সহীহ ইবনু হিব্বান
1092 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا الْمُطَّلِبُ بْنُ حَنْطَبٍ: «أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَتَوَضَّأُ ثَلَاثًا ثَلَاثًا، يُسْنِدُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1089)
মুত্তালিব বিন হানতব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ওযূর অঙ্গসমূহ তিনবার তিনবার করে ধৌত করতেন, তিনি এটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে সম্পর্কিত করেন।”[1]
[1] নাসাঈ: ১/৬২; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৭২; ইবনু মাজাহ: ৪৪১৪। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির রাবীদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (124)، «صحيح سنن ابن ماجه» (414).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات، وفي سماع المطلب من عبد الله بن عمر خلاف، وحبان: هو ابن موسى بن سوار المروزي الكشميهني، وعبد الله: هو ابن المبارك.
1093 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مَالِكٍ الْخُوَارِزْمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَنَا فِي الْبَيْتِ، فَدَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَتَيْنَاهُ بِتَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ فِيهِ مَاءٌ، فَتَوَضَّأَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ». [5: 2]
رقم طبعة با وزير = (1090)
আব্দুল্লাহ বিন যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বাড়িতে আমাদের কাছে ছিলেন। তিনি ওযূর পানি আনতে বললেন, ফলে আমরা তাঁর কাছে পিতলের একটি পাত্রে পানি নিয়ে আসলাম। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন; তিনি তাঁর মুখ ধৌত করলেন তিনবার, তাঁর দুই হাত ধৌত করেন দুইবার, মাথা মাসেহ করেন; তিনি তাঁর হাত দুটিকে মাথার সম্মুখভাগ থেকে পিছনে নেন এবং পিছনে থেকে সম্মুখভাগে নিয়ে আসেন এবং তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪০; সহীহ বুখারী: ১৯৭; দারেমী: ১/১৭৭; সহীহ বুখারী: ১৮৬; সহীহ মুসলিম: ২৩৫; সুনান বাইহাকী: ১/৫০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৮; তিরমিযী: ৪৭; নাসাঈ: ১/৭২; দারাকুতনী: ১/৮১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৫৬: মুসনাদ আহমাদ: ৪/৩৯; আবূ দাঊদ: ১১৯; দারেমী: ১/১৭৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২২৪; আত তায়ালিসী: ১/৫১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১০৭।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - مضى (1074). تنبيه!! رقم (1074) = (1077) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، صالح بن مالك الخوارزمي أبو عبد الله، قال الخطيب في «تاريخ بغداد» 9/ 316: كان صدوقاً، وباقي رجاله على شرط الشيخين.
1094 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ جُوصَا أَبُو الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنِ ابْنِ * ثَوْبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، [ص:374] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1091)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযূর অঙ্গসমূহ দুইবার দুইবার করে ধুয়েছেন।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/১১; আবূ দাঊদ: ১৩৬; তিরমযী: ৪৩; সুনান বাইহাকী: ১/৭৯; হাকিম: ১/১৫০; সহীহ বুখারী: ১৫৮; মুসনাদ আহমাদ: ৪/৪১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১২৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «صحيح أبي داود» (125). * [ابن] قال الشيخ: في الأصل: (أبي).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، وابن ثوبان هو عبد الرحمن بن ثابت مختلف فيه، وباقي رجاله ثقات.
1095 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِوُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَتَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1092)
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওযূ সম্পর্কে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি জানি। অতঃপর তিনি ওযূর অঙ্গসমূহ একবার একবার করে ধৌত করেছেন।”[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (127): خ.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1096 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي صَدَقَةُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَقِيلِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ، أَصَابَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ امْرَأَةَ رَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَافِلًا أَتَى زَوْجُهَا وَكَانَ غَائِبًا، فَلَمَّا أُخْبِرَ حَلَفَ لَا يَنْتَهِي حَتَّى يُهْرِيقَ فِي أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَمًا، فَخَرَجَ يَتْبَعُ أَثَرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْزِلًا، فَقَالَ: «مَنْ رَجُلٌ يَكْلَؤُنَا لَيْلَتَنَا هَذِهِ؟ » فَانْتُدِبَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَا: [ص:376] نَحْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَكُونَا بِ فَمِ الشِّعْبِ»، قَالَ: وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ نَزَلُوا إِلَى شِعْبٍ مِنَ الْوَادِي، فَلَمَّا خَرَجَ الرَّجُلَانِ إِلَى فَمِ الشِّعْبِ، قَالَ الْأَنْصَارِيُّ لِلْمُهَاجِرِيِّ: أَيُّ اللَّيْلِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أَكْفِيَكَ، أَوَّلَهُ أَوْ آخِرَهُ؟، قَالَ: اكْفِنِي أَوَّلَهُ، قَالَ: فَاضْطَجَعَ الْمُهَاجِرِيُّ فَنَامَ، وَقَامَ الْأَنْصَارِيُّ يُصَلِّي، وَأَتَى زَوْجُ الْمَرْأَةِ، فَلَمَّا رَأَى شَخَصَ الرَّجُلِ، عَرَفَ أَنَّهُ رَبِيئَةَ الْقَوْمِ، فَرَمَاهُ بِسَهْمٍ، فَوَضَعَهُ فِيهِ، فَنَزَعَهُ، فَوَضَعَهُ، وَثَبَتَ قَائِمًا يُصَلِّي، ثُمَّ رَمَاهُ بِسَهْمٍ آخَرَ، فَوَضَعَهُ فِيهِ، فَنَزَعَهُ، وَثَبَتَ قَائِمًا يُصَلِّي، ثُمَّ عَادَ لَهُ الثَّالِثَةَ، فَوَضَعَهُ فِيهِ، فَنَزَعَهُ، فَوَضَعَهُ، ثُمَّ رَكَعَ فَسَجَدَ، ثُمَّ أَهَبَّ صَاحِبَهُ وَقَالَ: اجْلِسْ، فَقَدْ أُتِيتُ، فَوَثَبَ، فَلَمَّا رَآهُمَا الرَّجُلُ عَرَفَ أَنَّهُ قَدْ نَذِرَ بِهِ، هَرَبَ، فَلَمَّا رَأَى الْمُهَاجِرِيُّ مَا بِالْأَنْصَارِيِّ مِنَ الدِّمَاءِ، قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، أَفَلَا أَهْبَبْتَنِي أَوَّلَ مَا رَمَاكَ؟، قَالَ: كُنْتُ فِي سُورَةٍ أَقْرَؤُهَا، فَلَمْ أُحِبَّ أَنْ أَقْطَعَهَا حَتَّى أُنْفِذَهَا، فَلَمَّا تَابَعَ عَلَيَّ الرَّمْيَ رَكَعْتُ فَآذَنْتُكَ، وَايْمُ اللَّهِ لَوْلَا أَنْ أُضَيِّعَ ثَغْرًا أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحِفْظِهِ، لَقَطَعَ نَفْسِي قَبْلَ أَنْ أَقْطَعَهَا أَوْ أُنْفِذَهَا [4: 50]
