(باب وجوب غسل البول وغيره من النجاسات إِذَا حَصَلَتْ فِي الْمَسْجِدِ)
(وَأَنَّ الْأَرْضَ تَطْهُرُ بِالْمَاءِ مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ إِلَى حَفْرِهَا)
فِيهِ حَدِيثُ أَنَسٍ رضي الله عنه (أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَامَ إِلَيْهِ بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا تُزْرِمُوهُ فَلَمَّا فَرَغَ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ) وَفِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى (فَصَاحَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعُوهُ فَلَمَّا فَرَغَ أَمَرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَنُوبٍ فَصُبَّ عَلَى بَوْلِهِ) الْأَعْرَابِيُّ هُوَ الَّذِي يَسْكُنُ الْبَادِيَةَ وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم لَا تُزْرِمُوهُ هُوَ بِضَمِّ التَّاءِ وَإِسْكَانِ الزَّايِ وَبَعْدَهَا رَاءٌ أَيْ لَا تَقْطَعُوا وَالْإِزْرَامُ الْقَطْعُ وَأَمَّا الدَّلْوُ ففيها لغتان التذكير والتأنيث والذنوب بفتح الذَّالِ وَضَمُّ النُّونِ وَهِيَ الدَّلْوُ الْمَمْلُوءَةُ مَاءً أَمَّا أَحْكَامُ الْبَابِ فَفِيهِ إِثْبَاتُ نَجَاسَةِ بَوْلِ الْآدَمِيِّ وَهُوَ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْكَبِيرِ وَالصَّغِيرِ بِإِجْمَاعِ مَنْ يُعْتَدُّ بِهِ لَكِنَّ بَوْلَ الصَّغِيرِ يَكْفِي فِيهِ النَّضْحُ كَمَا سَنُوَضِّحُهُ فِي الْبَابِ الْآتِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَفِيهِ احْتِرَامُ الْمَسْجِدِ وَتَنْزِيهِهِ عَنِ الْأَقْذَارِ وَفِيهِ أَنَّ الْأَرْضَ تَطْهُرُ بِصَبِّ الْمَاءِ عَلَيْهَا وَلَا يشترط حفرها
আল মিনহাজ
খন্ডঃ 3 | পৃষ্ঠাঃ 190
(মসজিদে পেশাব বা অন্য কোনো নাপাকি পতিত হলে তা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)(এবং মাটি খনন করার প্রয়োজন ছাড়াই পানি দ্বারা তা পবিত্র হয়)
এতে আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস রয়েছে যে, (এক গ্রাম্য ব্যক্তি মসজিদে পেশাব করল। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাকে বাধা দিতে উদ্যত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তার পেশাব মাঝপথে বন্ধ করো না।" অতঃপর যখন সে পেশাব শেষ করল, তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং তা পেশাবের ওপর ঢেলে দিলেন।) অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (মানুষ তাকে ধমক দিতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও।" অতঃপর যখন সে পেশাব শেষ করল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক বালতি পানির আদেশ দিলেন এবং তা তার পেশাবের ওপর ঢেলে দেওয়া হলো।) 'আরাবি' (الأعرابي) বলা হয় তাকে, যে মরুভূমিতে বসবাস করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী 'লা তুজরিমুহু' (لا تزرموه) শব্দটি 'তা' বর্ণে পেশ, 'যা' বর্ণে সাকিন এবং পরবর্তী বর্ণ 'রা' সহযোগে গঠিত, যার অর্থ হলো—বিচ্ছিন্ন বা কর্তন করো না। 'ইজরাম' (الإزرام) মানে হলো বিচ্ছিন্ন করা। আর 'দালউ' (الدلو) শব্দের ব্যবহারে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় রীতি রয়েছে। 'যানুব' (الذنوب) শব্দটি 'যাল' বর্ণে জবর ও 'নুন' বর্ণে পেশ দিয়ে গঠিত, যার অর্থ পানিতে পূর্ণ বালতি। এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলির মধ্যে রয়েছে মানুষের পেশাব নাপাক হওয়ার প্রমাণ, যা একটি সর্বসম্মত (ইজমা) বিষয়। গ্রহণযোগ্য আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী বড় ও ছোট মানুষের পেশাবের মধ্যে (নাপাক হওয়ার বিধানে) কোনো পার্থক্য নেই। তবে দুগ্ধপোষ্য শিশুর পেশাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট, যা আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট করব। এতে আরও রয়েছে মসজিদের সম্মান রক্ষা করা এবং একে নাপাকি থেকে পবিত্র রাখা। এছাড়া এতে প্রমাণিত হয় যে, মাটি তার ওপর পানি ঢালার মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যায় এবং তা খনন করার কোনো শর্ত নেই।