Part 1 | Page 290
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 290
সৈন্যবাহিনী প্রস্থান করার পর তিনি তাদের অবস্থানের জায়গায় আসলেন এবং দেখলেন সেখানে কোনো আহ্বানকারী বা উত্তর প্রদানকারী নেই। অতঃপর তিনি তার নিজের নির্ধারিত অবস্থানেই রয়ে গেলেন এবং জানতেন যে, তারা যখন তাকে খুঁজে পাবে না তখন অবশ্যই তার সন্ধানে সেখানে ফিরে আসবে। তিনি বসে থাকা অবস্থায় তাঁর চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল আস-সুলামী (রা.) সেনাবাহিনীর পশ্চাদভাগে ছিলেন। তিনি শেষ রাতে পথ চলে ভোরে তাঁর অবস্থানের স্থানে পৌঁছালেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষের অবয়ব দেখতে পেলেন। দেখা মাত্রই তিনি তাঁকে চিনে ফেললেন; কারণ পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে তিনি তাঁকে দেখেছিলেন। তাঁকে চিনে ফেলে সাফওয়ান যখন ‘ইন্নালিল্লাহ’ পাঠ করলেন, তখন তাঁর সেই শব্দে আয়েশা (রা.) জাগ্রত হলেন। আয়েশা (রা.) তাঁর চাদর দিয়ে নিজের চেহারা ঢেকে নিলেন। সাফওয়ান (রা.) তাঁর সাথে কোনো কথা বলেননি; এমনকি তিনি তাঁর উটটি বসালেন এবং উটের সামনের পায়ে পা রাখলেন। অতঃপর আয়েশা (রা.) তাতে আরোহণ করলেন এবং সাফওয়ান উটের লাগাম ধরে এগিয়ে চললেন যতক্ষণ না তাঁরা সেনাবাহিনীর নাগাল পেলেন। তখন বাহিনীটি দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড উত্তাপে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এরপর এই ঘটনায় যারা ধ্বংস হওয়ার ছিল তারা ধ্বংস হলো। আর এই অপপ্রচারের মূল হোতা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। যখন তাঁরা মদীনায় পৌঁছালেন, আয়েশা (রা.) এক মাস অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেন। এদিকে মানুষ অপবাদ রটনাকারীদের রটনায় মগ্ন ছিল, অথচ তিনি এর কিছুই জানতেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নিকট আসতেন, সালাম দিতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন, ‘তোমাদের সেই (রোগী) কেমন আছে?’ এরপর তিনি চলে যেতেন। আয়েশা (রা.) তাঁর থেকে এই আচরণই প্রত্যক্ষ করছিলেন...