رقم طبعة با وزير = (1093)
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে যাতুর রিকা‘ যুদ্ধে বের হয়েছিলাম। অতঃপর মুসলিমদের এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক ব্যক্তির স্ত্রীকে হত্যা করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন, তখন সেই মহিলার স্বামী বাড়িতে আসে, যুদ্ধের সময় সে বাড়িতে উপস্থিত ছিল না। অতঃপর যখন তাকে (তার স্ত্রী হত্যা হওয়ার ব্যাপারটি) জানানো হলো, তখন সে শপথ করলো যে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথীদের মাঝে কাউকে হত্যা না করা পর্যন্ত সে ক্ষ্যান্ত যাবে না। ফলে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পদচিহ্ন অনুসরন করে রওয়ানা হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাস্তায় এক জায়গায় যাত্রা বিরতি দিলেন এবং বললেন, “আজকের রাতে আমাদের কে পাহারা দিবে?” তখন একজন আনসারী ও একজন মুহাজির সাহাবী তাঁর আহবানে সাড়া দিলেন। তারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা পাহারা দিব।” তখন তিনি বলেন, “তবে তোমরা পাহাড়ের গিরিপথে অবস্থান করবে।” অতঃপর তারা যখন গিরিপথে গেলেন, তখন আনসারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বললেন, “আপনার কাছে রাতের কোন অংশ অর্থাৎ প্রথম অংশ না শেষ অংশ প্রিয় যাতে আমি আপনার পক্ষে পাহারা দিব?” জবাবে তিনি বললেন, “আপনি আমার পক্ষে রাতের প্রথম অংশে পাহারা দেন। রাবী বলেন, “অতঃপর মুহাজির সাহাবী ঘুমিয়ে যান। আর আনসারী সাহাবী সালাতে দাঁড়িয়ে যান। এমন অবস্থায় ঐ মহিলার স্বামী আসে, অতঃপর সে যখন আনসারী সাহাবীর অবয়ব দেখতে পায়, তখন সে বুঝতে পারে যে, তিনি লোকদের পাহারাদার। ফলে তিনি তাকে একটি তীর মারে এবং তাকে তীরবিদ্ধ করে। আনসারী সাহাবী তীরটি খুলে ফেলে রেখে দেয় এবং স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় অব্যাহত রাখেন। তারপর সে আরেকটি একটি তীর মারে এবং তাকে তীরবিদ্ধ করে। আনসারী সাহাবী তীরটি খুলে ফেলে রেখে দেয় এবং স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় অব্যাহত রাখেন। তারপর সে তৃতীয়বার তাকে তীর মারেন এবং তাকে তীরবিদ্ধ করে। আনসারী সাহাবী তীরটি খুলে ফেলে রেখে দেয় তারপর তিনি রুকু করেন এবং সাজদা করেন। তারপর তিনি তাঁর সাথীকে জাগিয়ে তুলেন এবং বলেন, “উঠে বসুন, আমি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি।” অতঃপর তিনি লাফিয়ে উঠেন। তারপর সে লোক যখন তাদের দুইজনকে দেখলো, তখন সে বুঝতে পারলো যে, সাহাবীরা (তার উপস্থিতি) টের পেয়েছেন, ফলে সে পলায়ন করলো। অতঃপর মুহাজির ব্যক্তি যখন আনসারী ব্যক্তির রক্তাক্ত অবস্থা দেখলেন, তখন বললেন, “সুবহানাল্লাহ! সে প্রথম যখন আপনাকে তীর মারে, তখনই কেন আমাকে জাগিয়ে দেননি?” জবাবে তিনি বলেন, “আমি একটি সূরা পাঠ করছিলাম। ফলে সেটা শেষ না করা পর্যন্ত তা ছেড়ে দেওয়াকে আমি পছন্দ করিনি! তারপর যখন সে পরপর আমাকে তীর মারছিল, তখন আমি রুকুতে যাই। অতঃপর আমি আপনাকে জানান দেই। আল্লাহর কসম, যদি এমন না হতো যে, আমি রাসূল (সা.) এর কর্তৃক নির্দেশিত প্রহরা নষ্ট করে ফেলবো, তবে অবশ্যই হয়তো আমি সূরাটির পাঠ শেষ করতাম নয়তো তা পাঠ করার জন্য আমার জীবন বিসর্জন দিয়ে দিতাম!”[1]
[1] সহীহ বুখারী: ২/২৮০; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৩৪৩; আবূ দাউদ: ১৯৮; দারাকুতনী: ১/২২৩; সুনান বাইহাকী: ১/১৪০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৯৩।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (193).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده ضعيف، عقيل بن جابر لم يوثقه غير المؤلف، ولم يرو عنه غير صدقة بن يسار، وباقي رجاله ثقات
1097 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ ابْنَ عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيَّ حَدَّثَهُ، أَنَّ يَعِيشَ بْنَ الْوَلِيدِ حَدَّثَهُ، أَنَّ مَعْدَانَ بْنَ طَلْحَةَ حَدَّثَهُ، أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ حَدَّثَهُ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاءَ فَأَفْطَرَ، فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ، فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: صَدَقَ، أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءًا». [5: 9]
رقم طبعة با وزير = (1094)
আবূদ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার বমি করেন অতঃপর সিয়াম ভঙ্গ করেন।” রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাকে দামেস্কের মসজিদে পাই এবং আমি তাঁর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বলেন, “তিনি ঠিকই বলেছেন। আমি তাঁকে ওযূর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৯৫৬; হাকিম: ১/৪২৬; নাসাঈ: ৮/২৩৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৬০; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ২/৯৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৬০।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2060).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، وأبو موسى: هو محمد بن المثنى، وابن عمرو الأوزاعي هو عبد الرحمن.
