সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। আমাদের মাযহাবে এটিই বিশুদ্ধ মত। তবে আমাদের মাযহাবে একটি মত এমনও রয়েছে যে, ফজর ও আসর পুনরায় আদায় করা যাবে না, কারণ দ্বিতীয় সালাতটি নফল হবে আর এই দুই সালাতের পর কোনো নফল সালাত নেই। আরেকটি মত হলো মাগরিব পুনরায় আদায় করবে না যাতে তা জোড় সংখ্যায় পরিণত না হয়, তবে এই মতটি দুর্বল। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী— "শীঘ্রই আমার পর এমন কিছু শাসক আসবে যারা সালাতকে মৃতবৎ করবে (ওয়াক্ত পার করে বা অনেক বিলম্বে আদায় করবে)"—এটি নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন। উমাইয়া যুগে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছিল। তাঁর বাণী: "তুমি ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করো; এরপর যদি তুমি ওয়াক্তের ভেতরেই তাদের সাথে তা আদায় করো, তবে তা তোমার জন্য নফল হবে। অন্যথায় তুমি তো তোমার সালাত সংরক্ষিত করেছই।" এর অর্থ হলো, যখন তুমি দেখবে তারা পছন্দনীয় ওয়াক্ত থেকে সালাত বিলম্বিত করছে, তখন তুমি প্রথম ওয়াক্তে তা আদায় করে নাও। এরপর যদি তারা তা পছন্দনীয় ওয়াক্তে আদায় করে, তবে তুমিও তাদের সাথে তা আদায় করো। এক্ষেত্রে তাদের সাথে তোমার এই সালাতটি নফল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় প্রথম ওয়াক্তে আদায়ের মাধ্যমে তুমি তোমার সালাতকে অর্জন ও সংরক্ষণ করলে এবং এর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করলে। তাঁর বাণী—