সহীহ ইবনু হিব্বান
2092 - أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ وَهْبٍ، حَدَّثَهُ، [ص:446] عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ بِطَعَامٍ مَعَ خُضَرٍ فِيهِ بَصَلٌ أَوْ كُرَّاثٌ، فَلَمْ يَرَ فِيهِ أَثَرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْكُلَ؟ » قَالَ: لَمْ أَرْ أَثَرَكَ فِيهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْتَحْيِي مِنْ مَلَائِكَةِ اللَّهِ وَلَيْسَ بِمُحَرَّمٍ» [1: 6]
رقم طبعة با وزير = (2089)
আবূ আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবজিসহ কিছু খাবার তার কাছে ফেরত পাঠান, যাতে পেঁয়াজ বা পলাণ্ডু ছিল। আবূ আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সেই খাবার যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেয়েছেন, সেরকম কোন চিহ্ন দেখতে পেলেন না, ফলে তিনিও তা খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “কোন জিনিস তোমাকে এটা খেতে বারণ করলো?” জবাবে তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এটাতে আমি আপনার খাওয়ার কোন চিহ্ন দেখতে পাইনি!” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি (এটা খেয়ে) ফেরেস্তাদের সাথে (কথা) বলতে লজ্জাবোধ করি। তবে এটা হারাম নয়।”[1]
[1] তাবারানী আল কাবীর: ৩৯; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ৪/২৩৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬৭০; মুসনাদ আহমাদ: ৫/৪১৫; সহীহ মুসলিম: ২০৫৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৮/৩০৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/৮৫/১৬৭০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على «صحيح ابن خزيمة»» (3/ 85 / 1670).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، سفيان بن وهب: هو الخولاني، قال أبو حاتم فيما نقله عنه ابنه 4/ 217: له صحبة، وروى البخاري في «تاريخه» 4/ 87 - 88 من طريق غياث الحبراني، قال: مر بنا سفيان بن وهب، وكانت له صحبة، فسلم علينا، وقال ابن يونس: وفد على النبي صلى الله عليه وسلم، وشهد فتح مصر، وولي إمرة إفريقية في زمن عبد العزيز بن مروان، ومات سنة اثنين وثمانين، وذكره الحافظ في القسم الأول من «الإصابة» 2/ 506، وقال في «تعجيل المنفعة» ص 155: له صحبة ورواية عنه صلى الله عليه وسلم، وعن عمر بن الخطاب، والزبير بن العوام، وعمرو بن العاص، وأبي أيوب الأنصاري وغيرهم ... وروى عنه أبو عشانة المعافري، وأبو الخير اليزني، والمغيرة بن زياد، وبكر بن سوادة وغيرهم، وذكره المؤلف في ا «لثقات» 3/ 183 في قسم الصحابة، وجزم بصحبته، ثم تناقض، فقال في التابعين 4/ 319: من زعم أن له صحبة، فقد وهم.
2093 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ أَيُّوبَ، قَالَتْ: نَزَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّفْنَا لَهُ طَعَامًا فِيهِ بَعْضُ الْبُقُولِ، فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ: «كُلُوا فَإِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُوذِيَ صَاحِبِي». [1: 6]
رقم طبعة با وزير = (2090)
উম্মু আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বাড়িতে মেহমান হন, আমরা তাঁর জন্য খাবার তৈরি করি, যাতে কিছু শব্জি ছিল। তখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বলেন, “তোমরা খাও। কেননা আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমি ভয় করি যে, হয়তো আমি আমার সঙ্গীকে কষ্ট দিয়ে ফেলবো।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬৭১; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৫১১; হুমাইদী: ৩৩৯; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৪৩৩; তিরমিযী: ১৮১০; ইবনু মাজাহ: ৩৩৬৪; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ৪/২৩৯; তাবারানী, আল কাবীর: ২৫/৩২৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আস সহীহাহ: ২৭৮৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الصحيحة» (2784).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن في الشواهد، أبو يزيد الراوي عن أم أيوب: هو المكي حليف بني زهرة، لم يرو عنه سوى ابنه عبيد الله، وذكره المؤلف في «الثقات»، وقال العجلي: مكي تابعي ثقة، وباقي رجال السند ثقات رجال الشيخين، فهو يتقوى بالحديث السابق، سفيان: هو ابن عيينة،
2094 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِقَصْعَةٍ مِنْ ثَرِيدٍ فِيهَا ثُومٌ، فَلَمْ يَأْكُلْ مِنْهَا وَأَرْسَلَ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ وَكَانَ أَبُو أَيُّوبَ يَضَعُ يَدَهُ حَيْثُ يَرَى يَدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَ يَدَهُ، فَلَمَّا لَمْ يَرَ أَثَرَ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَأْكُلْ، فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُ: إِنِّي لَمْ أَرَ أَثَرَ يَدِكَ فِيهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فِيهَا رِيحُ الثُّومِ وَمَعِي مَلَكٌ». [1: 6]
رقم طبعة با وزير = (2091)
জাবির বিন সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক পাত্রে সারীদ খাবার দেওয়া হয়, যাতে রসূন ছিল। ফলে তিনি তা না খেয়ে আবূ আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠিয়ে দেন। আবূ আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পাত্রে ঠিক সেখানে হাত রেখে খাবার খেতেন, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত রেখে খাবার খেতেন। সুতরাং যখন তিনি তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতের কোন চিহ্ন দেখতে না পেলেন, তখন তিনি সেই খাবার না খেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি প্লেটে আপনার হাতের কোন চিহ্ন দেখতে পাইনি!” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সেখানে রসূনের গন্ধ রয়েছে, আর আমার সাথে ফেরেস্তা রয়েছেন।”[1]
[1] আত তায়ালিসী: ৫৮৯; মুসনাদ আহমাদ; ৫/৯৫; তাবারানী: ১৯৭২; সহীহ মুসলিম: ২০৫৩; তিরমিযী: ১৮০৭; তাহাবী: ৪/২৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৮/১৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الإرواء» (8/ 154 - 155).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن على شرط مسلم، سماك بن حرب: صدوق لا يرقى حديثه إلى الصحة.