1098 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءٍ: أَيُّ حِينٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ لِلْعَتَمَةِ إِمَّا إِمَامًا وَإِمَّا خَلْوًا؟، فَقَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: اعْتَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعَتَمَةِ حَتَّى رَقَدَ النَّاسُ وَاسْتَيْقَظُوا، وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا، فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الْآنَ تَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً، وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى رَأْسِهِ، فَقَالَ: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوا هَكَذَا» [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (1095)
ইবনু জুরাইজ বলেন, আমি আতা রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, “ইমাম অবস্থায় হোক অথবা একাকী হোক কোন সময়ে ইশার সালাত আদায় করা আপনার কাছে বেশি প্রিয়?”জবাবে তিনি বলেন, “আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করেন, এমনকি লোকজন শুয়ে পড়েন আবার জাগ্রত হন, আবার শুয়ে পড়েন এবং জাগ্রত হন। অতঃপর উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সালাত, সালাত।” তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরা থেকে বের হয়ে আসেন, এমন অবস্থায় যে, যেন আমি তাঁর মাথা থেকে ফোটায় ফোটায় পানি পড়তে দেখছি, এসময় তিনি তাঁর দুই হাত মাথার উপর রেখেছিলেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি আমার উম্মাতের উপর কঠিন মনে না করতাম তবে আমি এভাবে (দেরিতে ইশার) সালাত আদায় করার নির্দেশ প্রদান করতাম।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২১১২; সহীহ বুখারী: ৫৭১; সহীহ মুসলিম: ৬৪২; তাবারানী আল কাবীর: ১১৪২৪; বাইহাকী: ১/৪৪৯; হুমাইদী: ৪৯২; নাসাঈ: ১/২৬৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৪২। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ সুনান নাসাঈ: ৫১৭।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح سنن النسائي» (517)، ويأتي (1530): ق. تنبيه!! رقم (1530) = (1532) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما، عمرو بن علي هو الفلاس، وأبو عاصم: هو الضحاك بن مخلد، وعطاء: هو ابن أبي رباح.
1099 - أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شُغِلَ ذَاتَ لَيْلَةٍ عَنْ صَلَاةِ الْعَتَمَةِ، حَتَّى رَقَدْنَا فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا، ثُمَّ رَقَدْنَا، ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا، ثُمَّ خَرَجَ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ يَنْتَظِرُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ الصَّلَاةَ غَيْرُكُمْ». [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (1096)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যস্ততার কারনে ইশার সালাত আদায়ে বিলম্ব করেন এমনকি আমরা মসজিদে শুয়ে পড়ি, তারপর আমরা জাগ্রত হই, তারপর আবার শুয়ে পড়ি আবার জাগ্রত হই, তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরা থেকে বের হয়ে আসেন এবং বলেন, “তোমরা ছাড়া পৃথিবীবাসীর আর কেউ সালাতের জন্য প্রতীক্ষা করছে না।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩৪৮; সহীহ মুসলিম:৬৩৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ২১১৫; মুসনাদ আহমাদ: ২/৮৮; সহীহ বুখারী: ৫৭০; বাযযার: ৩৭৬; মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ২/২৫০; আত তায়ালিসী: ৩৩৩; নাসাঈ: ২/১৮; তাবারানী আল কাবীর: ১০২৮৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ১৯৪।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (194): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1100 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ، فَقَالَ لِي: مَا حَاجَتُكَ؟ قُلْتُ لَهُ: ابْتِغَاءُ الْعِلْمِ، قَالَ: فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًى بِمَا يَطْلُبُ، قُلْتُ: حَكَّ فِي نَفْسِي الْمَسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ، وَكُنْتُ امْرَأً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَيْتُكَ أَسْأَلُكَ: هَلْ سَمِعْتَ مِنْهُ فِي ذَلِكَ شَيْئًا؟، قَالَ: «نَعَمْ، كَانَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا فِي سَفَرٍ - أَوْ مُسَافِرِينَ - أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ [ص:382] وَلَيَالِيهِنَّ إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ، لَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ». [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (1097) [ص:383] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: الرُّقَادُ لَهُ بِدَايَةٌ وَنِهَايَةٌ، فَبِدَايَتُهُ النُّعَاسُ الَّذِي هُوَ أَوَائِلُ النَّوْمِ، وَصِفَتُهُ أَنَّ الْمَرْءَ إِذَا كُلِّمَ فِيهِ يَسْمَعُ، وَإِنْ أَحْدَثَ عَلِمَ، إِلَّا أَنَّهُ يَتَمَايَلُ تَمَايُلًا، وَنِهَايَتُهُ زَوَالُ الْعَقْلِ، وَصِفَتُهُ أَنَّ الْمَرْءَ إِذَا أَحْدَثَ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ لَمْ يَعْلَمْ، وَإِنْ تَكَلَّمَ لَمْ يَفْهَمْ، فَالنُّعَاسُ لَا يُوجِبُ الْوُضُوءَ عَلَى أَحَدٍ قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ عَلَى أَيِّ حَالَةٍ كَانَ النَّاعِسُ، وَالنَّوْمُ يُوجِبُ الْوُضُوءَ عَلَى مَنْ وُجِدَ عَلَى أَيِّ حَالَةٍ كَانَ النَّائِمُ، عَلَى أَنَّ اسْمَ النَّوْمِ قَدْ يَقَعُ عَلَى النُّعَاسِ، وَالنُّعَاسُ عَلَى النَّوْمِ، وَمَعْنَاهُمَا مُخْتَلِفَانِ، وَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا بِقَوْلِهِ: {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} [البقرة: 255]، وَلَمَّا قَرَنَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَبَرِ صَفْوَانَ بَيْنَ النَّوْمِ، وَالْغَائِطِ، وَالْبَوْلِ، فِي إِيجَابِ الْوُضُوءِ مِنْهَا، وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَ الْبَوْلِ وَالْغَائِطِ فُرْقَانٌ، وَكَانَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا قَلِيلُ أَحَدِهِمَا أَوْ كَثِيرُهُ أَوْجَبَ عَلَيْهِ الطَّهَارَةَ، سَوَاءً كَانَ الْبَائِلُ قَائِمًا، أَوْ قَاعِدًا، أَوْ رَاكِعًا، أَوْ سَاجِدًا، كَانَ كُلُّ مَنْ نَامَ بِزَوَالِ الْعَقْلِ، وَجَبَ عَلَيْهِ الْوُضُوءُ، سَوَاءً اخْتَلَفَتْ أَحْوَالُهُ، أَوِ اتَّفَقَتْ، لِأَنَّ الْعِلَّةَ فِيهِ زَوَالُ الْعَقْلِ لَا تَغَيُّرُ الْأَحْوَالِ عَلَيْهِ، كَمَا أَنَّ الْعِلَّةَ فِي الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وُجُودُهُمَا لَا تَغَيُّرُ أَحْوَالِ الْبَائِلِ وَالْمُتَغَوِّطِ فِيهِ.
যির্র রহিমাহুল্লাহ বলেন, “একবার আমি সাফওয়ান বিন আস্সাল আল মুরাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসি, তিনি আমাকে বলেন, “আপনার কী প্রয়োজন?” আমি বললাম, “ইলম অন্বেষণে এসেছি।” তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই ফেরেস্তাগণ তাদের পাখা বিছিয়ে দেন, ইলম অন্বেষনকারী যা অন্বেষন করে, তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে।” আমি বললাম, “পেশাব ও পায়খানা করার পর মোজার উপর মাসেহ করার ব্যাপারে আমার মনে কিছুটা দ্বিধার সৃষ্টি করে। আপনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন সাহাবী, এজন্য আমি আপনার কাছে আসলাম এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য। আপনি কি এই ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে কিছু শুনেছেন?” তিনি বলেন, “হ্যাঁ, যখন আমরা সফরে অথবা (রাবীর সন্দেহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) আমরা মুসাফির থাকতাম, তখন তিনি আমাদের আদেশ করতেন যেন আমরা আমাদের মোজাগুলো তিনদিন না খুলে ফেলি। তবে যদি আমরা জুনুবী তথা নাপাক হয়ে যাই (তাহলে খুলতে হবে) কিন্তু পেশাব, পায়খানা ও ঘুমের কারণে খুলতে হবে না।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ঘুমের দুটি অবস্থা রয়েছে; শুরুর অব্স্থা এবং চূড়ান্ত অবস্থা। শুরুর অবস্থা হলো তন্দ্রা, এটা ঘুমের প্রাথমিক অবস্থা, এর বিবরণ হলো এই অবস্থায় কথা বলা হলে সে শুনতে পায়, বায়ু ত্যাগ করলে, সে জানতে পারে, তবে সে ক্রমান্বয়ে ঢলে পড়ে। আর চূড়ান্ত অবস্থা হলো জ্ঞান লোপ পাওয়া। এর বিবরণ হলো মানুষ এই অবস্থায় বায়ু ত্যাগ করলে জানতে পারে না, কথা বলা হলে সে বুঝতে পায় না। কাজেই তন্দ্রা কম হোক কিংবা বেশি হোক, তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তি যে অবস্থাতেই যাক না কেন তন্দ্রা ওযূ অবধারিত করে না। পক্ষান্তরে ঘুম ওযূ অবধারিত করে দেয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন। বস্তুত আরবিতে ঘুম শব্দটি তন্দ্রা অর্থে এবং তন্দ্রা অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু উভয়ের অর্থ ভিন্ন। মহান আল্লাহ উভয় শব্দের মাঝে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন, لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ (তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম আচ্ছন্ন করে না - সূরা আল বাকারাহ: ২৫৫) যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে ওযূ ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ঘুম, পেশাব ও পায়খানাকে একত্রিত করেছেন আর পেশাব ও পায়খানার মাঝে কোন পার্থক্য নেই এবং এই দুটো অল্প পরিমাণে হোক, বেশি পরিমাণে হোক ওযূ অবধারিত হয়ে যাবে চাই পেশাবকারী ব্যক্তি দাঁড়ানো, বসা, রুকু বা সিজদারত অবস্থায় থাকুক। অনুরুপভাবে যে ব্যক্তি জ্ঞান লোপ পায় এমন ঘুম ঘুমায়, তবে তার উপর ওযূ অবধারিত হয়ে যাবে, চাই তার অবস্থা বিভিন্ন রকম হয় অথবা এক রকম হয়। কেননা এখানে ওযূ ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো জ্ঞান লোপ পাওয়া; অবস্থার বিভিন্নতা নয়, যেমনভাবে পেশাব ও পায়খানার ক্ষেত্রে ওযূ ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো এই দুটি পাওয়া যাওয়া; পেশাবকারী ও পায়খানাকারীর অবস্থার বিভিন্নতা নয়`।
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 62).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، عاصم: هو ابن بهدلة حديثه حسن، وباقي رجاله ثقات.
