Part 2 | Page 211
খন্ডঃ 2 | পৃষ্ঠাঃ 211
তারা বাহুরাশিরে উপনীত হয়ে নদী পারাপারের অগভীর স্থানটি সন্ধান করলেন, কিন্তু সেটির হদিস পেলেন না। তখন মাদায়েনের অধিবাসী জনৈক অনারব ব্যক্তি সাদ-কে বললেন, ‘আমি আপনাদের নদী পার হওয়ার এমন একটি পথের সন্ধান দেব, যার মাধ্যমে তারা পলায়ন করার পূর্বেই আপনারা তাদের নাগাল পাবেন।’ অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে পারাপারের একটি স্থানে পৌঁছালেন। হাশিম ইবন উতবাহ ইবন আবি ওয়াক্কাস পদব্রজে সর্বপ্রথম সেই স্থানটি অতিক্রম করলেন। তিনি পার হওয়ার পর তার অশ্বারোহী বাহিনী তাকে অনুসরণ করল। এরপর ইয়াদ ইবন গুনাম তার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে পার হলেন। অতঃপর একে একে সাধারণ মানুষ তা অতিক্রম করে ওপারে চলে গেলেন। বলা হয়ে থাকে যে, নদী পার হওয়ার সেই স্থানটি বর্তমান সময় পর্যন্ত আর পরিচিত হয়নি। অতঃপর মুসলিমরা একটি দীর্ঘ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সাবাতে (আচ্ছাদিত পথ) পৌঁছালেন এবং সেখানে শত্রুপক্ষের অতর্কিত আক্রমণের আশঙ্কা করলেন। ফলে তারা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। হাশিম ইবন উতবাহ ইবন আবি ওয়াক্কাস সর্বপ্রথম তার বাহিনী নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি তা অতিক্রম করলেন, তখন লোকজনের উদ্দেশ্যে তলোয়ার নেড়ে ইশারা করলেন; ফলে তারা বুঝতে পারলেন যে সেখানে ভয়ের কোনো কারণ নেই। এরপর খালিদ ইবন উরফাতাহ তার অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে পার হলেন। অতঃপর সাদ লোকজনের সাথে মিলিত হলেন এবং তারা জালুলা পর্যন্ত পৌঁছালেন। সেখানে পারসিকদের একটি বড় দল অবস্থান করছিল এবং সেখানেই জালুলার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আল্লাহ পারসিকদের পরাজিত করলেন এবং মুসলিমরা সেখান থেকে কাদিসিয়ার যুদ্ধের চেয়েও অধিক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করলেন। সাদ উমর ইবনুল খাত্তাব-এর নিকট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিমদের বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখলেন। উমর তাকে লিখে পাঠালেন যে, ‘তুমি যেখানে আছো সেখানেই অবস্থান করো এবং এর বাইরে অন্য কিছু অন্বেষণ করো না।’ সাদ তাকে পুনরায় লিখলেন, ‘এটি কেবল একটি ছোট সেনাদল ছিল যাদের আমরা ধরে ফেলেছি এবং সমগ্র ভূখণ্ড আমাদের সামনে উন্মুক্ত।’ তখন উমর তাকে পুনরায় লিখে পাঠালেন, ‘তুমি সেখানেই অবস্থান করো।’