2095 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ: أَكَلْتُ ثُومًا ثُمَّ أَتَيْتُ مُصَلَّى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي بِرَكْعَةٍ، فَلَمَّا قُمْتُ أَقْضِي وَجَدَ رِيحَ الثُّومِ فَقَالَ: «مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا» قَالَ الْمُغِيرَةُ: فَلَمَّا قَضَيْتُ الصَّلَاةَ أَتَيْتُهُ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي عُذْرًا فَنَاوِلْنِي يَدَكَ فَنَاوَلَنِي فَوَجَدْتُهُ وَاللَّهِ سَهْلًا [ص:450] فَأَدْخَلْتُهَا فِي كُمِّي إِلَى صَدْرِي فَوَجَدَهُ مَعْصُوبًا، فَقَالَ: «إِنَّ لَكَ عُذْرًا». [1: 6]
رقم طبعة با وزير = (2092) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذِهِ الْأَشْيَاءُ الَّتِي وَصَفْنَاهَا هِيَ الْعُذْرُ الَّذِي فِي خَبَرِ ابْنِ عَبَّاسٍ الَّذِي لَا حَرَجَ عَلَى مَنْ بِهِ حَالَةٌ مِنْهَا فِي تُخَلُّفِهِ، عَنْ أَدَاءِ فَرْضِهِ جَمَاعَةً، وَعَلَيْهِ إِثْمُ تَرْكِ إِتْيَانِ الْجَمَاعَةِ، لِأَنَّهُمَا فَرْضَانِ اثْنَانِ: الْجَمَاعَةُ، وَأَدَاءُ الْفَرْضِ، فَمَنْ أَدَّى الْفَرْضَ وَهُوَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ، فَقَدْ سَقَطَ عَنْهُ فَرْضُ أَدَاءِ الصَّلَاةِ، وَعَلَيْهِ إِثْمُ تَرْكِ إِتْيَانِ الْجَمَاعَةِ، وَقَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:451] وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ، فَلَمْ يُجِبْ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ» أَرَادَ بِهِ: فَلَا صَلَاةَ لَهُ مِنْ غَيْرِ إِثْمٍ يَرْتَكِبُهُ فِي تُخَلُّفِهِ عَنْ إِتْيَانِ الْجَمَاعَةِ إِذَا كَانَ الْقَصْدُ فِيهِ ارْتِكَابُ النَّهْيِ، لَا أَنَّ صَلَاتَهُ غَيْرُ مُجْزِئَةٍ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ بِمَعْذُورٍ إِذَا لَمْ يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ، وَهَذَا كَقَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَغَا فَلَا جُمُعَةَ لَهُ» يُرِيدُ بِهِ: فَلَا جُمُعَةَ لَهُ مِنْ غَيْرِ إِثْمٍ يَرْتَكِبُهُ بِلَغْوِهِ
মুগীরা বিন শু‘বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একবার রসূন খেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুসল্লায় যাই। আমি গিয়ে দেখতে পাই তিনি এক রাকা‘আত সালাত পড়ে নিয়েছেন। অতঃপর যখন আমি বাকী সালাত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাই, তখন তিনি রসূনের গন্ধ পেয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি এই সবজি খায়, সে যেন এর গন্ধ না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের মাসজিদে না আসে।” মুগীরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যখন আমি সালাত শেষ করি, তখন আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি মা‘যূর। আপনার হাতটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিন। তিনি আমার দিকে তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাকে কোমল পেলাম। তারপর আমি তাঁর হাত আমার জামার আস্তিনের মধ্য দিয়ে আমার বুক পর্যন্ত নিলাম। অতঃপর তিনি সেখানে পট্টি বাধা দেখতে পেলেন। তারপর তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই তোমার ওজর রয়েছে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমরা যেসব বিষয় উল্লেখ করলাম, সেগুলো হলো একটি ওজর, যা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা থাকলে ফরয সালাত জামা‘আতে আদায় না করলেও দোষনীয় হয় না। অবশ্য তার উপর জামা‘আতে না আসার পাপ বর্তাবে। কেননা এখানে দুটি ফরয রয়েছে: জামা‘আত ও ফরয সালাত আদায় করা। কাজেই যে ব্যক্তি আযান শোনার পর শুধু ফরয আদায় করে, তার উপর থেকে সালাত আদায়ের ফরয উঠে যাবে কিন্তু তার উপর জামা‘আত ত্যাগের জন্য গোনাহ হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “যে ব্যক্তি আযান শুনে তাতে সাড়া না দেয়, তাহলে তার সালাত নেই। তবে যদি কোন ওজর থাকে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জামা‘আত ত্যাগের পাপ ছাড়া তার সালাত সম্পন্ন হয় না, যদি এতে উদ্দেশ্য থাকে তার নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া, এটা উদ্দেশ্য নয় যে, তার সালাত মোটেও হবে না, যদিও সে মা‘যূর না হয়, যদি সে আল্লাহর আহবানকারীর আহবানে সাড়া না দেয়। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর মতোই “যে ব্যক্তি খুতবার সময় অসার কথা বলবে, তার জুমু‘আহ নেই” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাপ ছাড়া তার সালাত সংঘটিত হয় না, যে পাপ সে অসার কথা বলার কারণে উপার্জন করেছে।”
[1] মুসান্নাফ ইবনু্ আবী শাইবাহ: ২/৫১০; মুসনাদ আহমাদ: ৪/২৫২; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬৭২; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৭; আবূ দাঊদ: ৩৮২৬; তাহাবী: ৪/২৩৮; তাবারানী: ২০/১০০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীক আলা সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ৩/৮৬-৮৭/১৬৭২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق على «صحيح ابن خزيمة»» (3/ 86 - 87/ 1672)، «تخريج إصلاح المساجد» (71).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين، أبو بردة: هو ابن أبي موسى الأشعري، قيل: اسمه عامر، وقيل: الحارث
2096 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، [ص:452] قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْطَبَ، ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَيُؤَذَّنَ لَهَا، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيَؤُمَّ النَّاسَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَظْمًا سَمِينًا أَوْ مِرْمَاتَيْنِ حَسَنَتَيْنِ لَشَهِدَ الْعِشَاءَ». [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (2093)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি লাকড়ী সংগ্রহ করার আদেশ দেই, তারপর তা সংগ্রহ করা হয়, তারপর আমি আদেশ করি সালাত আদায় করার জন্য ফলে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হবে, অতঃপর আমি একজনকে সালাতের ইমামতি করার নির্দেশ দেই তারপর আমি ঘুরে ঘুরে জামা‘আতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের দেখি অতঃপর তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেই! ঐ সত্তার কসম, যদি তাদের কেউ জানতো যে, সে মোটা একটি মাংসল হাড্ডি অথবা পায়ের সুন্দর দুটো হাড্ডি পাবে, তবে সে অবশ্যই ইশার সালাতে উপস্থিত হতো।”[1]