1101 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، [ص:384] عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ مَاذَا عَلَيْهِ؟ فَإِنْ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَهُ، قَالَ الْمِقْدَادُ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِذَا وَجَدَ ذَلِكَ، فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ، وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ»
رقم طبعة با وزير = (1098) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: مَاتَ الْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ بِالْجُرُفِ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَثَلَاثِينَ، وَمَاتَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ، وَقَدْ سَمِعَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ الْمِقْدَادَ وَهُوَ ابْنُ دُونِ عَشْرِ سِنِينَ.
মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নিশ্চয়ই আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে আদেশ করেন তিনি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি তার স্ত্রীর কাছাকাছি হলে মযী (উত্তেজনাবশত বীর্যরস) বের হয়, এই অবস্থায় তার করণীয় কী? কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মেয়ে আমার স্ত্রী, এজন্য আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছি।” মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই ব্যাপারে করলে তিনি জবাবে বলেন, “যখন সে এমনটা দেখতে পাবে, সে যেন তার লজ্জাস্থানে পানি ছিটা দেয় এবং সে যেন সালাতের ন্যায় ওযূ করে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মিকদাদ বিন আসওয়াদ ৩৩ হিজরীতে জুরুফে মারা যান আর সুলাইমান বিন ইয়াসার ৯৪ হিজরীতে মারা যান। সুলাইমান বিন ইয়াসার মিকদাদ বিন আসওয়াদ এর কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, যখন তার বয়স ১০ বছরেরও কম বয়স ছিল।”
[1] সহীহ মুসলিম: ৩০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২; নাসাঈ: ১/২১৪; বাইহাকী, মা‘রেফাতুস সুনান: ১/২৯২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৪০; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/২৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬০০; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫; আবূ দাঊদ: ২০৭; সুনান বাইহাকী: ১/১১৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৯০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (202).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أن في السند انقطاعاً سقط منه ابن عباس، لأن سليمان بن يسار لم يسمع من المقداد ولا من علي.
1102 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، حَدَّثَنِي الرُّكَيْنُ بْنُ الرَّبِيعِ الْفَزَارِيُّ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ*، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْيَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ، وَإِذَا رَأَيْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ». [1: 78]
رقم طبعة با وزير = (1099) [ص:386] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَ الْمِقْدَادَ أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ هَذَا الْحُكْمِ فَسَأَلَهُ وَأَخْبَرَهُ، ثُمَّ أَخْبَرَ الْمِقْدَادُ عَلِيًّا بِذَلِكَ، ثُمَّ سَأَلَ عَلِيٌّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّا أَخْبَرَهُ بِهِ الْمِقْدَادُ، حَتَّى يَكُونَا سُؤَالَيْنِ فِي مَوْضِعَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّهُمَا كَانَا فِي مَوْضِعَيْنِ أَنَّ عِنْدَ سُؤَالِ عَلِيٍّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ بِالِاغْتِسَالِ عِنْدَ الْمَنِيِّ، وَلَيْسَ هَذَا فِي خَبَرِ الْمِقْدَادِ، يَدُلُّكُ هَذَا عَلَى أَنَّهُمَا غَيْرُ مُتَضَادَّيْنِ.
আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মযীপ্রবণ মানুষ ছিলাম, ফলে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, জবাবে তিনি বলেন, “যখন তুমি মযী দেখবে, তখন তোমার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে, আর যখন তুমি বীর্য দেখবে, তখন গোসল করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হতে পারে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করার জন্য, অতঃপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উত্তর দেন অতঃপর মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে উত্তরটি জানিয়ে দেন। তারপর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক জানানো বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানান, এভাবে দুই জায়গায় দুই বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দুই জায়গায় দুইবার প্রশ্ন করা হয়, তার দলীল হলো আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর প্রশ্নের জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বীর্য দেখলে গোসল করার নির্দেশ দেন, যা মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নেই, যা প্রমাণ করে যে হাদীস দুটি স্বতন্ত্র আলাদা হাদীস।”
[1] নাসাঈ: ১/১১২; আত তায়ালিসী: ১/১৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৯২; তাহাবী, শারহুল মা‘আনিল আসার: ১/৪৬; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৪৫; আবূ দাঊদ: ২০৬; সুনান বাইহাকী: ১/১১৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬০২, ৬০৩; তিরমিযী: ১১৪; ইবনু মাজাহ: ৫০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১।)
মযী বের হওয়ার কারণে ওযূ না করে পুরুষাঙ্গ ধৌত করা সালাতের জন্য যথেষ্ট নয়; এবং কাপড়ে পানির ছিটা দেওয়ার পরিবর্তে ওযূ করা যথেষ্ট হবে (না)[1]
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (125)، «صحيح أبي داود» (201). * [قَبِيصَةَ] قال الشيخ: في الأصل: (عقبة).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم.
