إِذَا أَضَاءَ قَالَهُ الْحَافِظُ فِي التَّلْخِيصِ
قَالَ بن الْأَثِيرِ فِي النِّهَايَةِ قَالُوا يُحْتَمَلُ أَنَّهُمْ حِينَ أَمَرَهُمْ بِتَغْلِيسِ صَلَاةِ الْفَجْرِ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا كَانُوا يُصَلُّونَهَا عِنْدَ الْفَجْرِ الْأَوَّلِ حِرْصًا وَرَغْبَةً فَقَالَ أَسْفِرُوا بِهَا أَيْ أَخِّرُوهَا إِلَى أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ الثَّانِي وَيَتَحَقَّقَ وَيُقَوِّي ذَلِكَ أَنَّهُ قَالَ لِبِلَالٍ نَوِّرْ بِالْفَجْرِ قَدْرَ مَا يُبْصِرُ الْقَوْمُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِمْ انْتَهَى
قُلْتُ هَذَا جَوَابُ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ عَنْ حَدِيثِ الْإِسْفَارِ
وَفِيهِ نَظَرٌ قال بن الْهُمَامِ تَأْوِيلُ الْإِسْفَارِ بِتَيَقُّنِ الْفَجْرِ حَتَّى لَا يَكُونَ شَكٌّ فِي طُلُوعِهِ لَيْسَ بِشَيْءٍ إِذَا مَا لَمْ يَتَبَيَّنْ لَمْ يُحْكَمْ بِصِحَّةِ الصَّلَاةِ فَضْلًا عَنْ إِثَابَةِ الْأَجْرِ عَلَى أَنَّ فِي بَعْضِ رِوَايَاتِهِ مَا يَنْفِيهِ وَهُوَ أَسْفِرُوا بِالْفَجْرِ
فَكُلَّمَا أَسْفَرْتُمْ فَهُوَ أَعْظَمُ لِلْأَجْرِ انْتَهَى
وَقَالَ الْحَافِظُ فِي الدِّرَايَةِ فِي هَذَا التَّأْوِيلِ فَقَدْ أخرج الطبراني وبن عَدِيٍّ مِنْ رِوَايَةِ هُرْمُزَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ جَدِّي رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِبِلَالٍ يَا بِلَالُ نَوِّرْ بِصَلَاةِ الصُّبْحِ حَتَّى يُبْصِرَ الْقَوْمُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِمْ مِنَ الْإِسْفَارِ
وَقَدْ ذَكَرَ الزَّيْلَعِيُّ رِوَايَاتٍ أُخْرَى تَدُلُّ عَلَى نَفْيِ هَذَا التَّأْوِيلِ
وَقِيلَ إِنَّ الْأَمْرَ بِالْإِسْفَارِ خَاصٌّ فِي اللَّيَالِي الْمُقْمِرَةِ لِأَنَّ أَوَّلَ الصُّبْحِ لَا يَتَبَيَّنُ فِيهَا فَأُمِرُوا بِالْإِسْفَارِ احْتِيَاطًا كَذَا فِي النِّهَايَةِ
وَحَمَلَهُ بَعْضُهُمْ عَلَى اللَّيَالِي الْمُعْتِمَةِ
وَحَمَلَهُ بَعْضُهُمْ عَلَى اللَّيَالِي الْقَصِيرَةِ لِإِدْرَاكِ النُّوَّامِ الصَّلَاةَ
قَالَ مُعَاذٌ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ إِذَا كَانَ فِي الشِّتَاءِ فَغَلِّسْ بِالْفَجْرِ وَأَطِلِ الْقِرَاءَةَ قَدْرَ مَا يُطِيقُ النَّاسُ وَلَا تُمِلَّهُمْ وَإِذَا كَانَ فِي الصَّيْفِ فَأَسْفِرْ بِالْفَجْرِ فَإِنَّ اللَّيْلَ قَصِيرٌ وَالنَّاسَ نيام فأمهلهم حتى يدركوا كذا نقله القارىء فِي الْمِرْقَاةِ عَنْ شَرْحِ السُّنَّةِ
قُلْتُ وَرَوَاهُ بَقِيُّ بْنُ مَخْلَدٍ
قُلْتُ أَسْلَمُ الْأَجْوِبَةِ وَأَوْلَاهَا ما قال الحافظ بن الْقَيِّمِ فِي إِعْلَامِ الْمُوَقِّعِينَ بَعْدَ ذِكْرِ حَدِيثِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ مَا لَفْظُهُ وَهَذَا بَعْدَ ثُبُوتِهِ إِنَّمَا الْمُرَادُ بِهِ الْإِسْفَارُ دَوَامًا لَا ابْتِدَاءً فَيَدْخُلُ فِيهَا مُغْلِسًا وَيَخْرُجُ مِنْهَا مُسْفِرًا كَمَا كَانَ يَفْعَلُهُ صلى الله عليه وسلم
فَقَوْلُهُ مُوَافِقٌ لِفِعْلِهِ لَا مُنَاقِضٌ لَهُ وَكَيْفَ يُظَنُّ بِهِ الْمُوَاظَبَةُ عَلَى فِعْلِ مَا الْأَجْرُ الأعظم في خلافه انتهى كلام بن الْقَيِّمِ
وَهَذَا هُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ الطَّحَاوِيُّ فِي شَرْحِ الْآثَارِ وَقَدْ بَسَطَ الْكَلَامَ فِيهِ وَقَالَ فِي آخِرِهِ فَاَلَّذِي يَنْبَغِي الدُّخُولُ فِي الْفَجْرِ فِي وَقْتِ التَّغْلِيسِ وَالْخُرُوجُ مِنْهَا فِي وَقْتِ الْإِسْفَارِ عَلَى مُوَافَقَةِ مَا رُوِّينَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ انْتَهَى كَلَامُ الطَّحَاوِيِّ
فَإِنْ قُلْتَ يَخْدِشُ هَذَا الْجَمْعَ حَدِيثُ عَائِشَةَ فَفِيهِ أَنَّ النِّسَاءَ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلَاةَ لَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الْغَلَسِ رَوَاهُ الْجَمَاعَةُ وَالْبُخَارِيُّ
وَلَا يَعْرِفُ بَعْضُهُنَّ بَعْضًا
তুহফাতুল আহওয়াযী
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 409
যখন তা ফর্সা হয়। হাফেয (ইবনে হাজার) ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে এ কথা বলেছেন।
ইবনুল আসীর ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে বলেন, তাঁরা বলেছেন যে, এর সম্ভাবনা রয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁদেরকে ফজরের ওয়াক্তের শুরুতে অন্ধকার থাকতেই (তাগলিস) সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহবশত প্রথম ফজরের (ফজরে কাযিব) সময়ই তা আদায় করে নিতেন। ফলে তিনি বললেন, ‘তোমরা একে ফর্সা করো’ অর্থাৎ সালাতকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করো যতক্ষণ না দ্বিতীয় ফজর (ফজরে সাদিক) উদিত হয় ও সুনিশ্চিত হয়। এর সপক্ষে জোরালো যুক্তি হলো বেলালের প্রতি তাঁর এই উক্তি: ‘ফজরকে ততক্ষণ আলোকিত করো যতক্ষণ না লোকেরা তাদের তীরের পতনের স্থান দেখতে পায়।’ সমাপ্ত।
আমি বলছি, এটি ইমাম শাফিঈ ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে ‘ইসফার’ সংক্রান্ত হাদীসের উত্তর।
তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। ইবনুল হুমাম বলেন, ফজরের উদয় সম্পর্কে যেন কোনো সন্দেহ না থাকে সেজন্য সুনিশ্চিত হওয়াকে ‘ইসফার’ বলে ব্যাখ্যা করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ফজর স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তো সালাত সহীহ হওয়ারই হুকুম দেওয়া হয় না, সওয়াব প্রাপ্তি তো পরের কথা। এছাড়া কোনো কোনো বর্ণনায় এমন শব্দ এসেছে যা এই ব্যাখ্যাকে নাকচ করে দেয়, আর তা হলো: ‘তোমরা ফজরকে ফর্সা করো’।
‘তোমরা ফজরকে যতটা ফর্সা করবে, সওয়াব তত বেশি হবে।’ সমাপ্ত।
হাফেয (ইবনে হাজার) ‘আদ-দিরায়া’ গ্রন্থে এই ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে বলেন, তাবারানী ও ইবনে আদী হুরমুয ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার দাদা রাফে ইবনে খাদীজকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেলালকে বলেছেন, ‘হে বেলাল! ভোরের সালাতকে আলোকিত করো, যেন লোকেরা ফর্সা হওয়ার কারণে তাদের তীরের পতনের স্থান দেখতে পায়।’
যয়লাঈ আরও কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা এই ব্যাখ্যাকে নাকচ করার প্রমাণ দেয়।
