হাদীস বিএন

المنهاج

Part 3 | Page 220

يَا رَسُولَ اللَّهِ الْمَرْأَةُ تَرَى مَا يَرَى الرَّجُلُ فِي الْمَنَامِ فَتَرَى مِنْ نَفْسِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ مِنْ نَفْسِهِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها يَا أُمَّ سُلَيْمٍ فَضَحْتِ النِّسَاءَ تَرِبَتْ يَمِينُكِ قَوْلُهَا تَرِبَتْ يَمِينُكِ خَيْرٌ فَقَالَ لِعَائِشَةَ بَلْ أَنْتِ فَتَرِبَتْ يَمِينُكِ نَعَمْ فَلْتَغْتَسِلْ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ إِذَا رَأَتْ ذَلِكَ) وَفِي الْبَابِ الْمَذْكُورِ الرِّوَايَاتُ الْبَاقِيَةُ وَسَتَمُرَّ عَلَيْهَا إِنْ شَاءَ اللَّهِ تَعَالَى اعْلَمْ أَنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا خَرَجَ مِنْهَا الْمَنِيُّ وَجَبَ عَلَيْهَا الْغُسْلُ كَمَا يَجِبُ عَلَى الرَّجُلِ بِخُرُوجِهِ وَقَدْ أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى وُجُوبِ الْغُسْلِ عَلَى الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ بِخُرُوجِ الْمَنِيِّ أَوْ إِيلَاجِ الذَّكَرِ فِي الْفَرْجِ وَأَجْمَعُوا عَلَى وُجُوبِهِ عَلَيْهَا بِالْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ وَاخْتَلَفُوا فِي وُجُوبِهِ عَلَى مَنْ وَلَدَتْ وَلَمْ تَرَ دَمًا أَصْلًا وَالْأَصَحُّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا وُجُوبُ الْغُسْلِ وَكَذَا الْخِلَافُ فِيمَا إِذَا أَلْقَتْ مُضْغَةً أَوْ عَلَقَةً وَالْأَصَحُّ وُجُوبُ الْغُسْلِ وَمَنْ لَا يُوجِبُ الْغُسْلَ يُوجِبُ الْوُضُوءَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ ثُمَّ إِنَّ مَذْهَبَنَا أَنَّهُ يَجِبُ الْغُسْلَ بِخُرُوجِ الْمَنِيِّ سَوَاءٌ كَانَ بِشَهْوَةٍ وَدَفْقٍ أَمْ بِنَظَرٍ أَمْ فِي النَّوْمِ أَوْ فِي الْيَقَظَةِ وَسَوَاءٌ أَحَسَّ بِخُرُوجِهِ أَمْ لَا وَسَوَاءٌ خَرَجَ مِنَ الْعَاقِلِ أَمْ مِنَ الْمَجْنُونِ ثُمَّ إِنَّ الْمُرَادَ بِخُرُوجِ الْمَنِيِّ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الظَّاهِرِ أَمَّا مَا لَمْ يَخْرُجْ فَلَا يَجِبُ الْغُسْلُ وَذَلِكَ بِأَنْ يَرَى النَّائِمُ أَنَّهُ يُجَامِعُ وَأَنَّهُ قَدْ أَنْزَلَ ثُمَّ يَسْتَيْقِظُ فَلَا يَرَى شَيْئًا فَلَا غُسْلَ عَلَيْهِ بِإِجْمَاعِ المسلمين وكذا لو اضطرب بدنه لمبادى خُرُوجِ الْمَنِيِّ فَلَمْ يَخْرُجْ وَكَذَا لَوْ نَزَلَ الْمَنِيُّ إِلَى أَصْلِ الذَّكَرِ ثُمَّ لَمْ يَخْرُجْ فَلَا غُسْلَ وَكَذَا لَوْ صَارَ الْمَنِيُّ فِي وَسَطِ الذَّكَرِ وَهُوَ فِي صَلَاةِ فَأَمْسَكَ بِيَدِهِ عَلَى ذَكَرِهِ فَوْقَ حَائِلٍ فَلَمْ يَخْرُجِ الْمَنِيُّ حَتَّى سَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ صَحَّتْ صَلَاتُهُ فَإِنَّهُ مازال مُتَطَهِّرًا حَتَّى خَرَجَ وَالْمَرْأَةُ كَالرَّجُلِ فِي هَذَا إِلَّا أَنَّهَا إِذَا كَانَتْ ثَيِّبًا فَنَزَلَ الْمَنِيُّ إِلَى فَرْجِهَا وَوَصَلَ الْمَوْضِعَ الَّذِي يَجِبُ عَلَيْهَا غَسْلُهُ فِي الْجَنَابَةِ وَالِاسْتِنْجَاءِ وَهُوَ الَّذِي يَظْهَرُ حَالَ قُعُودِهَا لِقَضَاءِ الْحَاجَةِ وَجَبَ عَلَيْهَا الْغُسْلُ بوصول المنى إلى ذلك موضع لِأَنَّهُ فِي حُكْمِ الظَّاهِرِ وَإِنْ كَانَتْ بِكْرًا لَمْ يَلْزَمْهَا مَا لَمْ يَخْرُجْ مِنْ فَرْجِهَا لِأَنَّ دَاخِلَ فَرْجِهَا كَدَاخِلِ إِحْلِيلِ الرَّجُلِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَأَمَّا أَلْفَاظُ الْبَابِ وَمَعَانِيهِ فَفِيهِ أُمُّ سُلَيْمٍ وَهِيَ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَاخْتَلَفُوا فِي اسْمِهَا فَقِيلَ اسْمُهَا سَهْلَةُ وَقِيلَ مُلَيْكَةُ وقيل رميثة وقيل أنيفة ويقال الرميضا