1103 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ، عَنْ أَبِيهِ، [ص:388] عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ: كُنْتُ أَلْقَى مِنَ الْمَذْيِ شِدَّةً، فَكُنْتُ أُكْثِرُ الِاغْتِسَالَ مِنْهُ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «إِنَّمَا يُجْزِئُكَ مِنْهُ الْوُضُوءُ»، فَقُلْتُ: فَكَيْفَ بِمَا يُصِيبُ ثَوْبِي مِنْهُ؟، قَالَ: «يَكْفِيكَ أَنْ تَأْخُذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ فَتَنْضَحَ بِهَا مِنْ ثَوْبِكَ حَيْثُ تَرَى أَنَّهُ أَصَابَهُ». [1: 78]
رقم طبعة با وزير = (1100)
সাহল বিন হানিফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি মযীর কারণে খুব কষ্টের সম্মুখীন হতাম এবং এজন্য আমি প্রচুর পরিমাণে গোসল করতাম। অতঃপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি জবাবে বলেন, “তোমার জন্য যথেষ্ট হলো ওযূ করা।” আমি বললাম, “যা আমার কাপড়ে লেগে যায়, সেটা আমি কিভাবে পরিষ্কার করবো?” জবাবে তিনি বলেন, “তোমার জন্য যথেষ্ট হলো তুমি এক অঞ্জলি পানি নিবে অতঃপর যেখানে তা লেগেছে দেখতে পাবে, সেখানে পানি ছিটা দিবে।”[2]
[1] শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বলেন, শিরোনামে ‘না’ কথাটি নেই। সম্ভবত এটা ভুল। কেননা হাদীসে কাপড়ে মযী লাগলে শুধু ওযূ যথেষ্ট এমন কথা নেই। বরং কাপড়ে পানি ছিটানো এবং ওযূ করা উভয়টির কথা বলা হয়েছে।
[2] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৯১; আবূ দাঊদ: ২১০; তিরমিযী: ১১৫; ইবনু মাজাহ: ৫০৬; দারেমী: ১/১৮৪; তাহাবী: ১/৪৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৫।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (205).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي، فقد صرح ابن إسحاق بالتحديث.
1104 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْمَاءَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ، وَإِذَا رَأَيْتَ الْمَنِيَّ فَاغْتَسِلْ». [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (1101)
আলী বিন আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি মযীপ্রবণ লোক ছিলাম। সুতরাং আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, “যখন তুমি পানি দেখবে, তখন তুমি তোমার পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং ওযূ করবে আর যখন তুমি বীর্য দেখবে, তখন গোসল করবে।”[1]
[1] সহীহ বুখারী: ২৬৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪৬; আত তায়ালিসী: ১/৪৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/১২৯; নাসাঈ: ১/৯৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৮। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1099). تنبيه!! رقم (1099) = (1102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري.
1105 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ عَلِيًّا أَمَرَ عَمَّارًا أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمَذْيِ، فَقَالَ: «يَغْسِلُ مَذَاكِيرَهُ وَيَتَوَضَّأُ». []
رقم طبعة با وزير = (1102)
রাফি‘ বিন খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন তিনি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন মযী সম্পর্কে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেন, “সে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে নিবে এবং ওযূ করবে।”[1]
[1] নাসাঈ: ১/৯৭; তাহাবী: ১/৪৫; হুমাইদী: ৩৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর অংশ ব্যতীত বাকী অংশ সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা সুবুলুস সালাম)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح دون ذكر عمار - «التعليق على سبل السلام».
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله رجال الشيخين غير إياس بن خليفة، فقد روى له النسائي ولم يوثقه غير المؤلف 4/ 34، ولم يرو عنه غير عطاء، وقال الذهبي في «الميزان»: لا يكاد يعرف، وقول الحافظ في «التقريب»: صدوق فيه ما فيه. وابن أبي نجيح: هو عبد الله بن أبي نجيح يسار الثقفي المكي ثقة روى له الستة.