[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৭৯১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১২৯-১৩০; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৩-১২৪; সহীহ আল বুখারী: ৬৪৪; নাসাঈ: ২/১০৭; আবূ আওয়ানা: ২/৬; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৫; হুমাইদী: ৯৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪৪; ইবনুল জারূদ: ৩০৪; সহীহ মুসলিম: ৬৫১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৮১; দারেমী: ১/২৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯৮৫; তিরমিযী: ২১৭; আবূ দাঊদ: ৫৪৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৫৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (557): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
2097 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ بِحَرَّانَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، ثُمَّ آتِيَ أَقْوَامًا يَخَلَّفُونَ عَنْهَا فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ» يَعْنِي الصَّلَاتَيْنِ الْعِشَاءَ وَالْغَدَاةَ. [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (2094)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি একজনকে আদেশ করি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করার জন্য আর আমি জামা‘আতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে আসি অতঃপর তাদের জ্বালিয়ে দেই!” অর্থাৎ ইশা ও ফজরের সালাতে।[1]
[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৭৯১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১২৯-১৩০; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১২৩-১২৪; সহীহ আল বুখারী: ৬৪৪; নাসাঈ: ২/১০৭; আবূ আওয়ানা: ২/৬; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৫; হুমাইদী: ৯৫৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪৪; ইবনুল জারূদ: ৩০৪; সহীহ মুসলিম: ৬৫১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৮১; দারেমী: ১/২৯২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯৮৫; তিরমিযী: ২১৭; আবূ দাঊদ: ৫৪৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৫৭)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2098 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، [ص:455] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَثْقَلَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ وَصَلَاةُ الْفَجْرِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حِزَمُ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ». [3: 34]
رقم طبعة با وزير = (2095)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মুনাফিকদের উপর সবচেয়ে কঠিন সালাত হলো ইশার সালাত ও ফজরের সালাত। আর যদি তারা জানতো যে এই দুটি সালাতে কী (সাওয়াব) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি সালাত আদায়ের নির্দেশ দেই, তারপর ইকামত দেওয়া হয়, তারপর আমি একজনকে আদেশ করি যাতে সে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। অতঃপর আমি লাকড়ীসহ কিছু লোক সাথে নিয়ে যাই সেসব লোকদের কাছে যারা সালাতে উপস্থিত হয় না। তারপর আগুন দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেই।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৮৪; মুসনাদ আহমাদ: ২/৪২৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩৩২; সহীহ মুসলিম: ৬৫১; ইবনু মাজাহ: ৭৯১; আবূ দাঊদ: ৫৪৮; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৫; আবূ আওয়ানা: ৫/২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৪৮৬)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (486): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير سلم بن جنادة، فلم يخرجا له ولا واحد منهما.
2099 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَافِعٌ، [ص:456] عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «كُنَّا إِذَا فَقَدْنَا الْإِنْسَانَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ وَالْعِشَاءِ أَسَأْنَا بِهِ الظَّنَّ». [3: 50]
رقم طبعة با وزير = (2096)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা ইশা ও ফজরের সালাতে কাউকে না পেলে তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা করতাম।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ১/৩৩২; হাকিম: ১/২১১; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৮৫; বাযযার: ৪৬৩; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৯; তাবারানী, আল কাবীর: ১৩০৮৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকুর রাগীব: ১/১৫৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «التعليق الرغيب» (1/ 154).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله ثقات رجال الشيخين غير عبد الجبار بن العلاء، فإنه من رجال مسلم وحده.
2100 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلَاةِ إِلَّا مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ أَوْ مَرِيضٌ، وَإِنْ كَانَ الْمَرِيضُ لَيَمُرُّ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يَأْتِيَ الصَّلَاةَ وَقَالَ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:457] وَسَلَّمَ عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى وَمِنْ سُنَنِ الْهُدَى الصَّلَاةُ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ». [3: 50]
رقم طبعة با وزير = (2097)
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি যে, জামা‘আতে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকতো চিহ্নিত মুনাফিক অথবা অসুস্থ ব্যক্তি। অবশ্য অসুস্থ ব্যক্তি দুই জনের কাঁধে ভর দিয়েও সালাতে উপস্থিত হতো!” তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হেদায়েতের সুন্নাতসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন। হেদায়েতের সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মাসজিদে সালাত আদায় করা, যেই মাসজিদে আযান দেওয়া হয়।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ৬৫৪; আবূ আওয়ানা: ২/৭; তাবারানী: ৮৬০৮; আত তায়ালিসী: ৩১৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ১৯৭৯; মুসনাদ আহমাদ: ১/৩৮২; আবূ দাঊদ: ৫৫০; নাসাঈ: ২/১০৮-১০৯; ইবনু মাজাহ: ৭৭৭; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৮৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৫৫৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (559): م.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله رجال الشيخين غير أبي الأحوص – واسمه عوف بن مالك الجشمي – فإنه من رجال مسلم.
