হাদীস বিএন

عون المعبود

Part 1 | Page 36

19 -‌(بَاب الِاسْتِتَارِ فِي الْخَلَاءِ)

[35] فَإِنْ قُلْتَ مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الْبَابِ الْمُتَقَدِّمِ التَّخَلِّي عِنْدَ قَضَاءِ الْحَاجَةِ وَبَيْنَ هَذَا الْبَابِ قُلْتُ بَيْنَهُمَا فَرْقٌ بَيِّنٌ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ مِنَ الْبَابِ الْأَوَّلِ التَّفَرُّدُ عَنِ النَّاسِ لِلْحَاجَةِ وَلَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الِاسْتِتَارِ وَهَذَا الْبَابُ إِنَّمَا وَضَعَهُ لِلِاسْتِتَارِ عِنْدَ الْحَاجَةِ فَحَصَلَ مِنَ الْبَابَيْنِ جَمِيعًا أَنَّ التَّفَرُّدَ لِلْخَلَاءِ سُنَّةٌ وَمَعَ هَذَا التَّفَرُّدِ يَنْبَغِي الِاسْتِتَارُ أَيْضًا لِيَتَأَتَّى عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ حِفْظُ عَوْرَتِهِ

(الْحُبْرَانِيِّ) بِضَمِّ الْمُهْمَلَةِ وَسُكُونِ الْمُوَحَّدَةِ مَنْسُوبٌ إِلَى حُبْرَانَ بْنِ عَمْرٍو وَهُوَ أَبُو قَبِيلَةٍ بِالْيَمَنِ

كَذَا فِي الْقَامُوسِ وَالْمُغْنِي

وَقَالَ السُّيُوطِيُّ فِي اللُّبِّ اللُّبَابِ حُبْرَانُ بَطْنٌ مِنْ حِمْيَرَ

انْتَهَى (مَنِ اكْتَحَلَ فَلْيُوتِرْ) أَيْ مَنْ أَرَادَ الِاكْتِحَالَ فَلْيُوتِرْ وَالْوِتْرُ الْفَرْدُ أَيْ ثَلَاثًا مُتَوَالِيَةً فِي كُلِّ عَيْنٍ وَقِيلَ ثَلَاثًا فِي الْيُمْنَى وَاثْنَيْنِ فِي الْيُسْرَى لِيَكُونَ الْمَجْمُوعُ وِتْرًا وَالتَّثْلِيثُ عُلِمَ مِنْ فِعْلِهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ مِكْحَلَةٌ يَكْتَحِلُ مِنْهَا كُلَّ لَيْلَةٍ ثَلَاثَةً فِي هَذِهِ وَثَلَاثَةً فِي هَذِهِ

كَذَا فِي الْمِرْقَاةِ شَرْحِ الْمِشْكَاةِ (مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ) أَيْ فَعَلَ فِعْلًا حَسَنًا يُثَابُ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِأَنَّهُ تَخَلَّقَ بِأَخْلَاقِ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ (وَمَنْ لَا) أَيْ لَا يَفْعَلِ الْوِتْرَ (فَلَا حَرَجَ) أَيْ لَا إِثْمَ عَلَيْهِ (وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ) الِاسْتِجْمَارُ الِاسْتِنْجَاءُ بِالْجِمَارِ وَهِيَ الْحِجَارَةُ الصِّغَارُ أَيْ فَلْيَجْعَلْ حِجَارَةَ الِاسْتِنْجَاءِ وِتْرًا وَاحِدًا أَوْ ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا (فَلَا حَرَجَ) إِذِ الْمَقْصُودُ الْإِنْقَاءُ (أَكَلَ) شَيْئًا (فَمَا تَخَلَّلَ) مَا شَرْطِيَّةٌ وَالْجَزَاءُ فَلْيَلْفِظْ أَيْ مَا أَخْرَجَهُ مِنَ الْأَسْنَانِ بِالْخِلَالِ (فَلْيَلْفِظْ) بِكَسْرِ الْفَاءِ فَلْيُلْقِ وَلْيَرْمِ وَلْيَطْرَحْ مَا يُخْرِجُهُ مِنَ الْخِلَالِ مِنْ بَيْنِ أَسْنَانِهِ لِأَنَّهُ رُبَّمَا يَخْرُجُ بِهِ دَمٌ (وَمَا لَاكَ بِلِسَانِهِ) عَطْفٌ عَلَى مَا تَخَلَّلَ أَيْ مَا أَخْرَجَهُ بِلِسَانِهِ وَاللَّوْكُ إِدَارَةُ الشَّيْءِ بِلِسَانِهِ فِي الْفَمِ يُقَالُ لَاكَ يَلُوكُ (فَلْيَبْتَلِعْ) أَيْ فَلْيَأْكُلْهُ وَإِنْ تَيَقَّنَ بِالدَّمِ حَرُمَ أَكْلُهُ (مَنْ فَعَلَ) أَيْ رَمَى وَطَرَحَ مَا أَخْرَجَهُ من الأسنان