আল মিনহাজ

খন্ডঃ 3 | পৃষ্ঠাঃ 220


হে আল্লাহর রাসুল! পুরুষরা স্বপ্নে যা দেখে (স্বপ্নদোষ), নারীরাও যদি স্বপ্নে তেমন কিছু দেখে এবং সে নিজের মাঝে তেমন কিছু (বীর্যপাত) প্রত্যক্ষ করে তবে কি তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে? তখন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, হে উম্মে সুলাইম! আপনি তো নারীদের লজ্জিত করলেন, আপনার হাত ধূলিধূসরিত হোক। তার কথা 'আপনার হাত ধূলিধূসরিত হোক' একটি মঙ্গলের অভিব্যক্তি। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশাকে বললেন, বরং তোমার হাতই ধূলিধূসরিত হোক। (অতঃপর তিনি উম্মে সুলাইমকে বললেন) হ্যাঁ, হে উম্মে সুলাইম! যখন সে তা দেখবে তখন সে যেন গোসল করে নেয়। আর আলোচিত পরিচ্ছেদে বাকি বর্ণনাগুলো রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে অতিবাহিত হবে।


জেনে রাখুন, নারীর যদি বীর্য নির্গত হয়, তবে পুরুষের ন্যায় তার ওপরও গোসল ওয়াজিব হবে। মুসলিম উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বীর্য নির্গত হলে অথবা লজ্জাস্থানে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করালে নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর গোসল ওয়াজিব হয়। আলেমগণ হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও নেফাসের (প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) কারণে গোসল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। তবে যে নারী সন্তান প্রসব করেছে কিন্তু মোটেও রক্ত দেখেনি, তার ওপর গোসল ওয়াজিব হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আমাদের (শাফেয়ী) মাযহাবের আলেমদের মতে বিশুদ্ধতম মত হলো তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে। অনুরূপ মতভেদ রয়েছে যদি কেউ মাংসপিণ্ড বা জমাট রক্তপিণ্ড (গর্ভপাত) প্রসব করে। এক্ষেত্রেও বিশুদ্ধতম মত হলো গোসল ওয়াজিব হওয়া। আর যারা গোসল ওয়াজিব মনে করেন না, তারা ওজু করাকে আবশ্যক বলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।


