Part 2 | Page 153
খন্ডঃ 2 | পৃষ্ঠাঃ 153
আজ আমীরুল মুমিনীন এই মিম্বরের ওপর অবশ্যই এমন এক বক্তব্য রাখবেন, যা ইতিপূর্বে কেউ রাখেননি। বর্ণনাকারী বলেন, এতে সাঈদ ইবনে যায়িদ রাগান্বিত হয়ে বললেন, "তিনি এমন কী কথা বলবেন যা তাঁর আগে কেউ বলেননি?" অতঃপর ওমর যখন মিম্বরে আরোহণ করলেন, মুয়াজ্জিন আজান শুরু করলেন। আজান শেষ হলে ওমর দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "পর সমাচার এই যে, আমি এমন একটি কথা বলতে চাই যা বলা আমার জন্য নির্ধারিত ছিল। আমি জানি না, সম্ভবত এটি আমার মৃত্যুর প্রাক্কালে হচ্ছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করবে এবং স্মরণে রাখবে, সে যেন তা বর্ণনা করে যেখানেই তার বাহন তাকে নিয়ে পৌঁছায়। আর যে ব্যক্তি তা স্মরণে রাখতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তার জন্য আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা আমি বৈধ করছি না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তার মধ্যে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) আয়াতও ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি এবং স্মরণে রেখেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও রজম করেছি। আমি আশঙ্কা করছি যে, মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কোনো বক্তা হয়তো বলবে, 'আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান খুঁজে পাচ্ছি না'; ফলে তারা আল্লাহর অবতীর্ণ একটি আবশ্যিক বিধান পরিত্যাগ করে পথভ্রষ্ট হবে। জেনে রেখো, রজম ওই বিবাহিত ব্যক্তির ওপর অবধারিত যে ব্যভিচার করেছে, যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় অথবা গর্ভধারণ বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। অতঃপর আমরা এ-ও পাঠ করতাম যে, 'তোমরা তোমাদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ো না।' তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা আমার এমন অতিপ্রশংসা করো না, যেমনটি খ্রিস্টানরা মরিয়ম-তনয় ঈসার ক্ষেত্রে করেছে। আমি তো কেবল তাঁর একজন বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো—আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' অতঃপর আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি বলছে—'আমীরুল মুমিনীন মারা গেলে আমি অমুকের হাতে বায়আত গ্রহণ করব।' কেউ যেন এই বলে বিভ্রান্ত না হয় যে, আবু বকরের বায়আত একটি আকস্মিক ঘটনা ছিল; প্রকৃতপক্ষে তা তেমনই ছিল। তবে আল্লাহ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের থেকে এর ক্ষতি দূর করেছেন। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার প্রতি আবু বকরের ন্যায় (মর্যাদার কারণে) মানুষের একনিষ্ঠ আনুগত্য ধাবিত হয়; আর তাঁর ইনতিকালের সময় তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন।"