2101 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ [ص:458] الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: سَأَلَنِي أَبُو الدَّرْدَاءِ أَيْنَ مَسْكَنُكَ؟ قُلْتُ: فِي قَرْيَةٍ دُونَ حِمْصٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ، فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ». [ص:459] قَالَ السَّائِبُ: إِنَّمَا يَعْنِي بِالْجَمَاعَةِ جَمَاعَةَ الصَّلَاةِ. [1: 78]
رقم طبعة با وزير = (2098)
মা‘দান বিন আবূ তালহা বলেন, “আমাকে আবূ তালহা জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার বাসা কোথায়?’ আমি বললাম, ‘হিমস শহরের কাছে।’ তখন তিনি বলেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘যদি তিনজন ব্যক্তি কোন শহর অথবা কোন গ্রামে থাকে, যাতে জামা‘আতে সালাত আদায় করা হয় না, তবে শয়তান তাদের উপর কর্তৃত্ব লাভ করে। কাজেই তোমার জন্য আবশ্যক হলো জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কেননা শয়তান দল-বিচ্ছিন্ন প্রাণীকেই খেয়ে ফেলে।’[1] সায়িব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তিনি এখানে জামা‘আত দ্বারা সালাতের জামা‘আত বুঝিয়েছেন।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৯৬; আবূ দাঊদ: ৫৪৭; নাসাঈ: ২/১০৬-১০৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৭৯৩; হাকিম: ১/২১১; সুনান বাইহাকী: ৩/৫৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৪৭৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن - «صحيح أبي داود» (556).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، السائب بن حبيش: صدوق صالح الحديث، وباقي رجاله ثقات رجال الصحيح.
2102 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: سَقَطَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ فَحَضَرَتْ صَلَاةٌ فَصَلَّى بِنَا قَاعِدًا، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعِينَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2099)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 118 / 394)، «صحيح أبي داود» (614): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2103 - أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، [ص:462] عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ يَعْنِي فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ، فَصَلَّى صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2100)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়ায় আরোহন করার পর পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন। আর আমরাও তাঁর পিছনে বসে সালাত আদায় করি। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2104 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: صَلَّى رسولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [ص:463] وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاكٍ فَصَلَّى جَالِسًا وَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2101) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هَذِهِ السُّنَّةُ رَوَاهَا عَنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَعَائِشَةُ، [ص:464] وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَأَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ. وَهُوَ قَوْلُ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، وَقَيْسِ بْنِ قَهْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَبِهِ قَالَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، وَالْأَوْزَاعِيُّ، [ص:465] وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، وَأَبُو خَيْثَمَةَ، وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ مِثْلَ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ»
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ অবস্থায় নিজ গৃহে বসে সালাত আদায় করেন, আর তাঁর একদল সাহাবী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তখন তিনি তাদেরকে ইশারায় বলেন যে, তোমরা বসে সালাত আদায় করো। অতঃপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন বললেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আনাস বিন মালিক, আয়িশা, আবূ হুরাইরা, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ বিন উমার, আবূ উমামাহ আল বাহেলী প্রমুখ সাহাবী বর্ণনা করেছেন। আর মত পোষন করেছেন উসাইদ বিন হুদাইর, কাইস বিন ফাহাদ, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আবূ হুরাইরা প্রমুখ সাহাবী। এই মত আরো পোষন করেছেন জাবির বিন যাইদ, আওযাঈ, মালিক বিন আনাস, আহমাদ বিন হাম্বাল, ইসহাক বিন ইবরাহিম, আবূ আইয়ূব সুলাইমান বিন দাঊদ হাশেমী, আবূ খাইসামাহ, ইবনু আবী শাইবাহ, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল বুখারী এবং তাদের অনুগামী মুহাদ্দিসগণ। যেমন- মুহাম্মাদ বিন নাসর, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ রহিমাহুমুল্লাহ।”
[1] বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫১; মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/১৩৫; মুসনাদ ইমাম শাফে‘ঈ: ১/১৪২; মুসনাদ আহমাদ: ৬/১৪৮; সহীহ আল বুখারী: ৬৮৮; আবূ দাঊদ: ৬০৫; আবূ আওয়ানা: ২/১০২; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/২৩৫; সহীহ মুসলিম: ৪১২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৮)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119)، «صحيح أبي داود» (618): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2105 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِالْأَمْرِ فَأَتَوْا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2102)
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে যে অবস্থায় রাখি, তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতীর লোকেরা তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্য ও অধিক প্রশ্ন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই আমি যখন তোমাদের কোন কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে আর যখন কোন কিছুর আদেশ করি, তখন সেখান থেকে তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমল করবে।”[1]
[1] হাদীসটির তাখরীজ ১৮ নং হাদীসে গত হয়ে গেছে। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮৫০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (850)، «الإرواء» (155 و 314).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما.