অতঃপর আমাদের মাযহাব হলো, বীর্য নির্গত হলেই গোসল ওয়াজিব হবে; চাই তা কামভাবের সাথে সজোরে নির্গত হোক কিংবা নিছক দর্শনের কারণে হোক, ঘুমের ঘোরে হোক কিংবা জাগ্রত অবস্থায়, বীর্য নির্গমন অনুভূত হোক বা না হোক এবং ব্যক্তি সুস্থ মস্তিষ্কের হোক কিংবা অপ্রকৃতিস্থ—সর্বাবস্থায় গোসল আবশ্যক। বীর্য নির্গমনের উদ্দেশ্য হলো তা শরীরের বাইরে প্রকাশ পাওয়া। যতক্ষণ তা বের না হবে, ততক্ষণ গোসল ওয়াজিব হবে না। যেমন, ঘুমন্ত ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল যে সে সহবাস করছে এবং তার বীর্যপাত হয়েছে, কিন্তু জাগ্রত হওয়ার পর সে (বীর্যের) কোনো চিহ্ন দেখতে পেল না; এমতাবস্থায় মুসলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না। অনুরূপভাবে যদি বীর্য নির্গমনের উপক্রম হওয়ার কারণে শরীর আন্দোলিত হয় কিন্তু বীর্য বের না হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে না। যদি বীর্য পুরুষাঙ্গের গোড়া পর্যন্ত চলে আসে কিন্তু বের না হয়, তবুও গোসল ওয়াজিব নয়। আবার যদি নামাজের মধ্যে বীর্য পুরুষাঙ্গের মাঝখান পর্যন্ত চলে আসে এবং ব্যক্তি কোনো কাপড়ের ওপর দিয়ে হাত দিয়ে তা চেপে ধরে রাখে এবং নামাজ শেষ করে সালাম ফেরানো পর্যন্ত তা বের না হয়, তবে তার নামাজ সহিহ হবে। কারণ, বীর্য বের না হওয়া পর্যন্ত সে পবিত্র হিসেবেই গণ্য হবে।


এ বিষয়ের বিধানে নারী পুরুষের মতোই। তবে নারী যদি বিবাহিত (থায়েবা) হয় এবং বীর্য তার যোনিপথে নেমে আসে এবং সেই স্থান পর্যন্ত পৌঁছে যায় যা জানাবাত (অপবিত্রতা) ও এস্তেঞ্জা (শৌচকার্য) করার সময় ধৌত করা ওয়াজিব—অর্থাৎ মলমূত্র ত্যাগের সময় বসা অবস্থায় যা দৃশ্যমান হয়—তবে সেই স্থান পর্যন্ত বীর্য পৌঁছালেই তার ওপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যাবে। কারণ তা শরীরের বাহ্যিক অংশের হুকুমে গণ্য। কিন্তু সে যদি কুমারী হয়, তবে যোনিপথের বাইরে বের না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর গোসল আবশ্যক হবে না। কারণ তার যোনিপথের অভ্যন্তরীণ অংশ পুরুষের মূত্রনালীর অভ্যন্তরীণ অংশের মতো গণ্য। আল্লাহই ভালো জানেন।


এই পরিচ্ছেদের শব্দাবলি ও তার অর্থ প্রসঙ্গে: এখানে উম্মে সুলাইমের উল্লেখ আছে, যিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাতা। তার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কারও মতে তার নাম সাহলা, কেউ বলেছেন মুলাইকা, কেউ বলেছেন রুমাইসা, কেউ বলেছেন আনিফা, আবার তাকে আর-রুমাইসা-ও বলা হয়।