আওনুল মাবুদ

খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 36


১৯ -‌(মলত্যাগকালে আবৃত থাকার পরিচ্ছেদ)

[৩৫] আপনি যদি প্রশ্ন করেন, পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ তথা 'প্রয়োজন পূরণের সময় নির্জনে যাওয়া' এবং বর্তমান পরিচ্ছেদের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি বলব, এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কারণ, প্রথম পরিচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো লোকালয় থেকে পৃথক হয়ে নির্জনে যাওয়া, সেখানে আবৃত থাকার বিষয়টি উল্লিখিত হয়নি। আর এই পরিচ্ছেদটি তিনি (ইমাম) মলত্যাগের সময় নিজেকে আবৃত রাখার বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং উভয় পরিচ্ছেদ থেকে সম্মিলিতভাবে এই বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যে, মলত্যাগের জন্য নির্জনে যাওয়া সুন্নত এবং নির্জনে যাওয়ার পাশাপাশি পর্দার আড়ালে থাকাও উচিত, যাতে সতর বা লজ্জাস্থানের হেফাজত পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়।

(আল-হুবরানী): প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন সহকারে। এটি আমর-এর পুত্র হুবরানের দিকে সম্বন্ধিত, যিনি ইয়ামানের একটি গোত্রের আদিপিতা।

'আল-কামূস' এবং 'আল-মুগনী' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে।

আল্লামা সুয়ূতী 'লুব্বুল লুবাব' গ্রন্থে বলেছেন, হুবরান হলো হিময়ার গোত্রের একটি শাখা।

সমাপ্ত। (যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহার করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে): অর্থাৎ যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহারের ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন তা বেজোড় সংখ্যক বার করে। আর 'বেজোড়' বলতে প্রত্যেক চোখে ধারাবাহিকভাবে তিনবার করে বুঝায়। কেউ কেউ বলেছেন, ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে দুইবার ব্যবহার করবে, যাতে মোট সংখ্যাটি বেজোড় হয়। তিনবার ব্যবহারের বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল থেকে জানা যায়; তাঁর একটি সুরমাদানি ছিল যা থেকে তিনি প্রতি রাতে এই চোখে (ডান চোখে) তিনবার এবং ঐ চোখে (বাম চোখে) তিনবার সুরমা লাগাতেন।

'মিরকাত শরহে মিশকাত' গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। (যে ব্যক্তি তা করল সে উত্তম কাজ করল): অর্থাৎ সে একটি পুণ্যময় কাজ করল যার জন্য সে প্রতিদান পাবে, কারণ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত এবং যেহেতু সে আল্লাহ তাআলার গুণে গুণান্বিত হয়েছে; কেননা আল্লাহ তাআলা এক ও বেজোড় এবং তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন। (আর যে করল না): অর্থাৎ যে বেজোড় সংখ্যা রক্ষা করল না, (তার কোন গুনাহ নেই): অর্থাৎ তার উপরে কোন পাপ বর্তাবে না। (যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে শৌচকার্য সম্পাদন করে সে যেন বেজোড় সংখ্যা অবলম্বন করে): ইস্তিজমার অর্থ হলো ছোট পাথর বা নুড়ি দিয়ে শৌচকার্য করা। অর্থাৎ সে যেন শৌচকার্যের পাথরকে বেজোড় সংখ্যায় অর্থাৎ একটি, তিনটি বা পাঁচটি করে। (এতে কোন দোষ নেই): কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। (আহার করল) কোন বস্তু (অতঃপর খিলাল করার মাধ্যমে যা নির্গত হলো): এখানে 'যা' শব্দটি শর্তবাচক এবং এর উত্তর হলো 'সে যেন তা ফেলে দেয়'। অর্থাৎ দাঁতের ফাঁক থেকে খিলাল করে যা বের করল, (সে যেন তা ফেলে দেয়): অর্থাৎ সে যেন দাঁত থেকে খিলাল করার মাধ্যমে যা বের হবে তা বাইরে নিক্ষেপ করে বা ফেলে দেয়। কারণ অনেক সময় এর সাথে রক্ত বের হতে পারে। (আর যা জিহ্বা দ্বারা সরিয়ে আনল): এটি 'খিলাল করার মাধ্যমে যা নির্গত হলো' বাক্যাংশের ওপর সংযোজিত। অর্থাৎ যা সে জিহ্বা দিয়ে বের করে আনল। 'লাউক' অর্থ হলো মুখের ভেতর জিহ্বা দিয়ে কোন কিছু ঘুরানো। (তা যেন সে গিলে ফেলে): অর্থাৎ তা যেন সে খেয়ে ফেলে। তবে যদি রক্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে তা খাওয়া হারাম হবে। (যে ব্যক্তি তা করল): অর্থাৎ দাঁতের ফাঁক থেকে যা নির্গত হয়েছে তা ফেলে দিল।