2106 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:466] قَالَ: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَمَا، أُمِرْتُمْ فَأَتَوْا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَمَا نَهَيْتُ، عَنْهُ فَانْتَهُوا». قَالَ ابْنُ عَجْلَانَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَادَ فِيهِ: «وَمَا أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّهُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَهُوَ الَّذِي لَا شَكَّ فِيهِ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2103) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ النَّوَاهِيَ عَنِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلَّهَا عَلَى الْحَتْمِ وَالْإِيجَابِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى نُدْبِيَّتِهَا، وَأَنَّ أَوَامِرَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَسْبِ الطَّاقَةِ وَالْوُسْعِ عَلَى الْإِيجَابِ حَتَّى تَقُومَ الدَّلَالَةُ عَلَى نُدْبِيَّتِهَا، قَالَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]، ثُمَّ نَفَى الْإِيمَانَ، عَنْ مَنْ لَمْ يُحَكِّمْ رَسُولَهُ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ مِمَّا قَضَى وَحَكَمَ حَرَجًا وَيُسَلِّمُوا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا بِتَرْكِ الْآرَاءِ الْمَعْكُوسَةِ وَالْمُقَايَسَاتِ الْمَنْكُوسَةِ، فَقَالَ: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى [ص:467] يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে যে অবস্থায় রাখি, তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতীর লোকেরা তাদের নবীদের ব্যাপারে মতানৈক্য ও অধিক প্রশ্ন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই আমি যখন কোন কিছুর আদেশ করি, তখন সেখান থেকে তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমল করবে, আর যখন তোমাদেরকে কোন কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে।” আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ভিন্ন আরেকটি সানাদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর আমি তোমাদেরকে যেই ব্যাপারে বলি যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।” [1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেকটি নিষেধ অবধারিতভাবে বর্জনীয়, যতক্ষন না অন্য কোন দলীল তা মুস্তাহাব হওয়ার উপর প্রমাণ করে। আর তাঁর প্রতিটি আদেশ সাধ্য অনুযায়ী অবধারিতভাবে পালনীয়, যতক্ষন না অন্য কোন দলীল তা মুস্তাহাব হওয়ার উপর প্রমাণ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا (আর রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো)।”–সূরা হাশর: ৭। তারপর মহান আল্লাহ তাদের ঈমান নাকচ করে দিয়েছেন যারা পরস্পরের মাঝে বিদ্যমান বিবাদের বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফায়সালীকারী হিসেবে নির্ধারণ না করবে অতঃপর তাঁর কৃত ফায়সালা কোন রকম বিরুদ্ধ মতামত না করে নির্দিধায় সর্বান্তকরণে মেনে নিবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আত্নসমর্পন করবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (কিন্তু না, আপনার প্রভুর কসম, তারা মু‘মিন হবে না, যতক্ষন না নিজেদের বিবাদের বিষয়ে আপনাকে শালিস নিযু্ক্ত না করবে, অতঃপর আপনি যা ফায়সালা দিবেন, তাতে তারা নিজেদের মনে কোন সংকোচ অনুভব করবে না এবং তা সর্বান্তকরণে মেনে নিবে।-সূরা নিসা: ৭৫।”
[1] হাদীসটির তাখরীজ ১৮ নং হাদীসে গত হয়ে গেছে। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ৮৫০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - انظر ما قبله.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي على شرط مسلم
2107 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2104) [ص:468] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «قَدْ زَجَرَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْخَبَرِ الْمَأْمُومِينَ عَنِ الِاخْتِلَافِ عَلَى إِمَامِهِمْ إِذَا صَلَّى قَاعِدًا وَهُوَ مِنَ الضَّرْبِ الَّذِي ذَكَرْتُ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كُتُبِنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ يَزْجُرُ عَنِ الشَّيْءِ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، ثُمَّ يَسْتَثْنِي بَعْضَ ذَلِكَ الشَّيْءِ الْمَزْجُورِ عَنْهُ فَيُبِيحُهُ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ كَمَا نَهَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمُزَابَنَةِ بِلَفْظٍ مُطْلَقٍ، ثُمَّ اسْتَثْنَى بَعْضَهَا وَهُوَ الْعَرِيَّةُ [ص:469] فَأَبَاحَهَا بِشَرْطٍ مَعْلُومٍ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ وَكَذَلِكَ يَأْمُرُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَمْرَ بِلَفْظِ الْعُمُومِ، ثُمَّ يَسْتَثْنِي بَعْضَ ذَلِكَ الْعُمُومِ فَيَحْظُرُهُ لِعِلَّةٍ مَعْلُومَةٍ كَمَا أَمَرَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَأْمُومِينَ وَالْأَئِمَّةَ جَمِيعًا أَنْ يُصَلُّوا قِيَامًا إِلَّا عِنْدَ الْعَجْزِ عَنْهُ، ثُمَّ اسْتَثْنَى بَعْضَ هَذَا الْعُمُومِ وَهُوَ إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا فَزَجَرَهُمْ، عَنِ اسْتِعْمَالِهِ مَسْتَثْنًى مِنْ جُمْلَةِ الْأَمْرِ الْمُطْلَقِ وَلِهَذَا نَظَائِرُ كَثِيرَةٌ مِنَ السُّنَنِ سَنَذْكُرُهَا فِي مَوَاضِعِهَا مِنْ هَذَا الْكِتَابِ إِنْ قَضَى اللَّهُ ذَلِكَ وَشَاءَهُ»
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তোমরা তার বিরুদ্ধাচারণ করবে না। যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুক্তাদীদেরকে ইমামের বিরুদ্ধাচারণ করতে নিষেধ করেছেন, যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। এই ধরণের বিষয় আমরা এই কিতাবে একাধিক জায়গায় বর্ণনা করেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন সময় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দিয়ে কোন কিছু নিষেধ করেন, তারপর ঐ নিষিদ্ধ জিনিস থেকে কোন জিনিসকে আলাদা করেন এবং নির্দিষ্ট কারণবশত তার বৈধতা দেন। যেমন- তিনি মুযাবানাহ (ওজন, পরিমাপ বা সংখ্যা ইত্যাদি না জেনে অনুমান করে কোন কিছু বিক্রয় করা) নিষেধ করেছেন। তারপর সেই বিধান থেকে আরায়া বিক্রয় আলাদা করেছেন এবং নির্দিষ্ট কারণবশত ও নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে তার বৈধতা দিয়েছেন। অনুরুপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন সময় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দিয়ে কোন কিছু আদেশ করেন, তারপর সুনির্দিষ্ট কারণবশত ঐ আদিষ্ট জিনিস থেকে কোন জিনিসকে আলাদা করেন এবং তার বৈধতা দেন। যেমন- তিনি ইমাম ও মুক্তাদী সবাইকে অপারগ না হলে সবাইকে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার আদেশ দিয়েছেন, তারপর তিনি ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশ থেকে কোন কিছুকে আলাদা করেন, আর সেটা হলো যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করেন। এজন্য তিনি ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশ থেকে আলাদাকৃত বিষয়কে ব্যাপক অর্থবোধক নির্দেশের পর্যায়ভুক্ত গণ্য করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এর বহু উপমা রয়েছে, যা আমরা এই কিতাবের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করবো, যদি আল্লাহ তা ফায়সালা করেন এবং চান।”
[1] হুমাইদী: ৯৫৮; সহীহ আল বুখারী: ৭৩৪; সহীহ মুসলিম: ৪১৪; আবূ আওয়ানা: ২/১০৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ১৬১৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৪১; আবূ দাঊদ: ৬০৩; নাসাঈ: ২/১৪১; ইবনু মাজাহ: ৮৪৬; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৮২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৮৫২; হুমাইদী: ৯৫৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯-১২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119 - 120): ق.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين
2108 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ، قَالَ أَنَسٌ: فَصَلَّى لَنَا يَوْمَئِذٍ صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا، ثُمَّ قَالَ حِينَ سَلَّمَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى الْإِمَامُ قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ [ص:470] فَقُولُوا: رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2105)
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার ঘোড়া থেকে পড়ে যান ফলে তিনি ডান পার্শ্বে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অতঃপর এক সালাতের সময় হলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বলেন, “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়, তার অনুসরণ করার জন্য। কাজেই যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দিবে, যখন রুকূ‘ করবেন, তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে, যখন তিনি (রুকূ‘ থেকে মাথা) উত্তোলন করবেন, তখন তোমরাও মাথা উত্তোলন করবে, যখন তিনি سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (আল্লাহ শ্রবণ করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে) বলবেন, তখন তোমরা বলবে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু, আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা) আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করবেন, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬১৪)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (2099). تنبيه!! رقم (2099) = (2102) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير عمرو بن عثمان وأبيه، وهما ثقتان.
