Part 2 | Page 227
খন্ডঃ 2 | পৃষ্ঠাঃ 227
বর্ণনাগুলোতে তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে 'সাবতু আল-রাস' (সোজা চুলবিশিষ্ট) শব্দ এসেছে। তাই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, এখানে 'জা’দ' দ্বারা শরীরের সুসংহত ও সুঠাম গঠন উদ্দেশ্য, চুলের কোঁকড়ানো ভাব নয়। আর মুসা আলাইহিস সালামের বর্ণনায় 'জা’দ' শব্দের বিষয়ে 'আত-তাহরির' গ্রন্থের লেখক বলেন যে, এর দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হলো যা ঈসা আলাইহিস সালামের বর্ণনায় আমরা উল্লেখ করেছি অর্থাৎ শরীরের গঠন সুসংহত ও মাংসপেশি সুদৃঢ় হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো চুলের কোঁকড়ানো ভাব। তিনি বলেন, প্রথম অর্থটিই অধিকতর সঠিক; কারণ সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর রিওয়ায়েতে এসেছে যে, তিনি ছিলেন 'রাজিলুশ শা’র' বা ঢেউখেলানো চুলের অধিকারী। এটি 'আত-তাহরির' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় অর্থই হওয়ার অবকাশ রয়েছে। আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী চুলের কোঁকড়ানো ভাব বলতে 'কাতাত' বা অতিমাত্রায় কোঁকড়ানো ও রুক্ষ চুল বোঝাবে না, বরং এর অর্থ হলো তা অতিরিক্ত কোঁকড়ানো এবং একদম সোজা চুলের মাঝামাঝি স্তরের। আল্লাহই ভালো জানেন। 'সাবিত' শব্দের 'বা' অক্ষরে ফাতহ (যবর) এবং কাসরা (যের) উভয়টিই দুটি প্রসিদ্ধ ব্যাকরণগত রূপ। আবার উচ্চারণ সহজ করার উদ্দেশ্যে 'সিন' অক্ষরে কাসরা বা ফাতহ দিয়ে 'বা' অক্ষরকে সাকিন (স্থির) করেও পড়া যায়, যেমনটি 'কাতিফ' ও এ জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ভাষাবিদগণ বলেন, 'সাবিত' চুল হলো সেই চুল যা নিচের দিকে সোজাভাবে ঝুলে থাকে এবং তাতে কোনো ভাঁজ থাকে না। এর ক্রিয়াপদ হিসেবে 'সাবিতা' (বা-তে কাসরা দিয়ে), বর্তমান কালে 'ইয়াসবাতু' (বা-তে ফাতহ দিয়ে) এবং মূল ধাতু হিসেবে 'সাবাতান' (বা-তে ফাতহ দিয়ে) ব্যবহৃত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। অন্য রিওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মি'রাজের রাতে আমি ইমরান-পুত্র মুসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"—এভাবেই কোনো কোনো মূল পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে 'মারারতু' (আমি অতিক্রম করলাম) শব্দটি বাদ পড়েছে, যদিও বাক্য গঠনে এর আবশ্যকতা রয়েছে। যদি তা বাদ দেওয়া হয়, তবে তা উহ্য হিসেবেই গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "এবং জাহান্নামের প্রহরী মালিককে দেখানো হলো"—এখানে 'উরিয়া' শব্দে হামযাহ-তে যম্মাহ (পেশ) এবং রা-তে কাসরা (যের) হবে, আর 'মালিকান' শব্দটি নসব (যবর) অবস্থায় হবে। এর অর্থ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মালিক ফেরেশতার দর্শন করানো হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এই হাদিসের পাঠে এসেছে: "এবং আমি মালিককে দেখলাম"। অধিকাংশ মূল পাণ্ডুলিপিতে 'মালিকুন' শব্দটি রফআ (পেশ) অবস্থায় পাওয়া যায়, যা বাহ্যত আপত্তিকর মনে হতে পারে এবং বলা হতে পারে যে এটি ব্যাকরণগত ভুল যা আরবি ভাষায় বৈধ নয়। তবে এর একটি চমৎকার উত্তর রয়েছে; তা হলো—'মালিক' শব্দটি মূলত নসব অবস্থাতেই আছে, কিন্তু লিখন পদ্ধতিতে নসবের আলিফটি উহ্য রাখা হয়েছে। মুহাদ্দিসগণ প্রায়ই এমনটি করে থাকেন; যেমন তারা লিখনের সময় আলিফ ছাড়াই 'সামিতু আনাস' লেখেন কিন্তু পড়ার সময় নসব দিয়ে পড়েন। ঠিক তেমনি 'মালিক' শব্দটিও তারা আলিফ ছাড়াই লিখেছেন কিন্তু পড়ার সময় নসব দিয়ে পড়েন। ইনশাআল্লাহ এটি একটি সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।