বলা হয়েছে যে, ইসফারের আদেশটি কেবল চাঁদনী রাতগুলোর জন্য নির্দিষ্ট; কারণ সেসব রাতে ফজরের শুরুটা স্পষ্ট বোঝা যায় না। তাই সতর্কতামূলকভাবে ফর্সা হওয়ার পর সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে এমনটিই রয়েছে।
কেউ কেউ একে মেঘাচ্ছন্ন বা ঘোর অন্ধকার রাতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন।
আবার কেউ কেউ একে ছোট রাতগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তিরা সালাত পেতে পারে।
মুআয (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন বললেন: ‘যখন শীতকাল হবে, তখন ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে (তাগলিস) আদায় করবে এবং মানুষের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী কিরাত দীর্ঘ করবে, তবে তাদের বিরক্ত করবে না। আর যখন গ্রীষ্মকাল হবে, তখন ফজরকে ফর্সা (ইসফার) করে আদায় করবে; কেননা রাত ছোট হয় এবং মানুষ তখন ঘুমে থাকে, তাই তাদের সময় দাও যেন তারা সালাত পায়।’ মোল্লা আলী কারী ‘মিরকাত’ গ্রন্থে ‘শারহুস সুন্নাহ’ থেকে এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন।
আমি বলছি, বাকী ইবনে মাখলাদও এটি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি, সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম উত্তর হলো হাফেয ইবনুল কাইয়্যিম ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ গ্রন্থে রাফে ইবনে খাদীজের হাদীসটি উল্লেখ করার পর যা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো: ‘এই হাদীসটি সাব্যস্ত হওয়ার পর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাতের সমাপ্তিতে ইসফার (ফর্সা হওয়া), শুরুতে নয়। অর্থাৎ সালাত শুরু হবে অন্ধকার থাকতে (তাগলিস) আর শেষ হবে ফর্সা অবস্থায় (ইসফার), যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন।’
‘সুতরাং তাঁর কথা তাঁর কাজের সাথে সংগতিপূর্ণ, সাংঘর্ষিক নয়। আর কীভাবে এটি ধারণা করা যেতে পারে যে, তিনি সর্বদা এমন একটি আমল করবেন যার বিপরীতে আমল করলে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়?’ ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য এখানেই শেষ।
ইমাম তহাবী ‘শারহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থে এই মতটিই বেছে নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি আলোচনার শেষে বলেন: ‘সুতরাং উচিত হলো অন্ধকারের (তাগলিস) সময় ফজরের সালাতে প্রবেশ করা এবং ফর্সা হওয়ার (ইসফার) সময় তা থেকে বের হওয়া, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের থেকে আমাদের বর্ণিত বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটিই ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের অভিমত।’ তহাবীর বক্তব্য সমাপ্ত।
যদি আপনি বলেন, আয়েশা (রা.)-এর হাদীসটি এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়; কারণ তাতে আছে যে, মহিলারা সালাত শেষ করে যখন নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন, তখন অন্ধকারের কারণে কেউ তাঁদের চিনতে পারত না। হাদীসটি জামাআত (প্রধান হাদীসবিদগণ) ও বুখারী বর্ণনা করেছেন।
এবং তাঁরা একে অপরকেও চিনতে পারতেন না।