2109 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ الْعَدَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ؟ » قَالُوا: بَلَى نَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ: «أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمِنْ طَاعَةِ اللَّهِ طَاعَتِي؟ » قَالُوا: بَلَى نَشْهَدُ أَنَّهُ مَنْ أَطَاعَكَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمِنْ طَاعَةِ اللَّهِ طَاعَتُكَ، قَالَ: «فَإِنَّ مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ أَنْ تُطِيعُونِي، وَمِنْ طَاعَتِي أَنْ تُطِيعُوا [ص:471] أُمَرَاءَكُمْ، وَإِنْ صَلُّوا قُعُودًا فَصَلُّوا قُعُودًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2106)
আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার তাঁর একদল সাহাবীদের মাঝে ছিলেন, তখন তিনি বলেন, “তোমরা কি জানো না যে, আমি তোমাদের প্রতি প্রেরিত রাসূল?” সাহাবীগণ জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।” তিনি বলেন, “তোমরা কি জানো না যে, যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করলো, সে আল্লাহরই অনুসরণ করলো এবং আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো আমার অনুসরণ?” তারা জবাব দিলেন, “জ্বী, হ্যা। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি আপনার অনুসরণ করলো, সে আল্লাহরই অনুসরণ করলো এবং আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো আপনার অনুসরণ।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা আমার অনুসরণ করবে। আর আমার অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা তোমাদের শাসকদের অনুসরণ করবে। আর যদি তারা বসে সালাত আদায় করে, তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৩২৩৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ১/১২২)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 122).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده حسن، حوثرة بن أشرس: روى عنه جمع، وذكره المؤلف في «الثقات» 8/ 215، وأورده ابن أبي حاتم 3/ 283 فلم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً، وقد توبع، وباقي رجاله ثقات.
2110 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «وَمِنْ طَاعَتِي أَنْ تُطِيعُوا أَئِمَّتَكُمْ» أَخْبَرْنَاهُ أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ قَالَ: سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي الصَّهْبَاءِ فَقَالَ: ثِقَةٌ.
رقم طبعة با وزير = (2107) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: فِي هَذَا الْخَبَرِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ صَلَاةَ الْمَأْمُومِينَ قُعُودًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُمْ قَاعِدًا مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا الَّتِي أَمَرَ عِبَادَهُ وَهُوَ عِنْدِي ضَرْبٌ مِنَ الْإِجْمَاعِ الَّذِي أَجْمَعُوا عَلَى إجَازَتِهِ؛ لِأَنَّ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَةٌ أَفْتَوْا بِهِ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ، وَقَيْسُ بْنُ قَهْدٍ، وَالْإِجْمَاعُ عِنْدَنَا إِجْمَاعُ الصَّحَابَةِ الَّذِينَ شَهِدُوا هُبُوطَ الْوَحْيِ وَالتَّنْزِيلِ وَأُعِيذُوا مِنَ التَّحْرِيفِ وَالتَّبْدِيلِ [ص:472] حَتَّى حَفِظَ اللَّهُ بِهِمُ الدِّينَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ وَصَانَهُ عَنْ ثَلْمِ الْقَادِحِينَ، وَلَمْ يُرْوَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الصَّحَابَةِ خِلَافٌ لِهَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ لَا بِإِسْنَادٍ مُتَّصِلٍ وَلَا مُنْقَطِعٍ، فَكَأَنَّ الصَّحَابَةَ أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْإِمَامَ إِذَا صَلَّى قَاعِدًا كَانَ عَلَى الْمَأْمُومِينَ أَنْ يُصَلُّوا قُعُودًا وَقَدْ أَفْتَى بِهِ مِنَ التَّابِعِينَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ أَبُو الشَّعْثَاءِ وَلَمْ يُرْوَ عَنْ أَحَدٍ مِنَ التَّابِعِينَ أَصْلًا بِخِلَافِهِ لَا بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ وَلَا وَاهٍ فَكَأَنَّ التَّابِعِينَ أَجْمَعُوا عَلَى أَجَازَتِهِ، وَأَوَّلُ مَنْ أَبْطَلَ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ صَلَاةَ الْمَأْمُومِ قَاعِدًا إِذَا صَلَّى إِمَامُهُ جَالِسًا الْمُغِيرَةُ بْنُ مِقْسَمٍ صَاحِبُ النَّخَعِيِّ وَأَخَذَ [ص:473] عَنْهُ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، ثُمَّ أَخَذَ عَنْ حَمَّادٍ أَبُو حَنِيفَةَ وَتَبِعَهُ عَلَيْهِ مَنْ بَعْدَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ وَأَعْلَى شَيْءٍ احْتَجُّوا بِهِ فِيهِ شَيْءٌ رَوَاهُ جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَؤُمَّنَّ أَحَدٌ بَعْدِي جَالِسًا» وَهَذَا [ص:474] لَوْ صَحَّ إِسْنَادُهُ لَكَانَ مُرْسَلًا وَالْمُرْسَلُ مِنَ الْخَبَرِ وَمَا لَمْ يُرْوَ سِيَّانِ فِي الْحُكْمِ عِنْدَنَا؛ لَأَنَّا لَوْ قَبْلِنَا إِرْسَالَ تَابِعِيٍّ وَإِنْ كَانَ ثِقَةً فَاضِلًا عَلَى حُسْنِ الظَّنِّ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِهِ عَنْ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِهِ عَنْ تَبَعِ الْأَتْبَاعِ، وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا قَبُولُ مِثْلِ ذَلِكَ عَنْ تُبَّاعِ التَّبَعِ، وَمَتَى قَبْلِنَا ذَلِكَ لَزِمَنَا أَنْ نَقْبَلَ مِنْ كُلِّ إِنْسَانٍ إِذَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي هَذَا نَقْضُ الشَّرِيعَةِ، وَالْعَجَبُ مِمَّنْ يَحْتَجُّ بِمِثْلِ هَذَا الْمُرْسَلِ وَقَدْ قَدَحَ فِي رِوَايَتِهِ زِعِيمُهُمْ فِيمَا أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْقَطَّانُ بِالرَّقَّةِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَحْيَى الْحِمَّانِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ فِيمَنْ لَقِيتُ أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ وَلَا لَقِيتُ فِيمَنْ لَقِيتُ أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ مَا أَتَيْتُهُ بِشَيْءٍ قَطُّ مِنْ رَأْيٍ إِلَّا جَاءَنِي فِيهِ بِحَدِيثٍ وَزَعَمَ أَنَّ عِنْدَهُ كَذَا وَكَذَا أَلْفَ حَدِيثٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَنْطِقْ بِهَا، فَهَذَا أَبُو حَنِيفَةَ يُجَرِّحُ جَابِرًا الْجُعْفِيَّ وَيُكَذِّبُهُ ضِدَّ قَوْلِ مَنِ انْتَحَلَ مِنْ أَصْحَابِهِ مَذْهَبَهُ وَزَعَمَ أَنَّ قَوْلَ أَئِمَّتِنَا فِي كُتُبِهِمْ: فُلَانٌ ضَعِيفٌ غِيبَةٌ، ثُمَّ لَمَّا اضْطَرُّهُ الْأَمْرُ جَعَلَ يَحْتَجُّ بِمَنْ كَذَّبَهُ شَيْخُهُ فِي شَيْءٍ يَدْفَعُ بِهِ سُنَّةً مِنْ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:475] فَأَمَّا جَابِرٌ الْجُعْفِيَّ فَقَدْ ذَكَرْنَا قِصَّتَهُ فِي كِتَابِ الْمَجْرُوحِينَ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ بِالْبَرَاهِينِ الْوَاضِحَةِ الَّتِي لَا يَخْفَى عَلَى ذِي لُبٍّ صِحَّتُهَا فَأَغْنَى ذَلِكَ عَنْ تِكْرَارِهَا فِي هَذَا.
ইমাম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন হাওসারাহ... পূর্বের সানাদের মতোই। তবে এই সানাদে বলা হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর আমার অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত হলো তোমরা তোমাদের শাসকদের অনুসরণ করবে।”[1] আমাদেরকে এটি বর্ণনা করেছেন আবূ ইয়া‘লা আল মাওসিলী, তিনি বলেন, “আমি ইয়াহইয়া বিন মা‘ঈনকে উকবাহ বিন আবূ সাহবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী।” আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবে, তখন মুক্তাদীদেরও বসে সালাত আদায় করা মহান আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত, যেই আনুগত্য করার তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এটা আমার কাছে এমন ইজমার অন্তর্ভুক্ত, যার বৈধতার ব্যাপারে বিদ্বানগণ ঐক্যমত পোষন করেছেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারজন সাহাবী এই মর্মে ফাতাওয়া দিয়েছেন। তাঁরা হলেন, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আবূ হুরাইরা, উসাইদ বিন হুদ্বাইর ও কাইস বিন কাহদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। আর আমাদের নিকট বস্তুত ইজমা হলো সাহাবীদের ইজমা, যারা অহী অবতীর্ণ হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁরা এতে পরিবর্তন, বিকৃতি সাধন করা প্রভৃতি থেকে মুক্ত, মহান আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য দ্বীন সংরক্ষন করেছেন এবং ছিদ্রকারীদের ছিদ্র থেকে হেফাযত করেছেন। আর সাহাবীদের মধ্যে কোন একজন সাহাবী এই চারজন সাহাবীর বিরোধিতা করেছেন এমন কোন বর্ণনা অবিচ্ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন কোন সানাদে বর্ণিত হয়নি। কাজেই যেন সমস্ত সাহাবা এই ব্যাপারে একমত যে, ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবেন, তখন মুক্তাদীদের জন্য কর্তব্য হলো তারাও বসে সালাত আদায় করবে। তাবে‘ঈদের ব্যাপারে এই ব্যাপারে ফাতাওয়া দিয়েছেন : জাবির বিন যায়েদ আবূ শা‘সা রহিমাহুল্লাহ। আর তাবে‘ঈদের মধ্যে কোন তাবে‘ঈ তার বিরোধিতা করেছেন তা সহীহ কিংবা দুর্বল কোন সানাদে আদৌ বর্ণিত হয়নি। কাজেই যেন তাবে‘ঈনরাও এর বৈধতার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন। বস্তুত ইমাম বসে সালাত আদায় করলে, মুক্তাদীও যদি বসে সালাত আদায় করে, তবে মুক্তাদীদের সালাত হয়ে যাবে, এমন কথা এই উম্মাতের মাঝে প্রথম বলেছেন ইমাম নাখ‘ঈর ছাত্র মুগীরা বিন মিকসাম, তার কাছ ইলম গ্রহণ করেন হাম্মাদ বিন আবূ সালামা। তারপর হাম্মাদ বিন আবূ সালামা থেকে ইলম গ্রহণ করেন ইমাম আবূ হানিফা। পরবর্তীতে এই ব্যাপারে তাঁর অনুসারীরা তাঁর অনুসরণ করেন। তারা সবচেয়ে বড় যেই