Part 3 | Page 107
খন্ডঃ 3 | পৃষ্ঠাঃ 107
সহীহ হাদীসসমূহে একবার মাথা মাসেহ করার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং সেগুলোর কোনোটিতে শুধু 'মাসেহ করেছেন' কথাটির ওপরই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) সহীহ মুসলিমে বর্ণিত উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরবর্তী হাদীসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযুর প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করেছেন। এছাড়া সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হাদীস দ্বারাও তিনি দলিল দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথা তিনবার মাসেহ করেছেন। সেইসাথে তিনি ওযুর অন্যান্য অঙ্গের ওপর কিয়াস (অনুরূপ অনুমান) করার মাধ্যমেও দলিল পেশ করেছেন। আর একবার মাসেহ করার হাদীসগুলোর উত্তরে তিনি বলেছেন যে, তা মূলত বৈধতা প্রকাশের জন্য ছিল, যদিও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা সর্বোত্তম পদ্ধতির ওপরই অবিচল থাকতেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ওলামায়ে কেরাম মুখমণ্ডল, উভয় হাত এবং উভয় পা ধৌত করা এবং ধোয়ার সময় এগুলোর সম্পূর্ণ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যিকতার (ওয়াজিব হওয়ার) ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। তবে রাফেযীরা আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছে যে, পায়ের ক্ষেত্রে কেবল মাসেহ করা ওয়াজিব। এটি তাদের একটি ভুল ধারণা; কেননা দলিলসমূহ উভয় পা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার পক্ষেই সুস্পষ্ট। একইভাবে যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওযুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, তারা সকলেই একমত হয়েছেন যে তিনি পা ধৌত করেছেন।
তাঁরা মাথা মাসেহ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে এর পরিমাণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। ইমাম শাফিঈ ও একদল ওলামার মতে, 'মাসেহ' শব্দটি যার ওপর প্রয়োগ করা যায় এমন সামান্যতম অংশ মাসেহ করাই ওয়াজিব, এমনকি তা যদি একটি চুলও হয়। ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ এবং একদল আলেম পুরো মাথা মাসেহ করা ওয়াজিব বলে মত দিয়েছেন। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে যে, মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা ওয়াজিব।
কুলি করা (মাযমাযাহ) এবং নাকে পানি দেওয়া (ইসতিনশাক) ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে আলেমগণ চারটি মাযহাবে বিভক্ত হয়েছেন। প্রথম মতটি হলো ইমাম মালেক, ইমাম শাফিঈ এবং তাঁদের অনুসারীদের; তাঁদের মতে ওযু ও গোসল উভয় ক্ষেত্রেই এই দুটি কাজ সুন্নাত। হাসান বসরী, যুহরী, হাকাম, কাতাদাহ, রবীআহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারী, আওযাঈ এবং লাইস ইবনে সাদ প্রমুখ সালাফগণও এই মত পোষণ করেছেন এবং এটি আতা ও ইমাম আহমদের এক বর্ণনাতেও এসেছে। দ্বিতীয় মতটি হলো, এই দুটি কাজ ওযু ও গোসল উভয় ক্ষেত্রে ওয়াজিব এবং এগুলো ব্যতীত পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হবে না। এটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের প্রসিদ্ধ মত এবং ইবনে আবী লায়লা, হাম্মাদ ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এরও মত, যা আতা থেকেও একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়। তৃতীয় মতটি হলো, এই দুটি কাজ গোসলের ক্ষেত্রে ওয়াজিব কিন্তু ওযুর ক্ষেত্রে নয়। এটি ইমাম আবু হানীফা, তাঁর অনুসারীগণ এবং সুফিয়ান সাওরী-র মত। চতুর্থ মতটি হলো, ওযু ও গোসল উভয় ক্ষেত্রে নাকে পানি দেওয়া (ইসতিনশাক) ওয়াজিব এবং কুলি করা (মাযমাযাহ) সুন্নাত। এটি আবু সাওর, আবু উবাইদ, দাউদ যাহেরী এবং আবু বকর ইবনুল মুনযিরের মত এবং ইমাম আহমদ থেকেও এমন একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
অধিকাংশ ফকীহ (জুমহুর) একমত হয়েছেন যে, ওযু ও গোসলের ক্ষেত্রে অঙ্গসমূহের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়াই যথেষ্ট এবং অঙ্গ মর্দন বা ঘষা (দালক) করা শর্ত নয়। কেবল ইমাম মালেক ও মুযানী একে শর্ত হিসেবে গণ্য করে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
জুমহুর আলেমগণ উভয় টাখনু এবং উভয় কনুই ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে ইমাম যুফার ও দাউদ যাহেরী তা ওয়াজিব নয় বলে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, 'কা'বাইন' (টাখনু) বলতে পায়ের নলা ও পাতার সন্ধিস্থলে দুই পাশে উন্নত বা উঁচু হয়ে থাকা হাড় দুটিকে বোঝায় এবং প্রতিটি পায়ে দুটি করে টাখনু রয়েছে। এক্ষেত্রে রাফেযীরা বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করে বলেছে যে, প্রতিটি পায়ে একটি করে টাখনু রয়েছে এবং তা হলো পায়ের উপরিভাগের হাড়। ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তাঁর থেকে এই বর্ণনার সত্যতা প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে আলেমদের দলিল হলো ভাষাবিদ ও শব্দতত্ত্ববিদদের বর্ণনা এবং এই সহীহ হাদীসটি যার ওপর আমরা...