1106 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ [ص:390] رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْيُ مَاذَا عَلَيْهِ؟ فَإِنْ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَهُ، قَالَ الْمِقْدَادُ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ، فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ، وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ». [3: 65]
رقم طبعة با وزير = (1103) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: قَدْ يَتَوَهَّمُ بَعْضُ الْمُسْتَمِعِينَ لِهَذِهِ الْأَخْبَارِ مِمَّنْ لَمْ يَطْلُبِ الْعِلْمَ مِنْ مَظَانِّهِ، وَلَا دَارَ فِي الْحَقِيقَةِ عَلَى أَطْرَافِهِ، أَنْ بَيْنَهَا تَضَادًّا أَوْ تَهَاتُرًا، لِأَنَّ فِي خَبَرِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي خَبَرِ إِيَاسِ بْنِ خَلِيفَةَ، أَنَّهُ أَمَرَ عَمَّارًا أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي خَبَرِ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ أَمَرَ الْمِقْدَادَ أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَيْسَ بَيْنَهَا تَهَاتُرٌ، لِأَنَّهُ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَ عَمَّارًا أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَهُ، ثُمَّ أَمَرَ الْمِقْدَادَ أَنْ يَسْأَلَهُ، فَسَأَلَهُ، ثُمَّ سَأَلَ بِنَفْسِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ مَا ذَكَرْتُ أَنْ مَتْنَ كُلِّ خَبَرٍ يُخَالِفُ مَتْنَ الْخَبَرِ الْآخَرِ، لِأَنَّ فِي خَبَرِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ» وَفِي خَبَرِ إِيَاسِ بْنِ خَلِيفَةَ: أَنَّهُ أَمَرَ عَمَّارًا أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «يَغْسِلُ مَذَاكِيرَهُ وَيَتَوَضَّأُ»، وَلَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الْمَنِيِّ الَّذِي فِي خَبَرِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَخَبَرُ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ سُؤَالٌ مُسْتَأْنَفٌ، فَيَسْأَلُ أَنَّهُ لَيْسَ بِالسُّؤَالَيْنِ الْأَوَّلَيْنِ اللَّذَيْنِ [ص:391] ذَكَرْنَاهُمَا، لِأَنَّ فِي خَبَرِ الْمِقْدَادِ: أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْيُ مَاذَا عَلَيْهِ؟ فَإِنْ عِنْدِي ابْنَتَهُ، فَذَلِكَ مَا وَصَفْنَا، عَلَى أَنَّ هَذِهِ أَسْئِلَةٌ مُتَبَايِنَةٌ، فِي مَوَاضِعَ مُخْتَلِفَةٍ، لِعِلَلٍ مَوْجُودَةٍ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهَا تَضَادُّ أَوْ تَهَاتُرٌ
মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নিশ্চয়ই আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে আদেশ করেন তিনি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি তার স্ত্রীর কাছাকাছি হলে মযী (উত্তেজনাবশত বীর্যরস) বের হয়, এই অবস্থায় তার করণীয় কী? কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মেয়ে আমার স্ত্রী, এজন্য আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করছি।” মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই ব্যাপারে করলে তিনি জবাবে বলেন, “যখন সে এমনটা দেখতে পাবে, সে যেন তার লজ্জাস্থানে পানি ছিটা দেয় এবং সে যেন সালাতের ন্যায় ওযূ করে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস শ্রবণকারীদের মাঝে যিনি সঠিক জায়গা থেকে ইলম অন্বেষন করেননি এবং যিনি প্রকৃতপক্ষে সঠিক প্রান্তে আবর্তন করেননি, তিনি কোন কোন সময় সংশয়ে পড়ে যান যে, নিশ্চয়ই হাদীসগুলোর মাঝে পারষ্পরিক বৈপরীত্ব রয়েছে। কেননা আবূ আব্দুর রহমান সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের রয়েছে (আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন), “আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়াস বিন খলীফার হাদীসে রয়েছে, তিনি আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেছিলেন তিনি যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন আর সুলাইমান বিন ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের রয়েছে তিনি মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করার জন্য। বস্তুত এসব হাদীসের মাঝে কোন বৈপরীত্ব নেই। কেননা এখানে এই সম্ভাবনা রয়েছে যে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন জিজ্ঞেস করার জন্য, অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন। তারপর তিনি মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন জিজ্ঞেস করার জন্য, অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন। তারপর তিনি নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন। আমি যা উল্লেখ করলাম তার বিশুদ্ধতার পক্ষে দলীল হলো হাদীসগুলোর প্রত্যেকটির মূল বক্তব্য অন্যটি থেকে আলাদা। কেননা আবূ আব্দুর রহমানের হাদীসে রয়েছে, “আমি প্রচুর মযীপ্রবণ মানুষ। তারপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বলেন, “যখন তুমি পানি (বীর্য) দেখবে, তখন গোসল করবে। ইয়াস বিন খলীফার হাদীসে রয়েছে, তিনি আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে আদেশ করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করার জন্য, তিনি জবাবে বলেন, “সে তার পুরুষাঙ্গ ধৌত করবে এবং ওযূ করবে।” এই হাদীসে মনীর কথা নেই, যা আবূ আব্দুর রহমানের হাদীসে রয়েছে। আর মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নতুন একটি প্রশ্ন রয়েছে, সুতরাং এমন প্রশ্ন করেন, যা পূর্বে উল্লেখিত দুই হাদীসে নেই। কেননা মিকদাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আদেশ করেন ” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করার জন্য ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যিনি তার স্ত্রীর নিকটবর্তী হলে মযী (বীর্যরস) বের হয়, এই অবস্থায় তার করণীয় কী? কেননা তাঁর মেয়ে আমার অধীনে রয়েছে অর্থাৎ আমার স্ত্রী।“ কাজেই হাদীসগুলোর প্রকৃত ব্যাপার সেটাই যা আমরা বর্ণনা করলাম, সেটা হলো প্রশ্নগুলো ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় করা, যার ফলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্নগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে; এমন নয় যে এগুলোর মাঝে বৈপরীত্ব রয়েছে।”
[1] সহীহ মুসলিম: ৩০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২২; নাসাঈ: ১/২১৪; বাইহাকী, মা‘রেফাতুস সুনান: ১/২৯২; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৪০; মুসনাদ ইমাম শাফেঈ: ১/২৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬০০; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৫; আবূ দাঊদ: ২০৭; সুনান বাইহাকী: ১/১১৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৯০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কোন মন্তব্য করেননি। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০২।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (202).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات إلا أنه منقطع.