জিনিস দিয়ে দলীল দেন, তা হলো একটা হাদীস যা জাবির আল জু‘ফী ইমাম শা‘বী থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পরে আর কেউ বসে যেন বসে ইমামতি না করে।” এই হাদীসটির সানাদ যদি বিশুদ্ধ হয়, তবুও সেটা মুরসাল হাদীস। আমাদের নিকট মুরসাল হাদীস এবং যে হাদীস বর্ণিত হয়নি- বিধানের ক্ষেত্রে উভয়টি সমান। কেননা আমরা যদি তাবে‘ঈর মুরসাল গ্রহণ করি, -যদিও উত্তম ধারণার ভিত্তিতে তাবে‘ঈ নির্ভরযোগ্য, মর্যাদাবান হন- তবে আমাদের জন্য অবধারিত হবে অনুরুপ তাবে তাবে‘ঈর মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা, যখন আমরা সেটা গ্রহণ করবো, তখন আমাদের জন্য আবশ্যক হবে তার মতো তাবে তাবে‘ঈদের ছাত্রদের মুরসাল বর্ণনা। যখন আমরা সেটা গ্রহণ করবো, তখন আমাদের জন্য আবশ্যক হবে প্রত্যেক মানুষের বর্ণনা, যখন তিনি বলবেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। এভাবে তো পুরো শরীয়তই ভেঙ্গে পড়বে! আশ্চার্যের বিষয় হলো তারা এরকম মুরসাল হাদীস দিয়ে দলীল দেন অথচ তাদের নেতা জাবির আল জু‘ফীর বর্ণনার নিন্দা করেছেন। আমাদেরকে হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল কাত্তান রাক্কায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবুল হাওয়ারী, তিনি বলেছেন, আমি আবূ ইয়াহইয়া আল হিম্মানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবূ হানিফা রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের মাঝে আতা রহিমাহুল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কাউকে দেখিনি আর জাবির আল জু‘ফীর চেয়ে বড় মিথ্যুক আর কাউকে দেখিনি। আমি যখনই তার কাছে কোন মত উপস্থাপন করি, তখনই সে সেই বিষয়ে হাদীস পেশ করে! সে মনে করে যে, তার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এতো এতো হাজার হাদীস আছে, যা সে বর্ণনা করেনি! এই হলেন ইমাম আবূ হানিফা, যিনি জাবির আল জু‘ফীকে জারাহ করেছেন এবং তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন, এটা তার কথার বিপরীত যিনি নিজেকে আবূ হানিফার অনুসারী দাবী করেন, তার মতে, আমাদের ইমামদের কিতাবে তাদের যে মন্তব্য রয়েছে “তিনি দুর্বল” –এগুলো গীবত! তারপর সে বাধ্য হয়ে এমন ব্যক্তির দলীল গ্রহণ করেন, যাকে তার ইমাম মিথ্যুক বলেছেন এবং তিনি এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সুন্নাতকে প্রতিহত করতে চান। আমরা জাবির আল জু‘ফীর ব্যাপারটি আমাদের ‘মাজরূহীন’ নামক কিতাবে এমন সুস্পষ্ট দলীলের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি, যা কোন সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকবে না। এজন্য এখানে তার আলোচনা পুনরায় করা প্রয়োজন মনে করছি না।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৯৩; তাবারানী আল কাবীর: ১৩২৩৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মাজমা‘উয যাওয়াইদ: ২/৬৭। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৬২০)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (620).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: هو مكرر ما قبله.
2111 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ الْقَوْمُ وَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَصَلَّى بِهِمْ قَاعِدًا وَهُمْ قِيَامٌ، فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ الْأُخْرَى ذَهَبُوا يَقُومُونَ فَقَالَ: «ائْتَمُّوا بِإِمَامِكُمْ، وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا، وَإِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا». [1: 5]
رقم طبعة با وزير = (2108)
আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার এক সম্প্রদায়ের লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসেন, তখন সালাতের সময় হয়ে যায়, ফলে তিনি তাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করেন আর তারা ছিলেন দন্ডায়মান। অতঃপর যখন পরবর্তী সালাতের সময় হলো, তখন তারা সালাতের জন্য দাঁড়াতে উদ্যত হলে তিনি বলেন, “তোমরা তোমাদের ইমামের অনুসরণ করো; যদি তিনি বসে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরা বসে সালাত আদায় করবে, আর যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২০০; সহীহ আল বুখারী: ৩৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ২/৩২৫; সহীহ মুসলিম: ৪১১; হুমাইদী: ১১৮৯; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১১০; সহীহ আল বুখারী: ৮০৫; নাসাঈ: ২/১৯৫-১৯৬; ইবনু মাজাহ: ১২৩৮; আবূ আওয়ানা: ২/১০৫; ইবনুল জারূদ: ২২৯; সুনান বাইহাকী: ৩/৭৮; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৪০৭৮; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ১/৪০৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ২/১১৯)
تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (2/ 119).
تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله ثقات رجال الشيخين غير محمد بن عبد الأعلى، فإنه من رجال مسلم وحده.