1107 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ الْحَذَّاءُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الرُّكَيْنُ بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ عَمِيلَةَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، فَجَعَلْتُ أَغْتَسِلُ فِي الشِّتَاءِ حَتَّى تَشَقَّقَ ظَهْرِي، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ ذُكِرَ لَهُ، فَقَالَ: «لَا تَفْعَلْ، إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْيَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ، وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلَاةِ، وَإِذَا نَضَحْتَ الْمَاءَ، فَاغْتَسِلْ». [4: 49]
رقم طبعة با وزير = (1104)
আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি প্রচুর মযী প্রবণ মানুষ ছিলাম। এজন্য আমি শীতকালে গোসল করতে শুরু করলাম, ফলে আমার পিঠ ফেটে যায়। অতঃপর ব্যাপারটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আলোচনা করলাম –অথবা আলোচনা করা হলো (অধঃস্থন রাবীর সন্দেহ)- তখন তিনি জবাবে বলেন, “তুমি এরকম করবে না। যখন তুমি মযী দেখবে, তখন তুমি তোমার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে এবং সালাতের ন্যায় ওযূ করবে আর যখন তোমার বীর্যপাত ঘটবে তখন গোসল করবে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৯২; মুসনাদ আহমাদ: ১/১০৯; নাসাঈ: ১/১১১, ১১২; আত তায়ালিসী: ১/১৪; তাহাবী, শারহুল মা‘আনিল আসার: ১/৪৬; মুসনাদ আহমাদ: ১/১৪৫; আবূ দাঊদ: ২০৬; সুনান বাইহাকী: ১/১১৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৫৯; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৬০২, ৬০৩; তিরমিযী: ১১৪; ইবনু মাজাহ: ৫০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২৩। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০১।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر (1099). تنبيه!! رقم (1099) = (1102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح.
1108 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ: «أَنَّهَا كَانَتْ تَغْتَسِلُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْإِنَاءِ الْوَاحِدِ». [5: 10]
رقم طبعة با وزير = (1105)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, “তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একই পাত্রে গোসল করতেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৩০৯; নাসাঈ: ১/১২৭; সুনান বাইহাকী: ১/১৯৩; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/২০; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১০২৭; হুমাইদী: ১৫৯; আত তায়ালিসী: ১/৪২; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩৫; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৭; সহীহ বুখারী: ২৫০; আবূ দাঊদ: ২৩৮; ইবনু মাজাহ: ৩৭৬; দারেমী: ১/১৯১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭০।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (70)، «الروض» (798 و 803)، «تعليقي على ابن خزيمة» (238 و 239): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما
1109 - أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ ابْنَتِهِ، فَكَانَ إِذَا قَامَ حَمَلَهَا، وَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا». [5: 10]
رقم طبعة با وزير = (1106)
আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মেয়ে যয়নাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার মেয়ে উমামাকে কোলে নিয়ে সালাত আদায় করতেন; যখন তিনি সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকে কোলে নিতেন আর যখন সাজদায় যেতেন, তখন তাকে রেখে দিতেন।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৫৪৩; আবূ দাউদ: ৯১৭; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৭০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৯৫; সহীহ বুখারী: ৫১৬; নাসাঈ: ৩/১০; দারেমী: ১/৩১৬; তায়ালিসী: ১/১০৯; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/৯৬; হুমাইদী: ৪২২; নাসাঈ: ৩/১০; তাবারানী কাবীর: ২২/১০৬৬। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮৫১, ৮৫৩।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (851 - 853): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
1110 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ: بَيْنَمَا نَحْنُ عَلَى بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جُلُوسٌ، إِذْ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْمِلُ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهِيَ صَبِيَّةٌ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ عَلَى عَاتِقِهِ، يَضَعُهَا إِذَا رَكَعَ، وَيُعِيدُهَا عَلَى عَاتِقِهِ إِذَا قَامَ، حَتَّى قَضَى صَلَاتَهُ، يَفْعَلُ ذَلِكَ بِهَا.
رقم طبعة با وزير = (1107)
আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “তিনি বলেন, “আমরা একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরজার কাছে বসে ছিলাম, এমন সময় তিনি উমামাহ বিনতু আবূল আস বিন রবী‘, যার মা ছিলেন যাইনাব বিনতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তখন তিনি শিশু ছিলেন, তাকে কোলে নিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে বের হলেন, অতঃপর তিনি তাকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করেন; যখন তিনি রুকু‘ করেন, তখন তাকে রেখে দিতেন আবার যখন দাঁড়াতেন, তখন তাকে কাঁধে তুলে নিতেন। এভাবেই তিনি সালাত শেষ করেন।”[1]
[1] সহীহ বুখারী: ৫৯৯৬; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৩০৩; সহীহ মুসলিম: ৫৪৩; আবূ দাঊদ: ৯১৮; নাসাঈ: ১/১২৭; দারেমী: ১/৩১৬; তাবারানী: ২২/১০৭৩; সুনান বাইহাকী: ১/১২৭। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮৫১, ৮৫৩।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين.
1111 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَفْلَحُ بْنُ حُمَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ: «إِنْ كُنْتُ لَأَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ وَتَلْتَقِي». [4: 1]
رقم طبعة با وزير = (1108)
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয় আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম, তাতে আমাদের হাতগুলো পরস্পরের সাথে লেগে যেতো ।”[1]
[1] আবূ আওয়ানা: ১/২৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৯২; সহীহ বুখারী: ২৬১; সহীহ মুসলিম: ৩২১; সুনান বাইহাকী: ১১/১৮৬; নাসাঈ: ১/২০১। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭০।)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (70)، «الروض» (798 و 803)، «التعليق على ابن خزيمة» (238 و 239): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم. أبو الطاهر هو أحمد بن عمرو بن عبد الله بن عمرو بن السرح المصري، ثقة من رجال مسلم.